Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৩১ হাদিসসমূহ
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে বললেন, এটা আমার কাছ থেকে কে নিবে? তখন তাদের উপস্থিত প্রত্যেকই হাত বাড়িয়ে বলতে লাগল আমি নিব, আমি নিব। তিনি বললেন, আরে এ তরবারির উপযুক্ত হক কে আদায় করতে পারবে? এ কথা শুনেই লোকেরা থমকে গেল। কিন্তু সিমাক ইবনু খারাশাহ আবূ দুজানাহ (রাযিঃ) বললেন, আমিই তার হক আদায় করতে পারব। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তা নিয়েই মুশরিকদের মাথার খুলি টুকরো টুকরো করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا عفان، حدثنا حماد بن سلمة، حدثنا ثابت، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ سيفا يوم احد فقال " من ياخذ مني هذا " . فبسطوا ايديهم كل انسان منهم يقول انا انا . قال " فمن ياخذه بحقه " . قال فاحجم القوم فقال سماك بن خرشة ابو دجانة انا اخذه بحقه . قال فاخذه ففلق به هام المشركين
–(১২৯/২৪৭১) উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল-কাওয়ারীরী ও আমর আন্ নাকিদ ..... জাবির (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আমার বাবাকে বস্ত্রে ঢেকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে, অঙ্গচ্ছেদন করা (নাক-কান হাত-পা কেটে ফেলা) হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তার বস্ত্র সরালেন কিংবা তিনি সরানোর নির্দেশ দেয়ায় সরানো হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ক্রন্দসী নারীর শব্দ শুনে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে? লোকেরা বলল, আমরের মেয়ে কিংবা বলল, 'আমরের বোন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কান্নাকাটি করছো কেন? অথচ ফেরেশতারা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৭ম খণ্ড, ৬১৩০; ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا عبيد الله بن عمر القواريري، وعمرو الناقد، كلاهما عن سفيان، قال عبيد الله حدثنا سفيان بن عيينة، قال سمعت ابن المنكدر، يقول سمعت جابر بن عبد الله، يقول لما كان يوم احد جيء بابي مسجى وقد مثل به - قال - فاردت ان ارفع الثوب فنهاني قومي ثم اردت ان ارفع الثوب فنهاني قومي فرفعه رسول الله صلى الله عليه وسلم او امر به فرفع فسمع صوت باكية او صايحة فقال " من هذه " . فقالوا بنت عمرو او اخت عمرو فقال " ولم تبكي فما زالت الملايكة تظله باجنحتها حتى رفع
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আমার বাবা উহুদের দিবস শহীদ হলেন, আমি তার মুখায়ব হতে বস্ত্র তুলি আর কাঁদি। ব্যক্তিরা আমাকে নিষেধ করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বারণ করেননি। আর আমরের মেয়ে ফাতিমাও তার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কাঁদো কিংবা না-ই কাঁদো, ফেরেশতাগণ তার উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا وهب بن جرير، حدثنا شعبة، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، قال اصيب ابي يوم احد فجعلت اكشف الثوب عن وجهه، وابكي، وجعلوا ينهونني ورسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينهاني - قال - وجعلت فاطمة بنت عمرو تبكيه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تبكيه او لا تبكيه ما زالت الملايكة تظله باجنحتها حتى رفعتموه
আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) এর সানাদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে জুরায়জের বর্ণনায় ফেরেশতা ও ক্রন্দনকারীর কান্নার বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩২, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا ابن جريج، ح وحدثنا اسحاق، بن ابراهيم اخبرنا عبد الرزاق، حدثنا معمر، كلاهما عن محمد بن المنكدر، عن جابر، . بهذا الحديث غير ان ابن جريج، ليس في حديثه ذكر الملايكة وبكاء الباكية
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রাযিঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিবস আমার বাবাকে অঙ্গহানী অবস্থায় আনা হলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখা হলো ...... তারপর তাদের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن احمد بن ابي خلف، حدثنا زكرياء بن عدي، اخبرنا عبيد الله، بن عمرو عن عبد الكريم، عن محمد بن المنكدر، عن جابر، قال جيء بابي يوم احد مجدعا فوضع بين يدى النبي صلى الله عليه وسلم . فذكر نحو حديثهم
