Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১৪ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১০২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শির (মুবারক)-এ চিরুনি করিতাম, অথচ তখন আমি ছিলাম ঋতুমতী।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كنت ارجل راس رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا حايض
রেওয়ায়ত ১০৩. আসমা বিনত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করিলেন আমাদের মধ্যে একজনের কাপড়ে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগিলে সে কি করিবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন তোমাদের কোন স্ত্রীলোকের কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগিলে উহাকে খোচাইয়া পানি দ্বারা ধুইয়া ফেলিবে। অতঃপর সেই কাপড়ে নামায পড়িবে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن فاطمة بنت المنذر بن الزبير، عن اسماء بنت ابي بكر الصديق، انها قالت سالت امراة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت ارايت احدانا اذا اصاب ثوبها الدم من الحيضة كيف تصنع فيه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا اصاب ثوب احداكن الدم من الحيضة فلتقرصه ثم لتنضحه بالماء ثم لتصلي فيه
রেওয়ায়ত ১০৪. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন, ফাতিমা বিনত আবি হুবাইসা (রাঃ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি পবিত্ৰ হই না (অর্থাৎ রক্তস্রাব বন্ধ হয় না।) আমি নামায পড়িব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ উহা একটি রোগ (শিরামাত্র), হায়েয নহে। তাই যখন হায়েয আরম্ভ হয় তখন নামায ছাড়িয়া দাও। হয়েযের (দিবসের) পরিমাণ দিন অতিবাহিত হইলে তুমি তোমার রক্ত ধৌত কর, তারপর নামায পড়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت قالت فاطمة بنت ابي حبيش يا رسول الله اني لا اطهر افادع الصلاة فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما ذلك عرق وليست بالحيضة فاذا اقبلت الحيضة فاتركي الصلاة فاذا ذهب قدرها فاغسلي الدم عنك وصلي
রেওয়ায়ত ১০৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু-সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে জনৈকা স্ত্রীলোকের (রক্তস্রাব বন্ধ হইত না), রক্ত প্রবাহিত হইত। তাহার সম্পর্কে উম্মু-সালমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ (রক্তস্রাব বন্ধ না হওয়ার) যে রোগে সে আক্রান্ত হইয়াছে, সেই রোগ হওয়ার পূর্বে তাহার কত দিন কত রাত্র প্রতি মাসে হায়েয আসিত সে উহার প্রতি লক্ষ রাখিবে। মাসের সেই কয়দিন ও রাত্রিতে সে নামায পড়িবে না। অতঃপর সেই কয়দিন অতিবাহিত হইলে সে গোসল করিবে, তারপর লজ্জাস্থান কাপড় দিয়া বাধিয়া লইবে, তারপর নামায পড়িবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن سليمان بن يسار، عن ام سلمة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان امراة كانت تهراق الدماء في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستفتت لها ام سلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " لتنظر الى عدد الليالي والايام التي كانت تحيضهن من الشهر قبل ان يصيبها الذي اصابها فلتترك الصلاة قدر ذلك من الشهر فاذا خلفت ذلك فلتغتسل ثم لتستثفر بثوب ثم لتصلي
রেওয়ায়ত ১০৬. যায়নাব বিন্তি আবি সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবদুর রহমান ইবন আওফের স্ত্রী (উম্মু হাবিবা) যায়নাব বিন্ত জাহশকে দেখিয়াছেন, তাহার রক্তস্রাব বন্ধ হইত না, তিনি গোসল করিয়া নামায পড়িতেন।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن زينب بنت ابي سلمة، انها رات زينب بنت جحش التي كانت تحت عبد الرحمن بن عوف وكانت تستحاض فكانت تغتسل وتصلي
রেওয়ায়ত ১০৭. কাকা' (قَعْقَاع) ইবন হাকিম (রহঃ) এবং যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ) তাহারা উভয়ে সুমাইকে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট পাঠাইলেন মুস্তাহাযা (স্ত্রীলোক) গোসল কিরূপে করিবে এই বিষয়ে তাহাকে প্রশ্ন করিতে। তিনি বলিলেনঃ এক যোহর হইতে অপর যোহর পর্যন্ত গোসল করিবে এবং প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু করবে। আর যদি রক্ত তাহার উপর প্রাধান্য লাভ করে (অর্থাৎ অধিক হয়) তবে (রক্ত প্রবাহের স্থানে) কাপড় বাধিবে।
وحدثني عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر بن عبد الرحمن ان القعقاع بن حكيم، وزيد بن اسلم، ارسلاه الى سعيد بن المسيب يساله كيف تغتسل المستحاضة فقال تغتسل من طهر الى طهر وتتوضا لكل صلاة فان غلبها الدم استثفرت
