Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
কাসিম (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে نِسْيًا مَّنْسِيًّا (স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হয়ে যেতাম) অংশটি নেই। [৩৭৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد، حدثنا ابن عون، عن القاسم، ان ابن عباس رضى الله عنه استاذن على عايشة نحوه. ولم يذكر نسيا منسيا
মাসরূক (রহঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হাসান ইবনু সাবিত এসে (তাঁর ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, এ লোককে কি আপনি অনুমতি প্রদান করবেন? তিনি (‘আয়িশাহ) (রাঃ) বললেন, তার উপর কি কঠোর শাস্তি নেমে আসেনি? সুফ্ইয়ান (রাঃ) বলেন, এর দ্বারা ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। হাসান ইবনু সাবিত ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রশংসা করে নিম্নের ছন্দ দু’টি পাঠ করলেন, একজন পবিত্র মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয় না। তিনি সতীসাধ্বী মহিলাদের গোশ্ত ভক্ষণ থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। [৪১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن ابي الضحى، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت جاء حسان بن ثابت يستاذن عليها قلت اتاذنين لهذا قالت اوليس قد اصابه عذاب عظيم. قال سفيان تعني ذهاب بصره. فقال حصان رزان ما تزن بريبة وتصبح غرثى من لحوم الغوافل قالت لكن انت
মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাস্সান ইবনু সাবিত ‘আয়িশাহ (রাঃ) কাছে এসে নিচের শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন। তিনি একজন পবিত্র মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয় না। তিনি সতীসাধ্বী মহিলাদের গোশ্ত ভক্ষণ থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ‘তুমি তো এরূপ নও।’ (মাসরূক বললেন) আমি বললাম, আপনি এমন এক ব্যক্তিকে কেন আপনার কাছে আসতে দিলেন, যার সম্পর্কে আল্লাহ্ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি এর বড় অংশ নিজের উপর নিয়েছে, তার জন্য তো রয়েছে কঠিন শাস্তি (২৪ঃ১১)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ‘দৃষ্টিহীনতার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি আরও বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে জবাব দিতেন। [৪১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، انبانا شعبة، عن الاعمش، عن ابي الضحى، عن مسروق، قال دخل حسان بن ثابت على عايشة فشبب وقال حصان رزان ما تزن بريبة وتصبح غرثى من لحوم الغوافل قالت لست كذاك. قلت تدعين مثل هذا يدخل عليك وقد انزل الله {والذي تولى كبره منهم} فقالت واى عذاب اشد من العمى وقالت وقد كان يرد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
(إِنَّ الَّذِيْنَ يُحِبُّوْنَ أَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ لا فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ - وَاللهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ) وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُه” وَأَنَّ اللهَ رَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ) تَشِيْعُ تَظْهَرُ وَقَوْلُهُ (وَلَا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُّؤْتُوْآ أُولِي الْقُرْبٰى وَالْمَسٰكِيْنَ وَالْمُهٰجِرِيْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ - وَلْيَعْفُوْا وَلْيَصْفَحُوْا ط أَلَا تُحِبُّوْنَ أَنْ يَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ ط وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ) ‘যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ্ জানেন তোমরা জান না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেত না। আর আল্লাহ্ দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর পথে যারা গৃহ ত্যাগ করেছে, তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ নূর ২৪/২২) ৪৭৫৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমার সম্পর্কে আলোচনা চলছিল যা রটনা হয়েছে এবং আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তখন আমার ব্যাপারে ভাষণ দিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। তিনি প্রথমে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন। তারপর আল্লাহর প্রতি যথাযোগ্য হাম্দ ও সানা পাঠ করলেন। এরপরে বললেন, হে মুসলিমগণ! যে সকল লোক আমার স্ত্রী সম্পর্কে অপবাদ দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর কসম! আমি আমার পরিবারের ব্যাপারে মন্দ কিছুই জানি না। তাঁরা এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে, আল্লাহর কসম, তার ব্যাপারেও আমি কখনও খারাপ কিছু জানি না এবং সে কখনও আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে প্রবেশ করে না এবং আমি যখন কোন সফরে গিয়েছি সেও আমার সঙ্গে সফরে গিয়েছে। সা‘দ ইবনু উবাদা দাঁড়িয়ে বললেন, আমাকে তাদের শিরোচ্ছেদ করার অনুমতি দিন। এর মধ্যে বানী খাযরাজ গোত্রের এক ব্যক্তি, যে হাস্সান ইবনু সাবিতের মাতার আত্মীয় ছিল, সে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি মিথ্যা বলেছ, জেনে রাখ, আল্লাহর কসম! যদি সে (অপবাদকারী) ব্যক্তিরা আউস্ গোত্রের হত, তাহলে তুমি শিরোচ্ছেদ করতে পছন্দ করতে না। আউস ও খাযরাজের মধ্যে মসজিদেই একটা দুর্ঘটনা ঘটার অবস্থা দেখা দিল। আর আমি এ বিষয় কিছুই জানি না। সেদিন সন্ধ্যায় যখন আমি আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলাম, তখন উম্মু মিসতাহ্ আমার সঙ্গে ছিলেন এবং তিনি হোঁচট খেয়ে বললেন, ‘মিস্তাহ্ ধ্বংস হোক’! আমি বললাম, হে উম্মু মিসতাহ! তুমি তোমার সন্তানকে গালি দিচ্ছ? তিনি নীরব থাকলেন। তারপর দ্বিতীয় হোঁচট খেয়ে বললেন, ‘মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’। আমি তাকে বললাম, ‘তুমি তোমার সন্তানকে গালি দিচ্ছ?’ তিনি (উম্মু মিসতাহ্) তৃতীয়বার পড়ে গিয়ে বললেন, ‘মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’। আমি এবারে তাঁকে ধমক দিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তাকে তোমার কারণেই গালি দিচ্ছি। আমি বললাম আমার ব্যাপারে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন তিনি আমার কাছে সব ঘটনা বিস্তারিত বললেন। আমি বললাম, তাই হচ্ছে নাকি? তিনি বললেন, হাঁ আল্লাহর কসম! এরপর আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম এবং যে প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম তা একেবারেই ভুলে গেলাম। এরপর আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম যে, আমাকে আমার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। তিনি একটি ছেলেকে আমার সঙ্গে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। আমি যখন ঘরে প্রবেশ করলাম, তখন উম্মু রূমানকে নিচে দেখতে পেলাম এবং আবূ বাকর (রাঃ) ঘরের ওপরে পড়ছিলেন। আমার আম্মা জিজ্ঞেস করলেন, হে বৎস! কিসে তোমাকে নিয়ে এসেছে? আমি তাকে সংবাদ দিলাম এবং তাঁর কাছে ঘটনা বললাম। এ ঘটনা তার ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার করেনি, যেমন আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি বললেন, হে বৎস! এটাকে তুমি হাল্কাভাবে গ্রহণ কর, কেননা, এমন সুন্দরী নারী কমই আছে, যার স্বামী তাঁকে ভালবাসে আর তার সতীনরা তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় না এবং তার বিরুদ্ধে কিছু বলে না। বস্তুত তার ওপর ঘটনাটি অতখানি প্রভাব বিস্তার করেনি যতখানি আমার উপর করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার আববা [আবূ বাকর (রাঃ)] কি এ ঘটনা জেনেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কি? তিনি জবাব দিলেন হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ ঘটনা জানেন। তখন আমি অশ্রু ঝরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। আবূ বক্র (রাঃ) আমার কান্না শুনতে পেলেন। তখন তিনি ঘরের ওপরে পড়ছিলেন। তিনি নিচে নেমে আসলেন এবং আমার আম্মাকে জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হয়েছে? তিনি বললেন, তার সম্পর্কে যা রটেছে তা তার গোচরীভূত হয়েছে। এতে আবূ বাকরের চোখের পানি ঝরতে লাগল। তিনি বললেন, হে বৎস! আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসলেন। তিনি আমার খাদিমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি এ ব্যতীত তাঁর কোন দোষ জানি না যে, তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ছাগল এসে তাঁর খামির অথবা বললেন, গোলা আটা খেয়ে যেত। তখন কয়েকজন সাহাবী তাকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সত্য কথা বল। এমনকি তাঁরা তার নিকট ঘটনা খুলে বললেন। তখন সে বলল, সুবহান আল্লাহ্, আল্লাহর কসম! আমি তাঁর ব্যাপারে এর চেয়ে অধিক কিছু জানি না, যা একজন স্বর্ণকার তার এক টুকরা লাল খাঁটি স্বর্ণ সম্পর্কে জানে। এ ঘটনা সে ব্যক্তির কাছেও পৌঁছল যার সম্পর্কে এ অভিযোগ উঠেছে। তখন তিনি বললেন, সুবহান আল্লাহ্! আল্লাহর কসম, আমি কখনও কোন মহিলার পর্দা খুলিনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তী সময়ে এ (অভিযুক্ত) লোকটি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ রূপে নিহত হন। তিনি বলেন, ভোর বেলায় আমার আববা ও আম্মা আমার কাছে