Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৭৭ হাদিসসমূহ
। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া‘মুর ও হুমাইদ ইবনু আব্দুর রাহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, একদা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে তাকদীর ও এ বিষয়ে সমালোচনাকারীদের বক্তব্যও তুলে ধরি। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো রয়েছেঃ তিনি বলেন, মুজাইনাহ ও যুহাইনাহ গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা করি তা কি পূর্ব নির্ধারিত অনুযায়ী করি, না স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে থাকে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমাদের আমল পূর্ব-নির্ধারিত। তখন লোকটি বা উপস্থিত লোকদের কেউ বললো, তাহলে আমাদের আমলের মূল্য কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ জান্নাতীদের জন্য জান্নাতের উপযোগী আমল করা সহজ করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামীদের জন্য জাহান্নামের উপযোগী আমল সহজ করে দেয়া হয়।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عثمان بن غياث، قال حدثني عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، وحميد بن عبد الرحمن، قال لقينا عبد الله بن عمر فذكرنا له القدر وما يقولون فيه فذكر نحوه زاد قال وساله رجل من مزينة او جهينة فقال يا رسول الله فيما نعمل افي شىء قد خلا او مضى او شىء يستانف الان قال " في شىء قد خلا ومضى " . فقال الرجل او بعض القوم ففيم العمل قال " ان اهل الجنة ييسرون لعمل اهل الجنة وان اهل النار ييسرون لعمل اهل النار
। ইবনু ইয়া‘মুর (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস কিছু কম-বেশী বক্তব্যসহ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বললেন, ইসলামী কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, বাইতুল্লাহর হজ (হজ্জ) করা, রামযান মাসের সাওম রাখা এবং জানাবাতের গোসল করা। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আলকামাহ ইবনু মারসাদ হলেন মুরযিয়া সম্প্রদায়ের ভুক্ত।[1] সহীহ।
حدثنا محمود بن خالد، حدثنا الفريابي، عن سفيان، قال حدثنا علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابن يعمر، بهذا الحديث يزيد وينقص قال فما الاسلام قال " اقام الصلاة وايتاء الزكاة وحج البيت وصوم شهر رمضان والاغتسال من الجنابة " . قال ابو داود علقمة مرجي
। আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সাধারণত সাহাবীদের মধ্যেই বসতেন। ফলে কোনো পরিচিত ব্যক্তি আসলে প্রশ্ন না করা পর্যন্ত বলতে পারতেন না যে, কোন ব্যক্তিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবেদন করলাম যে, আমরা তাঁর জন্য একটা বিশেষ স্থান নির্দিষ্ট করব যেন আগন্তুকরা দেখেই তাঁকে চিনতে পারে। বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং আমরা তাঁর জন্য মাটি দিয়ে একটি বসার স্থান বানালাম এবং তিনি তার উপর বসলেন আর আমরা তাঁর নিকটে বসলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলো। বর্ণনাকারী তার দৈহিক গঠনেরও বর্ণনা দিলেন। সে উপস্থিত জনতার এক প্রান্ত থেকে সালাম দিলো। সে বললো, হে মুহাম্মাদ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিলেন।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن ابي فروة الهمداني، عن ابي زرعة بن عمرو بن جرير، عن ابي ذر، وابي، هريرة قالا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجلس بين ظهرى اصحابه فيجيء الغريب فلا يدري ايهم هو حتى يسال فطلبنا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نجعل له مجلسا يعرفه الغريب اذا اتاه - قال - فبنينا له دكانا من طين فجلس عليه وكنا نجلس بجنبتيه وذكر نحو هذا الخبر فاقبل رجل فذكر هييته حتى سلم من طرف السماط فقال السلام عليك يا محمد . قال فرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم
