Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮৪ হাদিসসমূহ
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু'আয (রাঃ)-কে ইয়ামনে পাঠিয়েছিলেন তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন যে, তুমি এমন এক জাতির কাছে যাচ্ছো যারা গ্ৰন্থধারী, যখন তুমি তাদের কাছে পৌছবে তখন তাদের তুমি এ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান করবে যে, “আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” যদি তারা তোমার এই আহবানে সাড়া দেয় তবে তাদের তুমি অবহিত করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর দিবা-রাত্রি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা অর্থাৎ তোমার এই আহবানে সাড়া দেয় তবে তাদের তুমি অবহিত করবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন যা তাদের মধ্যকার বিত্তবানদের থেকে নেয়া হবে এবং বিত্তহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এই দাওয়াতের সাড়া দেয়। তবে তুমি নিজকে অত্যাচারিত্যের ফরিয়াদ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
اخبرنا محمد بن عبد الله بن عمار الموصلي، عن المعافى، عن زكريا بن اسحاق المكي، قال حدثنا يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ حين بعثه الى اليمن " انك تاتي قوما اهل كتاب فاذا جيتهم فادعهم الى ان يشهدوا ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله فان هم اطاعوك بذلك فاخبرهم ان الله عز وجل فرض عليهم خمس صلوات في يوم وليلة فان هم - يعني اطاعوك بذلك - فاخبرهم ان الله عز وجل فرض عليهم صدقة توخذ من اغنيايهم فترد على فقرايهم فان هم اطاعوك بذلك فاتق دعوة المظلوم
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয (রহঃ)-এর দাদা থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমি আপনার কাছে আসিনি স্বীয় হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিসমূহের সংখ্যারও অধিক এ শপথ না করা পর্যন্ত যে, আমি আপনার কাছেও আসিব না আর আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। আর এখন আমি এমন হয়েছি যে, আল্লাহ তা’আলা এবং তদীয় রাসূল আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমি আর কিছুই জানি না। আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি আল্লাহ তা’আলার ওহী সম্পর্কে যা দিয়ে আপনার রব আপনাকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। (তখন) তিনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইসলামের চিহ্ন কি কি? তিনি বললেন, তোমার এ কথা বলা যে, আমি স্বীয় চেহারাকে (নিজকে) আল্লাহ তা'আলার অনুগত বানিয়ে নিলাম, অন্য সব কিছু থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করে।
اخبرنا محمد بن عبد الاعلى، قال حدثنا معتمر، قال سمعت بهز بن حكيم، يحدث عن ابيه، عن جده، قال قلت يا نبي الله ما اتيتك حتى حلفت اكثر من عددهن - لاصابع يديه - ان لا اتيك ولا اتي دينك واني كنت امرا لا اعقل شييا الا ما علمني الله عز وجل ورسوله واني اسالك بوحى الله بما بعثك ربك الينا قال " بالاسلام " . قلت وما ايات الاسلام قال " ان تقول اسلمت وجهي الى الله وتخليت وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة
ঈসা ইবন মুসাবির (রহঃ) ... আবু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচিত বলেছেনঃ উত্তমভাবে ওষু করা ঈমানের অর্ধেক। আর আলহামদুলিল্লাহ মীযানকে পরিপূর্ণ করে ফেলবে, তাসবীহ এবং তাকবীর আসমান এবং যমীনসমূহকে পরিপূর্ণ করে ফেললে। সালাত হল আলো আর যাকাত হল দলীল, ধৈর্য (সাওমা) হল নূর এবং কুরআন হল তোমার পক্ষের অথবা বিপক্ষের প্রমাণ।
اخبرنا عيسى بن مساور، قال حدثنا محمد بن شعيب بن شابور، عن معاوية بن سلام، عن اخيه، زيد بن سلام انه اخبره عن جده ابي سلام، عن عبد الرحمن بن غنم، ان ابا مالك الاشعري، حدثه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اسباغ الوضوء شطر الايمان والحمد لله تملا الميزان والتسبيح والتكبير يملا السموات والارض والصلاة نور والزكاة برهان والصبر ضياء والقران حجة لك او عليك
