Loading...

Loading...
বইসমূহ
১০৬ হাদিসসমূহ
(…/...) উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিশর ও ‘আবদুল আযীয এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২২৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثناه عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن سهيل، عن ابيه، او عن ابن ابي، سعيد عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بمثل حديث بشر وعبد العزيز
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে আর জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে নির্ধুম অগ্নিশিখা হতে এবং আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে ঐ বস্তু হতে যে সম্পর্কে তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২২৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن رافع، وعبد بن حميد، قال عبد اخبرنا وقال ابن رافع، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " خلقت الملايكة من نور وخلق الجان من مارج من نار وخلق ادم مما وصف لكم
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আম্বারী ও মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর রুযয়ী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের একদল লোক হারিয়ে গিয়েছিল। জানা নেই তারা কোথায় আছে। আমার ধারণা তারা ইদুরে রূপান্তর হয়েছে। তোমরা কি দেখছ না যে, এদের জন্য উষ্ট্রীর দুধ রাখলে তারা তা পান করে না। কিন্তু বকরীর দুধ রাখলে তারা তা পান করে নেয়। আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীস আমি কা'ব (রাযিঃ) এর কাছে বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, এ হাদীসটি তুমি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। এ প্রশ্নটি তিনি আমাকে একাধিকবার করলেন। পরিশেষে বললাম, আমি কি তাওরাত পড়তে জানি? রবী ইসহাক তার বর্ণনায় لاَ يُدْرَى مَا فَعَلَتْ এর পরিবর্তে لاَ نَدْرِي مَا فَعَلَتْঅর্থাৎ "আমরা জানি না তারা কোথায় গেছে" শব্দটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২২৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، ومحمد بن المثنى العنزي، ومحمد بن عبد الله الرزي، جميعا عن الثقفي، - واللفظ لابن المثنى - حدثنا عبد الوهاب، حدثنا خالد، عن محمد بن، سيرين عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فقدت امة من بني اسراييل لا يدرى ما فعلت ولا اراها الا الفار الا ترونها اذا وضع لها البان الابل لم تشربه واذا وضع لها البان الشاء شربته " . قال ابو هريرة فحدثت هذا الحديث كعبا فقال انت سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت نعم . قال ذلك مرارا . قلت ااقرا التوراة قال اسحاق في روايته " لا ندري ما فعلت
(…) আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইদুর মানুষের বিকৃত রূপধারী। এর নমুনা হচ্ছে এই যে, এদের সম্মুখে বকরীর দুধ রাখলে তারা তা পান করে নেয় আর উষ্ট্রীর দুধ রাখলে তারা তার কোন স্বাদও গ্রহণ করে দেখে না। এ কথা শুনে কা’ব (রাযিঃ) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি নিজে কি এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছ? উত্তরে তিনি বললেন, তা না হলে আমার উপর কি তাওরাত নাযিল হয়েছে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২২৭, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن محمد، عن ابي هريرة، قال " الفارة مسخ واية ذلك انه يوضع بين يديها لبن الغنم فتشربه ويوضع بين يديها لبن الابل فلا تذوقه " . فقال له كعب اسمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال افانزلت على التوراة
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আল আযদী ও শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সকল কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মু’মিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শুকর-গুজার করে আর অস্বচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসীবাতে আক্রান্ত হলে সবর করে, প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২২৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا هداب بن خالد الازدي، وشيبان بن فروخ، جميعا عن سليمان بن المغيرة، - واللفظ لشيبان - حدثنا سليمان، حدثنا ثابت، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن صهيب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " عجبا لامر المومن ان امره كله خير وليس ذاك لاحد الا للمومن ان اصابته سراء شكر فكان خيرا له وان اصابته ضراء صبر فكان خيرا له
