Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১৪ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৮১. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) দিনের প্রথমাংশে জুরুফ নামক স্থানে অবস্থিত তাহার জমির দিকে গমন করিলেন। তিনি তাহার কাপড়ে স্বপ্লদোষের আলামত দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ যখন হইতে লোকের দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করা হইয়াছে, তখন হইতে আমি ইহতিলামে লিপ্ত হইয়াছি। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং তাহার কাপড়ে স্বপ্নদোষের যা আলামত দেখিলেন উহ ধুইলেন। তারপর সূর্য ওঠার পর তিনি নামায পড়িলেন।
وحدثني عن مالك، عن اسماعيل بن ابي حكيم، عن سليمان بن يسار، ان عمر بن الخطاب، غدا الى ارضه بالجرف فوجد في ثوبه احتلاما فقال لقد ابتليت بالاحتلام منذ وليت امر الناس . فاغتسل وغسل ما راى في ثوبه من الاحتلام ثم صلى بعد ان طلعت الشمس
রেওয়ায়ত ৮২. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) লোকের সহিত (জামাতে) ফজরের নামায পড়িলেন, অতঃপর সকালবেলা জুরুফ'-এ (جرف) অবস্থিত তাহার জমির দিকে গমন করিলেন। তারপর তাহার কাপড়ে ইহতিলামের (চিহ্ন) দেখিতে পাইলেন। তিনি বলিলেনঃ আমরা চর্বি (চর্বিযুক্ত খাদ্যদ্রব্য) যখন হইতে আহার করিতেছি তখন হইতে আমাদের শিরাসমূহ কোমল হইয়াছে। তারপর তিনি গোসল করিলেন এবং কাপড় হইতে ইহতিলাম (এর চিহ্ন) ধুইয়া ফেলিলেন এবং নামায পুনরায় পড়িলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سليمان بن يسار، ان عمر بن الخطاب، صلى بالناس الصبح ثم غدا الى ارضه بالجرف فوجد في ثوبه احتلاما فقال انا لما اصبنا الودك لانت العروق . فاغتسل وغسل الاحتلام من ثوبه وعاد لصلاته
রেওয়ায়ত ৮৩. ইয়াহইয়াহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সঙ্গে উমরাহ করিলেন একই কাফেলায়। আর সেই কাফেলায় আমর ইবনুল আস্ (রাঃ)-ও ছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) কোন পানির (চশমা বা কূপ) নিকটবর্তী এক রাস্তায় (রাস্তার পাশে) রাত্রির শেষাংশে অবতরণ করিলেন। উমর (রাঃ)-এর ইহতিলাম হইল। (এইদিকে) ফজর হইতে লাগিল কিন্তু কাফেলার সহিত পানি পাওয়া গেল না। তিনি সওয়ার হইয়া পানির নিকট আসিলেন। অতঃপর তিনি ইহতিলামের যা চিহ্ন দেখিলেন উহা ধুইতে লাগিলেন, তখন ফরসা হইয়া গিয়াছে। আমর ইবনুল আস (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ আপনি ভোর করিলেন অথচ আমাদের সহিত কাপড় রহিয়াছে, আপনি আপনার বস্ত্র রাখিয়া দিন, (পরে) ধোয়া হইবে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেনঃ ইবনুল ‘আস্! আশ্চর্য তোমার প্রতি! তোমার যদিও অনেক বস্ত্র আছে, কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট কি তদ্রুপ আছে? আল্লাহর