Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا এর দ্বারা হুদাইবিয়াহর সন্ধি বোঝানো হয়েছে। [৪১৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، سمعت قتادة، عن انس رضى الله عنه {انا فتحنا لك فتحا مبينا} قال الحديبية
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন সূরাহ ফাতহ্ সমধুর কণ্ঠে পাঠ করেন। মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ইচ্ছে করলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাআত তোমাদের নকল করে শোনাতে পারি। [৪২৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا شعبة، حدثنا معاوية بن قرة، عن عبد الله بن مغفل، قال قرا النبي صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة سورة الفتح فرجع فيها. قال معاوية لو شيت ان احكي لكم قراءة النبي صلى الله عليه وسلم لفعلت
(لِّيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْـ.ـبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَه” عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطًا مُّسْتَقِيْمًا لا). যেন আল্লাহ ক্ষমা করে দেন আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ এবং পূর্ণ করেন আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ, আর আপনাকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/২) ৪৮৩৬. মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত অধিক সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পদযুগল ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ্ তো আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? [১১৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا صدقة بن الفضل، اخبرنا ابن عيينة، حدثنا زياد، انه سمع المغيرة، يقول قام النبي صلى الله عليه وسلم حتى تورمت قدماه فقيل له غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تاخر قال " افلا اكون عبدا شكورا
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত অধিক সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পদযুগল ফেটে যেতো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তো আপনার আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তবু আপনি কেন তা করছেন? তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করব না? তাঁর মেদ বর্ধিত হলে[1] তিনি বসে সালাত আদায় করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছে করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়তেন, তারপর রুকূ‘ করতেন। [১১১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحسن بن عبد العزيز، حدثنا عبد الله بن يحيى، اخبرنا حيوة، عن ابي الاسود، سمع عروة، عن عايشة رضى الله عنها ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يقوم من الليل حتى تتفطر قدماه فقالت عايشة لم تصنع هذا يا رسول الله وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تاخر قال " افلا احب ان اكون عبدا شكورا ". فلما كثر لحمه صلى جالسا فاذا اراد ان يركع قام، فقرا ثم ركع
‘আমর ইবনু আস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কুরআনের এ আয়াত, ‘‘আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে’’ তাওরাতে আল্লাহ্ এভাবে বলেছেন, হে নবী, আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও উম্মী লোকদের মুক্তি দাতারূপে। তুমি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি তোমার নাম রেখেছি নির্ভরকারী যে রূঢ় ও কঠোরচিত্ত নয়, বাজারে শোরগোলকারী নয় এবং মন্দ মন্দ দ্বারা প্রতিহতকারীও নয়; বরং তিনি ক্ষমা করবেন এবং উপেক্ষা করবেন। বক্র জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাঁর জান কবয করবেন না। তা এভাবে যে, তারা বলবে, আল্লাহ্ ব্যতীত ইলাহ নেই। ফলে খুলে যাবে অন্ধ চোখ, বধির কান এবং পর্দায় ঢাকা অন্তরসমূহ। [২১২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله، حدثنا عبد العزيز بن ابي سلمة، عن هلال بن ابي هلال، عن عطاء بن يسار، عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنهما ان هذه، الاية التي في القران {يا ايها النبي انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا} قال في التوراة يا ايها النبي انا ارسلناك شاهدا ومبشرا وحرزا للاميين، انت عبدي ورسولي سميتك المتوكل ليس بفظ ولا غليظ ولا سخاب بالاسواق ولا يدفع السيية بالسيية ولكن يعفو ويصفح ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملة العوجاء بان يقولوا لا اله الا الله فيفتح بها اعينا عميا واذانا صما وقلوبا غلفا
বারাআ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী কিরাআত করছিলেন। তাঁর একটি ঘোড়া ঘরে বাঁধা ছিল। হঠাৎ তা পালাতে লাগলো। সে ব্যক্তি বেরিয়ে এসে দৃষ্টিপাত করলেন; কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। ঘোড়াটি পালিয়েই যাচ্ছিল।[1] যখন ভোর হলো তখন তিনি ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, এ হলো সেই প্রশান্তি, যা কুরআন তিলাওয়াত করার সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে। [৩৬১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء رضى الله عنه قال بينما رجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يقرا، وفرس له مربوط في الدار، فجعل ينفر، فخرج الرجل فنظر فلم ير شييا، وجعل ينفر، فلما اصبح ذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال " تلك السكينة تنزلت بالقران
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়াহর (সন্ধির) দিন আমরা এক হাজার চারশ’ লোক ছিলাম। [৩৫৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا سفيان، عن عمرو، عن جابر، قال كنا يوم الحديبية الفا واربعماية
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাঃ) (যিনি সন্ধির সময় উপস্থিত ছিলেন) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই আঙ্গুলের মাঝে কাঁকর নিয়ে নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। [৫৪৭৯, ৬২২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا شبابة، حدثنا شعبة، عن قتادة، قال سمعت عقبة بن صهبان، عن عبد الله بن مغفل المزني، اني ممن شهد الشجرة، نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الخذف
‘উকবাহ ইবনু সুহবান (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাঃ)-কে গোসলখানায় প্রস্রাব করা সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وعن عقبة بن صهبان، قال سمعت عبد الله بن المغفل المزني، في البول في المغتسل
সাবিত ইবনু দাহহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনিও বৃক্ষতলে বায়আতকারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن الوليد، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن خالد، عن ابي قلابة، عن ثابت بن الضحاك رضى الله عنه وكان من اصحاب الشجرة
হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িল (রাঃ)-এর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য এলে, তিনি বললেন, আমরা সিফ্ফীনের ময়দানে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বললেন, তোমরা কি সে লোকদেরকে দেখতে পাচ্ছ না, যাদের আল্লাহর কিতাবের দিকে আহবান করা হচ্ছে? ‘আলী (রাঃ) বললেন, হাঁ। তখন সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) বললেন, প্রথমে তোমরা নিজেদের খবর নাও। হুদায়বিয়াহর দিন অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মক্কার মুশরিকদের মধ্যে যে সন্ধি হয়েছিল, আমরা সেটা দেখেছি। যদি আমরা একে যুদ্ধ মনে করতাম, তাহলে অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। সেদিন ‘উমার (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে) এসে বলেছিলেন, আমরা কি হাকের উপর নই, আর তারা কি বাতিলের উপর নয়? আমাদের নিহত ব্যক্তিরা জান্নাতে, আর তাদের নিহত ব্যক্তিরা কি জাহান্নামে যাবে না? তিনি বললেন, হাঁ। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাহলে কেন আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অপমানজনক শর্তারোপ করা হবে এবং আমরা ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্ আমাদেরকে এ সন্ধির ব্যাপারে হুকুম করেননি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! আমি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। ‘উমার রাগে মনে দুঃখ নিয়ে ফিরে গেলেন। তিনি ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তারপর তিনি আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আবূ বাকর! আমরা কি হাকের উপর নই এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ কক্ষনো তাঁকে ধ্বংস করবেন না। এ সময় সূরাহ ফাতহ্ অবতীর্ণ হয়। [৩১৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن اسحاق السلمي، حدثنا يعلى، حدثنا عبد العزيز بن سياه، عن حبيب بن ابي ثابت، قال اتيت ابا وايل اساله فقال كنا بصفين فقال رجل الم تر الى الذين يدعون الى كتاب الله. فقال علي نعم. فقال سهل بن حنيف اتهموا انفسكم فلقد رايتنا يوم الحديبية يعني الصلح الذي كان بين النبي صلى الله عليه وسلم والمشركين ولو نرى قتالا لقاتلنا، فجاء عمر فقال السنا على الحق وهم على الباطل اليس قتلانا في الجنة وقتلاهم في النار قال " بلى ". قال ففيم اعطي الدنية في ديننا، ونرجع ولما يحكم الله بيننا. فقال " يا ابن الخطاب اني رسول الله ولن يضيعني الله ابدا ". فرجع متغيظا، فلم يصبر حتى جاء ابا بكر فقال يا ابا بكر السنا على الحق وهم على الباطل قال يا ابن الخطاب انه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولن يضيعه الله ابدا. فنزلت سورة الفتح
سُوْرَةُ الْحُجُرَاتِ সূরাহ (৪৯) : হুজুরাত وَقَالَ مُجَاهِدٌ (لَا تُقَدِّمُوْا) لَا تَفْتَاتُوْا عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَقْضِيَ اللهُ عَلَى لِسَانِهِ (امْتَحَنَ) أَخْلَصَ وَلَا (تَنَابَزُوْا) يُدْعَى بِالْكُفْرِ بَعْدَ الإِسْلَامِ (يَلِتْكُمْ) يَنْقُصْكُمْ أَلَتْنَا نَقَصْنَا. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَاتُقَدِّمُوْا অর্থ, রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন বিষয় তোমরা জিজ্ঞেস করবে না যতক্ষণ না, আল্লাহ্ তাঁর যবানে এর ফয়সালা জানিয়ে দেন। امْتَحَنَ মানে পরিশুদ্ধ করেছেন। لَا تَنَابَزُوْا ইসলাম গ্রহণের পর অপরকে যেন কুফরীর প্রতি না ডাকা হয়। يَلِتْكُمْ মানে হ্রাস করা হবে তোমাদের أَلَتْنَا মানে হ্রাস করেছি আমি। (تَشْعُرُوْنَ) تَعْلَمُوْنَ وَمِنْهُ الشَّاعِرُ. تَشْعُرُوْنَ মানে তোমরা জ্ঞাত আছ। الشَّاعِرُ শব্দটি এ ধাতু থেকেই নির্গত হয়েছে। ৪৮৪৫. ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উত্তম দু’ ব্যক্তি- আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কণ্ঠস্বর উঁচু করে ধ্বংস হওয়ার দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়েছিলেন। যখন বানী তামীম গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিল। তাদের একজন বানী মাজাশে গোত্রের আকরা ইবনু হাবিসকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করল এবং অপরজন অন্য জনের নাম প্রস্তাব করল। নাফি বলেন, এ লোকটির নাম আমার মনে নেই। তখন আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, আপনার ইচ্ছে হলো কেবল আমার বিরোধিতা করা। তিনি বললেন, না, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছে আমার নেই। এ ব্যাপারটি নিয়ে তাঁদের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, ‘‘হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গলার আওয়াজের উপর নিজেদের গলার আওয়াজ উঁচু করবে না’’.....শেষ পর্যন্ত। ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর ‘উমার (রাঃ) এ তো আস্তে কথা বলতেন যে, দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেতেন না। তিনি আবূ বাকর (রাঃ) সম্পর্কে এমন কথা বর্ণনা করেননি। [৪৩৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يسرة بن صفوان بن جميل اللخمي، حدثنا نافع بن عمر، عن ابن ابي مليكة، قال كاد الخيران ان يهلكا ابا بكر وعمر رضى الله عنهما رفعا اصواتهما عند النبي صلى الله عليه وسلم حين قدم عليه ركب بني تميم، فاشار احدهما بالاقرع بن حابس اخي بني مجاشع، واشار الاخر برجل اخر قال نافع لا احفظ اسمه فقال ابو بكر لعمر ما اردت الا خلافي. قال ما اردت خلافك. فارتفعت اصواتهما في ذلك، فانزل الله {يا ايها الذين امنوا لا ترفعوا اصواتكم} الاية. قال ابن الزبير فما كان عمر يسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد هذه الاية حتى يستفهمه. ولم يذكر ذلك عن ابيه، يعني ابا بكر
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনু কায়স (রাঃ)-কে খুঁজে পেলেন না। একজন সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে তাঁর সংবাদ নিয়ে আসছি। তারপর লোকটি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তিনি তাঁর ঘরে মাথা নীচু করে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কী অবস্থা? তিনি বললেন, খারাপ। কারণ এই (অধম) তার আওয়াজ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আওয়াজের চেয়ে উঁচু করে কথা বলত। ফলে, তার ‘আমল বরবাদ হয়ে গেছে এবং সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। তারপর লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে খবর দিলেন যে, তিনি এমন এমন কথা বলছেন। মূসা বলেন, এরপর লোকটি এক মহাসুসংবাদ নিয়ে তাঁর কাছে ফিরে গেলেন (এবং বললেন) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি যাও এবং তাকে বল, তুমি জাহান্নামী নও, বরং তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। [৩৬১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا ازهر بن سعد، اخبرنا ابن عون، قال انباني موسى بن انس، عن انس بن مالك رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم افتقد ثابت بن قيس فقال رجل يا رسول الله انا اعلم لك علمه. فاتاه فوجده جالسا في بيته منكسا راسه فقال له ما شانك. فقال شر. كان يرفع صوته فوق صوت النبي صلى الله عليه وسلم فقد حبط عمله، وهو من اهل النار. فاتى الرجل النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره انه قال كذا وكذا فقال موسى فرجع اليه المرة الاخرة ببشارة عظيمة فقال " اذهب اليه فقل له انك لست من اهل النار، ولكنك من اهل الجنة
ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাদেরকে জানিয়েছেন যে, একবার বানী তামীম গোত্রের একদল লোক সাওয়ার হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, কা’কা ইবনু মাবাদ (রাঃ)-কে ‘আমীর বানানো হোক এবং ‘উমার (রাঃ) বললেন, আকরা ইবনু হাবিস (রাঃ)-কে আমীর নিয়োগ করা হোক। তখন আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, আপনার ইচ্ছে হলো কেবল আমার বিরোধিতা করা। উত্তরে ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছে করিনি। এ নিয়ে তাঁরা পরস্পর তর্ক-বিতর্ক করতে লাগলেন, এক পর্যায়ে তাদের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। এ উপলক্ষে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, ‘‘হে মু’মিনগণ! আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না.....আয়াত শেষ। [৪৩৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحسن بن محمد، حدثنا حجاج، عن ابن جريج، قال اخبرني ابن ابي مليكة، ان عبد الله بن الزبير، اخبرهم انه، قدم ركب من بني تميم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر امر القعقاع بن معبد. وقال عمر بل امر الاقرع بن حابس. فقال ابو بكر ما اردت الى او الا خلافي. فقال عمر ما اردت خلافك. فتماريا حتى ارتفعت اصواتهما، فنزل في ذلك {يا ايها الذين امنوا لا تقدموا بين يدى الله ورسوله} حتى انقضت الاية
بَاب قَوْلِهِ :(وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوْا حَتّٰى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ) ৬৫/৪৯/৩. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ যদি তারা ধৈর্যধারণ করত তাদের কাছে আপনার বের হয়ে আসা পর্যন্ত, তবে তা হত তাদের জন্যে উত্তম। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ আল-হুজুরাত ৪৯/৫) (50) سُوْرَةُ ق সূরাহ (৫০) : ক্বাফ (رَجْعٌمبَعِيْدٌ) رَدٌّ (فُرُوْجٍ) فُتُوْقٍ وَاحِدُهَا فَرْجٌ (مِنْ حَبْلِ الْوَرِيْدِ) وَرِيْدَاهُ فِيْ حَلْقِهِ وَالْحَبْلُ حَبْلُ الْعَاتِقِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ) مِنْ عِظَامِهِمْ (تَبْصِرَةً) بَصِيْرَةً (حَبَّ الْحَصِيْدِ) الْحِنْطَةُ (بَاسِقَاتٍ) الطِّوَالُ (أَفَعَيِيْنَا) أَفَأَعْيَا عَلَيْنَا حِيْنَ أَنْشَأَكُمْ وَأَنْشَأَ خَلْقَكُمْ (وَقَالَ قَرِيْنُه”) الشَّيْطَانُ الَّذِيْ قُيِّضَ لَهُ (فَنَقَّبُوْا) ضَرَبُوْا (أَوِ الْقَى السَّمْعَ) لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِغَيْرِهِ (حِيْنَ أنْشَأَكُمْ) وَأَنْشَأَ خَلْقَكُمْ (رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ) رَصَدٌ (سَآئِقٌ وَشَهِيْدٌ) الْمَلَكَانِ كَاتِبٌ وَشَهِيْدٌ (شَهِيْدٌ) شَاهِدٌ بِالْغَيْبِ مِنْ (لُغُوْبٍ) النَّصَبُ وَقَالَ غَيْرُهُ نَضِيْدٌ الْكُفُرَّى مَا دَامَ فِيْ أَكْمَامِهِ وَمَعْنَاهُ مَنْضُوْدٌ بَعْضُهُ عَلَى بَعْضٍ فَإِذَا خَرَجَ مِنْ أَكْمَامِهِ فَلَيْسَ بِنَضِيْدٍ وَإِدْبَارِ النُّجُوْمِ وَأَدْبَارِ السُّجُوْدِ كَانَ عَاصِمٌ يَفْتَحُ الَّتِيْ فِيْ ق وَيَكْسِرُ الَّتِيْ فِي الطُّوْرِ وَيُكْسَرَانِ جَمِيْعًا وَيُنْصَبَانِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يَوْمَالْخُرُوْجِ) يَوْمَ يَخْرُجُوْنَ إِلَى الْبَعْثِ مِنَ الْقُبُوْرِ. رَجْعٌ মানে প্রত্যাবর্তন। فُرُوْجٍ মানে ফাটল। এর একবচন হলো وَرِيْدٌ فِيْ حَلْقِهٰ ঘাড়ের রগ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُদ্বারা তাদের ঐ সমস্ত হাড্ডিকে বোঝানো হয়েছে, যেগুলোকে মৃত্তিকা ক্ষয় করে। تَبْصِرَةً জ্ঞানস্বরূপ। حَبَّ الْحَصِيْدِগম। بَاسِقَاتٍ সমুন্নত ও লম্বা। أَفَعَيِيْنَا আমাদের জন্য কি ক্লান্তিকর ছিল? وَقَالَ قَرِيْنُهচঐ শায়ত্বন যা তার জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে। فَنَقَّبُوْا তারা ভ্রমণ করেছে। أَوِ الْقَى السَّمْعَ অর্থ, যে কুরআন শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে, এ ব্যতীত অন্য কোন দিকে তার মনোযোগ নেই। رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ মানে প্রহরী। سَآئِقٌ وَشَهِيْدٌ দু’জন মালাক- একজন লেখক এবং অন্যজন