Loading...

Loading...
বইসমূহ
৬৫ হাদিসসমূহ
। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলাম। তিনি সে সময় কা'বার ছায়াতে বসে ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে সম্মুখে আসতে দেখে বলেনঃ কা'বার প্রভুর শপথ! তারা কিয়ামতের দিবসে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হাযির হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে বললাম, আমার কি হল, মনে হয় আমার প্রসঙ্গে তার উপর কোন কিছু নাযিল হয়েছে। আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা নিবেদিত হোক! এধরণের লোক কারা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অধিক ধনদৌলত আত্মসাৎকারী, কিন্তু যে সব লোক এই, এই ও এই পরিমাণ দিয়েছে সে সব লোক ছাড়া। তিনি সামনে, ডানে ও বামে হাতের ইশারা করলেন। তারপর তিনি বললেনঃ সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! যে লোক এধরণের উট অথবা গরু রেখে মৃত্যুবরণ করল যার যাকাত সে দেয়নি, কিয়ামতের দিন সেগুলো পূর্বাবস্থা হতে বেশি মোটাতাজা হয়ে তার নিকটে আসবে এবং নিজেদের পায়ের ক্ষুর দ্বারা তাকে দলিত করবে এবং শিং দ্বারা গুতো মারবে। সবশেষের জন্তুটি চলে যাওয়ার পর আবার প্রথম জন্তুটি ফিরে আসবে। মানুষের সম্পূর্ণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তির এ ধারা চলতে থাকবে। — সহীহ তা’লীকুর রাগীব (১/২৬৭) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) বলেন, যাকাত অমান্যকারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে। কাবীসা ইবনু হুলব তার পিতা থেকে, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আবূ যারের হাদীসটি হাসান সহীহ্! আবু যার (রাঃ)-এর নাম জুনদাব ইবনুস সাকান, কারো মতে ইবনু জুনাদা। দাহহাক ইবনু মুযাহিম বলেন, যার দশ হাজার (দিরহাম) রয়েছে সেই অধিক সম্পদশালী। — সহীহ মাকতু অর্থাৎ যাহহাকের উপর মাওকৃফ এই হাদীসের এক রাবী আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর মারওয়ায়ী একজন নিষ্ঠাবান লোক।
حدثنا هناد بن السري التميمي الكوفي، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن المعرور بن سويد، عن ابي ذر، قال جيت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو جالس في ظل الكعبة . قال فراني مقبلا فقال " هم الاخسرون ورب الكعبة يوم القيامة " . قال فقلت ما لي لعله انزل في شيء . قال قلت من هم فداك ابي وامي . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هم الاكثرون الا من قال هكذا وهكذا وهكذا " . فحثا بين يديه وعن يمينه وعن شماله . ثم قال " والذي نفسي بيده لا يموت رجل فيدع ابلا او بقرا لم يود زكاتها الا جاءته يوم القيامة اعظم ما كانت واسمنه تطوه باخفافها وتنطحه بقرونها كلما نفدت اخراها عادت عليه اولاها حتى يقضى بين الناس " . وفي الباب عن ابي هريرة مثله . وعن علي بن ابي طالب رضى الله عنه قال لعن مانع الصدقة . وعن قبيصة بن هلب عن ابيه وجابر بن عبد الله وعبد الله بن مسعود . قال ابو عيسى حديث ابي ذر حديث حسن صحيح . واسم ابي ذر جندب بن السكن ويقال ابن جنادة . حدثنا عبد الله بن منير عن عبيد الله بن موسى عن سفيان الثوري عن حكيم بن الديلم عن الضحاك بن مزاحم قال الاكثرون اصحاب عشرة الاف . قال وعبد الله بن منير مروزي رجل صالح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তুমি তোমার ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে ফেললে, তুমি তোমার কর্তব্যভার পালন করলে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৭৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি যাকাত নিয়ে আলোচনা করলে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যতীতও কি আমার কিছু করার আছে? তিনি বলেনঃ না, তবে বাড়তি (দান-খাইরাত) করতে পার। ইবনু হুজাইরার নাম আব্দুর রহমান ইবনু হুজাইরাহ আল-মিসরী।
حدثنا عمر بن حفص الشيباني البصري، حدثنا عبد الله بن وهب، اخبرنا عمرو بن الحارث، عن دراج، عن ابن حجيرة، هو عبد الرحمن بن حجيرة المصري عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا اديت زكاة مالك فقد قضيت ما عليك " . قال ابو عيسى . هذا حديث حسن غريب . وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه انه ذكر الزكاة . فقال رجل يا رسول الله هل على غيرها فقال " لا الا ان تتطوع