ইয়াহইয়াহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একদিন এক লোক অন্য লোকের প্রশংসা করল। এ কথা শুনে তিনি বললেন, তোমার ধ্বংস হোক! তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে দিয়েছ, তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেলেছ। এ কথাটি তিনি একাধিকবার বললেন। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের কারো যদি তার সাথীর প্রশংসা করতেই হয় তবে সে যেন বলে অমুকের ব্যাপারে আমার ধারণা আল্লাহ তা’আলাই তার পুঙ্খানুপুঙ্খ অবস্থা নিরূপণকারী, আমি কাউকে তার মনের অবস্থা সম্পর্কে জানি না, পরিণাম সম্পর্কিত জ্ঞান আল্লাহরই আছে। আমি ধারণা করি সে এই এই রকম- যদি সে এ কথাটি তদ্রুপ জানে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، حدثنا يزيد بن زريع، عن خالد الحذاء، عن عبد الرحمن، بن ابي بكرة عن ابيه، قال مدح رجل رجلا عند النبي صلى الله عليه وسلم - قال - فقال " ويحك قطعت عنق صاحبك قطعت عنق صاحبك " . مرارا " اذا كان احدكم مادحا صاحبه لا محالة فليقل احسب فلانا والله حسيبه ولا ازكي على الله احدا احسبه ان كان يعلم ذاك كذا وكذا
মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আব্বাদ ইবনু জাবালাহ্ ইবনু আবু রাওওয়াহদ ও আবু বাকর ইবনু নাফি (রহঃ) ..... আবু বাকরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক লোকের ব্যাপারে আলোচনা হয়। তখন অন্য এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক কাজের বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর তার চেয়ে উত্তম আর কোন লোক নেই। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ধ্বংস হোক, তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেলেছ। তিনি এ কথাটি বার বার বললেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের কারো যদি তার ভাইয়ের প্রশংসা করতেই হয় তবে সে যেন বলে অমুকের ব্যাপারে আমার ধারণা যে, সে এমন (বাস্তবে হলেই এ কথাটি বলতে পারবে), তবে আল্লাহর সম্মুখে আমি কাউকে দোষমুক্ত ঘোষণা করছি না (অর্থাৎ আমি আল্লাহর সামনে কাউকে পবিত্র করতে পারি না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني محمد بن عمرو بن عباد بن جبلة بن ابي رواد، حدثنا محمد بن جعفر، ح وحدثني ابو بكر بن نافع، اخبرنا غندر، قال شعبة حدثنا عن خالد الحذاء، عن عبد، الرحمن بن ابي بكرة عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه ذكر عنده رجل فقال رجل يا رسول الله ما من رجل بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل منه في كذا وكذا . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ويحك قطعت عنق صاحبك " . مرارا يقول ذلك ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان كان احدكم مادحا اخاه لا محالة فليقل احسب فلانا ان كان يرى انه كذلك ولا ازكي على الله احدا
‘আমর আন নাকিদ, আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে ইয়াযীদ ইবনু যুরাই (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে হাশিম ও শাইবাহ (রহঃ) এর হাদীসের মধ্যে এ কথাটি বর্ণনা নেই যে, অতঃপর এক লোক বলল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি আর কেউ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنيه عمرو الناقد، حدثنا هاشم بن القاسم، ح وحدثناه ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا شبابة بن سوار، كلاهما عن شعبة، بهذا الاسناد . نحو حديث يزيد بن زريع وليس في حديثهما فقال رجل ما من رجل بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم افضل منه
আবু জাফার, মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ্ (রহঃ) ..... আবু মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক লোককে অপর লোকের অতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুনলেন। তারপর তিনি বললেন, তুমি তো ঐ লোকের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে (ধ্বংস করে দিয়েছ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني ابو جعفر، محمد بن الصباح حدثنا اسماعيل بن زكرياء، عن بريد بن، عبد الله بن ابي بردة عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا يثني على رجل ويطريه في المدحة فقال " لقد اهلكتم او قطعتم ظهر الرجل
