Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৭৩ হাদিসসমূহ
আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসরের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহার সাথে আর একটি করে সূরাহ্ পড়তেন। আর কখনো কখনো কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا المكي بن ابراهيم، عن هشام، عن يحيى بن ابي كثير، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في الركعتين من الظهر والعصر بفاتحة الكتاب، وسورة سورة، ويسمعنا الاية احيانا
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল ফায্ল (রাযি.) তাঁকে ( وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا) সুরাটি তিলাওয়াত করতে শুনে বললেন, বেটা! তুমি এ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মাগরিবের সালাতে এ সূরাহ্টি পড়তে শেষবারের মত শুনেছিলাম। (৪৪২৯; মুসলিম ৪/৩৫, হাঃ ৪৬২, আহমাদ ২৬৯৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس رضى الله عنهما انه قال ان ام الفضل سمعته وهو يقرا {والمرسلات عرفا} فقالت يا بنى والله لقد ذكرتني بقراءتك هذه السورة، انها لاخر ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا بها في المغرب
মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা যায়িদ ইবনু সাবিত (রাযি.) আমাকে বললেন, কী ব্যাপার, মাগরিবের সালাতে তুমি যে কেবল ছোট ছোট সুরা তিলাওয়াত কর? অথচ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দু’টি দীর্ঘ সূরাহর মধ্যে অধিকতর দীর্ঘটি পাঠ করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو عاصم، عن ابن جريج، عن ابن ابي مليكة، عن عروة بن الزبير، عن مروان بن الحكم، قال قال لي زيد بن ثابت ما لك تقرا في المغرب بقصار، وقد سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا بطول الطوليين
জুবায়র ইবনু মৃত‘ইম (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ্ আত-তূর পড়তে শুনেছি। (৩০৫০, ৪০২৩,৪৮৫৪ মুসলিম ৪/৩৫, হাঃ ৪৬৩৪ আহমাদ ১৬৭৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن محمد بن جبير بن مطعم، عن ابيه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قرا في المغرب بالطور
আবূ রাফি‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর সঙ্গে ‘ইশার সালাত আদায় করলাম। সেদিন তিনি (إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ) সূরাহটি তিলাওয়াত করে সিজদা্ করলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে এ সিজদা্ করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এ সূরাহ্য় সিজদা্ করব। (৭৬৮,১০৭৪, ১০৭৮ মুসলিম ৫/২০ হাঃ ৫৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو النعمان، قال حدثنا معتمر، عن ابيه، عن بكر، عن ابي رافع، قال صليت مع ابي هريرة العتمة فقرا {اذا السماء انشقت} فسجد فقلت له قال سجدت خلف ابي القاسم صلى الله عليه وسلم فلا ازال اسجد بها حتى القاه
‘আদী (ইবন সাবিত) (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারাআ (রাযি.) হতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ‘ইশা সালাতের প্রথম দু‘ রাক‘আতের এক রাক‘আতে সূরাহ্ التِّينِ وَالزَّيْتُونِপাঠ করেন। (৭৬৯, ৪৯৫২, ৭৫৪৬; মুসলিম ৪/৩৫ হাঃ ৪৬৪, আহমাদ ১৮৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، عن عدي، قال سمعت البراء، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان في سفر فقرا في العشاء في احدى الركعتين بالتين والزيتون
আবূ রাফি‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-এর সঙ্গে ‘ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরাহটি তিলাওয়াত করে সিজদা্ করলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ সিজদা্ কেন? তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে এ সূরাহয় সিজদা্ করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া অবধি আমি এতে সিজদা্ করব। (৭৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يزيد بن زريع، قال حدثني التيمي، عن بكر، عن ابي رافع، قال صليت مع ابي هريرة العتمة فقرا {اذا السماء انشقت} فسجد فقلت ما هذه قال سجدت بها خلف ابي القاسم صلى الله عليه وسلم فلا ازال اسجد بها حتى القاه
বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ‘ইশার সালাতে وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ পড়তে শুনেছি। আমি তাঁর চেয়ে কারো সুন্দর কন্ঠ অথবা কিরাআত শুনিনি। (৭৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا خلاد بن يحيى، قال حدثنا مسعر، قال حدثنا عدي بن ثابت، سمع البراء، رضى الله عنه قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا {والتين والزيتون} في العشاء، وما سمعت احدا احسن صوتا منه او قراءة
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.) সা‘দ (রাযি.)-কে বললেন, আপনার বিরুদ্ধে তারা (কূফাবাসীরা) সর্ব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, এমনকি সালাত সম্পর্কেও। সা‘দ (রাযি.) বললেন, আমি প্রথম দু’রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করে থাকি এবং শেষের দু’ রাক‘আতে তা সংক্ষেপ করি। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে যেমন সালাত আদায় করেছি, তেমনই সালাত আদায়ের ব্যাপারে আমি ত্রুটি করিনি। ‘উমার (রাযি.) বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, আপনার ব্যাপারে ধারণা এমনই, কিংবা (তিনি বলেছিলেন) আপনার সম্পর্কে আমার এ রকমই ধারণা। (৭৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، قال حدثنا شعبة، عن ابي عون، قال سمعت جابر بن سمرة، قال قال عمر لسعد لقد شكوك في كل شىء حتى الصلاة. قال اما انا فامد في الاوليين، واحذف في الاخريين، ولا الو ما اقتديت به من صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال صدقت، ذاك الظن بك، او ظني بك
সাইয়ার ইবনু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সালাতসমূহের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত সুর্য ঢলে গেলেই আদায় করতেন। আর ‘আসর (এমন সময় যে, সালাতের শেষে) কোন ব্যক্তি সূর্য সতেজ থাকাবস্থায় মদিনার প্রান্তে ফিরে আসতে পারতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। আর তিনি রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ‘ইশা বিলম্ব করতে কোন দ্বিধা করতেন না এবং ‘ইশার পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। আর তিনি ফজর আদায় করতেন এমন সময় যে, সালাত শেষে ফিরে যেতে লোকেরা তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারতো। এর দু’ রাক‘আতে অথবা রাবী বলেছেন, এক রাক‘আতে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত পাঠ করতেন। (৫৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا سيار بن سلامة، قال دخلت انا وابي، على ابي برزة الاسلمي فسالناه عن وقت الصلوات، فقال كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي الظهر حين تزول الشمس، والعصر ويرجع الرجل الى اقصى المدينة والشمس حية، ونسيت ما قال في المغرب، ولا يبالي بتاخير العشاء الى ثلث الليل ولا يحب النوم قبلها، ولا الحديث بعدها، ويصلي الصبح فينصرف الرجل فيعرف جليسه، وكان يقرا في الركعتين او احداهما ما بين الستين الى الماية
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পড়া হয়। তবে যে সব সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের শুনিয়ে পড়ব। আর যে সব সালাতে আমাদের না শুনিয়ে পড়েছেন, আমরাও তোমাদের না শুনিয়ে পড়ব। যদি তোমরা সূরাহ্ আল-ফাতিহার উপরে আরো অধিক না পড়, সালাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি অধিক পড় তা উত্তম। (মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، قال اخبرنا ابن جريج، قال اخبرني عطاء، انه سمع ابا هريرة رضى الله عنه يقول في كل صلاة يقرا، فما اسمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم اسمعناكم، وما اخفى عنا اخفينا عنكم، وان لم تزد على ام القران اجزات، وان زدت فهو خير
(وَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ طُفْتُ وَرَاءَ النَّاسِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَيَقْرَأُ بِ )الطُّورِ(. উম্মু সালামাহ (রাযি.) বলেন, আমি লোকদের পিছনে তাওয়াফ করছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করছিলেন এবং সূরাহ্ তূর পাঠ করছিলেন। ৭৭৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের উর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাদের দিকে অগ্নিপিন্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিন্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটেছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ঘুরে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে অগ্রসর হল। তিনি তখন ‘উকায বাজারের পথে নাখ্লা নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করলো। অতঃপর তারা বলে উঠলো, আল্লাহর শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা গোত্রেরর নিকট ফিরে আসল এবং বলল হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, আমরা এতে ঈমান এনেছি এবং কখনো আমরা আমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে কাউকে শরীক স্থির করব না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ সূরাহ্ নাযিল করেন। মূলতঃ তাঁর নিকট জিনদের কথাবার্তাই ওয়াহীরূপে অবতীর্ণ করা হয়েছে। (৪৯২১; মুসলিম ৪/৩৩ হাঃ ৪৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال انطلق النبي صلى الله عليه وسلم في طايفة من اصحابه عامدين الى سوق عكاظ، وقد حيل بين الشياطين وبين خبر السماء، وارسلت عليهم الشهب، فرجعت الشياطين الى قومهم. فقالوا ما لكم فقالوا حيل بيننا وبين خبر السماء، وارسلت علينا الشهب. قالوا ما حال بينكم وبين خبر السماء الا شىء حدث، فاضربوا مشارق الارض ومغاربها، فانظروا ما هذا الذي حال بينكم وبين خبر السماء فانصرف اوليك الذين توجهوا نحو تهامة الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بنخلة، عامدين الى سوق عكاظ وهو يصلي باصحابه صلاة الفجر، فلما سمعوا القران استمعوا له فقالوا هذا والله الذي حال بينكم وبين خبر السماء. فهنالك حين رجعوا الى قومهم وقالوا يا قومنا {انا سمعنا قرانا عجبا * يهدي الى الرشد فامنا به ولن نشرك بربنا احدا} فانزل الله على نبيه صلى الله عليه وسلم {قل اوحي الى} وانما اوحي اليه قول الجن
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে কিরাআত পাঠের জন্য আদেশ পেয়েছেন, সেখানে পড়েছেন। আর যেখানে চুপ থাকতে আদেশ পেয়েছেন সেখানে চুপ থেকেছেন। (আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ) ‘‘তোমার প্রতিপালক ভুল করেন না’’- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৬৪)। ‘‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’’ (সূরাহ্ আল-আহযাব ৩৩/২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثنا اسماعيل، قال حدثنا ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال قرا النبي صلى الله عليه وسلم فيما امر، وسكت فيما امر {وما كان ربك نسيا} {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة}
وقال عبيد الله عن ثابت، عن انس رضى الله عنه كان رجل من الانصار يومهم في مسجد قباء، وكان كلما افتتح سورة يقرا بها لهم في الصلاة مما يقرا به افتتح ب {قل هو الله احد} حتى يفرغ منها، ثم يقرا سورة اخرى معها، وكان يصنع ذلك في كل ركعة، فكلمه اصحابه فقالوا انك تفتتح بهذه السورة، ثم لا ترى انها تجزيك حتى تقرا باخرى، فاما ان تقرا بها واما ان تدعها وتقرا باخرى. فقال ما انا بتاركها، ان احببتم ان اومكم بذلك فعلت، وان كرهتم تركتكم. وكانوا يرون انه من افضلهم، وكرهوا ان يومهم غيره، فلما اتاهم النبي صلى الله عليه وسلم اخبروه الخبر فقال " يا فلان ما يمنعك ان تفعل ما يامرك به اصحابك وما يحملك على لزوم هذه السورة في كل ركعة ". فقال اني احبها. فقال " حبك اياها ادخلك الجنة
وَيُذْكَرُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ قَرَأَ النَّبِيُّ ﷺ الْمُؤْمِنُونَ فِي الصُّبْحِ حَتَّى إِذَا جَاءَ ذِكْرُ مُوسَى وَهَارُونَ أَوْ ذِكْرُ عِيسَى أَخَذَتْهُ سَعْلَةٌ فَرَكَعَ وَقَرَأَ عُمَرُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى بِمِائَةٍ وَعِشْرِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ وَفِي الثَّانِيَةِ بِسُورَةٍ مِنَ الْمَثَانِي وَقَرَأَ الْأَحْنَفُ بِالْكَهْفِ فِي الْأُولَى وَفِي الثَّانِيَةِ بِيُوسُفَ أَوْ يُونُسَ وَذَكَرَ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ عُمَرَالصُّبْحَ بِهِمَا وَقَرَأَ ابْنُ مَسْعُودٍ بِأَرْبَعِينَ آيَةً مِنَ الْأَنْفَالِ وَفِي الثَّانِيَةِ بِسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ وَقَالَ قَتَادَةُ فِيمَنْ يَقْرَأُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي رَكْعَتَيْنِ أَوْ يُرَدِّدُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي رَكْعَتَيْنِ كُلٌّ كِتَابُ اللهِ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সায়িব (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী ﷺ ফজরের সালাতে সূরাহ্ মু’মিনূন পড়তে শুরু করেন। যখন মূসা (‘আ.) ও হারূন (‘আ.) বা ‘ঈসা (‘আ.)-এর আলোচনা এল, তাঁর কাশি উঠল আর তখন তিনি রুকূ‘তে চলে গেলেন। ‘উমার (রাযি.) প্রথম রাক‘আতে সূরাহ্ বাক্বারাহর একশ’ বিশ আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে মাসানী সূরাহহসমূহের কোন একটি তিলাওয়াত করেন। আহনাফ (রহ.) প্রথম রাক‘আতে সূরাহ্ কাহ্ফ তিলাওয়াত করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরাহ্ ইউসুফ বা সূরাহ্ ইউনুস তিলাওয়াত করেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘উমার (রাযি.)-এর পিছনে এ দু’টি সূরাহ্ দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) (প্রথম রাক‘আতে) সূরাহ্ আল-আনফালের চল্লিশ আয়াত পড়েন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে মুফাসসাল সূরাহ্ সমূহের একটি পড়েন। যে ব্যক্তি দু’ রাক‘আতে একই সূরাহ্ ভাগ করে পড়ে বা দু’ রাক‘আতে একই সূরাহ্ দুহরিয়ে পড়ে তার সম্পর্কে কাতাদাহ্ (রহ.) বলেন, সবই আল্লাহর কিতাব। (অর্থাৎ জায়িয)। ৭৭৪. মীম। আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। কুবার মসজিদে এক আনসারী ব্যক্তি তাঁদের ইমামাত করতেন। তিনি সশব্দে কিরা-আত পড়া হয় এমন কোন সালাতে যখনই কোন সূরাহ্ তিলাওয়াত করতেন, قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ সূরাহ্ দ্বারা শুরু করতেন। তা শেষ করে অন্য একটি সূরাহ্ এর সাথে মিলিয়ে পড়তেন। আর প্রতি রাক‘আতেই তিনি এমন করতেন। তাঁর সঙ্গীরা এ ব্যাপারে তাঁর নিকট বললেন যে, আপনি এ সূরাহটি দিয়ে শুরু করেন, এটি যথেষ্ট হয় বলে আপনি মনে করেন না তাই আর একটি সূরাহ্ মিলিয়ে পড়েন। হয় আপনি এটিই পড়বেন, না হয় এটি বাদ দিয়ে অন্যটি পড়বেন। তিনি বললেন, আমি এটি কিছুতেই ছাড়তে পারব না। আমার এভাবে ইমামাত করা যদি আপনারা অপছন্দ করেন, তাহলে আমি আপনাদের ইমামাত ছেড়ে দেব। কিন্তু তাঁরা জানতেন যে, তিনি তাদের মাঝে উত্তম। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তাদের ইমামাত করুক এটা তাঁরা অপছন্দ করতেন। পরে নবী যখন তাঁদের এখানে আগমন করেন, তাঁরা বিষয়টি নবী ﷺ-কে জানান। তিনি বললেন, হে, অমুক! তোমার সঙ্গীগণ যা বলেন তা করতে তোমাকে কিসে বাধা দেয়? আর প্রতি রাক‘আতে এ সূরাহ্টি বাধ্যতামূলক করে নিতে কিসে উদ্বুদ্ধ করছে? তিনি বললেন, আমি এ সূরাহটি ভালবাসি। নবী ﷺ বললেনঃ এ সূরাহর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (আ.প্র. অনুচ্ছেদ পৃষ্ঠা ৩৩৬, ই.ফা. অনুচ্ছেদ ৪৯৮) ৭৭৫. আবূ ওয়াইল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.)