Loading...

Loading...
বইসমূহ
১০২ হাদিসসমূহ
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু কুরাইযাহ ও বনূ নাযীর নামে দু’টি (ইয়াহুদী) গোত্র ছিলো। নযীর গোত্র কুরাইযার চেয়ে অধিক মর্যাদার দাবিদার ছিলো। এজন্য যখন কুরাইযার কোনো লোক নাযীর গোত্রের কোনো লোককে হত্যা করতো বিনিময়ে তাকেও হত্যা করা হতো। কিন্তু যখন নাযীর গোত্রের কোনো ব্যক্তি কুরাইযার কোনো লোক হত্যা করতো তখন একশো ওয়াসাক খেজুরের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হতো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাবুওয়াত লাভ করলেন, তখন নাযীর গোত্রীয় এক ব্যক্তি কুরাইযার এক লোককে হত্যা করলে কুরাইযার লোকেরা বললো, হত্যাকারীকে আমাদেও হাতে সমর্পণ করো; আমরা তাকে হত্যা করবো। কিন্তু পুরাতন প্রথানুযায়ী ও প্রস্তাবে বনী নাযীর অসম্মতি জানালে তারা বললো, আমাদের ও তোমাদের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। তারপর তারা তাঁর নিকট উপস্থিত হলে এ আয়াত নাযিল হয়; ‘‘যদি তুমি তাদেও মধ্যে ফায়সালা করো, তাহলে ইনসাফের সঙ্গে ফায়সালা করবে’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪২)। ইনসাফ হলো প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অতঃপর নাযিল হলোঃ ‘‘তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধিবিধান কামনা করে (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৫০)। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বনু কুরাইযাহ ও বনু নাযীর সকলেই নবী হারূন (আঃ)-এর বংশধর।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا عبيد الله، - يعني ابن موسى - عن علي بن صالح، عن سماك بن حرب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال كان قريظة والنضير - وكان النضير اشرف من قريظة - فكان اذا قتل رجل من قريظة رجلا من النضير قتل به واذا قتل رجل من النضير رجلا من قريظة فودي بماية وسق من تمر فلما بعث النبي صلى الله عليه وسلم قتل رجل من النضير رجلا من قريظة فقالوا ادفعوه الينا نقتله . فقالوا بيننا وبينكم النبي صلى الله عليه وسلم فاتوه فنزلت { وان حكمت فاحكم بينهم بالقسط } والقسط النفس بالنفس ثم نزلت { افحكم الجاهلية يبغون } . قال ابو داود قريظة والنضير جميعا من ولد هارون النبي عليه السلام
। আবূ রিমসাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে প্রশ্ন করলেনঃ সে কি তোমার ছেলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কা‘বার রবের কসম! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ঠিক বলছো তো? তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতার সঙ্গে আমার সাদৃশ্য এবং আমার সম্পর্কে পিতার কসমকে কেন্দ্র করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেনঃ ‘‘জেনে রাখো! তার কোনো অপরাধ তোমাকে অভিযুক্ত করবে না এবং তোমার কোনো অপরাধের জন্যও সে অভিযুক্ত হবে না।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘তোমাদের কাউকে অপরের পাপের বোঝা বহন করতে হবে না।’’ (সূরা আন‘আমঃ ১৬৪)।[1] সহীহ।
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا عبيد الله، - يعني ابن اياد - حدثنا اياد، عن ابي رمثة، قال انطلقت مع ابي نحو النبي صلى الله عليه وسلم ثم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لابي " ابنك هذا " . قال اي ورب الكعبة قال " حقا " . قال اشهد به . قال فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ضاحكا من ثبت شبهي في ابي ومن حلف ابي على . ثم قال " اما انه لا يجني عليك ولا تجني عليه " . وقرا رسول الله صلى الله عليه وسلم { ولا تزر وازرة وزر اخرى}
