Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৫৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৮৬. সা’ব ইবনে জাস্সামা লায়াসী (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবওয়াহ বা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করিতেছিলেন। তখন তিনি (রাবী) একটা বন্য গাধা হাদিয়া হিসাবে তাহার খেদমতে পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা ফিরাইয়া দিলেন। সাব (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহাতে আমার চেহারায় দুঃখের অভিব্যক্তি প্রকাশ পাইতে দেখিয়া বলিলেনঃ আমরা মুহরিম, ইহরাম অবস্থায় আছি। কেবল এইজন্য ইহা ফিরাইয়া দিয়াছি।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن عبد الله بن عباس، عن الصعب بن جثامة الليثي، انه اهدى لرسول الله صلى الله عليه وسلم حمارا وحشيا وهو بالابواء او بودان فرده عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما في وجهي قال " انا لم نرده عليك الا انا حرم
রেওয়ায়ত ৮৭. আবদুল্লাহ্ ইবন রবী'আ (রহঃ) বলেনঃ গরমের সময় আরজ নামক স্থানে উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-কে ইহরামের হালতে একটি লাল কম্বল দ্বারা মুখ ঢাকিয়া বসিয়া থাকিতে দেখিলাম। সেই সময় শিকার করা জন্তুর কিছু গোশত তাহার নিকট পেশ করা হয়। তিনি সঙ্গীদেরকে উহা খাইয়া নিতে বলিলেন। সঙ্গীরা বলিলেনঃ আপনি নিজে খাইতেছেন না? উসমান (রাঃ) বলিলেন, আমি তোমাদের মত নই, ইহা আমার নিয়তে শিকার করা হইয়াছে; সুতরাং আমি খাইতে পারি না।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، عن عبد الله بن عامر بن ربيعة، قال رايت عثمان بن عفان بالعرج وهو محرم في يوم صايف قد غطى وجهه بقطيفة ارجوان ثم اتي بلحم صيد فقال لاصحابه كلوا . فقالوا اولا تاكل انت فقال اني لست كهييتكم انما صيد من اجلي
রেওয়ায়ত ৮৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ হারাম শরীফের[1] এলাকায় যদি কোন প্রাণী শিকার করা হয় বা হারম শরীফের এলাকায় কোন প্রাণীকে লক্ষ করিয়া শিকারী কুকুর ছাড়া হয় আর উহা যদি হারম শরীফের বাহিরে নিয়াও উহাকে শিকার করে তবু উক্ত পশু খাওয়া হালাল নহে। যে ব্যক্তি ঐ ধরনের কাজ করবে তাহাকে কাফফার হিসাবে উহার বদলা দিতে হইবে। আর যদি হারম শরীফের বাহিরে কোন প্রাণীকে লক্ষ করিয়া শিকারী কুকুর ছাড়া হয় আর উহা হারম শরীফের ভিতর আনিয়া শিকার করে, তবে উহাও খাওয়া জায়েয নহে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তির উপর কাফফারা আসিবে না। তবে হারম শরীফের অতি নিকট সীমানায় যদি কুকুর ছাড়িয়া থাকে তবে তাহাকেও কাফফারা দিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، انها قالت له يا ابن اختي انما هي عشر ليال فان تخلج في نفسك شىء فدعه تعني اكل لحم الصيد . قال مالك في الرجل المحرم يصاد من اجله صيد فيصنع له ذلك الصيد فياكل منه وهو يعلم انه من اجله صيد فان عليه جزاء ذلك الصيد كله . وسيل مالك عن الرجل يضطر الى اكل الميتة وهو محرم ايصيد الصيد فياكله ام ياكل الميتة فقال بل ياكل الميتة وذلك ان الله تبارك وتعالى لم يرخص للمحرم في اكل الصيد ولا في اخذه في حال من الاحوال وقد ارخص في الميتة على حال الضرورة . قال مالك واما ما قتل المحرم او ذبح من الصيد فلا يحل اكله لحلال ولا لمحرم لانه ليس بذكي كان خطا او عمدا فاكله لا يحل وقد سمعت ذلك من غير واحد والذي يقتل الصيد ثم ياكله انما عليه كفارة واحدة مثل من قتله ولم ياكل منه
রেওয়ায়ত ৯১. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ প্রকার প্রাণী মুহরিম ব্যক্তি যদি বধ করে তবে তাহার কোন গুনাহ হইবে না- কাক, চিল, বিচ্ছু, ইদুর, হিংস্ৰ কুকুর (বা হিংস্র জন্তু, যথা বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি)।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " خمس من الدواب ليس على المحرم في قتلهن جناح الغراب والحداة والعقرب والفارة والكلب العقور