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু মা'মার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান অবস্থায় কোন এক আমীরের বা নেতার ভূয়সী প্রশংসা করতে শুরু করলে মিকদাদ (রাযিঃ) তার মুখে মাটি ছুড়ে করে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন অতিমাত্রায় প্রশংসাকারীদের মুখে মাটি ছুড়ে মারার জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، ومحمد بن المثنى، جميعا عن ابن مهدي، - واللفظ لابن المثنى قالا حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن حبيب، عن مجاهد، عن ابي معمر، قال قام رجل يثني على امير من الامراء فجعل المقداد يحثي عليه التراب وقال امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نحثي في وجوه المداحين التراب
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন এক লোক উসমান (রাযিঃ) এর প্রশংসা করতে শুরু করলেন। তখন মিকদাদ (রাযিঃ) হাঁটুর উপর ভর করে বসলেন, কারণ তিনি ছিলেন মোটা মানুষ। এরপর তিনি প্রশংসাকারীর মুখে মাটি নিক্ষেপ করতে লাগলেন। তখন উসমান (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে মিকদাদ! তুমি এ কি করছ? উত্তরে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অতিমাত্রায় প্রশংসাকারীদেরকে দেখলে তাদের চেহারায় মাটি নিক্ষেপ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن المثنى، ومحمد بن بشار، - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن منصور، عن ابراهيم، عن همام بن الحارث، ان رجلا، جعل يمدح عثمان فعمد المقداد فجثا على ركبتيه - وكان رجلا ضخما - فجعل يحثو في وجهه الحصباء فقال له عثمان ما شانك فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا رايتم المداحين فاحثوا في وجوههم التراب
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) মিকদাদ (রহঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، عن منصور، ح وحدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا الاشجعي، عبيد الله بن عبيد الرحمن عن سفيان الثوري، عن الاعمش، ومنصور، عن ابراهيم، عن همام، عن المقداد، عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثله
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বপ্নে দেখলাম, আমি মিসওয়াক করছি। তখন দু’ লোক এসে আমাকে টেনে ধরল। একজন বড় এবং অপরজন ছোট। তারপর তাদের ছোটজনকে আমি আমার মিসওয়াকটি দিতে উদ্যত হলাম। কিন্তু বলা হলো, বড়কে দাও। অতঃপর আমি বড়জনকে মিসওয়াকটি দিয়ে দিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثني ابي، حدثنا صخر، - يعني ابن جويرية - عن نافع، ان عبد الله بن عمر، حدثه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اراني في المنام اتسوك بسواك فجذبني رجلان احدهما اكبر من الاخر فناولت السواك الاصغر منهما فقيل لي كبر . فدفعته الى الاكبر
হারূন ইবনু মা’রূফ (রহঃ) ..... উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলছিলেন, হে হুজরাহ বাসিনী, হে হুজরাহ বাসিনী! শুনো। তখন আয়িশাহ্ (রাযিঃ) সালাত আদায় করছিলেন। সালাত আদায়ন্তে তিনি উরওয়াহ্ (রাযিঃ) কে বললেন, এ-কি বলছে, তুমি তা শুনতে পেয়েছ কি? অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে কথা বলতেন, যদি কোন গণনাকার গণনা করতে ইচ্ছা করত তবে সে গুণতে পারত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا هارون بن معروف، حدثنا به، سفيان بن عيينة عن هشام، عن ابيه، قال كان ابو هريرة يحدث ويقول اسمعي يا ربة الحجرة اسمعي يا ربة الحجرة . وعايشة تصلي فلما قضت صلاتها قالت لعروة الا تسمع الى هذا ومقالته انفا انما كان النبي صلى الله عليه وسلم يحدث حديثا لو عده العاد لاحصاه
