Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৪১ হাদিসসমূহ
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহমাহ এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا حفص بن غياث، عن الاعمش، حدثنا ابو جهمة، بهذا الاسناد
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মাজলিসে হেলান দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বলছেন, হে আবূ আয়িশাহ। তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল। রাবী মাসরূক বলেন, আমি তো হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উন্মুল মুমিনীন! থামুন। আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কি বলেননিঃ “তিনি (রাসূল) তো তাকে (আল্লাহকে) স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন- (সূরাহ আত তাকভীর ৮১ঃ ২৩)। অন্যত্র “নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৩)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমিই এ উম্মতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ)। কেবলমাত্র এ দু'বারই আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখেছি। তার বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু৷ আয়িশাহ (রাযিঃ) আরো বলেন, তুমি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদৰ্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত"- (সুরাহ আল আন’আম ৬ঃ ১০৩)। এরূপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ "মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে, অথবা এমন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে যে তার অনুমতিক্রমে তিনি চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরাহ আশ শূরা ৪২ঃ ৫১)। 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আর ঐ ব্যক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তার বার্তা প্রচারই করলেন না (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ঃ ৬৭)। তিনি [আয়িশাহ (রাযিঃ)] আরো বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ওয়াহী ব্যতীত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, "বল, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত গায়ব সম্পর্কে কেউ জানে না" (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৬৫)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثني زهير بن حرب، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، عن داود، عن الشعبي، عن مسروق، قال كنت متكيا عند عايشة فقالت يا ابا عايشة ثلاث من تكلم بواحدة منهن فقد اعظم على الله الفرية . قلت ما هن قالت من زعم ان محمدا صلى الله عليه وسلم راى ربه فقد اعظم على الله الفرية . قال وكنت متكيا فجلست فقلت يا ام المومنين انظريني ولا تعجليني الم يقل الله عز وجل { ولقد راه بالافق المبين} { ولقد راه نزلة اخرى} . فقالت انا اول هذه الامة سال عن ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انما هو جبريل لم اره على صورته التي خلق عليها غير هاتين المرتين رايته منهبطا من السماء سادا عظم خلقه ما بين السماء الى الارض " . فقالت اولم تسمع ان الله يقول { لا تدركه الابصار وهو يدرك الابصار وهو اللطيف الخبير} اولم تسمع ان الله يقول { وما كان لبشر ان يكلمه الله الا وحيا او من وراء حجاب او يرسل رسولا فيوحي باذنه ما يشاء انه علي حكيم} قالت ومن زعم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كتم شييا من كتاب الله فقد اعظم على الله الفرية والله يقول { يا ايها الرسول بلغ ما انزل اليك من ربك وان لم تفعل فما بلغت رسالته} . قالت ومن زعم انه يخبر بما يكون في غد فقد اعظم على الله الفرية والله يقول { قل لا يعلم من في السموات والارض الغيب الا الله}
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) হতে উক্ত সনদে ইবনু উলাইয়্যাহ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এতটুকু অতিরিক্ত আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর অবতীর্ণ ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তবে তিনি এ আয়াতটি অবশ্য গোপন করতেনঃ "স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ দান করেছেন এবং আপনিও যার [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পোষ্য পুত্র যায়দ] প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছিলেন "তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর আপনি আপনার অন্তরে গোপন করেছিলেন। অথচ আল্লাহ তা প্রকাশকারী। আপনি লোককে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকে ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সঙ্গত" (সূরাহু আল আহযাব ৩৩ঃ ৩৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا داود، بهذا الاسناد نحو حديث ابن علية وزاد قالت ولو كان محمد صلى الله عليه وسلم كاتما شييا مما انزل عليه لكتم هذه الاية { واذ تقول للذي انعم الله عليه وانعمت عليه امسك عليك زوجك واتق الله وتخفي في نفسك ما الله مبديه وتخشى الناس والله احق ان تخشاه}
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবকে দেখেছেন কি? জবাবে তিনি (আতঙ্ক বা আশ্চর্যের সাথে) বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার কথা শুনে আমার শরীরের পশম কাটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। অতঃপর হাদীসের পূর্ণ বিবরণ বর্ণনা করেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে দাউদের হাদীসটিই পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابن نمير، حدثنا ابي، حدثنا اسماعيل، عن الشعبي، عن مسروق، قال سالت عايشة هل راى محمد صلى الله عليه وسلم ربه فقالت سبحان الله لقد قف شعري لما قلت . وساق الحديث بقصته . وحديث داود اتم واطول
