Loading...

Loading...
বইসমূহ
১০৩ হাদিসসমূহ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাক, যে পর্যন্ত না আমি তোমাদের কিছু না বলি। কেননা, তোমাদের আগে যারা ছিল, তারা তাদের নবীদেরকে বেশি বেশি প্রশ্ন করা ও নবীদের (নবীদের) সঙ্গে মতভেদ করার জন্যই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদেরকে কোন ব্যাপারে নিষেধ করি, তখন তাত্থেকে বেঁচে থাক। আর যদি কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্য অনুসারে মেনে চল। [মুসলিম ১৫/৭৩, হাঃ ১৩৩৭, আহমাদ ৯৭৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسماعيل، حدثني مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " دعوني ما تركتكم، انما هلك من كان قبلكم بسوالهم واختلافهم على انبيايهم، فاذا نهيتكم عن شىء فاجتنبوه، واذا امرتكم بامر فاتوا منه ما استطعتم
وَقَوْلُهُ تَعَالَى: (لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ) এবং আল্লাহর বাণীঃ তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০১) ৭২৮৯. আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধী ঐ লোক যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা আগে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্ন করার কারণে তা হারাম করা হয়েছে। [মুসলিম ৪৩/৩৭, হাঃ ২৩৫৮, আহমাদ ১৫৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن يزيد المقري، حدثنا سعيد، حدثني عقيل، عن ابن شهاب، عن عامر بن سعد بن ابي وقاص، عن ابيه، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان اعظم المسلمين جرما من سال عن شىء لم يحرم، فحرم من اجل مسالته
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাই দিয়ে মসজিদে একটি হুজরা বানিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ভিতর কয়েক রাত সালাত পড়লেন। এতে লোকেরা তাঁর সঙ্গে একত্রিত হত। তারপর এক রাতে তারা তাঁর আওয়াজ শুনতে পেল না এবং তারা ভাবল, তিনি ঘুমিয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ গলা খাঁকার দিতে লাগল, যাতে তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ তোমাদের এ ক’ দিনের কর্মকান্ড আমি দেখেছি, এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তোমাদের উপর তা ফরজ করে দেয়া হতে পারে। কিন্তু যদি তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হয় তাহলে তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত করবে না। কাজেই ওহে লোকেরা! তোমরা নিজ নিজ ঘরে সালাত পড়। কারণ, মানুষের সবচেয়ে উত্তম সালাত হল যা সে তার ঘরে আদায় করে ফরয সালাত ছাড়া। [৭৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسحاق، اخبرنا عفان، حدثنا وهيب، حدثنا موسى بن عقبة، سمعت ابا النضر، يحدث عن بسر بن سعيد، عن زيد بن ثابت، ان النبي صلى الله عليه وسلم اتخذ حجرة في المسجد من حصير، فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها ليالي، حتى اجتمع اليه ناس، ثم فقدوا صوته ليلة فظنوا انه قد نام، فجعل بعضهم يتنحنح ليخرج اليهم فقال " ما زال بكم الذي رايت من صنيعكم، حتى خشيت ان يكتب عليكم، ولو كتب عليكم ما قمتم به فصلوا ايها الناس في بيوتكم، فان افضل صلاة المرء في بيته، الا الصلاة المكتوبة
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কতকগুলো বিষয়ে প্রশ্ন করা হল যা তিনি অপছন্দ করলেন। লোকেরা যখন তাঁকে অধিক অধিক প্রশ্ন করতে লাগল, তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হল হুযাফা। এরপর আরেকজন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা শায়বাহর আযাদকৃত গোলাম সালিম। ‘উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় রাগের আলামাত দেখে বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে তওবা করছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا يوسف بن موسى، حدثنا ابو اسامة، عن بريد بن ابي بردة، عن ابي بردة، عن ابي موسى الاشعري، قال سيل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اشياء كرهها، فلما اكثروا عليه المسالة غضب وقال " سلوني ". فقام رجل فقال يا رسول الله من ابي قال " ابوك حذافة ". ثم قام اخر فقال يا رسول الله من ابي فقال " ابوك سالم مولى شيبة ". فلما راى عمر ما بوجه رسول الله صلى الله عليه وسلم من الغضب قال انا نتوب الى الله عز وجل
