Loading...

Loading...
বইসমূহ
৬৪ হাদিসসমূহ
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকম রায় প্রদান করেছেন যে, বিবাদীকে শপথ করতে হবে। সহীহ, ইরওয়া (২৬৪১), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ ও অন্যান্যরা আমল করার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে বাদীকে সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থিত করতে হবে এবং বিবাদীকে শপথ করতে হবে।
حدثنا محمد بن سهل بن عسكر البغدادي، حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا نافع بن عمر الجمحي، عن عبد الله بن ابي مليكة، عن ابن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى ان اليمين على المدعى عليه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان البينة على المدعي واليمين على المدعى عليه
। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একজন সাক্ষী ও শপথের উপর নির্ভর করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রায় প্রদান করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (৮/৩০০-৩০৫), তানকীল (২/১৫৬), রাওজুননাযীর (৯৮৬), মুসলিম (অধঃস্তন বর্ণনাকারী) রাবীআ বলেন, সা’দ ইবনু উবাদার এক ছেলে আমাকে জানিয়েছেন এবং বলেছেন, সাদের কিতাবে আমরা লিখিত অবস্থায় পেয়েছি যে, একজন সাক্ষী ও শপথের উপর নির্ভর করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রায় প্রদান করেছেন। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস আলী, জাবির, ইবনু আব্বাস ও সুররাক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর হাদিসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
حدثنا يعقوب بن ابراهيم الدورقي، حدثنا عبد العزيز بن محمد، قال حدثني ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم باليمين مع الشاهد الواحد . قال ربيعة واخبرني ابن لسعد بن عبادة قال وجدنا في كتاب سعد ان النبي صلى الله عليه وسلم قضى باليمين مع الشاهد . قال وفي الباب عن علي وجابر وابن عباس وسرق . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قضى باليمين مع الشاهد الواحد حديث حسن غريب
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একজন সাক্ষী ও শপথের উপর নির্ভর করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোকদ্দমার সমাধান করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস
حدثنا محمد بن بشار، ومحمد بن ابان، قالا حدثنا عبد الوهاب الثقفي، عن جعفر بن محمد، عن ابيه، عن جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قضى باليمين مع الشاهد
। জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষীর সাথে (তাকে) শপথের উপর নির্ভর করে মোকদ্দমার সমাধান করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তোমাদের মাঝে আলী (রাঃ)-ও এরকমভাবেই মোকদ্দমার সমাধান করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ সূত্রটিকে আবূ ঈসা অনেক বেশি সহীহ বলেছেন। একইভাবে এ হাদীসটিকে সুফিয়ান সাওরী-জাফর ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার বাবার সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয ইবনু আবূ সালামা ও ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম এই হাদীস জাফরের সূত্রে, তার পিতা হতে, আলী (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অন্যান্যদের মতে এ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। তাদের মতে অধিকার ও মাল সম্পর্কিত মোকদ্দমায় একজন সাক্ষী এবং শপথের উপর ভিত্তি করে ফায়সালা দেয়া জায়িয। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। তারা বলেছেন, শুধু অধিকার ও মাল সম্পর্কিত ব্যাপারেই একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে শপথের উপর ভিত্তি করে রায় দেয়া যাবে। শুধু একজন সাক্ষী ও শপথের উপর নির্ভর করে কোন মোকদ্দমার রায় প্রদান করাটা কিছু কূফাবাসী (হানাফী) ও অন্যদের মতে জায়িয নয়।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، حدثنا جعفر بن محمد، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم قضى باليمين مع الشاهد الواحد . قال وقضى بها علي فيكم . قال ابو عيسى وهذا اصح وهكذا روى سفيان الثوري عن جعفر بن محمد عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا . وروى عبد العزيز بن ابي سلمة ويحيى بن سليم هذا الحديث عن جعفر بن محمد عن ابيه عن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم راوا ان اليمين مع الشاهد الواحد جايز في الحقوق والاموال . وهو قول مالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق وقالوا لا يقضى باليمين مع الشاهد الواحد الا في الحقوق والاموال . ولم ير بعض اهل العلم من اهل الكوفة وغيرهم ان يقضى باليمين مع الشاهد الواحد
