Loading...

Loading...
বইসমূহ
৬৪ হাদিসসমূহ
। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার মামা আবূ বুরদা (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার হাতে একটি পতাকা ছিল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, এক লোক তার বাবার স্ত্রীকে (সৎমাকে) বিয়ে করেছে। আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন তার মাথা কেটে তার নিকট আনার জন্য। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬০৭) কুররা আল-মুযানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক আদী ইবনু সাবিত হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি বারাআ হতে, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি তার পিতা হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ ইবনু বারাআ তার মামা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو سعيد الاشج، حدثنا حفص بن غياث، عن اشعث، عن عدي بن ثابت، عن البراء، قال مر بي خالي ابو بردة بن نيار ومعه لواء فقلت اين تريد قال بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم الى رجل تزوج امراة ابيه ان اتيه براسه . قال وفي الباب عن قرة المزني . قال ابو عيسى حديث البراء حديث حسن غريب . وقد روى محمد بن اسحاق هذا الحديث عن عدي بن ثابت عن عبد الله بن يزيد عن البراء وقد روي هذا الحديث عن اشعث عن عدي عن يزيد بن البراء عن ابيه وروي عن اشعث عن عدي عن يزيد بن البراء عن خاله عن النبي صلى الله عليه وسلم
। উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) তাকে বলেছেন, হাররা হতে বয়ে আসা নালার পানির বণ্টনকে কেন্দ্র করে যুবাইর (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে একজন আনসার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করে। এ নালার পানি তারা খেজুর বাগানেও সিঞ্চন করতেন। আনসারী দাবি করল, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা এই বিবাদকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থাপন করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ)-কে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তোমার প্রতিবেশীর ক্ষেতের দিকে তা প্রবাহিত হতে দাও। আনসারী এতে ক্রোধান্বিত হয়ে বলল, আপনার ফুফাত ভাই তো! এ কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ হে যুবাইর তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তা আটক করে রাখ-যাতে তা আইল পর্যন্ত উঠতে পারে। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় এ প্রসঙ্গেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ “না, হে মুহাম্মাদ! তোমার প্রতিপালকের শপথ! এরা কোন অবস্থাতেই ঈমানদার হতে পারে না, যে পর্যন্ত না তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে। তারপর তুমি যে ফায়সালাই করবে তার প্রসঙ্গে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুষ্ঠাবোধ করবে না; বরং নিজেদেরকে এর সামনে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করবে” (সূরাঃ নিসা-৬৫)। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি শুআইব ইবনু আবূ হামযা-যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি যুবাইর (রাঃ) হতে এ সনদেও বর্ণিত আছে। তাতে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। পূর্বোক্ত হাদীসের মত আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব-লাইস হতে ও ইউনুস-যুহরী হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)হতে এ সূত্রেও বর্ণিত আছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن عروة، انه حدثه ان عبد الله بن الزبير حدثه ان رجلا من الانصار خاصم الزبير عند رسول الله صلى الله عليه وسلم في شراج الحرة التي يسقون بها النخل فقال الانصاري سرح الماء يمر . فابى عليه فاختصموا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير " اسق يا زبير ثم ارسل الماء الى جارك " . فغضب الانصاري فقال يا رسول الله ان كان ابن عمتك فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال " يا زبير اسق ثم احبس الماء حتى يرجع الى الجدر " . فقال الزبير والله اني لاحسب نزلت هذه الاية في ذلك : (فلا وربك لا يومنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وروى شعيب بن ابي حمزة عن الزهري عن عروة بن الزبير عن الزبير ولم يذكر فيه عن عبد الله بن الزبير . ورواه عبد الله بن وهب عن الليث ويونس عن الزهري عن عروة عن عبد الله بن الزبير نحو الحديث الاول
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আনসার বংশের একজন লোক মারা যাওয়ার সময় তার ছয়টি গোলামই মুক্ত করে দিল। তার-নিকটে এরা ব্যতীত আর কোন সম্পদ ছিল না। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌছানোর পর তিনি তার প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি তারপর গোলামদের ডেকে পাঠালেন এবং তাদেরকে (তিন) ভাগ করে তাদের মধ্যে লটারী করলেন। তিনি সে মোতাবিক দুইজনকে মুক্ত করে দিলেন এবং বাকি চারজনকে গোলাম হিসাবে রেখে দিলেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৪৫), মুসলিম আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি ইমরান (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এ প্রসঙ্গে বা অন্য কোন ব্যাপারে লটারী করে ঠিক করে নিতে হবে বলে মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু লটারীর পক্ষে রায় প্রদান করেননি কূফাবাসী কিছু আলিম। তাদের মতে, এক্ষেত্রে প্রতিটি গোলামের তিন ভাগের এক অংশ মুক্ত হবে। অবশিষ্ট দুই ভাগের মুক্তির জন্য তাদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিতে হবে। আবূল মুহাল্লাবের নাম আবদুর রাহমান ইবনু আমর আলজারমী তিনি আবূ কিলাবা নহেন। মতান্তরে মুআবিয়া, পিতা আমর। আবূ কিলাবা আলজারমীর নাম আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ।