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বললাম (আপনিতো বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেননি) তাহলে আল্লাহর এ বাণীর জবাব কি? “এমনকি দুই ধনুকের সমান কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্ব থেকে গেল। তখন আল্লাহর বান্দাকে যে ওয়াহী পৌছাবার ছিল তা পৌছে দিল"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ৯-১১)। 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, ইনি তো হলেন জিবরীল (আঃ)। সাধারণত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতেন মানুষের আকৃতিতে। কিন্তু এবার এসেছিলেন তার আসল রূপে। তার দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا ابن نمير، حدثنا ابو اسامة، حدثنا زكرياء، عن ابن اشوع، عن عامر، عن مسروق، قال قلت لعايشة فاين قوله { ثم دنا فتدلى * فكان قاب قوسين او ادنى * فاوحى الى عبده ما اوحى} قالت انما ذاك جبريل صلى الله عليه وسلم كان ياتيه في صورة الرجال وانه اتاه في هذه المرة في صورته التي هي صورته فسد افق السماء
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ) নূর, তা আমি কি রূপে দেখবো? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا وكيع، عن يزيد بن ابراهيم، عن قتادة، عن عبد الله بن شقيق، عن ابي ذر، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم هل رايت ربك قال " نور انى اراه
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি আবূ যার (রাযিঃ) কে বললাম, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখা পেতাম তবে অবশ্যই তাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করতাম। আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, কি জিজ্ঞেস করতে? তিনি বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম যে, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? আবূ যার (রাযিঃ) বললেন, এ কথা তো আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেন, আমি নূর দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن هشام، حدثنا ابي ح، وحدثني حجاج بن الشاعر، حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا همام، كلاهما عن قتادة، عن عبد الله بن شقيق، قال قلت لابي ذر لو رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم لسالته فقال عن اى شىء كنت تساله قال كنت اساله هل رايت ربك قال ابو ذر قد سالت فقال " رايت نورا
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাড়িয়ে পাঁচটি কথা বললেনঃ (১) আল্লাহ কখনো নিদ্রা যান না। (২) নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। (৩) তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে মীযান (দাড়িপাল্লা) নামান এবং উত্তোলন করেন। (৪) দিনের পূর্বেই রাতের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। রাতের পূর্বেই দিনের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। (৫) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত। আবূ বকর (রাযিঃ)-এর আরেক বর্ণনায় لنُّورُ (আলো) এর পরিবর্তে النَّارُ (আগুন) শব্দের উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সে আবরণ খুলে দেয়া হয়, তবে তার নূরের আলোচ্ছটা সৃষ্টি জগতের দৃশ্যমান সব কিছু ভস্ম করে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، وابو كريب قالا حدثنا ابو معاوية، حدثنا الاعمش، عن عمرو بن مرة، عن ابي عبيدة، عن ابي موسى، قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمس كلمات فقال " ان الله عز وجل لا ينام ولا ينبغي له ان ينام يخفض القسط ويرفعه يرفع اليه عمل الليل قبل عمل النهار وعمل النهار قبل عمل الليل حجابه النور - وفي رواية ابي بكر النار - لو كشفه لاحرقت سبحات وجهه ما انتهى اليه بصره من خلقه " . - وفي رواية ابي بكر عن الاعمش ولم يقل حدثنا
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে পূর্ব বর্ণিত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে চারটি কথা নিয়ে দাঁড়ালেন। বর্ণনাকারী আবূ মু'আবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি (مِنْ خَلْقِهِ) সৃষ্টি জগতের শব্দ উল্লেখ করেননি এবং তিনি (حِجَابُهُ النُّورُ) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত' শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا جرير، عن الاعمش، بهذا الاسناد قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم باربع كلمات . ثم ذكر بمثل حديث ابي معاوية ولم يذكر " من خلقه " . وقال حجابه النور
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে চারটি কথা নিয়ে আলোচনা করে বলেন, আল্লাহ তা'আলা কখনো নিদ্রা যান না আর নিদ্রা তার জন্য শোভাও পায় না, তিনি তুলাদণ্ড উঁচু এবং নীচু করেন, তার নিকট রাতের পূর্বেই দিনের আমল উত্থিত হয় এবং দিনের পূর্বে রাতের 'আমল উত্থিত হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৪ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار قالا حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثني شعبة، عن عمرو بن مرة، عن ابي عبيدة، عن ابي موسى، قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم باربع " ان الله لا ينام ولا ينبغي له ان ينام يرفع القسط ويخفضه ويرفع اليه عمل النهار بالليل وعمل الليل بالنهار
