Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৫৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৬৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের মাসে উমরা করিয়া বাড়ি ফিরিয়া গেল, আবার সেই বৎসরেই হজ্জ করিল, ঐ ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হইবে না। কারণ তাহার হজ্জ তামাত্তু বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মক্কার বাহিরের কোন ব্যক্তি যদি মক্কায় আসিয়া সেখানে স্থায়িভাবে বসবাস করিতে শুরু করে এবং হজ্জের মাসে উমরা করিয়া সেই বৎসরেই হজ্জ করে তবে তাহার হজ্জ তামাত্তু’ হইবে না। তাহার উপর কুরবানী বা রোযা কিছুই ওয়াজিব হইবে না। কেননা মক্কার নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় সে মক্কাবাসীদের মত হইয়া গেল। আর মক্কার স্থায়ী বাসিন্দাদের হজ্জে তামাত্তু হয় না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল, মক্কার কোন স্থায়ী বাসিন্দা জিহাদ বা অন্য কোন সফরে বাহিরে চলিয়া গিয়াছিল, পরে সে মক্কায় বসবাস করার উদ্দেশ্যে আবার সেখানে ফিরিয়া আসিল, সে হজ্জের মাসে উমরার নিয়তে মক্কায় আসিয়া উমরা সমাধা করার পর ঐ বৎসর হজ্জও করিল, ঐ ব্যক্তির হজ্জ কি হজ্জে তামাত্তু’ হইবে? মালিক (রহঃ) বলিলেনঃ না, তাহর হজ্জ তামাত্তু বলিয়া গণ্য হইবে না এবং তাহার উপর কুরবানী বা রোযা কিছুই ওয়াজিব হইবে না। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ (ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ) অর্থাৎ ইহা তাহাদের জন্য যাহাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নহে। (বাকারাঃ)
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول من اعتمر في اشهر الحج في شوال او ذي القعدة او في ذي الحجة قبل الحج ثم اقام بمكة حتى يدركه الحج فهو متمتع ان حج وعليه ما استيسر من الهدى فان لم يجد فصيام ثلاثة ايام في الحج وسبعة اذا رجع . قال مالك وذلك اذا اقام حتى الحج ثم حج من عامه . قال مالك في رجل من اهل مكة انقطع الى غيرها وسكن سواها ثم قدم معتمرا في اشهر الحج ثم اقام بمكة حتى انشا الحج منها انه متمتع يجب عليه الهدى او الصيام ان لم يجد هديا وانه لا يكون مثل اهل مكة . وسيل مالك عن رجل من غير اهل مكة دخل مكة بعمرة في اشهر الحج وهو يريد الاقامة بمكة حتى ينشي الحج امتمتع هو فقال نعم هو متمتع وليس هو مثل اهل مكة وان اراد الاقامة وذلك انه دخل مكة وليس هو من اهلها وانما الهدى او الصيام على من لم يكن من اهل مكة وان هذا الرجل يريد الاقامة ولا يدري ما يبدو له بعد ذلك وليس هو من اهل مكة
রেওয়ায়ত ৬৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন- শাওয়াল, যিলকা'দা ও যিলহজ্জ মাসে উমরা করিয়া যদি কেউ হজ্জ পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করে এবং হজ্জ করিয়া নেয় তবে তাহার এই হজ্জ হজ্জে তামাত্তু বলিয়া গণ্য হইবে। সামর্থ্য থাকিলে তাহার উপর কুরবানী ওয়াজিব হইবে। অসমর্থ হইলে হজ্জের সময় তিনদিন এবং হজ্জের পর বাড়ি ফিরিয়া সাত দিন তাহাকে রোযা রাখতে হইবে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع سعيد بن المسيب، يقول من اعتمر في شوال او ذي القعدة او في ذي الحجة ثم اقام بمكة حتى يدركه الحج فهو متمتع ان حج وما استيسر من الهدى فمن لم يجد فصيام ثلاثة ايام في الحج وسبعة اذا رجع
রেওয়ায়ত ৬৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক উমরা আরেক উমরার মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফফারাস্বরূপ। জান্নাতই মকবুল হজ্জের প্রতিদান।
حدثني يحيى، عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر بن عبد الرحمن عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " العمرة الى العمرة كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء الا الجنة