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن ابي المهلب، عن عمران بن حصين، ان رجلا، من الانصار اعتق ستة اعبد له عند موته ولم يكن له مال غيرهم فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال له قولا شديدا ثم دعاهم فجزاهم ثم اقرع بينهم فاعتق اثنين وارق اربعة . وقد روي من غير وجه عن عمران بن حصين . قال وفي الباب عن ابي هريرة . قال ابو عيسى حديث عمران بن حصين حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وهو قول مالك والشافعي واحمد واسحاق يرون استعمال القرعة في هذا وفي غيره . واما بعض اهل العلم من اهل الكوفة وغيرهم فلم يروا القرعة وقالوا يعتق من كل عبد الثلث ويستسعى في ثلثى قيمته . وابو المهلب اسمه عبد الرحمن بن عمرو الجرمي وهو غير ابي قلابة ويقال معاوية بن عمرو . وابو قلابة الجرمي اسمه عبد الله بن زيد
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি তার কোন মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হয় তাহলে সে (দাসত্ব হতে) স্বয়ং স্বাধীন হয়ে যাবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫২৪) আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার বর্ণনা হতেই এ হাদীস মুসনাদ হিসেবে জেনেছি। এ হাদীসটি কাতাদা হতে হাসানের বরাতে উমর (রাঃ)-এর সূত্রে কিছু বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অন্য আরেকটি সনদেও সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি তার কোন মাহরাম আত্মীয়ের (দাসত্ব সূত্রে) মালিক হয় তাহলে সে (দাসত্ব হতে) নিজেই মুক্ত হয়ে যাবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আসিম আল-আহওয়াল হতে হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু বাকর ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি তার কোন মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হয় তাহলে সে নিজেই মুক্ত হয়ে যাবে। উপরোক্ত হাদীসটি যামরা ইবনু রাবীআ-সাওরী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এইসূত্রে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এক্ষেত্রে যামরার কোন অনুসারী নেই। তাই হাদীস বিশারদগণ মনে করেন এ হাদীসের সনদে ক্রটি আছে।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন সম্প্রদায়ের জমিতে যদি কোন লোক তাদের বিনা অনুমতিতে কৃষিকাজ করে তাহলে সে ফসলের কোন অংশ পাবে না, শুধুমাত্র চাষাবাদের খরচ পাবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৬৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আমরা আবূ ইসহাকের এই হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র শারীক ইবনু আবদুল্লাহর সনদেই জেনেছি। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। একই কথা বলেছেন আহমাদ ও ইসহাকও। আবূ ঈসা বলেন, আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা হাসান হাদীস। আমরা আবূ ইসহাকের এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র শারীকের সূত্রে জানতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, এটি মাকিল খাদীজ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا شريك بن عبد الله النخعي، عن ابي اسحاق، عن عطاء، عن رافع بن خديج، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من زرع في ارض قوم بغير اذنهم فليس له من الزرع شيء وله نفقته " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه من حديث ابي اسحاق الا من هذا الوجه من حديث شريك بن عبد الله . والعمل على هذا الحديث عند بعض اهل العلم وهو قول احمد واسحاق . وسالت محمد بن اسماعيل عن هذا الحديث فقال هو حديث حسن . وقال لا اعرفه من حديث ابي اسحاق الا من رواية شريك . قال محمد حدثنا معقل بن مالك البصري، حدثنا عقبة بن الاصم، عن عطاء، عن رافع بن خديج، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার আব্বা তার এক ছেলেকে একটি গোলাম প্রদান করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর সাক্ষী করার উদ্দেশ্যে তার নিকট আসেন। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার এই সন্তানকে যা দিয়েছ, তোমার অন্য সন্তানদেরকেও কি তা দিয়েছ? তিনি বললেন, না। তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এই দান ফিরিয়ে নাও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৭৫, ২৩৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে নুমান ইবনু বাশীরের নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখাকে খুবই পছন্দনীয় বলেছেন। কেউ কেউ এ পর্যন্তও বলেছেন যে, তাদের মধ্যে চুম্বন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমতা বজায় রাখতে হবে। আর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, সন্তানদের মধ্যে উপহার-উপটৌকন প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা যাবে না। সুফিয়ান সাওরী এই মত দিয়েছেন। আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেছেন, মীরাস বণ্টনের নীতি মোতাবেক উপহার-উপটৌকনের ক্ষেত্রেও ছেলে সন্তান মেয়ে সন্তানের দ্বিগুণ পাবে।
