Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৯৩ হাদিসসমূহ
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ يُقَالُ مُيَسَّرٌ مُهَيَّأٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ بِلِسَانِكَ هَوَّنَّا قِرَاءَتَهُ عَلَيْكَ وَقَالَ مَطَرٌ الْوَرَّاقُ (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) قَالَ هَلْ مِنْ طَالِبِ عِلْمٍ فَيُعَانَ عَلَيْهِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজ করে দেয়া হয়। مُيَسَّرٌ অর্থ প্রস্তুতকৃত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ بِلِسَانِكَ -এর অর্থ আমি কুরআন পাঠ আপনার জন্য সহজ করে দিয়েছি। ৭৫৫১. ‘ইমরান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আমলকারীরা কিসে ‘আমল করছে? তিনি বললেন, যাকে যে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ করা সহজ করে দেয়া হয়। [৬৫৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو معمر، حدثنا عبد الوارث، قال يزيد حدثني مطرف بن عبد الله، عن عمران، قال قلت يا رسول الله فيما يعمل العاملون قال " كل ميسر لما خلق له
‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একবার কোন জানাযায় ছিলেন। তারপর তিনি একটি কাঠের টুকরা হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খোঁচাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, তোমাদে র মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জাহান্নাম কিংবা জান্নাতে নির্দিষ্ট করা হয়নি। সাহাবীগণ বললেন, তা হলে আমরা কি এর উপর নির্ভর করব না? তিনি বললেনঃ তোমরা ‘আমল করতে থাক। প্রত্যেকের জন্য সহজ করে দেয়া হয়। (অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ .....فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى। সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে.....। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن منصور، والاعمش، سمعا سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن، عن علي رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان في جنازة فاخذ عودا فجعل ينكت في الارض فقال " ما منكم من احد الا كتب مقعده من النار او من الجنة ". قالوا الا نتكل. قال " اعملوا فكل ميسر {فاما من اعطى واتقى} ". الاية
قَالَ قَتَادَةُ مَكْتُوبٌ يَسْطُرُونَ يَخُطُّونَ (فِي أُمِّ الْكِتَابِ) جُمْلَةِ الْكِتَابِ وَأَصْلِهِ (مَا يَلْفِظُ) مَا يَتَكَلَّمُ مِنْ شَيْءٍ إِلاَّ كُتِبَ عَلَيْهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُكْتَبُ الْخَيْرُ وَالشَّرُّ (يُحَرِّفُونَ) يُزِيلُونَ وَلَيْسَ أَحَدٌ يُزِيلُ لَفْظَ كِتَابٍ مِنْ كُتُبِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَكِنَّهُمْ يُحَرِّفُونَهُ يَتَأَوَّلُونَهُ عَلَى غَيْرِ تَأْوِيلِهِ (دِرَاسَتُهُمْ) تِلاَوَتُهُمْ (وَاعِيَةٌ) حَافِظَةٌ (وَتَعِيَهَا) تَحْفَظُهَا (وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ) يَعْنِي أَهْلَ مَكَّةَ (وَمَنْ بَلَغَ) هَذَا الْقُرْآنُ فَهُوَ لَهُ نَذِيرٌ. ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, (مَسْطُورٍ) অর্থ লিপিবদ্ধ ‘يَسْطُرُونَ’ অর্থ তারা লিখছে (أُمِّ الْكِتَابِ)। অর্থাৎ কিতাবের স্তর ও মূল (مَا يَلْفِظُ) অর্থ যা কিছু বলা হয়, তা লিপিবদ্ধ হয়। এর ব্যাখ্যায় ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ভালমন্দ সব লিপিবদ্ধ করা হয়। (مَا يَلْفِظُ) এর অর্থ পরিবর্তন করা। এমন কেউ নেই, যে আল্লাহর কোন কিতাবের শব্দ পরিবর্তন করতে পারে। তবে তারা তাহরীফ তথা অপব্যাখ্যা করতে পারে। (دِرَاسَتُهُمْ) অর্থ তাদের তিলাওয়াত, (وَاعِيَةٌ) অর্থ সংরক্ষণকারী, (تَعِيَهَا) অর্থ তা সংরক্ষণ করে। এবং এ কুরআন আমার কাছে পাঠানো হয়েছে, যেন তোমাদেরকে এর দ্বারা আমি সতর্ক করি- (সূরাহ আন‘আম ৬/১৯)। অর্থাৎ মক্কাবাসী এবং যাদের কাছে এ কুরআন প্রচারিত হবে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য সতর্ককারী। ৭৫৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন তাঁর মাখলূকাত সৃষ্টি করলেন, তাঁর কাছে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ রাখলেন। আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’ এটি তাঁর কাছে আরশের ওপর আছে। [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
وقال لي خليفة بن خياط حدثنا معتمر، سمعت ابي، عن قتادة، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لما قضى الله الخلق كتب كتابا عنده غلبت او قال سبقت رحمتي غضبي. فهو عنده فوق العرش
