Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৮ হাদিসসমূহ
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ). এবং মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে সেই কাজের প্রতিফল দেয়া হবে।’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৩) ৫৬৪০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল বিপদ-আপদ আসে এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফুটে এর দ্বারাও। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭২, আহমাদ ২৪৮৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو اليمان الحكم بن نافع، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان عايشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من مصيبة تصيب المسلم الا كفر الله بها عنه، حتى الشوكة يشاكها
আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الملك بن عمرو، حدثنا زهير بن محمد، عن محمد بن عمرو بن حلحلة، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، وعن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا اذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها، الا كفر الله بها من خطاياه
আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الملك بن عمرو، حدثنا زهير بن محمد، عن محمد بن عمرو بن حلحلة، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، وعن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا اذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها، الا كفر الله بها من خطاياه
কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির উদাহরণ হল শস্যক্ষেতের নরম চারা গাছের মত, যাকে বাতাস একবার কাত করে ফেলে, আরেকবার সোজা করে দেয়। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত, ভূমির উপর শক্তভাবে স্থাপিত বৃক্ষ, যাকে কিছুতেই নোয়ানো যায় না। শেষে এক ঝটকায় মূলসহ তা উপড়ে যায়। যাকারিয়্যা .... কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে এরকম বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৫০/১৪, হাঃ ২৮১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن سفيان، عن سعد، عن عبد الله بن كعب، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مثل المومن كالخامة من الزرع تفييها الريح مرة، وتعدلها مرة، ومثل المنافق كالارزة لا تزال حتى يكون انجعافها مرة واحدة ". وقال زكرياء حدثني سعد، حدثنا ابن كعب، عن ابيه، كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হল, শস্যক্ষেতের নরম চারাগাছের মত। যে কোন দিক থেকেই তার দিকে বাতাস আসলে বাতাস তাকে নুইয়ে দেয়। আবার যখন বাতাসের প্রবাহ বন্ধ হয় তখন তা সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বালা মুসিবত মু’মিনকে নোয়াতে থাকে। আর ফাসিক হল শক্ত ভূমির উপর শক্তভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ানো গাছের মত, যাকে আল্লাহ যখন ইচ্ছে করেন ভেঙ্গে দেন। [৭৪৬৬; মুসলিম ৫০/১৪, হাঃ ২৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابراهيم بن المنذر، قال حدثني محمد بن فليح، قال حدثني ابي، عن هلال بن علي، من بني عامر بن لوى عن عطاء بن يسار، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " مثل المومن كمثل الخامة من الزرع من حيث اتتها الريح كفاتها، فاذا اعتدلت تكفا بالبلاء، والفاجر كالارزة صماء معتدلة حتى يقصمها الله اذا شاء
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة، انه قال سمعت سعيد بن يسار ابا الحباب، يقول سمعت ابا هريرة، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من يرد الله به خيرا يصب منه
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বেশী রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাকেও দেখিনি।[1] [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭০, আহমাদ ২৫৪৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن الاعمش،. حدثني بشر بن محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا شعبة، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت ما رايت احدا اشد عليه الوجع من رسول الله صلى الله عليه وسلم
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললামঃ নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ। যে কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তাত্থেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়। [৫৬৪৮, ৫৬৬০, ৫৬৬১, ৫৬৬৭; মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن الحارث بن سويد، عن عبد الله رضى الله عنه اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه وهو يوعك وعكا شديدا، وقلت انك لتوعك وعكا شديدا. قلت ان ذاك بان لك اجرين. قال " اجل ما من مسلم يصيبه اذى، الا حات الله عنه خطاياه، كما تحات ورق الشجر