حدثنا نصر بن علي، وسعيد بن عبد الرحمن المخزومي المعنى الواحد، قالا حدثنا سفيان، عن الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، وعن محمد بن النعمان بن بشير، يحدثان عن النعمان بن بشير، ان اباه، نحل ابنا له غلاما فاتى النبي صلى الله عليه وسلم يشهده فقال " اكل ولدك نحلته مثل ما نحلت هذا " . قال لا . قال " فاردده " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن النعمان بن بشير . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم يستحبون التسوية بين الولد حتى قال بعضهم يسوي بين ولده حتى في القبلة . وقال بعضهم يسوي بين ولده في النحل والعطية الذكر والانثى سواء . وهو قول سفيان الثوري . وقال بعضهم التسوية بين الولد ان يعطى الذكر مثل حظ الانثيين مثل قسمة الميراث . وهو قول احمد واسحاق
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাড়ীর প্রতিবেশী উক্ত বাড়ীর (ক্রয় করার ক্ষেত্রে) প্রাধান্য পাবে। সহীহ, ইরওয়া (১৫৩৯) শারীদ, আবূ রাফি ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ঈসা ইবনু ইউনুস সাঈদ ইবনু আবী আরূবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সাঈদ কাতাদা হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি সামুরা (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। হাদীস বিশারদদের মতে সামুরা হতে হাসানের বর্ণনাটিই সঠিক। আনাস হতে কাতাদার বর্ণনাটি শুধুমাত্র ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রেই জানা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান আমর ইবনু শারীদ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম ইবনু মাইমারী আমর ইবনু শারদ হতে, তিনি আবু রাফি হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এইসূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উভয় হাদীসকেই ইমাম বুখারী সহীহ বলে মনে করেন।
حدثنا علي بن حجر، حدثنا اسماعيل ابن علية، عن سعيد، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " جار الدار احق بالدار " . قال وفي الباب عن الشريد وابي رافع وانس . قال ابو عيسى حديث سمرة حديث حسن صحيح . وروى عيسى بن يونس عن سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله . وروي عن سعيد عن قتادة عن الحسن عن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم . والصحيح عند اهل العلم حديث الحسن عن سمرة ولا نعرف حديث قتادة عن انس الا من حديث عيسى بن يونس . وحديث عبد الله بن عبد الرحمن الطايفي عن عمرو بن الشريد عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب هو حديث حسن . وروى ابراهيم بن ميسرة عن عمرو بن الشريد عن ابي رافع عن النبي صلى الله عليه وسلم . قال سمعت محمدا يقول كلا الحديثين عندي صحيح
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিবেশী তার শুফআর ক্ষেত্রে বেশি হকদার। সে অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে-যদি উভয়ের যাতায়াতের একই রাস্তা হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪৯৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটিকে আবদুল মালিক ইবনু আবূ সুলাইমান-আতা হতে, তিনি জাবির (রাঃ)-এর সূত্র ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেছেন এমনটি আমাদের জানা নেই। শুবা (রাহঃ) এ হাদীসকে কেন্দ্র করে আবদুল মালিক ইবনু আবূ সুলাইমানের সমালোচনা করেছেন। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল মালিক একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। শুবা ব্যতীত আর কেউ উল্লেখিত হাদীসকে কেন্দ্র করে তার সমালোচনা করেছেন কি-না সে সম্বন্ধে আমাদের কোনকিছু জানা নেই। এ হাদীসটি ওয়াকী (রহঃ) শুবার সূত্রে, তিনি আবদুল মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুবারাক হতে বর্ণিত আছে, সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আবদুল মালিক ইবনু আবী সুলাইমান হাদীসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে মানদণ্ডস্বরূপ। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন, শুফআর ক্ষেত্রে প্রতিবেশীই অন্যান্যদের চাইতে বেশি হকদার, সে লোক হাযির না থাকা অবস্থায়ও। সে যখন ফিরবে তখন শুফআর জন্য দাবি করতে পারবে, যদিও অনুপস্থিতির সময় অনেক দীর্ঘ হয়।
حدثنا قتيبة، حدثنا خالد بن عبد الله الواسطي، عن عبد الملك بن ابي سليمان، عن عطاء، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الجار احق بشفعته ينتظر به وان كان غايبا اذا كان طريقهما واحدا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب ولا نعلم احدا روى هذا الحديث غير عبد الملك بن ابي سليمان عن عطاء عن جابر . وقد تكلم شعبة في عبد الملك بن ابي سليمان من اجل هذا الحديث وعبد الملك هو ثقة مامون عند اهل الحديث لا نعلم احدا تكلم فيه غير شعبة من اجل هذا الحديث . وقد روى وكيع عن شعبة عن عبد الملك بن ابي سليمان هذا الحديث . وروي عن ابن المبارك عن سفيان الثوري قال عبد الملك بن ابي سليمان ميزان . يعني في العلم . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم ان الرجل احق بشفعته وان كان غايبا فاذا قدم فله الشفعة وان تطاول ذلك