। আবূ শুরাইহ আল-খাযাঈ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে হত্যা বা আহত করা হয়েছে তাকে অবশ্যই তিনটি বিকল্প ব্যবস্থার যে কোনো একটি গ্রহণ করতে হবে। হয় সে কিসাস নিবে, অথবা ক্ষমা করবে, অথবা রক্তমূল্য গ্রহণ করবে। যদি সে চতুর্থ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায় তাহলে তোমরা তার দু’ হাতে চেপে ধরো। যে ব্যক্তি এরপরও সীমালঙ্ঘন করবে তার জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।[1] দুর্বল।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، اخبرنا محمد بن اسحاق، عن الحارث بن فضيل، عن سفيان بن ابي العوجاء، عن ابي شريح الخزاعي، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من اصيب بقتل او خبل فانه يختار احدى ثلاث اما ان يقتص واما ان يعفو واما ان ياخذ الدية فان اراد الرابعة فخذوا على يديه ومن اعتدى بعد ذلك فله عذاب اليم
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কোনো কিসাস জনিত বিবাদ পেশ করা হলে তিনি ক্ষমা করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন।[1] সহীহ।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عبد الله بن بكر بن عبد الله المزني، عن عطاء بن ابي ميمونة، عن انس بن مالك، قال ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم رفع اليه شىء فيه قصاص الا امر فيه بالعفو
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি নিহত হলে ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হয়। তখন তিনি হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট সোর্পদ করলেন। হত্যাকারী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! তাকে হত্যা করার ইচ্ছা আমার ছিলো না। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবককে বললেন, ‘সাবধান, যদি তার কথায় সে সত্যবাদী হয় আর এরপরও তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে তুমি জাহান্নামে যাবে। তিনি বলেন, অতঃপর তাকে ছেড়ে দেয়া হলো। বর্ণনাকারী বলেন, হত্যাকারীর দু’ হাত পিছনের দিক থেকে চামড়ার লম্বা রশি দিয়ে বাধা ছিলো এবং সে চামড়ার রশিটি টানতে টানতে চলে গেলো। এ জন্য তার নাম দেয়া হয় যুন-নিসআহ (চামড়ার রশিধারী)।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، اخبرنا ابو معاوية، حدثنا الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قتل رجل على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فرفع ذلك الى النبي صلى الله عليه وسلم فدفعه الى ولي المقتول فقال القاتل يا رسول الله والله ما اردت قتله . قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للولي " اما انه ان كان صادقا ثم قتلته دخلت النار " . قال فخلى سبيله . قال وكان مكتوفا بنسعة فخرج يجر نسعته فسمي ذا النسعة
। ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় গলায় চামড়ার রশি বাধানো এক হত্যাকারীকে আনা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিহত ব্যক্তির অভিভাবককে ডেকে বললেন, তুমি কি ক্ষমা করে দিবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তুমি কি দিয়াত নিবে? সে বললো, না। তিনি পুনরায় বললেন, তুমি হত্যা করবে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, একে নিয়ে যাও। সে যখন যেতে উদ্যত হলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় বললেন, তুমি কি ক্ষমা করে দিবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তুমি রক্তপণ গ্রহণ করবে? সে বললো, না। তিনি প্রশ্ন করলেন, তাহলে তুমি কি হত্যা করবে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেন, একে নিয়ে যাও। এভাবে চতুর্থবারে তিনি বললেন, জেনে রাখো, তুমি তাকে ক্ষমা করে দিলে সে নিজের ও তার সাথীর গুনাহ নিয়ে ফিরতো। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব সে তাকে ক্ষমা করে দিলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে (হত্যাকারীকে চামড়ার রশি টেনে টেনে চলে যেতে দেখেছি)।[1] সহীহ।
حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة الجشمي، حدثنا يحيى بن سعيد، عن عوف، حدثنا حمزة ابو عمر العايذي، حدثني علقمة بن وايل، حدثني وايل بن حجر، قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم اذ جيء برجل قاتل في عنقه النسعة قال فدعا ولي المقتول فقال " اتعفو " . قال لا . قال " افتاخذ الدية " . قال لا . قال " افتقتل " . قال نعم . قال " اذهب به " . فلما ولى قال " اتعفو " . قال لا . قال " افتاخذ الدية " . قال لا . قال " افتقتل " . قال نعم . قال " اذهب به " . فلما كان في الرابعة قال " اما انك ان عفوت عنه يبوء باثمه واثم صاحبه " . قال فعفا عنه . قال فانا رايته يجر النسعة
। আলকামাহ ইবনু ওয়াইল (রহঃ) সূত্রে উপরোক্ত সনদে অনুরূপ সমার্থবোধক হাদীস বর্ণিত। আমি এটি সহীহ এবং যইফেও পাইনি।
حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة، حدثنا يحيى بن سعيد، قال حدثني جامع بن مطر، حدثني علقمة بن وايل، باسناده ومعناه
। আল-কামাহ ইবনু ওয়াইল (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হাফসী এক লোককে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, এ লোক আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে। তিনি বললেন, তুমি তাকে কিভাবে হত্যা করেছো? সে বললো, আমি কুঠার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেছিলাম, তবে তাকে হত্যা করার ইচ্ছা আমার ছিলো না। তিনি বললেন, তোমার কি সম্পদ আছে যা তুমি দিয়ে তার রক্তপণ শোধ করতে পারো? সে বললো, না। তিনি বললেন, তুমি কি মনে করো, যদি আমি তোমাকে ছেড়ে দেই তাহলে তুমি কি মানুষের নিকট ভিক্ষা করে তার দিয়াত সংগ্রহ করতে পারবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তোমার মনিব গোষ্ঠী কি তোমার পক্ষ থেকে তার দিয়াত দিবে? সে বললো, না। তিনি বাদীকে বললেন, একে নিয়ে যাও, অতঃপর হত্যা করার জন্য সে তাকে নিয়ে রওয়ানা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘জেনে রেখো! যদি সে তাকে হত্যা করে, তাহলে সেও তার মতই হবে।’’ কথাটি লোকটির কানে পৌঁছলো যেখান থেকে সে তাঁর কথা শুনতে পাচ্ছিল। সে বললো, সে এখানে আছে; অতএব তার ব্যাপারে আপনার যা ইচ্ছা তাই হুকুম দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও! অপর বর্ণনায় আছে, তাকে ত্যাগ করো, সে তার ও তার সাথীর গুনাহ বহন করবে, ফলে সে জাহান্নামী হবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে তাকে ছেড়ে দিলো।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن عوف الطايي، حدثنا عبد القدوس بن الحجاج، حدثنا يزيد بن عطاء الواسطي، عن سماك، عن علقمة بن وايل، عن ابيه، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم بحبشي فقال ان هذا قتل ابن اخي . قال " كيف قتلته " . قال ضربت راسه بالفاس ولم ارد قتله . قال " هل لك مال تودي ديته " . قال لا . قال " افرايت ان ارسلتك تسال الناس تجمع ديته " . قال لا . قال " فمواليك يعطونك ديته " . قال لا . قال للرجل " خذه " . فخرج به ليقتله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما انه ان قتله كان مثله " . فبلغ به الرجل حيث يسمع قوله فقال هو ذا فمر فيه ما شيت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارسله - وقال مرة دعه - يبوء باثم صاحبه واثمه فيكون من اصحاب النار " . قال فارسله
। আবূ উমামা ইবনু সাহল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম, যখন তিনি (বিদ্রোহীদের দ্বারা) একটি ঘরে আটক ছিলেন। ঐ ঘরের একটি প্রবেশদ্বার ছিলো। কেউ ঐ প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করলে আল-বালাত নামক স্থানে লোকের কথাবার্তা শুনতে পেতো। উসমান (রাঃ) তাতে প্রবেশ করলেন এবং বিবর্ণ অবস্থায় আমাদের নিকট এসে বললেন, তারা এই মাত্র আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনি প্রশ্ন করলেন, তারা আমাকে হত্যা করবে কেন? আমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তিনটি অপরাধের কোনো একটি ব্যতীত মুসলিম ব্যক্তির রক্তপাত করা হালাল নয়ঃ (১) ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাওয়া, (২) বিবাহিত ব্যক্তির যেনায় লিপ্ত হওয়া এবং (৩) হত্যার অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলে। আল্লাহর কসম! আমি জাহিলী যুগে এবং ইসলামী যুগেও কখনো যেনা করিনি। আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দান করার পর থেকে আমি মোটেই অন্য ধর্ম গ্রহণ পছন্দ করি না এবং আমি কোনো মানুষকে হত্যা করিনি। অতএব তারা কেন আমাকে হত্যা করবে? ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, উসমান ও আবূ বাকর (রাঃ) উভয়ে জাহিলী যুগেই মাদক গ্রহণ পরিত্যাগ করেছেন।[1] সহীহ।
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، عن يحيى بن سعيد، عن ابي امامة بن سهل، قال كنا مع عثمان وهو محصور في الدار وكان في الدار مدخل من دخله سمع كلام من على البلاط فدخله عثمان فخرج الينا وهو متغير لونه فقال انهم ليتواعدونني بالقتل انفا . قلنا يكفيكهم الله يا امير المومنين . قال ولم يقتلونني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا يحل دم امري مسلم الا باحدى ثلاث كفر بعد اسلام او زنا بعد احصان او قتل نفس بغير نفس " . فوالله ما زنيت في جاهلية ولا اسلام قط ولا احببت ان لي بديني بدلا منذ هداني الله ولا قتلت نفسا فبم يقتلونني قال ابو داود عثمان وابو بكر رضى الله عنهما تركا الخمر في الجاهلية
। মুহাম্মাদ ইবনু জা‘ফার ইবনু সা‘দ ইবনু দুমাইরাহ (রহঃ) তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হুনাইফের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। লাইস গোত্রীয় মুহাল্লিম ইবনু জাসসামা আশজা গোত্রের এক ব্যক্তিকে ইসলামের (প্রাথমিক) যুগে হত্যা করে। এটা ছিলো সর্বপ্রথম হত্যাকান্ড যার বিচার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। এ ব্যাপারে উয়াইনাহ আল-আশজায়ী সম্পর্কে আলাপ করেন। কেননা তিনি গাতফান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আকরা ইবনু হারিস (রাঃ) মুহাল্লিমের পক্ষ হয়ে কথা বলেন, কেননা তিনি খিনদীফদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এতে কথা কাটাকাটি হতে হতে তা ঝগড়ায় রূপ নিলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন, হে উয়াইনাহ! তুমি কি দিয়াত নিবে না? উয়াইনাহ বললেন, না, আল্লাহর কসম! যতক্ষণ তাদের নারীরা দুর্দশাগ্রস্ত না হবে, যেরূপ আমাদের নারীরা দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবার বাক-বিতন্ডা চরম আকার ধারণ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় উয়াইনাহকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে উয়াইনাহ! তুমি কি দিয়াত নিবে না? উয়াইনাহ এবারও একই উত্তর দিলেন। এরপর মুকাইতিল নামক বনী লাইস গোত্রের এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো যার সঙ্গে অস্ত্র ও হাতে ঢাল ছিলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি (মুহাল্লিম) ইসলামের প্রথমযুগে যে কাজ করলো আমি তার এ উদাহরণ ছাড়া অন্য কিছু খুঁজে পাই না যে, ছাগলের একটি পাল জলাশয়ে উপনীত হলে যেটি প্রথমে এলো তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করা হলে বাকীগুলো পলায়ন করলো, আজ একটি বিধান প্রণয়ন করুন এবং আগামীকাল তা পরিবর্তন করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখনই নগদ পঞ্চাশটি এবং মদীনায় ফিরে গিয়ে বাকী পঞ্চাশটি (উট) পাবে। ঘটনাটি তাঁর কোন এক সফরের সময় ঘটেছিল। মুহাল্লিম এক দীর্ঘকায় ও বাদামী রংবিশিষ্ট লোক ছিলো। সে জনতার এক পাশে উপবিষ্ট ছিলো। এমতাবস্থায় তাকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত তারা তদবির করতে থাকে। সে সস্থান ত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে গিয়ে সামনা সামনি বসলো, তখন তাঁর দু’ চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে আপনার নিকট যে অভিযোগ এসেছে, সত্যিই আমি উক্ত দোষে দোষী। আর আমি এজন্য আল্লাহর নিকট তওবা করছি, আপনি আল্লাহর নিকট আমার তওবা কবূলের জন্য দু‘আ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ইসলামের প্রথম যুগে তোমার অস্ত্রের মাধ্যমে তাকে হত্যা করেছো? তিনি উচ্চস্বরে বললেন, হে আল্লাহ! মুহাল্লিমকে ক্ষমা করো না। আবূ সালামাহর বর্ণনায় আরো আছেঃ সে চাদরের আচল দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে উঠে দাঁড়ালো। ইবনু ইসহাক বলেন, তার গোত্রের লোকদের ধারণা যে, রাসূলুল্লাহ পরে মুহাল্লিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।[1] দুর্বল।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، قال حدثنا محمد بن اسحاق، فحدثني محمد بن جعفر بن الزبير، قال سمعت زياد بن ضميرة الضمري، ح وحدثنا وهب بن بيان، واحمد بن سعيد الهمداني، قالا حدثنا ابن وهب، اخبرني عبد الرحمن بن ابي الزناد، عن عبد الرحمن بن الحارث، عن محمد بن جعفر، انه سمع زياد بن سعد بن ضميرة السلمي، - وهذا حديث وهب وهو اتم - يحدث عروة بن الزبير عن ابيه - قال موسى - وجده وكانا شهدا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حنينا - ثم رجعنا الى حديث وهب - ان محلم بن جثامة الليثي قتل رجلا من اشجع في الاسلام وذلك اول غير قضى به رسول الله صلى الله عليه وسلم فتكلم عيينة في قتل الاشجعي لانه من غطفان وتكلم الاقرع بن حابس دون محلم لانه من خندف فارتفعت الاصوات وكثرت الخصومة واللغط فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا عيينة الا تقبل الغير " . فقال عيينة لا والله حتى ادخل على نسايه من الحرب والحزن ما ادخل على نسايي . قال ثم ارتفعت الاصوات وكثرت الخصومة واللغط فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا عيينة الا تقبل الغير " . فقال عيينة مثل ذلك ايضا الى ان قام رجل من بني ليث يقال له مكيتل عليه شكة وفي يده درقة فقال يا رسول الله اني لم اجد لما فعل هذا في غرة الاسلام مثلا الا غنما وردت فرمي اولها فنفر اخرها اسنن اليوم وغير غدا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " خمسون في فورنا هذا وخمسون اذا رجعنا الى المدينة " . وذلك في بعض اسفاره ومحلم رجل طويل ادم وهو في طرف الناس فلم يزالوا حتى تخلص فجلس بين يدى رسول الله صلى الله عليه وسلم وعيناه تدمعان فقال يا رسول الله اني قد فعلت الذي بلغك واني اتوب الى الله تبارك وتعالى فاستغفر الله عز وجل لي يا رسول الله . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اقتلته بسلاحك في غرة الاسلام اللهم لا تغفر لمحلم " . بصوت عال زاد ابو سلمة فقام وانه ليتلقى دموعه بطرف ردايه قال ابن اسحاق فزعم قومه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استغفر له بعد ذلك . قال ابو داود قال النضر بن شميل الغير الدية
। সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সুরাই আল কাবি (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শোনো হে খুযাআহ গোত্রের লোকেরা! তোমরা হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছো। আর আমি তার রক্তমূল্য পরিশোধ করবো। আমার এ কথার পর যাদের কোনো লোককে হত্যা করা হবে তখন নিহতের পরিবার দু’টি বিকল্প অবস্থার যে কোনো একটি গ্রহণ করতে পারবে। দিয়াত গ্রহণ করবে অথবা হত্যা করবে।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد بن مسرهد، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا ابن ابي ذيب، قال حدثني سعيد بن ابي سعيد، قال سمعت ابا شريح الكعبي، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا انكم يا معشر خزاعة قتلتم هذا القتيل من هذيل واني عاقله فمن قتل له بعد مقالتي هذه قتيل فاهله بين خيرتين ان ياخذوا العقل او يقتلوا