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সম্বোধন করে তিনবার বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তিনবার বলার পর তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। আমাদের প্রত্যেকেই উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে ক্ৰন্দন করতে লাগল। আমরা বুঝতেই পারলাম না যে, তিনি কোন কথার উপর শপথ করলেন। অতঃপর তিনি স্বীয় মস্তক উত্তোলন করলেন। তাঁর চেহারাতে তখন আনন্দের বিচ্ছুরণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল, যা আমাদের কাছে সব রকমের নিয়ামত অপেক্ষা অধিক প্রিয় ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ যে বান্দা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমযান মাসে সাওম পালন করে, যাকাত প্ৰদান করে এবং সাতটি কবিরা গুনাহ পরিত্যাগ করে থাকে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে যে, তুমি প্রশান্ত চিত্তে জান্নাতে প্রবেশ কর।
اخبرنا محمد بن عبد الله بن عبد الحكم، عن شعيب، عن الليث، قال انبانا خالد، عن ابن ابي هلال، عن نعيم المجمر ابي عبد الله، قال اخبرني صهيب، انه سمع من ابي هريرة، ومن ابي سعيد يقولان خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال " والذي نفسي بيده " . ثلاث مرات ثم اكب فاكب كل رجل منا يبكي لا ندري على ماذا حلف ثم رفع راسه في وجهه البشرى فكانت احب الينا من حمر النعم ثم قال " ما من عبد يصلي الصلوات الخمس ويصوم رمضان ويخرج الزكاة ويجتنب الكباير السبع الا فتحت له ابواب الجنة فقيل له ادخل بسلام
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় সম্পদ হতে এক জোড়া বস্তুও দান করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে আহবান করা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা, এ তোমার জন্য উত্তম। জগন্নাতের অনেক দরজা আছে। যে সালাত আদায়কারী হবে তাকে সালাতের দরজা হতে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিহাদের দরজা হতে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি যাকাত প্ৰদানকারী হবে তাকে যাকাতের দরজা হতে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী হবে তাকে রাইয়্যান নামক দরজা হতে আহবান করা হবে। আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারো কি এমন আমল থাকবে যাকে প্রত্যেক দরজা দিয়ে আহবান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে? কাউকে কি প্রত্যেক দরজা দিয়েই আহবানকরা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; এবং আমি আশা করি যে, তুমি তাদের মধ্য থেকেই হবে অর্থাৎ আবু বকর (রাঃ)।
اخبرني عمرو بن عثمان بن سعيد بن كثير، قال حدثنا ابي، عن شعيب، عن الزهري، قال اخبرني حميد بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من انفق زوجين من شىء من الاشياء في سبيل الله دعي من ابواب الجنة يا عبد الله هذا خير لك وللجنة ابواب فمن كان من اهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من اهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من اهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من اهل الصيام دعي من باب الريان " . قال ابو بكر هل على من يدعى من تلك الابواب من ضرورة فهل يدعى منها كلها احد يا رسول الله قال " نعم واني ارجو ان تكون منهم " . يعني ابا بكر
হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম; তখন তিনি কা'বার ছায়ায় বসা ছিলেন। তিনি আমাকে অগ্রসর হতে দেখে বললেন, কা'বার রাবের শপথ, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমি মনে মনে বললাম, আমার সর্বনাশ, মনে হয় আমার সম্পর্কে কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল ধনাঢ্য ব্যক্তিরা, কিন্তু যারা এত, এত, এত পরিমাণ দান খয়রাত করে এমনকি তাদের সামনে, ডানে এবং বামে (কল্যাণের বিভিন্ন খাতে) দান কয়রাত করে। অতঃপর তিনি বললেন যে, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন রয়েছে, যে ব্যক্তি উট, গরুর যাকাত প্ৰদান না করে মারা যায় কিয়ামতের দিন সেগুলোকে পূর্বাপেক্ষা বিরাট এবং বলিষ্ঠাকারে তার সামনে আনা হবে; সেগুলো তাকে ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে এবং শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। যখন দ্বিতীয়টা ফিরে যাবে প্রথমটা ফিরে আসবে। এরূপ চলতে থাকবে লোকজনের মাঝে বিচার কার্য নিম্পন্ন না পর্যন্ত ।