এলেন। তাঁরা এতক্ষণ থাকলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করে আমার কাছে এলেন। এ সময় আমার ডানে ও বামে আমার আববা আমাকে ঘিরে বসা ছিলেন। তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আল্লাহ্ তা‘আলার হাম্দ ও সানা পাঠ করে বললেন, হে ‘আয়িশাহ! তুমি যদি কোন গুনাহর কাজ বা অন্যায় করে থাক তবে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, কেননা, আল্লাহ্ তাঁর বান্দার তাওবা কবূল করে থাকেন। তখন জনৈকা আনসারী মহিলা দরজার কাছে বসা ছিল। আমি বললাম, আপনি কি এ মহিলাকেও লজ্জা করছেন না, এসব কিছু বলতে? তবুও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নাসীহাত করলেন। তখন আমি আমার আববার দিকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবাব দিন। তিনি বললেন, আমি কী বলব? এরপরে আমি আম্মার দিকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবাব দিন। তিনিও বললেন, আমি কী বলব? যখন তাঁরা কেউই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন জবাব দিলেন না, তখন আমি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে আল্লাহর যথোপযুক্ত হাম্দ ও সানা পাঠ করলাম। এরপর বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি বলি যে, আমি এ কাজ করিনি এবং আমি যে সত্যবাদী এ সম্পর্কে আল্লাহ্ই সাক্ষী, তবে তা আপনাদের নিকট আমার কোন উপকারে আসবে না। কেননা, এ ব্যাপারটি আপনারা পরস্পরে বলাবলি করেছেন এবং তা আপনাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেছে। আর আমি যদি আপনাদের বলি, আমি তা করেছি অথচ আল্লাহ্ জানেন যে আমি এ কাজ করিনি, তবে আপনারা অবশ্যই বলবেন যে, সে তার নিজের দোষ নিজেই স্বীকার করেছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার এবং আপনাদের জন্য আর কোন দৃষ্টান্ত পাচ্ছি না। তখন আমি ইয়াকূব (আ.)-এর নাম স্মরণ করার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারিনি-তাই বললাম, যখন ইউসুফ (আঃ)-এর পিতার অবস্থা ব্যতীত, যখন তিনি বলেছিলেন, (তোমরা ইউসুফ সম্পর্কে যা বলছ তার প্রেক্ষিতে) পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যকারী। ঠিক এ সময়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ওয়াহী অবতীর্ণ হল। আমরা সবাই নীরব রইলাম। ওয়াহী শেষ হলে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় খুশীর নমুনা দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছতে মুছতে বলছিলেন, হে ‘আয়িশাহ! তোমার জন্য খোশখবর! আল্লাহ্ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আমি অত্যন্ত রাগান্বিত ছিলাম। আমার আববা ও আম্মা বললেন, ‘তুমি উঠে তাঁর কাছে যাও’, (এবং তার শুকরিয়া আদায় কর)। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তাঁর দিকে যাব না এবং তাঁর শুক্রিয়া আদায় করব না। আর আপনাদেরও শুক্রিয়া আদায় করব না। কিন্তু আমি একমাত্র আল্লাহর প্রশংসা করব, যিনি আমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। আপনারা (অপবাদ রটনা) শুনছেন কিন্তু তা অস্বীকার করেননি এবং তার পাল্টা ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) আরও বলেন, জয়নাব বিনতে জাহাশকে আল্লাহ্ তাঁর দ্বীনদারীর কারণে তাঁকে রক্ষা করেছেন। তিনি (আমার ব্যাপারে) ভাল ব্যতীত কিছুই বলেননি। কিন্তু তার বোন হামনা ধ্বংসপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিজেও ধ্বংস হল। যারা এই ব্যাপারে কটুক্তি করত তাদের মধ্যে ছিল মিস্তাহ্, হাস্সান ইবনু সাবিত এবং মুনাফিক ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই। সে-ই এ সংবাদ সংগ্রহ করে ছড়াত। আর পুরুষদের মধ্যে সে এবং হামনাই এ ব্যাপারে বিরাট ভূমিকা পালন করত। রাবী বলেন, তখন আবূ বাকর (রাঃ) কখনও মিসতাহ্কে কোন প্রকার উপকার করবেন না বলে কসম খেলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী অর্থাৎ (আবূ বাকর) তারা যেন কসম না করে যে তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে অর্থাৎ মিসতাহ্কে কিছুই দেবে না। তোমরা কি চাও না আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, হাঁ আল্লাহর কসম! হে আমাদের রব! আমরা অবশ্যই এ চাই যে, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) আবার মিস্তাহকে আগের মত আচরণ করতে লাগলেন।
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহ্ তা‘আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত ‘‘তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে’’ অবতীর্ণ করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকল। [৪৭৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
