Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮২ হাদিসসমূহ
আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আবু বাকরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি দু’জন মুসলিমের একজন তার অন্য ভাইয়ের উপর অস্ত্র ধারণ করে তবে তারা দু’জনেই জাহান্নামের প্রান্তে এসে উপনীত হয়। তারপর যখন তাদের একজন তার অন্য সাথীকে হত্যা করে ফেলে, তখন তারা উভয়েই জাহান্নামে প্রবেশ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا غندر، عن شعبة، ح وحدثنا محمد بن المثنى، وابن بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن منصور، عن ربعي بن حراش، عن ابي بكرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا المسلمان حمل احدهما على اخيه السلاح فهما في جرف جهنم فاذا قتل احدهما صاحبه دخلاها جميعا
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত কায়িম হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না ‘হারজ’ বেড়ে যায়। সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! হারজ কি? উত্তরে তিনি বললেন, হত্যা, হত্যা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا يعقوب، - يعني ابن عبد الرحمن - عن سهيل، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تقوم الساعة حتى يكثر الهرج " . قالوا وما الهرج يا رسول الله قال " القتل القتل
আবু রাবী’ আল আতাকী ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করে আমার সম্মুখে রেখে দিলেন। অতঃপর আমি এর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যে অংশটুকু গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের কর্তৃত্ব পৌছবে। আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দু’ প্রকারের গুপ্তধন দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার রবের কাছে এ দুআ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধবংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ছাড়া এমন কোন শক্ৰকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিবে। এ কথা শুনে আমার পালনকর্তা বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো পরিবর্তন হয় না, আমি তোমার দুআ কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য এমন কোন শক্রকে চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক একত্রিত হয়ে প্রচেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ নিজেদের মধ্যে পরস্পর একে অপরকে হত্যা করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو الربيع العتكي، وقتيبة بن سعيد، كلاهما عن حماد بن زيد، - واللفظ لقتيبة - حدثنا حماد، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن ابي اسماء، عن ثوبان، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله زوى لي الارض فرايت مشارقها ومغاربها وان امتي سيبلغ ملكها ما زوي لي منها واعطيت الكنزين الاحمر والابيض واني سالت ربي لامتي ان لا يهلكها بسنة بعامة وان لا يسلط عليهم عدوا من سوى انفسهم فيستبيح بيضتهم وان ربي قال يا محمد اني اذا قضيت قضاء فانه لا يرد واني اعطيتك لامتك ان لا اهلكهم بسنة بعامة وان لا اسلط عليهم عدوا من سوى انفسهم يستبيح بيضتهم ولو اجتمع عليهم من باقطارها - او قال من بين اقطارها - حتى يكون بعضهم يهلك بعضا ويسبي بعضهم بعضا
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীকে গুটিয়ে আল্লাহ তা’আলা আমার সম্মুখে উপস্থিত করলেন। আমি এর পূর্বপ্রান্ত হতে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত দেখে নিলাম। আল্লাহ তা’আলা আমাকে লাল (স্বর্ণ) ও সাদা (রৌপ্য) দু'টি ধন-ভাণ্ডার দান করেছেন। অতঃপর কাতাদাহ (রহঃ) আইয়্যুব এর সূত্রে আবূ কিলাবাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني زهير بن حرب، واسحاق بن ابراهيم، ومحمد بن المثنى، وابن، بشار قال اسحاق اخبرنا وقال الاخرون، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني ابي، عن قتادة، عن ابي قلابة، عن ابي اسماء الرحبي، عن ثوبان، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال " ان الله تعالى زوى لي الارض حتى رايت مشارقها ومغاربها واعطاني الكنزين الاحمر والابيض " . ثم ذكر نحو حديث ايوب عن ابي قلابة
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সা’দ (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আলিয়াহ্ হতে এসে বানু মু’আবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের সন্নিকটে গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সময় তিনি তার প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ সময় দুআ করলেন এবং দু’আ শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন। তারপর তিনি বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি প্রদান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মাতকে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দুআ কবুল করেছেন। তাঁর নিকট এ-ও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দু’আও কবুল করেছেন। আমি তার নিকট এ মর্মেও দুআ করেছিলাম যে, যেন মুসলিমরা পরস্পর একে অপরের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি আমার এ দুআ কবুল করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا ابن نمير، - واللفظ له - حدثنا ابي، حدثنا عثمان بن حكيم، اخبرني عامر بن سعد، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اقبل ذات يوم من العالية حتى اذا مر بمسجد بني معاوية دخل فركع فيه ركعتين وصلينا معه ودعا ربه طويلا ثم انصرف الينا فقال صلى الله عليه وسلم " سالت ربي ثلاثا فاعطاني ثنتين ومنعني واحدة سالت ربي ان لا يهلك امتي بالسنة فاعطانيها وسالته ان لا يهلك امتي بالغرق فاعطانيها وسالته ان لا يجعل باسهم بينهم فمنعنيها