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, যে কোনো লোককে হত্যা করা হয়েছে তার দু’টি বিকল্প অবস্থার যে কোনো একটি গ্রহণের স্বাধীনতা আছে। হয় তো তাকে রক্তমূল্য দেয়া হবে, অন্যথায় কিসাস কার্যকর হবে। তখন ইয়ামেনের অধিবাসী আবূ শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (এ নির্দেশ) আমাদের জন্য লিখিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ শাহ এর জন্য লিখে দাও। হাদীসের এ শব্দ ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর। আর ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘‘আমাদের জন্য লিখিয়ে দিন।’’ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুৎবাহটি।[1] সহীহ।
حدثنا عباس بن الوليد بن مزيد، اخبرنا ابي، حدثنا الاوزاعي، حدثني يحيى، ح وحدثنا احمد بن ابراهيم، حدثني ابو داود، حدثنا حرب بن شداد، حدثنا يحيى بن ابي كثير، حدثني ابو سلمة بن عبد الرحمن، حدثنا ابو هريرة، قال لما فتحت مكة قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " من قتل له قتيل فهو بخير النظرين اما ان يودى او يقاد " . فقام رجل من اهل اليمن يقال له ابو شاه فقال يا رسول الله اكتب لي - قال العباس اكتبوا لي - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اكتبوا لابي شاه " . وهذا لفظ حديث احمد . قال ابو داود اكتبوا لي يعني خطبة النبي صلى الله عليه وسلم
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কাফির হত্যার দায়ে মু‘মিন হত্যা করা যাবে না, কেউ মু‘মিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে তাকে নিহতের ওয়ারিসদের নিকট সোর্পদ করা হবে। তারা চাইলে তাকে হত্যা করবে অথবা দিয়াত গ্রহণ করবে।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا مسلم، حدثنا محمد بن راشد، حدثنا سليمان بن موسى، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا يقتل مومن بكافر ومن قتل مومنا متعمدا دفع الى اولياء المقتول فان شاءوا قتلوه وان شاءوا اخذوا الدية
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিয়াত গ্রহণের পর হত্যা করলো, আমি তাকে ক্ষমা করবো না।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ৩৪৭৯৮, যঈফাহ হা/ ৪৭৬৭।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، اخبرنا مطر الوراق، - واحسبه - عن الحسن، عن جابر بن عبد الله، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا اعفي من قتل بعد اخذه الدية
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা জনৈকা ইয়াহুদী নারী বিষ মিশ্রিত একটি ভূনা ছাগী নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি তা থেকে খেলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে এ জন্য প্রশ্ন করলেন। সে বললো, আমি আপনাকে হত্যা করার জন্যই এটা করেছি। তিনি বললেন, ‘‘এ ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে সফল হতে দেননি অথবা তিনি বলেছেন, আমার উপর তোমাকে সফল হতে দেননি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, একে আমরা হত্যা করবই। তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বললেন, আমি সর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আলাজিভে তা (বিষের ক্ষত চিহ্ন) দেখতে পেতাম।[1] সহীহ।
حدثنا يحيى بن حبيب بن عربي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا شعبة، عن هشام بن زيد، عن انس بن مالك، ان امراة، يهودية اتت رسول الله صلى الله عليه وسلم بشاة مسمومة فاكل منها فجيء بها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالها عن ذلك فقالت اردت لاقتلك . فقال " ما كان الله ليسلطك على ذلك " . او قال " على " . قال فقالوا الا نقتلها قال " لا " . فما زلت اعرفها في لهوات رسول الله صلى الله عليه وسلم
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষ মিশ্রিত একটি ভূনা ছাগী উপহার দিয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যে নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষ প্রয়োগ করেছিল। সে হলো মারহাব নামক ইয়াহুদীর বোন।[1] সনদ দুর্বল।