وقال احمد بن شبيب حدثنا ابي، عن يونس، قال ابن شهاب عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها قالت يرحم الله نساء المهاجرات الاول، لما انزل الله {وليضربن بخمرهن على جيوبهن} شققن مروطهن فاختمرن بها
সফীয়্যাহ বিনতে শাইবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন, যখন এ আয়াত ‘‘তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে’’ অবতীর্ণ হল তখন মুহাজির মহিলারা তাদের তহবন্দের পার্শ্ব ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল ঢাকতে লাগল। [৪৭৫৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا ابراهيم بن نافع، عن الحسن بن مسلم، عن صفية بنت شيبة، ان عايشة رضى الله عنها كانت تقول لما نزلت هذه الاية {وليضربن بخمرهن على جيوبهن} اخذن ازرهن فشققنها من قبل الحواشي فاختمرن بها
سُوْرَةُ الْفُرْقَانِ সূরাহ (২৫) : আল-ফুরক্বান وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (هَبَآءً مَّنْثُوْرًا) مَا تَسْفِيْ بِهِ الرِّيْحُ (مَدَّ الظِّلَّ) مَا بَيْنَ طُلُوْعِ الْفَجْرِ إِلَى طُلُوْعِ الشَّمْسِ (سَاكِنًا) دَائِمًا (عَلَيْهِ دَلِيْلًا) طُلُوْعُ الشَّمْسِ (خِلْفَةً) مَنْ فَاتَهُ مِنْ اللَّيْلِ عَمَلٌ أَدْرَكَهُ بِالنَّهَارِ أَوْ فَاتَهُ بِالنَّهَارِ أَدْرَكَهُ بِاللَّيْلِ وَقَالَ الْحَسَنُ (هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا) وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ فِيْ طَاعَةِ اللهِ وَمَا شَيْءٌ أَقَرَّ لِعَيْنِ الْمُؤْمِنِ مِنْ أَنْ يَرَى حَبِيْبَهُ فِيْ طَاعَةِ اللهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (ثُبُوْرًا) وَيْلًا وَقَالَ غَيْرُهُ (السَّعِيْرُ) مُذَكَّرٌ وَالتَّسَعُّرُ وَالْاضْطِرَامُ التَّوَقُّدُ الشَّدِيْدُ (تُمْلٰى عَلَيْهِ) تُقْرَأُ عَلَيْهِ مِنْ أَمْلَيْتُ وَأَمْلَلْتُ (الرَّسُّ) الْمَعْدِنُ جَمْعُهُ رِسَاسٌ (مَا يَعْبَأُ) يُقَالُ مَا عَبَأْتُ بِهِ شَيْئًا لَا يُعْتَدُّ بِهِ (غَرَامًا) هَلَاكًا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَعَتَوْا) طَغَوْا وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ (عَاتِيَةٍ) عَتَتْ عَنِ الْخَزَّانِ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَبَاءً مَنْثُوْرًا যা কিছু বাতাস উড়িয়ে নেয়। مَدَّ الظِّلَّ ফজরের উদয় থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়। سَاكِنًا উপরস্থিত। عَلَيْهِ دَلِيْلًا সূর্যোদয়। خِلْفَةً যার রাতের ‘আমল ছুটে যায়, সে তা দিনে আদায় করে আর যার দিনের কাজ ছুটে যায়, সে তা রাতে আদায় করে। হাসান বলেন, هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَاআল্লাহর আনুগত্যে; মু’মিনের চোখে এ ব্যতীত আর কিছু আনন্দদায়ক নয় যে, সে তার প্রিয়জনকে পায় আল্লাহর অনুগত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ثُبُوْرًا ধ্বংস। কেউ বলেন, السَّعِيْرُ পুংলিঙ্গ, এবং التَّسَعُّرُ ও الاضْطِرَامُ তীব্রভাবে, অগ্নি প্রজ্বলিত হওয়া। تُمْلٰى عَلَيْهِ তার প্রতি পড়া হয়। এ শব্দ أَمْلَيْتُ অথবা وَأَمْلَلْتُ থেকে নির্গত। الرَّسُّ খণি, এর বহুবচন رِسَاسٌ। مَا يَعْبَأُ যা গ্রাহ্য করা না হয়। غَرَامًا ধ্বংস। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, وَعَتَوْا তারা অবাধ্য হয়েছে। ইবনু ‘উয়াইনাহ বলেন, عَاتِيَةٍ নিয়ন্ত্রণকারীর নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন করেছে। (الَّذِيْنَ يُحْشَرُوْنَ عَلٰى وُجُوْهِهِمْ إِلٰى جَهَنَّمَ أُولٰٓئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّأَضَلُّ سَبِيْلًا) যাদেরকে নিজেদের মুখের উপর ভর করিয়ে জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, তাদেরই স্থান হবে নিকৃষ্ট এবং পথের দিক দিয়ে তারা হবে ভ্রষ্টতম। (সূরাহ ফুরক্বান ২৫/৩৪) ৪৭৬০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর নবী! কিয়ামতের দিন কাফেরদের মুখে ভর করে চলা অবস্থায় একত্রিত করা হবে? তিনি বললেন, যিনি এ দুনিয়ায় তাকে দু’পায়ের উপর চালাতে পারছেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখে ভর করে তাকে চালাতে পারবেন না? ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, নিশ্চয়ই, আমার রবের ইজ্জতের কসম! [৬৫২৩; মুসলিম ৫০/১১, হাঃ ২৮০৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(والذين لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إلٰهًا اٰخَرَ وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُوْنَ - وَمَنْ يَّفْعَلْ ذٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا لا) (الفرقان:68) আর তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন উপাস্যের ‘ইবাদাত করে না; আল্লাহ যার হত্যা হারাম করেছেন সঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে এরূপ করবে সে তো কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবেই। (সূরাহ ফুরক্বান ২৫/৬৮) ৪৭৬১. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, অথবা অন্য কেউ জিজ্ঞেস করলো, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ্ কোনটি? তিনি বললেন, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে। আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন,এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- ‘‘এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে আহবান করে না। আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।’’ [৪৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن سفيان، قال حدثني منصور، وسليمان، عن ابي وايل، عن ابي ميسرة، عن عبد الله،. قال وحدثني واصل، عن ابي وايل، عن عبد الله رضى الله عنه قال سالت او سيل رسول الله صلى الله عليه وسلم اى الذنب عند الله اكبر قال " ان تجعل لله ندا وهو خلقك ". قلت ثم اى قال " ثم ان تقتل ولدك خشية ان يطعم معك". قلت ثم اى قال " ان تزاني بحليلة جارك ". قال ونزلت هذه الاية تصديقا لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم {والذين لا يدعون مع الله الها اخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون}
কাসিম ইবনু আবূ বাযযা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, যদি কেউ কোন মু’মিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাবশতঃ হত্যা করে, তবে কি তার জন্য তাওবা আছে? আমি তাঁকে এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম عَلَيْهِ وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ‘‘আল্লাহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।’’ সা‘ঈদ (রাঃ) বললেন, তুমি যে আয়াত আমার সামনে পড়লে, আমিও এমনিভাবে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে এ আয়াত পড়েছিলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি মাক্কী। সূরাহ নিসার মধ্যে মাদানী আয়াতটি একে রহিত করে দিয়েছে। [৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام بن يوسف، ان ابن جريج، اخبرهم قال اخبرني القاسم بن ابي بزة، انه سال سعيد بن جبير هل لمن قتل مومنا متعمدا من توبة فقرات عليه {ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق}. فقال سعيد قراتها على ابن عباس كما قراتها على. فقال هذه مكية نسختها اية مدنية، التي في سورة النساء
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’মিনের হত্যার ব্যাপারে কূফাবাসী মতভেদে লিপ্ত হল। আমি (এ ব্যাপারে) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, (মু’মিনের হত্যা সম্পর্কিত) এ আয়াত সর্বশেষে অবতীর্ণ হয়েছে। একে অন্য কিছু রহিত করেনি।[1][৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن المغيرة بن النعمان، عن سعيد بن جبير، قال اختلف اهل الكوفة في قتل المومن، فرحلت فيه الى ابن عباس، فقال نزلت في اخر ما نزل ولم ينسخها شىء
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ (তাদের পরিণতি জাহান্নাম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তার জন্য তওবার সুযোগ নেই। এরপরে আমি আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًااٰخَرَ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে (নাযিল হয়েছে)।[৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا منصور، عن سعيد بن جبير، قال سالت ابن عباس رضى الله عنهما عن قوله تعالى {فجزاوه جهنم} قال لا توبة له. وعن قوله جل ذكره {لا يدعون مع الله الها اخر} قال كانت هذه في الجاهلية
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আবযা (রাঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম’’ এবং আল্লাহর এ বাণীঃ ‘‘এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত, তারা তাকে হত্যা করে না’’ এবং ‘‘কিন্তু যারা তওবা করে’’ পর্যন্ত সম্পর্কে। আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি উত্তরে বললেন, যখন এ আয়াত নাযিল হল তখন মক্কা্বাসী বলল, আমরা আল্লাহর সাথে শারীক করেছি, আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করেছি এবং আমরা অশ্লীল কার্যে লিপ্ত হয়েছি। তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ‘‘যারা তওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।’’ إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا থেকে غَفُوْرًا رَّحِيْمًا পর্যন্ত। [৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعد بن حفص، حدثنا شيبان، عن منصور، عن سعيد بن جبير، قال قال ابن ابزى سل ابن عباس عن قوله تعالى {ومن يقتل مومنا متعمدا فجزاوه جهنم} وقوله {لا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق} حتى بلغ {الا من تاب} فسالته فقال لما نزلت قال اهل مكة فقد عدلنا بالله وقتلنا النفس التي حرم الله الا بالحق واتينا الفواحش، فانزل الله {الا من تاب وامن وعمل عملا صالحا} الى قوله {غفورا رحيما}
(إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولٰٓئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ ط وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا). ‘‘তবে তারা নয় যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে; আল্লাহ এরূপ লোকের পাপসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরাহ ফুরক্বান ২৫/৭০) ৪৭৬৬. সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আব্যা (রাঃ) আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এ দু’টি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا আমি তাকে (এ আয়াত সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, এ আয়াতকে অন্য কিছু মানসূখ করেনি এবং وَالَّذِيْنَ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًااٰخَرَ সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম, তিনি [‘আব্বাস (রাঃ)] বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। [৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، اخبرنا ابي، عن شعبة، عن منصور، عن سعيد بن جبير، قال امرني عبد الرحمن بن ابزى ان اسال ابن عباس، عن هاتين الايتين، {ومن يقتل مومنا متعمدا}، فسالته فقال لم ينسخها شىء. وعن {والذين لا يدعون مع الله الها اخر} قال نزلت في اهل الشرك
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচটি ঘটনা ঘটে গেছে ধূম্রাচ্ছন্ন, চন্দ্র খন্ডিত হওয়া, রোমানদের পরাজিত হওয়া, প্রবলভাবে পাকড়াও এবং ধ্বংস হওয়া।لِزَامًا ধ্বংস। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثنا مسلم، عن مسروق، قال قال عبد الله خمس قد مضين الدخان والقمر والروم والبطشة واللزام {فسوف يكون لزاما}
سُوْرَةُ الشُّعَرَاءِ সূরাহ (২৬) : শু‘আরা وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَعْبَثُوْنَ) تَبْنُوْنَ (هَضِيْمٌ) يَتَفَتَّتُ إِذَا مُسَّ (مُسَحَّرِيْنَ) الْمَسْحُوْرِيْنَ (اللَّيْكَةُ) وَ(الأَيْكَةُ) جَمْعُ أَيْكَةٍ وَهِيَ جَمْعُ شَجَرٍ (يَوْمِالظُّلَّةِ) إِظْلَالُ الْعَذَابِ إِيَّاهُمْ (مَوْزُوْنٍ) مَعْلُوْمٍ (كَالطَّوْدِ) كَالْجَبَلِ وَقَالَ غَيْرُهُ (لَشِرْذِمَةٌ) الشِّرْذِمَةُ طَائِفَةٌ قَلِيْلَةٌ (فِي السَّاجِدِيْنَ) الْمُصَلِّيْنَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ) كَأَنَّكُمْ (الرِّيعُ) الْأَيْفَاعُ مِنَ الْأَرْضِ وَجَمْعُهُ رِيَعَةٌ وَأَرْيَاعٌ وَاحِدُهُ رِيْعَةٌ (مَصَانِعَ) كُلُّ بِنَاءٍ فَهُوَ مَصْنَعَةٌ (فَرِهِيْنَ) مَرِحِيْنَ فَارِهِيْنَ بِمَعْنَاهُ وَيُقَالُ فَارِهِيْنَ حَاذِقِيْنَ (تَعْثَوْا) هُوَ أَشَدُّ الْفَسَادِ عَاثَ يَعِيْثُ عَيْثًا (الْجِبِلَّةَ) الْخَلْقُ جُبِلَ خُلِقَ وَمِنْهُ جُبُلًا وَجِبِلًا وَجُبْلًا يَعْنِي الْخَلْقَ قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন-تَعْبَثُوْنَ তোমরা নির্মাণ করে থাক। هَضِيْمٌ স্পর্শ করা মাত্রই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। مُسَحَّرِيْنَ জাদুগ্রস্ত। اللَّيْكَةُ ও الأَيْكَةُ أَيْكَةٍ এর বহুবচন যার অর্থ বৃক্ষে পরিপূর্ণ। يَوْمِالظُّلَّةِ যেদিনে শাস্তি তাদের ছেয়ে ফেলবে। مَوْزُوْنٍ জ্ঞাত। كَالطَّوْدِ পর্বতের ন্যায়। অন্যরা বলেন, الَشِرْذِمَةٌ ছোট দল। فِيالسَّاجِدِيْنَ সালাত আদায়কারী। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ যেন তোমরা স্থায়ী থাকবে। الرِّيعُযমীনের উঁচু অংশ। এর বহুবচন رِيَعَةٌএবং أَرْيَاعٌতার একবচনرِيْعَةٌ।مَصَانِعَপ্রত্যেক ইমারতকে مَصْنَعَةٌ বলা হয়। فَرِهِيْنَ অহংকারীরা। مَرِحِيْنَفَارِهِيْنَ একই অর্থের। فَارِهِيْنَ বলা হয় দক্ষদের। تَعْثَوْا ভয়ঙ্কর ফ্যাসাদ। এটি يَا দ্বারাও ব্যবহৃত হয়। যথা-عَاثَيَعِيْثُعَيْثًا। الْجِبِلَّةَ সৃষ্টি جُبِلَ এর অর্থ-সৃষ্টি করা হয়েছে। جُبُلًا وَجِبِلًا وَجُبْلًا সবগুলোর অর্থ সৃষ্টি। ৪৭৬৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে ধূলি-মলিন অবস্থায় দেখতে পাবেন। الْغَبَرَةُ ধূলি-ময়লা। [৩৩৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