সাক্ষী। شَهِيْدٌ অন্তরের অন্তস্থল থেকে সাক্ষ্যদাতা ব্যক্তিকে شَهِيْدٌ বলা হয়। لُغُوْبٍ ক্লান্তি। মুজাহিদ (রহ.) ব্যতীত অন্য মুফাসসিরগণ বলেছেন, نَضِيْدٌ ফুলের কলি যা এখনো ফুটেনি। এখানে শব্দটি ভাজ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রস্ফুটিত ফুলের কলিকে نَضِيْدٌ বলা হয় না। কারী আসিম (রহ.) সূরাহ ‘কাফ’-এ বর্ণিত إدْبَارِ السُّجُوْدِ-এর হামযার মধ্যে যবর দেন এবং সূরাহ তূর-এ উল্লিখিত إِدْبَارِالنُّجُوْمِ এর হামযার মধ্যে যের দেন। তবে উভয় স্থানে হামযাতে যেরও দেয়া যায় অথবা যবরও দেয়া যায়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يَوْمَ الْخُرُوْجِ কবর থেকে বের হওয়ার দিন। ৪৮৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? শেষে আল্লাহ্ তাঁর পা সেখানে রাখবেন, তখন সে বলবে, আর না, আর না। [৬৬৬১, ৭৩৮৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে মারফূ হাদীস হিসেবে বর্ণিত। তবে আবূ সুফ্ইয়ান এ হাদীসটিকে অধিকাংশ সময় মওকূফ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জাহান্নামকে বলা হবে, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন আল্লাহ্ রববুল ‘আলামীন নিজ পা তাতে রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, আর নয়, আর নয়। [১৪৪৯, ৪৮৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن موسى القطان، حدثنا ابو سفيان الحميري، سعيد بن يحيى بن مهدي حدثنا عوف، عن محمد، عن ابي هريرة، رفعه واكثر ما كان يوقفه ابو سفيان " يقال لجهنم هل امتلات وتقول هل من مزيد فيضع الرب تبارك وتعالى قدمه عليها فتقول قط قط
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্ক করে। জাহান্নাম বলে দাম্ভিক ও পরাক্রমশালীদের দ্বারা আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। জান্নাত বলে, আমার কী হলো? আমাতে কেবল মাত্র দুর্বল এবং নিরীহ ব্যক্তিরাই প্রবেশ করছে। তখন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা জান্নাতকে বলবেন, তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছে আমি অনুগ্রহ করব। আর তিনি জাহান্নামকে বলবেন, তুমি হলে আযাব। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেব। জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে পূর্ণতা। তবে জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর পা তাতে রাখবেন। তখন সে বলবে, বাস, বাস, বাস। তখন জাহান্নাম পূর্ণ হয়ে যাবে এবং এর এক অংশ অপর অংশের সঙ্গে মুড়িয়ে দেয়া হবে। আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করবেন না। অবশ্য আল্লাহ্ তা‘আলা জান্নাতের জন্য অন্য মাখলূক সৃষ্টি করবেন। [৪৮৪৯; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৬, আহমাদ ৮১৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن همام، عن ابي هريرة، رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " تحاجت الجنة والنار فقالت النار اوثرت بالمتكبرين والمتجبرين. وقالت الجنة ما لي لا يدخلني الا ضعفاء الناس وسقطهم. قال الله تبارك وتعالى للجنة انت رحمتي ارحم بك من اشاء من عبادي. وقال للنار انما انت عذاب اعذب بك من اشاء من عبادي. ولكل واحدة منهما ملوها، فاما النار فلا تمتلي حتى يضع رجله فتقول قط قط قط. فهنالك تمتلي ويزوى بعضها الى بعض، ولا يظلم الله عز وجل من خلقه احدا، واما الجنة فان الله عز وجل ينشي لها خلقا