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছা করতাম, আমাদের উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোন বুদ্ধিমান বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করুক। এমন সময় এক বেদুঈন হাযির হল। সে তার হাটু গেড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে বসল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের নিকট আপনার প্রতিনিধি এসে বলল, আপনি দাবি করছেন, আপনাকে আল্লাহ তা'আলা তার রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আকাশসমূহ সমুন্নত করেছেন, যমীনকে বিস্তৃত করেছেন এবং পাহাড়সমূহ দাঁড় করিয়েছেন, সত্যিই কি আপনাকে আল্লাহ তাআলা তার রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন আমাদের উপর দিন রাতে পাচ ওয়াক্ত নামায বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বেদুঈন বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন বছরে এক মাস আমাদের উপর রোযা বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সঠিক বলেছে। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি পাঠিয়েছেন আল্লাহ তাআলা কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আপনি মনে করেন আমাদের ধনদৌলতের উপর যাকাত বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য বলেছে। বেদুঈন বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি রাসূল করে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা কি এই প্রসঙ্গে আপনাকে আদেশ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, আমাদেরকে আপনার প্রতিনিধি বলেছে, আমাদের মাধ্যে যে লোক দূরত্ব অতিক্রম করার (আর্থিক ও দৈহিক) যোগ্যতা রাখে আপনি মনে করেন তার জন্য বাইতুল্লাহর হজ্জ বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। বেদুঈন বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি রাসূল করে পাঠিয়েছেন! আল্লাহ তাআ’লা কি আপনাকে এই প্রসঙ্গে আদেশ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, সেই সত্তার শপথ, আপনাকে যিনি সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি এগুলোর কোনটিই ছাড়বো না এবং এগুলোর সীমাও পার করব না। তারপর সে তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বেদুঈন যদি সত্য বলে থাকে তবে সে জান্নাতে যাবে। – সহীহ, তাখরাজ ঈমান ইবনু আবী শাইবা (৪/৫), বুখারী, মুসলিম৷ আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদে হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি অন্যান্য সূত্রেও আনাস (রাঃ) হতে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আমি একথা মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, একদল মুহাদ্দিস বলেন, এ হাদীসের একটি আইনগত (ফিকহী) দিক এই যে, উস্তাদের নিকট পাঠ করা এবং তা তার শুনা উস্তাদের নিকট হতে শুনার মতই গ্রহণযোগ্য। তারা উক্ত হাদীস দলীল হিসাবে উপস্থাপন করে বলেন, এই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে (বর্ণনা) উপস্থাপন করল, আর তিনি তার সত্যতা স্বীকার করলেন।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়া ও গোলামের সাদকা (যাকাত) আমি ক্ষমা করেছি, কিন্তু প্রতি চল্লিশ দিরহাম রূপার ক্ষেত্রে এক দিরহাম সাদকা (যাকাত) আদায় কর। কিন্তু একশত নব্বই দিরহামে কোন সাদকা নেই। যখন তা দুই শত দিরহামে পৌছবে তখন তাতে পাঁচ দিরহাম সাদকা দিতে হবে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৯০) আবূ বাকার সিদ্দীক ও আমর ইবনু হাযম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে! আবু ঈসা বলেন, আমাশ, আবু আওয়ানা ও অন্যান্যরা আবু ইসহাকের সনদের ধারাবাহিকতায় আলী (রাঃ)-এর নিকট হতেও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনু উআইনা ও অন্যরাও আবু ইসহাকের বরাতে আল-হারিসের সূত্রে আলী (রাঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় সূত্রকেই ইমাম বুখারী সহীহ বলেছেন। কারণ, হয়ত আসিম ও হারিস দু'জনের নিকট হতে এটি বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن عبد الملك بن ابي الشوارب، حدثنا ابو عوانة، عن ابي اسحاق، عن عاصم بن ضمرة، عن علي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قد عفوت عن صدقة الخيل والرقيق فهاتوا صدقة الرقة من كل اربعين درهما درهما وليس في تسعين وماية شيء فاذا بلغت مايتين ففيها خمسة الدراهم " . وفي الباب عن ابي بكر الصديق وعمرو بن حزم . قال ابو عيسى روى هذا الحديث الاعمش وابو عوانة وغيرهما عن ابي اسحاق عن عاصم بن ضمرة عن علي وروى سفيان الثوري وابن عيينة وغير واحد عن ابي اسحاق عن الحارث عن علي . قال وسالت محمدا عن هذا الحديث فقال كلاهما عندي صحيح عن ابي اسحاق يحتمل ان يكون روي عنهما جميعا
। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, সাদকা (যাকাত) প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখালেন। তার কর্মচারীদের নিকটে এটা পাঠানোর আগেই তিনি মারা যান। তিনি এটা নিজের তরবারির সাথে রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর আবু বাকার (রাঃ) তা কার্যকর করেন। তিনিও মারা যান। উমার (রাঃ)-ও সে অনুযায়ী কাজ করেন। তারপর তিনিও মারা যান। তাতে লিখা ছিল পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী এবং দশটি উটের জন্য দুইটি বকরী, পনেরটি উটের জন্য তিনটি বকরী এবং বিশটি উটের জন্য চারটি বকরীর যাকাত আদায় করতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত উটের জন্য একটি বিনতু মাখায (একটি পূর্ণ এক বছরের মাদী উট); এর বেশি হলে পয়তাল্লিশ পর্যন্ত (ছত্রিশ হতে পয়তাল্লিশ পর্যন্ত) উটের জন্য একটি বিনতু লাবৃন (একটি পূর্ণ দুই বছরের মাদী উট); এর বেশি হলে ষাট পর্যন্ত (ছিচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত) উটের জন্য একটি হিক্কাহ (একটি পূর্ণ তিন বছরের মাদী উট); আবার এর বেশি হলে পচাত্তর পর্যন্ত (একষট্টি হতে পচাত্তর পর্যন্ত) উটের জন্য একটি জাযাআহ (একটি চার বছরের মাদী উট); আরো বেশি হলে নব্বই পর্যন্ত (ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত) উটের জন্য দু'টি বিনতু লাবৃন; আরো বেশি হলে একশত বিশ পর্যন্ত (একানব্বই-একশত বিশ) উটের জন্য দুটি হিক্কাহ এবং যখন একশত বিশের বেশি হবে তখন প্রতি পঞ্চাশ উটের জন্য একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশ উটের জন্য একটি বিনতু লাবৃন যাকাত আদায় করতে হবে। ভেড়া বকরীর যাকাত হলঃ চল্লিশ হতে এক শত বিশ পর্যন্ত বকরীর জন্য একটি বকরী; এর বেশি হলে দুশত পর্যন্ত দুটি বকরী; এর বেশি একশত বকরীর জন্য একটি করে বকরী যাকাত আদায় করতে হবে। তারপর বকরীর পরিমাণ আবার একশত পর্যন্ত না পৌছালে (পুনরায়) কোন যাকাত দিতে হবে না। যাকাতের ভয়ে (একাধিক মালিকানায়) বিচ্ছিন্নগুলোকে একত্র করা এবং একত্রগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এক সাথে দুই শরীকের পশু থাকলে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশের হিসাব করে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করবে। যাকাতে বৃদ্ধ এবং ক্রটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৯৮) যুহরী (রাহঃ) বলেন, সাদকা আদায়কারী আসলে (মালিক) বকরিগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করবে। একটি ভাগে থাকবে উন্নত মানের বকরী, অন্য ভাগে থাকবে মধ্যম মানের বকরী এবং আর এক ভাগে থাকবে নিকৃষ্ট মানের বকরী। মধ্যম মানের বকরী হতে সাদকা আদায়কারী যাকাত গ্রহণ করবে। যুহরী (রাহঃ) গরুর প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। আবূ বাকার সিদ্দীক দাদা হতে, আবু যার ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু উমারের হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুসারে সকল ফিকহবিদ মত গ্রহণ করেছেন। একদল রাবী মারফুভাবে এ হাদীসটিকে বর্ণনা করেননি। শুধুমাত্র সুফিয়ান ইবনু হুসাইন মারফু হিসাবে এটাকে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا زياد بن ايوب البغدادي، وابراهيم بن عبد الله الهروي، ومحمد بن كامل المروزي المعنى، واحد، قالوا حدثنا عباد بن العوام، عن سفيان بن حسين، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب كتاب الصدقة فلم يخرجه الى عماله حتى قبض فقرنه بسيفه فلما قبض عمل به ابو بكر حتى قبض وعمر حتى قبض وكان فيه " في خمس من الابل شاة وفي عشر شاتان وفي خمس عشرة ثلاث شياه وفي عشرين اربع شياه وفي خمس وعشرين بنت مخاض الى خمس وثلاثين فاذا زادت ففيها ابنة لبون الى خمس واربعين فاذا زادت ففيها حقة الى ستين فاذا زادت ففيها جذعة الى خمس وسبعين فاذا زادت ففيها ابنتا لبون الى تسعين فاذا زادت ففيها حقتان الى عشرين وماية فاذا زادت على عشرين وماية ففي كل خمسين حقة وفي كل اربعين ابنة لبون . وفي الشاء في كل اربعين شاة شاة الى عشرين وماية فاذا زادت فشاتان الى مايتين فاذا زادت فثلاث شياه الى ثلاثماية شاة فاذا زادت على ثلاثماية شاة ففي كل ماية شاة شاة ثم ليس فيها شيء حتى تبلغ اربعماية ولا يجمع بين متفرق ولا يفرق بين مجتمع مخافة الصدقة وما كان من خليطين فانهما يتراجعان بالسوية ولا يوخذ في الصدقة هرمة ولا ذات عيب " . وقال الزهري اذا جاء المصدق قسم الشاء اثلاثا ثلث خيار وثلث اوساط وثلث شرار واخذ المصدق من الوسط . ولم يذكر الزهري البقر . وفي الباب عن ابي بكر الصديق وبهز بن حكيم عن ابيه عن جده . وابي ذر وانس . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن . والعمل على هذا الحديث عند عامة الفقهاء . وقد روى يونس بن يزيد وغير واحد عن الزهري عن سالم هذا الحديث ولم يرفعوه وانما رفعه سفيان بن حسين