وقال ابراهيم بن طهمان عن ابن ابي ذيب، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابيه، عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان ابراهيم عليه الصلاة والسلام راى اباه يوم القيامة عليه الغبرة والقترة ". الغبرة هي القترة
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (হাশরের ময়দানে ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতার সাক্ষাৎ পেয়ে বলবেন, ইয়া রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়া‘দা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, আমি কাফিরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। [৩৩৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، حدثنا اخي، عن ابن ابي ذيب، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " يلقى ابراهيم اباه فيقول يا رب انك وعدتني ان لا تخزني يوم يبعثون فيقول الله اني حرمت الجنة على الكافرين
اخْفِضْ جَنَاحَكَ ‘‘তোমার পার্শ্ব নম্র রাখ। ৪৭৭০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং আহবান জানালেন, হে বানী ফিহর! হে বানী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা জমায়েত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্রুসৈন্য উপত্যকায় চলে এসেছে, তারা তোমাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করতে প্রস্তুত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, ‘‘আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি।’’ আবূ লাহাব [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস নামুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের জমায়েত করেছ? তখন অবতীর্ণ হল, ‘‘ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের হস্ত দু’টি এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও তার অর্জন তার কোন উপকারে লাগেনি।’’ [১৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، قال حدثني عمرو بن مرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال لما نزلت {وانذر عشيرتك الاقربين} صعد النبي صلى الله عليه وسلم على الصفا فجعل ينادي " يا بني فهر، يا بني عدي ". لبطون قريش حتى اجتمعوا، فجعل الرجل اذا لم يستطع ان يخرج ارسل رسولا لينظر ما هو، فجاء ابو لهب وقريش فقال " ارايتكم لو اخبرتكم ان خيلا بالوادي تريد ان تغير عليكم، اكنتم مصدقي ". قالوا نعم، ما جربنا عليك الا صدقا. قال " فاني نذير لكم بين يدى عذاب شديد ". فقال ابو لهب تبا لك ساير اليوم، الهذا جمعتنا فنزلت {تبت يدا ابي لهب وتب * ما اغنى عنه ماله وما كسب}
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ (তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক কর) এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! অথবা অনুরূপ বাক্য, নিজেদের কিনে নাও। আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে বানী আব্দে মানাফ! আল্লাহর নিকট আমি তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে ‘আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর নিকট তোমার কোনই উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সফীয়্যাহ! আমি তোমার কোনই উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছে চাও, কিন্তু আল্লাহর নিকট আমি তোমার কোনই উপকারে আসব না। আস্বাগ (রহ.).....ইবনু শিহাব (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [২৭৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سعيد بن المسيب، وابو سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة، قال قام رسول الله صلى الله عليه وسلم حين انزل الله {وانذر عشيرتك الاقربين} قال " يا معشر قريش او كلمة نحوها اشتروا انفسكم، لا اغني عنكم من الله شييا، يا بني عبد مناف، لا اغني عنكم من الله شييا، يا عباس بن عبد المطلب، لا اغني عنك من الله شييا، ويا صفية عمة رسول الله، لا اغني عنك من الله شييا ويا فاطمة بنت محمد سليني ما شيت من مالي، لا اغني عنك من الله شييا ". تابعه اصبغ عن ابن وهب عن يونس عن ابن شهاب
