Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৭২ হাদিসসমূহ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে আবূ বাকর (রাযি.) [যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ হতে তাঁকে হাজ্জের আমীর বানানো হয়েছিল] কুরবানীর দিন ঘোষকদের সাথে মিনায় এ ঘোষণা করার জন্যে পাঠালেন যে, এ বছরের পরে কোন মুশরিক বায়তুল্লাহর হাজ্জ করতে পারবে না। আর কোন উলঙ্গ লোকও বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে পারবে না। হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেনঃ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযি.)-কে আবূ বাকর (রাযি.)-এর পেছনে প্রেরণ করেন আর তাঁকে সূরাহ্ বারা‘আতের (প্রথম অংশের) ঘোষণা করার নির্দেশ দেন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেনঃ তখন আমাদের সঙ্গে ‘আলী (রাযি.) কুরবানীর দিন মিনায় ঘোষণা দেন যে, এ বছরের পর হতে আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও আর ত্বওয়াফ করতে পারবে না। (১৬২২, ৩১৭৭, ৪৩৬৩, ৪৬৫৫, ৪৬৫৬, ৪৬৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق، قال حدثنا يعقوب بن ابراهيم، قال حدثنا ابن اخي ابن شهاب، عن عمه، قال اخبرني حميد بن عبد الرحمن بن عوف، ان ابا هريرة، قال بعثني ابو بكر في تلك الحجة في موذنين يوم النحر نوذن بمنى ان لا يحج بعد العام مشرك، ولا يطوف بالبيت عريان. قال حميد بن عبد الرحمن ثم اردف رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا، فامره ان يوذن ببراءة قال ابو هريرة فاذن معنا علي في اهل منى يوم النحر لا يحج بعد العام مشرك، ولا يطوف بالبيت عريان
মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি একটি মাত্র কাপড় নিজের শরীরে জড়িয়ে সালাত আদায় করছেন অথচ তাঁর একটা চাদর সেখানে রাখা ছিল। সালাতের পর আমরা বললামঃ হে আবূ ‘আবদুল্লাহ। আপনি সালাত আদায় করছেন, অথচ আপনার চাদর তুলে রেখেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তোমাদের মত নির্বোধদের দেখানোর জন্যে আমি এমন করেছি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (৩৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، قال حدثني ابن ابي الموالي، عن محمد بن المنكدر، قال دخلت على جابر بن عبد الله وهو يصلي في ثوب ملتحفا به ورداوه موضوع، فلما انصرف قلنا يا ابا عبد الله تصلي ورداوك موضوع قال نعم، احببت ان يراني الجهال مثلكم، رايت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي هكذا
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَيُرْوَى عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَجَرْهَدٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ جَحْشٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْفَخِذُ عَوْرَةٌ وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ حَسَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ فَخِذِهِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَحَدِيثُ أَنَسٍ أَسْنَدُ وَحَدِيثُ جَرْهَدٍ أَحْوَطُ حَتَّى يُخْرَجَ مِنْ اخْتِلَافِهِمْ وَقَالَ أَبُو مُوسَى غَطَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رُكْبَتَيْهِ حِينَ دَخَلَ عُثْمَانُ وَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَنْزَلَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي فَثَقُلَتْ عَلَيَّ حَتَّى خِفْتُ أَنْ تَرُضَّ فَخِذِي. ইবনু ‘আব্বাস, জারহাদ ও মুহাম্মাদ ইবনু জাহশ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, ঊরু সতরের অন্তর্ভুক্ত। আর আনাস (রাযি.) বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঊরু হতে কাপড় সরিয়েছিলেন (আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী [র] বলেন) সনদের দিক হতে আনাস (রাযি.)-এর হাদীস অধিক সহীহ্ আর জারহাদ (রাযি.)-এর হাদীস অধিকতর সতর্কতামূলক। এভাবেই আমরা (উম্মতের মধ্যে) মতবিরোধ এড়াতে পারি। আর আবূ মূসা (রাযি.) বলেছেনঃ ‘উসমান (রাযি.)-এর আগমনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাঁটু ঢেকে নেন। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাযি.) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওহী নাযিল করেছেন এমন অবস্থায় যখন তাঁর ঊরু ছিল আমার ঊরুর উপর। আমার নিকট তাঁর ঊরু এত ভারী বোধ হচ্ছিল যে, আমি আশংকা করছিলাম, হয়ত ঊরুর হাড় ভেঙ্গে যাবে। ৩৭১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার অভিযানে বের হয়েছিলেন। সেখানে আমরা খুব ভোরে ফজরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন। আবূ তালহা (রাযি.)