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ত্রিশটি গরুর যাকাত (দিতে হবে) একটি এক বছরের এড়ে বাছুর অথবা বকনা বাছুর। চল্লিশটি গরুর যাকাত (দিতে হবে) একটি দুই বছরের বাছুর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০৪) মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আব্দুস সালাম ইবনু হারব খুসাইফ হতে হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আবদুস সালাম নির্ভরযোগ্য এবং স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন একজন বর্ণনাকারী। শারীক এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন শুনেননি।
حدثنا محمد بن عبيد المحاربي، وابو سعيد الاشج قالا حدثنا عبد السلام بن حرب، عن خصيف، عن ابي عبيدة، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " في ثلاثين من البقر تبيع او تبيعة وفي اربعين مسنة " . وفي الباب عن معاذ بن جبل . قال ابو عيسى هكذا رواه عبد السلام بن حرب عن خصيف وعبد السلام ثقة حافظ . وروى شريك هذا الحديث عن خصيف عن ابي عبيدة عن امه عن عبد الله . وابو عبيدة بن عبد الله لم يسمع من عبد الله
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে (গভর্ণর করে) প্রেরণ করলেন এবং আদেশ দিলেনঃ আমি যেন প্রতি ত্রিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি এক বছরের এড়ে বাছুর অথবা বকনা বাছুর; প্রতি চল্লিশটি গরুর ক্ষেত্রে একটি দুই বছরের বাছুর (যাকাত হিসেবে) এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়সের (জিম্মী) লোকের নিকট হতে এক দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) অথবা একই মূল্যের মাআফির নামক কাপড় (জিযয়া হিসাবে) আদায় করি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮০৩) আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি কতিপয় সূত্রে, তিনি মাসরুকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মুআযকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন। তাকে তিনি আদেশ করলেন ..... এ বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا سفيان، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن مسروق، عن معاذ بن جبل، قال بعثني النبي صلى الله عليه وسلم الى اليمن فامرني ان اخذ من كل ثلاثين بقرة تبيعا او تبيعة ومن كل اربعين مسنة ومن كل حالم دينارا او عدله معافر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وروى بعضهم هذا الحديث عن سفيان عن الاعمش عن ابي وايل عن مسروق ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث معاذا الى اليمن فامره ان ياخذ . وهذا اصح
। আমর ইবনু মুররা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবু উবাদাকে আমি প্রশ্ন করলাম, আব্দুল্লাহর নিকট হতে তিনি কি কোন কিছু বর্ণনা করেন? তিনি বললেন, না। – আবূ উবাইদাহ হতে সূত্রটি সহীহ, আর তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের ছেলে।
حدثنا محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة قال سالت ابا عبيدة بن عبد الله هل تذكر من عبد الله شييا قال لا
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুআয (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেনঃ এমন একটি জাতির নিকটে তুমি যাচ্ছ যারা আহলি কিতাব। তাদেরকে এমন সাক্ষ্য দিতে আহবান কর যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন মা'বূদ নেই এবং আমি (মুহাম্মাদ) আল্লাহর রাসূল। এটা তারা, মেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও- অবশ্যই তাদের উপর আল্লাহ তাআ’লা দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে ফরয করেছেন। তারা এটাও মেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও- তাদের ধন-দৌলতে আল্লাহ তা'আলা যাকাত ফরয করে দিয়েছেন। তাদের ধনীদের মধ্য হতে এটা এটিও মেনে নেয় তাহলে সাবধান! তাদের উত্তম মাল (যাকাত হিসাবে) নেয়া হতে বিরত থাকবে। নিজেকে নিপীড়িতদের অভিশাপ হতে দূরে রাখ। কেননা, তার আবেদন এবং আল্লাহ্ তা'আলার মাঝে কোন প্রতিবন্ধক নেই। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৮৩), বুখারী, মুসলিম সুনাবিহী (রহঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু মা'বাদ (রহঃ) হচ্ছেন ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তদাস এবং তার নাম না-ফিয।