রেওয়ায়ত ৯২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ধরনের প্রাণী ইহরাম অবস্থায় যদি কেউ হত্যা করে, তবে তাহার কোন গুনাহ হইবে না; যথা বিচ্ছু, ইদুর, হিংস্র কুকুর, চিল ও কাক।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " خمس من الدواب من قتلهن وهو محرم فلا جناح عليه العقرب والفارة والغراب والحداة والكلب العقور
রেওয়ায়াত ৯৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী ফাসিক। এইগুলি হারম শরীফের ভিতর ও বাহিরে যেকোন স্থানে পাওয়া গেলে মারিয়া ফেলা উচিত; যথা ইদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল ও হিংস্ৰ কুকুর।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " خمس فواسق يقتلن في الحرم الفارة والعقرب والغراب والحداة والكلب العقور
রেওয়ায়ত ৯৪. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হারম শরীফে সাপ মারার হুকুম দিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হিংস্র কুকুর বলিতে যাহাকে হারম শরীফে হত্যার অনুমতি দেওয়া হইয়াছে, তাহা এই ধরনের পশুকে বুঝায় যাহা মানুষকে কামড়ায় বা হামলা করে বা ভয় প্রদর্শন করে, যেমন সিংহ, বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি। কিন্তু যে সমস্ত পশু হিংস্র বটে, তবে হামলা করে না, যেমন হায়েনা, শিয়াল, বিড়াল ইত্যাদি পশু — মুহরিম ব্যক্তির এইগুলি মারা উচিত নহে। মারিলে তাহার উপর ফিদয়া দেওয়া ওয়াজিব। আর যে সমস্ত পাখির উল্লেখ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করিয়াছেন (যেমন কাক ও চিল), এইগুলি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষতিকারক পাখিও মুহরিম ব্যক্তির জন্য হত্যা করিলে তাহাকে ফিদয়া দিতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، ان عمر بن الخطاب، امر بقتل الحيات في الحرم . قال مالك في الكلب العقور الذي امر بقتله في الحرم ان كل ما عقر الناس وعدا عليهم واخافهم مثل الاسد والنمر والفهد والذيب فهو الكلب العقور واما ما كان من السباع لا يعدو مثل الضبع والثعلب والهر وما اشبههن من السباع فلا يقتلهن المحرم فان قتله فداه واما ما ضر من الطير فان المحرم لا يقتله الا ما سمى النبي صلى الله عليه وسلم الغراب والحداة وان قتل المحرم شييا من الطير سواهما فداه
রেওয়ায়ত ৯৫. রবী'আ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে হুদায়র (রহঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে সুকুইয়া নামক জনপদে স্বীয় উটের উকুন বাহির করিয়া কাদায় ফেলিতে দেখিয়াছেন, অথচ তিনি তখন ইকবাম অবস্থায় ছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি ইহাকে অপছন্দ করি।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي، عن ربيعة بن عبد الله بن الهدير، انه راى عمر بن الخطاب يقرد بعيرا له في طين بالسقيا وهو محرم . قال مالك وانا اكرهه
রেওয়ায়ত ৯৬. আলকামা ইবন আবি আলকামা (রহঃ) তাহার মাতা হইতে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনিয়াছি, তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, ইহরাম অবস্থায় শরীর চুলকাইতে পারবে কি? তিনি [আয়েশ (রাঃ)] বলেনঃ হ্যাঁ, চুলকাইতে পারিবে, ভালভাবে চুলকাইতে পারিবে। কেউ আমার হাত বাঁধিয়া রাখিলে তবে পা দ্বারা যদি সম্ভব হয়, প্রয়োজন হইলে তাহা দিয়াই আমি চুলকাইব।
وحدثني عن مالك، عن علقمة بن ابي علقمة، عن امه، انها قالت سمعت عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم تسال عن المحرم ايحك جسده فقالت نعم فليحككه وليشدد ولو ربطت يداى ولم اجد الا رجلى لحككت
রেওয়ায়ত ৯৭. আইয়ুব ইবন মূসা (রহঃ) বর্ণনা করেন, চোখে অসুখ হওয়ায় আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) ইহরাম অবস্থায়ও আয়না দেখিয়াছিলেন।
