Loading...

Loading...
বইসমূহ
২২৩ হাদিসসমূহ
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ইবনু জামীল ইবনু তারীফ আস্ সাকাফী ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা হাকদার ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তারপরও তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপর তোমার পিতা। আর কুতাইবাহ বর্ণিত হাদীসে "আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা যোগ্য কে" এর উল্লেখ আছে। তিনি (কুতাইবাহ) তার রিওয়ায়াতে "মানুষ" শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭ম খণ্ড, ৬২৬৯; ইসলামিক সেন্টার, ৮ম খণ্ড)
حدثنا قتيبة بن سعيد بن جميل بن طريف الثقفي، وزهير بن حرب، قالا حدثنا جرير، عن عمارة بن القعقاع، عن ابي زرعة، عن ابي هريرة، قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال من احق الناس بحسن صحابتي قال " امك " . قال ثم من قال " ثم امك " . قال ثم من قال " ثم امك " . قال ثم من قال " ثم ابوك " . وفي حديث قتيبة من احق بحسن صحابتي ولم يذكر الناس
আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা আল হামদানী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (মানুষের মধ্যে) সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকারী ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপর তোমার পিতা। অতঃপর তোমার নিকটবর্তী জন। এরপর তোমার নিকটবর্তী জন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء الهمداني حدثنا ابن فضيل، عن ابيه، عن عمارة، بن القعقاع عن ابي زرعة، عن ابي هريرة، قال قال رجل يا رسول الله من احق بحسن الصحبة قال " امك ثم امك ثم امك ثم ابوك ثم ادناك ادناك
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলো। এরপর তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এতে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর সে বলল, হ্যাঁ। তোমার পিতার শপথ! তুমি অবশ্যই অবগত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا شريك، عن عمارة، وابن، شبرمة عن ابي، زرعة عن ابي هريرة، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم . فذكر بمثل حديث جرير وزاد فقال " نعم وابيك لتنبان
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আহমাদ ইবনু খিরাশ (রহঃ) ..... ইবনু শুবরুমাহ (রহঃ) থেকে এ সানাদে উহায়ব বর্ণিত হাদীসে (সর্বাপেক্ষা সদ্ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য কে?) উল্লেখ রয়েছে। আর মুহাম্মদ ইবনু তালহার হাদীসে মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা বেশী অধিকার কার রয়েছে। এরপর তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني محمد بن حاتم، حدثنا شبابة، حدثنا محمد بن طلحة، ح وحدثني احمد، بن خراش حدثنا حبان، حدثنا وهيب، كلاهما عن ابن شبرمة، بهذا الاسناد في حديث وهيب من ابر وفي حديث محمد بن طلحة اى الناس احق مني بحسن الصحبة ثم ذكر بمثل حديث جرير
আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। এরপর সে তার নিকট জিহাদে অংশগ্রহণের অনুমতি চাইল। তখন তিনি বললেন, তোমার মাতা-পিতা কি জীবিত আছেন? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তাদের উভয়ের (খিদমাত করে) সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وزهير بن حرب، قالا حدثنا وكيع، عن سفيان، عن حبيب، ح وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، - يعني ابن سعيد القطان - عن سفيان، وشعبة قالا حدثنا حبيب، عن ابي العباس، عن عبد الله بن عمرو، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم يستاذنه في الجهاد فقال " احى والداك " . قال نعم . قال " ففيهما فجاهد
সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে আগমন করলো। এরপর সে বলল, আমি আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের জন্য বাই’আত গ্রহণ করব। (এর দ্বারা) আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার ও বিনিময় আশা করি। তিনি বললেন, তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কেউ জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, তারা দু’জনই জীবিত। তিনি আবার বললেন, সত্যিই কি! তুমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান আকাঙ্ক্ষা করছ? সে বলল, হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার মাতা-পিতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের দু’জনের সঙ্গে সদাচরণ কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا سعيد بن منصور، حدثنا عبد الله بن وهب، اخبرني عمرو بن الحارث، عن يزيد بن ابي حبيب، ان ناعما، مولى ام سلمة حدثه ان عبد الله بن عمرو بن العاص قال اقبل رجل الى نبي الله صلى الله عليه وسلم فقال ابايعك على الهجرة والجهاد ابتغي الاجر من الله . قال " فهل من والديك احد حى " . قال نعم بل كلاهما . قال " فتبتغي الاجر من الله " . قال نعم . قال " فارجع الى والديك فاحسن صحبتهما
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুরায়জ (বনী ইসরাঈলের একজন আবিদ ব্যক্তি) তার ইবাদাতখানায় ইবাদাতে নিমগ্ন থাকতেন। (একবার) তার মাতা তার কাছে আসলেন। হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে আবু রাফি এমন ভঙ্গিতে ব্যক্ত করেন, যেমনভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মায়ের ডাকের ভঙ্গিতে আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর কাছে ব্যক্ত করেছেন। কিভাবে তার হাত তাঁর ভ্রুর উপর রাখছিলেন। এরপর তার দিকে মাথা উঁচু করে তাকে ডাকছিলেন। বললেন, হে জুরায়জ! আমি তোমার মা, আমার সাথে কথা বলো। এ কথা এমন অবস্থায় বলছিলেন, যখন জুরায়জ সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। তখন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন, “হে আল্লাহ! (একদিকে) আমার মা আর (অপরদিকে) আমার সালাত (আমি কী করি?)"। রাবী বলেন, অবশেষে তিনি তার সালাতকে অগ্রাধিকার দিলেন এবং তার মা ফিরে গেলেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং বললেন, হে জুরায়জ। আমি তোমার মা, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো। তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ! আমার মা, আমার সালাত। তখন তিনি তার সালাতে ব্যস্ত রইলেন। তখন তার মা বললেন, “হে আল্লাহ! এ জুরায়জ আমারই ছেলে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলাম। সে আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করল। হে আল্লাহ তার মৃত্যু দিয়ো না, যে পর্যন্ত তাকে ব্যভিচারিণীর মুখ না দেখাও।” তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যদি তার মাতা তার বিরুদ্ধে অন্য কোন বিপদের জন্য বদদু’আ করতেন তাহলে অবশ্যই সে, বিপদে পতিত হত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এক মেষ রাখাল জুরায়জ এর ইবাদাতখানার নিকটেই (মাঝে মাঝে) আশ্রয় নিত। তিনি বলেন, এরপর গ্রাম থেকে এক মহিলা বের হয়ে এলে উক্ত রাখাল তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। এতে মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। তখন লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল, এ (সন্তান) কোথা থেকে? সে উত্তর দিল, এ ইবাদাতখানায় যে বাস করে, তার থেকে। তিনি বলেন, এরপর তারা শাবল কোদাল ইত্যাদি নিয়ে এলো এবং চীৎকার করে ডাক দিল। তখন জুরায়জ সালাতে মশগুল ছিলেন। কাজেই তিনি তাদের সাথে কথা বললেন না। তিনি বলেন, এরপর তারা তার ইবাদাতখানা ধ্বংস করতে লাগল। তিনি এ অবস্থা দেখে নীচে নেমে এলেন। এরপর তারা বলল, এ মহিলাকে জিজ্ঞেস করো (সে কী বলছে)। তিনি বলেন, তখন জুরায়জ মুচকি হেসে শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তোমার পিতা কে? তখন শিশুটি বলল, আমার পিতা সে মেষ রাখাল। যখন তারা সে শিশুটির মুখে এ কথা শুনতে পেল তখন তারা বলল, (হে দরবেশ) আমরা তোমার ইবাদাতখানার (গীর্জার) যতটুকু ভেঙ্গে ফেলেছি তা সোনা-রূপা দিয়ে পুনঃনির্মাণ করে দেব। তিনি বললেন, না; বরং তোমরা মাটি দ্বারাই পূর্বের ন্যায় তা নির্মাণ করে দাও। এরপর তিনি তার ইবাদাতগাহে উঠে বসলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سليمان بن المغيرة، حدثنا حميد بن هلال، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، انه قال كان جريج يتعبد في صومعة فجاءت امه . قال حميد فوصف لنا ابو رافع صفة ابي هريرة لصفة رسول الله صلى الله عليه وسلم امه حين دعته كيف جعلت كفها فوق حاجبها ثم رفعت راسها اليه تدعوه فقالت يا جريج انا امك كلمني . فصادفته يصلي فقال اللهم امي وصلاتي . فاختار صلاته فرجعت ثم عادت في الثانية فقالت يا جريج انا امك فكلمني . قال اللهم امي وصلاتي . فاختار صلاته فقالت اللهم ان هذا جريج وهو ابني واني كلمته فابى ان يكلمني اللهم فلا تمته حتى تريه المومسات . قال ولو دعت عليه ان يفتن لفتن . قال وكان راعي ضان ياوي الى ديره - قال - فخرجت امراة من القرية فوقع عليها الراعي فحملت فولدت غلاما فقيل لها ما هذا قالت من صاحب هذا الدير . قال فجاءوا بفيوسهم ومساحيهم فنادوه فصادفوه يصلي فلم يكلمهم - قال - فاخذوا يهدمون ديره فلما راى ذلك نزل اليهم فقالوا له سل هذه - قال - فتبسم ثم مسح راس الصبي فقال من ابوك قال ابي راعي الضان . فلما سمعوا ذلك منه قالوا نبني ما هدمنا من ديرك بالذهب والفضة . قال لا ولكن اعيدوه ترابا كما كان ثم علاه
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিনজন ব্যতীত কেউ দোলনায় কথা বলেনি। তাদের মধ্যে একজন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ), আরেকজন জুরায়জ সম্পর্কিত শিশুটি। জুরায়জ ছিলেন একজন ইবাদাতগুজার ব্যক্তি। তিনি একটি ইবাদাতখানা তৈরি করে সেখানে অবস্থান করতেন। এক সময় তার কাছে তার মা আসলেন। তিনি সে সময় সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। মা ডাকলেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বলতে লাগলেন, হে আমার প্রতিপালক! (একদিকে) আমার মা ও (অপর দিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে মগ্ন থাকলেন। মা ফিরে গেলেন। পরের দিন তিনি আবার তার কাছে এলেন। তখনও তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বললেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বললেন, হে আমার প্রতিপালক একদিকে আমার মা (আমাকে ডাকছেন) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে মশগুল রইলেন। মা ফিরে গেলেন। এরপরের দিন আবার এলেন। তখনও তিনি সালাতেই রত ছিলেন। এবারও (মা) বললেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বললেন, হে আমার প্রতিপালক! একদিকে আমার মা (আমাকে ডাকছেন)। (অন্যদিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতেই লিপ্ত রইলেন। এবার তার মা বললেন, হে আল্লাহ! বদকার স্ত্রীলোকের সম্মুখীন করার আগ পর্যন্ত তুমি তার মৃত্যু দিয়ো না। এরপর বানু ইসরাঈলদের মধ্যে জুরায়জ ও তার ইবাদাত সম্পর্কে আলোচনা হতে লাগল। (বনী ইসরাঈলের মধ্যে) সৌন্দর্য উপমেয় এক দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোক ছিল। সে বলল, যদি তোমরা চাও তাহলে আমি তোমাদের সামনে তাকে (জুরায়জকে) ফিতনায় ফেলতে পারি। তিনি বলেন, এরপর সে জুরায়জের সামনে নিজেকে পেশ করে। কিন্তু জুরায়জ তার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। অবশেষে সে এক মেষ রাখালের নিকট আসে। সে জুরায়জের ইবাদাতখানায় মাঝে মধ্যে যাওয়া-আসা করত। সে তাকে নিজের দিকে প্রলুব্ধ করল। সে (রাখাল) তার উপর অনুরক্ত হলো। এতে সে গর্ভবতী হয়ে গেল। যখন সে সন্তান প্রসব করল তখন বলে দিল যে, এ সন্তান জুরায়জের। লোকেরা (এ কথা শুনে) তার কাছে এসে জড়ো হলো এবং তাকে নীচে নামতে বাধ্য করল এবং তারা তার ইবাদাতখানা ভেঙ্গে ফেলল আর তাকে প্রহার করতে লাগল। তখন তিনি (জুরায়জ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের ব্যাপার কী? তারা বলল, তুমি তো এ দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোকের সাথে ব্যভিচার করেছে এবং তোমার পক্ষ থেকে সে সন্তান প্রসব করেছে। তখন তিনি বললেন, শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটি নিয়ে এলো। এরপর তিনি বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দাও, আমি সালাত আদায় করে নেই। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে শিশুটির কাছে এলেন। এরপর তিনি শিশুটির পেটে টোকা দিয়ে বললেন, হে বৎস! তোমার পিতা কে? সে উত্তর করল। অমুক রাখাল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকেরা জুরায়জের দিকে এগিয়ে আসলো এবং তাকে চুম্বন করতে এবং তার গায়ে হাত বুলাতে লাগল। এরপর বলল, আমরা আপনার ইবাদাতখানা স্বর্ণ দ্বারা নির্মাণ করে দিব। তিনি বললেন, না বরং পুনরায় মাটি দিয়ে তৈরি করে দাও, যেমন ছিল। লোকেরা তাই করল। (তৃতীয় জন) একদা এক শিশু তার মায়ের দুধ পান করছিল। তখন উত্তম পোষাকে সজ্জিত এক লোক একটি হৃষ্টপুষ্ট সওয়ারীর উপর আরোহণ করে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তার মা বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে এর মতো বানিয়ে দাও। তখন শিশুটি মাতৃস্তন ছেড়ে তার প্রতি লক্ষ্য করে বলল, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর মতো বানিও না।" এরপর সে আবার স্তনের দিকে ফিরে দুধ পান করতে লাগল। রাবী বলেন, মনে হয় যেন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এখনো দেখছি যে, তিনি তার শাহাদাত অঙ্গুলি নিজ মুখে দিয়ে তা চুষে সে শিশুটির দুধ পানের দৃশ্য দেখাচ্ছেন। এরপর তিনি বর্ণনা করলেন যে, কিছু লোক একজন যুবতীকে নিয়ে যাচ্ছিল এবং তাকে তারা প্রহার করছিল এবং বলাবলি করছিল যে, তুই ব্যভিচার করেছিস, তুই চুরি করেছিস। আর সে বলছিল, আল্লাহর উপরই আমার ভরসা; আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। তখন তার মা বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার পুত্রকে এর (দাসীর) মতো বানিও না। তখন শিশুটি দুধপান ছেড়ে তার (দাসীর) প্রতি লক্ষ্য করে বলল, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর (এ দাসীর) মতো বানিয়ে দাও।" সে সময় মা ও পুত্রের মধ্যে কথোপকথন হলো। তখন মা বলল, ঠাটা পড়ুক (এ কেমন কথা)। সুদৰ্শন এক ব্যক্তি যাচ্ছিল। তখন আমি বললাম, "হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে এর মতো বানিও"। আর তুমি বললে, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর মতো বানিও না"। এরপর লোকেরা এ দাসীকে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তারা তাকে প্রহার করছিল এবং বলছিল, তুই ব্যভিচার করেছিস এবং তুই চুরি করেছিস। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমার পুত্রকে তার মতো বানিও না। আর তুমি বললে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানাও। সে বলল, সে আরোহী ব্যক্তি ছিল অত্যাচারী। তাই আমি বলেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানিও না। আর যে দাসীকে ওরা বলছিল, তুই যিনা করেছিস। আসলে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়নি এবং বলেছিল, চুরি করেছিস, অথচ সে চুরি করেনি। তাই আমি বললাম, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানিয়ে দাও"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ...... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নাক ধূলিমলিন হোক, আবারও নাক ধূলিমলিন হোক, আবারও নাক ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যক্তির, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا ابو عوانة، عن سهيل، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " رغم انف ثم رغم انف ثم رغم انف " . قيل من يا رسول الله قال " من ادرك ابويه عند الكبر احدهما او كليهما فلم يدخل الجنة
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার তার নাক ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হলো, কার হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে কিংবা তাদের একজনকে বার্ধক্যজনিত অবস্থায় পেল, এরপরও সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا جرير، عن سهيل، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رغم انفه ثم رغم انفه ثم رغم انفه " . قيل من يا رسول الله قال " من ادرك والديه عند الكبر احدهما او كليهما ثم لم يدخل الجنة