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، حدثنا زكريا بن اسحاق المكي، حدثنا يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، عن ابن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث معاذا الى اليمن فقال له " انك تاتي قوما اهل كتاب فادعهم الى شهادة ان لا اله الا الله واني رسول الله فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم خمس صلوات في اليوم والليلة فان هم اطاعوا لذلك فاعلمهم ان الله افترض عليهم صدقة في اموالهم توخذ من اغنيايهم وترد على فقرايهم فان هم اطاعوا لذلك فاياك وكرايم اموالهم واتق دعوة المظلوم فانها ليس بينها وبين الله حجاب " . وفي الباب عن الصنابحي . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . وابو معبد مولى ابن عباس اسمه نافذ
। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচের কম সংখ্যক উটে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না; পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপাতে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ ফসলে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না। — সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (১৭৯৩), বুখারী, মুসলিম আবু হুরাইরা, ইবনু উমার, জা-বির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن عمرو بن يحيى المازني، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ليس فيما دون خمس ذود صدقة وليس فيما دون خمس اواق صدقة وليس فيما دون خمسة اوسق صدقة " . وفي الباب عن ابي هريرة وابن عمر وجابر وعبد الله بن عمرو
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি মালিক ইবনু আনাস হতে, হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে উপরে উল্লেখিত হাদীসটি তার নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসের ভিত্তিতে আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ শস্যে কোন যাকাত আদায় করতে হবে না। ষাট সা’ পরিমাণে এক ওয়াসাক হয়। অতএব, পাঁচ ওয়াসাকে তিনশত সা’ হবে। সোয়া পাঁচ রতলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সা’ হত। কুফাবাসীদের এক সা হয় আট রোতল পরিমাণে। পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রূপার ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হয় না। চল্লিশ দিরহাম পরিমাণে এক উকিয়া হয়। অতএব, পাঁচ উকিয়া পরিমাণে দুই শত দিরহাম হয়। পাঁচ যাওদ অর্থাৎ পাঁচের কম সংখ্যক উটের ক্ষেত্রে যাকাত ধার্য হয় না। উটের সংখ্যা পঁচিশে পৌছলে তখন যাকাত হিসেরে এক বছরের একটি মাদী উট আদায় করতে হবে। পঁচিশের কম সংখ্যক উট হলে প্রতি পাঁচটি উটে একটি বকরী যাকাত আদায় করতে হবে।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، وشعبة، ومالك بن انس، عن عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن ابي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث عبد العزيز عن عمرو بن يحيى . قال ابو عيسى حديث ابي سعيد حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عنه . والعمل على هذا عند اهل العلم ان ليس فيما دون خمسة اوسق صدقة . والوسق ستون صاعا وخمسة اوسق ثلاثماية صاع وصاع النبي صلى الله عليه وسلم خمسة ارطال وثلث وصاع اهل الكوفة ثمانية ارطال . وليس فيما دون خمس اواق صدقة والاوقية اربعون درهما وخمس اواق مايتا درهم . وليس فيما دون خمس ذود صدقة يعني ليس فيما دون خمس من الابل صدقة فاذا بلغت خمسا وعشرين من الابل ففيها بنت مخاض وفيما دون خمس وعشرين من الابل في كل خمس من الابل شاة
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়া ও ক্রীতদাসের জন্য মুসলিমের কোন সাদকা (যাকাত) আদায় করতে হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮১২), যঈফা (৪০১৪), বুখারী, মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটির পরিপ্রেক্ষিতে আলিমগণ বলেছেন, চারণভূমিতে চরে বেড়ায় এমন ঘোড়া এবং ক্রীতদাসের উপর যাকাত ধার্য হয় না, যদি সেবা দানের উদ্দেশ্যে তা (ক্রীতদাস) রাখা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এগুলো রাখা হলে তবে এক বছর পার হওয়ার পর এর মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হবে।