اخبرنا هناد بن السري، في حديثه عن ابي معاوية، عن الاعمش، عن المعرور بن سويد، عن ابي ذر، قال جيت الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو جالس في ظل الكعبة فلما راني مقبلا قال " هم الاخسرون ورب الكعبة " . فقلت ما لي لعلي انزل في شىء قلت من هم فداك ابي وامي قال " الاكثرون اموالا الا من قال هكذا وهكذا وهكذا حتى بين يديه وعن يمينه وعن شماله " . ثم قال " والذي نفسي بيده لا يموت رجل فيدع ابلا او بقرا لم يود زكاتها الا جاءت يوم القيامة اعظم ما كانت واسمنه تطوه باخفافها وتنطحه بقرونها كلما نفدت اخراها اعيدت اولاها حتى يقضى بين الناس
মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তির ধন-সম্পদ রয়েছে অথচ সে তার যাকাত প্রদান করছে না সেগুলো দিয়ে তার গলায় দুর্দান্ত অতি বিষাক্ত সৰ্প রূপে বেড়ি দেওয়া হবে, সেই ব্যক্তি সৰ্প থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে। অতঃপর তিনি কুরআন থেকে তার প্রমাণ পেশ করলেনঃ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمْ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তাদের জন্য তা মঙ্গল, ইহা যেন তারা কিছুতেই মনে না করে বরং ইহা তাদের জন্য অমঙ্গল। যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন উহাই তাদের গলায় বেড়ি হবে। (সূরা আলে ইমরানঃ)
اخبرنا مجاهد بن موسى، قال حدثنا ابن عيينة، عن جامع بن ابي راشد، عن ابي وايل، عن عبد الله، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من رجل له مال لا يودي حق ماله الا جعل له طوقا في عنقه شجاع اقرع وهو يفر منه وهو يتبعه " . ثم قرا مصداقه من كتاب الله عز وجل { ولا تحسبن الذين يبخلون بما اتاهم الله من فضله هو خيرا لهم بل هو شر لهم سيطوقون ما بخلوا به يوم القيامة } الاية
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তির উট রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর সবল বা দুর্বল অবস্থায় যাকাত প্ৰদান করে না, সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন যে, উটের সবল এবং দুর্বল হওয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ সেগুলোর (মালিকের) সুদিন কিংবা দুর্দিনে থাকা। কেননা সেগুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে ঐ উটগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। সেই উটগুলো তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। যখন পরবর্তী উটটি ফিরে যাবে পূববর্তী উটটি ফিরে আসবে। এই শাস্তি এমন একদিন দেওয়া হবে, যেই দিন (শাস্তিপ্রাপ্ত লোকটির জন্য) পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে, এই শান্তি লোকদের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির গরু রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর সবল বা দুর্বল অবস্থায় যাকাত প্ৰদান করে না, সেই গরুগুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে ঐ গরুগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তাকে প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দালন করতে থাকবে। যখন পরবর্তী জন্তুগুলো ফিরে যাবে পূর্ববতীর্ণ জন্তুগুলো ফিরে আসবে, এমন একদিন এই শাস্তি দেওয়া হবে যেই দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে। এই শাস্তি লোকজনের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন হওয়া না পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিবেঃ) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির ছাগল রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর যাকাত প্ৰদান করে না সবল বা দুর্বল অবস্থায়, সেই ছাগল গুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এলং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। অতঃপর সেই ব্যক্তিকে ঐ ছাগলগুলোর সামনে একটি প্রশান্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তখন প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দালন করতে থাকবে এবং প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। কিয়ামতের দিন কোন জন্তু কেঁকড়ানো শিং বিশিষ্ট বা ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট হবে না। যখন পরবর্তী জন্তুগুলো ফিরে যাবে পূৰ্ববতী জন্তুগুলো ফিরে আসবে। এই শান্তি এমন একদিন দেওয়া হবে, যেই দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সম পরিমাণ হবে। এই শান্তি লোকজনের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়ার পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে স্বীয় গন্তব্য স্থান দেখে নেবে।
