Loading...

Loading...
বইসমূহ
৯৪ হাদিসসমূহ
আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল -কে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ময়দা খেয়েছেন? সাহল বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাঠিয়েছেন তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ময়দা দেখেননি। তিনি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে কি আপনাদের চালুনি ছিল? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঠানোর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চালুনিও দেখেননি। আবূ হাযিম বলেন, আমি বললামঃ তাহলে আপনারা না চেলে যবের আটা কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ আমরা যব পিষে তাতে ফুঁক দিতাম, এতে যা উড়ার তা উড়ে যেত, আর যা বাকী থাকত তা মথে নিতাম, তারপর তা খেতাম। [৫৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا يعقوب، عن ابي حازم، قال سالت سهل بن سعد فقلت هل اكل رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي فقال سهل ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي من حين ابتعثه الله حتى قبضه الله. قال فقلت هل كانت لكم في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مناخل قال ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم منخلا من حين ابتعثه الله حتى قبضه. قال قلت كيف كنتم تاكلون الشعير غير منخول قال كنا نطحنه وننفخه، فيطير ما طار وما بقي ثريناه فاكلناه
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের সামনে ছিল একটি ভুনা বকরী। তারা তাঁকে খেতে) ডাকল। তিনি খেতে অস্বীকার করলেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবী থেকে চলে গেছেন অথচ তিনি কোন দিন যবের রুটিও পেট ভরে খাননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا روح بن عبادة، حدثنا ابن ابي ذيب، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة رضى الله عنه انه مر بقوم بين ايديهم شاة مصلية، فدعوه فابى ان ياكل قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من الدنيا ولم يشبع من الخبز الشعير
আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ‘খিওয়ান’ টেবিলের মত উঁচু স্থানে-এর উপর খাবার রেখে আহার করেননি এবং ছোট ছোট বাটিতেও তিনি আহার করেননি। আর তাঁর জন্য কখনো পাতলা রুটি তৈরী করা হয়নি। ইউনুস বলেন, আমি ক্বাতাদাহ্কে জিজ্ঞেস করলামঃ তা হলে তাঁরা কিসের উপর আহার করতেন? তিনি বললেনঃ দস্তরখানের উপর।[1] [৫৩৮৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
حدثنا عبد الله بن ابي الاسود، حدثنا معاذ، حدثني ابي، عن يونس، عن قتادة، عن انس بن مالك، قال ما اكل النبي صلى الله عليه وسلم على خوان، ولا في سكرجة، ولا خبز له مرقق. قلت لقتادة على ما ياكلون قال على السفر
কুতাইবাহ (রহ.) ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পরিবারের লোকেরা এক নাগাড়ে তিন রাত গমের রুটি পেট পুরে খাননি। [৬৪৫৪; মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৭০, আহমাদ ২৬৪২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عايشة رضى الله عنها قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم منذ قدم المدينة من طعام البر ثلاث ليال تباعا، حتى قبض
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীআয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে মহিলারা এসে জড় হলো। তারপর তাঁর আত্মীয়রা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলারা ব্যতীত বাকী সবাই চলে গেলে, তিনি ডেগে ‘তালবীনা’ (আটা, মধু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার) পাক করতে বললেন। তা পাকানো হলো। এরপর ‘সারীদ’ (গোশতের মধ্যে রুটির টুকরো দিয়ে তৈরী খাবার) প্রস্তুত করা হলো এবং তাতে তালবীনা ঢালা হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা এ থেকে খাও। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘তালবীনা’ রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক দুঃখ কিছুটা দূর করে।[1] [৫৬৮৯, ৫৬৯০; মুসলিম ৩৯/৩০, হাঃ ২২১৬, আহমাদ ২৫২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها كانت اذا مات الميت من اهلها فاجتمع لذلك النساء، ثم تفرقن، الا اهلها وخاصتها، امرت ببرمة من تلبينة فطبخت، ثم صنع ثريد فصبت التلبينة عليها ثم قالت كلن منها فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " التلبينة مجمة لفواد المريض، تذهب ببعض الحزن
আবূ মূসা আশ্‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামেল হতে পেরেছে। কিন্তু স্ত্রীলোকদের মধ্য ‘ইমরান কন্যা মারইয়াম এবং ফিরাউন পত্নী আসিয়া ছাড়া অন্য কেউই কামেল হতে পারেনি। স্ত্রী লোকদের মধ্যে ‘আয়িশাহর মর্যাদাও তেমন, খাদ্যের মধ্যে যেমন সারীদের মর্যাদা। [৩৪১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن عمرو بن مرة الجملي، عن مرة الهمداني، عن ابي موسى الاشعري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال كمل من الرجال كثير، ولم يكمل من النساء الا مريم بنت عمران واسية امراة فرعون، وفضل عايشة على النساء كفضل الثريد على ساير الطعام