وحدثني عن مالك، عن ايوب بن موسى، ان عبد الله بن عمر، نظر في المراة لشكو كان بعينيه وهو محرم
রেওয়ায়ত ৯৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) মুহরিম ব্যক্তির জন্য উটের উকুন ইত্যাদি বাহির করা মাকরূহ বলিয়া মনে করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এই মতটিই অধিক প্রিয়।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يكره ان ينزع المحرم، حلمة او قرادا عن بعيره . قال مالك وذلك احب ما سمعت الى في ذلك
রেওয়ায়ত ৯৯. মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ মরইয়াম (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ ইহরামকালে আমার একটা নখ ভাঙিয়া গিয়াছে, এখন কি করিব? সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ ইহা কাটিয়া ফেল। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল- মুহরিম ব্যক্তির কানে ব্যথা হইলে সে কানে গন্ধবিহীন তেল ব্যবহার করিতে পারিবে কি? তিনি বলিলেনঃ ইহাতে কোন দোষ নাই। যদি মুখেও ঢালে, তবুও আমি দোষ মনে করি না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি যদি ফোড়া বা ফোস্কা ফাটাইয়া দেয় বা প্রয়োজনে সিঙ্গা লাগায় তবে কোন গুনাহ্ হইবে না।
وحدثني عن مالك، عن محمد بن عبد الله بن ابي مريم، . انه سال سعيد بن المسيب عن ظفر، له انكسر وهو محرم فقال سعيد اقطعه . وسيل مالك عن الرجل يشتكي اذنه ايقطر في اذنه من البان الذي لم يطيب وهو محرم فقال لا ارى بذلك باسا ولو جعله في فيه لم ار بذلك باسا . قال مالك ولا باس ان يبط المحرم خراجه ويفقا دمله ويقطع عرقه اذا احتاج الى ذلك
রেওয়ায়ত ১০০. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিত তাহার পিছনে আরোহী ছিলেন। এমন সময় খাস'আম কবীলার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মাসআলা জানিতে আসিলেন। ফযল তাহার দিকে তাকাইতে লাগিলেন আর সেই মহিলাটিও ফযলকে দেখিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযলের চেহারা অন্যদিকে ঘুরাইয়া দিলেন। মহিলাটি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতার উপর হজ্জ এমন সময় ফরয হইল যে, বাৰ্ধক্যজনিত কারণে তিনি এত দুর্বল যে, উটের পিঠে বসিতে সক্ষম নন। তাহার পক্ষ হইতে হজ্জ করা আমার জন্য বৈধ হইবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, করিয়া নাও। এই ঘটনাটি ছিল বিদায় হজ্জের।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن سليمان بن يسار، عن عبد الله بن عباس، قال كان الفضل بن عباس رديف رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاءته امراة من خثعم تستفتيه فجعل الفضل ينظر اليها وتنظر اليه فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يصرف وجه الفضل الى الشق الاخر فقالت يا رسول الله ان فريضة الله في الحج ادركت ابي شيخا كبيرا لا يستطيع ان يثبت على الراحلة افاحج عنه قال " نعم " . وذلك في حجة الوداع
রেওয়ায়ত ১০১. মালিক (রহঃ) বলেন, শক্ৰ যদি কাহারও যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি করে এবং বায়তুল্লাহ পর্যন্ত সে যদি পৌছিতে না পারে তবে যে স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হইবে সেই স্থানেই সে ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে ও কুরবানী দিবে এবং মাথা কামাইয়া ফেলিবে। তাহাকে আর দ্বিতীয়বার এই হজ্জ কাযা করিতে হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মক্কার কাফিরগণ হুদায়বিয়ার ময়দানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাহার সাহাবীগণকে মক্কায় যাইতে বাধা দিল। তখন তাহারা সেখানেই ইহরাম খুলিয়া ফেলিয়াছিলেন, হাদয়ী কুরবানী দিয়াছিলেন এবং মাথা কামাইয়া নিয়াছিলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং কুরবানীর পশু মক্কায় পৌছার পূর্বেই তাহারা হালাল হইয়া গিয়াছিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সঙ্গী বা সাহাবীকে দ্বিতীয়বার এই হজ্জ কাযা করার বা পুনরায় করার নির্দেশ দিয়াছিলেন বলিয়া আমাদের জানা নাই।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حل هو واصحابه بالحديبية فنحروا الهدى وحلقوا رءوسهم وحلوا من كل شىء قبل ان يطوفوا بالبيت وقبل ان يصل اليه الهدى ثم لم يعلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امر احدا من اصحابه ولا ممن كان معه ان يقضوا شييا ولا يعودوا لشىء