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-এর লেখক ওয়াররাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আবিয়াহ (রাঃ) মুগীরাহ (রাঃ)-এর কাছে লিখে পাঠালেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু শুনেছ তা আমার কাছে লিখে পাঠাও। তিনি বলেন, তিনি তাকে লিখলেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি সালাতের পর বলতেনঃ আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, সাম্রাজ্য তাঁরই, আর সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ্! তুমি যা দান করবে তাকে আটকানোর কেউ নেই, আর তুমি আটকাবে তা দেয়ার মত কেউ নেই। ধন সম্পদ তোমার নিকটে সম্পদশালীদের কোন উপকার করবে না। তিনি আরো লিখেছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তর্কে লিপ্ত হওয়া, বেশি বেশি প্রশ্ন করা ও সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে নিষেধ করতেন। আর তিনি মায়েদের অবাধ্য হতে, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিতে ও প্রাপকের পাওনা দেয়া থেকে হাত গুটাতে আর নেয়ার ব্যাপারে হাত বাড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেন, তারা (কাফির) জাহিলীয়্যাতের যুগে স্বীয় কন্যাদেরকে হত্যা করতেন। অতঃপর আল্লাহ তা হারাম করে দেন। [৮৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا موسى، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عبد الملك، عن وراد، كاتب المغيرة قال كتب معاوية الى المغيرة اكتب الى ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم. فكتب اليه ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر كل صلاة " لا اله الا الله، وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شىء قدير، اللهم لا مانع لما اعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد ". وكتب اليه انه كان ينهى عن قيل وقال، وكثرة السوال، واضاعة المال، وكان ينهى عن عقوق الامهات وواد البنات ومنع وهات
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ (যাবতীয়) কৃত্রিমতা হতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، عن ثابت، عن انس، قال كنا عند عمر فقال نهينا عن التكلف
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। দুপুরের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসলেন এবং যুহরের সালাত পড়লেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি মিম্বরে দাঁড়ালেন এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি উল্লেখ করলেন যে, কিয়ামতের আগে অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটবে। তারপর তিনি বললেনঃ কেউ যদি আমাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা পছন্দ করে, তাহলে সে তা করতে পারে। আল্লাহর শপথ! আমি এখানে অবস্থান করা পর্যন্ত তোমরা আমাকে যে বিষয়েই প্রশ্ন করবে, আমি তা তোমাদেরকে জানাব। আনাস (রাঃ) বলেন, এতে লোকেরা খুব বেশি কাঁদল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি বলতে থাকলেন তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার আশ্রয়ের জায়গা কোথায়? তিনি বললেন, জাহান্নাম। তারপর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হুযাফা (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হুযাফা। আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর তিনি বার বার বলতে লাগলেনঃ তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর, আমার কাছে প্রশ্ন কর। এতে ‘উমার (রাঃ) হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন এবং বললেন, আমরা আল্লাহকে রব হিসাবে মেনে ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসাবে বিশ্বাস করে সন্তুষ্ট আছি। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) যখন এ কথা বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: উত্তম! যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, এই মুহূর্তে আমি যখন সালাতে ছিলাম তখন এ দেয়ালের প্রস্থে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। আজকের মত এমন ভাল আর মন্দ আমি আর দেখিনি। [৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري،. وحدثني محمود، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، اخبرني انس بن مالك رضى الله عنه. ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج حين زاغت الشمس فصلى الظهر فلما سلم قام على المنبر فذكر الساعة، وذكر ان بين يديها امورا عظاما ثم قال " من احب ان يسال عن شىء فليسال عنه، فوالله لا تسالوني عن شىء الا اخبرتكم به، ما دمت في مقامي هذا ". قال انس فاكثر الناس البكاء، واكثر رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يقول " سلوني ". فقال انس فقام اليه رجل فقال اين مدخلي يا رسول الله قال " النار ". فقام عبد الله بن حذافة فقال من ابي يا رسول الله قال " ابوك حذافة ". قال ثم اكثر ان يقول " سلوني سلوني ". فبرك عمر على ركبتيه فقال رضينا بالله ربا، وبالاسلام دينا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا. قال فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قال عمر ذلك، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " والذي نفسي بيده لقد عرضت على الجنة والنار انفا في عرض هذا الحايط وانا اصلي، فلم ار كاليوم في الخير والشر