اخبرنا اسماعيل بن مسعود، قال حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا سعيد بن ابي عروبة، قال حدثنا قتادة، عن ابي عمرو الغداني، ان ابا هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ايما رجل كانت له ابل لا يعطي حقها في نجدتها ورسلها " . قالوا يا رسول الله ما نجدتها ورسلها قال " في عسرها ويسرها فانها تاتي يوم القيامة كاغذ ما كانت واسمنه واشره يبطح لها بقاع قرقر فتطوه باخفافها اذا جاءت اخراها اعيدت عليه اولاها في يوم كان مقداره خمسين الف سنة حتى يقضى بين الناس فيرى سبيله وايما رجل كانت له بقر لا يعطي حقها في نجدتها ورسلها فانها تاتي يوم القيامة اغذ ما كانت واسمنه واشره يبطح لها بقاع قرقر فتنطحه كل ذات قرن بقرنها وتطوه كل ذات ظلف بظلفها اذا جاوزته اخراها اعيدت عليه اولاها في يوم كان مقداره خمسين الف سنة حتى يقضى بين الناس فيرى سبيله وايما رجل كانت له غنم لا يعطي حقها في نجدتها ورسلها فانها تاتي يوم القيامة كاغذ ما كانت واكثره واسمنه واشره ثم يبطح لها بقاع قرقر فتطوه كل ذات ظلف بظلفها وتنطحه كل ذات قرن بقرنها ليس فيها عقصاء ولا عضباء اذا جاوزته اخراها اعيدت عليه اولاها في يوم كان مقداره خمسين الف سنة حتى يقضى بين الناس فيرى سبيله
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত হলেন আর আরবের যারা কাফির হওয়ার ছিল তারা কাফির হয়ে গেল (যাকাত দিতে অস্বীকার করল) তখন উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিভাবে জিহাদ করবেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত লোকজন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না পড়বে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে আদিষ্ট হয়েছি। তবে যে ব্যক্তি 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে তার জানমাল আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। অবশ্য তার প্রাপ্য বহাল থাকবে (অপরাধের শাস্তি তাকে পেতে হবে।) তার বাকী হিসাব আল্লাহর উপর সোপর্দ। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও জিহাদ করব যে সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত হল সম্পদের পাওনা। আল্লাহর শপথ, যদি লোকজন আমার কাছে এমন একটি রশিও প্রদান না করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রদান করত, তাহলে সেই রশি প্রদান না করার কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। উমর (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর শপথ, আমি আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তের সাথে এই কারণে ঐক্যমত পোষণ করলাম যে, আমি দেখলাম, আল্লাহ তা’আলা আবু বকর (রাঃ)-এর অন্তর জিহাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
اخبرنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابي هريرة، قال لما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم واستخلف ابو بكر بعده وكفر من كفر من العرب قال عمر لابي بكر كيف تقاتل الناس وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فمن قال لا اله الا الله عصم مني ماله ونفسه الا بحقه وحسابه على الله " . فقال ابو بكر رضى الله عنه لاقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة فان الزكاة حق المال والله لو منعوني عقالا كانوا يودونه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه . قال عمر رضى الله عنه فوالله ما هو الا ان رايت الله شرح صدر ابي بكر للقتال فعرفت انه الحق
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ)-এর দাদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রত্যেক বিচরণকারী উটের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটি দিতে হবে (যখন উটের সংখ্যা এক শত বিশের অধিক হবে।) এই হিসাব থেকে কোন প্রকার উট বাদ যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়্যতে তা প্ৰদান করবে তাকে তার সওয়াব প্ৰদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি তা প্রদানে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসূল করে নেব এবং তার আরো অর্ধেক উট উসূল করে নেব। এটা আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াজিব সমূহের এক ওয়াজিব। যাকাতের কোন বস্তু মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধরদের জন্য বৈধ নয়।
