Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৫৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১৮৩. উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ) হইতে বর্ণিত-তিনি বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ অন্যরা তো উমরা করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিয়াছে, কিন্তু আপনি খুলিলেন না? তিনি বলিলেনঃ আমি আমার চুল জমাট করিয়া নিয়াছি আর হাদয়ীর গলায় হার লটকাইয়া দিয়াছি। সুতরাং ‘নাহর’ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলিব না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، عن حفصة ام المومنين، انها قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ما شان الناس حلوا ولم تحلل انت من عمرتك فقال " اني لبدت راسي وقلدت هديي فلا احل حتى انحر
রেওয়ায়ত ১৮৪. আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কুরবানীর কিছুসংখ্যক পশু নিজের হাতে নাহর করেন আর বাকিগুলি অন্যরা ‘নাহর’ করেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن علي بن ابي طالب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نحر بعض هديه ونحر غيره بعضه
রেওয়ায়ত ১৮৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ হাদয়ীর কুরবানী করার মানত করিলে উহার গলায় একজোড়া জুতা লটকাইয়া দিবে এবং উহার কুঁজ যখমী করিয়া দিবে। পরে দশ তারিখে কা'বা শরীফের নিকট বা মিনা ময়দানে উহা নাহর করিবে। ইহা ছাড়া ‘নাহর’ করার আর কোন স্থান নাই। আর যদি কেউ উট বা গরু ইত্যাদি কুরবানী করার মানত করে, তবে সে যে স্থানে ইচ্ছা কুরবানী করিতে পারে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، قال من نذر بدنة فانه يقلدها نعلين ويشعرها ثم ينحرها عند البيت او بمنى يوم النحر ليس لها محل دون ذلك ومن نذر جزورا من الابل او البقر فلينحرها حيث شاء
রেওয়ায়ত ১৮৬. হিশাম ইবন উরওয়াহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহার পিতা উটগুলিকে দাঁড় করাইয়া ঐগুলির নাহর করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুরবানী করার পূর্বে মাথা কামানো জায়েয নহে। দশ তারিখের সুবহে সাদিকের পূর্বে কুরবানী করাও জায়েয নহে। কুরবানী করা, কাপড় বদলান, শরীরের ময়লা সাফ করা, মাথা কামান ইত্যাদি বিষয় যিলহজ্জের দশ তারিখে করিতে হইবে। উহার পূর্বে এই সমস্ত করা জায়েয নহে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، ان اباه، كان ينحر بدنه قياما . قال مالك لا يجوز لاحد ان يحلق راسه حتى ينحر هديه ولا ينبغي لاحد ان ينحر قبل الفجر يوم النحر وانما العمل كله يوم النحر الذبح ولبس الثياب والقاء التفث والحلاق لا يكون شىء من ذلك يفعل قبل يوم النحر
রেওয়ায়ত ১৮৭. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করিয়াছিলেনঃ হে আল্লাহ, মাথা মুণ্ডনকারীদের উপর আপনি রহম করুন। সাহাবীগণ আরয করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! চুল যাহারা ছাটিবে তাহাদের জন্যও আল্লাহ্র রহমতের দু'আ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আল্লাহ্! মাথা মুণ্ডনকারীদের রহম করুন। সাহাবীগণ আরয করিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! চুল যাহারা ছাঁটিবে তাহদের জন্য আল্লাহর রহমতের দুআ করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আল্লাহ্! চুল যাহারা ছাটিবে তাহদের প্রতিও রহমত করুন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اللهم ارحم المحلقين " . قالوا والمقصرين يا رسول الله . قال " اللهم ارحم المحلقين " . قالوا والمقصرين يا رسول الله . قال " والمقصرين