কসম, আমি যদি ইহা করি তবে ইহা সুন্নতে পরিণত হইবে। আমি বরং যাহা আলামত দেখিব উহা ধুইব, আর যাহা দেখা না যায় উহাতে পানি ছিটাইয়া দিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার কাপড়ে ইহতিলামের আলামত দেখিতে পায়, কোন সময় ইহতিলাম হইয়াছে সে তাহা জানে না, স্বপ্নে যা দেখিয়াছে তাহাও স্মরণ নাই, তবে সে সদ্য যে নিদ্রা হইতে জাগিয়াছে উহাতে (ইহতিলাম হইয়াছে বলিয়া গণ্য করিয়া) গোসল করবে। যদি সে এই নিদ্রার পর নামায পড়িয়া থাকে তবে সেই নামায পুনরায় পড়িবে। কারণ লোকের (অনেক সময়) ইহতিলাম হয় কিন্তু কোন কিছু (স্বপ্নে) দেখে না, আবার কোন সময় স্বপ্ন দেখে কিন্তু ইহতিলাম হয় না। তাই কাপড়ে যদি পানি দেখে (ইহতিলাম স্মরণ না থাকিলেও) তবে তাহার উপর গোসল ওয়াজিব হইবে। কারণ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এই ঘটনায় শেষ বারের নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইবার পর যে নামায পড়িয়াছিলেন তিনি সেই নামায পুনরায় পড়িয়াছেন, উহার পূর্ববর্তী নামায অর্থাৎ ঐ নিদ্রার পূর্বের নামায তিনি কাযা করেন নাই।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن يحيى بن عبد الرحمن بن حاطب، انه اعتمر مع عمر بن الخطاب في ركب فيهم عمرو بن العاص وان عمر بن الخطاب عرس ببعض الطريق قريبا من بعض المياه فاحتلم عمر وقد كاد ان يصبح فلم يجد مع الركب ماء فركب حتى جاء الماء فجعل يغسل ما راى من ذلك الاحتلام حتى اسفر فقال له عمرو بن العاص اصبحت ومعنا ثياب فدع ثوبك يغسل . فقال عمر بن الخطاب واعجبا لك يا عمرو بن العاص لين كنت تجد ثيابا افكل الناس يجد ثيابا والله لو فعلتها لكانت سنة بل اغسل ما رايت وانضح ما لم ار . قال مالك في رجل وجد في ثوبه اثر احتلام ولا يدري متى كان ولا يذكر شييا راى في منامه قال ليغتسل من احدث نوم نامه فان كان صلى بعد ذلك النوم فليعد ما كان صلى بعد ذلك النوم من اجل ان الرجل ربما احتلم ولا يرى شييا ويرى ولا يحتلم فاذا وجد في ثوبه ماء فعليه الغسل وذلك ان عمر اعاد ما كان صلى لاخر نوم نامه ولم يعد ما كان قبله
রেওয়ায়ত ৮৪. উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উম্মু সুলায়ম বিনতে মিলহান (রাঃ) বলিলেনঃ স্ত্রীলোক স্বপ্নে দেখিলে যেমন (স্বপ্ন) দেখিয়া থাকে পুরুষ, (সেই) স্ত্রীলোক গোসল করিবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ, সে গোসল করবে। আয়েশা (রাঃ) তাহাকে (উম্মু সুলায়মকে) বলিলেনঃ উঃ তোমার সর্বনাশ হোক! স্ত্রীলোকও কি উহা দেখে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে [আয়েশা (রাঃ)-কে] বললেনঃ (تَرِبَتْ يَمِينُكِ) তোমার ডান হস্ত ধূলিধূসরিত হোক। (স্ত্রীলোকের উহা না হইলে) তবে (সন্তান-এর) সাদৃশ্য আসে কোথা হইতে? অর্থাৎ সন্তান মায়ের মত হয় কিরূপে?
حدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، ان ام سليم، قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم المراة ترى في المنام مثل ما يرى الرجل اتغتسل فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم فلتغتسل " . فقالت لها عايشة اف لك وهل ترى ذلك المراة فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " تربت يمينك ومن اين يكون الشبه
রেওয়ায়ত ৮৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু সালমা (রাঃ) বলেনঃ আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাজির হইলেন এবং আরজ করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জা করেন না, স্ত্রীলোকের স্বপ্লদোষ হইলে তাহার উপর গোসল ওয়াজিব হইবে কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেনঃ হ্যাঁ, পানি দেখিলে।
حدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن زينب بنت ابي سلمة، عن ام سلمة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت جاءت ام سليم امراة ابي طلحة الانصاري الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان الله لا يستحيي من الحق هل على المراة من غسل اذا هي احتلمت فقال " نعم اذا رات الماء
রেওয়ায়ত ৮৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ স্ত্রীলোকের গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করাতে কোন দোষ নাই (অর্থাৎ ইহা জায়েয)। যদি স্ত্রীলোক ঋতুমতী (حائض) অথবা জুনুবী না হয়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول لا باس ان يغتسل بفضل المراة ما لم تكن حايضا او جنبا
রেওয়ায়ত ৮৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পরিধানের কাপড়ে ঘর্মাক্ত হইতেন অথচ তখন তিনি জুনুবী। অতঃপর সেই কাপড়েই গোসলের পর তিনি নামায পড়িতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يعرق في الثوب وهو جنب ثم يصلي فيه
রেওয়ায়ত ৮৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর বাঁদিগণ তাহার পদদ্বয় ধৌত করিত এবং তাহাকে খুমরা (خمرة) ছোট মুসল্লা বা জায়নামায প্রদান করিত, অথচ তাহারা তখন ঋতুমতী। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী ও বাদী রহিয়াছে, সেই ব্যক্তি গোসলের পূর্বে সকলের (স্ত্রী ও বাদিগণের) সঙ্গে সহবাস করিতে পারবে কি? (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ জানাবতের গোসলের পূর্বে বাদীর সহিত সহবাস করা দোষের বিষয় নয় (অর্থাৎ ইহা জায়েয)। কিন্তু স্বাধীন স্ত্রীগণের ব্যাপারে মাসআলা এই- কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের স্ত্রীর (অধিকারের) দিনে (নিজের) আর এক স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়া মাকরূহ। তবে কোন লোকের জন্য (তাহার) এক বাদীর সহিত সহবাস করিয়া অতঃপর আর এক বাদীর সহিত জুনুব থাকা অবস্থায় মিলিত হওয়া দোষের ব্যাপার নহে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তির জন্য পানি রাখা হইয়াছে যাহা হইতে সে ব্যক্তি ফরয গোসল করিবে, তারপর সে ভুলবশত সেই পানিতে তাহার আঙ্গুল দাখিল করিয়াছে যাহাতে ঠাণ্ডা ও গরমের (মাত্রা) নির্ণয় করিতে পারে। (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার আঙুলসমূহে কোন নাপাকী না পৌছিয়া থাকিলে তবে তাহার এই কাজে পানি নাপাক হইবে বলিয়া আমি মনে করি না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يغسل جواريه رجليه ويعطينه الخمرة وهن حيض . وسيل مالك عن رجل له نسوة وجواري هل يطوهن جميعا قبل ان يغتسل فقال لا باس بان يصيب الرجل جاريتيه قبل ان يغتسل فاما النساء الحراير فيكره ان يصيب الرجل المراة الحرة في يوم الاخرى فاما ان يصيب الجارية ثم يصيب الاخرى وهو جنب فلا باس بذلك . وسيل مالك عن رجل جنب وضع له ماء يغتسل به فسها فادخل اصبعه فيه ليعرف حر الماء من برده . قال مالك ان لم يكن اصاب اصبعه اذى فلا ارى ذلك ينجس عليه الماء