اخبرنا عمرو بن علي، قال حدثنا يحيى، قال حدثنا بهز بن حكيم، قال حدثني ابي، عن جدي، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " في كل ابل سايمة في كل اربعين ابنة لبون لا يفرق ابل عن حسابها من اعطاها موتجرا فله اجرها ومن ابى فانا اخذوها وشطر ابله عزمة من عزمات ربنا لا يحل لال محمد صلى الله عليه وسلم منها شىء
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসকে (ত্রিশ মণ) এর কম মালে যাকাত ওয়াজিব হয় না। পাঁচ উটের কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না এবং পাঁচ ওকিয়া (দুই শত দিৱাহাম)-এর কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না।
اخبرنا عبيد الله بن سعيد، قال حدثنا سفيان، قال حدثني عمرو بن يحيى، ح واخبرنا محمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، عن عبد الرحمن، عن سفيان، وشعبة، ومالك، عن عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ليس فيما دون خمسة اوسق صدقة ولا فيما دون خمس ذود صدقة ولا فيما دون خمسة اواق صدقة
ঈসা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটির কম উটে যাকাত নেই, পাঁচ ওকিয়ার কম দ্রব্যেও যাকাত নেই। আর পাঁচ ওসাকের কম দ্রব্যেও কোন যাকাত নেই।
اخبرنا عيسى بن حماد، قال انبانا الليث، عن يحيى بن سعيد، عن عمرو بن يحيى بن عمارة، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ليس فيما دون خمسة ذود صدقة وليس فيما دون خمسة اواق صدقة وليس فيما دون خمسة اوسق صدقة
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাঃ) তাদেরকে লিখলেন যে, আল্লাহ তা’আলার নির্দেশক্রমে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উপর এ ফরয যাকাত ধাৰ্য করেছেন। অতএব, যে মুসলিমকে নিয়ম মাফিক যাকাত আদায় করতে বলা হবে সে আদায় করে দেবে, আর যে ব্যক্তিকে এর চেয়ে বেশী আদায় করতে বলা হবে সে তা আদায় করবে না। পঁচিশটির কম উট হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকৱী দিতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্ৰিশ পর্যন্ত দুই বছরী উট দিতে হবে। দুই বছরী উট না থাকলে একটি তিন বছৱী পুরুষ উট দিবে। ছয়ত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছরী উট, ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত একটি আরোহণের উপযুক্ত চার বছরী উট, একষট্রি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি পাঁচ বছৱী উট, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুইটি তিন বছরী উট, একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত আরোহণের উপযুক্ত দুইটি চার বছৱী উট দিতে হবে। যখন একশত বিশটি উটের বেশী হবে তখন প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছরী উট এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছরী উট ওয়াজিব হবে। যখন যাকাত আদায়কালীন সময় উটের বয়সের বিভিন্নতা দেখা দেয়, যেমন কাহারের উপর একটি পাঁচ বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে কোন পাঁচ বছরী উট নেই বরং তার কাছে চার বছরী উট আছে তখন তার কাছ থেকে চার বছরী উটি আদায় করে সম্ভব হলে আরো দু'টি ছাগল বা বিশটি দিরহাম আদায় করবে। যার উপর একটি চার বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী উটই আছে তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করে নেবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুইটি ছাগল যাই সম্ভব হয় ফিরিয়ে দেবে। যার উপর চার বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু তার কাছে চার বছর বয়সী উট নেই বরং তিন বছর বয়সী উট আছে, তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করা হবে এবং দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তার সাথে আদায় করে নেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র চার বছর বয়সী উট রয়েছে, তাহলে তার কাছে থেকে তাই আদায় করবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি ছাগল ফিরিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উট