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা আলাদা হয়ে যায় তখন শুফআর আর কোন অধিকার থাকে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪৯৯), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটিকে কয়েকজন বর্ণনাকারী আবূ সালামার বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক উমার, উসমান (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ আমল করেছেন। এরকমই বলেছেন উমার ইবনু আবদুল আযীয (রাহঃ) এবং আরো কয়েকজন তাবিঈ ও ফিকহবিদ। এই মত দিয়েছেন মাদীনার আলিমগণ তথা ও মালিক ইবনু আনাসও। শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। তারা সবাই মনে করেন শুফআ শুধুমাত্র শরীকানা সম্পত্তিতেই দাবি করা যায়। প্রতিবেশী অংশীদার না হলে সে শুফআর দাবি তুলতে পারে না। অন্য একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মতে, শুফআর জন্য প্রতিবেশী দাবি তুলতে পারে। এই মারফু হাদীসকে তারা দলীল হিসেবে নিয়েছেনঃ (১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রতিবেশী (অপর প্রতিবেশীর) ঘর কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।" (২) “তার নিকট অবস্থানের জন্যই প্রতিবেশী (শুফআর) বেশি হকদার”। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কূফাবাসীগন।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن جابر بن عبد الله، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا وقعت الحدود وصرفت الطرق فلا شفعة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه بعضهم مرسلا عن ابي سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم عمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وبه يقول بعض فقهاء التابعين مثل عمر بن عبد العزيز وغيره وهو قول اهل المدينة منهم يحيى بن سعيد الانصاري وربيعة بن ابي عبد الرحمن ومالك بن انس وبه يقول الشافعي واحمد واسحاق لا يرون الشفعة الا للخليط ولا يرون للجار شفعة اذا لم يكن خليطا . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الشفعة للجار . واحتجوا بالحديث المرفوع عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " جار الدار احق بالدار " . وقال " الجار احق بسقبه " . وهو قول الثوري وابن المبارك واهل الكوفة
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শারীক শুফআর অধিকারী। প্রতিটা জিনিসেই শুফআ আছে। মুনকার, যঈফা (১০০৯, ১০১০) আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধু আবূ হামযা আস-সুককারীর সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। একাধিক রাবী আবদুল আযীয ইবনু রুআইফির সূত্রে-ইবনু আবূ মুলাইকার বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উক্ত হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটাই সহীহ। হান্নাদ-আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ হতে তিনি আবদুল আযীয ইবনু রুয়াইফি হতে তিনি ইবনু আবূ মুলাইকী হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উক্ত মর্মে এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাতে “ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে" সূত্রের উল্লেখ নেই। একইভাবে একাধিক রাবী-আবদুল আযীয ইবনু রুআইফি হতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাতেও "ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে” সূত্রের উল্লেখ নেই। এই হাদিসটি আবু হামযার সুত্রে বর্ণিত হাদিসের তুলনায় বেশী সহিহ মনে হয়। নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী আবূ হামযা ব্যতীত অন্য কারো এই ভুলটি হয়েছে। হান্নাদ-আবূল আহওয়াস হতে তিনি আবদুল আযীয ইবনু রুয়াইফি হতে তিনি ইবনু আবু মুলাইকা হতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে, শুধুমাত্র ঘর-বাড়ি ও স্থাবর সম্পত্তিতেই শুফআ দাবি করা যাবে। তাদের মতে যে কোন জিনিসেই শুফআ দাবি করা যাবে না।অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে যে কোন জিনিসেই শুফআ দাবি করা যায়। কিন্তু প্রথম মতই অনেক বেশী সহীহ।
حدثنا يوسف بن عيسى، حدثنا الفضل بن موسى، عن ابي حمزة السكري، عن عبد العزيز بن رفيع، عن ابن ابي مليكة، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الشريك شفيع والشفعة في كل شيء " . قال ابو عيسى هذا حديث لا نعرفه مثل هذا الا من حديث ابي حمزة السكري . وقد روى غير واحد هذا الحديث عن عبد العزيز بن رفيع عن ابن ابي مليكة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا وهذا اصح . حدثنا هناد، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن عبد العزيز بن رفيع، عن ابن ابي مليكة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بمعناه وليس فيه عن ابن عباس وهكذا روى غير واحد عن عبد العزيز بن رفيع مثل هذا ليس فيه عن ابن عباس وهذا اصح من حديث ابي حمزة . وابو حمزة ثقة يمكن ان يكون الخطا من غير ابي حمزة . حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن عبد العزيز بن رفيع، عن ابن ابي مليكة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث ابي بكر بن عياش . وقال اكثر اهل العلم انما تكون الشفعة في الدور والارضين ولم يروا الشفعة في كل شيء . وقال بعض اهل العلم الشفعة في كل شيء . والقول الاول اصح