حدثنا داود بن رشيد، حدثنا عباد بن العوام، ح وحدثنا هارون بن عبد الله، حدثنا سعيد بن سليمان، حدثنا عباد، عن سفيان بن حسين، عن الزهري، عن سعيد، وابي، سلمة - قال هارون - عن ابي هريرة، ان امراة، من اليهود اهدت الى النبي صلى الله عليه وسلم شاة مسمومة - قال - فما عرض لها النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو داود هذه اخت مرحب اليهودية التي سمت النبي صلى الله عليه وسلم
। ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন যে, খায়বারের অধিবাসী এক ইয়াহুদী মহিলা বিষ মিশিয়ে একটি ছাগী ভুনা করে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রান নিয়ে খাওয়া আরম্ভ করলেন এবং তাঁর কতিপয় সাহাবীও তার সঙ্গে খেতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তোমরা হাত গুটিয়ে নাও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ইয়াহুদী মহিলাকে লোক মারফত ডেকে এনে বললেন, তুমি কি এ ছাগীর সঙ্গে বিষ মিশিয়েছ? সে বললো, আপনাকে কে সংবাদ দিয়েছে? তিনি বললেন, আমার হাতের এই রান আমাকে খবর দিয়েছে। সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এরূপ করার উদ্দেশ্য কি? সে বললো, আমি ভেবেছি, যদি তিনি সত্যিই নবী হন তাহলে বিষ তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি নবী না হন তবে আমরা তার থেকে ঝামেলা মুক্ত হবো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো প্রকার শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করে দিলেন। যেসব সাহাবী তাঁর সঙ্গে ছাগীর গোশত খেয়েছেন তাদের কেউ কেউ মারা গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাগীর গোশত খাওয়ার প্রতিক্রিয়া পরিহত করার জন্য তাঁর বাহুদ্বয়ের মাঝখানে রক্তমোক্ষণ করালেন। বনী বায়াদার মুক্তদাস আবূ হিন্দ আনসারীর শিং ও বল্লমের ফলা দ্বারা তাঁর রক্তমোক্ষণ করিয়েছিলেন।[1] দুর্বল।
حدثنا سليمان بن داود المهري، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، قال كان جابر بن عبد الله يحدث ان يهودية، من اهل خيبر سمت شاة مصلية ثم اهدتها لرسول الله صلى الله عليه وسلم فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم الذراع فاكل منها واكل رهط من اصحابه معه ثم قال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارفعوا ايديكم " . وارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اليهودية فدعاها فقال لها " اسممت هذه الشاة " . قالت اليهودية من اخبرك قال " اخبرتني هذه في يدي " . للذراع . قالت نعم . قال " فما اردت الى ذلك " . قالت قلت ان كان نبيا فلن يضره وان لم يكن استرحنا منه . فعفا عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يعاقبها وتوفي بعض اصحابه الذين اكلوا من الشاة واحتجم رسول الله صلى الله عليه وسلم على كاهله من اجل الذي اكل من الشاة حجمه ابو هند بالقرن والشفرة وهو مولى لبني بياضة من الانصار
। জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খায়বারে এক ইয়াহুদী নারী একটা ভূনা ছাগী উপহার দিয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, বিশর ইবনুল বারাআ ইবনু মারূর আনসারী (বিষক্রিয়ায়) মৃত্যুবরণ করায় তিনি ইয়াহুদী নারীকে ডেকে এনে বললেন, তুমি কেন এরূপ করলে? অতঃপর জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো রয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মহিলাটিকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে হত্যা করা হলো। কিন্তু বর্ণনাকারী এ হাদীসে রক্তমোক্ষণের কথা উল্লেখ করেননি।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا وهب بن بقية، حدثنا خالد، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اهدت له يهودية بخيبر شاة مصلية نحو حديث جابر قال فمات بشر بن البراء بن معرور الانصاري فارسل الى اليهودية " ما حملك على الذي صنعت " . فذكر نحو حديث جابر فامر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقتلت ولم يذكر امر الحجامة