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... 'আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাযিঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দু'টি জান্নাত এমন যে, এগুলোর বাসনপত্র ও সমুদয় সামগ্রী রূপার তৈরি। অন্য দুটি জান্নাত এমন, যেগুলোর পাত্রাদি ও সমুদয় সামগ্ৰী স্বর্ণের তৈরি। 'আদন নামক জান্নাতে জান্নাতীগণ আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন। এ সময় তাদের ও আল্লাহর মাঝে তার মহিমার চাঁদর ব্যতীত আর কোন অন্তরায় থাকবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৫ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، وابو غسان المسمعي واسحاق بن ابراهيم جميعا عن عبد العزيز بن عبد الصمد، - واللفظ لابي غسان قال حدثنا ابو عبد الصمد، - حدثنا ابو عمران الجوني، عن ابي بكر بن عبد الله بن قيس، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " جنتان من فضة انيتهما وما فيهما وجنتان من ذهب انيتهما وما فيهما وما بين القوم وبين ان ينظروا الى ربهم الا رداء الكبرياء على وجهه في جنة عدن
উবাইদুল্লাহ ইবনু 'উমার ইবনু মাইসারাহ (রাযিঃ) ..... সুহায়ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা কি চাও, আমি আরো অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেই? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারাগুলো আলোকজ্জ্বল করে দেননি, আমাদের জান্নাতে দাখিল করেননি এবং জাহান্নাম থেকে নাযাত দেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর আল্লাহ তা'আলা আবরণ তুলে নিবেন। আল্লাহর দর্শন লাভের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় জিনিস আর কিছুই তাদের দেয়া হয়নি*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৬ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة، قال حدثني عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت البناني، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن صهيب، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا دخل اهل الجنة الجنة - قال - يقول الله تبارك وتعالى تريدون شييا ازيدكم فيقولون الم تبيض وجوهنا الم تدخلنا الجنة وتنجنا من النار - قال - فيكشف الحجاب فما اعطوا شييا احب اليهم من النظر الى ربهم عز وجل
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি আরো বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ "যারা ভাল আমল করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরো অধিক কিছু (আল্লাহর দর্শন)" (সূরাহ ইউনুস ১০ঃ ২৬)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৭ ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا يزيد بن هارون، عن حماد بن سلمة، بهذا الاسناد وزاد ثم تلا هذه الاية { للذين احسنوا الحسنى وزيادة}
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, কয়েকজন সাহাবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের পরস্পরের মাঝে কষ্ট হয়? সাহাবাগণ বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের পরস্পরের কষ্টবোধ হয়? তারা বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তদ্রুপ তোমরা তাকেও দেখবে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ সকল মানুষকে জমায়েত করে বলবেন, পৃথিবীতে তোমাদের যে যার ইবাদাত করেছিলে আজ তাকেই অনুসরণ কর। তখন যারা সূর্যের উপাসনা করতো, তারা সূর্যের সাথে থাকবে। যারা চন্দ্রের উপাসনা করতো, তারা চন্দ্রের সাথে থাকবে। আর যারা আল্লাহদ্রোহীদের (তাগুতের) উপাসনা করতো, তারা আল্লাহদ্রোহীদের সাথে জমায়েত হয়ে যাবে। কেবল এ উম্মত অবশিষ্ট থাকবে। তন্মধ্যে মুনাফিকরাও থাকবে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট এমন আকৃতিতে উপস্থিত হবেন যা তারা চিনে না। তারপর (আল্লাহ তা'আলা) বলবেন, আমি তোমাদের প্রতিপালক (সুতরাং তোমরা আমার পিছনে চল)। তারা বলবে, নাউযুবিল্লাহ। আমাদের প্রভু না আসা পর্যন্ত আমরা এখানেই দাড়িয়ে থাকবো। আর তিনি যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারবো। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট তাদের পরিচিত আকৃতিতে আসবেন, বলবেনঃ আমি তোমাদের প্রভু। তারা বলবে, হ্যাঁ, আপনি আমাদের প্রতু। এ বলে তারা তাকে অনুসরণ করবে। এমন সময়ে জাহান্নামের উপর দিয়ে সিরাত (সাকো) বসানো হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আর আমি ও আমার উম্মতই হব প্রথম এ পথ অতিক্রমকারী। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত অন্য কেউ মুখ খোলারও সাহস করবে না। আর রাসূলগণও কেবল এ দু'আ করবেন। হে আল্লাহ! নিরাপত্তা দাও, নিরাপত্তা দাও। আর জাহান্নামে থাকবে সা'দান বৃক্ষের কাটার মত অনেক কাটাযুক্ত লৌহদণ্ড। তোমরা সাদান বৃক্ষটি দেখেছ কি? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা সাদান বৃক্ষের কাটার মতই, তবে সেটা যে কত বিরাট তা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। পাপ কাজের জন্য কাটার আংটাগুলো ছোবল দিতে থাকবে। তাদের কেউ কেউ মু'মিন (যারা সাময়িক জাহান্নামী) তারা রক্ষা পাবে, আর কেউ তো শাস্তি ভোগ করে নাযাত পাবে। এরপর আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা হতে অবসর হলে স্বীয় রহমতে কিছু সংখ্যক জাহান্নামীদের (জাহান্নাম হতে) বের করতে দেয়ার ইচ্ছা করবেন তখন ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিবেন যারা কালিমায় বিশ্বাসী ও শিরক করেনি যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা রহম করতে চাইবেন যে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো। আর যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা দয়া করতে চেয়েছেন তারা ঐ সকল লোক যারা 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলত। অতঃপর ফেরেশতাগণ তাদের সনাক্ত করবেন। তারা সিজদা চিহ্নের সাহায্যে তাদের চিনবেন। কারণ, অগ্নি মানুষের দেহের সবকিছু জ্বালিয়ে ফেললেও সাজদার স্থান অক্ষত থাকবে। আল্লাহ তা'আলা সাজদার চিহ্ন নষ্ট করা হারাম (নিষিদ্ধ) করে দিয়েছেন। মোটকথা, ফেরেশতাগণ এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে এমন অবস্থায় যে, তাদের দেহ আগুনে দগ্ধ। তাদের উপর 'মাউল-হায়াত’ (সঞ্জীবনী পানি) ঢেলে দেয়া হবে। তখন তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর পানিসিক্ত উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। তারপর আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করবেন। শেষে এক ব্যক্তি থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল হবে জাহান্নামের দিকে। এই হবে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। সে বলবে, হে আমার প্রভু! (অনুগ্রহ করে) আমার মুখটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিন। কারণ জাহান্নামের দুর্গন্ধ আমাকে অসহনীয় কষ্ট দিচ্ছে; এর লেলিহান অগ্নিশিখা আমাকে দগ্ধ করে দিচ্ছে। আল্লাহ যতদিন চান ততদিন পর্যন্ত সে তার নিকট দু'আ করতে থাকবে। পরে আল্লাহ বলবেন, তোমার এ দু'আ কবুল করলে তুমি কি আরো কিছু কামনা করবে? সে বিভিন্ন ধরনের ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে বলবে যে, জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিবেন। তার চেহারা যখন জান্নাতের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, আর সে জান্নাত দেখবে, তখন আল্লাহ যতদিন চান সে নীরব থাকবে। পরে আবার বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেবল জান্নাতের দরজা পর্যন্ত আমাকে পৌছে দিন। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি না অঙ্গীকার দিয়েছিলে যে, আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না। হে আদম সন্তান! তুমি হতভাগা ও তুমি সাংঘাতিক ওয়াদাভঙ্গকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! এই বলে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে থাকবে। আল্লাহ বলবেন, তুমি যা চাও তা যদি দিয়ে দেই তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, আপনার ইজ্জতের কসম! আর কিছু চাইব না। এভাবে সে তার অক্ষমতা (আল্লাহর কাছে) পেশ করতে থাকবে যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা হয়। তারপর তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া হবে। এবার যখন সে জান্নাতের দরজায় দাঁড়াবে, তখন জান্নাত তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। সে জান্নাতের সমৃদ্ধি ও সুখ দেখতে থাকবে। সেখানে আল্লাহ যতক্ষণ চান সে ততক্ষণ চুপ করে থাকবে। পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন, তুমি না সকল ধরনের ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে বলেছিলে, আমি যা দান করেছি এর চাইতে বেশি আর কিছু চাইবে না? হে হতভাগা আদম সন্তান! তুমি তো ভীষণ ওয়াদাভঙ্গকারী। সে বলবে, হে আমার রব। আমি যেন আপনার সৃষ্টির সবচেয়ে দুর্ভাগা না হই। সে বার বার দু'আ করতে থাকবে। পরিশেষে তার অবস্থা দেখে আল্লাহ তা'আলা হেসে ফেলবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। (জান্নাতে প্রবেশের পর) আল্লাহ তাকে বলবেন, (যা চাওয়ার) চাও। তখন সে তার সকল কামনা চেয়ে শেষ করবে। এরপর আল্লাহ নিজেই স্মরণ করায়ে বলবেন, অমুক অমুকটা চাও। এভাবে তার কামনা শেষ হয়ে গেলে আল্লাহ বলবেন, তোমাকে এ সব এবং এর সমপরিমাণ আরো দেয়া হল। আতা ইবনু ইয়াযীদ বলেন, এবং আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণিত এ হাদীসের কোন কথাই রদ করেননি। তবে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) যখন এ কথা উল্লেখ করলেন, "আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে বলবেন, তোমাকে এ সব এবং এর সমপরিমাণ আরো দেয়া হল" তখন আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবূ হুরাইরাহ! বরং তা সহ আরো দশগুণ দেয়া হবে। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে "এর সম-পরিমাণ" এ শব্দ স্মরণ রেখেছি। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে "আরো দশগুণ" এ শব্দ সংরক্ষিত রেখেছি। রাবী বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) পরিশেষে বলেন, এ ব্যক্তি হবে জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? ..... এরপর রাবী ইবরাহীম ইবনু সাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، اخبرنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سعيد بن المسيب، وعطاء بن يزيد الليثي، ان ابا هريرة، اخبرهما ان الناس قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم يا رسول الله هل نرى ربنا يوم القيامة وساق الحديث بمثل معنى حديث ابراهيم بن سعد