রেওয়ায়ত ১০৮. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেন, মুস্তাহাযার জন্য একবার গোসল করা ব্যতীত অন্য কিছু ওয়াজিব নহে, অতঃপর প্রত্যেক (ফরয) নামাযের জন্য সে ওযু করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সিদ্ধাত্ত হইল- মুস্তাহাযা নামায পড়ার পর তাহার স্বামীর জন্য তাহার সঙ্গে সহবাস করা বৈধ, অনুরূপই নিফাসওয়ালীর (সন্তান প্রসবের পর যে রক্তস্রাব হয় উহাকে নিফাস বলা হয়) হুকুম। রক্ত স্ত্রীলোকদিগকে (নামায, রোযা ও স্বামীর মিলন হইতে) যতদিন বাধা দিয়া রাখে উহার শেষ সীমায় উপনীত হওয়ার পরও যদি সে রক্ত দেখিতে পায় তবে তখন তাহার স্বামী তাহার সহিত মিলিত হইতে পরিবে, কারণ সে স্ত্রীলোক মুস্তাহাযা স্ত্রীলোকের মত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে মুস্তাহাযা সম্পর্কে যে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন, তদনুযায়ী এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত করিয়াছি। এই বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার মনঃপূত।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال ليس على المستحاضة الا ان تغتسل غسلا واحدا ثم تتوضا بعد ذلك لكل صلاة . قال يحيى قال مالك الامر عندنا ان المستحاضة اذا صلت ان لزوجها ان يصيبها وكذلك النفساء اذا بلغت اقصى ما يمسك النساء الدم فان رات الدم بعد ذلك فانه يصيبها زوجها وانما هي بمنزلة المستحاضة . قال يحيى قال مالك الامر عندنا في المستحاضة على حديث هشام بن عروة عن ابيه وهو احب ما سمعت الى في ذلك
রেওয়ায়ত ১০৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে একটি শিশুকে আনা হইল। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড়ের উপর প্রস্রাব করিয়া দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি তলব করিলেন এবং প্রস্রাব লাগা কাপড়ের উপর পানি ঢালিয়া দিলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بصبي فبال على ثوبه فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بماء فاتبعه اياه
রেওয়ায়ত ১১০. উম্মু-কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) হইতে বর্ণিত, দুগ্ধ ছাড়া অন্য খাদ্য এখনও গ্রহণ করে নাই তাহার এমন এক ছোট শিশুকে সঙ্গে লইয়া তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হইলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই শিশুকে আপন কোলে বসাইলেন। সে তাহার কাপড়ের উপর প্রস্রাব করিয়া দিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি তলব করিলেন এবং কাপড়ে পানি ছিটাইলেন, উহাকে ধুইলেন না।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ام قيس بنت محصن، انها اتت بابن لها صغير لم ياكل الطعام الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجلسه في حجره فبال على ثوبه فدعا رسول الله بماء فنضحه ولم يغسله
রেওয়ায়ত ১১১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, জনৈক বেদুইন মসজিদে প্রবেশ করিল, সে প্রস্রাব করার উদ্দেশ্যে লজ্জাস্থান হইতে (কাপড়) খুলিল। লোকজন তাহাকে ধমকাইতে লাগিলেন, ইহাতে লোকের স্বর উচ্চ হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহাকে ছাড়িয়া দাও। তাহারা সেই লোকটিকে ছাড়িয়া দিলেন। সে প্রস্রাব করিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক ডোল পানি আনার নির্দেশ দিলেন। তারপর উক্ত স্থানে পানি ঢালা হইল।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال دخل اعرابي المسجد فكشف عن فرجه ليبول فصاح الناس به حتى علا الصوت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتركوه " . فتركوه فبال ثم امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذنوب من ماء فصب على ذلك المكان
রেওয়ায়ত ১১২. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে দাঁড়াইয়া প্রস্রাব করিতে দেখিয়াছি। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল প্রস্ৰাব-পায়খানা হইতে লজ্জাস্থান ধৌত করা সম্পর্কে কোন বর্ণনা (اثر) আসিয়াছে কি? তিনি বলিলেন, আমি জ্ঞাত হইয়াছি, পূর্বের লোকদের (আনসারদের) মধ্য হইতে কিছুসংখ্যক লোক মলত্যাগের পর মলদ্বার ধৌত করিতেন, আর আমি প্রস্রাব করার পর লজ্জাস্থান ধৌত করা পছন্দ করি।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، انه قال رايت عبد الله بن عمر يبول قايما . قال يحيى وسيل مالك عن غسل الفرج من البول والغايط هل جاء فيه اثر فقال بلغني ان بعض من مضى كانوا يتوضيون من الغايط وانا احب ان اغسل الفرج من البول
রেওয়ায়ত ১১৩. ইবন সব্বাক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম'আসমূহের কোন এক জুম'আয় ইরশাদ করিয়াছেনঃ (يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ) - হে মুসলিম সম্প্রদায় ইহা একটি দিবস, যাহাকে আল্লাহ্ ঈদস্বরূপ নির্দিষ্ট করিয়াছেন। তাই তোমরা গোসল কর, আর যাহার নিকট সুগন্ধ দ্রব্য থাকে, সে উহা হইতে স্পর্শ করিলে ক্ষতি নাই। মিসওয়াক ব্যবহার করা তোমাদের কর্তব্য।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن ابن السباق، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في جمعة من الجمع " يا معشر المسلمين ان هذا يوم جعله الله عيدا فاغتسلوا ومن كان عنده طيب فلا يضره ان يمس منه وعليكم بالسواك
রেওয়ায়ত ১১৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যদি আমার উম্মতের উপর কঠিন হওয়ার আশংকা না করিতাম, তবে তাহাদিগকে বাধ্যতামূলকভাবে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لولا ان اشق على امتي لامرتهم بالسواك
রেওয়ায়ত ১১৫. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি উম্মতের উপর কঠিন হওয়ার আশংকা না করিতেন, তবে তাহাদিগকে বাধ্যতামূলকভাবে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، عن ابي هريرة، انه قال لولا ان يشق، على امته لامرهم بالسواك مع كل وضوء