Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৫৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১৬০. ইকরামা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে যেরূপ বর্ণনা করিয়াছেন মালিক (রহঃ) রবী'আ ইবন আবূ আবদুর রহমানকে এ সম্পর্কে অনুরূপ বলিতে শুনিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার পছন্দনীয়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ তাওয়াফে যিয়ারত ভুলিয়া গিয়া যদি বাড়ি ফিরিয়া আসে তবে সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ স্ত্রীসম্ভোগ না করিয়া থাকিলে মক্কায় ফিরিয়া যাইবে এবং তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করিবে। আর স্ত্রীসম্ভোগ করিয়া থাকিলে মক্কায় ফিরিয়া গিয়া তাওয়াফ আদায় করিবে এবং উমরা করিয়া একটি কুরবানী দিবে। মক্কা হইতে উট ক্রয় করিয়া কুরবানী দিলে হইবে না। সঙ্গে যদি কুরবানীর পশু আনিয়া না থাকে তবে মক্কা হইতে কুরবানীর পশু কিনিয়া ইহাসহ হারমের বাহিরে চলিয়া যাইবে এবং সেই স্থান হইতে উহাকে মক্কায় হাকাইয়া নিয়া আসিবে এবং সেখানে নাহর করিবে।
وحدثني عن مالك، انه سمع ربيعة بن ابي عبد الرحمن، يقول في ذلك مثل قول عكرمة عن ابن عباس . قال مالك وذلك احب ما سمعت الى في ذلك . وسيل مالك عن رجل نسي الافاضة حتى خرج من مكة ورجع الى بلاده فقال ارى ان لم يكن اصاب النساء فليرجع فليفض وان كان اصاب النساء فليرجع فليفض ثم ليعتمر وليهد ولا ينبغي له ان يشتري هديه من مكة وينحره بها ولكن ان لم يكن ساقه معه من حيث اعتمر فليشتره بمكة ثم ليخرجه الى الحل فليسقه منه الى مكة ثم ينحره بها
রেওয়ায়ত ১৬১. জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলতেনঃ (مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْى) অর্থাৎ, তবে সহজলভ্য কুরবানী করিও। (বাকারাঃ ১৯৬) এই কথার অর্থ হইল, অন্তত একটি বকর কুরবানী করা।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن علي بن ابي طالب، كان يقول {ما استيسر من الهدى} شاة
রেওয়ায়ত ১৬২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْى) এর অর্থ হইল, অন্তত একটি বকরী কুরবানী করা। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বর্ণনাটি আমার নিকট খুবই প্রিয়। কেননা কুরআনুল করীমে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ হে মু’মিনগণ, তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাক তখন তোমরা কোন প্রাণী বধ করিও না। কেউ যদি কোনকিছু ইচ্ছাকৃতভাবে বধ করে তবে যে ধরনের পশু সে বধ করিয়াছে সেই ধরনের কোন পশু তাহাকে প্রতিদান (জরিমানা) দিতে হইবে। তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ লোক ইহার ফয়সালা করিয়া দিবে। এই প্রতিদান বায়তুল্লাহতে প্রেরিত হাদয়ী হইবে অথবা কাফফারা হিসাবে হইবে যাহা মিসকীনদেরকে আহার করানো হইবে অথবা তাহাকে তৎপরিমাণ রোযা রাখিতে হইবে যাহাতে সে তাহার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করিয়া নেয়। যাহা হউক, শিকারকৃত পশুর পরিবর্তে কোন সময়ে বকরীও ওয়াজিব হইতে পারে। উক্ত আয়াতে উহাকেও হাদয়ী বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। এই কথায় একজন কি করিয়া সন্দেহ করিতে পারে? কারণ যে পশু উট বা গরুর সমতুল্য নহে উহার প্রতিদানে (জরিমানা) একটি বকরীই ওয়াজিব হইতে পারে। একটি বকরীর সমতুল্যও যেখানে হইবে না সেখানে কাফফারা ওয়াজিব হইবে। সে রোযার মাধ্যমে উহা আদায় করুক বা মিসকীনদেরকে আহার করাইয়া তাহা আদায় করুক, উভয় অবস্থায় ইহা কাফফারা হিসাবেই গণ্য হইবে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عباس، كان يقول {ما استيسر من الهدى} شاة . قال مالك وذلك احب ما سمعت الى في ذلك لان الله تبارك وتعالى يقول في كتابه {يا ايها الذين امنوا لا تقتلوا الصيد وانتم حرم ومن قتله منكم متعمدا فجزاء مثل ما قتل من النعم يحكم به ذوا عدل منكم هديا بالغ الكعبة او كفارة طعام مساكين او عدل ذلك صياما} فمما يحكم به في الهدى شاة وقد سماها الله هديا وذلك الذي لا اختلاف فيه عندنا وكيف يشك احد في ذلك وكل شىء لا يبلغ ان يحكم فيه ببعير او بقرة فالحكم فيه شاة وما لا يبلغ ان يحكم فيه بشاة فهو كفارة من صيام او اطعام مساكين