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী! কে আমার পিতা? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক। তারপর এ আয়াত নাযিল হলঃ ‘‘হে মু’মিনরা! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন কর না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে.....’’ (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০১)। [৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم، اخبرنا روح بن عبادة، حدثنا شعبة، اخبرني موسى بن انس، قال سمعت انس بن مالك، قال قال رجل يا نبي الله من ابي قال " ابوك فلان ". ونزلت {يا ايها الذين امنوا لا تسالوا عن اشياء} الاية
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঃ লোকেরা একে অপরকে প্রশ্ন করতে থাকবে যে, এ আল্লাহ সব কিছুরই স্রষ্টা, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল?[1] [মুসলিম ১/৬০, হাঃ ১৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا الحسن بن صباح، حدثنا شبابة، حدثنا ورقاء، عن عبد الله بن عبد الرحمن، سمعت انس بن مالك، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لن يبرح الناس يتساءلون حتى يقولوا هذا الله خالق كل شىء فمن خلق الله
ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় এক শস্য ক্ষেতে ছিলাম। তিনি একটি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে ইয়াহূদীদের একটি দলের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের কেউ বলল, তাকে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আর কেউ বলল তাঁকে জিজ্ঞেস করো না, এতে তোমাদেরকে এমন উত্তর শুনতে হতে পারে যা তোমরা অপছন্দ কর। অতঃপর তারা তাঁর কাছে উঠে গিয়ে বলল, হে আবুল কাসিম! আমাদেরকে রূহ্ সম্পর্কে জানান। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। আমি বুঝলাম, তাঁর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে, আমি তাঁর থেকে একটু পিছে সরে দাঁড়ালাম। ওয়াহী শেষ হল। তারপর তিনি বললেনঃ ‘তারা তোমাকে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশ......’ (সূরাহ ইসরা ১৭/৮৫)। [১২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن عبيد بن ميمون، حدثنا عيسى بن يونس، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، عن ابن مسعود رضى الله عنه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في حرث بالمدينة، وهو يتوكا على عسيب، فمر بنفر من اليهود فقال بعضهم سلوه عن الروح. وقال بعضهم لا تسالوه لا يسمعكم ما تكرهون. فقاموا اليه فقالوا يا ابا القاسم حدثنا عن الروح. فقام ساعة ينظر فعرفت انه يوحى اليه، فتاخرت عنه حتى صعد الوحى، ثم قال {ويسالونك عن الروح قل الروح من امر ربي}
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সোনার আংটি পরতেন। তখন লোকেরাও সোনার আংটি পরতে লাগল। এরপর (একদিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি সোনার আংটি পরছিলাম- তারপর তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেনঃ আমি আর কোন দিনই তা পরিধান করব না। ফলে লোকেরাও তাদের আংটিগুলো ছুঁড়ে ফেলল। [৫৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال اتخذ النبي صلى الله عليه وسلم خاتما من ذهب فاتخذ الناس خواتيم من ذهب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اني اتخذت خاتما من ذهب ". فنبذه وقال " اني لن البسه ابدا " فنبذ الناس خواتيمهم
لِقَوْلِهِ تَعَالَى (يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لاَ تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلاَ تَقُولُوا عَلَى اللهِ إِلاَّ الْحَقَّ) কারণ, আল্লাহ্ বলেছেনঃ ওহে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, আর আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলো না.....। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৭১) ৭২৯৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইফতার না করে লাগাতার সওম রেখো না। সাহাবীরা বললেন, আপনি তো ইফতার না করে লাগাতার সওম রাখেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মতো নই। আমি রাত কাটাই যাতে আমার রব আমাকে খাওয়ান ও পান করান। কিন্তু তাঁরা লাগাতার সওম রাখা থেকে বিরত হলো না। ফলে তাদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও দু’দিন অথবা (বর্ণনাকারী বলেছিলেন) দু’ রাত লাগাতার সওম রাখলেন। এরপর তাঁরা নতুন চাঁদ দেখতে পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি চাঁদ (আরও কয়েক দিন) দেরী করে উঠত, তাহলে আমিও (লাগাতার সওম রেখে) তোমাদের সওমের সময়কে বাড়িয়ে দিতাম, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য। [১৯৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا هشام، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تواصلوا ". قالوا انك تواصل. قال " اني لست مثلكم، اني ابيت يطعمني ربي ويسقيني ". فلم ينتهوا عن الوصال قال فواصل بهم النبي صلى الله عليه وسلم يومين او ليلتين، ثم راوا الهلال فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لو تاخر الهلال لزدتكم ". كالمنكل لهم
ইবরাহীম তায়মী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, একবার ‘আলী (রাঃ) পাকা ইটের তৈরী একটি মিম্বরে উঠে আমাদের উদ্দেশে খুত্বা দিলেন। তাঁর সাথে একটা তলোয়ার ছিল, যার মাঝে একটি সহীফা ঝুলছিল। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব এবং যা এই সহীফাতে লেখা আছে এ ব্যতীত অন্য এমন কোন কিতাব নেই যা পাঠ করা যেতে পারে। তারপর তিনি তা খুললেন। তাতে উটের বয়স সম্পর্কে লেখা ছিল এবং লেখা ছিল যে, ‘আয়র’ পর্বত থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মাদ্বীনাহ হারাম (পবিত্র এলাকা) বলে গণ্য হবে। যে কেউ এখানে কোন অন্যায় করবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশ্তামন্ডলী ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তার ফরজ ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না এবং তাতে আরও ছিল যে, এখানকার সকল মুসলিমের নিরাপত্তা একই স্তরের। একজন নিম্ন স্তরের লোকও (অন্যকে) নিরাপত্তা দিতে পারবে। যদি কেউ অন্য মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তাকে লঙ্ঘন করে, তাহলে তার উপর আল্লাহর, ফেরেশ্তামন্ডলীর ও সকল মানুষের লা‘নাত। আল্লাহ্ তার ফরজ ও নফল কোন ‘ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। তাতে আরও ছিল, যদি কেউ তার (মুক্তি দাতা) মনিবের অনুমতি ছাড়া অন্যকে নিজের (গোলামী কালীন সময়ের) মনিব বলে উল্লেখ করে, তাহলে তার উপর আল্লাহর, ফেরেশ্তামন্ডলীর ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্য (ফরয), নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না। [১১১; মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৭০, আহমাদ ১৩৭, ৬১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثني ابراهيم التيمي، حدثني ابي قال، خطبنا علي رضى الله عنه على منبر من اجر، وعليه سيف فيه صحيفة معلقة فقال والله ما عندنا من كتاب يقرا الا كتاب الله وما في هذه الصحيفة. فنشرها فاذا فيها اسنان الابل واذا فيها " المدينة حرم من عير الى كذا، فمن احدث فيها حدثا فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ". واذا فيه " ذمة المسلمين واحدة يسعى بها ادناهم، فمن اخفر مسلما فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ". واذا فيها " من والى قوما بغير اذن مواليه فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একটি কাজ করলেন এবং তাতে তিনি অবকাশ দিলেন। তবে কিছু লোক এর থেকে নিবৃত্ত থাকল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ খবর পৌঁছল। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও ছানা পাঠ করলেন, তারপর বললেনঃ লোকদের কী হল যে, তারা এমন কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকে যা আমি করি। আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহ্ সম্পর্কে তাদের চেয়ে বেশি জানি এবং আমি তাদের চেয়ে আল্লাহকে অনেক বেশি ভয় করি। [৬১০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثنا مسلم، عن مسروق، قال قالت عايشة رضي الله عنها صنع النبي صلى الله عليه وسلم شييا ترخص وتنزه عنه قوم، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم قال " ما بال اقوام يتنزهون عن الشىء اصنعه، فوالله اني اعلمهم بالله، واشدهم له خشية
ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’জন অতি ভাল লোক আবূ বকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ) ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। বানী তামীমের প্রতিনিধি দল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসল, তখন তাদের একজন [‘উমার (রাঃ)] আকরা ইবনু হাবিস হানযালী নামে বানী মুজাশে গোত্রের ভ্রাতা এক লোকের দিকে ইঙ্গিত করলেন, অন্যজন [আবূ বকর (রাঃ)] আরেক জনের দিকে ইঙ্গিত করলেন। এতে আবূ বকর (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, আপনার ইচ্ছা হল আমার বিরোধিতা করা। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি আপনার বিরোধিতার ইচ্ছা করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে তাঁদের দু’জনেরই আওয়াজ উচ্চ হয়ে যায়। ফলে অবতীর্ণ হয়: ‘‘হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গলার আওয়াজের উপর তোমাদের গলার আওয়াজ উচ্চ করো না.....’’ (সূরাহ আল-হুজুরাত ৪৯/২)। ইবনু আবূ মুলাইকাহ বলেন, ইবনু যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, এরপরে ‘উমার (রাঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন কথা বলতেন, তখন গোপন বিষয়ে আলাপকারীর মত চুপে চুপে বলতেন, এমন কি তা শোনা যেত না, যতক্ষণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে আবার জিজ্ঞেস না করতেন। এ হাদীসের রাবী ইবনু যুবায়র তাঁর পিতা অর্থাৎ নানা আবূ বকর (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেননি। [৪৩৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا وكيع، عن نافع بن عمر، عن ابن ابي مليكة، قال كاد الخيران ان يهلكا ابو بكر، وعمر، لما قدم على النبي صلى الله عليه وسلم وفد بني تميم، اشار احدهما بالاقرع بن حابس الحنظلي اخي بني مجاشع، واشار الاخر بغيره، فقال ابو بكر لعمر انما اردت خلافي. فقال عمر ما اردت خلافك. فارتفعت اصواتهما عند النبي صلى الله عليه وسلم فنزلت {يا ايها الذين امنوا لا ترفعوا اصواتكم} الى قوله {عظيم}. قال ابن ابي مليكة قال ابن الزبير فكان عمر بعد ولم يذكر ذلك عن ابيه يعني ابا بكر اذا حدث النبي صلى الله عليه وسلم بحديث حدثه كاخي السرار، لم يسمعه حتى يستفهمه
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুখের সময় বললেনঃ তোমরা আবূ বকরকে বল, লোকদের তিনি নিয়ে যেন সালাত আদায় করে নেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম যে, আবূ বকর (রাঃ) যদি আপনার জায়গায় দাঁড়ান তাহলে কান্নার কারণে মানুষকে তার আওয়াজ শোনাতে পারবেন না। কাজেই আপনি ‘উমার (রাঃ)-কে আদেশ করুন, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি আবার বললেন, তোমরা আবূ বকরকে বল, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি হাফসাহ (রাঃ)-কে বললাম, তুমি বল যে, আবূ বকর আপনার জায়গায় দাঁড়ালে কান্নার কারণে লোকেদেরকে তার আওয়াজ শোনাতে পারবেন না। কাজেই আপনি ‘উমার (রাঃ)-কে আদেশ করুন। তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফসাহ (রাঃ) তাই করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ তোমরা তো ইউসুফ (আঃ)-এর মহিলাদের মত (যারা তাঁকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল)। আবূ বকরকে বল, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফসাহ (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললেন, আমি আপনার নিকট হতে কখনই কল্যাণ পাইনি। [১৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسماعيل، حدثني مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في مرضه " مروا ابا بكر يصلي بالناس ". قالت عايشة قلت ان ابا بكر اذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء، فمر عمر فليصل. فقال " مروا ابا بكر فليصل بالناس ". فقالت عايشة فقلت لحفصة قولي ان ابا بكر اذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء، فمر عمر فليصل بالناس، ففعلت حفصة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انكن لانتن صواحب يوسف، مروا ابا بكر فليصل للناس ". قالت حفصة لعايشة ما كنت لاصيب منك خيرا
সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উওয়ায়মির (রাঃ) আসিম ইবনু আদীর কাছে এসে বলল, আপনার কী অভিমত, যদি কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কাউকে পায় এবং তাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে এজন্য আপনারা কি তাকে হত্যা করবেন? হে আসিম! আপনি আমার জন্য এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করাকে অপছন্দ করলেন এবং উত্তর দিতে অস্বীকার করলেন। আসিম (রাঃ) ফিরে এসে তাকে জানাল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টিকে অপছন্দ মনে করেছেন। উওয়াইমির (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! অবশ্য অবশ্যই আমি নিজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাব। তারপর তিনি আসলেন। আসিম (রাঃ) চলে যাবার পরেই আল্লাহ্ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহ কুরআনের আয়াত নাযিল করেছেন। তিনি তাদের দু’জনকেই (সে ও তার স্ত্রী) ডাকলেন। তারা উপস্থিত হল এবং ‘লি’আন’ করল। তারপর উওয়ায়মির (রাঃ) বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি তাকে আটকে রাখি তাহলে তো আমি তার উপর মিথ্যারোপ করেছি, এ বলে তিনি তার সঙ্গে বিবাহ ছিন্ন করলেন। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ ছিন্ন করতে বলেননি। পরে ‘লি‘আন’কারীদের মাঝে এ প্রথাই চালু হয়ে গেল। নবী (মহিলাটি সম্পর্কে) বললেনঃ একে লক্ষ্য রেখ, যদি সে খাটো ওয়াহারার (এক রকমের পোকা) মত লালচে সন্তান প্রসব করে, তাহলে আমি মনে করব উওয়াইমির মিথ্যাই বলেছে। আর যদি সে কাল চোখওয়ালা ও বড় নিতম্বধারী সন্তান প্রসব করে, তাহলে মনে করব উওয়াইমির তার ব্যাপারে সত্যই বলেছে। পরে সে অপকর্মের ফল নিয়ে হাজির হয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ادم، حدثنا ابن ابي ذيب، حدثنا الزهري، عن سهل بن سعد الساعدي، قال جاء عويمر الى عاصم بن عدي فقال ارايت رجلا وجد مع امراته رجلا فيقتله، اتقتلونه به سل لي يا عاصم رسول الله صلى الله عليه وسلم فساله فكره النبي صلى الله عليه وسلم المسايل وعاب، فرجع عاصم فاخبره ان النبي صلى الله عليه وسلم كره المسايل فقال عويمر والله لاتين النبي صلى الله عليه وسلم، فجاء وقد انزل الله تعالى القران خلف عاصم فقال له " قد انزل الله فيكم قرانا ". فدعا بهما فتقدما فتلاعنا، ثم قال عويمر كذبت عليها يا رسول الله، ان امسكتها. ففارقها ولم يامره النبي صلى الله عليه وسلم بفراقها، فجرت السنة في المتلاعنين. وقال النبي صلى الله عليه وسلم " انظروها فان جاءت به احمر قصيرا مثل وحرة فلا اراه الا قد كذب، وان جاءت به اسحم اعين ذا اليتين فلا احسب الا قد صدق عليها ". فجاءت به على الامر المكروه
ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনু আওস নাযরী (রহ.) আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অবশ্য মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র ইবনু মুতঈম এ ব্যাপারে কিছু কথা বলেছিলেন। পরে আমি মালিকের নিকট যাই এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি। তখন তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা হয়ে তাঁর কাছে হাজির হলাম। এমন সময় তাঁর দ্বাররক্ষক ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান, ‘আবদুর রহমান, যুবায়র এবং সা‘দ (রাঃ) আসতে চাচ্ছেন। আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর তাঁরা প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে আসনে বসলেন। দ্বাররক্ষক (আবার) বলল, ‘আলী এবং ‘আব্বাসের ব্যাপারে আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি তাদের দু’জনকে অনুমতি দিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) এসে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার ও সীমালঙ্ঘনকারীর মাঝে ফায়সালা করে দিন। এবং তারা পরস্পরকে গালমন্দ করলেন। তখন দলটি বললেন ‘উসমান ও তাঁর সঙ্গীরা, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ দু’জনের মাঝে ফায়সালা করে দিয়ে একজনকে অন্যজন হতে শান্তি দিন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধারণ করুন। আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি যার হুকুমে আসমান ও যমীন নিজ স্থানে বিদ্যমান, আপনারা কি এ কথা জানেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন ঃ আমাদের সম্পদ ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টিত হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদাকাহ হিসাবে গণ্য হয়? এ কথা দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকেই বুঝিয়েছিলেন। দলের সবাই বললেন, হ্যাঁ তিনি এ কথা বলেছিলেন। তারপর ‘উমার (রাঃ) ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ)-এর দিকে ফিরে বললেন, আপনাদের দু’জনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন? তাঁরা দু’জনেই আল্লাহর কসম দিয়ে বললেন, হ্যাঁ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ এ সম্পদের একাংশ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন, অপর কারো জন্য দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আল্লাহ্ বলেনঃ আল্লাহ্ ইয়াহূদীদের নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যে ফায় দিয়েছেন তার জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি...(৫৯ঃ ৬)। কাজেই এ সম্পদ একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। তারপর আল্লাহর কসম! তিনি আপনাদেরকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের জন্য তা সঞ্চিত করে রাখেননি, কিংবা এককভাবে আপনাদেরকেও দিয়ে দেননি। বরং তিনি আপনাদের সকলকেই তাত্থেকে দিয়েছেন এবং সকলের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে তাত্থেকে এ পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পদ থেকে তাঁর পরিবারের জন্য তাদের বছরের খরচ দিতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মাল যে পথে ব্যয় হয় সে পথে খরচের জন্য রেখে দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবিত অবস্থায় এমন করতেন। আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি! আপনারা কি এ ব্যাপারে জ্ঞাত আছেন? সকলেই বললেন, হ্যাঁ। তারপর ‘আলী (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদের দু’জনকে জিজ্ঞেস করছি! আপনারা কি এ ব্যাপারে জ্ঞাত আছেন? তারা দু’জনেই বললেন, হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মৃত্যু দিলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থলাভিষিক্ত। কাজেই তিনি সে সম্পদ অধিগ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে খাতে এ সম্পদ ব্যয় করতেন তিনিও ঠিক সেভাবেই ব্যয় করতেন। আপনারা তখন ছিলেন। তারপর ‘আলী (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ)এর দিকে ফিরে বললেন, আপনারা দু’জন তখনও মনে করতেন যে আবূ বকর (রাঃ) এ ব্যাপারে এরূপ ছিলেন। আল্লাহ্ জানেন তিনি এ ব্যাপারে সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, সত্যনিষ্ঠ ও হক্কের অনুসারী ছিলেন। তারপর আল্লাহ্ আবূ বকর (রাঃ)-কেও মৃত্যু দিলেন। তখন আমি বললাম, এখন আমি আবূ বকর ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং দু’বছর আমি তা আমার তত্ত্বাবধানে রাখলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা যে খাতে খরচ করতেন, আমিও তেমনি করতে লাগলাম। তারপর আপনারা দু’জন আমার কাছে এলেন। আপনাদের দু’জনের একই কথা ছিল, দাবিও ছিল একই। আপনি এসেছিলেন নিজের ভাতিজার থেকে নিজের অংশ আদায় করে নেয়ার দাবি নিয়ে, আর ইনি (‘আলী) এসেছিলেন তাঁর স্ত্রীর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত অংশ আদায় করে নেয়ার দাবি নিয়ে। আমি বললাম, যদি আপনারা চান তাহলে আমি আপনাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি, তবে শর্ত এই যে, আপনারা আল্লাহর নামে এই ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হবেন যে, এ সম্পদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) যে ভাবে খরচ করতেন এবং আমি এর দায়িত্ব নেয়ার পর যেভাবে তা খরচ করেছি, আপনারাও তেমনিভাবে ব্যয় করবেন। তখন আপনারা দু’জনে বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের হাতে দিয়ে দিন। ফলে আমি তা আপনাদের কাছে দিয়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদেরকে জিজ্ঞেস করছি! আমি কি সেই শর্তাধীনে এদের কাছে সে সম্পদ দিয়ে দেইনি? সকলেই বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি ‘আলী (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদের দু’জনকে জিজ্ঞেস করছি! আমি কি ঐ শর্তাধীনে আপনাদেরকে সে সম্পদ দিয়ে দেইনি? তাঁরা দু’জন বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আপনারা কি আমার নিকট হতে এর ভিন্ন কোন ফয়সালা পেতে চান? সে সত্তার কসম করে বলছি, যাঁর হুকুমে আকাশ ও যমীন নিজ স্থানে বিরাজমান, কিয়ামতের পূর্বে আমি এ বিষয়ে নতুন কোন ফয়সালা করব না। যদি আপনারা এর তত্ত্বাবধানে অক্ষম হন, তা হলেতা আমার নিকট সোপর্দ করুন। আপনাদের দু’জনের বদলে আমি একাই এর তত্ত্বাবধানের জন্য যথেষ্ট। [২৯০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদ্বীনাহ্কে হারাম (পবিত্র এলাকা) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, অমুক জায়গা থেকে অমুক জায়গা পর্যন্ত। এখানকার কোন গাছ কাটা যাবে না, আর যে ব্যক্তি এখানে বিদ্আত করবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশ্তা ও সকল মানুষের অভিশাপ। আসিম বলেন, আমাকে মূসা ইবনু আনাস বলেছেন, বর্ণনাকারী أَوْ آوَى مُحْدِثًا কিংবা বিদ্আতীকে আশ্রয় দেয় বলেছেন। [১৮৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عبد الواحد، حدثنا عاصم، قال قلت لانس احرم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة. قال نعم ما بين كذا الى كذا، لا يقطع شجرها، من احدث فيها حدثا فعليه لعنة الله والملايكة والناس اجمعين. قال عاصم فاخبرني موسى بن انس انه قال او اوى محدثا