। আবূ ‘আব্দুল্লাহ ইবনুদ দায়লামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে বললাম, তাকদীর সম্পর্কে আমার মনে একটা দ্বিধার উদ্রেক হয়েছে। তাই আপনি আমাকে এমন কিছু বলুন যার বিনিময়ে আশা করি মহান আল্লাহ আমার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করবেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ তাঁর আসমান ও পৃথিবাসী সকলকে শাস্তি দিতে পারেন। তারপরও তিনি তাদের প্রতি অন্যায়কারী সাব্যস্ত হবেন না। পক্ষান্তরে তিনি যদি তাদের সকলকে দয়া করেন তাহলে তাঁর এ দয়া তাদের জন্য তাদের নেক আমল থেকে উত্তম হবে। সুতরাং যদি তুমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর পথে দান করো আর তাকদীরে বিশ্বাস না রাখো, তবে তা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না তুমি পুনরায় তাকদীরে বিশ্বাস করবে এবং উপলদ্ধি করবে যে, যা তোমার ঘটেছে তা ভুলেও তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিলো না। আর এ বিশ্বাস ছাড়া তুমি মারা গেলে জাহান্নামে যাবে। ইবনুদ দায়লামী বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্ধৃতি দিয়ে একই কথা বলেন।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن ابي سنان، عن وهب بن خالد الحمصي، عن ابن الديلمي، قال اتيت ابى بن كعب فقلت له وقع في نفسي شىء من القدر فحدثني بشىء لعل الله ان يذهبه من قلبي . فقال لو ان الله عذب اهل سمواته واهل ارضه عذبهم وهو غير ظالم لهم ولو رحمهم كانت رحمته خيرا لهم من اعمالهم ولو انفقت مثل احد ذهبا في سبيل الله ما قبله الله منك حتى تومن بالقدر وتعلم ان ما اصابك لم يكن ليخطيك وان ما اخطاك لم يكن ليصيبك ولو مت على غير هذا لدخلت النار . قال ثم اتيت عبد الله بن مسعود فقال مثل ذلك - قال - ثم اتيت حذيفة بن اليمان فقال مثل ذلك - قال - ثم اتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك
। আবূ হাফসাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) তার ছেলেকে বললেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পাবে না যতক্ষণ না তুমি জানতে পারবে ‘‘যা তোমার উপর ঘটেছে তা ভুলেও এড়িয়ে যাওয়ার ছিলো না। পক্ষান্তরে, যা এড়িয়ে গেছে তা তোমার উপর ভুলেও ঘটবার ছিলো না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তু সৃষ্টি করেছেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, লিখো! কলম বললো, হে রব! কি লখবো? তিনি বললেন, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুর তাকদীর লিখো। হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস ছাড়া মারা যায় সে আমার (উম্মাতের) নয়।[1] সহীহ।
حدثنا جعفر بن مسافر الهذلي، حدثنا يحيى بن حسان، حدثنا الوليد بن رباح، عن ابراهيم بن ابي عبلة، عن ابي حفصة، قال قال عبادة بن الصامت لابنه يا بنى انك لن تجد طعم حقيقة الايمان حتى تعلم ان ما اصابك لم يكن ليخطيك وما اخطاك لم يكن ليصيبك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان اول ما خلق الله القلم فقال له اكتب . قال رب وماذا اكتب قال اكتب مقادير كل شىء حتى تقوم الساعة " . يا بنى اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من مات على غير هذا فليس مني
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পর বিতর্কে প্রবৃত্ত হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত ও বিতাড়িত করেছেন। আদম (আঃ) বললেন, তুমি তো সেই মূসা, আল্লাহ তোমাকে তাঁর কালামের জন্য মনোনীত করেছেন এবং নিজ হাতে তোমার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন। তুমি আমাকে এমন একটি কাজের জন্য তিরস্কার করছো যা আমি করবো বলে আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর পূর্বে তিনি সিদ্ধান্ত করে রেখেছেন। অতএব এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হলেন।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا سفيان، ح وحدثنا احمد بن صالح، - المعنى - قال حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، سمع طاوسا، يقول سمعت ابا هريرة، يخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " احتج ادم وموسى فقال موسى يا ادم انت ابونا خيبتنا واخرجتنا من الجنة . فقال ادم انت موسى اصطفاك الله بكلامه وخط لك التوراة بيده تلومني على امر قدره على قبل ان يخلقني باربعين سنة فحج ادم موسى " . قال احمد بن صالح عن عمرو عن طاوس سمع ابا هريرة
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! যে আদম (আঃ) আমাদেরকে ও তাঁর নিজেকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেছেন, তাঁকে আমি দেখতে চাই। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে আদম (আঃ)-কে দেখালেন। তিনি বললেন, আপনিই আমাদের পিতা আদম (আঃ)? আদম (আঃ) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বললেন, আপনি সেই মহান ব্যক্তি যাঁর মধ্যে মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে রূহ সঞ্চার করেছেন এবং আপনাকে সকল কিছুর নাম শিখিয়েছেন, আর ফিরিশতাদেরকে হুকুম দিলে তারা আপনাকে সিজদা করেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় বললেন, আমাদেরকে ও আপনার নিজেকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করার জন্য আপনাকে কোন বস্তু উদ্ধুদ্ধ করেছিল? এবার তাঁকে আদম (আঃ) বললেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি মূসা (আঃ)। তিনি বললেন, তুমি বনী ইসরাঈলের এমন একজন নবী যাঁর সাথে আল্লাহ পর্দার অন্তরাল থেকে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তোমার ও তাঁর মাঝে সৃষ্টি জগতের কাউকে বার্তাবহক হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কি আল্লাহর কিতাবে দেখতে পাওনি যে, সেটি নির্ধারিত ছিলো আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যে বিষয়ে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত আমার পূর্ব থেকেই লিপিবদ্ধ সে ব্যাপারে আমাকে কেন অভিযুক্ত করছো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুতরাং এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।[1] হাসান।
حدثنا احمد بن صالح، قال حدثنا ابن وهب، قال اخبرني هشام بن سعد، عن زيد بن اسلم، عن ابيه، ان عمر بن الخطاب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان موسى قال يا رب ارنا ادم الذي اخرجنا ونفسه من الجنة فاراه الله ادم فقال انت ابونا ادم فقال له ادم نعم . قال انت الذي نفخ الله فيك من روحه وعلمك الاسماء كلها وامر الملايكة فسجدوا لك قال نعم . قال فما حملك على ان اخرجتنا ونفسك من الجنة فقال له ادم ومن انت قال انا موسى . قال انت نبي بني اسراييل الذي كلمك الله من وراء الحجاب لم يجعل بينك وبينه رسولا من خلقه قال نعم . قال افما وجدت ان ذلك كان في كتاب الله قبل ان اخلق قال نعم . قال ففيم تلومني في شىء سبق من الله تعالى فيه القضاء قبلي " . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك " فحج ادم موسى فحج ادم موسى
। মুসলিম ইবনু ইয়াসার আল-জুহানী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলোঃ ‘‘যখন তোমার রব আদম সন্তানের পিঠ থেকে তাদের সমস্ত সন্তানদেরকে বের করলেন...’’ (সূরা আল-আ‘রাফঃ ১৭২)। বর্ণনাকারী বলেন, আল-কা‘নবী এ আয়াত পড়েছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর স্বীয় ডান হাতে তাঁর পিঠ বুলিয়ে তা থেকে তাঁর একদল সন্তান বের করে বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতবাসীর উপযোগী কাজই করবে। অতঃপর আবার তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে একদল সন্তান বেরিয়ে এনে বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং জাহান্নামীদের উপযোগী কাজই করবে। একথা শুনে এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের কি মূল্য রইলো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতবাসীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষে সে জান্নাতীদের কাজ করেই মারা যায়। আর আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজ করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করে মারা যায়। অতঃপর এজন্য তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।[1] সহীহ, পিঠ বুলানো কথাটি বাদে।
حدثنا عبد الله القعنبي، عن مالك، عن زيد بن ابي انيسة، ان عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، اخبره عن مسلم بن يسار الجهني، ان عمر بن الخطاب، سيل عن هذه الاية، { واذ اخذ ربك من بني ادم من ظهورهم } قال قرا القعنبي الاية . فقال عمر سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سيل عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله عز وجل خلق ادم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هولاء للجنة وبعمل اهل الجنة يعملون ثم مسح ظهره فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هولاء للنار وبعمل اهل النار يعملون " . فقال رجل يا رسول الله ففيم العمل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله عز وجل اذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل اهل الجنة حتى يموت على عمل من اعمال اهل الجنة فيدخله به الجنة واذا خلق العبد للنار استعمله بعمل اهل النار حتى يموت على عمل من اعمال اهل النار فيدخله به النار
। নু‘আইম ইবনু রবী‘আহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে ইমাম মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ।[1] আমি এটি সহীহ এবং যঈফেও পাইনি।
حدثنا محمد بن المصفى، حدثنا بقية، قال حدثني عمر بن جعثم القرشي، قال حدثني زيد بن ابي انيسة، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن، عن مسلم بن يسار، عن نعيم بن ربيعة، قال كنت عند عمر بن الخطاب بهذا الحديث وحديث مالك اتم
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ছেলেটিকে খাদির (খিযির) হত্যা করেছিলেন, তাকে কাফির হিসেবেই সীলমোহর করা হয়েছিল। সে বেঁচে থাকলে তার পিতা-মাতাকে সীমালঙ্ঘন ও কুফরীর দ্বারা বিব্রত করতো।[1] সহীহ।