নেই বরং তার কাছে দুই বছর বয়সী উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তা নেবে। আর যার উপর দুই বছরী উট ওয়াজিব হয়ে যায় অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী পুরুষ উট থাকে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসুল করে নেবে এবং তার সাথে অন্য কোন কিছু নেবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট আছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে হ্যাঁ, তার মালিক যদি কিছু আদায় করতে চায় তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত বিচরণকারী ছাগলে যাকাত হিসাবে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। একশত একুশ হতে দুইশত পর্যন্ত ছাগলে দুটি ছাগল ওয়াজিব হবে। দুইশত এক হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলে তিনটি ছাগল ওয়াজিব হবে। যখন এরও অধিক হয়ে যাবে তখন প্রত্যেক একশত ছাগলে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। আর অতি বৃদ্ধ খুঁত বিশিষ্ট এবং পুরুষ ছাগলও আদায় করবে না। তবে হ্যাঁ, উসুলকারী যদি ইচ্ছা করে তবে আদায় করতে পারবে। যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু কখনো একত্রিত করবে না এবং একত্রিত পশুও কখনো বিচ্ছিন্ন করবে না। আর শরিকী মালে যাকাত উভয় মালিকের উপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটি থেকে একটিও কম হয়, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছে করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। খাটি রৌপ্যে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে। কারো কাছে যদি শুধু একশত নব্বই দিরহাম থাকে তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিয়ে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা।
ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উটের মালিক যাকাত আদায় না করলে উট তার কাছে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে। তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। আর ছাগলের মালিকও যাকাত আদায় না করলে ছাগল তার সামনে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে; তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন যে, জীব জন্তুর অধিকার হল পানির কাছে তার দুধ দোহন করা।* সাবধান, কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধ দেশে কোন উটি নিয়ে উপস্থিত না হয় যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মদ! আমি বলবঃ আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই আল্লাহর হুকুম পৌছিয়ে দিয়েছিলাম। সাবধান, তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধাদেশে কোন ছাগল নিয়ে উপস্থিত না হয়, যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মাদ! তখন আমি বলবঃ আমি তো আগেই (আল্লাহর হুকুম) পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ তোমাদের কারো কারো সম্পদ যে সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় করা হয় না কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সৰ্পের আকার ধারণ করবে। আর ঐ ব্যক্তি তা থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সাপে তার পিছু নিতে থাকবে এবং বলতে থাকবেঃ আমি তো তোমার সম্পদ। এইরূপ পিছু নিতে নিতে অবশেষে ঐ সৰ্প তার অঙ্গুলী (এবং পৰ্যায়ক্রমে সমস্ত দেহ) গিলে ফেলবে।
اخبرنا عمران بن بكار، قال حدثنا علي بن عياش، قال حدثنا شعيب، قال حدثني ابو الزناد، مما حدثه عبد الرحمن الاعرج، مما ذكر انه سمع ابا هريرة، يحدث به قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تاتي الابل على ربها على خير ما كانت اذا هي لم يعط فيها حقها تطوه باخفافها وتاتي الغنم على ربها على خير ما كانت اذا لم يعط فيها حقها تطوه باظلافها وتنطحه بقرونها - قال - ومن حقها ان تحلب على الماء الا لا ياتين احدكم يوم القيامة ببعير يحمله على رقبته له رغاء فيقول يا محمد . فاقول لا املك لك شييا قد بلغت . الا لا ياتين احدكم يوم القيامة بشاة يحملها على رقبته لها يعار فيقول يا محمد . فاقول لا املك لك شييا قد بلغت - قال - ويكون كنز احدهم يوم القيامة شجاعا اقرع يفر منه صاحبه ويطلبه انا كنزك فلا يزال حتى يلقمه اصبعه