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক হারিয়ে যাওয়া জিনিস কুড়িয়ে পাওয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেনঃ এর ঘোষণা প্রদান করতে থাক এক বছর না হওয়া পর্যন্ত। তারপর তুমি এর ফিতা, থলে ও চামড়ার বাক্স এবং এর সংখ্যা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে রাখ। তারপর তুমি তা খরচ কর। এর মালিক যদি পরবর্তী কালে চলে আসে তাহলে এটা তাকে ফিরত দিয়ে দিও। লোকটি আবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হারিয়ে যাওয়া মেষের ক্ষেত্রে কি বিধান রয়েছে? তিনি বললেনঃ এটা ধরে রাখবে। কারণ এটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ে বাঘের। সে আবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হারানো উটের ক্ষেত্রে কি বিধান রয়েছে? বর্ণনাকারী বলেন, এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তেজিত হলেন, এমনকি তার দুই গাল বা মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ এতে তোমার মাথা ঘামানোর কি প্রয়োজন? এর সাথে এর খুর এবং পানীয় আছে, অবশেষে এটা (ঘুরতে ঘুরতে) তার মালিকের সাথে গিয়ে মিলিত হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫০৪), নাসা-ঈ যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস যাইদ (রাঃ) হতে আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে। যাইদ ইবনু খালিদের বরাতে ইয়াযীদ বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ। এটিও কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن يزيد، مولى المنبعث عن زيد بن خالد الجهني، ان رجلا، سال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اللقطة فقال " عرفها سنة ثم اعرف وكاءها ووعاءها وعفاصها ثم استنفق بها فان جاء ربها فادها اليه " . فقال له يا رسول الله فضالة الغنم فقال " خذها فانما هي لك او لاخيك او للذيب " . فقال يا رسول الله فضالة الابل قال فغضب النبي صلى الله عليه وسلم حتى احمرت وجنتاه او احمر وجهه فقال " ما لك ولها معها حذاوها وسقاوها حتى تلقى ربها " . حديث زيد بن خالد حديث حسن صحيح وقد روي عنه من غير وجه . وحديث يزيد مولى المنبعث عن زيد بن خالد حديث حسن صحيح وقد روي عنه من غير وجه . قال وفي الباب عن ابى بن كعب وعبد الله بن عمرو والجارود بن المعلى وعياض بن حمار وجرير بن عبد الله . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ورخصوا في اللقطة اذا عرفها سنة فلم يجد من يعرفها ان ينتفع بها . وهو قول الشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم يعرفها سنة فان جاء صاحبها والا تصدق بها . وهو قول سفيان الثوري وعبد الله بن المبارك وهو قول اهل الكوفة لم يروا لصاحب اللقطة ان ينتفع بها اذا كان غنيا . وقال الشافعي ينتفع بها وان كان غنيا لان ابى بن كعب اصاب على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم صرة فيها ماية دينار فامره رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يعرفها ثم ينتفع بها وكان ابى كثير المال من مياسير اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فامره النبي صلى الله عليه وسلم ان يعرفها فلم يجد من يعرفها فامره النبي صلى الله عليه وسلم ان ياكلها فلو كانت اللقطة لم تحل الا لمن تحل له الصدقة لم تحل لعلي بن ابي طالب لان علي بن ابي طالب اصاب دينارا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فعرفه فلم يجد من يعرفه فامره النبي صلى الله عليه وسلم باكله وكان لا يحل له الصدقة . وقد رخص بعض اهل العلم اذا كانت اللقطة يسيرة ان ينتفع بها ولا يعرفها . وقال بعضهم اذا كان دون دينار يعرفها قدر جمعة . وهو قول اسحاق بن ابراهيم
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন হারানো জিনিস প্রাপ্তি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ এক বছর না হওয়া পর্যন্ত এর ঘোষণা দিতে থাক। যদি সনাক্তকারী কোন লোক পাওয়া যায় তাহলে তাকে তা ফিরত দাও। এর ব্যতিক্রম হলে তুমি এর থলে ও থলের বন্ধনী সঠিকভাবে চিনে রাখ এবং এর মধ্যকার জিনিস গণনা করার পর কাজে ব্যবহার কর। তারপর মালিক এসে গেলে এটা তাকে ফিরিয়ে দিও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫০৭), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, উবাই ইবনু কাব, আবদুল্লাহ ইবনু উমার, জারূদ ইবনুল মুআল্লা, ইয়ায ইবনু হিমার ও জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান, সহীহ এবং গারীব। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ) এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটিকেই অনেক বেশি সহীহ বলেছেন। হাদীসটি যাইদ (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস মোতাবিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত ঘোষণার পরও মালিকের সন্ধান পাওয়া না গেলে তা নিজের কাজে প্রয়োগ করা যায় এই মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অন্য একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ বলেছেন, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর জন্য এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা প্রদান করতে হবে। এর মধ্যে মালিক এসে গেলে তাকে তা ফিরত দিতে হবে অন্যথায় সাদকা (দান) করে দিতে হবে। এই মত প্রদান করেছেন সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক ও কূফাবাসী আলিমগণও। তারা মনে করেন, যে লোক হারিয়ে যাওয়া জিনিস কুড়িয়ে পেয়েছে সে যদি সম্পদশালী হয় তবে এটাকে তার কাজে লাগানো বৈধ হবে না। ইমাম শাফিঈ মনে করেন, কুড়িয়ে পাওয়া লোকটি সম্পদশালী হলেও এটা তার কাজে লাগানো বৈধ। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) এক শত দীনারের একটি থলে পেয়েছিলেন। তিনি তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদকাল ধরে ঘোষণা দেওয়ার পরে এটা কাজে লাগানোর অনুমতি প্রদান করেন। অথচ তিনি একজন সম্পদশালী লোক ছিলেন। আলী (রাঃ)-ও একইভাবে একটি দীনার পেয়েছিলেন। এক বছর পর্যন্ত তিনি এর ঘোষণা করতে থাকেন, কিন্তু কোন লোকই এটার খোজ করল না। এটা কাজে ব্যবহারের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সম্মতি দেন। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস শুধুমাত্র সাদকা ভোগকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য হালাল না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে এটা কাজে ব্যবহারের জন্য সম্মতি প্রদান করতেন না। কেননা আলী (রাঃ)-এর জন্য সাদকার মাল ভোগ করা হারাম ছিল। কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সামান্য হলে তবে ঘোষণা ব্যতীতই তা ভোগ করাকে একদল আলিম জায়িয বলেছেন। আর অন্য একদল আলিম বলেছেন, এক দীনারের কম পরিমাণ সম্পদ কুড়িয়ে পেলে তবে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ঘোষণা করতে হবে। এই মতামতটি প্রদান করেছেন ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও।
। সুয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কোন এক সময়ে যাইদ ইবনু সূহান ও সালমান ইবনু রাবীআর সাথে যাত্রা করলাম। আমি রাস্তার মধ্যে একটি চামড়ার থলে পেলাম। ইবনু নুমাইরের বর্ণনায় আছেঃ রাস্তাতে পড়ে থাকা একটি চামড়ার থলে তুলে নিলাম। তারা উভয়ে বললেন, এটা রেখে দাও। আমি বললাম, হিংস্র জন্তুর খাবারের উদ্দেশ্যে আমি এটাকে হাতছাড়া করব না। অবশ্যই আমি এটাকে সাথে নিব এবং নিজের কাজে প্রয়োগ করব। তারপর আমি উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমি এ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করলাম এবং ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি বললেন, তুমি ভালই করেছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে একশত দীনারের একটি থলে পেয়েছিলাম। আমি সেটা সাথে নিয়ে তার কাছে এলে তিনি আমাকে বলেনঃ এটার পরিচয় সহকারে এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাক। আমি এক বছর পর্যন্ত এর জন্য ঘোষণা দিলাম, কিন্তু এর কোন সনাক্তকারী খুঁজে পাইনি। আমি তার নিকট আবার থলেটিকে আনলে তিনি বললেনঃ আরো এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাক। আমি আরো এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা প্রদান করলাম। তারপর আমি তার নিকট আসলে তিনি বললেনঃ আরো এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাক। (ঘোষণার সময় পেরিয়ে গেলে) তিনি বললেনঃ মুদ্রার সংখ্যা, থলে এবং এর মুখের বাধন সঠিকভাবে চিনে রাখ। যখন এর খোঁজকারী এসে তোমাকে দীনারের সংখ্যা এবং এর থলে ও মুখের বন্ধন সম্বন্ধে পরিচয় দিবে তখন এটা তাকে ফিরিয়ে দিবে। এরপরও যদি মালিক না পাওয়া যায় তাহলে তবে তুমি এটা নিজের প্রয়োজনে কাজে লাগিয়ে দাও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫০৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا عبد الله بن نمير، ويزيد بن هارون، عن سفيان الثوري، عن سلمة بن كهيل، عن سويد بن غفلة، قال خرجت مع زيد بن صوحان وسلمان بن ربيعة فوجدت سوطا قال ابن نمير في حديثه فالتقطت سوطا فاخذته قالا دعه . فقلت لا ادعه تاكله السباع لاخذنه فلاستمتعن به . فقدمت على ابى بن كعب فسالته عن ذلك وحدثته الحديث فقال احسنت انا وجدت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم صرة فيها ماية دينار . قال فاتيته بها فقال لي " عرفها حولا " . فعرفتها حولا فما اجد من يعرفها ثم اتيته بها فقال " عرفها حولا اخر " . فعرفتها ثم اتيته بها فقال " عرفها حولا اخر " . وقال " احص عدتها ووعاءها ووكاءها فان جاء طالبها فاخبرك بعدتها ووعايها ووكايها فادفعها اليه والا فاستمتع بها " . قال هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার (রাঃ) খাইবারের (গানীমাত হতে) এক খণ্ড জমি পেয়েছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি খাইবার এলাকাতে এমন এক খণ্ড জমি পেয়েছি যার তুলনায় উত্তম সম্পদ আমি আর কখনো লাভ করিনি। (এ প্রসঙ্গে) আমাকে আপনি কি আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ তুমি চাইলে মূল অংশ ঠিক রেখে লাভের অংশ দান-খাইরাত করতে পার। সুতরাং উমর (রাঃ) বমিটা এভাবে ওয়াকফ করলেনঃ মূল জমিখণ্ড বিক্রয় করা যাবে না, হেবাও করা যাবে না এবং উত্তরাধিকারদের মধ্যেও ভাগ-বাটোয়ারা হবে না। সেটার আয় হতে ফকীর-মিসকীন, আত্মীয়-স্বজন, ক্রীতদাস মুক্তকরণ, আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে), পথিক-মুসাফির এবং মেহমানদের খরচের জন্য ব্যয় করা হবে। যে লোক এর মুতাওয়াল্লী হবে সে ন্যায্যভাবে এর আয় হতে ভোগ করতে পারবে এবং বন্ধু-বান্ধবদেরকেও খাওয়াতে পারবে, কিন্তু জমা করে রাখতে পারবে না। (অধঃস্তন) বর্ণনাকারী বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু সীরনের নিকট এ হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, মুতাওয়াল্লী সম্পদশালী হওয়ার লক্ষ্যে এই ওয়াকফ মালের আয় জমা করে রাখতে পারবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৯৬), নাসা-ঈ ইবনু আওন বলেন, অন্য এক লোক আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এই ওয়াকফনামা লাল রঙ-এর চামড়ায় লিখিত আকারে পড়েছেন। তাতে এও লিখা ছিলঃ এ সম্পত্তিকে সম্পদশালী হওয়ার মাধ্যম বানানো যাবে না। ইসমাঈল বলেন, আমি ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু উমারের নিকট উক্ত ওয়াকফনামা পড়লাম। তাতেও লিখা ছিল, সম্পদশালী হওয়ার লক্ষ্যে তা হতে জমা করা যাবে না। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক সাহাবাই কিরাম এবং অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। জমিজমা বা অন্য কোন সম্পদ ওয়াকফ করা জায়িয। এ ব্যাপারে পূর্ববর্তী আলিমদের মধ্যে কোন রকম দ্বিমত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