রেওয়ায়ত ১৬৩. নাফি (রহঃ) বর্ণনা করেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেনঃ (مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْى) আয়াতটির অর্থ হইল- অন্ততপক্ষে একটি বকরী বা গাভী কুরবানী করিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول {ما استيسر من الهدى} بدنة او بقرة
রেওয়ায়ত ১৬৪. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমরাহ বিনত আবদুর রহমানের আযাদকৃত দাসী রুকাইয়া (রহঃ) খবর দিয়েছেন- তিনি একবার আমরাহ বিনত আবদুর রহমানের সঙ্গে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। তিনি বলেনঃ যিলহজ্জ মাসের অষ্টম তারিখে তিনি (আমরাহ) মক্কায় গিয়া উপনীত হন। আমি তাহার সঙ্গে সঙ্গেই ছিলাম। তিনি কা'বার তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিয়া মসজিদে গেলেন। আমাকে বললেনঃ তোমার নিকট কাঁচি আছে কি? আমি বলিলামঃ নাই। তিনি বলিলেনঃ তালাশ করিয়া একটি কাঁচি লইয়া আস। আমি তাহাই করিলাম। তিনি উহা দ্বারা তাঁছার চুলের কিছু অংশ কাটিলেন। পরে কুরবানীর দিন (ইয়াওমুননাহরে) তিনি একটি বকরী যবেহ করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، ان مولاة، لعمرة بنت عبد الرحمن يقال لها رقية اخبرته انها، خرجت مع عمرة بنت عبد الرحمن الى مكة - قالت - فدخلت عمرة مكة يوم التروية وانا معها فطافت بالبيت وبين الصفا والمروة ثم دخلت صفة المسجد فقالت امعك مقصان فقلت لا . فقالت فالتمسيه لي . فالتمسته حتى جيت به فاخذت من قرون راسها فلما كان يوم النحر ذبحت شاة
রেওয়ায়ত ১৬৫. সাদাকাহ ইবন ইয়াসার মক্কী (রহঃ) বর্ণনা করেন- ইয়ামনের অধিবাসী এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এর নিকট আসে। চুলগুলি তাহার জটপাকানো ছিল। সে বলিলঃ হে আবু আবদুর রহমান! আমি শুধু উমরার ইহরাম বাঁধিয়া আসিয়াছি। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি যদি আমার সঙ্গে থাকিতে বা আমার নিকট পূর্বে জিজ্ঞাসা করিতে তবে তোমাকে আমি হজ্জে কিরান করার কথা বলিতাম। লোকটি বলিলঃ উহার সময় অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ তোমার এই লম্বা চুলগুলি কাটিয়া ফেল এবং কুরবানী কর। ইরাকের অধিবাসী একজন মহিলা তখন বলিলঃ হে আবু আবদুর রহমান! এই লোকটির হাদয়ী (কুরবানী) কি হইবে? তিনি বলিলেনঃ উত্তম হাদয়ী সে দিবে। মহিলাটি পুনরায় বলিলঃ ইহা কি হইবে? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ যবেহ করিবার জন্য বকরী ব্যতীত অন্য কিছু যদি না পায় বা দিতে অসমর্থ হয়, তবে আমার কাছে রোযা রাখা অপেক্ষা বকরী হাদয়ী দেওয়াই উত্তম।
حدثني يحيى، عن مالك، عن صدقة بن يسار المكي، ان رجلا، من اهل اليمن جاء الى عبد الله بن عمر وقد ضفر راسه فقال يا ابا عبد الرحمن اني قدمت بعمرة مفردة . فقال له عبد الله بن عمر لو كنت معك او سالتني لامرتك ان تقرن . فقال اليماني قد كان ذلك . فقال عبد الله بن عمر خذ ما تطاير من راسك واهد . فقالت امراة من اهل العراق ما هديه يا ابا عبد الرحمن فقال هديه . فقالت له ما هديه فقال عبد الله بن عمر لو لم اجد الا ان اذبح شاة لكان احب الى من ان اصوم