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে একটি লেখা লিখে রেখেছেন। তা হলো ‘‘আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’’, এটি তাঁরই নিকটে আরশের ওপর লেখা আছে। [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني محمد بن ابي غالب، حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا معتمر، سمعت ابي يقول، حدثنا قتادة، ان ابا رافع، حدثه انه، سمع ابا هريرة رضى الله عنه يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان الله كتب كتابا قبل ان يخلق الخلق ان رحمتي سبقت غضبي. فهو مكتوب عنده فوق العرش
وَيُقَالُ لِلْمُصَوِّرِينَ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ. (إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ). قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ بَيَّنَ اللَّهُ الْخَلْقَ مِنَ الأَمْرِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ). وَسَمَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الإِيمَانَ عَمَلاً. قَالَ أَبُو ذَرٍّ وَأَبُو هُرَيْرَةَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ. وَقَالَ: (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) وَقَالَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْنَا بِجُمَلٍ مِنَ الأَمْرِ إِنْ عَمِلْنَا بِهَا دَخَلْنَا الْجَنَّةَ. فَأَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ وَالشَّهَادَةِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، فَجَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ عَمَلاً ছবি নির্মাতাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছ, তাতে জীবন দাও। তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে তিনি রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও (চলবে) তাঁর, মহীয়ান, গরীয়ান আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪) ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ সৃষ্টিকে হুকুম থেকে পৃথক করে বর্ণনা করেছেন। কেননা তার বাণী হলোঃ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ জেনে রাখ সৃষ্টি ও হুকুম তাঁরই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানকেও ‘আমল বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ যার (রহ.) ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন ‘আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর পথে জিহাদ করা। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) এটা তাদের কাজেরই প্রতিদান। ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমাদের কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয়ের নির্দেশ দিন, যেগুলো মেনে চললে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান, সালাত কায়িম করা এবং যাকাত আদায়ের হুকুম দিলেন। এ সবকেই তিনি ‘আমলরূপে উল্লেখ করেছেন। ৭৫৫৫. যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জারমের এ কাওমটির সঙ্গে আশ‘আরী কাওমের গভীর ভালবাসা ও ভ্রাত্বভাব ছিল। এক সময় আমরা আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তাঁর কাছে খাদ্য আনা হল। এতে মুরগীর গোশতও ছিল। এ সময় তাঁর নিকট বানী তায়মুল্লাহর এক লোক ছিল। সে (দেখতে) যেন আযাদকৃত গোলাম। তাকেও আবূ মূসা (রাঃ) খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি এ মুরগীকে এমন কিছু জিনিস খেতে দেখেছি, যার ফলে এটি খেতে আমি ঘৃণা করি। এ জন্য শপথ করেছি, আমি তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তুমি এদিকে এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদীস শোনাব। আমি এক সময় আশ’আরী কওমের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য গেলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহন দেব না। আর তোমাদের দেয়ার মত আমার কাছে বাহন নেই। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হলে তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, আশ‘আরীদের দলটি কোথায়? তারপর তিনি পাঁচটি মোটা তাজা ও উৎকৃষ্ট উট আমাদের দেয়ার জন্য হুকুম করলেন। আমরা এগুলো নিয়ে রওনা দেয়ার সময় বললাম, আমরা কী কর্মটি করলাম! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করে বললেন, আমাদের বাহন দেবেন না এবং তাঁর কাছে দেয়ার মত বাহন নেই। তারপরও তো তিনি আমাদের বাহন দিয়ে দিলেন। হয়ত আমরা তাঁকে তাঁর শপথ সম্পর্কে বেখেয়াল করে দিয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমরা কক্ষনো সফলকাম হবো না। তাই আমরা তাঁর কাছে আবার গেলাম এবং তা তাঁকে বললাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে বাহন দেইনি, বরং দিয়েছেন আল্লাহ্। আল্লাহর শপথ! আমি কোন বিষয়ে শপথ করি আর যদি তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পাই, তবে তাতেই ফিরে আসি এবং (কাফ্ফারা আদায় করে) তা বৈধ করে নেই। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ জামরাহ দুবায়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম। তিনি বললেন, ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে মুযার গোত্রের মুশরিকরা আছে। সে কারণে আমরা সম্মানিত মাস (আশহুরে হুরুম) ব্যতীত আর কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয়ের হুকুম দিন, যার উপর আমল করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব এবং আমরা যাদের রেখে এসেছি তাদেরও এ পথে আহবান জানাতে পারব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের হুকুম করছি। আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছি। আমি তোমাদেরকে হুকুম দিচ্ছি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার। আর তোমরা জান কি, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তা হলো, সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দেয়া। তোমাদের চারটি বিষয় হতে নিষেধ করছি, লাউয়ের খোল দিয়ে তৈরি পাত্রে, খেজুর গাছের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্রে, আলকাত্রা ইত্যাদি দিয়ে প্রলেপ দেয়া পাত্রে, এবং মাটির সবুজ ঘটিতে তোমরা পান করবে না। [৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عمرو بن علي، حدثنا ابو عاصم، حدثنا قرة بن خالد، حدثنا ابو جمرة الضبعي، قلت لابن عباس فقال قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا ان بيننا وبينك المشركين من مضر، وانا لا نصل اليك الا في اشهر حرم، فمرنا بجمل من الامر، ان عملنا به دخلنا الجنة، وندعو اليها من وراءنا. قال " امركم باربع وانهاكم عن اربع، امركم بالايمان بالله، وهل تدرون ما الايمان بالله شهادة ان لا اله الا الله، واقام الصلاة، وايتاء الزكاة، وتعطوا من المغنم الخمس، وانهاكم عن اربع لا تشربوا في الدباء، والنقير، والظروف المزفتة، والحنتمة
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তোমরা যা বানিয়েছ, তা জীবিত কর। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا الليث، عن نافع، عن القاسم بن محمد، عن عايشة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة، ويقال لهم احيوا ما خلقتم
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছ, তাকে জীবিত কর। [৫৯৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة، ويقال لهم احيوا ما خلقتم
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেছেনঃ তাদের চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে যে আমার সৃষ্টির মত সৃষ্টি করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে? তা হলে তারা একটা অণু কিংবা শস্যদানা কিংবা যব তৈরি করুক। [৫৯৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابن فضيل، عن عمارة، عن ابي زرعة، سمع ابا هريرة رضى الله عنه قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " قال الله عز وجل ومن اظلم ممن ذهب يخلق كخلقي، فليخلقوا ذرة، او ليخلقوا حبة او شعيرة
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের দৃষ্টান্ত উত্রুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উৎকৃষ্ট এবং সুগন্ধও উৎকৃষ্ট। আর যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত যেন খেজুরের মত। এটি খেতে সুস্বাদু বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তিটি সুগন্ধি ফুলের মত। এর সুগন্ধ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি পাপী হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত আর এর কোন সুগন্ধ নেই। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا هدبة بن خالد، حدثنا همام، حدثنا قتادة، حدثنا انس، عن ابي موسى رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مثل المومن الذي يقرا القران كالاترجة، طعمها طيب وريحها طيب، والذي لا يقرا كالتمرة، طعمها طيب ولا ريح لها، ومثل الفاجر الذي يقرا القران كمثل الريحانة، ريحها طيب وطعمها مر، ومثل الفاجر الذي لا يقرا القران كمثل الحنظلة، طعمها مر ولا ريح لها