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আল আয্দী (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মুখ নিঃসৃত বাণী (হাদীস) তোমরা লিপিবদ্ধ করো না। কুরআন ছাড়া কেউ যদি আমার কথা লিপিবদ্ধ করে থাকে তবে যেন সেটা যেন মিটিয়ে ফেলে। আমার হাদীস বর্ণনা করো, এতে কোন অসুবিধা নেই। যে লোক আমার উপর মিথ্যারোপ করে- হাম্মাম (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা হয় তিনি বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে; তবে সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্ধারণ করে নেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا هداب بن خالد الازدي، حدثنا همام، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تكتبوا عني ومن كتب عني غير القران فليمحه وحدثوا عني ولا حرج ومن كذب على - قال همام احسبه قال - متعمدا فليتبوا مقعده من النار
হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যামানায় এক বাদশাহ ছিল। তার ছিল এক যাদুকর। বার্ধক্যে পৌছে সে বাদশাহকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন যুবককে আপনি আমার কাছে প্রেরণ করুন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব। অতঃপর যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য বাদশাহ তার কাছে এক যুবককে প্রেরণ করল। বালকের যাত্রা পথে ছিল এক ধর্মযাজক। যুবক তার কাছে বসল এবং তার কথা শুনল। তার কথা যুবকের পছন্দ হলো। তারপর যুবক যাদুকরের কাছে যাত্রাকালে সর্বদাই ধর্মযাজকের কাছে যেত এবং তার নিকট বসত। তারপর সে যখন যাদুকরের কাছে যেত তখন সে তাকে মারধর করত। ফলে যাদুকরের ব্যাপারে সে ধর্মযাজকের কাছে অভিযোগ করল। তখন ধর্মযাজক বলল, তোমার যদি যাদুকরের ব্যাপারে ভয় হয় তবে বলবে, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আসতে দেয়নি। আর যদি তুমি তোমার গৃহকর্তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করে তবে বলবে, যাদুকর আমাকে বিলম্বে ছুটি দিয়েছে। এমনিভাবে চলতে থাকাবস্থায় একদিন হঠাৎ সে একটি ভয়ানক হিংস্র প্রাণীর সম্মুখীন হলো, যা লোকেদের পথ আটকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থা দেখে সে বলল, আজই জানতে পারব, যাদুকর উত্তম না ধর্মযাজক উত্তম। অতঃপর একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, হে আল্লাহ! যদি যাদুকরের চাইতে ধর্মযাজক আপনার কাছে পছন্দনীয় হয়, তবে এ পাথরাঘাতে এ হিংস্র প্রাণীটি নিঃশেষ করে দিন, যেন লোকজন চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে সেটার প্রতি পাথর ছুড়ে দিল এবং সেটাকে মেরে ফেলল। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত শুরু করল। এরপর সে ধর্মযাজকের কাছে এসে তাকে সম্পূর্ণ ঘটনা বলল। ধর্মযাজক বলল, বৎস! আজ তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ। তোমার মর্যাদা এ পর্যন্ত পৌছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে শীঘ্রই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি পরীক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা গোপন রাখবে। এদিকে যুবক আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করতে লাগল এবং লোকেদের সমুদয় রোগ-ব্যাধির নিরাময় করতে লাগল। বাদশাহর পরিষদবর্গের এক লোক অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার সংবাদ সে শুনতে পেয়ে বহু হাদিয়া ও উপটৌকন নিয়ে তার নিকট আসলো এবং তাকে বলল, তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পার তবে এসব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিব। এ কথা শুনে যুবক বলল, আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারি না। আরোগ্য তো দেন আল্লাহ তা’আলা। তুমি যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনো তবে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করব, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। তারপর সে আল্লাহর উপর ঈমান আনলো। আল্লাহ তা’আলা তাকে রোগ মুক্ত করে দিলেন। এরপর সে বাদশাহর কাছে এসে অন্যান্য দিনের ন্যায় এবারও বসল। বাদশাহ তাকে প্রশ্ন করল, কে তোমার দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে? সে বলল, আমার পালনকর্তা। এ কথা শুনে বাদশাহ তাকে আবার প্রশ্ন করল, আমি ছাড়া তোমার অন্য কোন পালনকর্তাও আছে কি? সে বলল, আমার ও আপনার সকলের প্রতিপালকই মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন। অতঃপর বাদশাহ্ তাকে পাকড়াও করে অবিরতভাবে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ঐ বালকের অনুসন্ধান দিল, অতঃপর বালককে নিয়ে আসা হলো। বাদশাহ তাকে বলল, হে প্রিয় বৎস! তোমার যাদু