রেওয়ায়ত ১০২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, বিশৃংখলার বৎসর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) উমরা করার নিয়তে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় বলিয়াছিলেনঃ বায়তুল্লায় যাওয়ার পথে যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই, তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থাকাকালীন এই অবস্থায় আমরা যাহা করিয়াছিলাম আজও তাহাই করিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার বৎসর শুধু উমরার নিয়তেই মক্কা যাত্রা করিয়াছিলেন– এই কথা খেয়াল করিয়া আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-ও শুধু উমরার ইহরাম বাধিলেন। পরে চিন্তা করিয়া দেখিলেন, বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার বেলায় হজ্জ ও উমরার হুকুম একই ধরনের। তোমাদিগকে সাক্ষী বানাইতেছি যে, আমি এখন হজ্জ ও উমরা উভয়ই আমার উপর ওয়াজিব করিয়া নিলাম। এই বলিয়া তিনি যাত্রা শুরু করিলেন এবং বায়তুল্লাম আসিয়া তাওয়াফ সমাধা করিলেন, আর এইটুকুই নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করিলেন। কুরবানীর যে পশু ছিল তাহাও নাহর করিলেন।[1] মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাহার সাহাবীগণ যাহা করিয়াছিলেন হজ্জের পথে বাধাপ্রাপ্ত হইলে তাহাই করা উচিত। তবে শত্রুর দ্বারা নয়, অন্য কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হইলে বায়তুল্লাহু না যাওয়া পর্যন্ত আর সে হালাল হইবে না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه قال حين خرج الى مكة معتمرا في الفتنة ان صددت عن البيت صنعنا كما صنعنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فاهل بعمرة من اجل ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اهل بعمرة عام الحديبية ثم ان عبد الله نظر في امره فقال ما امرهما الا واحد ثم التفت الى اصحابه فقال ما امرهما الا واحد اشهدكم اني قد اوجبت الحج مع العمرة . ثم نفذ حتى جاء البيت فطاف طوافا واحدا وراى ذلك مجزيا عنه واهدى
রেওয়ায়ত ১০৩. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ অসুস্থতার কারণে যদি কাহারও যাত্রা বাধাপ্রাপ্ত হয় তবে তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সায়ী করা ব্যতীত সে হালাল হইবে না। কোন কাপড় বা ঔষধ ব্যবহার করার প্রয়োজন হইলে (যাহা ইহরাম অবস্থায় জায়েয নহে) তাহা ব্যবহার করিবে এবং উহার ফিদয়া দিবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، انه قال المحصر بمرض لا يحل حتى يطوف بالبيت ويسعى بين الصفا والمروة فاذا اضطر الى لبس شىء من الثياب التي لا بد له منها او الدواء صنع ذلك وافتدى
রেওয়ায়ত ১০৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিতেন, ইহরামকে শুধু বায়তুল্লাহই হালাল করিতে পারে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه بلغه عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها كانت تقول المحرم لا يحله الا البيت