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আমির ইবনু সা’দ (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি সহাবাদের একটি দলের মাঝে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোথাও থেকে আসলেন। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু মু’আবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইবনু নুমায়র এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه ابن ابي عمر، حدثنا مروان بن معاوية، حدثنا عثمان بن حكيم الانصاري، اخبرني عامر بن سعد، عن ابيه، انه اقبل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في طايفة من اصحابه فمر بمسجد بني معاوية . بمثل حديث ابن نمير
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... আবু ইদরীস খাওলানী (রহঃ) বলতেন, হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাযিঃ) বলেন, আমার ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী সময়ের মাঝে ঘটমান বিপদাপদ সম্পর্কে আমি সর্বাধিক জ্ঞাত। বস্তুতঃ বিষয়টি এমন নয় যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদের কাছে বর্ণনা না করে শুধুমাত্র আমার কাছেই এ ব্যাপারটি বর্ণনা করেছেন। তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। এতে তিনি ফিতনার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করছিলেন। আর এগুলোর তিনটি এমন, যা কোন কিছুকেই ছাড় দিবে না। এর কিছু সংখ্যক গ্রীষ্মের ঝঞা বায়ুর মতো। আবার কিছু সংখ্যক ছোট এবং কিছু সংখ্যক বড়। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) বলেন, উক্ত মাজলিসে উপস্থিত লোকেদের মধ্যে আমি ছাড়া প্রত্যেকেই এ দুনিয়া হতে চির বিদায় নিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني حرملة بن يحيى التجيبي، اخبرنا ابن وهب، اخبرني يونس، عن ابن شهاب، ان ابا ادريس الخولاني، كان يقول قال حذيفة بن اليمان والله اني لاعلم الناس بكل فتنة هي كاينة فيما بيني وبين الساعة وما بي الا ان يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم اسر الى في ذلك شييا لم يحدثه غيري ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وهو يحدث مجلسا انا فيه عن الفتن فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يعد الفتن " منهن ثلاث لا يكدن يذرن شييا ومنهن فتن كرياح الصيف منها صغار ومنها كبار " . قال حذيفة فذهب اوليك الرهط كلهم غيري
উসমান ইবনু আবু শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, সকল বিষয় ফিতনার কথা বর্ণনা করলেন। তারপর যে স্মরণ রাখবার সে স্মরণ রাখল এবং যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেল। তিনি বলেন, আমার এ সঙ্গীগণ জানেন যে, তন্মধ্যে কতক বিষয় এমন আছে, যা আমি ভুলে গেছি। কিন্তু সেটা সংঘটিত হতে দেখে আমার তা আবার মনে পড়ে যায়। যেরূপ কোন লোক দূরে চলে গেলে তার চেহারার কথা মানুষ ভুলে যায়। অতঃপর তাকে দেখে সে চিনে নেয়।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا عثمان بن ابي شيبة، واسحاق بن ابراهيم، قال عثمان حدثنا وقال، اسحاق اخبرنا جرير، عن الاعمش، عن شقيق، عن حذيفة، قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاما ما ترك شييا يكون في مقامه ذلك الى قيام الساعة الا حدث به حفظه من حفظه ونسيه من نسيه قد علمه اصحابي هولاء وانه ليكون منه الشىء قد نسيته فاراه فاذكره كما يذكر الرجل وجه الرجل اذا غاب عنه ثم اذا راه عرفه
(…/...) আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ অর্থাৎ "যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে" পর্যন্ত অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফইয়ান (রহঃ) বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن الاعمش، بهذا الاسناد الى قوله ونسيه من نسيه . ولم يذكر ما بعده
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবু বকর ইবনু নাফি’ (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমুদয় ফিতনা্ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। ফিতনাহ সম্পৰ্কীয় কতক বিষয় সম্পর্কে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তবে মাদীনাবাসীকে কোন কারণে মাদীনাহ হতে বের করা হবে সে সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، ح وحدثني ابو بكر، بن نافع حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن عدي بن ثابت، عن عبد الله بن يزيد، عن حذيفة، انه قال اخبرني رسول الله صلى الله عليه وسلم بما هو كاين الى ان تقوم الساعة فما منه شىء الا قد سالته الا اني لم اساله ما يخرج اهل المدينة من المدينة