حدثنا القعنبي، حدثنا المعتمر، عن ابيه، عن رقبة بن مصقلة، عن ابي اسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، عن ابى بن كعب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الغلام الذي قتله الخضر طبع كافرا ولو عاش لارهق ابويه طغيانا وكفرا
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছিঃ ‘‘আর কিশোরটি, যার মাতা-পিতা ছিলো মু‘মিন’’ (সূরা কাহফঃ ৮০), যেদিন মোহর মারা হয়েছিল সেদিন তাকে কাফির হিসেবেই সীলমোহর মারা হয়েছিল।[1] সহীহ।
حدثنا محمود بن خالد، حدثنا الفريابي، عن اسراييل، حدثنا ابو اسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال حدثنا ابى بن كعب، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في قوله { واما الغلام فكان ابواه مومنين } " وكان طبع يوم طبع كافرا
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খাদির (খিযির) একটি কিশোরকে বালকদের সঙ্গে খেলাধূলারত দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি তার মাথা ধরে কাবু করে তাকে হত্যা করলেন। তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ ‘আপনি এক নিষ্পাপ জীবন হত্যা করলেন...’’ (সূরা কাহলঃ ৭৪)।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن مهران الرازي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو، عن سعيد بن جبير، قال قال ابن عباس حدثني ابى بن كعب، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ابصر الخضر غلاما يلعب مع الصبيان فتناول راسه فقلعه فقال موسى { اقتلت نفسا زكية } " . الاية
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেনঃ তিনি তো ছিলেন সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত। তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি চল্লিশ দিন তার মায়ের গর্ভে শুক্ররূপে থাকে, অতঃপর চল্লিশ দিন রক্তপিন্ডরূপে বিরাজ করে; তারপর চল্লিশ দিনে মাংসপিন্ডরূপ ধারণ করে। অতঃপর মহান আল্লাহ তার নিকট একজন ফিরিশতা প্রেরণ করেন এবং তাকে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়। তখন সে তার রিযিক, মৃত্যু, আমল এবং সে নেককার নাকি বদকার তাও লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তার মধ্যে রূপ প্রবেশ করানো হয়। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ জান্নাতের উপযোগী কাজ করতে থাকে। এমন কি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে, এমন সময় তার সামনে তার তাকদীরের লেখা অগ্রবর্তী হয়, তখন সে জাহান্নামীদের কাজ করে, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে, এমন কি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে। এমন সময় তার সামনে সে লেখা অগ্রবর্তী হয় এবং সে জান্নাতীদের আমল করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।[1] সহীহ।
حدثنا حفص بن عمر النمري، حدثنا شعبة، ح وحدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، - المعنى واحد والاخبار في حديث سفيان - عن الاعمش قال حدثنا زيد بن وهب حدثنا عبد الله بن مسعود قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق " ان خلق احدكم يجمع في بطن امه اربعين يوما ثم يكون علقة مثل ذلك ثم يكون مضغة مثل ذلك ثم يبعث اليه ملك فيومر باربع كلمات فيكتب رزقه واجله وعمله ثم يكتب شقي او سعيد ثم ينفخ فيه الروح فان احدكم ليعمل بعمل اهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها الا ذراع او قيد ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل اهل النار فيدخلها وان احدكم ليعمل بعمل اهل النار حتى ما يكون بينه وبينها الا ذراع او قيد ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل اهل الجنة فيدخلها
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কে জান্নাতবাসী আর কে জাহান্নামবাসী তা কি জানা গেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। প্রশ্নকারী বললো, তাহলে কিসের জন্য আমলকারীরা আমল করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ প্রত্যেকের জন্য তাই সহজতর যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا حماد بن زيد، عن يزيد الرشك، قال حدثنا مطرف، عن عمران بن حصين، قال قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله اعلم اهل الجنة من اهل النار قال " نعم " . قال ففيم يعمل العاملون قال " كل ميسر لما خلق له
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা তাকদীরে বিশ্বাস করে না তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করো না এবং তোমাদেরকে সম্বোধন করার আগে তাদেরকে সম্বোধন করো না।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ১০৮।