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত স্ত্রী লোকদের মধ্যে ‘আয়িশাহর মর্যাদা তেমন, খাদ্যের মধ্যে যেমন সারীদের মর্যাদা। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عمرو بن عون، حدثنا خالد بن عبد الله، عن ابي طوالة، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فضل عايشة على النساء كفضل الثريد على ساير الطعام
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাঁর এক দর্জি গোলামের বাড়ীতে গেলাম। সে তাঁর সম্মুখে সারীদের পেয়ালা হাজির করল এবং নিজের কাজে লেগে গেল। আনাস বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদু বেছে নিতে শুরু করলে আমি কদুর টুকরাগুলো বেছে তাঁর সামনে দিতে লাগলাম এবং তখন থেকে আমি কদু পছন্দ করতে শুরু করি। [২০৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن منير، سمع ابا حاتم الاشهل بن حاتم، حدثنا ابن عون، عن ثمامة بن انس، عن انس رضى الله عنه قال دخلت مع النبي صلى الله عليه وسلم على غلام له خياط، فقدم اليه قصعة فيها ثريد قال واقبل على عمله قال فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يتتبع الدباء قال فجعلت اتتبعه فاضعه بين يديه قال فما زلت بعد احب الدباء
ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিকের কাছে গেলাম। তাঁর বাবুর্চি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বললেনঃ আহার কর! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত পাতলা রুটি দেখেছেন বলে আমার জানা নেই এবং তিনি ভুনা বকরী কখনও চোখে দেখেননি। [৫৩৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا هدبة بن خالد، حدثنا همام بن يحيى، عن قتادة، قال كنا ناتي انس بن مالك رضى الله عنه وخبازه قايم قال كلوا فما اعلم النبي صلى الله عليه وسلم راى رغيفا مرققا حتى لحق بالله، ولا راى شاة سميطا بعينه قط
‘আমর ইবনু উমাইয়্যাহ যামরী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বকরীর ঘাড় থেকে গোশ্ত কাটতে দেখেছি। তিনি তা থেকে আহার করলেন। তারপর যখন সালাতের দিকে আহবান করা হল, তখন তিনি উঠলেন এবং চাকুটি রেখে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। অথচ তিনি নতুন করে) অযূ করেননি। [২০৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن جعفر بن عمرو بن امية الضمري، عن ابيه، قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتز من كتف شاة، فاكل منها، فدعي الى الصلاة، فقام فطرح السكين فصلى، ولم يتوضا
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ صَنَعْنَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ سُفْرَةً. আবূ বাকরের কন্যা ‘আয়িশাহ ও আসমা (রাঃ) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকরের জন্য (হিজরতের প্রাক্কালে) পথের খাবার তৈরি করে দিয়েছিলাম। ৫৪২৩. ‘আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কুরবানীর গোশ্ত তিন দিনের অধিক সময় খেতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেনঃ সেই বছরেই কেবল নিষেধ করেছিলেন, যে বছর মানুষ অনাহারের কবলে পড়েছিল। তখন তিনি চেয়েছিলেন যেন ধনীরা গরীবদের খাওয়ায়। আমরা তো বকরীর পায়াগুলো তুলে রাখতাম এবং পনের দিন পর তা খেতাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলঃ কিসে আপনাদের এগুলো খেতে বাধ্য করত? তিনি হেসে বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার পরিজন এক নাগাড়ে তিনদিন তরকারীসহ গমের রুটি পেট ভরে খাননি। অন্য সনদে ইবনু কাসীর বলেছেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবিস সূত্রে উক্ত হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। [৫৪২৮, ৫৫৭০, ৬৬৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا خلاد بن يحيى، حدثنا سفيان، عن عبد الرحمن بن عابس، عن ابيه، قال قلت لعايشة انهى النبي صلى الله عليه وسلم ان توكل لحوم الاضاحي فوق ثلاث قالت ما فعله الا في عام جاع الناس فيه، فاراد ان يطعم الغني الفقير، وان كنا لنرفع الكراع فناكله بعد خمس عشرة. قيل ما اضطركم اليه فضحكت قالت ما شبع ال محمد صلى الله عليه وسلم من خبز بر مادوم ثلاثة ايام حتى لحق بالله. وقال ابن كثير اخبرنا سفيان حدثنا عبد الرحمن بن عابس بهذا