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ঐ প্রত্যেক বিচরণকারী উটের যাকাত হল প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটনী। উটের হিসাব থেকে কোন উটকে বাদ দেওয়া হবে না। য়ে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়াতে তা দান করবে তার জন্য তার সওয়াব বুয়েছে আর যে ব্যক্তি তা আদায় করতে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসুল করে নেব, সাথে সাথে আরো অর্ধেক উন্ট নিয়ে নেব। এটা আমার আল্লাহর হকসমূহ থেকে একটি হক। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের জন্য এর কোন অংশ বৈধ হবে না।
اخبرنا محمد بن عبد الاعلى، قال حدثنا معتمر، قال سمعت بهز بن حكيم، يحدث عن ابيه، عن جده، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " في كل ابل سايمة من كل اربعين ابنة لبون لا تفرق ابل عن حسابها من اعطاها موتجرا له اجرها ومن منعها فانا اخذوها وشطر ابله عزمة من عزمات ربنا لا يحل لال محمد صلى الله عليه وسلم منها شىء
মুহাম্মাদ ইবন রাফি (রহঃ) ... মু'আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তাদের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার করে আদায় করেন। অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন। আর গরুর যাকাত হিসেবে প্রত্যেক ত্ৰিশে একটি দুই বছর বয়সী বৃষ বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন।
اخبرنا محمد بن رافع، قال حدثنا يحيى بن ادم، قال حدثنا مفضل، - وهو ابن مهلهل - عن الاعمش، عن شقيق، عن مسروق، عن معاذ، . ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثه الى اليمن وامره ان ياخذ من كل حالم دينارا او عدله معافر ومن البقر من ثلاثين تبيعا او تبيعة ومن كل اربعين مسنة
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন আমি প্রত্যেক চল্লিশটি গরু থেকে একটি তিন বছর বয়সী গাভী এবং প্রত্যেক ত্রিশটি থেকে একটি দুই বছর বয়সী গরু। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী কাপড় আদায় করি।
اخبرنا احمد بن سليمان، قال حدثنا يعلى، - وهو ابن عبيد - قال حدثنا الاعمش، عن شقيق، عن مسروق، والاعمش، عن ابراهيم، قالا قال معاذ بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اليمن فامرني ان اخذ من كل اربعين بقرة ثنية ومن كل ثلاثين تبيعا ومن كل حالم دينارا او عدله معافر
আহমদ ইবন হারবা (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে পাঠান। তখন তাঁকে নির্দেশ দেন যেন তিনি প্রত্যেক ত্রিশটি গরুতে একটি দুই বছর বয়সী গরু বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশটি গরুতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন।
اخبرنا احمد بن حرب، قال حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن مسروق، عن معاذ، قال لما بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اليمن امره ان ياخذ من كل ثلاثين من البقر تبيعا او تبيعة ومن كل اربعين مسنة ومن كل حالم دينارا او عدله معافر
মুহাম্মদ ইবনুন মানসুর তুসী (রহঃ) ... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠানাের সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি গরুর সংখ্যা ত্রিশ না হওয়া পর্যন্ত তার থেকে কোন যাকাত আদায় না করি। যখন ত্রিশ হয়ে যাবে তখন একটি দুই বছর বয়সী পুরুষ অথবা স্ত্রী বাছুর (এঁড়ে বা বকনা) দিতে হবে। এ হুকুম চল্লিশ পর্যন্ত (ত্ৰিশের বেশী কিন্তু চল্লিশের কম)। চল্লিশ হয়ে গেলে তাতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী ওয়াজিব হবে।
اخبرنا محمد بن منصور الطوسي، قال حدثنا يعقوب، قال حدثنا ابي، عن ابن اسحاق، قال حدثني سليمان الاعمش، عن ابي وايل بن سلمة، عن معاذ بن جبل، قال امرني رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بعثني الى اليمن ان لا اخذ من البقر شييا حتى تبلغ ثلاثين فاذا بلغت ثلاثين ففيها عجل تابع جذع او جذعة حتى تبلغ اربعين فاذا بلغت اربعين ففيها بقرة مسنة