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শরীকানা গোলামের মালিকদের কোন মালিক যদি নিজের প্রাপ্য অংশকে মুক্ত করে দেয় এবং তার নিকট গোলামের ন্যায়সংগত মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে সে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে যাবে, অন্যথায় সে যেটুকু পরিমাণ মুক্ত করেছে সেটুকু পরিমাণই স্বাধীন হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫২৮), নাসা-ঈ আইয়ুব বলেন, নাফি কখনো বলেছেনঃ “অন্যথায় সে যেটুকু পরিমাণ মুক্ত করেছে সেটুকু পরিমাণ মুক্ত হবে”। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি সালিমও তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من اعتق نصيبا - او قال شقصا او قال شركا له في عبد فكان له من المال ما يبلغ ثمنه بقيمة العدل فهو عتيق والا فقد عتق منه ما عتق " . قال ايوب وربما قال نافع في هذا الحديث يعني فقد عتق منه ما عتق . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح وقد رواه سالم عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শরীকানা গোলামের ক্ষেত্রে কোন লোক তার নিজের অংশকে মুক্ত করে দিলে এবং তার নিকট গোলামটির মূল্যের সমপরিমাণ মাল থাকলে সে তার (মুক্তকারী মালিকের) মালের সাহায্যে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে। সহীহ, প্রাগুক্ত এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا بذلك الحسن بن علي الخلال الحلواني، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من اعتق نصيبا له في عبد فكان له من المال ما يبلغ ثمنه فهو عتيق من ماله " . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন শরীকানা গোলামের ক্ষেত্রে কোন লোক তার নিজের অংশকে মুক্ত করলে তাকে তার বাকি অংশটুকুও মুক্ত করে দিতে হবে- তার যদি সেরকম আর্থিক সামর্থ থাকে। তার আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে তবে ইনসাফের ভিত্তিতে তার ন্যায্য মূল্য ঠিক করতে হবে। তারপর সে যতটুকু পরিমাণে মুক্ত হতে পারেনি সেটুকু পরিমাণ মূল্য (কায়িক শ্রমের মাধ্যমে) পরিশোধের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু তাকে দিয়ে সামর্থ্যের বেশি কষ্টদায়ক কাজ করানো যাবে না। সহীহ, প্রাগুক্ত ইবনু মা-জাহ (২৫২৭), নাসা-ঈ আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সাঈদ ইবনু আবূ আরূবা হতেও এরকম বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবান ইবনু ইযায়ীদ কাতাদা হতে সাঈদ ইবনু আরুবার বর্ণনার মতই বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে শুবা কাতাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন কিন্তু এতে পরিশ্রম করানোর কথা উল্লেখ নেই। আলিমদের মধ্যে এ ধরণের গোলাম দিয়ে পরিশ্রম করানোর ব্যাপারে মতপার্থক্য আছে। একদল আলিমের মতে, মুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাকে দিয়ে পরিশ্রম করানো বৈধ। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণ। ইসহাকও এই মতের সমর্থক। অপর একটি দল বলেছেন, একজন ক্রীতদাসের যদি দুজন মালিক থাকে এবং একজন মালিক তার প্রাপ্য অংশকে মুক্ত করে দিলে তার (মুক্তকারীর) যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকে, তবে সে অন্য মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে এবং নিজের মালের পরিবর্তে তাকে মুক্ত করবে। তার যদি এরকম আর্থিক সামর্থ্য না থাকে তবে উক্ত গোলামের যেটুকু পরিমাণ মুক্ত করা হয়েছে সেটুকু পরিমাণ মুক্ত বলে গণ্য হবে। কিন্তু তাকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি অন্য মালিককে দেওয়ার মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার এ পদ্ধতিটি সঠিক নয়। আলিমগণের এই দল ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীসের সমর্থক। মাদীনার আলিমদেরও এই অভিমত। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এই মতের সমর্থক।