রেওয়ায়ত ১৮৮. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি (কাসিম ইবন মুহাম্মদ) উমরার ইহরাম বাধিয়া রাত্রে মক্কায় আসিতেন, তাওয়াফ ও সায়ী করার পর ভোর পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন করার জন্য অপেক্ষা করিতেন। মাথা না কামানো পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিতেন না। নিকটবর্তী মসজিদে আসিয়া কখনও কখনও বিতরের নামায আদায় করিতেন বটে তবে বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী হইতেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ‘তাফাস' অর্থ হইল, হজ্জের পর মাথা কামানো এবং কাপড়-চোপড় বদলান ইত্যাদি। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ হজ্জের সময় একজন মাথা কামাইতে ভুলিয়া গেলে সে কি মক্কায় আসিয়া মাথা মুণ্ডন করিতে পারিবে? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, পারবে। তবে মিনাতে অবস্থানকালে উহা করা ভাল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় এই—যতক্ষণ পর্যন্ত হাদয়ী যবেহ করে নাই ততক্ষণ কেউ মাথা মুণ্ডন করিবে না বা চুল ছাঁটিবে না। আর যতক্ষণ মিনায় পৌছিয়া যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে ইহরাম না খুলিবে, ততক্ষণ তাহার হারাম বিষয়সমূহ হালাল হইবে না। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ কুরবানী যতক্ষণ তাহার নিজ স্থলে না পৌছাইবে ততক্ষণ তোমরা মাথা মুণ্ডন করিও না।
وحدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، انه كان يدخل مكة ليلا وهو معتمر فيطوف بالبيت وبين الصفا والمروة ويوخر الحلاق حتى يصبح . قال ولكنه لا يعود الى البيت فيطوف به حتى يحلق راسه . قال وربما دخل المسجد فاوتر فيه ولا يقرب البيت . قال مالك التفث حلاق الشعر ولبس الثياب وما يتبع ذلك . قال يحيى سيل مالك عن رجل نسي الحلاق بمنى في الحج هل له رخصة في ان يحلق بمكة قال ذلك واسع والحلاق بمنى احب الى . قال مالك الامر الذي لا اختلاف فيه عندنا ان احدا لا يحلق راسه ولا ياخذ من شعره حتى ينحر هديا ان كان معه ولا يحل من شىء حرم عليه حتى يحل بمنى يوم النحر وذلك ان الله تبارك وتعالى قال {ولا تحلقوا رءوسكم حتى يبلغ الهدى محله}
রেওয়ায়ত ১৮৯. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যখন রমযানের রোযা সমাপ্ত করিতেন আর ঐ বৎসর হজ্জ করার ইচ্ছা করিতেন তখন হজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত মাথার চুল কাটিতেন না ও দাড়ি ছাঁটিতেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়টি ওয়াজিব নহে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان اذا افطر من رمضان وهو يريد الحج لم ياخذ من راسه ولا من لحيته شييا حتى يحج . قال مالك ليس ذلك على الناس
রেওয়ায়ত ১৯০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হজ্জ ও উমরার পরে যখন মাথা মুণ্ডন করিতেন তখন দাঁড়ি ও গোফ ছাঁটিয়া নিতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان اذا حلق في حج او عمرة اخذ من لحيته وشاربه
রেওয়ায়ত ১৯১. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমি ও আমার স্ত্রী তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করার পর সহবাস করার ইচ্ছায় আমার স্ত্রীকে এক নির্জন স্থানে লইয়া গেলাম। আমার স্ত্রী তখন বলিলঃ হজ্জের পর আমি এখনও আমার চুল ছাঁটাই নাই। আমি তখন দাঁত দিয়া তাহার চুল কাটিয়া তাহার সহিত মিলিত হই। এখন কি করিব? কাসিম (রহঃ) হাসিয়া বলিলেনঃ যাও, স্ত্রীকে কাচির সাহায্যে চুল ছাঁটিয়া নিতে বল।। মালিক (রহঃ) বলেন, এই অবস্থায় স্বামী যদি একটি কুরবানী দেয় তবে উহা ভাল। কেননা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে কেউ কোন আমল বা রুকন ভুলিয়া বসিলে সে ইহার পরিবর্তে একটি কুরবানী দিবে।
وحدثني عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، ان رجلا، اتى القاسم بن محمد فقال اني افضت وافضت معي باهلي ثم عدلت الى شعب فذهبت لادنو من اهلي فقالت اني لم اقصر من شعري بعد فاخذت من شعرها باسناني ثم وقعت بها فضحك القاسم وقال مرها فلتاخذ من شعرها بالجلمين . قال مالك استحب في مثل هذا ان يهرق دما وذلك ان عبد الله بن عباس قال من نسي من نسكه شييا فليهرق دما