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء ومحمود بن غيلان قالا حدثنا وكيع، عن سفيان، وشعبة، عن عبد الله بن دينار، عن سليمان بن يسار، عن عراك بن مالك، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس على المسلم في فرسه ولا في عبده صدقة " . وفي الباب عن علي وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل عليه عند اهل العلم انه ليس في الخيل السايمة صدقة ولا في الرقيق اذا كانوا للخدمة صدقة الا ان يكونوا للتجارة فاذا كانوا للتجارة ففي اثمانهم الزكاة اذا حال عليها الحول
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি দশ মশক মধুর ক্ষেত্রে এক মশক যাকাত ধার্য হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮২৪) আবু হুরাইরা, আবু সাইয়্যারা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইবনু উমারের হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আপত্তি আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে মধুর যাকাত প্রসঙ্গে সহীহ সূত্রে বেশি কিছু প্রমাণিত নেই। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে বেশির ভাগ মনীষী মধুর উপর যাকাত ধার্যের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ, ও ইসহাক এই মত গ্রহণ করেছেন। অন্য আরেক দল মনীষী বলেছেন, মধুর উপর কোন প্রকার যাকাত ধার্য হবে না। বর্ণনাকারী সাদাকাহ ইবনু আব্দুল্লাহ স্মৃতি শক্তির অধিকারী নন। নাফি হতে সাদাকাহ ইবনু আব্দুল্লাহর বর্ণনার বিপরীত বর্ণনা বিদ্যমান আছে।
حدثنا عمرو بن ابي سلمة التنيسي، عن صدقة بن عبد الله، عن موسى بن يسار، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " في العسل في كل عشرة ازق زق " . وفي الباب عن ابي هريرة وابي سيارة المتعي وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث ابن عمر في اسناده مقال ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب كبير شيء والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم وبه يقول احمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم ليس في العسل شيء . وصدقة بن عبد الله ليس بحافظ وقد خولف صدقة بن عبد الله في رواية هذا الحديث عن نافع
। নাফি (রহঃ) বলেন, উমার ইবনু আব্দুল আযীয আমাকে মধুর যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। আমি জবাবে বললামঃ (যাকাত দেওয়ার মত) মধু আমাদের কাছে নাই যাতে আমরা যাকাত দিব। কিন্তু মুগীরা ইবনু হাকীম আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, মধুতে কোন যাকাত নেই। (একথা শুনে) উমর ইবনু আব্দুল আযীয বললেনঃ তিনি (মুগীরা) ন্যায়পরায়ণ, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অতঃপর তিনি নির্দেশ জারী করলেন যে, মধুতে যাকাত আদায় করতে হবে না। — সনদ সহীহ
حدثنا محمد بن بشار حدثنا عبد الوهاب الثقفي حدثنا عبيد الله بن عمر عن نافع قال سالني عمر بن عبد العزيز عن صدقة العسل . قال قلت ما عندنا عسل نتصدق منه ولكن اخبرنا المغيرة بن حكيم انه قال ليس في العسل صدقة . فقال عمر عدل مرضي . فكتب الى الناس ان توضع . يعني عنهم
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সম্পদ অর্জন করল, তার উপর বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করতে হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৯২) সাররাআ বিনতু নাবহান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا يحيى بن موسى، حدثنا هارون بن صالح الطلحي المدني، حدثنا عبد الرحمن بن زيد بن اسلم، عن ابيه، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من استفاد مالا فلا زكاة عليه حتى يحول عليه الحول عند ربه " . وفي الباب عن سراء بنت نبهان الغنوية
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে লোক সম্পদ অর্জন করল, মালিকের হাতে তা পুরো এক বছর না থাকা পর্যন্ত তাতে যাকাত আদায় করতে হবে না। — সনদ সহীহ, মাওকুফ, এটি মারফু হাদীসের মতই আবু ঈসা বলেন, পূর্ববর্তী বর্ণনা হতে এই বর্ণনাটি (সনদের বিচারে) বেশি সহীহ। ইবনু উমারের নিকট হতে অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী এটি মাওকৃফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। তাকে আহমাদ ইবনু হাম্বাল, আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ যঈফ বলেছেন এবং তিনি অনেক ভুলের শিকার হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবা হতে বর্ণিত আছে যে, মালিকের