حدثنا علي بن خشرم، اخبرنا عيسى بن يونس، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن النضر بن انس، عن بشير بن نهيك، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من اعتق نصيبا - او قال شقصا في مملوك فخلاصه في ماله ان كان له مال فان لم يكن له مال قوم قيمة عدل ثم يستسعى في نصيب الذي لم يعتق غير مشقوق عليه " . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو . حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سعيد بن ابي عروبة، نحوه وقال " شقيصا " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . وهكذا روى ابان بن يزيد، عن قتادة، مثل رواية سعيد بن ابي عروبة . وروى شعبة، هذا الحديث عن قتادة، ولم يذكر فيه امر السعاية . واختلف اهل العلم في السعاية فراى بعض اهل العلم السعاية في هذا . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة وبه يقول اسحاق . وقد قال بعض اهل العلم اذا كان العبد بين الرجلين فاعتق احدهما نصيبه فان كان له مال غرم نصيب صاحبه وعتق العبد من ماله وان لم يكن له مال عتق من العبد ما عتق ولا يستسعى . وقالوا بما روي عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا قول اهل المدينة وبه يقول مالك بن انس والشافعي واحمد
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেছেনঃ জীবন-স্বত্ব প্রদান করা (আজীবনের জন্য কিছু দান করা) জায়িয, যে লোককে এটা প্রদান করা হবে তার জন্য অথবা (তিনি বলেন) তা তার উত্তরাধিকারগণের জন্য উত্তরাধিকার স্বত্ব হিসাবে গণ্য। সহীহ, মুসলিম (৫/৬৯,৭০), জাবির ও আবূ হুরাইরাহ হতে। যাইদ ইবনু সাবিত, জাবির, আবু হুরায়রা, আইশা, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর ও মুআবিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن سعيد، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال " العمرى جايزة لاهلها او ميراث لاهلها " . قال وفي الباب عن زيد بن ثابت وجابر وابي هريرة وعايشة وابن الزبير ومعاوية
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোককে জীবন-স্বত্ব প্রদান করা হলে সেটা তার এবং তার উত্তরাধিকারীদের জন্য। যে লোককে তা প্রদান করা হয়েছে উহা তার জন্যই, তা দাতার দিকে ফিরে আসবে না। কেননা সে এমন দান করেছে যার উপর দান গ্রহীতার উত্তরাধিকার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৮০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটি মামার এবং আরও অনেকে যুহরী হতে মালিকের বর্ণনার মতই বর্ণনা করেছেন। কেহ কেহ যুহরী হতে বর্ণনা করেছেন তবে “ওয়ালিআকিবিহি” (তার উত্তরাধিকারীদের জন্য) শব্দের উল্লেখ নেই। জাবির (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন, “জীবন স্বত্ব জায়িয যে লোককে প্রদান করা হয়েছে তার জন্য। এই বর্ণনায় “লিআকিবিহী” শব্দের উল্লেখ নেই। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। তারা বলেন, কোন লোক যখন বলে, এটা তোমার জন্য তোমার সারা জীবনের জন্য এবং তোমার পরবর্তীদের জন্য, তখন তা গ্রহীতার মালিকানায় এসে যায়। জীবন-স্বত্ব প্রদানকারীর মালিকানায় তা আর ফিরে যায় না। যদি সে একথা না বলেঃ এটা তোমার পরবর্তীদের জন্যও, তবে এক্ষেত্রে গ্রহীতার মারা যাবার পর তা দাতার মালিকানায় এসে পরবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ। কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "জীবন-স্বত্ব জায়িয-এটা যে লোককে প্রদান করা হয়েছে তার"। এ বর্ণনায় “লিআকিবিহি” শব্দের উল্লেখ নেই। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যে লোককে জীবন-স্বত্ব প্রদান করা হয়েছে তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ এর মালিক হবে, জীবন-স্বত্ব প্রদানকারী- এটা তোমার পরবর্তীদের জন্যও -এ কথা না বলে থাকলেও। সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাকেরও এই অভিমত।