এ পর্যায়ে পৌছে গেছে যে, তুমি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকেও নিরাময় করতে পার। বালক বলল, আমি কাউকে নিরাময় করতে পারি না। নিরাময় করেন আল্লাহ। ফলে বাদশাহ তাকে শাস্তি দিতে লাগল, অবশেষে সে ধর্মযাজকের (দরবেশের) কথা বলে দিল। এরপর ধর্মযাজককে ধরে আনা হলো এবং তাকে বলা হলো তুমি তোমার দীন থেকে ফিরে এসো। সে অস্বীকার করল, ফলে তার মাথার তালুতে করাত রেখে সেটাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হলো। এতে তার মাথাও দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। অবশেষে ঐ যুবকটিকে আনা হলো এবং তাকেও বলা হলো তুমি তোমার দীন থেকে ফিরে এসো। সেও অস্বীকার করল। অতঃপর বাদশাহ তাকে তার কিছু সহচরের হাতে তাকে অর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সহ পাহাড়ে আরোহণ করো। পর্বত শৃঙ্গে পৌছার পর সে যদি তার ধর্ম থেকে ফিরে আসে তবে ভাল। নতুবা তাকে সেখান থেকে ছুড়ে মারবে। তারপর তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকে সহ পর্বতে আরোহণ করল। তখন সে দুআ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করো। তৎক্ষণাৎ তাদেরকে সহ পাহাড় কেঁপে উঠল। ফলে তারা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়ল। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ্ তাকে প্রশ্ন করল, তোমার সাথীরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের চক্রান্ত হতে সংরক্ষণ করেছেন। আবারো বাদশাহ্ তাকে তার কতিপয় সহচরের হাতে সমর্পণ করে বলল, তোমরা তাকে নিয়ে নাও এবং নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাও। অতঃপর সে যদি তার দীন (ধর্ম) হতে ফিরে আসে তবে ভাল, নতুবা তোমরা তাকে সমুদ্রে ফেলে দাও। তারা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেল। এবারও সে দু’আ করে বলল, হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা তুমি আমাকে তাদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করো। তৎক্ষণাৎ নৌকাটি তাদেরসহ উল্টে গেল। ফলে তারা সকলেই পানিতে ডুবে গেল। আর যুবক হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ্ তাকে আবার প্রশ্ন করল, তোমার সঙ্গীগণ কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করেছেন। অতঃপর সে বাদশাহকে বলল, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যে পর্যন্ত না তুমি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি অবলম্বন করবে। বাদশাহ বলল, সে আবার কি? যুবক বলল, একটি ময়দানে তুমি লোকেদেরকে জমায়েত করে। অতঃপর একটি কাঠের শুলীতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রাখে। এরপর بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ "বালকের প্রভুর নামে" বলে আমার দিকে তীর নিক্ষেপ কর। এ যদি কর তবে তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে। তার কথা অনুসারে বাদশাহ লোকেদেরকে এক মাঠে জমায়েত করল এবং তাকে একটি কাষ্ঠের শূলীতে চড়ালো। অতঃপর তার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রেখে بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ "বালকের প্রভুর নামে" বলে তার দিকে তা নিক্ষেপ করল। তীর তার কানের নিম্নাংশে গিয়ে বিধল। অতঃপর সে তীরবিদ্ধ স্থানে নিজের হাত রাখল এবং সাথে সাথে প্রাণত্যাগ করল। এ দৃশ্য দেখে রাজ্যের লোকজন বলে উঠল, آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ আমরা এ যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান আনলাম। এ সংবাদ বাদশাহকে জানানো হলো এবং তাকে বলা হলো, লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি যে পরিস্থিতি হতে আশঙ্কা করছিলেন, আল্লাহর শপথ! সে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিই আপনার মাথার উপর চেপে বসেছে। সকল মানুষই যুবকের পালনকর্তার উপর ঈমান এনেছে। এ দেখে বাদশাহ সকল রাস্তার মাথায় গর্ত খননের নির্দেশ দিল। গর্ত খনন করা হলো এবং ওগুলোতে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করা হলো। অতঃপর বাদশাহ আদেশ করল যে, যে লোক তার ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে ওগুলোতে নিপতিত করবে। কিংবা সে বলল, তাকে বলবে, যেন সে অগ্নিতে প্রবেশ করে। লোকেরা তাই করল। পরিশেষে এক মহিলা একটি শিশু নিয়ে অগ্নিগহবরে পতিত হবার ব্যাপারে ইতস্তত করছিল। এ দেখে দুধের শিশু