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা কুরবানীর গোশ্ত মদিনা পর্যন্ত সফরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতাম। মুহাম্মাদ (রহ.) ইবনু ‘উয়াইনাহ থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইয বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, জাবির (রাঃ) কি এ কথা বলেছেন যে, ‘এমন কি আমরা মদিনা পর্যন্ত এলাম’। তিনি বললেনঃ না। [১৭১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، عن عمرو، عن عطاء، عن جابر، قال كنا نتزود لحوم الهدى على عهد النبي صلى الله عليه وسلم الى المدينة. تابعه محمد عن ابن عيينة. وقال ابن جريج قلت لعطاء اقال حتى جينا المدينة قال لا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ত্বলহাকে বললেনঃ তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খিদমত করবে। আবূ ত্বলহা আমাকেই তাঁর সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে আসলেন। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করতে থাকলাম। যখনই তিনি কোন মনযিলে অবতরণ করতেন, আমি তাকে প্রায়ই বলতে শুনতাম, আয় আল্লাহ! আমি তোমার কাছে, অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি সর্বদা তাঁর খিদমতে নিয়োজিত ছিলাম। এই অবস্থায় আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] গনীমত হিসাবে প্রাপ্ত সফিয়্যা বিন্ত হুয়ায়কে সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর সাওয়ারীর পেছনের দিকে তাঁর চাদর দিয়ে ঘিরে সেখানে তাঁর পিছনে তাঁকে সাওয়ার করলেন। এভাবে যখন ‘আমর সাহবা নামক স্থানে হাজির হলাম, তখন তিনি চামড়ার দস্তরখানে হাইস তৈরী করলেন। তারপর তিনি আমাকে পাঠালেন। আমি লোকজনকে দাওয়াত করলাম। তারা এসে) আহার করল। এই ছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসর যাপন। তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। ওহুদ পর্বত নজরে পড়ল, তিনি বললেনঃ এ পর্বতটি আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।[1] তারপর যখন মদিনা তাঁর নজরে পড়ল, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ! আমি এর দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী এলাকাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করছি, যেভাবে ইবরাহীম আঃ) মক্কাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ! এর অধিবাসীদের মুদ্ ও সা‘ এর মধ্যে তুমি বারাকাত দাও। [৩৭১; মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة، حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن عمرو بن ابي عمرو، مولى المطلب بن عبد الله بن حنطب انه سمع انس بن مالك، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لابي طلحة " التمس غلاما من غلمانكم يخدمني ". فخرج بي ابو طلحة، يردفني وراءه، فكنت اخدم رسول الله صلى الله عليه وسلم كلما نزل، فكنت اسمعه يكثر ان يقول " اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن، والعجز والكسل، والبخل والجبن وضلع الدين، وغلبة الرجال ". فلم ازل اخدمه حتى اقبلنا من خيبر، واقبل بصفية بنت حيى قد حازها، فكنت اراه يحوي وراءه بعباءة او بكساء، ثم يردفها وراءه، حتى اذا كنا بالصهباء صنع حيسا في نطع، ثم ارسلني فدعوت رجالا فاكلوا، وكان ذلك بناءه بها، ثم اقبل حتى اذا بدا له احد قال " هذا جبل يحبنا ونحبه ". فلما اشرف على المدينة قال " اللهم اني احرم ما بين جبليها مثل ما حرم به ابراهيم مكة، اللهم بارك لهم في مدهم وصاعهم
‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তাঁরা হুযাইফাহ -এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটি ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, তা হলেও আমি এমন করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো নাএবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না।[1] কেননা দুন্ইয়াতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে তোমাদের জন্য। [৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১, ৫৮৩৭; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৭, আহমাদ ২৩৩৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سيف بن ابي سليمان، قال سمعت مجاهدا، يقول حدثني عبد الرحمن بن ابي ليلى، انهم كانوا عند حذيفة فاستسقى فسقاه مجوسي. فلما وضع القدح في يده رماه به وقال لولا اني نهيته غير مرة ولا مرتين. كانه يقول لم افعل هذا، ولكني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " لا تلبسوا الحرير ولا الديباج ولا تشربوا في انية الذهب والفضة، ولا تاكلوا في صحافها، فانها لهم في الدنيا ولنا في الاخرة
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারী মু’মিনের দৃষ্টান্ত কমলার মত, যার ঘ্রাণও চমৎকার স্বাদও মজাদার। যে মু’মিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার কোন সুঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ রায়হানার মত, যার সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হন্যালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নাই, স্বাদও তিক্ত। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن انس، عن ابي موسى الاشعري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "مثل المومن الذي يقرا القران كمثل الاترجة، ريحها طيب وطعمها طيب، ومثل المومن الذي لا يقرا القران كمثل التمرة لا ريح لها وطعمها حلو، ومثل المنافق الذي يقرا القران مثل الريحانة، ريحها طيب وطعمها مر، ومثل المنافق الذي لا يقرا القران كمثل الحنظلة، ليس لها ريح وطعمها مر