-ও সওয়ার হলেন, আর আমি আবূ তালহার পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীকে খায়বরের পথে চালিত করলেন। আমার হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঊরুতে লাগছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঊরু হতে ইযার সরে গেল। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঊরুর উজ্জ্বলতা যেন এখনো আমি দেখছি। তিনি যখন নগরে প্রবেশ করলেন তখন বললেনঃ আল্লাহু আকবার। খায়বর ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কওমের প্রাঙ্গণে অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের ভোর হবে কতই না মন্দ! এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। আনাস (রাযি.) বলেনঃ খায়বারের অধিবাসীরা নিজেদের কাজে বেরিয়েছিল। তারা বলে উঠলঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেনঃ আমাদের কোন কোন সাথী ‘‘পূর্ণ বাহিনীসহ’’ (ওয়াল খামীস) শব্দও যোগ করেছেন। পরে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা খায়বর জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হলো। দিহ্য়া (রাযি.) এসে বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! বন্দীদের হতে আমাকে একটি দাসী দিন। তিনি বললেন যাও, তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও। তিনি সাফিয়্যাহ বিনত হুয়াই (রাযি.)-কে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যাহ বিনত হুয়াইকে আপনি দিহ্য়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনারই যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহ্য়াকে সাফিয়্যাহসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়্যাহসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে দেখলেন তখন (দিহ্য়াকে) বললেনঃ তুমি বন্দীদের হতে অন্য একটি দাসী দেখে নাও। রাবী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত (রহ.) আবূ হামযা (আনাস) (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কি মাহর দিলেন? আনাস (রাযি.) জওয়াব দিলেনঃ তাঁকে আযাদ করাই তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন। অতঃপর পথে উম্মু সুলায়ম (রাযি.) সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে সাজিয়ে রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার নিকট খাবার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস (রাযি.) ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তাঁরা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওয়ালীমাহ। (৬১০, ৯৪৭, ২২২৮, ২২৩৫, ২৮৮৯, ২৮৯৩, ২৯৪৩, ২৯৪৪, ২৯৪৫, ২৯৯১, ৩০৮৫, ৩০৮৬, ৩৩৬৭, ৩৬৪৭, ৪০৮৩, ৪০৮৪, ৪১৯৭, ৪১৯৮, ৪১৯৯, ৪২০০, ৪২০১, ৪২১১, ৪২১২, ৪২১৩, ৫০৮৫, ৫১৫৯, ৫১৬৯, ৫৩৮৭, ৫৪২৫, ৫৫২৮, ৫৯৬৮, ৬১৮৫, ৬৩৬৩, ৬৩৬৯,৭৩৩৩; মুসলিম ১৫/৮৫ হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ عِكْرِمَةُ لَوْ وَارَتْ جَسَدَهَا فِي ثَوْبٍ لَأَجَزْتُهُ. ‘ইকরিমাহ (রহ.) বলেনঃ যদি একটি কাপড়ে মহিলার সমস্ত শরীর ঢেকে যায় তবে তাতেই সালাত জায়িয হবে। ৩৭২. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন আর তাঁর সঙ্গে অনেক মু’মিন মহিলা চাদর দিয়ে গা ঢেকে শরীক হতো। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতো। আর তাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না। (৫৭৮, ৮৬৭, ৮৭২; মুসলিম ৫/৪০, হাঃ ৬৪৫, আহমাদ ২৪১০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة، ان عايشة، قالت لقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الفجر، فيشهد معه نساء من المومنات متلفعات في مروطهن ثم يرجعن الى بيوتهن ما يعرفهن احد
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা একটি কারুকার্য খচিত চাদর গায়ে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। আর সালাতে সে চাদরের কারুকার্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টি পড়ল। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ এ চাদরখানা আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও, আর তার কাছ হতে আমবিজানিয়্যাহ (কারুকার্য ছাড়া মোটা চাদর) নিয়ে আস। এটা তো আমাকে সালাত হতে অমনোযোগী করে দিচ্ছিল। হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সালাত আদায়ের সময় এর কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে। তখন আমি আশংকা করছিলাম যে, এটা আমাকে ফিতনায় ফেলে দিতে পারে। (৭৫২, ৫৮১৭; মুসলিম ৫/১৫, হাঃ ৫৫৬, আহমাদ ২৪১৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس، قال حدثنا ابراهيم بن سعد، قال حدثنا ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى في خميصة لها اعلام، فنظر الى اعلامها نظرة، فلما انصرف قال " اذهبوا بخميصتي هذه الى ابي جهم وايتوني بانبجانية ابي جهم، فانها الهتني انفا عن صلاتي ". وقال هشام بن عروة عن ابيه عن عايشة قال النبي صلى الله عليه وسلم " كنت انظر الى علمها وانا في الصلاة فاخاف ان تفتنني