রেওয়ায়ত ১০৫. আইয়ুব ইবন আবি তামীম সাখতীয়ানী (রহঃ) বসরার জনৈক প্রবীণ[1] ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলেনঃ মক্কার উদ্দেশ্যে একবার রওয়ানা ইলাম। পথে উট হইতে পড়িয়া আমার উরু ভাঙিয়া যায়। মক্কায় আমি একজনকে পাঠাইলাম। তখন সেখানে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এবং আরও অনেক বিজ্ঞ লোক উপস্থিত ছিলেন। তাঁহাদের কেউই আমাকে এই অবস্থায় ইহরাম খুলিতে অনুমতি দিলেন না। ফলে সাত মাস পর্যন্ত সেখানে আমি পড়িয়া রহিলাম। শেষে সুস্থ হইয়া উমরা আদায় করিয়া ইহরাম খুলিলাম।
وحدثني عن مالك، عن ايوب بن ابي تميمة السختياني، عن رجل، من اهل البصرة كان قديما انه قال خرجت الى مكة حتى اذا كنت ببعض الطريق كسرت فخذي فارسلت الى مكة وبها عبد الله بن عباس وعبد الله بن عمر والناس فلم يرخص لي احد ان احل فاقمت على ذلك الماء سبعة اشهر حتى احللت بعمرة
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، انه قال من حبس دون البيت بمرض فانه لا يحل حتى يطوف بالبيت وبين الصفا والمروة
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن عبد الله بن عمر، انه قال من حبس دون البيت بمرض فانه لا يحل حتى يطوف بالبيت وبين الصفا والمروة
রেওয়ায়ত ১০৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ অসুস্থতার কারণে যদি কেউ যাত্রা করিয়াও খানা-এ-কাবায় পৌঁছিতে না পারে তবে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী না করা পর্যন্ত সে আর হালাল হইবে না। সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ) হইতে বর্ণিত-মাবদ ইবন হুযাবা মাখযুমী (রহঃ) মক্কা আসার পথে তাহার বাহন হইতে পড়িয়া গিয়া আহত হন। তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর একটি কূপের নিকট যাত্রা বিরতি করিলেন এবং খোঁজ নিয়া জানিতে পারিলেন যে, সেখানে আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ), আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রাঃ) আছেন। তাহাদের নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করিলে তাহারা বলিলেনঃ প্রয়োজনীয় ঔষধ ব্যবহার কর আর উহার ফিদয়া আদায় করিয়া দিও। সুস্থ হওয়ার পর উমরা আদায় করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিও। আগামী বৎসর পুনরায় এই হজ্জ আদায় করিয়া নিও এবং সামর্থ্যানুযায়ী কুরবানী দিও। মালিক (রহঃ) বলেনঃ শক্র ছাড়া অন্য কোন কারণে হজ্জে বাধাপ্রাপ্ত হইলে আমাদের নিকটও মাসআলা অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) এবং হাব্বান ইবন আসওয়াদ (রাঃ) যখন হজ্জের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হইতে পারিলেন না এবং নাহরের দিন উপস্থিত হইলেন, সেই বৎসর দশ তারিখে মক্কায় গিয়া পৌছিলেন, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহাদিগকে বলিয়াছিলেনঃ উমরা করিয়া ইহরাম খুলিয়া নিন এবং এই বৎসর ফিরিয়া যান। আগামী বৎসর হজ্জ করিবেন এবং কুরবানী দিবেন। কুরবানীর সামর্থ্য না হইলে আপনাদেরকে হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়ি ফিরিয়া সাতদিন রোযা রাখিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে- যেমন তারিখে ভুল করার দরুন, যদি হজ্জ করিতে না পারে তবে তাহার হুকুম মুহসারের মত হইবে।[1] ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল- মক্কাবাসী কোন ব্যক্তি হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধার পর তাহার পা ভাঙিয়া গেল বা দাস্ত শুরু হইল, এখন সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ তাহার হুকুম মুহসারের মত। মক্কার বাহিরের অধিবাসী কোন ব্যক্তির ইহসার বা বাধাপ্রাপ্ত হইলে যে হুকুম, এখানেও সেই হুকুম প্রযোজ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জের মাসে কোন ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাধিয়া মক্কা আসিল এবং উমরা সমাধা করিয়া মক্কা হইতে পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তাহার পা ভাঙিয়া গেল বা এমন কোন কষ্ট পাইল যাহাতে সে আরাফাতে যাইতে আর সক্ষম হইল না। তখন সে যখন সুস্থ হইবে হারম শরীফের বাহিরে গিয়া মক্কায় ফিরিয়া আসিবে এবং তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে। পরে আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জ করিবে এবং কুরবানী দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি হজ্জের মওসুমে উমরার ইহরাম বাঁধিয়া মক্কায় প্রবেশ করিল। অতঃপর উমরা পূর্ণ করিয়া মক্কা হইতে হজ্জের ইহরাম বাঁধিল। অতঃপর (দুর্ঘটনায় হাত-পা) ভাঙিল অথবা অন্য কোন বাঁধার সম্মুখীন হইল। ফলে অন্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হইতে পারে নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় থাকিবে। যখন সে সুস্থ হইবে, হিলের (হারম শরীফের বাহিরে) দিকে যাইবে। অতঃপর মক্কার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে। তাওয়াফ করিবে ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিবে এবং হালাল হইবে। তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মক্কা হইতে হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছে, তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিয়াছে, অতঃপর সে অসুস্থ হইয়া পড়ে এবং লোকের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হইতে পারে নাই। তিনি বলেনঃ যদি সে হজ্জ করিতে না পারে যখন সম্ভব হইবে তখন সে হিলের দিকে যাইবে এবং উমরার নিয়ত করিয়া মক্কায় প্রবেশ করবে। ইহার কারণ, প্রথমে সে তাওয়াফ ও উমরার নিয়ত করে নাই। এইজন্য সে পুনরায় তাওয়াফ ও সায়ী করিবে এবং তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছে সে যদি মক্কার বাহিরের লোক হয়, সে অসুস্থতার দরুন যদি হজ্জ করিতে না পারে, অথচ ইহার পূর্বে সে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিয়াছিল, সেই ব্যক্তি উমরা করিয়া হালাল হইবে এবং আরেকবার বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করবে। কারণ তাহার পূর্বের তাওয়াফ ও সায়ী ছিল হজ্জের নিয়তে। তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سليمان بن يسار، ان معبد بن حزابة المخزومي، صرع ببعض طريق مكة وهو محرم فسال من يلي على الماء الذي كان عليه فوجد عبد الله بن عمر وعبد الله بن الزبير ومروان بن الحكم فذكر لهم الذي عرض له فكلهم امره ان يتداوى بما لا بد له منه ويفتدي فاذا صح اعتمر فحل من احرامه ثم عليه حج قابل ويهدي ما استيسر من الهدى . قال مالك وعلى هذا الامر عندنا فيمن احصر بغير عدو وقد امر عمر بن الخطاب ابا ايوب الانصاري وهبار بن الاسود حين فاتهما الحج واتيا يوم النحر ان يحلا بعمرة ثم يرجعا حلالا ثم يحجان عاما قابلا ويهديان فمن لم يجد فصيام ثلاثة ايام في الحج وسبعة اذا رجع الى اهله . قال مالك وكل من حبس عن الحج بعد ما يحرم اما بمرض او بغيره او بخطا من العدد او خفي عليه الهلال فهو محصر عليه ما على المحصر . قال يحيى سيل مالك عمن اهل من اهل مكة بالحج ثم اصابه كسر او بطن متحرق او امراة تطلق . قال من اصابه هذا منهم فهو محصر يكون عليه مثل ما على اهل الافاق اذا هم احصروا . قال مالك في رجل قدم معتمرا في اشهر الحج حتى اذا قضى عمرته اهل بالحج من مكة ثم كسر او اصابه امر لا يقدر على ان يحضر مع الناس الموقف . قال مالك ارى ان يقيم حتى اذا برا خرج الى الحل ثم يرجع الى مكة فيطوف بالبيت ويسعى بين الصفا والمروة ثم يحل ثم عليه حج قابل والهدى . قال مالك فيمن اهل بالحج من مكة ثم طاف بالبيت وسعى بين الصفا والمروة ثم مرض فلم يستطع ان يحضر مع الناس الموقف . قال مالك اذا فاته الحج فان استطاع خرج الى الحل فدخل بعمرة فطاف بالبيت وسعى بين الصفا والمروة لان الطواف الاول لم يكن نواه للعمرة فلذلك يعمل بهذا وعليه حج قابل والهدى . فان كان من غير اهل مكة فاصابه مرض حال بينه وبين الحج فطاف بالبيت وسعى بين الصفا والمروة حل بعمرة وطاف بالبيت طوافا اخر وسعى بين الصفا والمروة لان طوافه الاول وسعيه انما كان نواه للحج وعليه حج قابل والهدى