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ, তেমনিভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে বাধা বিঘ্ন হবে না। তাই তোমাদের সামর্থ্য থাকলে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সালাতের ব্যাপারে প্রভাবিত হবে না। তারপর তিনি পাঠ করলেন, ‘‘আপনার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে’’- (সূরাহ ক্বাফ ৫০/৩৯)।[৫৫৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، عن جرير، عن اسماعيل، عن قيس بن ابي حازم، عن جرير بن عبد الله، قال كنا جلوسا ليلة مع النبي صلى الله عليه وسلم فنظر الى القمر ليلة اربع عشرة فقال " انكم سترون ربكم كما ترون هذا، لا تضامون في رويته، فان استطعتم ان لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وقبل غروبها فافعلوا ". ثم قرا {وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب}
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রত্যেক সালাতের পর তাঁর পবিত্রতা ঘোষণার আদেশ করেছেন। আল্লাহর বাণীঃ وَإِدْبَارَ السُّجُوْدِ ‘‘এর দ্বারা তিনি এ অর্থ করেছেন।’’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، حدثنا ورقاء، عن ابن ابي نجيح، عن مجاهد، قال ابن عباس امره ان يسبح، في ادبار الصلوات كلها. يعني قوله {وادبار السجود}
سُوْرَةُ وَالذَّارِيَاتِ সূরাহ (৫১) : আয্ যারিয়াত قَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلَام (الذَّارِيٰتُ) الرِّيَاحُ وَقَالَ غَيْرُهُ (تَذْرُوْهُ) تُفَرِّقُهُ (وَفِيْٓأَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُوْنَ) تَأْكُلُ وَتَشْرَبُ فِيْ مَدْخَلٍ وَاحِدٍ وَيَخْرُجُ مِنْ مَوْضِعَيْنِ (فَرَاغَ) فَرَجَعَ (فَصَكَّتْ) فَجَمَعَتْ أَصَابِعَهَا فَضَرَبَتْ بِهِ جَبْهَتَهَا (وَالرَّمِيْمُ) نَبَاتُ الْأَرْضِ إِذَا يَبِسَ وَدِيْسَ (لَمُوْسِعُوْنَ) أَيْ لَذُوْ سَعَةٍ وَكَذَلِكَ عَلَى الْمُوْسِعِ قَدَرَهُ يَعْنِي الْقَوِيَّ خَلَقْنَا (زَوْجَيْنِ) الذَّكَرَ وَالأُنْثَى وَاخْتِلَافُ الْأَلْوَانِ حُلْوٌ وَحَامِضٌ فَهُمَا زَوْجَانِ (فَفِرُّوْآ إِلَى اللهِ) مِنْ اللهِ إِلَيْهِ (إِلَّالِيَعْبُدُوْنِ) مَا خَلَقْتُ أَهْلَ السَّعَادَةِ مِنْ أَهْلِ الْفَرِيْقَيْنِ إِلَّا لِيُوَحِّدُوْنِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ خَلَقَهُمْ لِيَفْعَلُوْا فَفَعَلَ بَعْضٌ وَتَرَكَ بَعْضٌ وَلَيْسَ فِيْهِ حُجَّةٌ لِأَهْلِ الْقَدَرِ (وَالذَّنُوْبُ) الدَّلْوُ الْعَظِيْمُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (ذَنُوْبًا) سَبِيْلًا (صَرَّةٍ) صَيْحَةٍ (الْعَقِيْمُ) الَّتِيْ لَا تَلِدُ وَلَا تُلْقِحُ شَيْئًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (وَالْحُبُكُ) اسْتِوَاؤُهَا وَحُسْنُهَا (فِيْغَمْرَةٍ) فِيْ ضَلَالَتِهِمْ يَتَمَادَوْنَ وَقَالَ غَيْرُهُ (تَوَاصَوْا) تَوَاطَئُوْا وَقَالَ (مُسَوَّمَةً) مُعَلَّمَةً مِنْ السِّيْمَا (قُتِلَالْإِنْسَانُ) لُعِنَ. ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, الرِّيَاحُ বায়ুরাশি। অন্যদের হতে বর্ণিত। تَذْرُوْهُ মানে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। وَفِيْٓأَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُوْنَ তোমাদের মধ্যেও নিদর্শন রয়েছে, (‘‘তোমরা কি অনুধাবন করবে না?) অর্থাৎ তোমরা খানাপিনা কর এক পথে এবং তা বের হয় দু’পথ দিয়ে। فَرَاغَ মানে সে ফিরে এল। فَصَكَّتْ সে মুষ্টি বন্ধ করে নিজ কপালে মারল। الرَّمِيْمُ যমীনের উদ্ভিদ যখন শুকায় এবং তা মাড়াই করা হয়। لَمُوْسِعُوْنَ অবশ্য সম্প্রসারণকারী। এমনিভাবে عَلَى الْمُوْسِعِ قَدَرَهُ অর্থাৎ সামর্থ্যবান। زَوْجَيْنِ নারী-পুরুষ, আলাদা আলাদা বর্ণের এবং মিষ্টি ও টক উভয়কেই زَوْجَانِ বলা হয়। فَفِرُّوْآ إِلَى اللهِআল্লাহর নাফরমানী ত্যাগ করে তোমরা আল্লাহর আনুগত্যের পানে এসো। إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ মানুষ ও জিন উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা ভাগ্যবান, তাদেরই আমার তাওহীদের উপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সৃষ্টি করেছি। কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, এর অর্থ হচ্ছে, তাদের সকলকেই আল্লাহর বন্দেগীর জন্য সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু কেউ তা করেছে আর কেউ তা ত্যাগ করেছে। এ আয়াতে মুতাযিলাদের জন্য তাদের পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। الذَّنُوْبُ বড় বালতি। মুজাহিদ বলেন, صَرَّةٍ চীৎকার। ذُنُوْبًا রাস্তা। الْعَقِيْمُ যে নারী সন্তান জন্ম দেয় না। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحُبُكُ আকাশের সুবিন্যস্ততা ও তার সৌন্দর্য। فِيْغَمْرَةٍ নিজেদের ভুলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অন্য হতে বর্ণিত যে, تَوَاصَوْا একে অপরের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে আরও বলেছেন, مُسَوَّمَةً চিহ্নিত। مُسَوَّمَةً শব্দটি السِيِّمًا থেকে উদ্ভূত। قُتِلَ الْإِنْسَانُ অভিশপ্ত। (52) سُوْرَةُ وَالطُّوْرِ সূরাহ (৫২) : আত্-তূর وَقَالَ قَتَادَةُ (مَسْطُوْرٍ) مَكْتُوْبٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الطُّوْرُ) الْجَبَلُ بِالسُّرْيَانِيَّةِ (رَقٍّ مَّنْشُوْرٍ) صَحِيْفَةٍ (وَالسَّقْفِ) الْمَرْفُوْعِ سَمَاءٌ (الْمَسْجُوْرِ) الْمُوْقَدِ وَقَالَ الْحَسَنُ (تُسْجَرُ) حَتَّى يَذْهَبَ مَاؤُهَا فَلَا يَبْقَى فِيْهَا قَطْرَةٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (أَلَتْنَاهُمْ) نَقَصْنَا وَقَالَ غَيْرُهُ (تَمُوْرُ) تَدُوْرُ (أَحْلَامُهُمْ) الْعُقُوْلُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْبَرُّ) اللَّطِيْفُ(كِسْفًا) قِطْعًا (الْمَنُوْنُ) الْمَوْتُ وَقَالَ غَيْرُهُ يَتَنَازَعُوْنَ (يَتَعَاطَوْنَ). ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, مَسْطُوْرٍ লিখিত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, সুরয়ানী ভাষায় পর্বতকে طُّوْرُ বলা হয়। رَقٍّمَّنْشُوْرٍ (উন্মুক্ত) সহীফা।السَّقْفِ الْمَرْفُوْعِ (সমুন্নত) আকাশ। الْمَسْجُوْرِ জ্বলন্ত। হাসান (রহ.) বলেন, (সমুদ্র) জ্বলে উঠবে। ফলে সমস্ত পানি ফুরিয়ে যাবে এবং এক ফোঁটা পানি থাকবে না। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, أَلَتْنَاهُمْ আমি হ্রাস করেছি। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, تَمُوْرُ আন্দোলিত হবে। أَحْلَامُهُمْ বুদ্ধি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْبَرُّদয়ালু। كِسْفًا খন্ড, الْمَنُوْنُ মৃত্যু। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, يَتَنَازَعُوْنَ তারা আদান-প্রদান করবে। ৪৮৫৩. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিবেদন করলাম যে, আমি অসুস্থ। তিনি বললেন, তুমি সওয়ার হয়ে লোকদের পেছনে তাওয়াফ করে নাও। তখন আমি তাওয়াফ করলাম। এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন এবং وَالطُّوْرِ وَكِتَابٍ مَّسْطُوْرٍ তিলাওয়াত করছিলেন। [৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن ابي الاسود، حدثنا حرمي، حدثنا شعبة، عن قتادة، عن انس رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " يلقى في النار وتقول هل من مزيد. حتى يضع قدمه فتقول قط قط
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل، عن عروة، عن زينب ابنة ابي سلمة، عن ام سلمة، قالت شكوت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم اني اشتكي فقال " طوفي من وراء الناس، وانت راكبة ". فطفت ورسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الى جنب البيت يقرا بالطور وكتاب مسطور