তাকে (মাকে) বলল, ওহে আম্মাজান! সবর করুন, আপনি তো সত্য দীনের (ধর্মের) উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার পিতার কাছে আসলেন এবং তার থেকে একটি সওয়ারী ক্রয় করলেন। তারপর তিনি আমার পিতা আযিবকে বললেন, তুমি তোমার ছেলেকে আমার সঙ্গে পাঠাও, সে তা আমার সাথে বহন করে আমার বাড়ী পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়ে আসবে। আমার পিতা আমাকে বললেন, তুমি তা উঠিয়ে নাও। আমি সেটা উঠিয়ে নিলাম। অতঃপর মূল্য আদায়ের জন্য আমার পিতাও তার সঙ্গে বের হলেন। পথিমধ্যে আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু বাকর যে রাতে আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করেছিলেন তখন আপনারা কি করেছিলেন, তা আমার কাছে আপনি খুলে বলুন। জবাবে তিনি বললেন, তা হলে শোন, আমরা পুরো রাত সফর করেছি। পরিশেষে যখন দিন হলো, ঠিক দুপুরের সময় হলে রাস্তা সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেল এবং কোন লোকজন আর রাস্তা অতিক্রম করছে না, তখন আমরা একটি বৃহদাকায় পাথর দেখতে পেলাম। এর ছায়া মাটিতে পড়ছিল এবং তখন পর্যন্ত সেখানে রৌদ্র আসেনি। তাই আমরা সেখানে গেলাম এবং আমি নিজে পাথরটির নিকট গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘুমানোর জন্য একটু স্থান সমান্তরাল করলাম। এরপর আমি একটি কম্বল তাতে বিছিয়ে দিলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন, আমি এলাকাটা একটু পর্যবেক্ষণ করে আসি। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। আর আমি তার পার্শ্ববর্তী স্থানসমূহে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। হঠাৎ একজন বকরীর রাখালকে দেখতে পেলাম। সেও আমাদের মতো একই উদ্দেশে পাথরটির দিকে এগিয়ে আসছে। আমি তার সঙ্গে দেখা করলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম, হে! তুমি কার গোলাম? সে বলল, আমি শহরবাসী এক লোকের গোলাম। আমি বললাম, তোমার বকরীতে দুধ আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, তাহলে আমার জন্য দুধ দোহন করবে কি? সে বলল, হ্যাঁ, করব। তারপর সে একটি বকরী নিয়ে এলো। তখন আমি তাকে বললাম, প্রথমে পশম, মাটি এবং খড়কুটা হতে স্তনটি একবার ঝেড়ে নাও। রাবী বলেন, এ সময় আমি বারা ইবনু আযিবকে এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে ঝাড়তে দেখেছি। অতঃপর সে কাষ্ঠের একটি পেয়ালাতে আমার জন্য অল্প দুধ দোহন করল। আবু বাকর (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে একটি পাত্র ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পান করা ও ওযু করার জন্য তাতে আমি পানি রাখতাম। তারপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। কিন্তু তাকে ঘুম থেকে জাগাতে আমার ইচ্ছা হল না। তবে তার প্রতি আমি চেয়ে দেখি যে, তিনি নিজে নিজেই জেগে গেছেন। তারপর দুধের মাঝে আমি পানি মিশালাম। ফলে তা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এ থেকে একটু দুধ পান করে নিন। তিনি দুধ পান করলেন, তাতে অত্যন্ত খুশী হলাম। অতঃপর তিনি বললেন, এখনো কি যাত্রার সময় হয়নি? আমি বললাম, হ্যাঁ, হয়েছে। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়লে আমরা পুনরায় যাত্রা শুরু করলাম। এদিকে সুরাকাহ ইবনু মালিক আমাদের পিছু ধাওয়া করল। আমরা তখন এক শক্ত ভূমিতে অবস্থান করছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদেরকে তো ধরে ফেলা হলো। তিনি বললেন, চিন্তান্বিত হয়ে না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর বদদুআ করলেন। এতে তার ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ধ্বসে গেল। আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম। তারপর সে বলল, আমি জানি, তোমরা আমার জন্য বদ-দু’আ করেছ। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তো তোমাদের সন্ধানে বের হয়েছিলাম, এখন আমি তোমাদের সন্ধানকারীকে ফিরিয়ে দিবো। সুতরাং তোমরা আমার জন্য দুআ করো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন। এতে সে মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর সে ফিরে গেল এবং যে কোন কাফিরের সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বলত, এদিকে আমি সব দেখে এসেছি। এদিকে কোন কিছুই নেই। মোটকথা, যার সাথেই তার দেখা হত সে তাকে ফিরিয়ে দিত। আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বলেন, সুরাকাহ্ তার ওয়াদা পুরো করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪১, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার পিতার কাছ থেকে তের দিরহামের বিনিময়ে একটি হাওদা কিনেছিলে। তারপর তিনি যুহায়র এর সানাদে ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে ইসরাঈল উসমান ইবনু উমর (রহঃ) এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে বর্ণনা করেছেন যে, সে কাছাকাছি হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বদ্-দুআ করলেন। এতে পেট পর্যন্ত তার ঘোড়ার পা জমিনে গেড়ে যায়। সুরাকাহ সেখান হতেই লাফিয়ে পড়ল এবং (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উদ্দেশ্য করে) বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি জানি, এটা তোমারই কাজ। আমি যে বিপদে আছি এ থেকে যেন আল্লাহ আমাকে মুক্তি দেন, এ বিষয়ে তুমি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করো। আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমার পেছনে যারাই তোমার সন্ধানে থাকবে আমি তাদের থেকে তোমার অবস্থান লুক্কায়িত করব এবং এ হচ্ছে আমার তীরদানী, এ থেকে তুমি একটি তীর নিয়ে যাও। কিছু দূর যেতেই অমুক স্থানে তুমি আমার উট ও গোলামদেরকে দেখতে পাবে, সেখান থেকে তুমি তোমার প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ে যাবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার উটের আমার কোন দরকার নেই। আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, রাতে আমরা মদীনায় পৌঁছলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কার গৃহে অবস্থান করবেন, এ নিয়ে লোকেদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলো। তখন তিনি বললেন, আমি আবদুল মুত্তালিবের মামার বংশ বানু নাজ্জারে অবস্থান করব এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব। অতঃপর পুরুষ লোকেরা ও মহিলাগণ নিজ নিজ গৃহের ছাদে এবং বালক ও ক্রীতদাসগণ পথে পথে বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। সকলে অভ্যর্থনা জানিয়ে উচ্চঃস্বরে বলতে লাগল যে, হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রসূল! হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنيه زهير بن حرب، حدثنا عثمان بن عمر، ح وحدثناه اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا النضر بن شميل، كلاهما عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء، قال اشترى ابو بكر من ابي رحلا بثلاثة عشر درهما وساق الحديث بمعنى حديث زهير عن ابي اسحاق وقال في حديثه من رواية عثمان بن عمر فلما دنا دعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فساخ فرسه في الارض الى بطنه ووثب عنه وقال يا محمد قد علمت ان هذا عملك فادع الله ان يخلصني مما انا فيه ولك على لاعمين على من ورايي وهذه كنانتي فخذ سهما منها فانك ستمر على ابلي وغلماني بمكان كذا وكذا فخذ منها حاجتك قال " لا حاجة لي في ابلك " . فقدمنا المدينة ليلا فتنازعوا ايهم ينزل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انزل على بني النجار اخوال عبد المطلب اكرمهم بذلك " . فصعد الرجال والنساء فوق البيوت وتفرق الغلمان والخدم في الطرق ينادون يا محمد يا رسول الله يا محمد يا رسول الله
حدثنا هداب بن خالد، حدثنا حماد بن سلمة، حدثنا ثابت، عن عبد الرحمن بن، ابي ليلى عن صهيب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " كان ملك فيمن كان قبلكم وكان له ساحر فلما كبر قال للملك اني قد كبرت فابعث الى غلاما اعلمه السحر . فبعث اليه غلاما يعلمه فكان في طريقه اذا سلك راهب فقعد اليه وسمع كلامه فاعجبه فكان اذا اتى الساحر مر بالراهب وقعد اليه فاذا اتى الساحر ضربه فشكا ذلك الى الراهب فقال اذا خشيت الساحر فقل حبسني اهلي . واذا خشيت اهلك فقل حبسني الساحر . فبينما هو كذلك اذ اتى على دابة عظيمة قد حبست الناس فقال اليوم اعلم الساحر افضل ام الراهب افضل فاخذ حجرا فقال اللهم ان كان امر الراهب احب اليك من امر الساحر فاقتل هذه الدابة حتى يمضي الناس . فرماها فقتلها ومضى الناس فاتى الراهب فاخبره فقال له الراهب اى بنى انت اليوم افضل مني . قد بلغ من امرك ما ارى وانك ستبتلى فان ابتليت فلا تدل على . وكان الغلام يبري الاكمه والابرص