ইসহাক ইবনু আমর ইবনু সালীত (রহঃ) ..... আবূ বারযাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন। তিনি তার সহাবাদের বললেন, তোমরা কেউ কি হারিয়ে যায়নি? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক ও অমুককে। তিনি বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক এবং অমুককে। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, জি-না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাকে সন্ধান করো। তখন তাকে নিহতদের মাঝে সন্ধান করা হলো। তারপর তারা সাতটা লাশের সামনে তাকে খুঁজে পেল। তিনি এ সাতজনকে মেরে ফেলেছিলেন। তারপর শক্ররা তাকে মারে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন এবং ওখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় বললেন, সে সাতজন হত্যা করেছে; তারপর শক্ররা তাকে মেরেছে। সে আমার আর আমিও তার। সে আমার আর আমি তার। অতঃপর তিনি তাকে দু’বাহুর উপর উঠিয়ে নিলেন। কেবল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহুই তাকে বহন করছিল। তার কবর খনন করা হলো এবং তিনি তাকে তার কবরে রেখে দিলেন। রাবী তার গোসলের বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৪, ইসলামিক সেন্টার ৮ম খণ্ড)
حدثنا اسحاق بن عمر بن سليط، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن كنانة، بن نعيم عن ابي برزة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان في مغزى له فافاء الله عليه فقال لاصحابه " هل تفقدون من احد " . قالوا نعم فلانا وفلانا وفلانا . ثم قال " هل تفقدون من احد " . قالوا نعم فلانا وفلانا وفلانا . ثم قال " هل تفقدون من احد " . قالوا لا . قال " لكني افقد جليبيبا فاطلبوه " . فطلب في القتلى فوجدوه الى جنب سبعة قد قتلهم ثم قتلوه فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فوقف عليه فقال " قتل سبعة ثم قتلوه هذا مني وانا منه هذا مني وانا منه " . قال فوضعه على ساعديه ليس له الا ساعدا النبي صلى الله عليه وسلم قال فحفر له ووضع في قبره . ولم يذكر غسلا
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আবাদী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমরা আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তার সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকো তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন। তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তার বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল। আবূ যর (রাযিঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরল এসে আমার উপর পড়ত। তারপর উনায়স (রাযিঃ) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স (রাযিঃ) চলে গেল এবং মাক্কায় পৌছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মাক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি, যিনি আপনার দীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি আবূ যার (রাযিঃ) বললাম, ব্যক্তিরা তার ব্যাপারে কী বলে? সে বলল, তারা তাকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স (রাযিঃ) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাযিঃ) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তার বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী। তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মাক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মাক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু’জন মহিলা ইসাফা* ও নায়িলাকে ডাকছিল। তিনি বললেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত) পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ) এর দেখা হলো। তখন তারা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু’জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, কাবাহ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এক বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তার সাথীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ'র তাওয়াফ করে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যখন তিনি তার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী শার'ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ্ (তোমার প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তার হাত ঝুকালেন এবং তার হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তার হাত ধরতে চাইলাম। তার সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়। তারপর আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাযিঃ) রওনা হলেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর (রাযিঃ) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশমিশ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরির (মাদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন। তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু’জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবুল করল এবং ঈমা ইবনু রাহাযাহ্ গিফারী তাদের ইমামাত করেন। তিনি ছিলেন তাদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবুল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আসলেন এবং তাদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু হিলাল (রহঃ) হতে এ সূত্রে (রাবী) আবূ যার (রাযিঃ) এর কথা "আমি বললাম, তুমি এখানে অবস্থান করো, আমি গিয়ে সে ব্যক্তিকে দেখে নেই।" তারপরে বর্ধিত করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে সাবধান থাকবেন। তারা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তার সাথে খারাপ আচরণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم الحنظلي، اخبرنا النضر بن شميل، حدثنا سليمان، بن المغيرة حدثنا حميد بن هلال، بهذا الاسناد وزاد بعد قوله قلت فاكفني حتى اذهب فانظر . قال نعم وكن على حذر من اهل مكة فانهم قد شنفوا له وتجهموا
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আনায়ী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাবের আগে আমি দু' বছর সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছি। বর্ণনাকারী বললেন, আমি বললাম, আপনি কোন দিকে মুখ ফিরাতেন। তিনি আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে। তারপর তিনি সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেন। আর তিনি হাদীসে বলেছেন, তারপর তারা দু’জনে এক গণকের নিকট গেলেন। তিনি [আবূ যার (রাযিঃ)] বলেন, আমার ভাই উনায়স এ গণকের প্রশংসা করতে লাগল, পরিশেষে প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা তার জন্তুগুলো নিলাম এবং আমাদের জন্তুগুলোর সঙ্গে একত্রিত করে রাখলাম। তিনি তার হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুরাকাআত সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। তিনি আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, আমি তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কাছে আসলাম এবং আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করে। তিনি বলেন, আমি বললাম, আসসালামু 'আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, 'ওয়া আলাইকুমুস্ সালাম' (তোমার প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক)। তুমি কে? তার বর্ণিত হাদীসে আরও রয়েছে যে, এরপর তিনি বললেন, তুমি এখানে কতদিন ধরে আছ? আমি বললাম, পনের (দিন) ধরে অবস্থান করছি। এ হাদীসে আরও অতিরিক্ত রয়েছে, অতঃপর আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, তাকে এক রাতের আতিথেয়তার অনুমতি আমাকে দিন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى العنزي، حدثني ابن ابي عدي، قال انبانا ابن عون، عن حميد بن هلال، عن عبد الله بن الصامت، قال قال ابو ذر يا ابن اخي صليت سنتين قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم . قال قلت فاين كنت توجه قال حيث وجهني الله . واقتص الحديث بنحو حديث سليمان بن المغيرة وقال في الحديث فتنافرا الى رجل من الكهان . قال فلم يزل اخي انيس يمدحه حتى غلبه - قال - فاخذنا صرمته فضممناها الى صرمتنا . وقال ايضا في حديثه قال فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فطاف بالبيت وصلى ركعتين خلف المقام - قال - فاتيته فاني لاول الناس حياه بتحية الاسلام - قال - قلت السلام عليك يا رسول الله . قال " وعليك السلام من انت " . وفي حديثه ايضا فقال " منذ كم انت ها هنا " . قال قلت منذ خمس عشرة . وفيه فقال ابو بكر اتحفني بضيافته الليلة
ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আর'আরাহ সামী ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ যার (রাযিঃ) এর নিকট সংবাদ আসলো যে, মাক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাব হয়েছে, তখন তিনি তার ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে চড়ে সে (মাক্কাহ) উপত্যকায় যাও এবং সে লোকের ব্যাপারে আমাকে অবহিত কর, যিনি মনে করেন যে, আসমান থেকে তার নিকট ওয়াহী আসে। তার কথা ভাল করে শুনবে এবং এরপর তুমি আমার নিকট আসবে। তখন অপর লোক (তার ভাই) রওনা হয়ে মাক্কায় আসলো এবং তার কথা শুনল। এরপর সে আবূ যার (রাযিঃ) এর নিকট প্রত্যাবর্তন করল এবং সে বলল, আমি তাকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের আদেশ দেন এবং এমন বাণী শুনান, যা কবিতার সাদৃশ্য নয়। তখন তিনি আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, আমি যা চেয়েছি তা তুমি পূরণ করতে পারনি। এরপর তিনি পাথেয় ব্যবস্থা করলেন এবং একটি পানি ভর্তি মশক নিলেন। পরিশেষে মাক্কায় পৌছে তিনি মসজিদে আসলেন। আর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সন্ধান করলেন। কিন্তু তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। আর তার ব্যাপারে (কারও নিকট) প্রশ্ন করাও পছন্দ করলেন না। পরিশেষে রাত হয়ে গেল। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন আলী (রাযিঃ) তাকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, ইনি একজন আগন্তুক, তখন তিনি তাকে দেখে তার অনুকরণ করলেন; কিন্তু কেউ কারও নিকট কিছু প্রশ্ন করলেন না। এমনকি (এভাবে) সকাল হয়ে গেল। এরপর তিনি [আবূ যার (রাযিঃ)] তার আসবাবপত্র ও মশক মসজিদে রাখলেন এবং সেদিনটি সেখানে অতিবাহিত করলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাক্ষাৎ পেলেন না, এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর তিনি তার ঘুমানোর স্থানে ফিরে এলেন। আলী (রাযিঃ) তার নিকট এলেন এবং বললেন, এখনও সময় আসেনি, যাতে সে লোকটির গন্তব্য সম্বন্ধে জানা যায়। তারপর তিনি তাকে দাঁড় করালেন এবং তাকে সাথে নিয়ে চললেন। তবে কেউ কারোর নিকট কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। এমনকি তৃতীয় দিন এসে গেল। এদিনও তেমনটি করলেন। তারপর আলী (রাযিঃ) তার সাথে তাকে দাঁড় করিয়ে বললেন, আপনি কি আমাকে জানাবেন, কিসে আপনাকে এ শহরে এনেছে? তিনি [আবূ যার (রাযিঃ)] বললেন, আপনি যদি আমাকে পথ দেখানোর ওয়াদাবদ্ধ হন তাহলে আমি আপনার নিকট বলব। তিনি (ওয়াদা) করলেন। তখন তিনি আবূ যার (রাযিঃ) তাকে সব জানালেন। তারপর ‘আলী (রাযিঃ) বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হক এবং তিনি আল্লাহর রসূল। সকাল হলে আপনি আমাকে অনুকরণ করবেন। যদি আমি এমন কিছু দেখতে পাই যাতে আপনার ভয় আছে, তখন আমি দাঁড়িয়ে যাব, যেন আমি প্রস্রাব করছি। পুনরায় যখন আমি চলতে শুরু করব তখন আমাকে অনুসরণ করবেন। পরিশেষে আমার প্রবেশ দ্বারে আপনি প্রবেশ করবেন। তিনি তা-ই করলেন। তিনি তার পশ্চাতে চললেন, শেষ অবধি তিনি [আলী (রাযিঃ)] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হলেন আর আবূ যার (রাযিঃ)ও তার সাথে উপস্থিত হলেন। অতঃরপর তিনি তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কথা শুনলেন এবং সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের নিকট (দীনের) সংবাদ পৌছে দাও। আমার আদেশ তোমার নিকট পৌছা পর্যন্ত (এ কাজ করতে থাক)। তারপর তিনি [আবূ যার (রাযিঃ)] বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তা মাক্কাবাসীদের মধ্যে চীৎকার করে প্রচার করব। এরপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং মসজিদে ঢুকলেন। এরপর উচ্চস্বরে প্রচার করলেনঃأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল।" এতে ব্যক্তিরা ঝাপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। আব্বাস (রাযিঃ) সেখানে এলেন এবং তার দিকে ঝুঁকে পড়লেন। তারপর তিনি ['আব্বাস (রাযিঃ)] বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমাদের কি অজানা যে, তিনি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি? তোমাদের সিরিয়া দেশে বাণিজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের এলাকা দিয়ে। এরপর তিনি তাকে তাদের নিকট হতে ছাড়িয়ে আনলেন। পরের দিন তিনি আবার আগের দিনের মতোই করলেন। ব্যক্তিরা তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং তাকে বেদম প্রহার করল। আব্বাস (রাযিঃ) তার দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাকে তিনি মুক্ত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী ও আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুলের পর হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (তার নিকট প্রবেশে) বাধা দেননি এবং তিনি আমার দিকে হাসি মুখ ব্যতীত দৃষ্টিপাত করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، اخبرنا خالد بن عبد الله، عن بيان، عن قيس بن ابي، حازم عن جرير بن عبد الله، ح وحدثني عبد الحميد بن بيان، حدثنا خالد، عن بيان، قال سمعت قيس بن ابي، حازم يقول قال جرير بن عبد الله ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ اسلمت ولا راني الا ضحك