ওয়াসিল ইবন আব্দুল আ'লা (রাঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উট, গরু এবং ছাগলের প্রাপ্য আদায় না করবে তাকে কিয়ামতের দিন একটি সমতল ভূমিতে উখিত করা হবে। তাকে ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তুরা ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তুরা শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। সে দিন কোন জন্তু শিং বিহীন বা ভগ্ন শিং বিশিষ্ট থাকবে না। আমরা প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জন্তুর প্রাপ্য কি? তিনি বললেন, ষাঁড় গরু ধার দেওয়া, ডোল (বালতি) ধার দেওয়া এবং পশুর উপর আল্লাহর রাস্তায় ভার বহন করা। (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য পশু ধার দেওয়া) আর যে ধন্যবান ব্যক্তি ধন সম্পদের যাকাত আদায় না করবে কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ধন সম্পদ তার সামনে বিষাক্ত সৰ্পকারে উপস্থিত হবে, ঐ ধনবান ব্যক্তি তার থেকে পলায়ন করবে কিন্তু ঐ সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে এবং বলবে যে, এতো তোমার ধন সম্পদ যা থেকে তুমি ব্যয় করতে না। যখন সে ব্যক্তি দেখবে যে, ঐ সৰ্পের কাছে যেতেই হবে তখন সে স্বীয় হস্ত ঐ সৰ্পের মুখে প্রবেশ করিয়ে দেবে। আর সর্প তা চিবুতে থাকবে যে রূপ যাঁড় চিবুতে থাকে।
اخبرنا واصل بن عبد الاعلى، عن ابن فضيل، عن عبد الملك بن ابي سليمان، عن ابي الزبير، عن جابر بن عبد الله، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من صاحب ابل ولا بقر ولا غنم لا يودي حقها الا وقف لها يوم القيامة بقاع قرقر تطوه ذات الاظلاف باظلافها وتنطحه ذات القرون بقرونها ليس فيها يوميذ جماء ولا مكسورة القرن " . قلنا يا رسول الله وماذا حقها قال " اطراق فحلها واعارة دلوها وحمل عليها في سبيل الله ولا صاحب مال لا يودي حقه الا يخيل له يوم القيامة شجاع اقرع يفر منه صاحبه وهو يتبعه يقول له هذا كنزك الذي كنت تبخل به فاذا راى انه لا بد له منه ادخل يده في فيه فجعل يقضمها كما يقضم الفحل
اخبرنا محمد بن عبد الله بن المبارك، قال حدثنا المظفر بن مدرك ابو كامل، قال حدثنا حماد بن سلمة، قال اخذت هذا الكتاب من ثمامة بن عبد الله بن انس بن مالك عن انس بن مالك ان ابا بكر كتب لهم ان هذه فرايض الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين التي امر الله عز وجل بها رسوله صلى الله عليه وسلم فمن سيلها من المسلمين على وجهها فليعط ومن سيل فوق ذلك فلا يعط فيما دون خمس وعشرين من الابل في كل خمس ذود شاة فاذا بلغت خمسا وعشرين ففيها بنت مخاض الى خمس وثلاثين فان لم تكن بنت مخاض فابن لبون ذكر فاذا بلغت ستا وثلاثين ففيها بنت لبون الى خمس واربعين فاذا بلغت ستة واربعين ففيها حقة طروقة الفحل الى ستين فاذا بلغت احدى وستين ففيها جذعة الى خمس وسبعين فاذا بلغت ستا وسبعين ففيها بنتا لبون الى تسعين فاذا بلغت احدى وتسعين ففيها حقتان طروقتا الفحل الى عشرين وماية فاذا زادت على عشرين وماية ففي كل اربعين بنت لبون وفي كل خمسين حقة فاذا تباين اسنان الابل في فرايض الصدقات فمن بلغت عنده صدقة الجذعة وليست عنده جذعة وعنده حقة فانها تقبل منه الحقة ويجعل معها شاتين ان استيسرتا له او عشرين درهما ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده حقة وعنده جذعة فانها تقبل منه ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين ان استيسرتا له ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده وعنده بنت لبون فانها تقبل منه ويجعل معها شاتين ان استيسرتا له او عشرين درهما ومن بلغت عنده صدقة ابنة لبون وليست عنده الا حقة فانها تقبل منه ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين ومن بلغت عنده صدقة ابنة لبون وليست عنده بنت لبون وعنده بنت مخاض فانها تقبل منه ويجعل معها شاتين ان استيسرتا له او عشرين درهما ومن بلغت عنده صدقة ابنة مخاض وليس عنده الا ابن لبون ذكر فانه يقبل منه وليس معه شىء ومن لم يكن عنده الا اربع من الابل فليس فيها شىء الا ان يشاء ربها وفي صدقة الغنم في سايمتها اذا كانت اربعين ففيها شاة الى عشرين وماية فاذا زادت واحدة ففيها شاتان الى مايتين فاذا زادت واحدة ففيها ثلاث شياه الى ثلاثماية فاذا زادت ففي كل ماية شاة ولا يوخذ في الصدقة هرمة ولا ذات عوار ولا تيس الغنم الا ان يشاء المصدق ولا يجمع بين متفرق ولا يفرق بين مجتمع خشية الصدقة وما كان من خليطين فانهما يتراجعان بينهما بالسوية فاذا كانت سايمة الرجل ناقصة من اربعين شاة واحدة فليس فيها شىء الا ان يشاء ربها وفي الرقة ربع العشر فان لم تكن الا تسعين وماية درهم فليس فيها شىء الا ان يشاء ربها