রেওয়ায়ত ৬৯. সুমাই (রহঃ) আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে আসিয়া আরয করিলঃ হজ্জের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করা সত্ত্বেও একটি বাধার দরুন আমি হজ্জ করিতে পারি নাই, এখন কি করিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ রমযান মাসে উমরা করিয়া নাও। রমযান মাসের উমরাতে হজ্জের সমান সওয়াব রহিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر بن عبد الرحمن انه سمع ابا بكر بن عبد الرحمن، يقول جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اني قد كنت تجهزت للحج فاعترض لي . فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " اعتمري في رمضان فان عمرة فيه كحجة
রেওয়ায়ত ৭০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ হজ্জ ও উমরার মাসে তোমরা ব্যবধান রাখিও যাহাতে হজ্জ ও উমরা উভয়ই সম্পূর্ণরূপে আদায় হইতে পারে। ইহার উপায় হইল, হজ্জের মাসে তোমরা উমরা করিও না
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان عمر بن الخطاب، قال افصلوا بين حجكم وعمرتكم فان ذلك اتم لحج احدكم واتم لعمرته ان يعتمر في غير اشهر الحج
রেওয়ায়ত ৭১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) যখন উমরা করিতেন, মদীনায় ফিরিয়া না যাওয়া পর্যন্ত উট হইতে অবতরণ করিতেন না। মালিক (রহঃ) বলেন, উমরা করা সুন্নত। এমন কোন মুসলিম দেখা যায় নাই যিনি ইহা পরিত্যাগ করার অনুমতি দেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ একই বৎসরে একাধিক উমরা করা জায়েয নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাধিয়া স্ত্রী সহবাস করিলে উমরা বিনষ্ট হইয়া যাইবে এবং তাহার উপর আরেকটি উমরা কাযা ও একটি কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে। তাই সত্বর তাহাকে উহার কাযা আদায় করিয়া নেওয়া উচিত। যে স্থান হইতে প্রথম উমরার ইহরাম বাঁধিয়াছিল সেই স্থান হইতেই তাছাকে এই কাযা উমরার ইহরাম বাধিতে হইবে, তবে প্রথম উমরার ইহরাম নির্দিষ্ট মীকাতের পূর্বে বাঁধিয়া থাকিলে কাযা উমরার মীকাত হইতে বাঁধিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাঁধিয়া কোন ব্যক্তি মক্কায় আসিল এবং জানাবত (গোসল ফরয হওয়া) অবস্থায় বা ওযু ব্যতিরেকে সে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিল। পরে ভুলবশত স্ত্রীসহবাস করিল। অতঃপর উমরার কথা তাহার মনে পড়িল। তখন সে গোসল বা ওযু করিয়া পুনরায় তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিবে এবং তদস্থলে অন্য একটি উমরা কাযা করিবে ও একটি কুরবানী দিবে। মহিলাও ইহরামরত অবস্থায় তদ্রুপ কিছু করিলে তাহাকেও (পুরুষদের মত) আমল করিতে হইবে। তান’য়ীম নামক স্থান হইতে উমরার ইহরাম বাঁধার ব্যাপারে মালিক (রহঃ) বলেনঃ হারম শরীফ হইতে বাহির হইয়া যে কোন স্থান হইতে উমরার ইহরাম বাঁধিতে পারবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই ইহরামই মুহরিমের জন্য যথেষ্ট। তবে মীকাত হইতে ইহরাম বাঁধা উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত স্থান হইতে ইহরাম বাঁধা নিঃসন্দেহে উত্তম এবং তান’য়ীম হইতে দূরে অবস্থিত।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عثمان بن عفان، كان اذا اعتمر ربما لم يحطط عن راحلته حتى يرجع . قال مالك العمرة سنة ولا نعلم احدا من المسلمين ارخص في تركها . قال مالك ولا ارى لاحد ان يعتمر في السنة مرارا . قال مالك في المعتمر يقع باهله ان عليه في ذلك الهدى وعمرة اخرى يبتدي بها بعد اتمامه التي افسد ويحرم من حيث احرم بعمرته التي افسد الا ان يكون احرم من مكان ابعد من ميقاته فليس عليه ان يحرم الا من ميقاته . قال مالك ومن دخل مكة بعمرة فطاف بالبيت وسعى بين الصفا والمروة وهو جنب او على غير وضوء ثم وقع باهله ثم ذكر - قال - يغتسل او يتوضا ثم يعود فيطوف بالبيت ويسعى بين الصفا والمروة ويعتمر عمرة اخرى ويهدي وعلى المراة اذا اصابها زوجها وهي محرمة مثل ذلك . قال مالك فاما العمرة من التنعيم فانه من شاء ان يخرج من الحرم ثم يحرم فان ذلك مجزي عنه ان شاء الله ولكن الفضل ان يهل من الميقات الذي وقت رسول الله صلى الله عليه وسلم او ما هو ابعد من التنعيم