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কতিপয় হাদীস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে এটিও ছিল, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের জান্নাতীকে বলা হবে যে, তুমি কামনা কর। সে কামনা করতে থাকবে এবং আরো কামনা করবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার যা কমন করার তা কি করেছ? সে বলবে, জী! আল্লাহ বলবেন, যা কামনা করেছ তা এবং এর অনুরূপ তোমাকে প্রদান করা হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثنا محمد بن رافع، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن همام بن منبه، قال هذا ما حدثنا ابو هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم . فذكر احاديث منها وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ادنى مقعد احدكم من الجنة ان يقول له تمن . فيتمنى ويتمنى فيقول له هل تمنيت فيقول نعم . فيقول له فان لك ما تمنيت ومثله معه
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে কতিপয় লোক তাকে জিজ্ঞেস করে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ! তিনি আরো বললেনঃ দুপুরে মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? চন্দ্রের চৌদ্দ তারিখে মেঘমুক্ত অবস্থায় চন্দ্র দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? সকলে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঠিক তদ্রুপ কিয়ামত দিবসে তোমাদের বারাকাতময় মহামহিম প্রতিপালককে দেখতে কোনই কষ্ট অনুভব হবে না যেমন চন্দ্র ও সূর্য দেখতে কষ্ট অনুভব কর না। সে দিন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে, যে যার উপাসনা করতো সে আজ তার অনুসরণ করুক। তখন আল্লাহ ব্যতীত তারা অন্য দেব-দেবী ও মূর্তিপূজার বেদীর উপাসনা করত তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না; সকলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সৎ হোক বা অসৎ যারা আল্লাহর ইবাদাত করত তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে এবং কিতাবীদের (যারা দেব-দেবী ও বেদীর উপাসক ছিল না তারাও বাকী থাকবে)। এরপর ইয়াহুদীদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা কার ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র উযায়র-এর। তাদেরকে বলা হবে মিথ্যা বলছো। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে আল্লাহ! আমাদের খুবই পিপাসা পেয়েছে। আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। প্রার্থনা শুনে তাদেরকে ইঙ্গিত করে মরীচিকাময় জাহান্নামের দিকে জমায়েত করা হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ আরেক অংশকে গ্রাস করতে থাকবে। তারা এতে ঝাপিয়ে পড়বে। এরপর খৃস্টানদেরকে ডাকা হবে, বলা হবে, তোমরা কার ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র মাসীহ এর (ঈসার) উপাসনা করতাম। বলা হবে, মিথ্যা বলছ। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। জিজ্ঞেস করা হবে, এখন কি চাও? তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের দারুন পিপাসা পেয়েছে, আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। তখন তাদেরকেও পানির ঘাটে যাবার ইঙ্গিত করে জাহান্নামের দিকে হাকিয়ে নিয়ে জমায়েত করা হবে। এটিকে মরীচিকার ন্যায় মনে হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ অপর অংশকে গ্রাস করে নিবে। তারা তখন জাহান্নামে ঝাপিয়ে পড়তে থাকবে। শেষে সৎ হোক বা অসৎ এক আল্লাহর উপাসক ব্যতীত আর কেউ (ময়দানে) অবশিষ্ট থাকবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা পরিচিত আকৃতিতে তাদের নিকট আসবেন। বলবেন, সবই তাদের স্ব স্ব উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে, আর তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! যেখানে আমরা বেশী মুখাপেক্ষী ছিলাম সে দুনিয়াতেই আমরা অপরাপর মানুষ থেকে পৃথক থেকেছি এবং তাদের সঙ্গী হইনি। তখন আল্লাহ বলবেন, আমিই তো তোমাদের প্রতু। মু'মিনরা বলবে, "আমরা তোমার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" আল্লাহর সঙ্গে আমরা কিছুই শারীক করি না। এ কথা তারা দুই বা তিনবার বলবে। এমন কি কেউ কেউ অবাধ্যতা প্রদর্শনেও অবতীর্ণ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, আচ্ছা, তোমাদের নিকট এমন কোন নিদর্শন আছে যদ্বারা তাকে তোমরা চিনতে পার? তারা বলবে অবশ্যই আছে। এরপর পায়ের সাক' (গোছা) উন্মোচিত হবে। তখন পৃথিবীতে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা করত, সে মুহুর্তে তাদেরকে আল্লাহ সিজদা করতে অনুমতি দিবেন এবং তারা সবাই সিজদাবনত হয়ে পড়বে। আর যে কারো ভয়-ভীতি কিংবা লোক দেখানোর জন্য সিজদা করতো তার মেরুদণ্ড শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়া হবে। যখনই তারা সিজদা করতে ইচ্ছা করবে তখনই তারা চিত হয়ে পড়ে যাবে। অতঃপর তারা তাদের মাথা উঠাবে এবং তিনি তার আসলরূপে আবির্ভূত হবেন। অতঃপর বলবেন, আমি তোমাদের রব, তারা বলবে, হ্যাঁ! আপনি আমাদের রব। তারপর জাহান্নামের উপর "জাসর" (পুল) স্থাপন করা হবে। শাফাআতেরও অনুমতি দেয়া হবে। মানুষ বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! "জাসর" কি? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এটি এমন স্থান যেখানে পা পিছলে যায়। সেখানে আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাটা, দেখতে নাজদের সা'দান বৃক্ষের কাটার ন্যায়। মুমিনগণের কেউ তো এ পথ চোখের পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বায়ুর গতিতে, কেউ উত্তম অশ্ব গতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ তো অক্ষত অবস্থায় নাযাত পাবে, আর কেউ তো হবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাযাতপ্রাপ্ত। আর কতককে কাটাবিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মু'মিনগণ তাদের ঐ সব ভাইদের স্বার্থে আল্লাহর সাথে এত অধিক বিতর্কে লিপ্ত হবে যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে যে, তোমাদের পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে লিপ্ত হয় না। তারা বলবে, হে রব! এরা তো আমাদের সাথেই সিয়াম, সালাত আদায় করত, হজ্জ করত। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আন। উল্লেখ্য এরা জাহান্নামে পতিত হলেও মুখমণ্ডল আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। (তাই তাদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা হবে না।) মুমিনগণ জাহান্নাম হতে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারোর তো পায়ের নলা পর্যন্ত, আবার কারো হাটু পর্যন্ত দেহ আগুন ছাই করে দিবে। উদ্ধার শেষ করে মুমিনগণ বলবে, হে রব যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরো একদলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! অনুমতিপ্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসিনি। আল্লাহ বলবেনঃ আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন তাদের কাউকে ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ বলবেনঃ আবার যাও, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের কথা বলেছিলেন তাদের কাউকেও রেখে আসিনি। সাহাবা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, তোমরা যদি এ হাদীসের ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে না কর তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটি যদি চাও তবে তিলাওয়াত করতে পারঃ "আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না এবং অণু পরিমাণ নেক কাজ হলেও আল্লাহ তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তার নিকট হতে মহাপুরস্কার প্রদান করেন"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ৪০)। এরপর আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ ফেরেশতারা সুপারিশ করলেন, নবীগণও সুপারিশ করলেন এবং মুমিনরাও সুপারিশ করেছে, কেবলমাত্র আরহামুর রাহিমীন পরম দয়াময়ই রয়ে গেছেন। এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে যারা কখনো কোন সৎকর্ম করেনি এবং আগুনে জ্বলে লাল হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতের প্রবেশ মুখের নাহরুল হায়াতে ফেলে দেয়া হবে। তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পানি ভেজা উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ) তোমরা কি কোন বৃক্ষ কিংবা পাথরের আড়াল কোন শস্যদানা অঙ্কুরিত হতে দেখনি? যেগুলো সূর্য কিরণের মাঝে থেকে সেগুলো হলদে ও সবুজ রূপ ধারণ করে আর যেগুলো ছায়াযুক্ত স্থানে থাকে সেগুলো সাদা হয়ে যায়। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মনে হয় আপনি যেন গ্রামাঞ্চলে পশু চরিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর তারা নহর থেকে মুক্তার ন্যায় ঝকঝকে অবস্থায় ওঠে আসবে এবং তাদের গ্রীবাদেশে মোহরাঙ্কিত থাকবে যা দেখে জান্নাতীগণ তাদের চিনতে পারবেন। এরা হর ‘উতাকাউল্লাহ-আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা সৎ আমল ব্যতীতই তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন। এরপর আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেনঃ যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। আর যা কিছু দেখছ সব কিছু তোমাদেরই। তারা বলবে, হে রব! আপনি আমাদেরকে এত দিয়েছেন যা সৃষ্টজগতের কাউকে দেননি। আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের জন্য আমার নিকট এর চেয়েও উত্তম বস্তু আছে। তারা বলবে, কি সে উত্তম বস্তু? আল্লাহ বলবেনঃ সে হল আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন : শাফা'আত সম্পৰ্কীয় এ হাদীসটি আমি ঈসা ইবনু হাম্মাদ যুগবাতুর মিসরী এর নিকট পাঠ করতে বললাম, আপনি লায়স ইবনু সা'দ থেকে নিজে এ হাদীসটি শুনেছেন? আমি কি আপনার পক্ষ থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করতে পারি? তিনি উত্তর করলেন, হ্যাঁ! এরপর আমি ঈসা ইবনু হাম্মাদকে হাদীসটি এ সূত্রে শুনিয়েছি যে, ঈসা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের প্রভুকে দেখতে পাবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর করলেনঃ মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে ভীড়ের কারণে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? আমরা বললাম, না ...। এভাবে হাদীসটির শেষ পর্যন্ত তুলে ধরলাম। এ হাদীসটি হাফিয ইবনু মাইসারাহ বর্ণিত হাদিসেরই অনুরুপ। তিনিبِغَيْرِ عَمَلٍ عَمِلُوهُ وَلاَ قَدَمٍ قَدَّمُوهُ এ অংশটুকুর পর فَيُقَالُ لَهُمْ لَكُمْ مَا رَأَيْتُمْ অর্থাৎ তাদের বলা হবেঃ তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা দেখছ। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে রিওয়ায়াতে পৌছেছে যে, জাসর (পুল) চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম ও তরবারি অপেক্ষা অধিক তীক্ষ। তাছাড়া লায়সের হাদিসে فَيَقُولُونَ رَبَّنَا أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ বাক্যটির পরবর্তী অংশগুলো উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
قال مسلم قرات على عيسى بن حماد زغبة المصري هذا الحديث في الشفاعة وقلت له احدث بهذا الحديث عنك انك سمعت من الليث بن سعد فقال نعم . قلت لعيسى بن حماد اخبركم الليث بن سعد عن خالد بن يزيد عن سعيد بن ابي هلال عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري انه قال قلنا يا رسول الله انرى ربنا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل تضارون في روية الشمس اذا كان يوم صحو " . قلنا لا . وسقت الحديث حتى انقضى اخره وهو نحو حديث حفص بن ميسرة . وزاد بعد قوله بغير عمل عملوه ولا قدم قدموه " فيقال لهم لكم ما رايتم ومثله معه " . قال ابو سعيد بلغني ان الجسر ادق من الشعرة واحد من السيف . وليس في حديث الليث " فيقولون ربنا اعطيتنا ما لم تعط احدا من العالمين " وما بعده فاقر به عيسى بن حماد
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আসলাম থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসদ্বয়ের সনদের হাফস ইবনু মাইসারার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়াতে শব্দগুলো কিছু কম বর্ণনা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثناه ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا جعفر بن عون، حدثنا هشام بن سعد، حدثنا زيد بن اسلم، باسنادهما نحو حديث حفص بن ميسرة الى اخره وقد زاد ونقص شييا
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতীদেরকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তার রহমতেই তিনি যাকে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তারপর (ফেরেশতাদেরকে) বলবেনঃ যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান দেখতে পাবে তাকেও জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে আনবে এবং তারা এমন কিছু লোককে সেখান থেকে বের করে আনবে, যারা আগুনে জ্বলে কালো হয়ে গেছে এবং হায়াত' বা 'হায়া' নামক নহরে নিক্ষেপ করবে। তখন তারা এতে এমন সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পলিতে সতেজ হয়ে উঠে। তোমরা কি দেখনি, কত সুন্দররূপে সে শস্যদানা কেমনভাবে হলদে মাথা মোড়ানো অবস্থায় অঙ্কুরিত হয়? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
وحدثني هارون بن سعيد الايلي، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني مالك بن انس، عن عمرو بن يحيى بن عمارة، قال حدثني ابي، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يدخل الله اهل الجنة الجنة يدخل من يشاء برحمته ويدخل اهل النار النار ثم يقول انظروا من وجدتم في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان فاخرجوه . فيخرجون منها حمما قد امتحشوا . فيلقون في نهر الحياة او الحيا فينبتون فيه كما تنبت الحبة الى جانب السيل الم تروها كيف تخرج صفراء ملتوية
حدثني زهير بن حرب، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابي، عن ابن شهاب، عن عطاء بن يزيد الليثي، ان ابا هريرة، اخبره ان ناسا قالوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله هل نرى ربنا يوم القيامة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل تضارون في روية القمر ليلة البدر " . قالوا لا يا رسول الله . قال " هل تضارون في الشمس ليس دونها سحاب " . قالوا لا يا رسول الله . قال " فانكم ترونه كذلك يجمع الله الناس يوم القيامة فيقول من كان يعبد شييا فليتبعه . فيتبع من كان يعبد الشمس الشمس ويتبع من كان يعبد القمر القمر ويتبع من كان يعبد الطواغيت الطواغيت وتبقى هذه الامة فيها منافقوها فياتيهم الله - تبارك وتعالى - في صورة غير صورته التي يعرفون فيقول انا ربكم . فيقولون نعوذ بالله منك هذا مكاننا حتى ياتينا ربنا فاذا جاء ربنا عرفناه . فياتيهم الله تعالى في صورته التي يعرفون فيقول انا ربكم . فيقولون انت ربنا . فيتبعونه ويضرب الصراط بين ظهرى جهنم فاكون انا وامتي اول من يجيز ولا يتكلم يوميذ الا الرسل ودعوى الرسل يوميذ اللهم سلم سلم . وفي جهنم كلاليب مثل شوك السعدان هل رايتم السعدان " . قالوا نعم يا رسول الله . قال " فانها مثل شوك السعدان غير انه لا يعلم ما قدر عظمها الا الله تخطف الناس باعمالهم فمنهم المومن بقي بعمله ومنهم المجازى حتى ينجى حتى اذا فرغ الله من القضاء بين العباد واراد ان يخرج برحمته من اراد من اهل النار امر الملايكة ان يخرجوا من النار من كان لا يشرك بالله شييا ممن اراد الله تعالى ان يرحمه ممن يقول لا اله الا الله . فيعرفونهم في النار يعرفونهم باثر السجود تاكل النار من ابن ادم الا اثر السجود حرم الله على النار ان تاكل اثر السجود . فيخرجون من النار وقد امتحشوا فيصب عليهم ماء الحياة فينبتون منه كما تنبت الحبة في حميل السيل ثم يفرغ الله تعالى من القضاء بين العباد ويبقى رجل مقبل بوجهه على النار وهو اخر اهل الجنة دخولا الجنة فيقول اى رب اصرف وجهي عن النار فانه قد قشبني ريحها واحرقني ذكاوها فيدعو الله ما شاء الله ان يدعوه ثم يقول الله تبارك وتعالى هل عسيت ان فعلت ذلك بك ان تسال غيره . فيقول لا اسالك غيره . ويعطي ربه من عهود ومواثيق ما شاء الله فيصرف الله وجهه عن النار فاذا اقبل على الجنة وراها سكت ما شاء الله ان يسكت ثم يقول اى رب قدمني الى باب الجنة . فيقول الله له اليس قد اعطيت عهودك ومواثيقك لا تسالني غير الذي اعطيتك ويلك يا ابن ادم ما اغدرك . فيقول اى رب ويدعو الله حتى يقول له فهل عسيت ان اعطيتك ذلك ان تسال غيره . فيقول لا وعزتك . فيعطي ربه ما شاء الله من عهود ومواثيق فيقدمه الى باب الجنة فاذا قام على باب الجنة انفهقت له الجنة فراى ما فيها من الخير والسرور فيسكت ما شاء الله ان يسكت ثم يقول اى رب ادخلني الجنة . فيقول الله تبارك وتعالى له اليس قد اعطيت عهودك ومواثيقك ان لا تسال غير ما اعطيت ويلك يا ابن ادم ما اغدرك . فيقول اى رب لا اكون اشقى خلقك . فلا يزال يدعو الله حتى يضحك الله تبارك وتعالى منه فاذا ضحك الله منه قال ادخل الجنة . فاذا دخلها قال الله له تمنه . فيسال ربه ويتمنى حتى ان الله ليذكره من كذا وكذا حتى اذا انقطعت به الاماني قال الله تعالى ذلك لك ومثله معه " . قال عطاء بن يزيد وابو سعيد الخدري مع ابي هريرة لا يرد عليه من حديثه شييا . حتى اذا حدث ابو هريرة ان الله قال لذلك الرجل ومثله معه . قال ابو سعيد وعشرة امثاله معه يا ابا هريرة . قال ابو هريرة ما حفظت الا قوله ذلك لك ومثله معه . قال ابو سعيد اشهد اني حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قوله ذلك لك وعشرة امثاله . قال ابو هريرة وذلك الرجل اخر اهل الجنة دخولا الجنة
وحدثني سويد بن سعيد، قال حدثني حفص بن ميسرة، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، ان ناسا، في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا يا رسول الله هل نرى ربنا يوم القيامة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم " . قال " هل تضارون في روية الشمس بالظهيرة صحوا ليس معها سحاب وهل تضارون في روية القمر ليلة البدر صحوا ليس فيها سحاب " . قالوا لا يا رسول الله . قال " ما تضارون في روية الله تبارك وتعالى يوم القيامة الا كما تضارون في روية احدهما اذا كان يوم القيامة اذن موذن ليتبع كل امة ما كانت تعبد . فلا يبقى احد كان يعبد غير الله سبحانه من الاصنام والانصاب الا يتساقطون في النار حتى اذا لم يبق الا من كان يعبد الله من بر وفاجر وغبر اهل الكتاب فيدعى اليهود فيقال لهم ما كنتم تعبدون قالوا كنا نعبد عزير ابن الله . فيقال كذبتم ما اتخذ الله من صاحبة ولا ولد فماذا تبغون قالوا عطشنا يا ربنا فاسقنا . فيشار اليهم الا تردون فيحشرون الى النار كانها سراب يحطم بعضها بعضا فيتساقطون في النار . ثم يدعى النصارى فيقال لهم ما كنتم تعبدون قالوا كنا نعبد المسيح ابن الله . فيقال لهم كذبتم . ما اتخذ الله من صاحبة ولا ولد . فيقال لهم ماذا تبغون فيقولون عطشنا يا ربنا فاسقنا . - قال - فيشار اليهم الا تردون فيحشرون الى جهنم كانها سراب يحطم بعضها بعضا فيتساقطون في النار حتى اذا لم يبق الا من كان يعبد الله تعالى من بر وفاجر اتاهم رب العالمين سبحانه وتعالى في ادنى صورة من التي راوه فيها . قال فما تنتظرون تتبع كل امة ما كانت تعبد . قالوا يا ربنا فارقنا الناس في الدنيا افقر ما كنا اليهم ولم نصاحبهم . فيقول انا ربكم . فيقولون نعوذ بالله منك لا نشرك بالله شييا - مرتين او ثلاثا - حتى ان بعضهم ليكاد ان ينقلب . فيقول هل بينكم وبينه اية فتعرفونه بها فيقولون نعم . فيكشف عن ساق فلا يبقى من كان يسجد لله من تلقاء نفسه الا اذن الله له بالسجود ولا يبقى من كان يسجد اتقاء ورياء الا جعل الله ظهره طبقة واحدة كلما اراد ان يسجد خر على قفاه . ثم يرفعون رءوسهم وقد تحول في صورته التي راوه فيها اول مرة فقال انا ربكم . فيقولون انت ربنا . ثم يضرب الجسر على جهنم وتحل الشفاعة ويقولون اللهم سلم سلم " . قيل يا رسول الله وما الجسر قال " دحض مزلة . فيه خطاطيف وكلاليب وحسك تكون بنجد فيها شويكة يقال لها السعدان فيمر المومنون كطرف العين وكالبرق وكالريح وكالطير وكاجاويد الخيل والركاب فناج مسلم ومخدوش مرسل ومكدوس في نار جهنم . حتى اذا خلص المومنون من النار فوالذي نفسي بيده ما منكم من احد باشد مناشدة لله في استقصاء الحق من المومنين لله يوم القيامة لاخوانهم الذين في النار يقولون ربنا كانوا يصومون معنا ويصلون ويحجون . فيقال لهم اخرجوا من عرفتم . فتحرم صورهم على النار فيخرجون خلقا كثيرا قد اخذت النار الى نصف ساقيه والى ركبتيه ثم يقولون ربنا ما بقي فيها احد ممن امرتنا به . فيقول ارجعوا فمن وجدتم في قلبه مثقال دينار من خير فاخرجوه . فيخرجون خلقا كثيرا ثم يقولون ربنا لم نذر فيها احدا ممن امرتنا . ثم يقول ارجعوا فمن وجدتم في قلبه مثقال نصف دينار من خير فاخرجوه . فيخرجون خلقا كثيرا ثم يقولون ربنا لم نذر فيها ممن امرتنا احدا . ثم يقول ارجعوا فمن وجدتم في قلبه مثقال ذرة من خير فاخرجوه . فيخرجون خلقا كثيرا ثم يقولون ربنا لم نذر فيها خيرا " . وكان ابو سعيد الخدري يقول ان لم تصدقوني بهذا الحديث فاقرءوا ان شيتم { ان الله لا يظلم مثقال ذرة وان تك حسنة يضاعفها ويوت من لدنه اجرا عظيما} " فيقول الله عز وجل شفعت الملايكة وشفع النبيون وشفع المومنون ولم يبق الا ارحم الراحمين فيقبض قبضة من النار فيخرج منها قوما لم يعملوا خيرا قط قد عادوا حمما فيلقيهم في نهر في افواه الجنة يقال له نهر الحياة فيخرجون كما تخرج الحبة في حميل السيل الا ترونها تكون الى الحجر او الى الشجر ما يكون الى الشمس اصيفر واخيضر وما يكون منها الى الظل يكون ابيض " . فقالوا يا رسول الله كانك كنت ترعى بالبادية قال " فيخرجون كاللولو في رقابهم الخواتم يعرفهم اهل الجنة هولاء عتقاء الله الذين ادخلهم الله الجنة بغير عمل عملوه ولا خير قدموه ثم يقول ادخلوا الجنة فما رايتموه فهو لكم . فيقولون ربنا اعطيتنا ما لم تعط احدا من العالمين . فيقول لكم عندي افضل من هذا فيقولون يا ربنا اى شىء افضل من هذا . فيقول رضاى فلا اسخط عليكم بعده ابدا