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة، عن جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ايما رجل اعمر عمرى له ولعقبه فانها للذي يعطاها لا ترجع الى الذي اعطاها لانه اعطى عطاء وقعت فيه المواريث " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وهكذا روى معمر وغير واحد عن الزهري مثل رواية مالك . وروى بعضهم عن الزهري ولم يذكر فيه " ولعقبه " . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم قالوا اذا قال هي لك حياتك ولعقبك . فانها لمن اعمرها لا ترجع الى الاول . واذا لم يقل لعقبك فهي راجعة الى الاول اذا مات المعمر . وهو قول مالك بن انس والشافعي . وروي من غير وجه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " العمرى جايزة لاهلها " . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم قالوا اذا مات المعمر فهي لورثته وان لم تجعل لعقبه . وهو قول سفيان الثوري واحمد واسحاق
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে জীবন-স্বত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা তার জন্য হালাল। যে ব্যক্তিকে রুকবা দেওয়া হয়েছে সেটা তার জন্য হালাল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৮৩), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এটা জাবির (রাঃ) হতে অন্য একটি সূত্রে মাওকৃফভাবেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী একদল আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে জীবন-স্বত্বের মতো রুকবাও জায়িয। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। জীবন-স্বত্ব ও রুকবার মধ্যে কূফার একদল আলিম পার্থক্য সৃষ্টি করেছেন। জীবন-স্বত্ব তারা জায়িয ভাবলেও রুকবা জায়িয হিসেবে মনে করেন না। আবূ ঈসা বলেন রুকবার ব্যাখ্যা এই যেঃ দাতা (গ্রহণকারীকে) বলল, তোমার জীবিত থাকাকাল পর্যন্ত এটা তোমার। আমার পূর্বেই তুমি মৃত্যু বরণ করলে তবে পুনরায় আমি এর মালিক হয়ে যাব (আর তোমার পূর্বে আমি মৃত্যুবরণ করলে তা তোমার অধিনেই রয়ে যাবে)। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেনঃ রুকবা হচ্ছে জীবন-স্বত্বের মতই। যে লোককে এটা প্রদান করা হয় শুধুমাত্র সে-ই এর মালিক। গ্রহীতার মৃত্যুর পর তা দাতার নিকট ফিরে আসবে না।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، عن داود بن ابي هند، عن ابي الزبير، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " العمرى جايزة لاهلها والرقبى جايزة لاهلها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد رواه بعضهم عن ابي الزبير بهذا الاسناد عن جابر موقوفا ولم يرفعه . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ان الرقبى جايزة مثل العمرى . وهو قول احمد واسحاق . وفرق بعض اهل العلم من اهل الكوفة وغيرهم بين العمرى والرقبى فاجازوا العمرى ولم يجيزوا الرقبى . قال ابو عيسى وتفسير الرقبى ان يقول هذا الشىء لك ما عشت فان مت قبلي فهي راجعة الى . وقال احمد واسحاق الرقبى مثل العمرى وهي لمن اعطيها ولا ترجع الى الاول
। কাসীর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আওফ (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের একে অপরের সাথে সন্ধি স্থাপন করা জায়িয। কিন্তু বৈধকে অবৈধ অথবা অবৈধকে বৈধ করার মত সন্ধি চুক্তি জায়িয নেই। মুসলিমগণ তাদের একে অপরের মধ্যে স্থিরকৃত শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করার মত শর্ত বৈধ নয় (তা বাতিল বলে গণ্য হবে)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৫৩) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا ابو عامر العقدي، حدثنا كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف المزني، عن ابيه، عن جده، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الصلح جايز بين المسلمين الا صلحا حرم حلالا او احل حراما والمسلمون على شروطهم الا شرطا حرم حلالا او احل حراما " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন লোকের নিকট যদি তার প্রতিবেশী তার (ঘরের) দেয়ালের সাথে কড়িকাঠ স্থাপনের সম্মতি চায় তবে সে যেন তাকে বারণ না করে। এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করলে লোকেরা তাদের মাথা অবনমিত করে। তিনি তখন বললেন, কি ব্যাপার! আমি তোমাদেরকে এ হতে বিমুখ হতে দেখছি কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তা তোমাদের কাধের উপর ছুড়ে মারবো। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৩৫), নাসা-ঈ ইবনু আব্বাস ও মুজাম্মি’ ইবনু জারিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। ইমাম শাফিঈও এমন কথা বলেছেন। অন্য একদল আলিম বলেছেন, কোন লোকের দেয়ালে তার প্রতিবেশী কড়িকাঠ স্থাপনের ইচ্ছা করলে সেটাতে তার বাধা প্রদানের অধিকার আছে। ইমাম মালিকেরও এই অভিমত। কিন্তু প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا سعيد بن عبد الرحمن المخزومي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال سمعته يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا استاذن احدكم جاره ان يغرز خشبة في جداره فلا يمنعه " . فلما حدث ابو هريرة طاطيوا رءوسهم فقال ما لي اراكم عنها معرضين والله لارمين بها بين اكتافكم . قال وفي الباب عن ابن عباس ومجمع بن جارية . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم وبه يقول الشافعي . وروي عن بعض اهل العلم منهم مالك بن انس قالوا له ان يمنع جاره ان يضع خشبه في جداره . والقول الاول اصح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এরকমভাবে শপথ করতে হবে যাতে করে তোমার সাখী (প্রতিপক্ষ) তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১২১), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এটিকে শুধু উপরোক্ত (হুশাইম-আবদুল্লাহ) সূত্রেই জেনেছি। আব্দুল্লাহ ইবনু আবী সালিহ, সুহাইল ইবনু আবী সালিহের ভাই। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। একই কথা বলেছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, যে লোক শপথ করতে বাধ্য করে সে যদি অত্যাচারী হয় তাহলে এক্ষেত্রে শপথকারীর নিয়্যাতই নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অপরদিকে যে লোক শপথ করায় সে লোক যদি অত্যাচারিত হয় তবে তার নিয়্যাতই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
حدثنا قتيبة، واحمد بن منيع، - المعنى واحد - قالا حدثنا هشيم، عن عبد الله بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اليمين على ما يصدقك به صاحبك " . وقال قتيبة " على ما صدقك عليه صاحبك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث هشيم عن عبد الله بن ابي صالح . وعبد الله بن ابي صالح هو اخو سهيل بن ابي صالح . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم وبه يقول احمد واسحاق . وروي عن ابراهيم النخعي انه قال اذا كان المستحلف ظالما فالنية نية الحالف واذا كان المستحلف مظلوما فالنية نية الذي استحلف
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাত হাত প্রশস্ত করে রাস্তা তৈরী কর। সহিহ ইবনু মা-জাহ
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن المثنى بن سعيد الضبعي، عن قتادة، عن بشير بن نهيك، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اجعلوا الطريق سبعة اذرع
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাস্তার ব্যাপারে তোমাদের মতভেদ হলে তা সাত হাত পরিমাণ (প্রশস্ত) কর। সহীহ, বুখারী (২৪৭৩), এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা ওয়াকীর হাদীসের চেয়ে অনেক বেশি সহীহ বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বুশাইর ইবনু কাব আল-আদাবী (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উক্ত হাদীসটি অন্য একটি সূত্রেও কেউ কেউ কাতাদা হতে, তিনি বাশীর ইবনু নাহীক হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এর সনদ সুরক্ষিত নয়।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا المثنى بن سعيد، عن قتادة، عن بشير بن كعب العدوي، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا تشاجرتم في الطريق فاجعلوه سبعة اذرع " . قال ابو عيسى وهذا اصح من حديث وكيع . قال وفي الباب عن ابن عباس . قال ابو عيسى حديث بشير بن كعب العدوي عن ابي هريرة حديث حسن صحيح . وروى بعضهم هذا عن قتادة عن بشير بن نهيك عن ابي هريرة . وهو غير محفوظ