রেওয়ায়ত ৭২. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি এবং জনৈক আনসারী ব্যক্তিকে পাঠাইলেন। তাহারা দুইজনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে মায়মুনা বিনতে হারিসের নিকট বিবাহের পয়গাম দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মদীনা হইতে মক্কার পথে যাত্রা করেন নাই।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن سليمان بن يسار، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث ابا رافع ورجلا من الانصار فزوجاه ميمونة بنت الحارث ورسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة قبل ان يخرج
রেওয়ায়ত ৭৩. নুবাইহ ইবন ওহাব (রহঃ) বর্ণনা করেনঃ তাহাকে উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ)-এর এবং আবান ইবন উসমান (রহঃ)-এর নিকট বলিয়া পাঠাইলেন, (তাহারা উভয়ে তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন) শায়বাহ ইবন যুবায়রের মেয়ের সহিত আমার পুত্র তালহা ইবনে উমরের বিবাহ প্রদান করিতে ইচ্ছা করিয়াছি। আপনিও ইহাতে শামিল হইবেন বলিয়া আশা করি। এই সংবাদ পাইয়া আবান ইবন উসমান (রহঃ) আসিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করিয়া বলিলেন, উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট আমি শুনিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়ছেনঃ মুহরিম (ইহরামরত ব্যক্তি) নিজেও বিবাহ করিবে না এবং অন্যকেও বিবাহ করাইবে না এবং বিবাহের পয়গামও দিবে না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن نبيه بن وهب، اخي بني عبد الدار ان عمر بن عبيد الله، ارسل الى ابان بن عثمان - وابان يوميذ امير الحاج وهما محرمان - اني قد اردت ان انكح طلحة بن عمر بنت شيبة بن جبير واردت ان تحضر . فانكر ذلك عليه ابان وقال سمعت عثمان بن عفان يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ينكح المحرم ولا ينكح ولا يخطب
রেওয়ায়ত ৭৪. আবু গাতফান ইবন তরফ মূররী (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা তরীফ ইহরাম অবস্থায় মক্কায় এক মহিলাকে বিবাহ করেন, কিন্তু উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা বাতিল বলিয়া ঘোষণা করেন।
وحدثني عن مالك، عن داود بن الحصين، ان ابا غطفان بن طريف المري، اخبره ان اباه طريفا تزوج امراة وهو محرم فرد عمر بن الخطاب نكاحه
রেওয়ায়ত ৭৫. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ মুহরিম ব্যক্তি বিবাহ করিবে না বা বিবাহের পয়গাম দিবে না, নিজের হউক বা অন্যের, সকল অবস্থায়ই তাহা নিষিদ্ধ।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول لا ينكح المحرم ولا
রেওয়ায়ত ৭৬. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ), সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) এবং সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)-কে মুহরিম ব্যক্তির বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তাহারা সকলেই বলিয়াছিলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি নিজে বিবাহ করিবে না বা বিবাহ করাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি ইচ্ছা করিলে এবং ইদ্দতের ভিতর হইলে তাহার স্ত্রীর প্রতি রুজু করিতে পারে। (রজয়ী তালাক দেওয়া স্ত্রীকে গ্রহণ করিতে পারে।)