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তাই। কেননা যে কোন মুসলিম দুঃখ কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে পড়ে। [৫৬৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن الحارث بن سويد، عن عبد الله، قال دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يوعك فقلت يا رسول الله انك توعك وعكا شديدا. قال " اجل اني اوعك كما يوعك رجلان منكم ". قلت ذلك ان لك اجرين قال " اجل ذلك كذلك، ما من مسلم يصيبه اذى شوكة فما فوقها، الا كفر الله بها سيياته، كما تحط الشجرة ورقها
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, রোগীর সেবা কর এবং কষ্টে পতিতকে উদ্ধার কর।[1][৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ابو عوانة، عن منصور، عن ابي وايل، عن ابي موسى الاشعري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اطعموا الجايع، وعودوا المريض، وفكوا العاني
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেনঃ সোনার আংটি, মোটা ও পাতলা এবং কারুকার্য খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে এবং কাস্সী ও মীসারাহ [1] কাপড় ব্যবহার করতে। আর তিনি আমাদের আদেশ করেছেনঃ আমরা যেন জানাযার পশ্চাতে যাই, পীড়িতের সেবা করি এবং সালামের প্রসার ঘটাই। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا شعبة، قال اخبرني اشعث بن سليم، قال سمعت معاوية بن سويد بن مقرن، عن البراء بن عازب رضى الله عنهما قال امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بسبع، ونهانا عن سبع، نهانا عن خاتم الذهب، ولبس الحرير، والديباج، والاستبرق، وعن القسي، والميثرة، وامرنا ان نتبع الجنايز، ونعود المريض، ونفشي السلام
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ভীষণভাবে পীড়িত হয়ে গেলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ) পায়ে হেঁটে আমার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আমার নিকট আসলেন। তাঁরা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযূ করলেন। তারপর তিনি তাঁর অবশিষ্ট পানি আমার গায়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদের ব্যাপারে আমি কী করব? আমার সম্পদ সম্পর্কে কীভাবে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব? তিনি তখন আমাকে কোন জবাব দিলেন না। শেষে মীরাসের আয়াত অবতীর্ণ হল। [১৯৪; মুসলিম ২৩/২, হাঃ ১৬১৬, আহমাদ ১৪৩০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، عن ابن المنكدر، سمع جابر بن عبد الله رضى الله عنهما يقول مرضت مرضا، فاتاني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني وابو بكر وهما ماشيان، فوجداني اغمي على، فتوضا النبي صلى الله عليه وسلم ثم صب وضوءه على، فافقت فاذا النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله كيف اصنع في مالي كيف اقضي في مالي فلم يجبني بشىء حتى نزلت اية الميراث
‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললামঃ অবশ্যই। তখন তিনি বললেনঃ এই কালো রঙের মহিলাটি, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসেছিল। তারপর সে বললঃ আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যদি চাও, ধৈর্য ধারণ করতে পার। তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করি, যেন তোমাকে অরোগ্য করেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ আমি ধৈর্য ধারণ করব। সে বললঃ ঐ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়, কাজেই আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন যেন আমার লজ্জাস্থান খুলে না যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু‘আ করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৬) ‘আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি সেই উম্মু যুফার -কে দেখেছেন কা’বার গিলাফ ধরা অবস্থায়। সে ছিল দীর্ঘ দেহী কৃষ্ণ বর্ণের এক মহিলা। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৬, আহমাদ ৩২৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عمران ابي بكر، قال حدثني عطاء بن ابي رباح، قال قال لي ابن عباس الا اريك امراة من اهل الجنة قلت بلى. قال هذه المراة السوداء اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت اني اصرع، واني اتكشف فادع الله لي. قال " ان شيت صبرت ولك الجنة وان شيت دعوت الله ان يعافيك ". فقالت اصبر. فقالت اني اتكشف فادع الله ان لا اتكشف، فدعا لها. حدثنا محمد، اخبرنا مخلد، عن ابن جريج، اخبرني عطاء، انه راى ام زفر تلك، امراة طويلة سوداء على ستر الكعبة
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ বলেছেনঃ আমি যদি আমার কোন বান্দাকে তার অতি প্রিয় দু’টি বস্ত্ত সম্পর্কে পরীক্ষায় ফেলি, আর সে তাতে ধৈর্য ধরে, তাহলে আমি তাকে সে দু’টির বিনিময়ে জান্নাত দান করব। আনাস বলেন, দু’টি প্রিয় বস্ত্ত হল সে ব্যক্তির চক্ষুদ্বয়। এরকম বর্ণনা করেছেন আশ্‘আস ইবনু জাবির ও আবূ যিলাল (রহ.) আনাস -এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، قال حدثني ابن الهاد، عن عمرو، مولى المطلب عن انس بن مالك رضى الله عنه قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " ان الله قال اذا ابتليت عبدي بحبيبتيه فصبر عوضته منهما الجنة ". يريد عينيه. تابعه اشعث بن جابر وابو ظلال عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم
وَعَادَتْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْمَسْجِدِ مِنَ الأَنْصَارِ উম্মু দারদা (রাঃ) মসজিদে অবস্থানকারী এক আনসারের সেবা করেছিলেন। ৫৬৫৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসলেন, তখন আবূ বাকর ও বিলাল (রাঃ) জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁদের কাছে গেলাম এবং বললামঃ হে আব্বাজান! আপনাকে কেমন লাগছে? হে বিলাল, আপনাকে কেমন লাগছে? আবূ বাকর (রাঃ)-এর অবস্থা ছিল, তিনি যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখন তিনি আওড়াতেনঃ ‘‘সব মানুষ সুপ্রভাত ভোগ করে আপন পরিবার পরিজনের মধ্যে, আর মৃত্যু অপেক্ষা করে তার জুতার ফিতার চেয়ে নিকটে।’’ বিলাল -এর জ্বর যখন থামত তখন তিনি বলতেনঃ ‘‘হায়! আমি যদি লাভ করতাম একটি রাত কাটানোর সুযোগ এমন উপত্যকায় যে আমার পাশে আছে ইযখির ও জালীল ঘাস। যদি আমার অবতরণ হতো কোন দিন মাজিন্নার কূপের কাছে। হায়! আমি কি কখনো দেখা পাব শামাহ্ ও ত্বফীলের।’’ ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাঁকে এদের অবস্থা অবগত করলাম। তখন তিনি দু‘আ করে বললেনঃ হে আল্লাহ! মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও, যেমন তুমি আমাদের কাছে মক্কা প্রিয় করে দিয়েছিলে কিংবা সে অপেক্ষা আরো অধিক প্রিয় করে দাও। হে আল্লাহ! আর মদিনাকে উপযোগী করে দাও এবং মদিনার মুদ্দ ও সা‘ এর ওযনে বারাকাত দান কর। আর এখানকার জ্বরকে সরিয়ে দাও জুহ্ফা এলাকায়। [১৮৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، انها قالت لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وعك ابو بكر وبلال رضى الله عنهما قالت فدخلت عليهما قلت يا ابت كيف تجدك ويا بلال كيف تجدك قالت وكان ابو بكر اذا اخذته الحمى يقول كل امري مصبح في اهله والموت ادنى من شراك نعله وكان بلال اذا اقلعت عنه يقول الا ليت شعري هل ابيتن ليلة بواد وحولي اذخر وجليل وهل اردن يوما مياه مجنة وهل تبدون لي شامة وطفيل قالت عايشة فجيت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال " اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة او اشد، اللهم وصححها، وبارك لنا في مدها وصاعها، وانقل حماها فاجعلها بالجحفة
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক কন্যা (যাইনাব) তাঁর কাছে খবর দিয়েছেন, এ সময় উসামাহ, সা‘দ ও সম্ভবতঃ ‘উবাই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। খবর এই ছিল যে, (যায়নাব বলেছেন) আমার এক শিশুকন্যা মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত। কাজেই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে সালাম পাঠিয়ে বলে দিলেনঃ আল্লাহ যা চান নিয়ে নেন, যা চান দিয়ে যান। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই তুমি ধৈর্য ধর এবং উত্তম বিনিময়ের আশা পোষণ কর। অতঃপর পুনরায় তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কসম ও তাগিদ দিয়ে প্রেরণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর শিশুটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে তুলে দেয়া হল। এ সময় তার নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা‘দ (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটা কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ এটা হল রহমত। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে করেন তার হৃদয়ে এটি দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তাঁর দয়াদ্র বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন। [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا حجاج بن منهال، حدثنا شعبة، قال اخبرني عاصم، قال سمعت ابا عثمان، عن اسامة بن زيد رضى الله عنهما ان ابنة للنبي، صلى الله عليه وسلم ارسلت اليه وهو مع النبي صلى الله عليه وسلم وسعد وابى نحسب ان ابنتي قد حضرت فاشهدنا فارسل اليها السلام ويقول " ان لله ما اخذ وما اعطى وكل شىء عنده مسمى فلتحتسب ولتصبر ". فارسلت تقسم عليه، فقام النبي صلى الله عليه وسلم وقمنا، فرفع الصبي في حجر النبي صلى الله عليه وسلم ونفسه تقعقع ففاضت عينا النبي صلى الله عليه وسلم فقال له سعد ما هذا يا رسول الله قال " هذه رحمة وضعها الله في قلوب من شاء من عباده، ولا يرحم الله من عباده الا الرحماء