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার নাক ধূলিমলিন হোক- কথাটি তিনবার বলেছেন। এরপর তিনি উক্ত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا خالد بن مخلد، عن سليمان بن بلال، حدثني سهيل، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رغم انفه " . ثلاثا ثم ذكر مثله
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মাক্কায় এক রাস্তায় আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সাথে এক বেদুঈনের সাক্ষাৎ হলো। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে সালাম দিলেন এবং তিনি যে গাধার পিঠে আরোহণ করতেন, সে গাধটি তাকে আরোহণের জন্য দিয়ে দিলেন। তিনি তার মাথার পাগড়ীটিও তাকে দান করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) তাকে বললেন যে, আমরা তাকে বললাম, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। বেদুঈনরা তো অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যায়। (এত দেয়ার প্রয়োজন কী ছিল?) তখন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, এ ব্যক্তির পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর বন্ধু ছিলেন। আর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম নেকীর কাজ হচ্ছে তার পিতার বন্ধুর সঙ্গে সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় রাখা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني ابو الطاهر، احمد بن عمرو بن سرح اخبرنا عبد الله بن وهب، اخبرني سعيد بن ابي ايوب، عن الوليد بن ابي الوليد، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان رجلا، من الاعراب لقيه بطريق مكة فسلم عليه عبد الله وحمله على حمار كان يركبه واعطاه عمامة كانت على راسه فقال ابن دينار فقلنا له اصلحك الله انهم الاعراب وانهم يرضون باليسير . فقال عبد الله ان ابا هذا كان ودا لعمر بن الخطاب واني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان ابر البر صلة الولد اهل ود ابيه
আবূ তাহির (রহঃ) ….. ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো পিতার বন্ধুর সাথে সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني ابو الطاهر، اخبرنا عبد الله بن وهب، اخبرني حيوة بن شريح، عن ابن، الهاد عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ابر البر ان يصل الرجل ود ابيه
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন তিনি মাক্কাহ অভিমুখে রওনা হতেন তখন তার সাথে একটি গাধা থাকত। উটের সওয়ারীতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে ক্ষণিক স্বস্তি লাভের জন্য তাতে আরোহণ করতেন। আর তার সঙ্গে একটি পাগড়ী থাকত, যা দিয়ে তিনি মাথা বেঁধে নিতেন। কোন এক সময় তিনি উক্ত গাধায় আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, তখন তার পাশ দিয়ে একজন বেদুঈন অতিক্রম করছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি অমুকের পুত্র অমুক নও? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে গাধাটি দিয়ে দিলেন এবং বললেন, এতে আরোহণ কর। তিনি তাকে পাগড়ীটিও দান করলেন এবং বললেন, এটি দ্বারা তোমার মাথা বেঁধে নাও। তখন তার সঙ্গীদের কেউ কেউ তাকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনি এ বেদুঈনকে গাধাটি দিয়ে দিলেন, যার উপর আরোহণ করে আপনি স্বস্তি লাভ করতেন এবং পাগড়ীটিও দান করলেন, যার দ্বারা আপনার মাথা বাঁধতেন। তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো কোন ব্যক্তির পিতার ইন্তিকালের পর তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখা। আর এ বেদুঈনের পিতা ছিলেন উমর (রাযিঃ) এর অন্তরঙ্গ বন্ধু। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا حسن بن علي الحلواني، حدثنا يعقوب بن ابراهيم بن سعد، حدثنا ابي، والليث بن سعد جميعا عن يزيد بن عبد الله بن اسامة بن الهاد، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، انه كان اذا خرج الى مكة كان له حمار يتروح عليه اذا مل ركوب الراحلة وعمامة يشد بها راسه فبينا هو يوما على ذلك الحمار اذ مر به اعرابي فقال الست ابن فلان بن فلان قال بلى . فاعطاه الحمار وقال اركب هذا والعمامة - قال - اشدد بها راسك . فقال له بعض اصحابه غفر الله لك اعطيت هذا الاعرابي حمارا كنت تروح عليه وعمامة كنت تشد بها راسك . فقال اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان من ابر البر صلة الرجل اهل ود ابيه بعد ان يولي " . وان اباه كان صديقا لعمر