حدثنا علي بن حجر، انبانا اسماعيل بن ابراهيم، عن ابن عون، عن نافع، عن ابن عمر، قال اصاب عمر ارضا بخيبر فقال يا رسول الله اصبت مالا بخيبر لم اصب مالا قط انفس عندي منه فما تامرني قال " ان شيت حبست اصلها وتصدقت بها " . فتصدق بها عمر انها لا يباع اصلها ولا يوهب ولا يورث تصدق بها في الفقراء والقربى وفي الرقاب وفي سبيل الله وابن السبيل والضيف لا جناح على من وليها ان ياكل منها بالمعروف او يطعم صديقا غير متمول فيه . قال فذكرته لمحمد بن سيرين فقال غير متاثل مالا . قال ابن عون فحدثني به رجل اخر انه قراها في قطعة اديم احمر غير متاثل مالا . قال اسماعيل وانا قراتها عند ابن عبيد الله بن عمر فكان فيه غير متاثل مالا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم لا نعلم بين المتقدمين منهم في ذلك اختلافا في اجازة وقف الارضين وغير ذلك
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে তার কাজ (কাজের সকল ক্ষমতা) ছিন্ন (বাতিল) হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি কাজের (সাওয়াব লাভ) বাতিল হয় নাঃ সাদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এমন সন্তান যে তার জন্য দুআ করে। সহীহ, আহকামুল জানায়িজ (১৭৬), ইরওয়া (১৯৮০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا مات الانسان انقطع عمله الا من ثلاث صدقة جارية وعلم ينتفع به وولد صالح يدعو له " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জন্তুর আঘাতে দণ্ড নেই, কূপে পড়াতে দণ্ড নেই, খনিতে দণ্ড নেই এবং রিকাযে এক-পঞ্চমাংশ (যাকাত) ধার্য হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫০৯, ২৬৭৩), নাসা-ঈ কুতাইবা-লাইস হতে, তিনি ইবনু শিহাব হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব আবূ সালামা হতে, তিনিও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। জাবির, আমর ইবনু আওফ ও উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ জন্তুর আঘাতে দণ্ড নেই, এ কথার মর্মার্থ এটাই যে, জন্তু-জানোয়ার কোন লোককে আহত করলে তার কোন কিসাস নেই এবং তার জন্য কোনরকম দিয়াত (রক্তপণ) প্রদান করতে হবে না। একদল আলিম আল-আজমা’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন, যে পশু মালিকের হাত হতে ছুটে পালায় এবং দৌড়ে যাওয়ার সময় কোন লোককে আহত করে তাকে ‘আজমা’ বলে। এজন্য মালিককে কোনরকম জরিমানা প্রদান করতে হবে না। খনিতে দণ্ড নেই কথার তাৎপর্য হল, খনিজ সম্পদ উত্তোলনের উদ্দেশ্যে কোন লোক গর্ত খুঁড়লে এবং তাতে শ্রমিক বা অন্য কোন লোক পড়ে গিয়ে আহত হলে বা মারা গেলে মালিকের কোনরকম জরিমানা ধার্য হবে না। একইভাবে পথচারীদের জন্য কোন লোক কৃপ খনন করলে এবং তাতে পড়ে গিয়ে যদি কোন লোক আহত হয় বা নিহত হয় তবে সেক্ষেত্রেও কোনরকম জরিমানা ধার্য হবে না। জাহিলী যুগে মাটির নীচে পুতে রাখা সম্পদকে রিকায বলা হয়। কোন লোক যদি এই সম্পদ পায় তবে এর এক-পঞ্চমাংশ সরকারী তহবিলে জমা করতে হবে এবং সে লোক বাকি অংশের মালিক হবে।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " العجماء جرحها جبار والبير جبار والمعدن جبار وفي الركاز الخمس " . حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وابي، سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . قال وفي الباب عن جابر وعمرو بن عوف المزني وعبادة بن الصامت . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . حدثنا الانصاري حدثنا معن قال اخبرنا مالك بن انس وتفسير حديث النبي صلى الله عليه وسلم " العجماء جرحها جبار " . يقول هدر لا دية فيه . قال ابو عيسى ومعنى قوله " العجماء جرحها جبار " . فسر ذلك بعض اهل العلم قالوا العجماء الدابة المنفلتة من صاحبها فما اصابت في انفلاتها فلا غرم على صاحبها . " والمعدن جبار " . يقول اذا احتفر الرجل معدنا فوقع فيها انسان فلا غرم عليه وكذلك البير اذا احتفرها الرجل للسبيل فوقع فيها انسان فلا غرم على صاحبها . " وفي الركاز الخمس " . والركاز ما وجد في دفن اهل الجاهلية . فمن وجد ركازا ادى منه الخمس الى السلطان وما بقي فهو له
। সাঈদ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পড়ে থাকা জমিকে (মালিকানাহীন জমিকে) যদি কোন লোক চাষাবাদযোগ্য করে তুলে তাহলে সে তার মালিক হবে। জবরদখলকারীর পরিশ্রমের কোন মূল্য নেই। সহীহ, ইরওয়া (১৫২০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটিকে কয়েকজন বর্ণনাকারী হিশামের বরাতে উরওয়ার নিকট হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যে লোক (মালিকানাহীন) পতিত জমি আবাদযোগ্য করে তুলে সে সরকারের বিনা অনুমতিতেই এর মালিক হয়ে যাবে। একথা বলেছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। তাদের মধ্যে অন্য থাকা জমি আবাদ করা বৈধ নয়। প্রথম মতই অনেক বেশি সহীহ। জাবির, আমর ইবনু আওফ আল-মুযানী ও সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن بشار، اخبرنا عبد الوهاب الثقفي، اخبرنا ايوب، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن سعيد بن زيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من احيى ارضا ميتة فهي له وليس لعرق ظالم حق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وقد رواه بعضهم عن هشام بن عروة عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . والعمل على هذا الحديث عند بعض اهل العلم وهو قول احمد واسحاق قالوا له ان يحيي الارض الموات بغير اذن السلطان . وقد قال بعضهم ليس له ان يحييها الا باذن السلطان . والقول الاول اصح . قال وفي الباب عن جابر وعمرو بن عوف المزني جد كثير وسمرة . حدثنا ابو موسى محمد بن المثنى قال سالت ابا الوليد الطيالسي عن قوله " وليس لعرق ظالم حق " . فقال العرق الظالم الغاصب الذي ياخذ ما ليس له . قلت هو الرجل الذي يغرس في ارض غيره قال هو ذاك