রেওয়ায়ত ১৬৭. মালিক (রহঃ) কতিপয় আলিমের নিকট শুনিয়াছেন- স্বামী-স্ত্রী কুরবানীতে একই উটে শরীক হইবে না। প্রত্যেকেরই আলাদা উট কুরবানী করা উচিত। মালিক (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ হজ্জের সময় নাহর করার জন্য যদি কাহারও সঙ্গে মক্কায় হাদয়ী পাঠাইয়া দেয় আর সে নিজে উমরার ইহরাম বাধিয়া আসে তবে উমরা শেষ হইতেই সে ঐ হাদয়ীটি ‘নাহর’ করিতে পারিবে কি অথবা উহা নাহর করার জন্য হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে কি অপেক্ষা করিবে? তিনি উত্তরে বলিলেনঃ উমরা করিয়া সে ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে এবং কুরবানীর জন্য হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে এবং ইয়াওমুন-নাহরের সময় উহাকে সে 'নাহর করিবে এবং এই কুরবানীকে তাহার উমরারই অংশবিশেষ জানিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম অবস্থায় শিকার করার কারণে বা অন্য কোন কারণে যদি কাহারও উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হইয়া যায়, তবে উহাকে মক্কায় নিয়া আসা উচিত। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ (هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ) ‘এমন হাদয়ী যাহা কাবায় পৌছায়’। শিকার করার কারণে বা কুরবানীর পরিবর্তে রোযা বা সাদকা করিতে হইলে তাহার ইখতিয়ার থাকিবে হারম্ বা হারম্ এর বাহিরে যেকোন স্থানে ইচ্ছা সে উহা করিতে পারিবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول المراة المحرمة اذا حلت لم تمتشط حتى تاخذ من قرون راسها وان كان لها هدى لم تاخذ من شعرها شييا حتى تنحر هديها . وحدثني عن مالك انه سمع بعض اهل العلم يقول لا يشترك الرجل وامراته في بدنة واحدة ليهد كل واحد بدنة بدنة . وسيل مالك عمن بعث معه بهدى ينحره في حج وهو مهل بعمرة هل ينحره اذا حل ام يوخره حتى ينحره في الحج ويحل هو من عمرته فقال بل يوخره حتى ينحره في الحج ويحل هو من عمرته . قال مالك والذي يحكم عليه بالهدى في قتل الصيد او يجب عليه هدى في غير ذلك فان هديه لا يكون الا بمكة كما قال الله تبارك وتعالى {هديا بالغ الكعبة} واما ما عدل به الهدى من الصيام او الصدقة فان ذلك يكون بغير مكة حيث احب صاحبه ان يفعله فعله
রেওয়ায়ত ১৬৮. আবদুল্লাহ ইবন জাফর (রহঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু আসমা (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন জাফর (রহঃ)-এর সহিত মদীনা হইতে যাত্রা করেন, পথে সুকইয়া নামক স্থানে হুসায়ন ইবন আলী (রাঃ)-এর সহিত তাহাদের সাক্ষাৎ হয়। তিনি [হুসায়ন (রাঃ)] সেখানে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন জাফরও সেখানে রহিয়া গেলেন। হজ্জের সময় শেষ হইয়া যাইতেছে দেখিয়া তিনি পুনরায় রওয়ানা হইয়া পড়েন এবং একজন লোককে খবর দিয়া আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) ও তাহার স্ত্রী আসমা বিনত উমাইসের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। তাহারা ঐ সময় মদীনায় ছিলেন। তাহারা খবর পাইয়া সুকইয়ায় অসুস্থ পুত্রের নিকট আসিলেন। তিনি [হুসায়ন (রাঃ)] নিজের মাথার দিকে ইশারা করিয়া দেখাইলেন। আলী (রাঃ)-এর নির্দেশে তখন সেখানেই তাহার মাথা কামান হইল এবং একটি উট কুরবানী দেওয়া হইল । ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ হুসায়ন (রাঃ) ঐ সময় উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর সহিত হজ্জ করিতে রওয়ানা হইয়াছিলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن يعقوب بن خالد المخزومي، عن ابي اسماء، مولى عبد الله بن جعفر انه اخبره انه، كان مع عبد الله بن جعفر فخرج معه من المدينة فمروا على حسين بن علي وهو مريض بالسقيا فاقام عليه عبد الله بن جعفر حتى اذا خاف الفوات خرج وبعث الى علي بن ابي طالب واسماء بنت عميس وهما بالمدينة فقدما عليه ثم ان حسينا اشار الى راسه فامر علي براسه فحلق ثم نسك عنه بالسقيا فنحر عنه بعيرا . قال يحيى بن سعيد وكان حسين خرج مع عثمان بن عفان في سفره ذلك الى مكة