রেওয়ায়ত ৮৯. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সফরে গমন করিলাম। যখন আমরা বায়দা (بيداء) অথবা (তিনি বলিয়াছেন) যাতুল-জাইশ (নামক স্থান)-এ পৌছিলাম, তখন আমার একটি মালা হারান গেল। উহা অনুসন্ধানের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেখানে) অবস্থান করিলেন এবং লোকজনও তাহার সহিত অবস্থান করিলেন। তাহারা কোন পানির (কূপ বা নহর) কাছে ছিলেন না এবং তাঁহাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। লোকজন আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন এবং ঘটনা বিবৃত করিলেন। তাহারা বললেনঃ আয়েশা (রাঃ) কি করিয়াছেন তাহা কি আপনি জানেন না? (তিনি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এবং অন্য লোকদিগকে অবস্থানে বাধ্য করিয়াছেন। অথচ তাহারা পানির কাছে নহেন এবং তাহদের সঙ্গে পানিও নাই। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর আবু বকর (রাঃ) আমার নিকট আসিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার (পবিত্র) শির আমার উরুর উপর স্থাপন করিয়া ঘুমাইতেছিলেন। তিনি [আবু বকর (রাঃ)] বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং লোকদিগকে তুমি আটকাইয়া রাখিয়াছ। অথচ তাহারা পানির পার্শ্বে নহেন এবং তাহাদের সাথে পানিও নাই। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ তারপর আবু বকর (রাঃ) আমার প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করিলেন এবং আমাকে তিরস্কার করিলেন। আর তাহার হাত দিয়া আমার কোমরে খোচা মারিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (পবিত্র) শির আমার উরুর উপর স্থাপিত থাকার দরুন আমি (খোচা মারা সত্ত্বেও) নড়াচড়া করিতেছিলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতঃপর ঘুমাইয়া পড়িলেন এমন কি এই পানিহীন অবস্থায় ভোর হইল। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাইয়াম্মুমের আয়াত নাযিল করিলেন। তারপর তাহারা সকলে তাইয়াম্মুম করিলেন। উসায়দ ইবন হুযায়র (রাঃ) বললেনঃ হে আবু বকরের পরিজন ইহা (অর্থাৎ তাইয়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া) আপনাদের প্রথম বরকত নহে। (অর্থাৎ মুসলিমগণ আপনাদের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হইয়াছেন) আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ তারপর আমি যে উটের উপর আরোহণ করিয়াছিলাম উহাকে উঠাইলাম এবং উহার নিচে মালা পাইলাম। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি উপস্থিত নামাযের জন্য তাইয়াম্মুম করিয়াছে। অতঃপর পরবর্তী নামায উপস্থিত হইয়াছে, ঐ লোক কি সেই নামাযের জন্য (আবার) তাইয়াম্মুম করবে, না সেই (পূর্ববর্তী) তাইয়াম্মুম তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে? উত্তরে তিনি বলিলেনঃ প্রত্যেক (ফরয) নামাযের জন্য তাইয়াম্মুম করবে। কারণ (সময় উপস্থিত হইলে) প্রত্যেক নামাযের জন্য পানির অনুসন্ধান করা তাহার ওয়াজিব। যে ব্যক্তি পানির অনুসন্ধান করিল কিন্তু পানি পাইল না, সে তাইয়াম্মুম করিবে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তাইয়াম্মুম করিয়াছে এবং তাহার সাথীগণ যাহারা ওযু করিয়াছেন সে তাহাদের ইমামতি করিতে পারবে কি? (উত্তরে) তিনি বলিলেন, সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ ইমামতি করিলে তাহা আমার নিকট পছন্দনীয়, আর যদি সে তাহাদের ইমামতি করিয়া থাকে, তবে তাহাতেও আমি কোন দোষ দেখি না। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, এক ব্যক্তি পানি না পাইয়া তাইয়াম্মুম করিয়াছে, তারপর সে নামাযে দাঁড়াইয়াছে এবং তকবীর বলিয়া নামায আরম্ভ করিয়াছে। অতঃপর একজন লোক পানিসহ তাহার নিকট আগমন করিল। তিনি বলেনঃ সে নামায ছাড়িবে না, বরং তাইয়াম্মুম দ্বারা সেই নামায পূর্ণ করিবে এবং আগামী নামাযের জন্য ওযু করবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি নামাযের (প্রস্তুতির) জন্য দাঁড়াইয়াছে; কিন্তু সে পানি না পাইয়া আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তাইয়াম্মুমের আমল করিয়াছে তবে সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহর আনুগত্যই করিয়াছে। পক্ষাত্তরে যে ব্যক্তি পানি পাইয়াছে (ও ওযু করিয়াছে) তাহা (উপরিউক্ত তাইয়াম্মুমকারী) অপেক্ষা সেই ব্যক্তি বেশি পবিত্র ও নামাযের পূর্ণতাকারী বলিয়া গণ্য হইবে না; কারণ তাহারা উভয়েই নির্দেশপ্রাপ্ত এবং প্রত্যেকে মহিমান্বিত আল্লাহ্র পক্ষ হইতে যাহা নির্দেশ পাইয়াছে সেই মুতাবিক আমল করিয়াছে। যে ব্যক্তি পানি পাইয়াছে সেই ব্যক্তির আমল হইল ওযু, যেমন আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে নির্দেশ করিয়াছেন, আর যে ব্যক্তি নামায শুরুর পূর্বে পানি পায় নাই সেই ব্যক্তির জন্য (নির্দেশ) হইল তাইয়াম্মুম। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, জুনুবী ব্যক্তি তাইয়াম্মুম করিবে এবং কুরআন হইতে তাহার নির্ধারিত অংশ তিলাওয়াত করিবে এবং নফল নামায পড়িবে যতক্ষণ পর্যন্ত পানি না পায়। তবে ইহা সেই স্থানের জন্য যে স্থানে তাহার জন্য তাইয়াম্মুম দ্বারা নামায পড়া বৈধ।
রেওয়ায়ত ৯০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি স্বয়ং এবং আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যাত্রা আরম্ভ করিলেন। জুরুফ (جرف) হইতে তাহারা উভয়ে মিরবদ (مربد) নামক স্থানে পৌছার পর আবদুল্লাহ (রাঃ) অবতরণ করলেন এবং পবিত্র মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করিলেন- তাহার মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত মসেহ করিলেন। অতঃপর নামায পড়িলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، انه اقبل هو وعبد الله بن عمر من الجرف حتى اذا كانا بالمربد نزل عبد الله فتيمم صعيدا طيبا فمسح وجهه ويديه الى المرفقين ثم صلى
রেওয়ায়ত ৯১. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হস্তদ্বয়ের উভয় কনুই পর্যন্ত তাইয়াম্মুমে মসেহ করিতেন। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ তাইয়াম্মুম কিরূপে এবং (হস্তদ্বয়ে তাইয়াম্মুম করার সময়) কোন স্থান পর্যন্ত তাহা পৌছাইবে? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ একবার মাটিতে হাত রাখিবে মুখমণ্ডলের নিমিত্ত আর এক দফা রাখিবে হস্তদ্বয়ের সমূহের জন্য এবং হস্তদ্বয় উভয় কনুই পর্যন্ত মসেহ করিবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يتيمم الى المرفقين . وسيل مالك كيف التيمم واين يبلغ به فقال يضرب ضربة للوجه وضربة لليدين ويمسحهما الى المرفقين
রেওয়ায়ত ৯২. এক ব্যক্তি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে, যে তাইয়াম্মুম করার পর পানি পাইয়াছে। সাঈদ (রহঃ) উত্তরে বলিলেনঃ পানি পাইলে আগামী নামাযের জন্য তাহার ওপর গোসল ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, এমন এক ব্যক্তি যাহার ইহতিলাম হইয়াছে অথচ সে মুসাফির। কেবল ওযুর পরিমাণ পানি ব্যতীত তাহার নিকট আর পানি নাই এবং পানি পর্যন্ত পৌছার পূর্বে সে পিপাসিত হইবে না। তিনি বলিলেনঃ সেই পানি দ্বারা সে তাহার লজ্জাস্থান এবং যে স্থানে নাপাকী লাগিয়াছে তাহা ধুইবে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক পবিত্র মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করবে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক জুনুবী ব্যক্তি সম্পর্কে যে তাইয়াম্মুম করিতে ইচ্ছা করিয়াছে; কিন্তু সে লবণাক্ত মাটি ছাড়া অন্য মাটি পাইল না। তবে সে কি লবণাক্ত মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করিবে? আরও প্রশ্ন করা হইলঃ লবণাক্ত মাটিতে নামায পড়া কি মাকরূহ? (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলিলেনঃ লবণাক্ত মাটিতে নামায পড়াতে এবং লবণাক্ত মাটি দ্বারা তাইয়াম্মুম করাতে কোন দোষ নাই। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেনঃ (فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا) তোমরা পবিত্র মাটির দ্বারা তাইয়াম্মুম কর (সূরা মায়িদাঃ ৬)। ফলে যে-কোন পবিত্র মটি তাইয়াম্মুমের উপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে। লবণাক্ত হোক অথবা না হোক।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن حرملة، ان رجلا، سال سعيد بن المسيب عن الرجل الجنب، يتيمم ثم يدرك الماء فقال سعيد اذا ادرك الماء فعليه الغسل لما يستقبل . قال مالك فيمن احتلم وهو في سفر ولا يقدر من الماء الا على قدر الوضوء وهو لا يعطش حتى ياتي الماء قال يغسل بذلك فرجه وما اصابه من ذلك الاذى ثم يتيمم صعيدا طيبا كما امره الله . وسيل مالك عن رجل جنب اراد ان يتيمم فلم يجد ترابا الا تراب سبخة هل يتيمم بالسباخ وهل تكره الصلاة في السباخ قال مالك لا باس بالصلاة في السباخ والتيمم منها لان الله تبارك وتعالى قال {فتيمموا صعيدا طيبا} فكل ما كان صعيدا فهو يتيمم به سباخا كان او غيره
রেওয়ায়ত ৯৩. যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, একজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রশ্ন করিলেনঃ আমার স্ত্রী ঋতুমতী থাকিলে আমার জন্য তাহার কতটুকু হালাল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিলেনঃ স্ত্রীলোক তাহার ইযার (পায়জামা বা পরনের জন্য কাপড়) শক্ত করিয়া বাধিবে। অতঃপর তোমার জন্য তাহার উপরের অংশ দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، ان رجلا، سال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما يحل لي من امراتي وهي حايض فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لتشد عليها ازارها ثم شانك باعلاها
রেওয়ায়ত ৯৪. রবি’আ ইবনে আবি আবদির রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক চাদরে (আবৃত অবস্থায়) শায়িতা ছিলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) তড়িঘড়ি করিয়া উঠিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে বলিলেন, তোমার কি ঘটিয়াছে। সম্ভবত তোমার নিফাস অর্থাৎ হায়েয হইয়াছে। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তবে তুমি তোমার ইযার (পায়জামা বা তহবন্দ) শক্ত করিয়া বাঁধ, তারপর তোমার বিছানায় প্রত্যাবর্তন কর।
وحدثني عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم كانت مضطجعة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في ثوب واحد وانها قد وثبت وثبة شديدة فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما لك لعلك نفست " . يعني الحيضة . فقالت نعم . قال " شدي على نفسك ازارك ثم عودي الى مضجعك
রেওয়ায়ত ৯৫. উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ উমর (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট লোক প্রেরণ করিলেন এই প্রশ্ন করার জন্য, স্ত্রী ঋতুমতী হইলে স্বামী সেই স্ত্রীর সহিত মিলিত হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ (স্ত্রী) তাহার নিচের অংশে ইযার (পরিধানের কাপড়) শক্ত করিয়া বাঁধিবে, অতঃপর স্বামী ইচ্ছা করিলে তাহার সহিত মিলিত হইবে। (কিন্তু সহবাস হইতে বিরত থাকিবে, এইজন্যই ইযার শক্ত করিয়া বাধিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।)