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত খাদ্যের মধ্যে ‘সারীদের’ যেমন মর্যাদা আছে, তেমনি স্ত্রীলোকদের মধ্যে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا مسدد، حدثنا خالد، حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " فضل عايشة على النساء كفضل الثريد على ساير الطعام
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর হলো ‘আযাবের একটা টুকরা, যা তোমাদের সফরকারীকে নিদ্রা ও আহার থেকে বিরত রাখে। তাই তোমাদের কারো প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে সে যেন শীঘ্র তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। [১৮০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا مالك، عن سمى، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " السفر قطعة من العذاب، يمنع احدكم نومه وطعامه، فاذا قضى نهمته من وجهه فليعجل الى اهله
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার ঘটনায় শরীয়তের তিনটি বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘আয়িশাহ (রাঃ)তাকে ক্রয় করে মুক্ত করতে চাইলে তার মালিকেরা বলল, ‘ওলা’ উত্তরাধিকার) আমাদের থাকবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ)বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি ইচ্ছে করলে তাদের জন্য ওলীর শর্ত মেনে নাও। কারণ, প্রকৃতপক্ষে ওলীর অধিকারী হল মুক্তিদাতা। তাকে আযাদ করে এখ্তিয়ার দেয়া হলো, ইচ্ছে হলে পূর্ব স্বামীর সংসারে থাকতে কিংবা ইচ্ছে করলে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ‘আয়িশাহর গৃহে প্রবেশ করলেন। সে সময় চুলার উপর ডেকচি ফুটছিল। তিনি সকালের খাবার আনতে বললে তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের কিছু তরকারী আনা হল। তিনি বললেন, আমি কি গোশ্ত দেখিনি? তাঁরা বললেনঃ হাঁ, (গোশত রয়েছে) হে আল্লাহর রাসূল! কিন্তু তা ঐ গোশ্ত যা বারীরাহ্কে সদাকাহ করা হয়েছিল। এরপর সে তা আমাদের হাদিয়া দিয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সদাকাহ, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া স্বরূপ। [৪৫৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن ربيعة، انه سمع القاسم بن محمد، يقول كان في بريرة ثلاث سنن، ارادت عايشة ان تشتريها فتعتقها، فقال اهلها، ولنا الولاء، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " لو شيت شرطتيه لهم، فانما الولاء لمن اعتق ". قال واعتقت فخيرت في ان تقر تحت زوجها او تفارقه، ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما بيت عايشة وعلى النار برمة تفور، فدعا بالغداء فاتي بخبز وادم من ادم البيت فقال " الم ار لحما ". قالوا بلى يا رسول الله، ولكنه لحم تصدق به على بريرة، فاهدته لنا. فقال" هو صدقة عليها، وهدية لنا
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাল্ওয়া ও মধু ভালবাসতেন। [1] [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني اسحاق بن ابراهيم الحنظلي، عن ابي اسامة، عن هشام، قال اخبرني ابي، عن عايشة رضى الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب الحلواء والعسل
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পেট ভরার জন্য যা পেতাম তাতে সন্তুষ্ট হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সব সময় লেগে থাকতাম। সে সময় রুটি খেতে পেতাম না, রেশমী কাপড় পরতাম না, কোন চাকর-চাকরাণীও আমার খিদমতে ছিল না। আমি পাথরের সঙ্গে পেট লাগিয়ে রাখতাম। আয়াত জানা সত্ত্বেও কাউকে তা পাঠ করার জন্য বলতাম, যাতে সে আমাকে ঘরে নিয়ে যায় এবং আহার করায়। মিসকীনদের প্রতি অত্যন্ত দরদী ব্যক্তি ছিলেন জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব। তিনি আমাদের নিয়ে যেতেন এবং ঘরে যা থাকত তাই আমাদের খাওয়াতেন। এমনকি তিনি আমাদের কাছে ঘি’র পাত্রটিও বের করে আনতেন, যাতে ঘি থাকত না। আমরা ওটাই ফেড়ে ফেলতাম আর যা থাকত তাই চাটতাম। [৩৭০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الرحمن بن شيبة، قال اخبرني ابن ابي الفديك، عن ابن ابي ذيب، عن المقبري، عن ابي هريرة، قال كنت الزم النبي صلى الله عليه وسلم لشبع بطني حين لا اكل الخمير، ولا البس الحرير، ولا يخدمني فلان ولا فلانة، والصق بطني بالحصباء، واستقري الرجل الاية وهى معي كى ينقلب بي فيطعمني، وخير الناس للمساكين جعفر بن ابي طالب، ينقلب بنا فيطعمنا ما كان في بيته، حتى ان كان ليخرج الينا العكة ليس فيها شىء، فنشتقها فنلعق ما فيها