রেওয়ায়ত ১৬৯. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আরাফাতের সারা ময়দানে অবস্থান করা যায়, তবে তোমরা বাতনে উরানায় অবস্থান করিও না। এমনিভাবে মুযদালিফার সারা ময়দানে অবস্থান করা যায় তবে তোমরা বাতনে মুহাসসিরে অবস্থান করিও না।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " عرفة كلها موقف وارتفعوا عن بطن عرنة والمزدلفة كلها موقف وارتفعوا عن بطن محسر
রেওয়ায়ত ১৭১. ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ অপবিত্র অবস্থায় কোন ব্যক্তি আরাফাত বা মুযদালিফায় অবস্থান বা প্রস্তর নিক্ষেপ বা সাফা-মারওয়ার সায়ী করিতে পারবে কি? তিনি বলিলেনঃ ঋতুমতী স্ত্রীলোক হজ্জের যে সমস্ত আহকাম-আরকান আদায় করিতে পারে তাহা ওযূবিহীন অবস্থায় তাহাকে আদায় করিতে হয়। তদ্রুপ ওযু ছাড়া পুরুষ ও স্ত্রীলোক এইগুলি করিতে পারে। ইহাতে দোষের কিছুই হয় না। তবে ওযুসহ ঐ সমস্ত বিষয় আদায় করা উত্তম। স্বেচ্ছায় ওযূবিহীন অবস্থায় এইসব কাজ করা ঠিক নহে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ কোন ব্যক্তি আরোহী হইলে আরাফাতে অবস্থানকালে সে আরোহী অবস্থায় থাকিবে কিনা। তিনি বলিলেনঃ আরোহী অবস্থায় ওয়াকুফ করিবে। তবে তাহার বা তাহার ভারবাহী পশুর কোন অসুবিধা থাকিলে আল্লাহ্ তা'আলা তাহা কবূল করিবেন।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن عبد الله بن الزبير، انه كان يقول اعلموا ان عرفة كلها موقف الا بطن عرنة وان المزدلفة كلها موقف الا بطن محسر . قال مالك قال الله تبارك وتعالى {فلا رفث ولا فسوق ولا جدال في الحج } قال فالرفث اصابة النساء والله اعلم قال الله تبارك وتعالى {احل لكم ليلة الصيام الرفث الى نسايكم } قال والفسوق الذبح للانصاب والله اعلم قال الله تبارك وتعالى {او فسقا اهل لغير الله به} . قال والجدال في الحج ان قريشا كانت تقف عند المشعر الحرام بالمزدلفة بقزح وكانت العرب وغيرهم يقفون بعرفة فكانوا يتجادلون يقول هولاء نحن اصوب ويقول هولاء نحن اصوب فقال الله تعالى و {لكل امة جعلنا منسكا هم ناسكوه فلا ينازعنك في الامر وادع الى ربك انك لعلى هدى مستقيم} فهذا الجدال فيما نرى والله اعلم وقد سمعت ذلك من اهل العلم
রেওয়ায়ত ১৭২. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ মুযদালিফার রাত্রির (১০ তারিখের রাত্রি) কিছু অংশ হইতে আরাফাতে অবস্থান না করিলে হজ্জ হইবে না। আর যে ব্যক্তি ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরাফাতে অবস্থান করিতে পারবে তাহার হজ্জ হইয়া যাইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول من لم يقف بعرفة من ليلة المزدلفة قبل ان يطلع الفجر فقد فاته الحج ومن وقف بعرفة من ليلة المزدلفة من قبل ان يطلع الفجر فقد ادرك الحج
রেওয়ায়ত ১৭৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ মুযদালিফার রাত ফজর হওয়া পর্যন্তও যদি কেউ (কিছু সময়ের জন্য) আরাফাতে অবস্থান না করিয়া থাকে তবে তাহার হজ্জ বিনষ্ট হইবে। আর যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত ইহরাম বাঁধিয়া (কিছু সময়) আরাফাতে অবস্থান করিতে পারিবে তাহার হজ্জ হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরাফাতে অবস্থানকালে যদি কোন ক্রীতদাস আযাদ হইয়া যায় তবে এই হজ্জ দ্বারা তাহার ফরয হজ্জ আদায় হইবে না। কিন্তু আযাদ হওয়ার পূর্বে সে যদি ইহরাম না বাধিয়া থাকে এবং আযাদ হওয়ার পর ইয়াওমুন-নাহরের ফজরের পূর্বে ইহরাম বাঁধিয়া