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبيد الله بن عبد الله بن عمر، ارسل الى عايشة يسالها هل يباشر الرجل امراته وهي حايض فقالت لتشد ازارها على اسفلها ثم يباشرها ان شاء
রেওয়ায়ত ৯৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল ঋতুমতী স্ত্রীলোক সম্পর্কে, সে গোসলের পূর্বে পবিত্রতা (مسهير) লক্ষ করিলে তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করিতে পারিবে কি? তাহারা (উভয়ে) বলিলেনঃ গোসল না করা পর্যন্ত পারিবে না।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان سالم بن عبد الله، وسليمان بن يسار، سيلا عن الحايض، هل يصيبها زوجها اذا رات الطهر قبل ان تغتسل فقالا لا حتى تغتسل
রেওয়ায়ত ৯৭. মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن علقمة بن ابي علقمة، عن امه، مولاة عايشة ام المومنين انها قالت كان النساء يبعثن الى عايشة ام المومنين بالدرجة فيها الكرسف فيه الصفرة من دم الحيضة يسالنها عن الصلاة فتقول لهن لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء . تريد بذلك الطهر من الحيضة
রেওয়ায়ত ৯৯. মালিক (রহঃ)-কে (ঋতুমতী স্ত্রীলোক সম্পর্কে) প্রশ্ন করা হইল যে স্ত্রীলোক শুচিতাপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু পানি পায় না, সে তাইয়াম্মুম করিবে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, অবশ্যই তাইয়াম্মুম করবে। কারণ তাহার দৃষ্টান্ত জুনুবীর মত (জুনুবী ব্যক্তি), যখন পানি না পায় তখন তাইয়াম্মুম করে।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، عن عمته، عن ابنة زيد بن ثابت، انه بلغها ان نساء، كن يدعون بالمصابيح من جوف الليل ينظرن الى الطهر فكانت تعيب ذلك عليهن وتقول ما كان النساء يصنعن هذا . وسيل مالك عن الحايض تطهر فلا تجد ماء هل تتيمم قال نعم لتتيمم فان مثلها مثل الجنب اذا لم يجد ماء تيمم
রেওয়ায়ত ১০০. মালিক (রহঃ) বলেন, তিনি জ্ঞাত হইয়াছেন যে, যে গর্ভবতী স্ত্রীলোক রক্ত দেখিতে পায় তাহার সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেন, সে নামায পড়িবে না।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت في المراة الحامل ترى الدم انها تدع الصلاة
রেওয়ায়ত ১০১. মালিক (রহঃ) ইবনে শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিয়াছেনঃ যে গর্ভবতী স্ত্রীলোক রক্ত দেখিতে পায় সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ সে নামায হইতে বিরত থাকিবে । ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ উক্ত হুকুম আমাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত।
وحدثني عن مالك، انه سال ابن شهاب عن المراة الحامل، ترى الدم قال تكف عن الصلاة، . قال يحيى قال مالك وذلك الامر عندنا
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، انها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره حتى اذا كنا بالبيداء - او بذات الجيش - انقطع عقد لي فاقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه واقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فاتى الناس الى ابي بكر الصديق فقالوا الا ترى ما صنعت عايشة اقامت برسول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء . قالت عايشة فجاء ابو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضع راسه على فخذي قد نام فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء قالت عايشة فعاتبني ابو بكر فقال ما شاء الله ان يقول وجعل يطعن بيده في خاصرتي فلا يمنعني من التحرك الا مكان راس رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اصبح على غير ماء فانزل الله تبارك وتعالى اية التيمم فتيمموا . فقال اسيد بن حضير ما هي باول بركتكم يا ال ابي بكر . قالت فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته