Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৪ হাদিসসমূহ
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হ'ল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। সালাতের মধ্যে তিনি বেশ দীর্ঘ এবং বেশ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূ করলেন এবং তা খুব দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর আবার রুকূ করলেন এবং রুকূ’ বেশ দীর্ঘায়িত করলেন, যা প্রথম রুকূ’ থেকে কিছু কম, অতঃপর সাজদায় গেলেন। সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম (দণ্ডায়মান হওয়া) করলেন। যা প্রথমবারের কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা কম ছিল। অতঃপর রুকূ’তে গেলেন এবং এতে দীর্ঘ সময় কাটালেন। অবশ্য তা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কম ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ’ করলেন, অবশ্য তা প্রথম রুকূ’র চেয়ে কম ছিল। অতঃপর সিজদা করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন। এতক্ষণে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি লোকদের সামনে খুতবাহ দিলেন। খুতবাহ প্রসঙ্গে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। আর চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কারো জন্ম ও মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। অতএব তোমরা যখন চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ দেখতে পাও, তখন তাকবীর পড় আর আল্লাহর কাছে দু'আ কর এবং সালাত আদায় কর ও সদাকাহ কর। হে উম্মাতে মুহাম্মাদ! মনে রেখ, এমন কেউ নেই যে মহান আল্লাহ থেকে অধিক আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন, যখন তার দাস বা দাসী ব্যভিচারে লিপ্ত হয় (তখন তিনি শাস্তি না দিয়ে থাকেন না)। হে উম্মাতী মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, যদি তোমরা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমরা অবশ্যই অধিক পরিমাণে কান্না-কাটি করতে এবং খুব কম হাসতে। আমি কি আল্লাহর বাণী পৌছিয়ে দিয়েছি? মালিকের রিওয়ায়াতে এ বাক্যটি এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর বিশেষ কুদরাতের নিদর্শনাবলী। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك بن انس، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، ح. وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، - واللفظ له - قال حدثنا عبد الله بن نمير، حدثنا هشام، عن ابيه، عن عايشة، قالت خسفت الشمس في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي فاطال القيام جدا ثم ركع فاطال الركوع جدا ثم رفع راسه فاطال القيام جدا وهو دون القيام الاول ثم ركع فاطال الركوع جدا وهو دون الركوع الاول ثم سجد ثم قام فاطال القيام وهو دون القيام الاول ثم ركع فاطال الركوع وهو دون الركوع الاول ثم رفع راسه فقام فاطال القيام وهو دون القيام الاول ثم ركع فاطال الركوع وهو دون الركوع الاول ثم سجد ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلت الشمس فخطب الناس فحمد الله واثنى عليه ثم قال " ان الشمس والقمر من ايات الله وانهما لا ينخسفان لموت احد ولا لحياته فاذا رايتموهما فكبروا وادعوا الله وصلوا وتصدقوا يا امة محمد ان من احد اغير من الله ان يزني عبده او تزني امته يا امة محمد والله لو تعلمون ما اعلم لبكيتم كثيرا ولضحكتم قليلا الا هل بلغت " . وفي رواية مالك " ان الشمس والقمر ايتان من ايات الله
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তবে হিশাম এ কথাটুকু বাড়িয়েছেঃ "অতঃপর সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত" এবং এ কথাটুকুও বাড়িয়েছেনঃ “অতঃপর তিনি উভয় হাত উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌছিয়ে দিয়েছি?" (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৯৬০, ইসলামীক সেন্টার)
حدثناه يحيى بن يحيى، اخبرنا ابو معاوية، عن هشام بن عروة، بهذا الاسناد وزاد ثم قال " اما بعد فان الشمس والقمر من ايات الله " . وزاد ايضا ثم رفع يديه فقال " اللهم هل بلغت
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া, আবূত তহির ও মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে চলে গেলেন এবং দাঁড়িয়ে তাকবীর উচ্চারণ করলেন। আর লোকজন তার পিছনে সারিবদ্ধ ছিল। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে রুকূতে গেলেন এবং লম্বা রুকূ করলেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বললেন। এরপর দাঁড়িয়ে লম্বা কিরআত পাঠ করলেন যা প্রথম কিরআত অপেক্ষা ছোট ছিল। এরপর তাকবীর বলে রুকূতে গেলেন এবং লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর তিনি "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বলে সাজদায় গেলেন। আবূত তহির এর বর্ণনায় অবশ্য "সিজদা"র কথাটি উল্লেখ নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাকাআতেও অনুরূপ করলেন। এভাবে তিনি চারটি রুকূ’ ও চারটি সিজদা করলেন। (দু রাকাআত সালাত আদায় করলেন) তিনি সালাত শেষ করার আগেই সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। অতঃপর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম মৃত্যুর কারণে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয় না। অতএব, যখন তোমরা এ অবস্থা দেখতে পাও দ্রুত সালাতে ধাবিত হও। এরূপও বলেছেনঃ "এবং সালাত আদায় করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের থেকে এ অবস্থার দূরীভূত না হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে তোমাদের নিকট ওয়াদাকৃত প্রতিটি বস্তু দেখতে পেলাম। এমনকি আমি নিজেকে যেন দেখতে পেলাম জান্নাতের এক ছড়া ফল নিতে যাচ্ছিলাম। এমনকি তোমরা আমাকে সামনে অগ্রসর হতে দেখেছ। রাবী মুরাদী (রহঃ) বলেছেন আমি অবশ্যই জাহান্নামকে (এরূপ ভয়াবহ অবস্থায়) দেখলাম যে, এর একাংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলেছে, এমনকি তোমরা আমাকে দেখলে আমি পিছনে সরে যাচ্ছি। আমি জাহান্নামে (আমর) ইবনু লুহাইকে দেখতে পেলাম। সে সর্বপ্রথম প্রতিমার উদ্দেশে পশু ছেড়েছিল। আবূত তহির এর হাদীস তার এ কথা পর্যন্ত শেষ হয়েছে- “ফাফযা-উ লিসসলা-ত" তিনি পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬১, ইসলামীক সেন্টার)
حدثني حرملة بن يحيى، اخبرني ابن وهب، اخبرني يونس، ح وحدثني ابو الطاهر، ومحمد بن سلمة المرادي قالا حدثنا ابن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب، قال اخبرني عروة بن الزبير، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت خسفت الشمس في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم الى المسجد فقام وكبر وصف الناس وراءه فاقترا رسول الله صلى الله عليه وسلم قراءة طويلة ثم كبر فركع ركوعا طويلا ثم رفع راسه فقال " سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد " . ثم قام فاقترا قراءة طويلة هي ادنى من القراءة الاولى ثم كبر فركع ركوعا طويلا هو ادنى من الركوع الاول ثم قال " سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد " . ثم سجد - ولم يذكر ابو الطاهر ثم سجد - ثم فعل في الركعة الاخرى مثل ذلك حتى استكمل اربع ركعات واربع سجدات وانجلت الشمس قبل ان ينصرف ثم قام فخطب الناس فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال " ان الشمس والقمر ايتان من ايات الله لا يخسفان لموت احد ولا لحياته فاذا رايتموها فافزعوا للصلاة " . وقال ايضا " فصلوا حتى يفرج الله عنكم " . وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " رايت في مقامي هذا كل شىء وعدتم حتى لقد رايتني اريد ان اخذ قطفا من الجنة حين رايتموني جعلت اقدم - وقال المرادي اتقدم - ولقد رايت جهنم يحطم بعضها بعضا حين رايتموني تاخرت ورايت فيها ابن لحى وهو الذي سيب السوايب " . وانتهى حديث ابي الطاهر عند قوله " فافزعوا للصلاة " . ولم يذكر ما بعده
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একবার সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে এ ঘোষণা দেয়ার উদ্দেশে পাঠিয়ে দিলেনঃ الصَّلاَةَ جَامِعَةً "জামা'আতে সালাত" অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (ঘোষণা শুনে) সবাই একত্রিত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে তাকবীর উচ্চারণ করলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। দু' রাকাআতে চারটি রুকূ’ ও চারটি সিজদা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬২, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن مهران الرازي، حدثنا الوليد بن مسلم، قال قال الاوزاعي ابو عمرو وغيره سمعت ابن شهاب الزهري، يخبر عن عروة، عن عايشة، ان الشمس، خسفت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فبعث مناديا " الصلاة جامعة " . فاجتمعوا وتقدم فكبر . وصلى اربع ركعات في ركعتين واربع سجدات
যুহরী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রুকূ এবং চার সাজদাতে দু' রাকাআত সালাত আদায় করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن مهران، حدثنا الوليد بن مسلم، اخبرنا عبد الرحمن بن نمر، انه سمع ابن شهاب، يخبر عن عروة، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم جهر في صلاة الخسوف بقراءته فصلى اربع ركعات في ركعتين واربع سجدات . قال الزهري واخبرني كثير بن عباس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه صلى اربع ركعات في ركعتين واربع سجدات
হাজিব ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ..... কাসীর ইবনু আব্বাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সূর্যগ্রহণের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে ঠিক ঐরূপ বর্ণনা করেছেন যেরূপ উরওয়াহ আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا حاجب بن الوليد، حدثنا محمد بن حرب، حدثنا محمد بن الوليد الزبيدي، عن الزهري، قال كان كثير بن عباس يحدث ان ابن عباس، كان يحدث عن صلاة، رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم كسفت الشمس بمثل ما حدث عروة عن عايشة
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ এর সময় সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি সালাতের উদ্দেশে দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ’ করেন। রুকু'র পর আবার দাঁড়ালেন আবার রুকূ’ করলেন। আবার দাঁড়ালেন, আবার রুকূ করলেন। এভাবে দু' রাকাআতে তিন রুকূ’ ও চার সাজদায় আদায় করলেন। সালাত শেষ হতে হতে সূর্যও পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি রুকূ’তে যাওয়ার সময় "আল্ল-হু আকবার" বলতেন, অতঃপর রুকূ’ করতেন। রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলতেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেনঃ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ করো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তার বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর যিকরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত হয়ে না যায়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا محمد بن بكر، اخبرنا ابن جريج، قال سمعت عطاء، يقول سمعت عبيد بن عمير، يقول حدثني من، اصدق - حسبته يريد عايشة - ان الشمس انكسفت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام قياما شديدا يقوم قايما ثم يركع ثم يقوم ثم يركع ثم يقوم ثم يركع ركعتين في ثلاث ركعات واربع سجدات فانصرف وقد تجلت الشمس وكان اذا ركع قال " الله اكبر " . ثم يركع واذا رفع راسه قال " سمع الله لمن حمده " . فقام فحمد الله واثنى عليه ثم قال " ان الشمس والقمر لا يكسفان لموت احد ولا لحياته ولكنهما من ايات الله يخوف الله بهما عباده فاذا رايتم كسوفا فاذكروا الله حتى ينجليا
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (বাযিঃ) থেকে বণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূর্য গ্রহণের সময়) ছয় রুকূ’ ও চার সিজদা সহকারে দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني ابو غسان المسمعي ، ومحمد بن المثنى ، قالا : حدثنا معاذ وهو ابن هشام ، حدثني ابي ، عن قتادة ، عن عطاء بن ابي رباح عن عبيد بن عمير ، عن عايشة ، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم " صلى ست ركعات واربع سجدات
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ আল কা'নবী (রহঃ) ..... 'আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী মহিলা আয়িশাহ (রাযিঃ) কে কিছু জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে তার নিকট আসলো। এসে বলল, আল্লাহ আপনাকে কবর আযাব থেকে মুক্তি দিন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! মানুষকে কবরে কি আযাব দেয়া হবে? আমরাহ এর বর্ণনা অনুযায়ী আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নাউযুবিল্লাহ। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সকালবেলা সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, তখন সূর্যগ্রহণ লাগছিল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি কতিপয় মেয়ে লোকদের সাথে নিয়ে হুজরাগুলোর পিছন দিয়ে বের হলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারী থেকে নেমে যেখানে সালাত আদায় করতেন সোজা সেখানে পৌছলে তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। লোকেরাও সঙ্গে সঙ্গে তার পিছনে দাড়িয়ে গেল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকূ করলেন এবং রুকূ’ও লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আবার বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যা পূর্বের কিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর রুকূ’তে গেলেন তবে তা প্রথম রুকু অপেক্ষা কম ছিল। তারপর মাথা উত্তোলন করলেন। এতক্ষণে সূর্য একেবারে উজ্জ্বল হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি দেখতে পেলাম তোমরা কবরেও দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। আমরাহ (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, এরপর থেকে আমি শুনতে পেতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আযাব থেকে ও কবর আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي، حدثنا سليمان، - يعني ابن بلال - عن يحيى، عن عمرة، ان يهودية، اتت عايشة تسالها فقالت اعاذك الله من عذاب القبر . قالت عايشة فقلت يا رسول الله يعذب الناس في القبور قالت عمرة فقالت عايشة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عايذا بالله ثم ركب رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات غداة مركبا فخسفت الشمس . قالت عايشة فخرجت في نسوة بين ظهرى الحجر في المسجد فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم من مركبه حتى انتهى الى مصلاه الذي كان يصلي فيه فقام وقام الناس وراءه - قالت عايشة - فقام قياما طويلا ثم ركع فركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الاول ثم ركع فركع ركوعا طويلا وهو دون ذلك الركوع ثم رفع وقد تجلت الشمس فقال " اني قد رايتكم تفتنون في القبور كفتنة الدجال " . قالت عمرة فسمعت عايشة تقول فكنت اسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك يتعوذ من عذاب النار وعذاب القبر
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু আবু উমার (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে সুলায়মান ইবনু বিলাল-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثناه محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، ح وحدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، جميعا عن يحيى بن سعيد، في هذا الاسناد بمثل معنى حديث سليمان بن بلال
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) [তাদের দু'জনের শব্দ প্রায় কাছাকাছি] ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় পুত্র ইবরাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে লোকেরা বলতে লাগল ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ’ ও চার সাজদায় সালাত আদায় করলেন। সূচনাতে তাকবীর উচ্চারণ করলেন পরে কিরআত পাঠ করলেন এবং কিরআত বেশ লম্বা করলেন। অতঃপর রুকূ করলেন। রুকূ’তে কিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। অতঃপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং কিয়ামে প্রথম কিরআত অপেক্ষা কিছু ছোট কিরআত পাঠ করলেন। অতঃপর কিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূ’তে কাটালেন। তারপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে কিরআত পাঠ করলেন যা পূর্বের কিরআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূ’তে গিয়ে কিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। এরপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদায় গেলেন এবং দুটি সিজদা করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করলেন যাতে কোন রাকাআত ছিল না। শেষের তিন রুকূ’ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ’ পূর্ববর্তী রুকূ’ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ’ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূর সময় সাজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তার পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌছে গেলাম। আবূ বকর বলেনঃ মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তার সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে সালাত শেষ করলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। সালাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে লোক সকল! চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবূ বাকর-এর বর্ণনায় (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন), "কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে" (এ দুটি গ্রহণ হয় না)। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখ তখন সালাত আদায় কর যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়াদা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সালাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে (আমর ইবনু মালিক) দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভুড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হাজ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করত। এরপর যদি ধরা পড়ে যেত তখন বলত আহ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেত। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল। অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হ'ল। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সালাতে থাকাকালীন দেখতে পেয়েছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আ'লা আল হামদানী (রহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগে। তখন আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি সালাত আদায় করছে। আমি বললাম কি ব্যাপার। লোকেরা সালাত আদায় করছে? আয়িশাহ (রাযিঃ) মাথা নেড়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, একি বিশেষ কোন ঘটনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এদিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত লম্বা কিয়াম করলেন যে, আমার মাথার চক্কর এসে গেল। তখন আমি আমার পাশে রাখা পানির মশক নিয়ে আমার মাথায় অথবা চেহারায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। আসমা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত শেষ করার সাথে সাথে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশে খুতবাহ দিলেন। আল্লাহর হামদ ও নাত আদায় করার পর তিনি বললেন, আম্মাবাদ, যে সব বস্তু আমি ইতিপূর্বে দেখিনি তা আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আর এ মুহুর্তে আমার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, অচিরেই তোমরা কবরে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। অথবা বলেছেন, মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় ফিৎনায় পতিত হবে। (রাবী বলেন,) আমার জানা নেই আসমা এর কোনটা বলেছে। এরপর তোমাদের প্রত্যেককে হাজির করে জিজ্ঞেস করা হবে "এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জানা আছে?" এ সময় ঈমানদার ব্যক্তি অথবা বলেছে "মু'মিন দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি (আমার জানা নেই আসমা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, ইনি মুহাম্মাদ , ইনি রসূলুল্লাহ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তার আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তার অনুসরণ করেছি। তিনবার সে এ কথা উচ্চারণ করবে। তখন তাকে বলা হবে। ঘুমাও, আমরা জানতাম তুমি তার প্রতি ঈমান বজায় রেখেছো। ভালরূপে ঘুমাও। কিন্তু মুনাফিক অথবা মুরতাদ (সংশয়বাদী আমার জানা নেই আসমা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকদের কিছু বলাবলি করতে শুনেছি আমিও তা-ই বলেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭২, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا محمد بن العلاء الهمداني، حدثنا ابن نمير، حدثنا هشام، عن فاطمة، عن اسماء، قالت خسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخلت على عايشة وهي تصلي فقلت ما شان الناس يصلون فاشارت براسها الى السماء فقلت اية قالت نعم . فاطال رسول الله صلى الله عليه وسلم القيام جدا حتى تجلاني الغشى فاخذت قربة من ماء الى جنبي فجعلت اصب على راسي او على وجهي من الماء - قالت - فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلت الشمس فخطب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس فحمد الله واثنى عليه ثم قال " اما بعد ما من شىء لم اكن رايته الا قد رايته في مقامي هذا حتى الجنة والنار وانه قد اوحي الى انكم تفتنون في القبور قريبا او مثل فتنة المسيح الدجال - لا ادري اى ذلك قالت اسماء - فيوتى احدكم فيقال ما علمك بهذا الرجل فاما المومن او الموقن - لا ادري اى ذلك قالت اسماء - فيقول هو محمد هو رسول الله جاءنا بالبينات والهدى فاجبنا واطعنا . ثلاث مرار فيقال له نم قد كنا نعلم انك لتومن به فنم صالحا واما المنافق او المرتاب - لا ادري اى ذلك قالت اسماء - فيقول لا ادري سمعت الناس يقولون شييا فقلت
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন অর্থাৎ- যেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, এরূপ আতঙ্কগ্রস্ত হলেন যে, চাদর নিতে গিয়ে ভুলে (মহিলাদের) বড় চাদর উঠিয়ে নিলেন। পরে তার চাদরই তাকে পৌছে দেয়া হ'ল। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করে দিলেন এবং বেশ লম্বা কিয়াম করলেন। যদি কোন লোক তার কাছে আসত বুঝত পারত না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ’ করেছেন (রুকূর পর) দীর্ঘ কিয়ামের কারণে। যে পর্যন্ত কেউ প্রকাশ না করে দিত যে, তিনি রুকূ’ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن حبيب الحارثي، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا ابن جريج، حدثني منصور بن عبد الرحمن، عن امه، صفية بنت شيبة عن اسماء بنت ابي بكر، انها قالت فزع النبي صلى الله عليه وسلم يوما - قالت تعني يوم كسفت الشمس - فاخذ درعا حتى ادرك بردايه فقام للناس قياما طويلا لو ان انسانا اتى لم يشعر ان النبي صلى الله عليه وسلم ركع ما حدث انه ركع من طول القيام
সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া আল উমাবী (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আসমা (রাযিঃ) বলেছেন, দীর্ঘ সময় কিয়াম করে পরে রুকূ’ করেছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- “আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগ্না মহিলাও রয়েছে।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني سعيد بن يحيى الاموي، حدثني ابي، حدثنا ابن جريج، بهذا الاسناد مثله وقال قياما طويلا يقوم ثم يركع وزاد فجعلت انظر الى المراة اسن مني والى الاخرى هي اسقم مني
আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে (মহিলাদের) বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তার চাদর পৌছিয়ে দেয়া হ'ল। আসমা (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও তার সাথে দাঁড়ালাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মেয়েলোকটি তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাঁড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকূ’তে গেলেন এবং রুকূ’ও দীর্ঘ করলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকূ’ থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকূ’ই করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثني احمد بن سعيد الدارمي، حدثنا حبان، حدثنا وهيب، حدثنا منصور، عن امه، عن اسماء بنت ابي بكر، قالت كسفت الشمس على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ففزع فاخطا بدرع حتى ادرك بردايه بعد ذلك قالت فقضيت حاجتي ثم جيت ودخلت المسجد فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم قايما فقمت معه فاطال القيام حتى رايتني اريد ان اجلس ثم التفت الى المراة الضعيفة فاقول هذه اضعف مني . فاقوم فركع فاطال الركوع ثم رفع راسه فاطال القيام حتى لو ان رجلا جاء خيل اليه انه لم يركع
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শুরু করে তিনি লম্বা কিয়াম করলেন প্রায় সূরাহ আল বাক্কারাহ পড়ার সমপরিমাণ সময় অতঃপর রুকূ করলেন লম্বা রুকূ’। অতঃপর (রুকূ’ থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন। সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূর চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সিজদা করে সালাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু'টি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সার্থীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী কিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা। সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রসূল! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ক্রটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا سويد بن سعيد، حدثنا حفص بن ميسرة، حدثني زيد بن اسلم، عن عطاء، بن يسار عن ابن عباس، قال انكسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس معه فقام قياما طويلا قدر نحو سورة البقرة ثم ركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الاول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الاول ثم سجد ثم قام قياما طويلا وهو دون القيام الاول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الاول ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الاول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الاول ثم سجد ثم انصرف وقد انجلت الشمس فقال " ان الشمس والقمر ايتان من ايات الله لا ينكسفان لموت احد ولا لحياته فاذا رايتم ذلك فاذكروا الله " . قالوا يا رسول الله رايناك تناولت شييا في مقامك هذا ثم رايناك كففت . فقال " اني رايت الجنة فتناولت منها عنقودا ولو اخذته لاكلتم منه ما بقيت الدنيا ورايت النار فلم ار كاليوم منظرا قط ورايت اكثر اهلها النساء " . قالوا بم يا رسول الله قال " بكفرهن " . قيل ايكفرن بالله قال " بكفر العشير وبكفر الاحسان لو احسنت الى احداهن الدهر ثم رات منك شييا قالت ما رايت منك خيرا قط
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ "অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثناه محمد بن رافع، حدثنا اسحاق، - يعني ابن عيسى - اخبرنا مالك، عن زيد بن اسلم، في هذا الاسناد بمثله غير انه قال ثم رايناك تكعكعت
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় আটটি রুকূ’ ও চারটি সিজদা্ সহকারে সালাত আদায় করেছেন। আলী (রাযিঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮০, ইসলামীক সেন্টার)
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا اسماعيل ابن علية، عن سفيان، عن حبيب، عن طاوس، عن ابن عباس، قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حين كسفت الشمس ثمان ركعات في اربع سجدات . وعن علي مثل ذلك
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত শুরু করে প্রথমে কিরআত পাঠ করেছেন, তারপর রুকু করেছেন। আবার কিরআত পড়েছেন, আবার রুকূ’ করেছেন। আবার কিরআত পাঠ করে আবার রুকু করেছেন। আবার কিরাআত পাঠ করে আবার রুকূ’ করেছেন। অতঃপর সিজদা করেছেন। দ্বিতীয় রাকাআতও অনুরূপভাবে আদায় করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮১, ইসলামীক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن المثنى، وابو بكر بن خلاد كلاهما عن يحيى القطان، - قال ابن المثنى حدثنا يحيى، - عن سفيان، قال حدثنا حبيب، عن طاوس، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه صلى في كسوف قرا ثم ركع ثم قرا ثم ركع ثم قرا ثم ركع ثم قرا ثم ركع ثم سجد . قال والاخرى مثلها
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ লাগল, তখন ঘোষণা করা হ’ল, "আসসলা-তু জা-মি আহ” (সালাতের জামা'আত) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু' রুকূ’ ও এক সিজদা সহকারে এক রাকাআত আদায় করলেন। অতঃপর সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি কখনও এর চেয়ে লম্বা রুকূ’ ও লম্বা সিজদা আদায় করিনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮২, ইসলামীক সেন্টার)
حدثني محمد بن رافع، حدثنا ابو النضر، حدثنا ابو معاوية، - وهو شيبان النحوي - عن يحيى، عن ابي سلمة، عن عبد الله بن عمرو بن العاص، ح . وحدثنا عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، اخبرنا يحيى بن حسان، حدثنا معاوية، بن سلام عن يحيى بن ابي كثير، قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن، عن خبر عبد، الله بن عمرو بن العاص انه قال لما انكسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم نودي ب { الصلاة جامعة } فركع رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين في سجدة ثم قام فركع ركعتين في سجدة ثم جلي عن الشمس فقالت عايشة ما ركعت ركوعا قط ولا سجدت سجودا قط كان اطول منه
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا عبد الله بن نمير، ح وحدثنا محمد بن عبد، الله بن نمير - وتقاربا في اللفظ - قال حدثنا ابي، حدثنا عبد الملك، عن عطاء، عن جابر، قال انكسفت الشمس في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات ابراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال الناس انما انكسفت لموت ابراهيم . فقام النبي صلى الله عليه وسلم فصلى بالناس ست ركعات باربع سجدات بدا فكبر ثم قرا فاطال القراءة ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع راسه من الركوع فقرا قراءة دون القراءة الاولى ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع راسه من الركوع فقرا قراءة دون القراءة الثانية ثم ركع نحوا مما قام ثم رفع راسه من الركوع ثم انحدر بالسجود فسجد سجدتين ثم قام فركع ايضا ثلاث ركعات ليس فيها ركعة الا التي قبلها اطول من التي بعدها وركوعه نحوا من سجوده ثم تاخر وتاخرت الصفوف خلفه حتى انتهينا - وقال ابو بكر حتى انتهى الى النساء - ثم تقدم وتقدم الناس معه حتى قام في مقامه فانصرف حين انصرف وقد اضت الشمس فقال " يا ايها الناس انما الشمس والقمر ايتان من ايات الله وانهما لا ينكسفان لموت احد من الناس - وقال ابو بكر لموت بشر - فاذا رايتم شييا من ذلك فصلوا حتى تنجلي ما من شىء توعدونه الا قد رايته في صلاتي هذه لقد جيء بالنار وذلكم حين رايتموني تاخرت مخافة ان يصيبني من لفحها وحتى رايت فيها صاحب المحجن يجر قصبه في النار كان يسرق الحاج بمحجنه فان فطن له قال انما تعلق بمحجني . وان غفل عنه ذهب به وحتى رايت فيها صاحبة الهرة التي ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تاكل من خشاش الارض حتى ماتت جوعا ثم جيء بالجنة وذلكم حين رايتموني تقدمت حتى قمت في مقامي ولقد مددت يدي وانا اريد ان اتناول من ثمرها لتنظروا اليه ثم بدا لي ان لا افعل فما من شىء توعدونه الا قد رايته في صلاتي هذه