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণিত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثني وهب بن جرير، اخبرنا شعبة، بهذا الاسناد نحوه
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী ও হাজ্জাজ ইবনু আশ শাইর (রহঃ) ..... আবূ যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর মিম্বারে আরোহণ করে ভাষণ দিলেন। পরিশেষে যুহরের সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি মিম্বার হতে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর পুনরায় মিম্বারে উঠে তিনি ভাষণ দিলেন। এবার আসরের সালাতের ওয়াক্ত হলে তিনি মিম্বার থেকে নেমে সালাত আদায় করে পুনরায় মিম্বারে উঠলেন এবং আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুতবাহ্ দিলেন, এমনকি সূর্যাস্ত হয়ে গেল, এ ভাষণে তিনি আমাদেরকে পূর্বে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে ইত্যকার সম্বন্ধে সংবাদ দিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যে লোক এ কথাগুলো সর্বাধিক মনে রেখেছেন আমাদের মধ্যে এ সম্বন্ধে তিনিই সবচেয়ে বেশী জানেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৩, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني يعقوب بن ابراهيم الدورقي، وحجاج بن الشاعر، جميعا عن ابي عاصم، - قال حجاج حدثنا ابو عاصم، - اخبرنا عزرة بن ثابت، اخبرنا علباء بن احمر، حدثني ابو زيد، - يعني عمرو بن اخطب - قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الفجر وصعد المنبر فخطبنا حتى حضرت الظهر فنزل فصلى ثم صعد المنبر فخطبنا حتى حضرت العصر ثم نزل فصلى ثم صعد المنبر فخطبنا حتى غربت الشمس فاخبرنا بما كان وبما هو كاين فاعلمنا احفظنا
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবনুল ‘আলা আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমর (রাযিঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, ফিতনাহ্ বিষয়ক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী তোমাদের কার মনে আছে? আমি বললাম, আমার মনে আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ব্যস! তুমি তো খুব সাহসী। তিনি কি বলেছেন, বলো! তারপর আমি বললাম, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, স্বীয় নাফস, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় জড়িত হয়, তার সিয়াম, সালাত, সদাকাহ এবং সৎকার্যের আদেশ ও অসৎকার্যে বাধা দানই হলো এগুলোর জন্য কাফফারাহ। এ কথা শুনে উমর (রহঃ) বললেন, আমি তো এ ফিতনার ব্যাপারে শুনতে চাইনি বরং সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো যে ফিতনাহ নিপতিত হতে থাকবে, আমি তো শুধু তাই শুনতে চেয়েছি। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ফিতনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক, এতে আপনার উদ্দেশ্য কি? এ ফিতনাহ্ ও আপনার মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার অন্তরায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, এ দ্বার কি ভাঙ্গা হবে, না খোলা হবে? আমি বললাম, না,খোলা হবে না, বরংভাঙ্গা হবে। এ কথা শুনে ‘উমার (রাযিঃ) বললেন, তবে তো তা আর কক্ষনো বন্ধ হবে না। বর্ণনাকারী শাকীক (রহঃ) বলেন, আমরা হুয়াইফাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলাম, কে সে দ্বার, উমার (রাযিঃ) তা কি জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগামী দিনের পর রাত্র, এ কথাটি যেমন জানতেন, ঠিক তদ্রুপ ঐ বিষয়টিও তিনি জানতেন। হুয়াইফাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে ভুল হাদীস শুনাইনি। শাকীক (রহঃ) বলেন, কে সে দরজা, এ বিষয়ে হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরুক (রহঃ) কে বললাম, আপনি তাকে প্রশ্ন করুন। তিনি হুযাইফাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলেন। হুযাইফাহ (রাযিঃ) বললেন, এ দরজা হচ্ছে স্বয়ং উমার (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير، ومحمد بن العلاء ابو كريب، جميعا عن ابي، معاوية قال ابن العلاء حدثنا ابو معاوية، حدثنا الاعمش، عن شقيق، عن حذيفة، قال كنا عند عمر فقال ايكم يحفظ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في الفتنة كما قال قال فقلت انا . قال انك لجريء وكيف قال قال قلت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " فتنة الرجل في اهله وماله ونفسه وولده وجاره يكفرها الصيام والصلاة والصدقة والامر بالمعروف والنهى عن المنكر " . فقال عمر ليس هذا اريد انما اريد التي تموج كموج البحر - قال - فقلت ما لك ولها يا امير المومنين ان بينك وبينها بابا مغلقا قال افيكسر الباب ام يفتح قال قلت لا بل يكسر . قال ذلك احرى ان لا يغلق ابدا . قال فقلنا لحذيفة هل كان عمر يعلم من الباب قال نعم كما يعلم ان دون غد الليلة اني حدثته حديثا ليس بالاغاليط . قال فهبنا ان نسال حذيفة من الباب فقلنا لمسروق سله فساله فقال عمر