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছেলেকে তার আব্বা ও আম্মা উভয়ের যে কোন একজনকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রদান করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৫১) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল হামীদ ইবনু জাফরের দাদা হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ মাইমুনার নাম সুলাইম। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী একদল আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, আব্বা-আম্মার মধ্যে যদি সন্তানকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার সৃষ্টি হয় তবে সন্তানকে স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে। সে যাকে পছন্দ করবে তার সাথে থাকবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকেরও এই মত। তারা উভয়ে বলেছেন, সন্তান ছোট হলে তার লালন-পালনের জন্যে মাই বেশি হাকদার। সে যখন সাত বছরে পৌছাবে তখন তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে (সে যার সাথে থাকার ইচ্ছা করবে তার সাথে থাকবে)। হিলাল ইবনু আবূ মাইমূনার আব্বা আলী এবং দাদা উসামা। তিনি মাদীনার অধিবাসী। ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর, মালিক ইবনু আনাস ও ফুলাইহ ইবনু সুলাইমান তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا نصر بن علي، حدثنا سفيان، عن زياد بن سعد، عن هلال بن ابي ميمونة الثعلبي، عن ابي ميمونة، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم خير غلاما بين ابيه وامه . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وجد عبد الحميد بن جعفر . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . وابو ميمونة اسمه سليم . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم قالوا يخير الغلام بين ابويه اذا وقعت بينهما المنازعة في الولد . وهو قول احمد واسحاق وقالا ما كان الولد صغيرا فالام احق فاذا بلغ الغلام سبع سنين خير بين ابويه . هلال بن ابي ميمونة هو هلال بن علي بن اسامة وهو مدني وقد روى عنه يحيى بن ابي كثير ومالك بن انس وفليح بن سليمان
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের নিজেদের উপার্জনই সর্বোত্তম জীবিকা। তোমাদের সন্তানগণও তোমাদের নিজস্ব উপার্জন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৩৭) জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি কোন কোন বর্ণনাকারী উমারা ইবনু উমাইর-তার মাতার সূত্ৰে-আইশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই মাতার পরিবর্তে ফুফু বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, পিতার হাত সন্তানের সম্পদের উপর সম্প্রসারিত। সে যতটুকু ইচ্ছা তা হতে নিতে পারে। তাদের অন্য এক দল বলেছেন, পিতা যেন শুধু প্রয়োজনের সময়ই সন্তানের সম্পদ হতে নেয়। প্রয়োজন ব্যতীত সে তার মালে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يحيى بن زكريا بن ابي زايدة، حدثنا الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن عمته، عن عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان اطيب ما اكلتم من كسبكم وان اولادكم من كسبكم " . قال وفي الباب عن جابر وعبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روى بعضهم هذا عن عمارة بن عمير عن امه عن عايشة . واكثرهم قالوا عن عمته عن عايشة . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم قالوا ان يد الوالد مبسوطة في مال ولده ياخذ ما شاء . وقال بعضهم لا ياخذ من ماله الا عند الحاجة اليه