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পড়ে থাকা (মালিকানাহীন) জমিকে যদি কোন লোক আবাদ করে তাহলে সে তার মালিক হবে। সহীহ, ইরওয়া (১৫৫০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) বলেন, “জবরদখলকারীর পরিশ্রমের কোন মূল্য নেই" কথার তাৎপর্য প্রসঙ্গে আমি আবূল ওয়ালীদ আত-তাইয়ালিসী (রাহঃ)-এর কাছে প্রশ্ন করি। তিনি বলেন, ‘জবরদখলকারী হচ্ছে অবৈধভাবে আত্মসাৎকারী। আমি বললাম, অন্যের জমিতে যে লোক গাছ রোপন করে সেইকি জবরদখলকারী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, এ লোকই।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا ايوب، عن هشام بن عروة، عن وهب بن كيسان، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من احيا ارضا ميتة فهي له " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবইয়ায ইবনু হাম্মাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নিজ অংশের প্রতিনিধি হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাদেরকে লবণ খনি প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন। তিনি তাকে সেটা দান করেন। তিনি চলে যাওয়ার সময় মজলিসের এক লোক বলেন, আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, তাকে কি জায়গীর দিয়েছেন? আপনি প্রস্রবণের অফুরন্ত পানি (প্রচুর লবণ) তাকে প্রদান করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এটাকে তার নিকট হতে ফিরিয়ে নিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (আবইয়াদ) আরাক’ গাছের কোন জমি রক্ষিত করা যায় কি, এবিষয়েও তার নিকট জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেনঃ উটের ক্ষুর যার নাগাল পায় না (অর্থাৎ পশু চারণভূমি ও বসতি এলাকা হতে দূরের জায়গা)। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৪৭৫) আবূ ঈসা বলেন, কুতাইবাকে এই হাদীসটি পড়ে শুনালে তিনি তা সমর্থন করেন এবং বলেন, আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু কাইস আল-মারিবী এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মারিব ইয়ামান ইলাকার কোন জায়গার নাম। ওয়াইল ও আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবইয়ায (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা গরীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন সরকার যে কোন লোককে জায়গীর দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকার রাখে।
قال قلت لقتيبة بن سعيد حدثكم محمد بن يحيى بن قيس الماربي، حدثني ابي، عن ثمامة بن شراحيل، عن سمى بن قيس، عن شمير، عن ابيض بن حمال، انه وفد الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستقطعه الملح فقطع له فلما ان ولى قال رجل من المجلس اتدري ما قطعت له انما قطعت له الماء العد . قال فانتزعه منه . قال وساله عما يحمى من الاراك قال " ما لم تنله خفاف الابل " . فاقر به قتيبة وقال نعم . حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا محمد بن يحيى بن قيس الماربي، بهذا الاسناد نحوه . المارب ناحية من اليمن . قال وفي الباب عن وايل واسماء بنت ابي بكر . قال ابو عيسى حديث ابيض بن حمال حديث غريب . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في القطايع يرون جايزا ان يقطع الامام لمن راى ذلك
। আলকামা ইবনু ওয়াইল (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জায়গীর হিসাবে হাযরামাওতের এক খণ্ড জমি দান করেন। মাহমূদ বলেন, আমাদেরকে নাযর শুবার সূত্রে এ হাদীসটি শুনিয়েছেন। তিনি (শুবা) তার বর্ণনায় আরো উল্লেখ করেছেনঃ জমি নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য তিনি তার সাথে মুআবিয়া (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। সহীহ, তা’লীক আলা রাওযাতিন নাদীয়াহ (২/১৩৭) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، اخبرنا شعبة، عن سماك، قال سمعت علقمة بن وايل، يحدث عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم اقطعه ارضا بحضرموت . قال محمود واخبرنا النضر، عن شعبة، وزاد، فيه وبعث معه معاوية ليقطعها اياه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو بكر الحنفي، اخبرنا الضحاك بن عثمان، حدثني سالم ابو النضر، عن بسر بن سعيد، عن زيد بن خالد الجهني، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سيل عن اللقطة فقال " عرفها سنة فان اعترفت فادها والا فاعرف وعاءها وعفاصها ووكاءها وعددها ثم كلها فاذا جاء صاحبها فادها " . قال ابو عيسى حديث زيد بن خالد حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . قال احمد اصح شيء في هذا الباب هذا الحديث