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিয়া গ্রহণ করতেন কিন্তু সাদাকাহ গ্রহণ করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, খায়বারের এক ইয়াহুদী মহিলা একটি ভুনা বকরীতে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হাদিয়া দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আহার করেন এবং লোকজনও আহার করে। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও। কারণ এটি আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, এটি বিষযুক্ত। (বিষক্রিয়ার ফলে) বিশর ইবনুল বারাআত ইবনু মা‘রূর আল-আনসারী (রাঃ) মারা যান। তিনি ইয়াহুদী মহিলাকে ডেকে এনে প্রশ্ন করেনঃ তুমি যা করলে তা করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করেছে? সে বললো, আপনি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকেন তাহলে আমি যা করেছি তাতে আপনার ক্ষতি হবে না। আর যদি আপনি বাদশাহ হয়ে থাকেন তাহলে আমি আপনার থেকে মানুষকে শান্তি দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে পরে তাকে হত্যা করা হলো। অতঃপর তিনি যে ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন সেই সম্পর্কে বলেনঃ আমি সর্বদা সেই লোকমার ব্যথা অনুভব করছি যা আমি খায়বারে খেয়েছিলাম। এই সময়ে তা আমার প্রধান ধমনি কেটে দিয়েছে।[1] হাসান সহীহ।
حدثنا وهب بن بقية، عن خالد، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل الهدية ولا ياكل الصدقة . وحدثنا وهب بن بقية في موضع اخر عن خالد عن محمد بن عمرو عن ابي سلمة ولم يذكر ابا هريرة قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل الهدية ولا ياكل الصدقة . زاد فاهدت له يهودية بخيبر شاة مصلية سمتها فاكل رسول الله صلى الله عليه وسلم منها واكل القوم فقال " ارفعوا ايديكم فانها اخبرتني انها مسمومة " . فمات بشر بن البراء بن معرور الانصاري فارسل الى اليهودية " ما حملك على الذي صنعت " . قالت ان كنت نبيا لم يضرك الذي صنعت وان كنت ملكا ارحت الناس منك . فامر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقتلت ثم قال في وجعه الذي مات فيه " ما زلت اجد من الاكلة التي اكلت بخيبر فهذا اوان قطعت ابهري
। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ছিলেন তখন উম্মু মুবাশশির (রাঃ) তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রোগ সম্পর্কে কি ভাবছেন? আর আমি আমার ছেলের রোগ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন নই সেই বিষ মেশানো বকরীর গোশত ব্যতীত যা সে খায়বারে আপনার সঙ্গে খেয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিও ঐ বিষ ছাড়া আমার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নই। এ মুহূর্তে তা আমার প্রধান ধমনি কেটে দিচ্ছে।[1] সনদ সহীহ।
حدثنا مخلد بن خالد، حدثنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، عن الزهري، عن ابن كعب بن مالك، عن ابيه، ان ام مبشر، قالت للنبي صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي مات فيه ما يتهم بك يا رسول الله فاني لا اتهم بابني شييا الا الشاة المسمومة التي اكل معك بخيبر . وقال النبي صلى الله عليه وسلم " وانا لا اتهم بنفسي الا ذلك فهذا اوان قطعت ابهري " . قال ابو داود وربما حدث عبد الرزاق بهذا الحديث مرسلا عن معمر عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم وربما حدث به عن الزهري عن عبد الرحمن بن كعب بن مالك وذكر عبد الرزاق ان معمرا كان يحدثهم بالحديث مرة مرسلا فيكتبونه ويحدثهم مرة به فيسنده فيكتبونه وكل صحيح عندنا قال عبد الرزاق فلما قدم ابن المبارك على معمر اسند له معمر احاديث كان يوقفها