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ উসামাহ্ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম কবুল করার পর হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট প্রবেশে আমাকে বাধা দেননি। তিনি আমার মুখমণ্ডলে মৃদু হাসি ব্যতীত দেখেননি। ইবনু নুমায়র (রহঃ) তার হাদীসে ইবনু ইদরীস (রহঃ) হতে বর্ধিত রিওয়ায়াত করেছেন, "আমি তার নিকট অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়ার পৃষ্ঠে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারি না। তখন তিনি তার হাত দ্বারা আমার বুকে মৃদু আঘাত করে দু'আ করলেনঃ اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا “হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدث��ا وكيع، وابو اسامة عن اسماعيل، ح وحدثنا ابن نمير، حدثنا عبد الله بن ادريس، حدثنا اسماعيل، عن قيس، عن جرير، قال ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ اسلمت ولا راني الا تبسم في وجهي . زاد ابن نمير في حديثه عن ابن ادريس ولقد شكوت اليه اني لا اثبت على الخيل فضرب بيده في صدري وقال " اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا
আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান (রহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে একটি গৃহ ছিল, যেটিকে যুলখালাসহ বলা হত এবং এটাকে ইয়ামানী কা'বাহ ও শামিয়াহ কাবাও বলা হত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জারীরকে) বললেন, তুমি কি আমাদের যুলখালাসাহ, ইয়ামানী কাবাহ ও শামিয়্যাহ্ কাবাহ থেকে চিন্তা মুক্ত করতে পারবে? তখন আমি আহমাস সম্প্রদায়ের একশ’ পঞ্চাশজন ব্যক্তি সাথে নিয়ে রওনা হলাম। যুলখালাসাকে ভেঙ্গে দিলাম এবং সেখানে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। তারপর আমি তার নিকট ফিরে এসে তাকে জানালাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের ও আহমাস সম্প্রদায়ের জন্য দুআ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني عبد الحميد بن بيان، اخبرنا خالد، عن بيان، عن قيس، عن جرير، قال كان في الجاهلية بيت يقال له ذو الخلصة وكان يقال له الكعبة اليمانية والكعبة الشامية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل انت مريحي من ذي الخلصة والكعبة اليمانية والشامية " . فنفرت اليه في ماية وخمسين من احمس فكسرناه وقتلنا من وجدنا عنده فاتيته فاخبرته - قال - فدعا لنا ولاحمس
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, হে জারীর! তুমি কি আমাকে খাস'আম গোষ্ঠীর ঘর (প্রতিমা মন্দির) যুলখালাসাহ থেকে চিন্তা মুক্ত করবে না? এটাকে ইয়ামানী কাবাও বলা হত। জারীর বলেন, এরপর আমি দেড়শ অশ্বারোহীসহ সেদিকে রওনা হলাম; অথচ আমি উটের পিঠে স্থিরভাবে থাকতে পারতাম না। আমি এ ব্যাপারটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি আমার বুকে তার হাত মারলেন এবং দুআ করলেনঃاللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا "হে আল্লাহ তাকে (উটের পিঠে) স্থির রাখুন ও তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।" বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি চলে গেলেন এবং সেটি (যুল্খালাসাহ্ মূর্তি) আগুন লাগিয়ে জ্বলিয়ে দিলেন। এরপর জারীর (রাযিঃ) আমাদের মাঝখান হতে আবূ আরতাহ (রাযিঃ) নামধারী জনৈক লোককে সুখবর দেয়ার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাকে বললেন, আমরা যুলখালাসাকে পাচড়াযুক্ত উষ্ট্রের ন্যায় করে দিয়ে আপনার নিকট এসেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রীয় ঘোড়া ও লোকদের জন্য পাঁচবার কল্যাণের প্রার্থনা করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪২. ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا جرير، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس، بن ابي حازم عن جرير بن عبد الله البجلي، قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا جرير الا تريحني من ذي الخلصة " . بيت لخثعم كان يدعى كعبة اليمانية . قال فنفرت في خمسين وماية فارس وكنت لا اثبت على الخيل فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فضرب يده في صدري فقال " اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا " . قال فانطلق فحرقها بالنار ثم بعث جرير الى رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا يبشره يكنى ابا ارطاة منا فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له ما جيتك حتى تركناها كانها جمل اجرب . فبرك رسول الله صلى الله عليه وسلم على خيل احمس ورجالها خمس مرات
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রাযিঃ) ..... ইসমাঈল (রহঃ) উপরোক্ত সূত্রে মারওয়ান (রহঃ) এর হাদীসে বলেছেন যে, জারীর (রাযিঃ) এর সুসংবাদদাতা আবূ আরতাত হুসায়ন ইবনু রাবী'আহ্ (রাযিঃ) এলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সুসংবাদ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا وكيع، ح وحدثنا ابن نمير، حدثنا ابي ح، وحدثنا محمد بن عباد، حدثنا سفيان، ح وحدثنا ابن ابي عمر، حدثنا مروان، - يعني الفزاري ح وحدثني محمد بن رافع، حدثنا ابو اسامة، كلهم عن اسماعيل، بهذا الاسناد وقال في حديث مروان فجاء بشير جرير ابو ارطاة حصين بن ربيعة يبشر النبي صلى الله عليه وسلم
যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বাকর ইবনু নাযর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় গেলেন। আমি তার জন্য ওযুর পানি রাখলাম। তিনি হাজত শেষে প্রশ্ন করলেন, এ পানি কে রেখেছে? যুহায়র (রহঃ) এর বর্ণনায় 'তারা বলল' এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর বর্ণনায় 'আমি বললাম', ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) রেখেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করলেন, "হে আল্লাহ! তাকে গভীর জ্ঞান দান করুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا زهير بن حرب، وابو بكر بن النضر قالا حدثنا هاشم بن القاسم، حدثنا ورقاء بن عمر اليشكري، قال سمعت عبيد الله بن ابي يزيد، يحدث عن ابن عباس، انوسلم اتى الخلاء فوضعت له وضوءا فلما خرج قال " من وضع هذا " . في رواية زهير قالوا . وفي رواية ابي بكر قلت ابن عباس . قال " اللهم فقهه
আবূ রাবী' আতাকী, খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ কামিল জাহদারী (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে মোলায়েম রেশমী কাপড়ের একটি টুকরা এবং জান্নাতের যেখানে আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম সে কাপড়ের খণ্ডটি আমাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যেত। তিনি বলেন, তারপর আমি হাফসাহ (রাযিঃ) এর নিকট কাহিনীটি রিওয়ায়াত করলাম। হাফসাহ (রাযিঃ) তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট রিওয়ায়াত করলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আবদুল্লাহকে একজন ভাল ব্যক্তি বলে জানি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو الربيع العتكي، وخلف بن هشام، وابو كامل الجحدري كلهم عن حماد، بن زيد - قال ابو الربيع حدثنا حماد بن زيد، - حدثنا ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، قال رايت في المنام كان في يدي قطعة استبرق وليس مكان اريد من الجنة الا طارت اليه - قال - فقصصته على حفصة فقصته حفصة على النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ارى عبد الله رجلا صالحا
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবিতাবস্থায় জনৈক লোক স্বপ্নে দেখলে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করতেন। আমি প্রত্যাশা করে ছিলাম যে, আমি কোন স্বপ্নে দেখলে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করি। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় আমি বলিষ্ঠ অবিবাহিত যুবক ছিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আমি মসজিদে ঘুমাতাম। তখন আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন দু'জন ফেরেশতা আমাকে ধরে তারা আমাকে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন। তখন দেখলাম যে, সেটি একটি গভীর গর্ত, একটি কূপের গর্তের ন্যায়। তাতে দুটি কাষ্ঠখণ্ড দেখলাম যা কূপের উপরে স্বাভাবিকভাবে থাকে। সেখানে কিছু ব্যক্তি ছিল যাদের আমি চিনলাম। আমি তখন বলতে শুরু করলাম-أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ "আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই”। বর্ণনাকারী বলেন, সে দু' ফেরেশতার সাথে আরও কতিপয় ফেরেশতা মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, তোমার কোন শঙ্কা নেই। অতঃপর আমি এ সপ্নের কথা হাফসাহ (রাযিঃ) এর নিকট উল্লেখ করলাম। হাফসাহ্ (রাযিঃ) তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আবদুল্লাহ কতই না উত্তম লোক! সে রাতে যদি (তাহাজুদ) সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করত। সালিম (রাযিঃ) বলেন, এরপর আবদুল্লাহ (রাযিঃ) রাত্রে খুব কম সময়ই ঘুমিয়ে যেতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، وعبد بن حميد، - واللفظ لعبد - قالا اخبرنا عبد، الرزاق اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، قال كان الرجل في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا راى رويا قصها على رسول الله صلى الله عليه وسلم فتمنيت ان ارى رويا اقصها على النبي صلى الله عليه وسلم قال وكنت غلاما شابا عزبا وكنت انام في المسجد على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فرايت في النوم كان ملكين اخذاني فذهبا بي الى النار فاذا هي مطوية كطى البير واذا لها قرنان كقرنى البير واذا فيها ناس قد عرفتهم فجعلت اقول اعوذ بالله من النار اعوذ بالله من النار اعوذ بالله من النار - قال - فلقيهما ملك فقال لي لم ترع . فقصصتها على حفصة فقصتها حفصة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم الرجل عبد الله لو كان يصلي من الليل " . قال سالم فكان عبد الله بعد ذلك لا ينام من الليل الا قليلا
(…/…) আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রাযিঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাত্রে মসজিদে থাকতাম। সে সময় আমার কোন পরিবার-পরিজন ছিল না। একদা আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাকে একটি কূপের কাছে নেয়া হয়েছে। অতঃপর বর্ণনাকারী (উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার) সালিম তদীয় পিতা সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যুহরীর হাদীসের অর্থানুরূপ উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، اخبرنا موسى بن خالد، ختن الفريابي عن ابي اسحاق الفزاري، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، قال كنت ابيت في المسجد ولم يكن لي اهل فرايت في المنام كانما انطلق بي الى بير . فذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم بمعنى حديث الزهري عن سالم عن ابيه
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার খাদিম আনাসের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তখন তিনি দুয়া করলেন,اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ "হে আল্লাহ, তাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততিতে বারাকাত দিন এবং আপনি তাকে যা দান করেছেন তাতেও বারাকাত দিন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، سمعت قتادة، يحدث عن انس، عن ام سليم، انها قالت يا رسول الله خادمك انس ادع الله له فقال " اللهم اكثر ماله وولده وبارك له فيما اعطيته
حدثنا هداب بن خالد الازدي، حدثنا سليمان بن المغيرة، اخبرنا حميد بن هلال، عن عبد الله بن الصامت، قال قال ابو ذر خرجنا من قومنا غفار وكانوا يحلون الشهر الحرام فخرجت انا واخي انيس وامنا فنزلنا على خال لنا فاكرمنا خالنا واحسن الينا فحسدنا قومه فقالوا انك اذا خرجت عن اهلك خالف اليهم انيس فجاء خالنا فنثا علينا الذي قيل له فقلت له اما ما مضى من معروفك فقد كدرته ولا جماع لك فيما بعد . فقربنا صرمتنا فاحتملنا عليها وتغطى خالنا ثوبه فجعل يبكي فانطلقنا حتى نزلنا بحضرة مكة فنافر انيس عن صرمتنا وعن مثلها فاتيا الكاهن فخير انيسا فاتانا انيس بصرمتنا ومثلها معها - قال - وقد صليت يا ابن اخي قبل ان القى رسول الله صلى الله عليه وسلم بثلاث سنين . قلت لمن قال لله . قلت فاين توجه قال اتوجه حيث يوجهني ربي اصلي عشاء حتى اذا كان من اخر الليل القيت كاني خفاء حتى تعلوني الشمس . فقال انيس ان لي حاجة بمكة فاكفني . فانطلق انيس حتى اتى مكة فراث على ثم جاء فقلت ما صنعت قال لقيت رجلا بمكة على دينك يزعم ان الله ارسله . قلت فما يقول الناس قال يقولون شاعر كاهن ساحر . وكان انيس احد الشعراء . قال انيس لقد سمعت قول الكهنة فما هو بقولهم ولقد وضعت قوله على اقراء الشعر فما يلتيم على لسان احد بعدي انه شعر والله انه لصادق وانهم لكاذبون . قال قلت فاكفني حتى اذهب فانظر . قال فاتيت مكة فتضعفت رجلا منهم فقلت اين هذا الذي تدعونه الصابي فاشار الى فقال الصابي . فمال على اهل الوادي بكل مدرة وعظم حتى خررت مغشيا على - قال - فارتفعت حين ارتفعت كاني نصب احمر - قال - فاتيت زمزم فغسلت عني الدماء وشربت من مايها ولقد لبثت يا ابن اخي ثلاثين بين ليلة ويوم ما كان لي طعام الا ماء زمزم فسمنت حتى تكسرت عكن بطني وما وجدت على كبدي سخفة جوع - قال - فبينا اهل مكة في ليلة قمراء اضحيان اذ ضرب على