হাতে বর্ষচক্র পার না হওয়া পর্যন্ত অর্জিত মালের যাকাত আদায় করতে হবে না। মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ,আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও ইসহাকের এই মত। কিছু সংখ্যক মনীষী বলেছেন, যাকাত বাধ্যকর হওয়ার সমপরিমাণ সম্পদ কারো নিকটে থাকলে এবং বছরের মধ্যে আরো কিছু পরিমাণ মাল এসে যদি তার সাথে যুক্ত হয় তবে এক্ষেত্রে নতুন-পুরাতন সকল মালেরই যাকাত আদায় করতে হবে। নতুনভাবে আমদানী হওয়া মাল ব্যতীত তার নিকটে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মত অন্য কোন মাল না থাকলে এই নতুন অর্জিত সম্পদে বর্ষচক্র অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত যাকাত আদায় করতে হবে না। তার নিকটে যাকাতের নিসাব পরিমাণ মাল আছে, কিন্তু এখনও এক বছর পুরো হয়নি। এরই মাঝে এর সাথে আরো নতুন মাল এসে যুক্ত হল। এক্ষেত্রে পূর্ববতী মালের সাথে সাথে এই নতুনভাবে আসা মালেরও যাকাত আদায় করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণের এই মত।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، حدثنا ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، قال من استفاد مالا فلا زكاة فيه حتى يحول عليه الحول عند ربه . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث عبد الرحمن بن زيد بن اسلم . قال ابو عيسى وروى ايوب وعبيد الله بن عمر وغير واحد عن نافع عن ابن عمر موقوفا . وعبد الرحمن بن زيد بن اسلم ضعيف في الحديث ضعفه احمد بن حنبل وعلي بن المديني وغيرهما من اهل الحديث وهو كثير الغلط . وقد روي عن غير واحد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ان لا زكاة في المال المستفاد حتى يحول عليه الحول . وبه يقول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم اذا كان عنده مال تجب فيه الزكاة ففيه الزكاة وان لم يكن عنده سوى المال المستفاد ما تجب فيه الزكاة لم يجب عليه في المال المستفاد زكاة حتى يحول عليه الحول فان استفاد مالا قبل ان يحول عليه الحول فانه يزكي المال المستفاد مع ماله الذي وجبت فيه الزكاة . وبه يقول سفيان الثوري واهل الكوفة
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একই লোকালয়ে (আরবে) দু'টি কিবলার সুযোগ নেই এবং মুসলিমদের ওপর কোন জিযইয়া নেই। যঈফ, ইরওয়া (১২৪৪), যঈফ
حدثنا يحيى بن اكثم، حدثنا جرير، عن قابوس بن ابي ظبيان، عن ابيه، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تصلح قبلتان في ارض واحدة وليس على المسلمين جزية
। আবূ কুরাইবও এই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যঈফ, জামে সাগীর (২০৫০), মিশকাত (৪০৩৯) এ অনুচ্ছেদে সাঈদ ইবনু যাইদ ও হারব ইবনু উবাইদুল্লাহর দাদা হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, কাবুস ইবনু আবূ যাবিয়ান তার পিতার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সকল ফিকহবিদ এ হাদীসের ভিত্তিতে একমত হয়ে বলেছেন, কোন নাসারা (খ্ৰীষ্টান) মুসলিম হলে তার ওপর নির্ধারিত জিযইয়া মাওকৃফ হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “মুসলিমদের ওপর উশরের জিযইয়া নেই”-এর অর্থ হচ্ছেঃ ব্যক্তির ওপর নির্ধারিত জিযইয়া। এ হাদীস হতে এটাও বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি বলেছেনঃ উশর (জিযইয়া) শুধু ইয়াহুদী ও নাসারাদের ওপর আরোপিত হবে, মুসলিমদের ওপর কোন উশর ধার্য হবে না।
حدثنا ابو كريب، حدثنا جرير، عن قابوس، بهذا الاسناد نحوه . وفي الباب عن سعيد بن زيد، وجد حرب بن عبيد الله الثقفي . قال ابو عيسى حديث ابن عباس قد روي عن قابوس بن ابي ظبيان، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . والعمل على هذا عند عامة اهل العلم ان النصراني اذا اسلم وضعت عنه جزية رقبته . وقول النبي صلى الله عليه وسلم " ليس على المسلمين عشور " انما يعني به جزية الرقبة وفي الحديث ما يفسر هذا حيث قال " انما العشور على اليهود والنصارى وليس على المسلمين عشور
আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যাইনাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে মহিলাগণ! তোমাদের গহনাপত্র দিয়ে হলেও তোমরা দান-খয়রাত কর। কেননা, কিয়ামত দিবসে তোমাদের সংখ্যাই জাহান্নামীদের মধ্যে বেশি হবে। - পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহিহ।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن عمرو بن الحارث بن المصطلق، عن ابن اخي، زينب امراة عبد الله عن زينب، امراة عبد الله بن مسعود قالت خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " يا معشر النساء تصدقن ولو من حليكن فانكن اكثر اهل جهنم يوم القيامة