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনের নিকট গিয়েছিলেন, তার রোগ সম্পর্কে জানার জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন রোগীকে দেখতে যেতেন তখন তাকে বলতেনঃ কোন ক্ষতি নেই। ইনশাআল্লাহ তুমি তোমার গুনাহসমূহ থেকে পবিত্রতা লাভ করবে। তখন বেদুঈন বললঃ আপনি বলেছেন, এটা গুনাহ থেকে পবিত্র করে দেবে? কক্ষনো না, বরং এটা এমন এক জ্বর যা এক অতি বৃদ্ধকে গরম করছে কিংবা সে বলেছে উত্তপ্ত করছে, যা তাকে কবরে পৌঁছাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ, তাহলে তেমনই। [৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا معلى بن اسد، حدثنا عبد العزيز بن مختار، حدثنا خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس رضى الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل على اعرابي يعوده قال وكان النبي صلى الله عليه وسلم اذا دخل على مريض يعوده فقال له " لا باس طهور ان شاء الله ". قال قلت طهور، كلا بل هي حمى تفور او تثور على شيخ كبير، تزيره القبور. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فنعم اذا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদীর ছেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেবা করত। ছেলেটির অসুখ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুখের খোঁজ নিতে এলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে ইসলাম গ্রহণ করল। সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ তালিব মারা গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসেছিলেন। [১৩৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، عن ثابت، عن انس رضى الله عنه ان غلاما، ليهود كان يخدم النبي صلى الله عليه وسلم فمرض. فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده فقال " اسلم ". فاسلم. وقال سعيد بن المسيب عن ابيه، لما حضر ابو طالب جاءه النبي صلى الله عليه وسلم
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থতার সময় লোকজন তাঁকে দেখার জন্য তাঁর কাছে আসলে তিনি তাঁদের নিয়ে বসা অবস্থায় সালাত আদায় করেন। লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করেছিল, ফলে তিনি তাদের ইঙ্গিত করলেন, বসে যাও। সালাত শেষ করে তিনি বলেনঃ ইমাম হল এমন ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করতে হয়। সে রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। সে যখন মাথা উঠাবে, তোমরাও মাথা উঠাবে। সে যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। হুমাইদী (রহ.) বলেছেনঃ এ হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে। [৬৮৮] আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে শেষ যে সালাত আদায় করেন তাতে তিনি নিজে বসে সালাত আদায় করেন আর লোকজন তাঁর পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال اخبرني ابي، عن عايشة رضى الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليه ناس يعودونه في مرضه فصلى بهم جالسا فجعلوا يصلون قياما، فاشار اليهم اجلسوا، فلما فرغ قال " ان الامام ليوتم به، فاذا ركع فاركعوا واذا رفع فارفعوا، وان صلى جالسا فصلوا جلوسا ". قال ابو عبد الله قال الحميدي هذا الحديث منسوخ لان النبي صلى الله عليه وسلم اخر ما صلى صلى قاعدا والناس خلفه قيام
‘আয়িশাহ বিনত সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা বলেছেন, আমি যখন মক্কায় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখার জন্য আসেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমি সম্পদ রেখে যাচ্ছি। আর আমার একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আর কেউ নেই। এ অবস্থায় আমি কি আমার দু’তৃতীয়াংশ সম্পদ অসীয়ত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যাব? তিনি উত্তর দিলেনঃ না। আমি বললামঃ তা হলে অর্ধেক রেখে দিয়ে আর অর্ধেক অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে দু’তৃতীয়াংশ রেখে দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি উত্তর দিলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ পার, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তারপর তিনি আমার কপালের উপর তাঁর হাত রাখলেন এবং আমার চেহারা ও পেটের উপর তাঁর হাত বুলিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ, সা‘দকে তুমি আরোগ্য কর। তাঁর হিজরাত পূর্ণ করে দাও। আমি তাঁর হাতের শীতল স্পর্শ এখনও পাচ্ছি এবং মনে করি আমি তা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত পাব। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا المكي بن ابراهيم، اخبرنا الجعيد، عن عايشة بنت سعد، ان اباها، قال تشكيت بمكة شكوا شديدا، فجاءني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني، فقلت يا نبي الله اني اترك مالا واني لم اترك الا ابنة واحدة، فاوصي بثلثى مالي واترك الثلث فقال " لا ". قلت فاوصي بالنصف واترك النصف قال " لا ". قلت فاوصي بالثلث واترك لها الثلثين قال " الثلث والثلث كثير ". ثم وضع يده على جبهته، ثم مسح يده على وجهي وبطني ثم قال " اللهم اشف سعدا واتمم له هجرته ". فما زلت اجد برده على كبدي فيما يخال الى حتى الساعة