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের এক দিকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সামনে থেকে তোমার এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত আদায়ের সময় এর ছবিগুলো আমার সামনে ভেসে ওঠে। (৫৯৫৯ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو معمر عبد الله بن عمرو، قال حدثنا عبد الوارث، قال حدثنا عبد العزيز بن صهيب، عن انس، كان قرام لعايشة سترت به جانب بيتها فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اميطي عنا قرامك هذا، فانه لا تزال تصاويره تعرض في صلاتي
‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটা রেশমী জুববা হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে সালাত আদায় করলেন। কিন্তু সালাত শেষ হবার সাথে সাথে দ্রুত তা খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্যে এই পোশাক সমীচীন নয়।* (৫৮০১; মুসলিম ৩৭/২, হাঃ ২০৭৫, আহমাদ ১৭৩৪৮ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال حدثنا الليث، عن يزيد، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر، قال اهدي الى النبي صلى الله عليه وسلم فروج حرير، فلبسه فصلى فيه، ثم انصرف فنزعه نزعا شديدا كالكاره له وقال " لا ينبغي هذا للمتقين
আবূ জুহাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চামড়ার একটি লাল তাঁবুতে দেখলাম এবং তাঁর জন্য উযূর পানি নিয়ে বিলাল (রাযি.)-কে উপস্থিত দেখলাম। আর লোকেরা তাঁর উযূর পানির জন্যে প্রতিযোগিতা করছে। কেউ সামান্য পানি পাওয়া মাত্র তা দিয়ে শরীর মুছে নিচ্ছে। আর যে পায়নি সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে নিয়ে নিচ্ছে। অতঃপর বিলাল (রাযি.) রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি লৌহফলকযুক্ত ছড়ি নিয়ে এসে তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা লাল ডোরাযুক্ত পোশাক পরে বের হলেন, তাঁর তহবন্দ কিঞ্চিৎ উঁচু করে পরা ছিল। সে ছড়িটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। আর মানুষ ও জন্তু-জানোয়ার ঐ ছড়িটির বাইরে চলাফেলা করছিলো। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عرعرة، قال حدثني عمر بن ابي زايدة، عن عون بن ابي جحيفة، عن ابيه، قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم في قبة حمراء من ادم، ورايت بلالا اخذ وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم ورايت الناس يبتدرون ذاك الوضوء، فمن اصاب منه شييا تمسح به، ومن لم يصب منه شييا اخذ من بلل يد صاحبه، ثم رايت بلالا اخذ عنزة فركزها، وخرج النبي صلى الله عليه وسلم في حلة حمراء مشمرا، صلى الى العنزة بالناس ركعتين، ورايت الناس والدواب يمرون من بين يدى العنزة
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَلَمْ يَرَ الْحَسَنُ بَأْسًا أَنْ يُصَلَّى عَلَى الْجُمْدِ وَالْقَنَاطِرِ وَإِنْ جَرَى تَحْتَهَا بَوْلٌ أَوْ فَوْقَهَا أَوْ أَمَامَهَا إِذَا كَانَ بَيْنَهُمَا سُتْرَةٌ وَصَلَّى أَبُو هُرَيْرَةَ عَلَى سَقْفِ الْمَسْجِدِ بِصَلاَةِ الْإِمَامِ وَصَلَّى ابْنُ عُمَرَ عَلَى الثَّلْجِ আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেনঃ হাসান বাসরী (রহ.) বরফ ও পুলের উপর সালাত আদায় করা দোষের মনে করতেন না- যদিও তার নীচ দিয়ে, উপর দিয়ে অথবা সামনের দিক দিয়ে পেশাব প্রবাহিত হয়; যদি উভয়ের মাঝে কোন ব্যবধান থাকে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) মসজিদের ছাদে ইমামের সাথে সালাত আদায় করেছিলেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বরফের উপর সালাত আদায় করেছেন। ৩৭৭. আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, লোকেরা সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করল (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) মিম্বার কিসের তৈরি ছিল? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞাত আর কেউ নেই। তা ছিল গাবা নামক স্থানের ঝাউগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। অমুক মহিলার আযাদকৃত দাস অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্যে তা তৈরি করেছিল। তা পুরোপুরি তৈরি ও স্থাপিত হবার পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর দাঁড়িয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে মুখ করে তাকবীর বললেন। লোকেরা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়লেন ও রুকূতে গেলেন। সকলেই তাঁর পেছনে রুকূতে গেলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে পেছনে সরে গিয়ে মাটিতে সিজদা করলেন। পুনরায় মিম্বারে ফিরে আসলেন এবং কিরাআত পড়ে রুকূতে গেলেন। অতঃপর তাঁর মাথা তুললেন এবং পেছনে সরে গিয়ে মাটিতে সিজদা করলেন। এ হলো মিম্বারের ইতিহাস। আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেনঃ ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ(রহ.) বলেছেন যে, আমাকে আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহ.) এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ আমার ধারণা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচাইতে উঁচু স্থানে ছিলেন। সুতরাং ইমামের মুক্তাদীদের চেয়ে উঁচু স্থানে দাঁড়ানোতে কোন দোষ নেই। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেনঃ আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.)-কে বললামঃ সুফইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.)-কে এ বিষয়ে বহুবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনি তাঁর নিকট এ বিষয়ে কিছু শোনেননি? তিনি জবাব দিলেনঃ না। (৪৪৮, ৯১৭, ২০৯৪, ২৫৬৯; মুসলিম ৫/১০, হাঃ ৫৪৪, আহমাদ ২২৯৩৪ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، قال حدثنا ابو حازم، قال سالوا سهل بن سعد من اى شىء المنبر فقال ما بقي بالناس اعلم مني هو من اثل الغابة، عمله فلان مولى فلانة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وقام عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم حين عمل، ووضع، فاستقبل القبلة كبر وقام الناس خلفه، فقرا وركع وركع الناس خلفه، ثم رفع راسه، ثم رجع القهقرى، فسجد على الارض، ثم عاد الى المنبر، ثم قرا ثم ركع، ثم رفع راسه، ثم رجع القهقرى حتى سجد بالارض، فهذا شانه. قال ابو عبد الله قال علي بن عبد الله سالني احمد بن حنبل رحمه الله عن هذا الحديث، قال فانما اردت ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اعلى من الناس، فلا باس ان يكون الامام اعلى من الناس بهذا الحديث. قال فقلت ان سفيان بن عيينة كان يسال عن هذا كثيرا فلم تسمعه منه قال لا
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন, এতে তিনি পায়ের ‘গোছায়’ অথবা (রাবী বলেছেন) ‘কাঁধে’ আঘাত পান। তিনি তাঁর স্ত্রীদের হতে এক মাসের জন্যে পৃথক হয়ে থাকেন। তখন তিনি ঘরের উপরের কক্ষে অবস্থান করেন যার সিঁড়ি ছিল খেজুর গাছের কান্ডের তৈরি। সাহাবীগণ তাঁকে দেখতে এলেন, তিনি তাঁদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আর তাঁরা ছিলেন দাঁড়ানো। সালাম ফিরিয়ে তিনি বললেনঃ ইমাম এজন্যে যে, মুক্তাদীরা তার অনুসরণ করবে। সুতরাং ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি রুকূ করলে তোমরাও রুকূ করবে। তিনি সিজদা করলে তোমরাও সিজদা করবে। ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। অতঃপর ঊনত্রিশ দিন পূর্ণ হলে তিনি নেমে আসলেন। তখন লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এক মাসের শপথ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ এ মাস ঊনত্রিশ দিনের। (৬৮৯, ৭৩২, ৭৩৩, ৮০৫, ১১১৪, ১৯১১, ২৪৬৯, ৫২০১, ৫২৮৯, ৬৬৮৪; মুসলিম ৪/১৯, হাঃ ৪১১, আহমাদ ১২০৭৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم، قال حدثنا يزيد بن هارون، قال اخبرنا حميد الطويل، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سقط عن فرسه، فجحشت ساقه او كتفه، والى من نسايه شهرا، فجلس في مشربة له، درجتها من جذوع، فاتاه اصحابه يعودونه، فصلى بهم جالسا، وهم قيام فلما سلم قال " انما جعل الامام ليوتم به، فاذا كبر فكبروا، واذا ركع فاركعوا، واذا سجد فاسجدوا، وان صلى قايما فصلوا قياما ". ونزل لتسع وعشرين فقالوا يا رسول الله انك اليت شهرا فقال " ان الشهر تسع وعشرون
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন তখন হায়েয অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আমি তাঁর বরাবর বসে থাকতাম। কখনো কখনো তিনি সিজদা করার সময় তাঁর কাপড় আমার গায়ে লাগতো। আর তিনি ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন। (৩৩৩; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১৩, আহমাদ ২৬৮৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، عن خالد، قال حدثنا سليمان الشيباني، عن عبد الله بن شداد، عن ميمونة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي وانا حذاءه وانا حايض وربما اصابني ثوبه اذا سجد. قالت وكان يصلي على الخمرة