اسمختهم فما يطوف بالبيت احد وامراتين منهم تدعوان اسافا ونايلة - قال - فاتتا على في طوافهما فقلت انكحا احدهما الاخرى - قال - فما تناهتا عن قولهما - قال - فاتتا على فقلت هن مثل الخشبة غير اني لا اكني . فانطلقتا تولولان وتقولان لو كان ها هنا احد من انفارنا . قال فاستقبلهما رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر وهما هابطان قال " ما لكما " . قالتا الصابي بين الكعبة واستارها قال " ما قال لكما " . قالتا انه قال لنا كلمة تملا الفم . وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى استلم الحجر وطاف بالبيت هو وصاحبه ثم صلى فلما قضى صلاته قال ابو ذر . فكنت انا اول من حياه بتحية الاسلام - قال - فقلت السلام عليك يا رسول الله . فقال " وعليك ورحمة الله " . ثم قال " من انت " . قال قلت من غفار - قال - فاهوى بيده فوضع اصابعه على جبهته فقلت في نفسي كره ان انتميت الى غفار . فذهبت اخذ بيده فقدعني صاحبه وكان اعلم به مني ثم رفع راسه ثم قال " متى كنت ها هنا " . قال قلت قد كنت ها هنا منذ ثلاثين بين ليلة ويوم قال " فمن كان يطعمك " . قال قلت ما كان لي طعام الا ماء زمزم . فسمنت حتى تكسرت عكن بطني وما اجد على كبدي سخفة جوع قال " انها مباركة انها طعام طعم " . فقال ابو بكر يا رسول الله ايذن لي في طعامه الليلة . فانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر وانطلقت معهما ففتح ابو بكر بابا فجعل يقبض لنا من زبيب الطايف وكان ذلك اول طعام اكلته بها ثم غبرت ما غبرت ثم اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انه قد وجهت لي ارض ذات نخل لا اراها الا يثرب فهل انت مبلغ عني قومك عسى الله ان ينفعهم بك وياجرك فيهم " . فاتيت انيسا فقال ما صنعت قلت صنعت اني قد اسلمت وصدقت . قال ما بي رغبة عن دينك فاني قد اسلمت وصدقت . فاتينا امنا فقالت ما بي رغبة عن دينكما فاني قد اسلمت وصدقت . فاحتملنا حتى اتينا قومنا غفارا فاسلم نصفهم وكان يومهم ايماء بن رحضة الغفاري وكان سيدهم . وقال نصفهم اذا قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة اسلمنا . فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فاسلم نصفهم الباقي وجاءت اسلم فقالوا يا رسول الله اخوتنا نسلم على الذي اسلموا عليه . فاسلموا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " غفار غفر الله لها واسلم سالمها الله
وحدثني ابراهيم بن محمد بن عرعرة السامي، ومحمد بن حاتم، - وتقاربا في سياق الحديث واللفظ لابن حاتم - قالا حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا المثنى بن سعيد عن ابي جمرة عن ابن عباس قال لما بلغ ابا ذر مبعث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة قال لاخيه اركب الى هذا الوادي فاعلم لي علم هذا الرجل الذي يزعم انه ياتيه الخبر من السماء فاسمع من قوله ثم ايتني . فانطلق الاخر حتى قدم مكة وسمع من قوله ثم رجع الى ابي ذر فقال رايته يامر بمكارم الاخلاق وكلاما ما هو بالشعر . فقال ما شفيتني فيما اردت . فتزود وحمل شنة له فيها ماء حتى قدم مكة فاتى المسجد فالتمس النبي صلى الله عليه وسلم ولا يعرفه وكره ان يسال عنه حتى ادركه - يعني الليل - فاضطجع فراه علي فعرف انه غريب فلما راه تبعه فلم يسال واحد منهما صاحبه عن شىء حتى اصبح ثم احتمل قريبته وزاده الى المسجد فظل ذلك اليوم ولا يرى النبي صلى الله عليه وسلم حتى امسى فعاد الى مضجعه فمر به علي فقال ما انى للرجل ان يعلم منزله فاقامه فذهب به معه ولا يسال واحد منهما صاحبه عن شىء حتى اذا كان يوم الثالث فعل مثل ذلك فاقامه علي معه ثم قال له الا تحدثني ما الذي اقدمك هذا البلد قال ان اعطيتني عهدا وميثاقا لترشدني فعلت . ففعل فاخبره فقال فانه حق وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا اصبحت فاتبعني فاني ان رايت شييا اخاف عليك قمت كاني اريق الماء فان مضيت فاتبعني حتى تدخل مدخلي . ففعل فانطلق يقفوه حتى دخل على النبي صلى الله عليه وسلم ودخل معه فسمع من قوله واسلم مكانه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " ارجع الى قومك فاخبرهم حتى ياتيك امري " . فقال والذي نفسي بيده لاصرخن بها بين ظهرانيهم . فخرج حتى اتى المسجد فنادى باعلى صوته اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله . وثار القوم فضربوه حتى اضجعوه فاتى العباس فاكب عليه فقال ويلكم الستم تعلمون انه من غفار وان طريق تجاركم الى الشام عليهم . فانقذه منهم ثم عاد من الغد بمثلها وثاروا اليه فضربوه فاكب عليه العباس فانقذه