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان سعيد بن المسيب، وسالم بن عبد الله، وسليمان بن يسار، سيلوا عن نكاح المحرم، فقالوا لا ينكح المحرم ولا ينكح . قال مالك في الرجل المحرم انه يراجع امراته ان شاء اذا كانت في عدة منه
রেওয়ায়ত ৭৭. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাথায় সিঙ্গা লাগাইয়াছেন এবং সেইদিন তিনি মক্কাগামী পথের উপর উপস্থিত ‘লাহয়াই জমল’ নামক স্থানে ছিলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سليمان بن يسار، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم وهو محرم فوق راسه وهو يوميذ بلحيى جمل مكان بطريق مكة
রেওয়ায়ত ৭৮. নাফি (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলতেনঃ বাধ্য না হইলে মুহরিমের জন্য সিঙ্গা লাগানো উচিত নহে। মালিক (রহঃ)-ও অনুরূপ মত ব্যক্ত করিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان يقول لا يحتجم المحرم الا مما لا بد له منه . قال مالك لا يحتجم المحرم الا من ضرورة
রেওয়ায়ত ৭৯. উমর ইবনে আবদুল্লাহর মাওলা আবুন নাযর (রহঃ) নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, যিনি ছিলেন আবূ কাতাদার মাওলা। নাফি' (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আবু কাতাদ আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। কতিপয় মুহরিম সঙ্গীসহ তিনি পিছনে থাকিয়া যান। তিনি নিজে অবশ্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায় ছিলেন না। হঠাৎ একটা বন্য গাধা সৃষ্টিগোচর হইল, তৎক্ষণাৎ একটি ঘোড়ায় আরোহণ করিয়া তিনি উহা শিকার করিতে ছুটিলেন। সঙ্গীদের নিকট চাবুক চাহিলেন; কিন্তু কেউই দিলেন না, বর্শাখানা চাহিলে তাহাও কেউ দিলেন না। শেষে তিনি নিজে ঘোড়া হইতে নামিয়া আসিয়া বর্শা সংগ্ৰহ করিলেন এবং উক্ত গাধটিকে শিকার করিলেন। সঙ্গিগণের কেউ কেউ ইহার গোশত খাইলেন, আর কেউ কেউ খাইতে অস্বীকৃতি জানাইলেন। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত যখন সাক্ষাৎ হইল তখন উক্ত ঘটনা তাহাকে জানাইলে তিনি বলিলেনঃ উহা এমন এক খাদ্য ছিল যাহা আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে খাওয়াইছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله التيمي عن نافع، مولى ابي قتادة الانصاري عن ابي قتادة، انه كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا كانوا ببعض طريق مكة تخلف مع اصحاب له محرمين وهو غير محرم فراى حمارا وحشيا فاستوى على فرسه فسال اصحابه ان يناولوه سوطه فابوا عليه فسالهم رمحه فابوا فاخذه ثم شد على الحمار فقتله فاكل منه بعض اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وابى بعضهم فلما ادركوا رسول الله صلى الله عليه وسلم سالوه عن ذلك فقال " انما هي طعمة اطعمكموها الله
রেওয়ায়ত ৮০. উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) বর্ণনা করেন, যুবায়র ইবন আওয়াম (রাঃ) ইহরাম অবস্থায় পাথেয় হিসাবে হরিণের ভুনা গোশত সঙ্গে লইতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সকীফ অর্থ হইল ‘কাদীদ’ অর্থাৎ শুকনা গোশত।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، ان الزبير بن العوام، كان يتزود صفيف الظباء وهو محرم . قال مالك والصفيف القديد
রেওয়ায়ত ৮১. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) আবু কাতাদা (রাঃ)-র বন্য গাধা শিকার সম্পর্কে আবুন্ নাযরের হাদীসটির মতই বর্ণনা করিয়াছেন। তবে যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে শিকার সংক্রান্ত ঘটনায় নিম্নোক্ত বাক্যটি রহিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিয়াছেনঃ উহার কোন গোশত অবশিষ্ট আছে কি?