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জ্যোতিষদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তারা কিছুই নয়। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো তারা তো এমন কিছুও বলে যা সত্য হয়। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওগুলো সত্য কথার অর্ন্তভূক্ত। জ্বিনেরা এসব ছোঁ মেরে শোনে, পরে তাদের বন্ধুদের কানে মুরগির মত করকর করে নিক্ষেপ করে দেয়। এরপর এসব জ্যোতিষী এতে শত মিথ্যা মিশিয়ে দেয়। [৩২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا علي، حدثنا هشام، اخبرنا معمر، عن الزهري، ح وحدثني احمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، عن ابن شهاب، اخبرني يحيى بن عروة بن الزبير، انه سمع عروة بن الزبير، قالت عايشة رضى الله عنها سال اناس النبي صلى الله عليه وسلم عن الكهان فقال " انهم ليسوا بشىء ". فقالوا يا رسول الله فانهم يحدثون بالشىء يكون حقا. قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم " تلك الكلمة من الحق يخطفها الجني فيقرقرها في اذن وليه كقرقرة الدجاجة، فيخلطون فيه اكثر من ماية كذبة
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ব এলাকা থেকে একদল লোক উত্থিত হবে। তারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তাদের এ পাঠ তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় ফিরে না আসে। বলা হল, তাদের চিহ্ন কী? তিনি বললেন, তাদের চিহ্ন হল মাথা মুন্ডন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا مهدي بن ميمون، سمعت محمد بن سيرين، يحدث عن معبد بن سيرين، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " يخرج ناس من قبل المشرق ويقرءون القران لا يجاوز تراقيهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية، ثم لا يعودون فيه حتى يعود السهم الى فوقه ". قيل ما سيماهم. قال " سيماهم التحليق ". او قال " التسبيد
لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَأَنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ وَقَوْلَهُمْ يُوزَنُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْقُسْطَاسُ الْعَدْلُ بِالرُّومِيَّةِ وَيُقَالُ الْقِسْطُ مَصْدَرُ الْمُقْسِطِ وَهُوَ الْعَادِلُ وَأَمَّا الْقَاسِطُ فَهُوَ الْجَائِرُ আদম সন্তানদের ‘আমল ও কথা ওজন করা হবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, রোমীয়দের ভাষায় الْقُسْطَاسُ অর্থ ন্যায় ও ইনসাফ। الْمُقْسِطِ শব্দ মূল الْمُقْسِطِ الْقِسْطُ অর্থ ন্যায়পরায়ণ। অন্য দিকে الْقَاسِطُ এর অর্থ (কিন্তু) জালিম। ৭৫৬৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি কালিমাহ আছে, যেগুলো দয়াময়ের কাছে অতি প্রিয়, মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, দাঁড়িপাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বাণী দু’টো হচ্ছে), সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহান্নাল্লাহিল আযীম;- আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, মহান আল্লাহ্ (যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে) অতি পবিত্র। [৬৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني احمد بن اشكاب، حدثنا محمد بن فضيل، عن عمارة بن القعقاع، عن ابي زرعة، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " كلمتان حبيبتان الى الرحمن، خفيفتان على اللسان، ثقيلتان في الميزان سبحان الله وبحمده، سبحان الله العظيم
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، والقاسم التميمي، عن زهدم، قال كان بين هذا الحى من جرم وبين الاشعريين ود واخاء، فكنا عند ابي موسى الاشعري فقرب اليه الطعام فيه لحم دجاج، وعنده رجل من بني تيم الله كانه من الموالي، فدعاه اليه فقال اني رايته ياكل شييا ف��قذرته، فحلفت لا اكله. فقال هلم فلاحدثك عن ذاك، اني اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في نفر من الاشعريين نستحمله قال " والله لا احملكم وما عندي ما احملكم ". فاتي النبي صلى الله عليه وسلم بنهب ابل فسال عنا فقال " اين النفر الاشعريون ". فامر لنا بخمس ذود غر الذرى، ثم انطلقنا قلنا ما صنعنا حلف رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحملنا، وما عنده ما يحملنا، ثم حملنا، تغفلنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يمينه، والله لا نفلح ابدا، فرجعنا اليه فقلنا له فقال " لست انا احملكم، ولكن الله حملكم، اني والله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها، الا اتيت الذي هو خير منه، وتحللتها