আরাফাতে অবস্থান করিয়া নিতে পারে তবে তাহার ফরয হজ্জ আদায় হইয়া যাইবে। আর ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সে যদি ইহরাম না বাঁধে তবে তাহার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মত হইবে যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাত্রের ফজর পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করে নাই, ফলে তাহার হজ্জ বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। সুতরাং ঐ আযাদ ক্রীতদাসেরও পুনরায় ফরয হজ্জ আদায় করিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال من ادركه الفجر من ليلة المزدلفة ولم يقف بعرفة فقد فاته الحج ومن وقف بعرفة من ليلة المزدلفة قبل ان يطلع الفجر فقد ادرك الحج . قال مالك في العبد يعتق في الموقف بعرفة فان ذلك لا يجزي عنه من حجة الاسلام الا ان يكون لم يحرم فيحرم بعد ان يعتق ثم يقف بعرفة من تلك الليلة قبل ان يطلع الفجر فان فعل ذلك اجزا عنه وان لم يحرم حتى طلع الفجر كان بمنزلة من فاته الحج اذا لم يدرك الوقوف بعرفة قبل طلوع الفجر من ليلة المزدلفة ويكون على العبد حجة الاسلام يقضيها
রেওয়ায়ত ১৭৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর পুত্র সলিম (রহঃ) এবং উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহাদের পিতা আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) শিশু ও মহিলাদেরকে প্রথম মুযদালিফা হইতে মিনায় পাঠাইয়া দিতেন, মিনায় ফজরের নামায আদায় করার পরপরই অন্যান্য লোক আসিবার পূর্বে যেন তাহারা প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়া নিতে পারেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن سالم، وعبيد الله، ابنى عبد الله بن عمر ان اباهما عبد الله بن عمر، كان يقدم اهله وصبيانه من المزدلفة الى منى حتى يصلوا الصبح بمنى ويرموا قبل ان ياتي الناس
রেওয়ায়ত ১৭৫. আতা ইবন রাবা' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আসমা বিনত আবি বকর (রাঃ)-এর আযাদ দাসী বর্ণনা করেনঃ অন্ধকার থাকিতেই আসমা বিনত আবি বকর (রাঃ)-এর সহিত আমরা মিনায় চলিয়া আসিলাম। আসমাকে তখন আমি বলিলামঃ অন্ধকার থাকিতেই যে মিনায় আমরা চলিয়া আসিলাম? তিনি বলিলেন, তোমাদের হইতে যিনি শ্ৰেষ্ঠ ছিলেন অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার আমলেও আমরা এই ধরনের আমল করিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن عطاء بن ابي رباح، ان مولاة، لاسماء بنت ابي بكر اخبرته قالت، جينا مع اسماء ابنة ابي بكر منى بغلس - قالت - فقلت لها لقد جينا منى بغلس . فقالت قد كنا نصنع ذلك مع من هو خير منك
রেওয়ায়ত ১৭৭. মালিক (রহঃ) কতিপয় আলিমের নিকট শুনিয়াছেন যে, তাহারা ইয়াওমুন-নাহরের ফজর হওয়ার পূর্বে প্রস্তর নিক্ষেপ করা মাকরূহ বলিয়া মনে করিতেন। যে ব্যক্তি প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়াছে তাহার জন্য নাহর করা হালাল হইয়া গিয়াছে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان طلحة بن عبيد الله، كان يقدم نساءه وصبيانه من المزدلفة الى منى . وحدثني عن مالك انه سمع بعض اهل العلم يكره رمى الجمرة حتى يطلع الفجر من يوم النحر ومن رمى فقد حل له النحر
রেওয়ায়ত ১৭৮. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন, ফাতিমা বিনত মুনযির বলিয়াছেনঃ মুযদালিফা অবস্থানকালে আসমা বিনতে আবি বকর (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, যে ব্যক্তি তাহাদের নামায পড়াইতেন তাহাকে তিনি বলিতেনঃ সুবহে সাদিক হওয়ামাত্রই যেন নামায পড়াইয়া দেন। পরে নামায পড়ামাত্র আর বিলম্ব না করিয়া তিনি মিনায় চলিয়া আসিতেন।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن فاطمة بنت المنذر، اخبرته انها، كانت ترى اسماء بنت ابي بكر بالمزدلفة تامر الذي يصلي لها ولاصحابها الصبح يصلي لهم الصبح حين يطلع الفجر ثم تركب فتسير الى منى ولا تقف