حدثنا احمد بن حنبل، حدثنا عبد الله بن يزيد المقري ابو عبد الرحمن، قال حدثني سعيد بن ابي ايوب، قال حدثني عطاء بن دينار، عن حكيم بن شريك الهذلي، عن يحيى بن ميمون الحضرمي، عن ربيعة الجرشي، عن ابي هريرة، عن عمر بن الخطاب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا تجالسوا اهل القدر ولا تفاتحوهم
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের (নাবালেগ) শিশু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা (বেঁচে থাকলে) কিরূপ আমল করতো।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم سيل عن اولاد المشركين فقال " الله اعلم بما كانوا عاملين
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মু‘মিনদের শিশু সন্তানদের কি হবে? তিনি বললেন, তারা তাদের পিতাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অতঃপর বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো নেক আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা কি আমল করতো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সন্তানদের কি হবে? তিনি বললেন, তারাও তাদের পিতাদের অন্তর্গত হবে। আমি বললাম, কোনো আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, তারা (বেঁচে থাকলে) কিরূপ আমল করতো।[1] সনদ সহীহ।
حدثنا عبد الوهاب بن نجدة، حدثنا بقية، ح وحدثنا موسى بن مروان الرقي، وكثير بن عبيد المذحجي، قالا حدثنا محمد بن حرب، - المعنى - عن محمد بن زياد، عن عبد الله بن ابي قيس، عن عايشة، قالت قلت يا رسول الله ذراري المومنين فقال " هم من ابايهم " . فقلت يا رسول الله بلا عمل قال " الله اعلم بما كانوا عاملين " . قلت يا رسول الله فذراري المشركين قال " من ابايهم " . قلت بلا عمل قال " الله اعلم بما كانوا عاملين
। উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানাযার সালাতের জন্য এক আনসারী বালকের লাশ আনা হলো। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কি সৌভাগ্য সে কোনো গুনাহ করেনি এবং তার বয়সও পায়নি। তিনি বললেন, হে আয়িশাহ! এর বিপরীত কি হতে পারে না? মহান আল্লাহ জান্নাত ও তার অধিবাসীদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা যখন তাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে ছিলো। আবার তিনি জাহান্নাম ও তার জন্য একদল ভুক্তভোগী সৃষ্টি করেছেন এবং তা তাদের জন্য যখন তিনি সৃষ্টি করেছেন তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদন্ডে ছিলো।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن طلحة بن يحيى، عن عايشة بنت طلحة، عن عايشة ام المومنين، قالت اتي النبي صلى الله عليه وسلم بصبي من الانصار يصلي عليه قالت قلت يا رسول الله طوبى لهذا لم يعمل شرا ولم يدر به . فقال " اوغير ذلك يا عايشة ان الله خلق الجنة وخلق لها اهلا وخلقها لهم وهم في اصلاب ابايهم وخلق النار وخلق لها اهلا وخلقها لهم وهم في اصلاب ابايهم
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি সন্তানই ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহন করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাদেরকে ইয়াহুদী বা খৃষ্টান বানায়। যেভাবে উট পূর্ণাঙ্গ পশুই জন্ম দেয়, তাতে তোমরা কোনো কান কাঁটা দেখো কি? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অপ্রাপ্ত বয়সে মারা যায় এমন শিশু সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কিরূপ আমল করতো।[1] সহীহ।
حدثنا القعنبي، عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كل مولود يولد على الفطرة فابواه يهودانه وينصرانه كما تناتج الابل من بهيمة جمعاء هل تحس من جدعاء " . قالوا يا رسول الله افرايت من يموت وهو صغير قال " الله اعلم بما كانوا عاملين
। ইবনু ওয়াহব (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম মালিক (রহঃ)-এর নিকট বলতে শুনেছি প্রবৃত্তির পূজারীরা আমাদের বিরুদ্ধে উপরোক্ত হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। তারা বলে যে, নাবালেগ অবস্থায় মারা গেছে এমন সন্তান সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বলেনঃ তারা কিরূপ আমল করতো তা আল্লাহই ভালো জানেন।[1] সনদ সহীহ মাকতু।
قال ابو داود قري على الحارث بن مسكين وانا اسمع، اخبرك يوسف بن عمرو، اخبرنا ابن وهب، قال سمعت مالكا، قيل له ان اهل الاهواء يحتجون علينا بهذا الحديث . قال مالك احتج عليهم باخره . قالوا ارايت من يموت وهو صغير قال " الله اعلم بما كانوا عاملين