وَصَلَّى جَابِرٌ وَأَبُو سَعِيدٍ فِي السَّفِينَةِ قَائِمًا وَقَالَ الْحَسَنُ تُصَلِّي قَائِمًا مَا لَمْ تَشُقَّ عَلَى أَصْحَابِكَ، تَدُورُ مَعَهَا وَإِلاَّ فَقَاعِدًا জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ ও আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) নৌকায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। হাসান (রহ.) বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত- সাথীদের জন্যে কষ্টকর না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর নৌকার দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘুরে যাবে। অন্যথায় বসে সালাত আদায় করবে। ৩৮০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তাঁর দাদী মুলাইকাহ্ (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খাওয়ার দা’ওয়াত দিলেন, যা তাঁর জন্যই তৈরি করেছিলেন। তিনি তা হতে খেলেন, অতঃপর বললেনঃ উঠ, তোমাদের নিয়ে আমি সালাত আদায় করি। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই আনার জন্য উঠলাম, তা অধিক ব্যবহারে কালো হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সেটা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্যে দাঁড়ালেন। আর আমি এবং একজন ইয়াতীম বালক (যুমাইরাহ) তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম আর বৃদ্ধা দাদী আমাদের পেছনে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। (৭২৭, ৮৬০, ৮৭১, ৮৭৪, ১১৬৪; মুসলিম ৫/৪৮, হাঃ ৬৫৮, আহমাদ ১২৩৪২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله، قال اخبرنا مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، عن انس بن مالك، ان جدته، مليكة دعت رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعام صنعته له، فاكل منه ثم قال " قوموا فلاصل لكم ". قال انس فقمت الى حصير لنا قد اسود من طول ما لبس، فنضحته بماء، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم وصففت واليتيم وراءه، والعجوز من وراينا، فصلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين ثم انصرف
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন। (৩৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا سليمان الشيباني، عن عبد الله بن شداد، عن ميمونة، قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي على الخمرة
وَصَلَّى أَنَسٌ عَلَى فِرَاشِهِ وَقَالَ أَنَسٌ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَسْجُدُ أَحَدُنَا عَلَى ثَوْبِهِ. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) নিজের বিছানায় সালাত আদায় করতেন। আনাস (রাযি.) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ কেউ নিজ কাপড়ের উপর সিজদা করত। ৩৮২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু’খানা তাঁর ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে ছিল। তিনি সিজদা্য় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু’খানা গুটিয়ে নিতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি পা দু’খানা প্রসারিত করতাম। তিনি বলেনঃ সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। (৩৮৩, ৩৮৪, ৫০৮, ৫১১, ৫১২, ৫১৩, ৫১৪, ৫১৫, ৫১৯, ৯৯৭, ১২০৯, ৬২৭৬; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৭০৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كنت انام بين يدى رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجلاى في قبلته، فاذا سجد غمزني، فقبضت رجلى، فاذا قام بسطتهما. قالت والبيوت يوميذ ليس فيها مصابيح
‘আয়িশাহ (রাযি.) ‘উরওয়াহ (রাযি.)-কে বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর তিনি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মধ্যে পারিবারিক বিছানার উপর জানাযার মত আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني عروة، ان عايشة، اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي وهى بينه وبين القبلة على فراش اهله، اعتراض الجنازة