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন স্ত্রী তাকে একটি বাটিতে কিছু খাবার পাঠান। আইশা (রাঃ) নিজের হাত দিয়ে বাটিতে আঘাত করে খাবারগুলো ফেলে দেন এবং বাটিও ভেঙ্গে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খাদ্যের জন্য খাবার এবং বাটির জন্য একটি বাটি প্রদান করতে হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৩৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود الحفري، عن سفيان الثوري، عن حميد، عن انس، قال اهدت بعض ازواج النبي صلى الله عليه وسلم الى النبي صلى الله عليه وسلم طعاما في قصعة فضربت عايشة القصعة بيدها فالقت ما فيها فقال النبي صلى الله عليه وسلم " طعام بطعام واناء باناء " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাটি ধার করে এনেছিলেন। তারপর সেটা ভেঙ্গে গেল (অথবা হারিয়ে গেল)। তিনি বাটির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। সনদ খুবই দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। আমার ধারণামতে সুআইদ পূর্বোক্ত সাওরী বর্ণিত হাদীসটিই বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন (কিন্তু সেটা সম্পূর্ণভাবে তার মনে ছিল না তাই তিনি এই হাদীসটি মিলিয়ে ঝুলিয়ে বর্ণনা করেছেন)। এ ক্ষেত্রে সুফিয়ান সাওরীর হাদীসটিই অনেক বেশী সহীহ। আবূ দাউদের নাম উমার, পিতার নাম সাদ।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا سويد بن عبد العزيز، عن حميد، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم استعار قصعة فضاعت فضمنها لهم . قال ابو عيسى وهذا حديث غير محفوظ . وانما اراد عندي سويد الحديث الذي رواه الثوري وحديث الثوري اصح . اسم ابي داود عمر بن سعد
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে কোন এক সামরিক অভিযানে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাযির করা হয়। তখন আমার বয়স ছিল চৌদ বছর। তিনি আমাকে (সৈনিক হিসাবে) গ্রহণ করেননি। এর পরের বছর এক সামরিক অভিযানে যাওয়ার সময় আমাকে আবার তার সামনে হাযির করা হয়। তখন আমার বয়স ছিল পনের বছর। এবার তিনি আমাকে সেনাবাহিনীতে নিয়ে নিলেন। নাফি (রাহঃ) বলেন, আমি এ হাদীসটি উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেনঃ এটাই হল নাবালেগ ও বালেগের মধ্যকার বয়সসীমা। তারপর তিনি লিখিত নির্দেশ প্রদান করলেন- যে পনের বছর বয়সে পৌছেছে তার ভাতা নির্ধারণের জন্য। সহীহ, বুখারী (২৬৬৪, ৬/৩০) ইবনু উমার হতে, তিনি নাফি হতে এই সূত্রেও ইবনু উমর (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরের হাদীসের মত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ কথাটুকু এই সূত্রে উল্লেখ নেইঃ উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) লিখে পাঠালেন, এটাই বালেগ ও নাবালেগের মধ্যকার বয়সসীমা। একথাই ইবনু উআইনা তার হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করেছেনঃ আমি এ হাদীসটিকে উমার ইবনু আবদুল আযীযের সামনে বর্ণনা করলে তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে নাবালেগ ও সৈনিকের মধ্যে বয়সসীমা।এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। এরকম মতই সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। তাদের মতে, নাবালেগ সন্তান পনের বছরে পৌছার সাথে সাথে বালেগদের মধ্যে গণ্য হবে। পনের বছরের পূর্বেই যদি স্বপ্লদোষ হয় তবে সে বলেগ বলে গণ্য হবে। আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, বালেগ হওয়ার জন্য তিনটি বিকল্প নিদর্শন রয়েছে, পনের বছর বয়স হওয়া; ইহতিলাম (বীর্যপাত) হওয়া; যদি এরকম হয় যে, বয়সও অনুমান করা যাচ্ছে না আবার ইহতিলামও হয় না এক্ষেত্রে লজ্জাস্থানে লোম গজানোকে ধরে নিতে হবে।
حدثنا محمد بن وزير الواسطي، حدثنا اسحاق بن يوسف الازرق، عن سفيان، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، قال عرضت على رسول الله صلى الله عليه وسلم في جيش وانا ابن اربع عشرة فلم يقبلني فعرضت عليه من قابل في جيش وانا ابن خمس عشرة فقبلني . قال نافع وحدثت بهذا الحديث عمر بن عبد العزيز فقال هذا حد ما بين الصغير والكبير . ثم كتب ان يفرض لمن يبلغ الخمس عشرة . حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا ولم يذكر فيه ان عمر بن عبد العزيز كتب ان هذا حد ما بين الصغير والكبير . وذكر ابن عيينة في حديثه . قال نافع فحدثنا به عمر بن عبد العزيز فقال هذا حد ما بين الذرية والمقاتلة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم وبه يقول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق يرون ان الغلام اذا استكمل خمس عشرة سنة فحكمه حكم الرجال وان احتلم قبل خمس عشرة فحكمه حكم الرجال . وقال احمد واسحاق البلوغ ثلاثة منازل بلوغ خمس عشرة او الاحتلام فان لم يعرف سنه ولا احتلامه فالانبات يعني العانة