ويداوي الناس من ساير الادواء فسمع جليس للملك كان قد عمي فاتاه بهدايا كثيرة فقال ما ها هنا لك اجمع ان انت شفيتني فقال اني لا اشفي احدا انما يشفي الله فان انت امنت بالله دعوت الله فشفاك . فامن بالله فشفاه الله فاتى الملك فجلس اليه كما كان يجلس فقال له الملك من رد عليك بصرك قال ربي . قال ولك رب غيري قال ربي وربك الله . فاخذه فلم يزل يعذبه حتى دل على الغلام فجيء بالغلام فقال له الملك اى بنى قد بلغ من سحرك ما تبري الاكمه والابرص وتفعل وتفعل . فقال اني لا اشفي احدا انما يشفي الله . فاخذه فلم يزل يعذبه حتى دل على الراهب فجيء بالراهب فقيل له ارجع عن دينك . فابى فدعا بالميشار فوضع الميشار في مفرق راسه فشقه حتى وقع شقاه ثم جيء بجليس الملك فقيل له ارجع عن دينك . فابى فوضع الميشار في مفرق راسه فشقه به حتى وقع شقاه ثم جيء بالغلام فقيل له ارجع عن دينك . فابى فدفعه الى نفر من اصحابه فقال اذهبوا به الى جبل كذا وكذا فاصعدوا به الجبل فاذا بلغتم ذروته فان رجع عن دينه والا فاطرحوه فذهبوا به فصعدوا به الجبل فقال اللهم اكفنيهم بما شيت . فرجف بهم الجبل فسقطوا وجاء يمشي الى الملك فقال له الملك ما فعل اصحابك قال كفانيهم الله . فدفعه الى نفر من اصحابه فقال اذهبوا به فاحملوه في قرقور فتوسطوا به البحر فان رجع عن دينه والا فاقذفوه . فذهبوا به فقال اللهم اكفنيهم بما شيت . فانكفات بهم السفينة فغرقوا وجاء يمشي الى الملك فقال له الملك ما فعل اصحابك قال كفانيهم الله . فقال للملك انك لست بقاتلي حتى تفعل ما امرك به . قال وما هو قال تجمع الناس في صعيد واحد وتصلبني على جذع ثم خذ سهما من كنانتي ثم ضع السهم في كبد القوس ثم قل باسم الله رب الغلام . ثم ارمني فانك اذا فعلت ذلك قتلتني . فجمع الناس في صعيد واحد وصلبه على جذع ثم اخذ سهما من كنانته ثم وضع السهم في كبد القوس ثم قال باسم الله رب الغلام . ثم رماه فوقع السهم في صدغه فوضع يده في صدغه في موضع السهم فمات فقال الناس امنا برب الغلام امنا برب الغلام امنا برب الغلام . فاتي الملك فقيل له ارايت ما كنت تحذر قد والله نزل بك حذرك قد امن الناس . فامر بالاخدود في افواه السكك فخدت واضرم النيران وقال من لم يرجع عن دينه فاحموه فيها . او قيل له اقتحم . ففعلوا حتى جاءت امراة ومعها صبي لها فتقاعست ان تقع فيها فقال لها الغلام يا امه اصبري فانك على الحق
حدثني سلمة بن شبيب، حدثنا الحسن بن اعين، حدثنا زهير، حدثنا ابو اسحاق، قال سمعت البراء بن عازب، يقول جاء ابو بكر الصديق الى ابي في منزله فاشترى منه رحلا فقال لعازب ابعث معي ابنك يحمله معي الى منزلي فقال لي ابي احمله . فحملته وخرج ابي معه ينتقد ثمنه فقال له ابي يا ابا بكر حدثني كيف صنعتما ليلة سريت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال نعم اسرينا ليلتنا كلها حتى قام قايم الظهيرة وخلا الطريق فلا يمر فيه احد حتى رفعت لنا صخرة طويلة لها ظل لم تات عليه الشمس بعد فنزلنا عندها فاتيت الصخرة فسويت بيدي مكانا ينام فيه النبي صلى الله عليه وسلم في ظلها ثم بسطت عليه فروة ثم قلت نم يا رسول الله وانا انفض لك ما حولك فنام وخرجت انفض ما حوله فاذا انا براعي غنم مقبل بغنمه الى الصخرة يريد منها الذي اردنا فلقيته فقلت لمن انت يا غلام فقال لرجل من اهل المدينة قلت افي غنمك لبن قال نعم . قلت افتحلب لي قال نعم . فاخذ شاة فقلت له انفض الضرع من الشعر والتراب والقذى - قال فرايت البراء يضرب بيده على الاخرى ينفض - فحلب لي في قعب معه كثبة من لبن قال ومعي اداوة ارتوي فيها للنبي صلى الله عليه وسلم ليشرب منها ويتوضا - قال - فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم وكرهت ان اوقظه من نومه فوافقته استيقظ فصببت على اللبن من الماء حتى برد اسفله فقلت يا رسول الله اشرب من هذا اللبن - قال - فشرب حتى رضيت ثم قال " الم يان للرحيل " . قلت بلى . قال فارتحلنا بعد ما زالت الشمس واتبعنا سراقة بن مالك - قال - ونحن في جلد من الارض فقلت يا رسول الله اتينا فقال " لا تحزن ان الله معنا " . فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فارتطمت فرسه الى بطنها ارى فقال اني قد علمت انكما قد دعوتما على فادعوا لي فالله لكما ان ارد عنكما الطلب . فدعا الله فنجى فرجع لا يلقى احدا الا قال قد كفيتكم ما ها هنا فلا يلقى احدا الا رده - قال - ووفى لنا