রেওয়ায়ত ১৭৯. হিশাম ইবন উরওয়াহ্ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তাহাকে তখন জিজ্ঞাসা করা হইলঃ বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দান হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় কিরূপ গতিতে উট চালাইতেছিলেন? তিনি বলিলেনঃ দ্রুত চালাইয়া ফিরিতেছিলেন। একটু ফাঁক পাইলে তখন খুবই দ্রুতগতিতে চালাইতেন।মালিক (রহঃ) বলেনঃ হিশাম (রহঃ) বলিয়াছেন, ‘নস’ জাতীয় গতি ‘আনাক’ জাতীয় গতি হইতে দ্রুততর।
حدثني يحيى، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال سيل اسامة بن زيد - وانا جالس، معه - كيف كان يسير رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع حين دفع قال كان يسير العنق فاذا وجد فجوة نص . قال مالك قال هشام والنص فوق العنق
রেওয়ায়ত ১৮০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বাতনে-মুহাসসির হইতে প্রস্তর নিক্ষেপ করার স্থান পর্যন্ত তাহার উটের গতি দ্রুত করিয়া দিতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يحرك راحلته في بطن محسر قدر رمية بحجر
রেওয়ায়ত ১৮১. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনা সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ মিনার সারাটা ময়দানই নাহর করার স্থান। আর উমরা সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ ইহার জন্য মারওয়াহ্ উত্তম স্থান। মক্কার প্রতিটি পথ এবং গলিও নাহর করার স্থান।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بمنى " هذا المنحر وكل منى منحر " . وقال في العمرة " هذا المنحر - يعني المروة - وكل فجاج مكة وطرقها منحر
রেওয়ায়ত ১৮২. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন যিলকা'দ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট ছিল, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত রওয়ানা হইলাম। আমাদের এই ধারণাই ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের উদ্দেশ্যেই যাইতেছেন। যখন আমরা মক্কার নিকটবর্তী হইলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাহাদের নিকট হাদয়ী ছিল না তাহাদিগকে তাওয়াফ ও সায়ী করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিতে বলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ইয়াওমুন্নাহরের দিন আমাদের কাছে গরুর গোশত আনা হইল। ইহা দেখিয়া বলিলামঃ ইহা কোথা হইতে আসিয়াছে? লোকেরা বলিলঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণের তরফ হইতে কুরবানী দিয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি কাসিম ইবন মুহাম্মদের নিকট উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করিলে তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, আমরাহ বিনত আবদুর রহমান এই হাদীসটি সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، قال اخبرتني عمرة بنت عبد الرحمن، انها سمعت عايشة ام المومنين، تقول خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لخمس ليال بقين من ذي القعدة ولا نرى الا انه الحج فلما دنونا من مكة امر رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يكن معه هدى اذا طاف بالبيت وسعى بين الصفا والمروة ان يحل . قالت عايشة فدخل علينا يوم النحر بلحم بقر فقلت ما هذا فقالوا نحر رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ازواجه . قال يحيى بن سعيد فذكرت هذا الحديث للقاسم بن محمد فقال اتتك والله بالحديث على وجهه