-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফাস্সাল সূরাহগুলো এক রাক‘আতেই তিলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চয়ই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরস্পর সমতূল্য যে সব সূরাহ্ মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাসসাল সূরাহসমূহের বিশটি সূরাহ্ উল্লেখ পূর্বক বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক‘আতে এর দু’টি করে সূরাহ্ পড়তেন। (৪৯৯৬, ৫০৪৩; মুসলিম ৬/৪৯ হাঃ ৮২২, আহমাদ ৪৪১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা ও দু’টি সূরাহ্ পড়তেন এবং শেষ দু’রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি কোন কোন আয়াত আমাদের শোনাতেন, আর তিনি প্রথম রাক‘আতে যত দীর্ঘ করতেন, দ্বিতীয় রাক‘আতে তত দীর্ঘ করতেন না। ‘আসরে এবং ফজরেও এ রকম করতেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا همام، عن يحيى، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرا في الظهر في الاوليين بام الكتاب وسورتين، وفي الركعتين الاخريين بام الكتاب، ويسمعنا الاية، ويطول في الركعة الاولى ما لا يطول في الركعة الثانية، وهكذا في العصر وهكذا في الصبح
আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, কী করে বুঝলেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়া দেখে। (৭৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا جرير، عن الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن ابي معمر، قلت لخباب اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا في الظهر والعصر قال نعم. قلنا من اين علمت قال باضطراب لحيته
আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে আরেকটি সুরা পড়তেন। কখনো কোন কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন এবং তিনি প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا الاوزاعي، حدثني يحيى بن ابي كثير، حدثني عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرا بام الكتاب وسورة معها في الركعتين الاوليين من صلاة الظهر وصلاة العصر، ويسمعنا الاية احيانا، وكان يطيل في الركعة الاولى
আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘ করতেন ও দ্বিতীয় রাক‘আতে সংক্ষিপ্ত করতেন এবং এ রকম করতেন ফজরের সালাতেও। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا هشام، عن يحيى بن ابي كثير، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يطول في الركعة الاولى من صلاة الظهر، ويقصر في الثانية، ويفعل ذلك في صلاة الصبح
وَقَالَ عَطَاءٌ آمِينَ دُعَاءٌ أَمَّنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ وَمَنْ وَرَاءَهُ حَتَّى إِنَّ لِلْمَسْجِدِ لَلَجَّةً وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُنَادِي الْإِمَامَ لاَ تَفُتْنِي بِآمِينَ وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَدَعُهُ وَيَحُضُّهُمْ وَسَمِعْتُ مِنْهُ فِي ذَلِكَ خَيْرًا. ‘আত্বা (রহ.) বলেন, ‘আমীন’ হল দু‘আ। তিনি আরও বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযি.) ও তাঁর পিছনের মুসুল্লীগণ এমনভাবে ‘আমীন’ বলতেন যে, মসজিদে গুমগুম আওয়ায হতো। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) ইমামকে ডেকে বলতেন, আমাকে ‘আমীন’ বলার সুযোগ হতে বঞ্চিত করবেন না। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) কখনই ‘আমীন’ বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদের (আমীন বলার জন্য) উৎসাহিত করতেন। আমি তাঁর কাছ হতে এ সম্পর্কে হাদীস শুনেছি। ৭৮০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যখন ‘আমীন’ বলেন, তখন তোমরাও ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার ‘আমীন’ (বলা) ও মালাইকাহর ‘আমীন’ (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আমীন’ বলতেন। (৬৪০২; মুসলিম ৪/১৮, হাঃ ৪১০, আহমাদ ৮২৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وابي، سلمة بن عبد الرحمن انهما اخبراه عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا امن الامام فامنوا فانه من وافق تامينه تامين الملايكة غفر له ما تقدم من ذنبه ". وقال ابن شهاب وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " امين
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، عن عمرو بن مرة، قال سمعت ابا وايل، قال جاء رجل الى ابن مسعود فقال قرات المفصل الليلة في ركعة. فقال هذا كهذ الشعر لقد عرفت النظاير التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرن بينهن فذكر عشرين سورة من المفصل سورتين في كل ركعة