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، ان عطاء بن يسار، اخبره عن ابي قتادة، في الحمار الوحشي مثل حديث ابي النضر الا ان في، حديث زيد بن اسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " هل معكم من لحمه شىء
রেওয়ায়ত ৮২. ঈসা ইবন তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) উমায়র ইবন সালমা জমরী (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, উমায়র তাহাকে খবর দিয়াছেন যে, বাহযী[1] (রাঃ) বর্ণনা করেন- ইহরাম বাঁধিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলেন, রওহা নামক স্থানে পৌছিয়া একটি বন্য গাধা দেখিতে পাওয়া গেল। ইহা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আলোচনা করিলে তিনি বলিলেনঃ ছাড়িয়া দাও, এখন হয়তো উহার মালিক আসিবে। ততক্ষণে বাহযী আসিয়া পৌছিলেন, আর তিনিই উহার মালিক ছিলেন। তিনি বলিলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! ইহা আপনার, সকল ইখতিয়ার আপনারই। শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে আবু বকর (রাঃ) সঙ্গীদের মধ্যে উহার গোশত বণ্টন করিয়া দেন। পরে সকলেই সম্মুখে অগ্রসর হইলেন। রুয়াইসা ও আরজ নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী উসায়া নামক স্থানে যখন পৌছিলেন তখন একটি গাছের ছায়ায় একটি তীরবিদ্ধ হরিণ মাথা নিচু করিয়া দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখা গেল। বর্ণনাকারী ধারণা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক ব্যক্তিকে হরিণটির নিকট দাঁড়াইয়া পাহারা দিতে নির্দেশ দিলেন, যাহাতে সকলেই উহাকে অতিক্রম করিয়া সম্মুখে চলিয়া না যাওয়া পর্যন্ত কেউ উহার কোন কিছু করিতে না পারে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد الانصاري، انه قال اخبرني محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي، عن عيسى بن طلحة بن عبيد الله، عن عمير بن سلمة الضمري، عن البهزي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يريد مكة وهو محرم حتى اذا كان بالروحاء اذا حمار وحشي عقير فذكر ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " دعوه فانه يوشك ان ياتي صاحبه " . فجاء البهزي وهو صاحبه الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله شانكم بهذا الحمار . فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا بكر فقسمه بين الرفاق ثم مضى حتى اذا كان بالاثاية - بين الرويثة والعرج - اذا ظبى حاقف في ظل فيه سهم فزعم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امر رجلا ان يقف عنده لا يريبه احد من الناس حتى يجاوزه
রেওয়ায়ত ৮৩. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বাহরাইন হইতে আসতেছিলেন। রবাজা নামক স্থানে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় কতিপয় ইরাকী আরোহীর সঙ্গে তাহার সাক্ষাৎ হইল। তাহারা তাহাকে শিকারের গোশত খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিল। উক্ত শিকার রবাজাবাসীদের ছিল। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ পরে এই ফতওয়া সম্পর্কে আমার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। মদীনায় আসিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে তাহা জানাইলাম। তিনি বলিলেনঃ তুমি তাহাদিগকে এই সম্পর্কে কি বলিয়াছিলে? আমি বলিলামঃ তাহাদেরকে উহা খাইতে পারে বলিয়া মত দিয়াছিলাম। তখন তিনি বলিলেনঃ ইহা না বলিয়া অন্য কিছু যদি বলিতে তবে তোমাকে আমি শায়েস্তা করিতাম অর্থাৎ তিনি তাহাকে ভয় দেখাইলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع سعيد بن المسيب، يحدث عن ابي هريرة، انه اقبل من البحرين حتى اذا كان بالربذة وجد ركبا من اهل العراق محرمين فسالوه عن لحم صيد وجدوه عند اهل الربذة فامرهم باكله قال ثم اني شككت فيما امرتهم به فلما قدمت المدينة ذكرت ذلك لعمر بن الخطاب فقال عمر ماذا امرتهم به فقال امرتهم باكله . فقال عمر بن الخطاب لو امرتهم بغير ذلك لفعلت بك يتواعده