(وَلاَ تَقْفُ) لاَ تَقُلْ (مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ). আর আল্লাহর বাণীঃ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না.....। (সূরাহ বানী ইসরা ১৭/৩৬) ৭৩০৭. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) আমাদের এ দিক দিয়ে হাজ্জে যাচ্ছিলেন। আমি শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে ইল্ম দান করেছেন, তা হঠাৎ ছিনিয়ে নেবেন না বরং উলামাগণকে তাদের ইলমসহ ক্রমশ তুলে নেয়ার মাধ্যমে তা ছিনিয়ে নেবেন। তখন কেবল মূর্খ লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তাদের কাছে ফাত্ওয়া চাওয়া হবে। তারা মনগড়া ফাত্ওয়া দেবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, আমি এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম। তারপর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) আবার হাজ্জ করতে এলেন। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) আমাকে বললেন, হে ভাগ্নে! তুমি ‘আবদুল্লাহর কাছে যাও এবং তার থেকে যে হাদীসটি তুমি আমাকে বর্ণনা করেছিলেন, তা তাঁর নিকট থেকে যাচাই করে আস। আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে ঠিক সে রকমই বর্ণনা করলেন, যেরকম আগে বর্ণনা করেছিলেন। আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-’র কাছে ফিরে এসে তাকে জানালাম। তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) মনে রেখেছে। [১০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا سعيد بن تليد، حدثني ابن وهب، حدثني عبد الرحمن بن شريح، وغيره، عن ابي الاسود، عن عروة، قال حج علينا عبد الله بن عمرو فسمعته يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " ان الله لا ينزع العلم بعد ان اعطاهموه انتزاعا، ولكن ينتزعه منهم مع قبض العلماء بعلمهم، فيبقى ناس جهال يستفتون فيفتون برايهم، فيضلون ويضلون ". فحدثت عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ثم ان عبد الله بن عمرو حج بعد فقالت يا ابن اختي انطلق الى عبد الله فاستثبت لي منه الذي حدثتني عنه. فجيته فسالته فحدثني به كنحو ما حدثني، فاتيت عايشة فاخبرتها فعجبت فقالت والله لقد حفظ عبد الله بن عمرو
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، حدثني عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني مالك بن اوس النصري، وكان، محمد بن جبير بن مطعم ذكر لي ذكرا من ذلك فدخلت على مالك فسالته فقال انطلقت حتى ادخل على عمر اتاه حاجبه يرفا فقال هل لك في عثمان وعبد الرحمن والزبير وسعد يستاذنون. قال نعم. فدخلوا فسلموا وجلسوا. فقال هل لك في علي وعباس. فاذن لهما. قال العباس يا امير المومنين اقض بيني وبين الظالم. استبا. فقال الرهط عثمان واصحابه يا امير المومنين اقض بينهما وارح احدهما من الاخر. فقال اتيدوا انشدكم بالله الذي باذنه تقوم السماء والارض، هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركنا صدقة ". يريد رسول الله صلى الله عليه وسلم نفسه. قال الرهط قد قال ذلك. فاقبل عمر على علي وعباس فقال انشدكما بالله هل تعلمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذلك. قالا نعم. قال عمر فاني محدثكم عن هذا الامر، ان الله كان خص رسوله صلى الله عليه وسلم في هذا المال بشىء لم يعطه احدا غيره، فان الله يقول {ما افاء الله على رسوله منهم فما اوجفتم} الاية، فكانت هذه خالصة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم والله ما احتازها دونكم ولا استاثر بها عليكم، وقد اعطاكموها وبثها فيكم، حتى بقي منها هذا المال، وكان النبي صلى الله عليه وسلم ينفق على اهله نفقة سنتهم من هذا المال، ثم ياخذ ما بقي فيجعله مجعل مال الله، فعمل النبي صلى الله عليه وسلم بذلك حياته، انشدكم بالله هل تعلمون ذلك فقالوا نعم. ثم قال لعلي وعباس انشدكما الله هل تعلمان ذلك قالا نعم. ثم توفى الله نبيه صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقبضها ابو بكر فعمل فيها بما عمل فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانتما حينيذ واقبل على علي وعباس تزعمان ان ابا بكر فيها كذا، والله يعلم انه فيها صادق بار راشد تابع للحق، ثم توفى الله ابا بكر فقلت انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم وابي بكر. فقبضتها سنتين اعمل فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر، ثم جيتماني وكلمتكما على كلمة واحدة وامركما جميع، جيتني تسالني نصيبك من ابن اخيك، واتاني هذا يسالني نصيب امراته من ابيها فقلت ان شيتما دفعتها اليكما، على ان عليكما عهد الله وميثاقه تعملان فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وبما عمل فيها ابو بكر وبما عملت فيها منذ وليتها، والا فلا تكلماني فيها. فقلتما ادفعها الينا بذلك. فدفعتها اليكما بذلك، انشدكم بالله هل دفعتها اليهما بذلك قال الرهط نعم. فاقبل على علي وعباس فقال انشدكما بالله هل دفعتها اليكما بذلك. قالا نعم. قال افتلتمسان مني قضاء غير ذلك فوالذي باذنه تقوم السماء والارض لا اقضي فيها قضاء غير ذلك حتى تقوم الساعة، فان عجزتما عنها فادفعاها الى، فانا اكفيكماها