(…) আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, উসমান ইবনু আবু শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ...... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে আবু মু’আবিয়ার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা (রহঃ) এর সানাদে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি হুয়াইফাহ্ (রাযিঃ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৫, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه ابو بكر بن ابي شيبة، وابو سعيد الاشج قالا حدثنا وكيع، ح وحدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، ح وحدثنا اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا عيسى بن يونس، ح وحدثنا ابن ابي عمر، حدثنا يحيى بن عيسى، كلهم عن الاعمش، بهذا الاسناد . نحو حديث ابي معاوية وفي حديث عيسى عن الاعمش، عن شقيق، قال سمعت حذيفة، يقول
ইবনু আবু উমর (রাযিঃ) ..... হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'উমার (রাযিঃ) বললেন, ফিতনাহ সম্পকীয় হাদীস আমাকে কে শুনাতে পারবে? তারপর সুফইয়ান (রহঃ) পূর্ববর্তীদের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৬, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن جامع بن ابي راشد، والاعمش، عن ابي وايل، عن حذيفة، قال قال عمر من يحدثنا عن الفتنة، واقتص الحديث، بنحو حديثهم
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুনদুব (রাযিঃ) বললেন, আমি জারা’আয় (কুফার সন্নিকটবর্তী একটি স্থানে) আসলাম। দেখলাম এক লোক বসে আছে। আমি বললাম, আজ তো এখানে কয়েকটি খুন হবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল, কক্ষনো না। আল্লাহর শপথ খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। অবশ্যই খুন হবে। সে আবারো বলল, আল্লাহর শপথ! কক্ষনো খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। অবশ্যই খুন হবে। আবার সে বলল, আল্লাহর শপথ খুন কক্ষনো হবে না। এ ব্যাপারে আমি একটি হাদীস শুনেছি, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, আজ থেকে তুমি আমার একজন অপ্রীতিকর সঙ্গী। কারণ তুমি শুনতে পাচ্ছ যে, আমি তোমার বিরুদ্ধাচরণ করছি। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস শুনা সত্ত্বেও তুমি আমাকে নিষেধ করছ না। তারপর আমি বললাম, এ অসন্তুষ্টির কি কারণ? তাই আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম পরে জানতে পেলাম, তিনি হলেন হুযাইফাহ (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৭, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن المثنى، ومحمد بن حاتم، قالا حدثنا معاذ بن معاذ، حدثنا ابن، عون عن محمد، قال قال جندب جيت يوم الجرعة فاذا رجل جالس فقلت ليهراقن اليوم ها هنا دماء . فقال ذاك الرجل كلا والله . قلت بلى والله . قال كلا والله . قلت بلى والله . قال كلا والله انه لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثنيه . قلت بيس الجليس لي انت منذ اليوم تسمعني اخالفك وقد سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا تنهاني ثم قلت ما هذا الغضب فاقبلت عليه واساله فاذا الرجل حذيفة
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না ফুরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পাহাড় বের করে দেয়। লোকেরা এ নিয়ে যুদ্ধ করবে এবং একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন মৃত্যুবরণ করবে। তাদের সকলেই বলবে, আমার মনে হয় আমি জীবন্ত থাকব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا يعقوب، - يعني ابن عبد الرحمن القاري - عن سهيل، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تقوم الساعة حتى يحسر الفرات عن جبل من ذهب يقتتل الناس عليه فيقتل من كل ماية تسعة وتسعون ويقول كل رجل منهم لعلي اكون انا الذي انجو
(…/...) উমাইয়্যাহ ইবনু বিস্তাম (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা বলেছেন, যদি তোমরা ঐ পাহাড় দেখো তবে তোমরা এর নিকটেও যেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৯, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني امية بن بسطام، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا روح، عن سهيل، بهذا الاسناد نحوه وزاد فقال ابي ان رايته فلا تقربنه
আবূ মাসউদ সাহল ইবনু উসমান (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থত স্বর্ণভাণ্ডার বের করে দিবে। সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০১০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو مسعود، سهل بن عثمان حدثنا عقبة بن خالد السكوني، عن عبيد، الله عن خبيب بن عبد الرحمن، عن حفص بن عاصم، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يوشك الفرات ان يحسر عن كنز من ذهب فمن حضره فلا ياخذ منه شييا
সাহল ইবনু উসমান (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থত পাহাড়সম স্বর্ণ বের করে দিবে। তাই এ সময় যারা সমুপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০১১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا سهل بن عثمان، حدثنا عقبة بن خالد، عن عبيد الله، عن ابي الزناد، عن عبد الرحمن الاعرج، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يوشك الفرات ان يحسر عن جبل من ذهب فمن حضره فلا ياخذ منه شييا