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন, আর ‘আয়িশাহ (রাযি.) তাঁর ও ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর মাঝখানে তাঁদের বিছানায় যাতে তারা ঘুমাতেন আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে থাকতেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال حدثنا الليث، عن يزيد، عن عراك، عن عروة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي وعايشة معترضة بينه وبين القبلة على الفراش الذي ينامان عليه
وَقَالَ الْحَسَنُ كَانَ الْقَوْمُ يَسْجُدُونَ عَلَى الْعِمَامَةِ وَالْقَلَنْسُوَةِ وَيَدَاهُ فِي كُمِّهِ. হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, লোকেরা পাগড়ী ও টুপির উপর সিজদা করতো আর তাদের হাত আস্তিনের মধ্যে থাকত। ৩৮৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ কেউ সিজদা কালে বেশী গরমের কারণে কাপড়ের প্রান্ত সিজদার স্থানে রাখতো। (৫৪২, ১২০৮; মুসলিম ৫/৩৩, হাঃ ৬২০, আহমাদ ১১৯৭০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، هشام بن عبد الملك قال حدثنا بشر بن المفضل، قال حدثني غالب القطان، عن بكر بن عبد الله، عن انس بن مالك، قال كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم فيضع احدنا طرف الثوب من شدة الحر في مكان السجود
আবূ মাসলামাহ সা‘ঈদ ইবনু ইয়াযীদ আল-আযদী (রহ.) বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর না‘লাইন (চপ্পল) পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ। (৫৮৫০; মুসলিম ৫/১৪, হাঃ ৫৫৫, আহমাদ ১১৯৭৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৩৭৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم بن ابي اياس، قال حدثنا شعبة، قال اخبرنا ابو مسلمة، سعيد بن يزيد الازدي قال سالت انس بن مالك اكان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي في نعليه قال نعم
হাম্মাম ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.)-কে দেখলাম যে, তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন আর উভয় মোজার উপরে মাসেহ করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কেও এরূপ করতে দেখেছি। ইবরাহীম (রহ.) বলেনঃ এ হাদীস মুহাদ্দিসীনের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। কারণ জারীর (রাযি.) ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর শেষ সময়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، عن الاعمش، قال سمعت ابراهيم، يحدث عن همام بن الحارث، قال رايت جرير بن عبد الله بال ثم توضا، ومسح على خفيه، ثم قام فصلى، فسيل فقال رايت النبي صلى الله عليه وسلم صنع مثل هذا. قال ابراهيم فكان يعجبهم، لان جريرا كان من اخر من اسلم
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উযূ করিয়েছি। তিনি (উযূর সময়) মোজা দু’টির উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন ও সালাত আদায় করলেন। (১৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن نصر، قال حدثنا ابو اسامة، عن الاعمش، عن مسلم، عن مسروق، عن المغيرة بن شعبة، قال وضات النبي صلى الله عليه وسلم فمسح على خفيه وصلى
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، قال حدثنا اسماعيل ابن علية، قال حدثنا عبد العزيز بن صهيب، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم غزا خيبر، فصلينا عندها صلاة الغداة بغلس، فركب نبي الله صلى الله عليه وسلم وركب ابو طلحة، وانا رديف ابي طلحة، فاجرى نبي الله صلى الله عليه وسلم في زقاق خيبر، وان ركبتي لتمس فخذ نبي الله صلى الله عليه وسلم، ثم حسر الازار عن فخذه حتى اني انظر الى بياض فخذ نبي الله صلى الله عليه وسلم، فلما دخل القرية قال " الله اكبر، خربت خيبر، انا اذا نزلنا بساحة قوم فساء صباح المنذرين ". قالها ثلاثا. قال وخرج القوم الى اعمالهم فقالوا محمد قال عبد العزيز وقال بعض اصحابنا والخميس. يعني الجيش، قال فاصبناها عنوة، فجمع السبى، فجاء دحية فقال يا نبي الله، اعطني جارية من السبى. قال " اذهب فخذ جارية ". فاخذ صفية بنت حيى، فجاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله، اعطيت دحية صفية بنت حيى سيدة قريظة والنضير، لا تصلح الا لك. قال " ادعوه بها ". فجاء بها، فلما نظر اليها النبي صلى الله عليه وسلم قال " خذ جارية من السبى غيرها ". قال فاعتقها النبي صلى الله عليه وسلم وتزوجها. فقال له ثابت يا ابا حمزة، ما اصدقها قال نفسها، اعتقها وتزوجها، حتى اذا كان بالطريق جهزتها له ام سليم فاهدتها له من الليل، فاصبح النبي صلى الله عليه وسلم عروسا فقال " من كان عنده شىء فليجي به ". وبسط نطعا، فجعل الرجل يجيء بالتمر، وجعل الرجل يجيء بالسمن قال واحسبه قد ذكر السويق قال فحاسوا حيسا، فكانت وليمة رسول الله صلى الله عليه وسلم