রেওয়ায়ত ১৯২. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুজাব্বার নামক কোন এক নিকট-আত্মীয়ের সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়। সে তাওয়াফে যিয়ারত করিয়া গিয়াছিল বটে তবে অজ্ঞতার দরুন মাথার চুল ছাঁটায় নাই বা কামায় নাই। তাহাকে তখন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) পুনরায় মক্কায় গিয়া চুল কামাইতে বা ছাটাইতে এবং পুনরায় তাওয়াফে যিয়ারত করিতে নির্দেশ দেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه لقي رجلا من اهله يقال له المجبر قد افاض ولم يحلق ولم يقصر جهل ذلك فامره عبد الله ان يرجع فيحلق او يقصر ثم يرجع الى البيت فيفيض
রেওয়ায়ত ১৯৩. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে- সালিম ইবন আবদুল্লাহ যখন ইহরাম বাঁধিতে ইচ্ছা করিতেন তখন উটে আরোহণ এবং ইহরাম বাঁধিয়া তালবিয়া পাঠ করার পূর্বেই কাঁচি আনাইয়া মোচ এবং দাড়ি ছাঁটিয়া নিতেন।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان سالم بن عبد الله، كان اذا اراد ان يحرم دعا بالجلمين فقص شاربه واخذ من لحيته قبل ان يركب وقبل ان يهل محرما
রেওয়ায়ত ১৯৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (ইহরাম বাঁধার সময়) যে ব্যক্তি মাথার চুল জমাট করিয়া লইবে সে (ইহরাম খোলার সময়) যেন উহা কামাইয়া ফেলে। ‘তালবীদ' (আঠাল কোন পদার্থ দ্বারা মাথার চুল জমাট করা) সদৃশ যেন কেউ চুল জমাট না করে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان عمر بن الخطاب، قال من ضفر راسه فليحلق ولا تشبهوا بالتلبيد
রেওয়ায়ত ১৯৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (ইহরাম বাঁধার সময়) যে চুল খোপা বানাইয়া নেয় বা বেণী গাঁথিয়া নেয় বা আঠালো কিছু দ্বারা জমাইয়া নেয় তাহার জন্য (ইহরাম খোলার সময়) মুণ্ডন করা ওয়াজিব।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، ان عمر بن الخطاب، قال من عقص راسه او ضفر او لبد فقد وجب عليه الحلاق
রেওয়ায়ত ১৯৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) বিলাল ইবন রাবাহ (রাঃ) এবং উসমান ইবন তালহা হাযাবী (রাঃ)-কে লইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং দরওয়াজা বন্ধ করিয়া দেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কিছুক্ষণ রহিয়া গেলেন। আবদুল্লাহ্ বলেনঃ বিলাল যখন বাহির হইয়া আসিলেন তখন তাহাকে আমি জিজ্ঞাসা করিলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কি করিয়াছেন? তিনি বলিলেনঃ একটি স্তম্ভ ডাইনে এবং তিনটি স্তম্ভ পিছনে রাখিয়া তিনি সেখানে নামায পড়িয়াছেন। তখনকার সময়ে কা'বার ভিতর মোট ছয়টি স্তম্ভ ছিল।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل الكعبة هو واسامة بن زيد وبلال بن رباح وعثمان بن طلحة الحجبي فاغلقها عليه ومكث فيها . قال عبد الله فسالت بلالا حين خرج ما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال جعل عمودا عن يمينه وعمودين عن يساره وثلاثة اعمدة وراءه - وكان البيت يوميذ على ستة اعمدة - ثم صلى
রেওয়ায়ত ১৯৭. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তদীয় গভর্নর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফকে নির্দেশ দিয়া লিখিয়াছিলেনঃ হজ্জে আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর কোন কাজে বিরোধিতা করিবে না। সালিম (রহঃ) বলেনঃ আরাফাতের দিন সূর্য পশ্চিম দিকে হেলিয়া পড়ামাত্রই আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের তাবুতে আসেন। আমিও তাহার সহিত ছিলাম। তিনি বলিলেনঃ হাজ্জাজ কোথায়? হাজ্জাজ তখন কুসুম রঙের চাদর শরীরে জড়াইয়া বাহির হইয়া আসিয়া বলিলেনঃ হে আবু আবদুর রহমান, ব্যাপার কি? ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ পবিত্র সুন্নতের অনুসরণ করিয়া যদি চলার ইচ্ছা থাকে তবে জলদি চল। হাজ্জাজ বলিলেনঃ এখনই। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, এখনই। হাজ্জাজ বলিলেনঃ একটু সময় দিন, গোসল করিয়া লই। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তখন সওয়ারী হইতে নামিয়া আসিলেন। কিছুক্ষণ পরেই হাজ্জাজও আসিলেন এবং আমার ও আমার পিতার (ইবন উমর) মাঝখানে আসিয়া দাঁড়াইলেন। আমি তখন তাহাকে বলিলামঃ পবিত্র সুন্নতের অনুসরণ করিয়া চলার ইচ্ছা থাকিলে আজ খুতবাটা একটু হালকা করিয়া পড়িও এবং নামায বেশি বিলম্ব করিও না, জলদি করিয়া পড়িয়া নিও। এই কথা শুনিয়া হাজ্জাজ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর মুখ হইতে উহা শোনার জন্য তাহার দিকে তাকাইল। তিনি তখন বলিলেনঃ হ্যাঁ, সালিম সত্য কথাই বলিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، انه قال كتب عبد الملك بن مروان الى الحجاج بن يوسف ان لا تخالف عبد الله بن عمر في شىء من امر الحج . قال فلما كان يوم عرفة جاءه عبد الله بن عمر حين زالت الشمس وانا معه فصاح به عند سرادقه اين هذا فخرج عليه الحجاج وعليه ملحفة معصفرة فقال ما لك يا ابا عبد الرحمن فقال الرواح ان كنت تريد السنة . فقال اهذه الساعة قال نعم . قال فانظرني حتى افيض على ماء ثم اخرج . فنزل عبد الله حتى خرج الحجاج فسار بيني وبين ابي فقلت له ان كنت تريد ان تصيب السنة اليوم فاقصر الخطبة وعجل الصلاة - قال - فجعل ينظر الى عبد الله بن عمر كيما يسمع ذلك منه فلما راى ذلك عبد الله قال صدق سالم
রেওয়ায়ত ১৯৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামায মিনা ময়দানে পড়িতেন এবং সকালে সূর্যোদয়ের পর আরাফাতের দিকে যাত্রা করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হইল, আরাফাত দিবসে ইমাম যুহরের নামাযে কিরাআত জোরে পড়িবেন না। হ্যাঁ, আরাফাতের দিন ইমাম খুতবা দিবেন। মূলত আরাফাতের নামায যুহরেরই নামায। তবে সফরের কারণে উহা কসর বা সংক্ষিপ্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইয়াওমে-আরাফা বা ইয়াওমুন্নাহার বা আইয়্যামে তাশরীকের দিন যদি জুম'আর দিন হয় তবে ঐ সমস্ত দিনে ইমামুল-হজ্জ জুম'আর নামায পড়াইবেন না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يصلي الظهر والعصر والمغرب والعشاء والصبح بمنى ثم يغدو اذا طلعت الشمس الى عرفة . قال مالك والامر الذي لا اختلاف فيه عندنا ان الامام لا يجهر بالقران في الظهر يوم عرفة وانه يخطب الناس يوم عرفة وان الصلاة يوم عرفة انما هي ظهر وان وافقت الجمعة فانما هي ظهر ولكنها قصرت من اجل السفر . قال مالك في امام الحاج اذا وافق يوم الجمعة يوم عرفة او يوم النحر او بعض ايام التشريق انه لا يجمع في شىء من تلك الايام
রেওয়ায়ত ১৯৯. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى المغرب والعشاء بالمزدلفة جميعا
রেওয়ায়ত ২০০. উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আরাফাত হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরিবর্তে পৌছিয়া প্রস্রাব করার জন্য নামিলেন এবং পরে ওযু করিলেন, কিন্তু পূর্ণভাবে করিলেন না। আমি তাহাকে বলিলামঃ হে আল্লাহর রাসূল, নামাযের কি হইবে? তিনি বলিলেনঃ আরও আগাইয়া আমরা নামায পড়িব। তিনি মুযদালিফায় পৌছিয়া পূর্ণভাবে ওযু করিলেন। তখন নামাযের তকবীর হইল। তিনি মাগরিবের নামায আদায় করিলেন। প্রত্যেকেই স্ব স্ব উট স্ব স্ব স্থানে বাঁধিয়া রাখিলেন। অতঃপর আবার ইশার নামাযের তকবীর হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায আদায় করিলেন। তখন এই উভয় নামাযের মধ্যে আর কোন (নফল) নামায তিনি পড়েন নাই।
وحدثني عن مالك، عن موسى بن عقبة، عن كريب، مولى ابن عباس عن اسامة بن زيد، انه سمعه يقول دفع رسول الله صلى الله عليه وسلم من عرفة حتى اذا كان بالشعب نزل فبال فتوضا فلم يسبغ الوضوء فقلت له الصلاة يا رسول الله . فقال " الصلاة امامك " . فركب فلما جاء المزدلفة نزل فتوضا فاسبغ الوضوء ثم اقيمت الصلاة فصلى المغرب ثم اناخ كل انسان بعيره في منزله ثم اقيمت العشاء فصلاها ولم يصل بينهما شييا
রেওয়ায়ত ২০১. আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ তিনি বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিয়াছিলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن عدي بن ثابت الانصاري، ان عبد الله بن يزيد الخطمي، اخبره ان ابا ايوب الانصاري اخبره انه، صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع المغرب والعشاء بالمزدلفة جميعا
রেওয়ায়ত ২০২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করিতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يصلي المغرب والعشاء بالمزدلفة جميعا