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমুন (রহঃ) .... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন, পুণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্ধ সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني محمد بن حاتم بن ميمون، حدثنا ابن مهدي، عن معاوية بن صالح، عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير، عن ابيه، عن النواس بن سمعان الانصاري، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن البر والاثم فقال " البر حسن الخلق والاثم ما حاك في صدرك وكرهت ان يطلع عليه الناس
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদীনাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক বছর অবস্থান করি। আর একটি মাত্র কারণ আমাকে হিজরত থেকে বিরত রাখে। তা হলো দীনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার সুযোগ। আমাদের কেউ যখন হিজরত করে আসত তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন কিছুই জিজ্ঞেস করত না। তিনি বলেন, অতএব আমি তাকে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, সদাচারণই পুণ্য আর যা তোমার অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি পছন্দ করো না, তাই পাপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني هارون بن سعيد الايلي، حدثنا عبد الله بن وهب، حدثني معاوية، - يعني ابن صالح - عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير، عن ابيه، عن نواس بن سمعان، قال اقمت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة سنة ما يمنعني من الهجرة الا المسالة كان احدنا اذا هاجر لم يسال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شىء - قال - فسالته عن البر والاثم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " البر حسن الخلق والاثم ما حاك في نفسك وكرهت ان يطلع عليه الناس
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ইবনু জামীল ইবনু তারীফ ইবনু আবদুল্লাহ আস্ সাকাফী ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করে তা সমাপ্ত করলেন, তখন রহিম দণ্ডায়মান হলো এবং বলল, এ হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তুমি কি এতে সম্ভষ্ট নও যে, যে তোমাকে সংযুক্ত রাখবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখব, আর যে তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে আমিও তাকে পৃথক করে দিব? তখন সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার জন্য তাই হবে। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমরা চাও তাহলে তিলাওয়াত করতে পার, "তোমরা কি অস্বীকার করতে পারবে যে, তাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করলে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিবে, এরাই তারা-যাদের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। এরপর তিনি তাদের বধির করে দিয়েছেন ও তাদের চক্ষুসমূহ দৃষ্টিহীন করে দিয়েছেন। তারা কি কুরআন সম্পর্কে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না, না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?" (সূরা মুহাম্মদ ৩৭ঃ০ ২২-২৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا قتيبة بن سعيد بن جميل بن طريف بن عبد الله الثقفي، ومحمد بن عباد، قالا حدثنا حاتم، - وهو ابن اسماعيل - عن معاوية، - وهو ابن ابي مزرد مولى بني هاشم - حدثني عمي ابو الحباب، سعيد بن يسار عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله خلق الخلق حتى اذا فرغ منهم قامت الرحم فقالت هذا مقام العايذ من القطيعة . قال نعم اما ترضين ان اصل من وصلك واقطع من قطعك قالت بلى . قال فذاك لك " . ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اقرءوا ان شيتم { فهل عسيتم ان توليتم ان تفسدوا في الارض وتقطعوا ارحامكم * اوليك الذين لعنهم الله فاصمهم واعمى ابصارهم * افلا يتدبرون القران ام على قلوب اقفالها}
আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রহিম অর্থাৎ আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وزهير بن حرب، - واللفظ لابي بكر - قالا حدثنا وكيع، عن معاوية بن ابي مزرد، عن يزيد بن رومان، عن عروة، عن عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الرحم معلقة بالعرش تقول من وصلني وصله الله ومن قطعني قطعه الله
যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... জুবায়র ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আত্মীয়তা) ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ইবনু আবু উমর (রহঃ) সুফইয়ান থেকে বর্ণনা করেন, অর্থাৎ- আত্মীয়তা ছিন্নকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني زهير بن حرب، وابن ابي عمر، قالا حدثنا سفيان، عن الزهري، عن محمد، بن جبير بن مطعم عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا يدخل الجنة قاطع " . قال ابن ابي عمر قال سفيان يعني قاطع رحم
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ..... জুবায়র ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৯০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني عبد الله بن محمد بن اسماء الضبعي، حدثنا جويرية، عن مالك، عن الزهري، ان محمد بن جبير بن مطعم، اخبره ان اباه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يدخل الجنة قاطع رحم
حدثنا زهير بن حرب، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا جرير بن حازم، حدثنا محمد بن سيرين، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لم يتكلم في المهد الا ثلاثة عيسى ابن مريم وصاحب جريج وكان جريج رجلا عابدا فاتخذ صومعة فكان فيها فاتته امه وهو يصلي فقالت يا جريج . فقال يا رب امي وصلاتي . فاقبل على صلاته فانصرفت فلما كان من الغد اتته وهو يصلي فقالت يا جريج فقال يا رب امي وصلاتي فاقبل على صلاته فانصرفت فلما كان من الغد اتته وهو يصلي فقالت يا جريج . فقال اى رب امي وصلاتي . فاقبل على صلاته فقالت اللهم لا تمته حتى ينظر الى وجوه المومسات . فتذاكر بنو اسراييل جريجا وعبادته وكانت امراة بغي يتمثل بحسنها فقالت ان شيتم لافتننه لكم - قال - فتعرضت له فلم يلتفت اليها فاتت راعيا كان ياوي الى صومعته فامكنته من نفسها فوقع عليها فحملت فلما ولدت قالت هو من جريج . فاتوه فاستنزلوه وهدموا صومعته وجعلوا يضربونه فقال ما شانكم قالوا زنيت بهذه البغي فولدت منك . فقال اين الصبي فجاءوا به فقال دعوني حتى اصلي فصلى فلما انصرف اتى الصبي فطعن في بطنه وقال يا غلام من ابوك قال فلان الراعي - قال - فاقبلوا على جريج يقبلونه ويتمسحون به وقالوا نبني لك صومعتك من ذهب . قال لا اعيدوها من طين كما كانت . ففعلوا . وبينا صبي يرضع من امه فمر رجل راكب على دابة فارهة وشارة حسنة فقالت امه اللهم اجعل ابني مثل هذا . فترك الثدى واقبل اليه فنظر اليه فقال اللهم لا تجعلني مثله . ثم اقبل على ثديه فجعل يرتضع . قال فكاني انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يحكي ارتضاعه باصبعه السبابة في فمه فجعل يمصها . قال ومروا بجارية وهم يضربونها ويقولون زنيت سرقت . وهي تقول حسبي الله ونعم الوكيل . فقالت امه اللهم لا تجعل ابني مثلها . فترك الرضاع ونظر اليها فقال اللهم اجعلني مثلها . فهناك تراجعا الحديث فقالت حلقى مر رجل حسن الهيية فقلت اللهم اجعل ابني مثله . فقلت اللهم لا تجعلني مثله . ومروا بهذه الامة وهم يضربونها ويقولون زنيت سرقت . فقلت اللهم لا تجعل ابني مثلها . فقلت اللهم اجعلني مثلها قال ان ذاك الرجل كان جبارا فقلت اللهم لا تجعلني مثله . وان هذه يقولون لها زنيت . ولم تزن وسرقت ولم تسرق فقلت اللهم اجعلني مثلها