রেওয়ায়ত ৮৪. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট হাদীস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিতেছিলেন, যে রবাজা নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় কতিপয় লোকের সহিত তাহার সাক্ষাত হয়। ইহরামবিহীন লোকের শিকারকৃত পশু যাহা তাহারা খাইতেছে সেই পশুর গোশত তাহারা খাইতে পারবে কিনা এই সম্পর্কে তাহার নিকট ফতওয়া জিজ্ঞাসা করা হইল। তিনি তাহাদিগকে উহা খাইতে পারে বলিয়া ফতওয়া দেন। তিনি বলেনঃ পরে মদীনায় আসিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেন, তুমি কি ফতওয়া দিয়াছিলে? আমি বলিলামঃ ঐ গোশত খাইতে পারে বলিয়া ফতওয়া দিয়াছিলাম। তিনি বলিলেনঃ এই ফতওয়া না দিয়া যদি অন্য কোন ফতওয়া তুমি দিতে তবে তোমাকে আমি শাস্তি দিতাম।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، انه سمع ابا هريرة، يحدث عبد الله بن عمر انه مر به قوم محرمون بالربذة فاستفتوه في لحم صيد وجدوا ناسا احلة ياكلونه فافتاهم باكله قال ثم قدمت المدينة على عمر بن الخطاب فسالته عن ذلك فقال بم افتيتهم قال فقلت افتيتهم باكله . قال فقال عمر لو افتيتهم بغير ذلك لاوجعتك
রেওয়ায়ত ৬৫. কা’ব আহবার (রহঃ) যখন সিরিয়া হইতে আসেন কতিপয় ইহরাম বাঁধা আরোহীও তখন তাহার সঙ্গী হয় পথে তাহারা কিছু শিকারের গোশত পাইলেন। কা’ব (রহঃ) তাহাদিগকে উহা খাইতে অনুমতি দিলেন। ঐ আরোহী দল মদীনায় আসিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে উক্ত ঘটনা জানাইলেন। তিনি বললেন, তোমাদিগকে উক্ত গোশত খাইতে কে ফতওয়া দিয়াছিলেন? তাহারা বললেনঃ কাব (রহঃ)। তিনি বলিলেনঃ ফিরিয়া না আসা পর্যন্ত কা'বকে আমি তোমাদের আমীর বানাইয়া দিলাম। পরে মক্কার পথে তাহারা অনেক পঙ্গপাল দেখিতে পাইলেন। কা'ব তাহাদিগকে উহা খাইতে বলিয়া দিলেন। তাহারা ফিরিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে উহা জানাইলেন। তিনি কা’বকে বলিলেনঃ কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করিয়া তুমি এই ধরনের ফতওয়া দিলে? কা’ব বলিলেনঃ এই জাতীয় পঙ্গপাল (টিড্ডী) সামুদ্রিক প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত (আর মুহরিমের জন্য সামুদ্রিক প্রাণী খাওয়া জায়েয) । উমর (রাঃ) বলিলেনঃ ইহা কেমন করিয়া? কা'ব বলিলেন, আমীরুল মু'মিনীন! সেই সত্তার কসম যাহার হাতে আমার প্রাণ, এই জাতীয় পঙ্গপাল এক প্রকার সামুদ্রিক মাছের হাঁচি হইতে জন্ম হইয়া থাকে। উহা বৎসরে মাত্র দুইবারই হাঁচি দিয়া থাকে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল, পথে শিকারের গোশত পাওয়া গেলে মুহরিম ব্যক্তি উহা ক্রয় করিতে পারে কি? তিনি বলিলেনঃ হজ্জযাত্রীদের নিয়তে শিকার করিয়া থাকিলে উহা আমার কাছে মাকরূহ বলিয়া মনে হয়, তবে সাধারণভাবে বিশেষ কোন নিয়ত ব্যতিরেকে শিকার করা হইয়া থাকিলে উহা ক্রয় করায় দোষের কিছুই নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহরাম বাঁধার সময় কোন ব্যক্তির নিকট তৎকর্তৃক শিকারকৃত কোন পশু ছিল অথবা শিকারকৃত কোন পশু ক্রয় করিল। তবে উহা ছাড়িয়া দেওয়া তাহার জন্য জরুরী নহে, বরং বাড়িতে তাহা রাখিয়া যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সমুদ্র, নদী-নালা এবং পুকুর ইত্যাদির মাছ মুহরিমগণ শিকার করিতে পরিবে।
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، ان كعب الاحبار، اقبل من الشام في ركب حتى اذا كانوا ببعض الطريق وجدوا لحم صيد فافتاهم كعب باكله قال فلما قدموا على عمر بن الخطاب بالمدينة ذكروا ذلك له فقال من افتاكم بهذا قالوا كعب . قال فاني قد امرته عليكم حتى ترجعوا ثم لما كانوا ببعض طريق مكة مرت بهم رجل من جراد فافتاهم كعب ان ياخذوه فياكلوه فلما قدموا على عمر بن الخطاب ذكروا له ذلك فقال ما حملك على ان تفتيهم بهذا قال هو من صيد البحر . قال وما يدريك قال يا امير المومنين - والذي نفسي بيده - ان هي الا نثرة حوت ينثره في كل عام مرتين