। মাহমুদ ইবনু গাইলান আবু দাউদ হতে, তিনি শুবা হতে তিনি আমাশ হতে, তিনি আবু ওয়ায়িল হতে তিনি জায়নাবের ভ্রাতুষ্পপুত্র ওয়াসাল্লাম হতে উপরের হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা করেছেন......। এই বর্ণনাটি পূর্ববর্তী বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি সহীহ। আবু মুয়াবিয়া সন্দেহে পতিত হয়ে বলেছেন, যাইনাবের ভাইয়ের ছেলের নিকট হতে আমর ইবনু হারিস বর্ণনা করেছেন। অথচ সঠিক হল আমর ইবনু হারিস যাইনাবের ভাইয়ের ছেলে। আমর ইবনু শুআইব হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছেঃ গহনাপত্রের যাকাত আদায় করতে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। অবশ্য এ হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে সমালোচনা আছে। আলিমগণের মধ্যে অলংকারপত্রের যাকাত আদায়ের ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। একদল সাহাবা ও তাবিঈ বলেছেন, অলংকারাদির যাকাত আদায় করতে হবে, তা স্বর্ণের কিংবা রূপারই হোক না কেন। সুফিয়ান সাওরী, ও ইবনুল মুবারাকের একই রকম মত। আরেক দল সাহাবা, যেমন ইবনু উমার, আইশা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেছেন, অলংকারাদির উপর যাকাত আদায় করা ওয়াজিব নয়। কয়েকজন ফিকহবিদ তাবিঈ হতেও একইরকম বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এরকমই মত প্রকাশ করেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، عن شعبة، عن الاعمش، قال سمعت ابا وايل، يحدث عن عمرو بن الحارث ابن اخي، زينب امراة عبد الله - عن زينب، - امراة عبد الله - عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث ابي معاوية وابو معاوية وهم في حديثه فقال عن عمرو بن الحارث عن ابن اخي زينب . والصحيح انما هو عن عمرو بن الحارث ابن اخي زينب . وقد روي عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم انه راى في الحلي زكاة . وفي اسناد هذا الحديث مقال . واختلف اهل العلم في ذلك فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين في الحلي زكاة ما كان منه ذهب وفضة . وبه يقول سفيان الثوري وعبد الله بن المبارك . وقال بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم ابن عمر وعايشة وجابر بن عبد الله وانس بن مالك ليس في الحلي زكاة . وهكذا روي عن بعض فقهاء التابعين وبه يقول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا علي بن عبد الحميد الكوفي، حدثنا سليمان بن المغيرة، عن ثابت، عن انس، قال كنا نتمنى ان ياتي، الاعرابي العاقل فيسال النبي صلى الله عليه وسلم ونحن عنده فبينا نحن على ذلك اذ اتاه اعرابي فجثا بين يدى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد ان رسولك اتانا فزعم لنا انك تزعم ان الله ارسلك . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فبالذي رفع السماء وبسط الارض ونصب الجبال الله ارسلك فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فان رسولك زعم لنا انك تزعم ان علينا خمس صلوات في اليوم والليلة . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فان رسولك زعم لنا انك تزعم ان علينا صوم شهر في السنة . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " صدق " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فان رسولك زعم لنا انك تزعم ان علينا في اموالنا الزكاة . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " صدق " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فان رسولك زعم لنا انك تزعم ان علينا الحج الى البيت من استطاع اليه سبيلا . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال فبالذي ارسلك الله امرك بهذا فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم " . فقال والذي بعثك بالحق لا ادع منهن شييا ولا اجاوزهن . ثم وثب فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان صدق الاعرابي دخل الجنة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه وقد روي من غير هذا الوجه عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم . سمعت محمد بن اسماعيل يقول قال بعض اهل العلم فقه هذا الحديث ان القراءة على العالم والعرض عليه جايز مثل السماع . واحتج بان الاعرابي عرض على النبي صلى الله عليه وسلم فاقر به النبي صلى الله عليه وسلم