سُوْرَةُ النَّمْلِ সূরাহ (২৭) : নামল (وَالْخَبْءُ) مَا خَبَأْتَ (لَا قِبَلَ لَهُمْ) لَا طَاقَةَ (الصَّرْحُ) كُلُّ مِلَاطٍ اتُّخِذَ مِنَ الْقَوَارِيْرِ وَالصَّرْحُ الْقَصْرُ وَجَمَاعَتُهُ صُرُوْحٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (وَلَهَا عَرْشٌ) سَرِيْرٌ كَرِيْمٌ حُسْنُ الصَّنْعَةِ وَغَلَاءُ الثَّمَنِ (يَأْتُوْنِيْ مُسْلِمِيْنَ) طَائِعِيْنَ (رَدِفَ) اقْتَرَبَ (جَامِدَةً) قَائِمَةً (أَوْزِعْنِي) اجْعَلْنِيْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (نَكِّرُوْا) غَيِّرُوْا (وَأُوْتِيْنَا) الْعِلْمَ يَقُوْلُهُ سُلَيْمَانُ (الصَّرْحُ) بِرْكَةُ مَاءٍ ضَرَبَ عَلَيْهَا سُلَيْمَانُ قَوَارِيْرَ أَلْبَسَهَا إِيَّاهُ. وَالْخَبْءُ যা তুমি গোপন কর। لَا قِبَلَ لَهُمْ তাদের কোন শক্তি নেই।[1] الصَّرْحُ কাঁচ মিশ্রিত গারা এবং الصَّرْحُ প্রাসাদকেও বলা হয়। এর বহুবচন صُرُوْحٌ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَلَهَا عَرْشٌ তার সিংহাসন অতি সম্মানিত, শিল্প কর্মে উত্তম এবং বহু মূল্যবান। يَأْتُوْنِيْ مُسْلِمِيْنَ অনুগত হয়ে আমার নিকট আসবে। رَدِفَ নিকটবর্তী হয়েছে। جَامِدَةً স্থির। أَوْزِعْنِيْ আমাকে বানিয়ে দাও। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, نَكِّرُوْا পরিবর্তন করে দাও। وَأُوْتِيْنَا (আমাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে) এ কথা সুলাইমান (আঃ) বলেন, الصَّرْحُ পানির একটি হাউয। সুলাইমান (আঃ) সেটি কাঁচ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। (28) سُوْرَةُ الْقَصَصِ সূরাহ (২৮) : ক্বাসাস يُقَالَ (كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَه”) إِلَّا مُلْكَهُ وَيُقَالُ إِلَّا مَا أُرِيْدَ بِهِ وَجْهُ اللهِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمْ (الأَنْبَآءُ) الْحُجَجُ. আল্লাহর চেহারা ব্যতীত সব কিছু ধ্বংস হবে। ইমাম বুখারী বলেছেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাঁর রাজত্ব [2] ব্যতীত এবং এও বলা হয়েছে যে, যে ‘আমল দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য তা ব্যতীত সবই ধ্বংস হবে। অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে। মুজাহিদ (রহ.) الْأَنْبَاءُ শব্দের অর্থ বলেছেন প্রমাণাদি। ৪৭৭২. মুসাইয়্যাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু নিকটবর্তী হল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ‘উমাইয়াহ ইবনু মুগীরাহ্কে পেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি বলুন ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।’’ এ ‘কালেমা’ দ্বারা আমি আপনার জন্য কিয়ামতে আল্লাহর কাছে ওযর পেশ করতে পারব। আবূ জাহল এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ‘উমাইয়াহ বলল, তুমি কি ‘আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার তার কাছে এ ‘কালিমা’ পেশ করতেই থাকলেন। আর তারা তাদের কথা বারবার বলেই চলল। অবশেষে আবূ তালিব তাঁদের সঙ্গে সর্বশেষ এ কথা বললেন, আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপর আছি, এবং কালিমা ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’’ পাঠ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমাকে নিষেধ না করা অবধি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতেই থাকব। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, নবী ও মু’মিনদের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ তালিব সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করে আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, ‘‘তুমি যাকে ভালবাস তাকেই সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।’’ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন أُوْلِي الْقُوَّة লোকের একটি দল সে চাবিগুলো বহন করতে সক্ষম ছিল না। لَتَنُوْءُবহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। فَارِغًا মূসা (আঃ)-এর স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে খালি ছিল। الْفَرِحِيْنَ দম্ভকারীরা! قُصِّيْهِ তার চিহ্ন অনুসরণ কর। কথার বর্ণনা অর্থেও প্রয়োগ হয়। نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَعَنْ جُنُبٍ এখানে جُنُبٍ অর্থ দূর থেকে। عَنْ جَنَابَةٍ، عَنْ اجْتِنَابٍ এর একই অর্থবোধক।يَبْطِشُـــيَبْطُشُ উভয়ই পড়া হয়। يَأْتَمِرُوْنَ পরস্পর পরামর্শ করছে। ـ وَالْعَدَاءُ وَالتَّعَدِّيْ (শব্দ তিনটির) অর্থ একই ; সীমা অতিক্রম করা। آنَسَ দেখা الْجِذْوَةُ কাঠের মোটা টুকরা যাতে শিখা নেই। الشِّهَابُ যাতে শিখা আছে। الْحَيَّاتُবহু প্রকার সাপ; যেমন, চিকন জাতি, অজগর, কালনাগ (ইত্যাদি) رِدْءًا সাহায্যকারী। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُصَدِّقُنِيْ (তিনি قاف-কে পেশ দিয়ে পড়েন। অন্য হতে বর্ণিত سَنَشُدُّ আমরা শীঘ্র তোমাকে সাহায্য করব। যখন তুমি কোন জিনিসকে শক্তিশালী করলে, তখন তুমি যেন তার জন্য বাহুবল প্রদান করলে। যখন আরবগণ কাউকে সাহায্য করেন তখন বলে থাকেন جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا (বাহুবল প্রদান করলে) مَقْبُوْحِيْنَ ধ্বংসপ্রাপ্ত। وَصَّلْنَا আমি বর্ণনা করেছি; আমি তা পূর্ণ করেছি। يُجْبَى আমদানি করা হয়। بَطِرَتْ দম্ভ করল। فِيْ أُمِّهَا رَسُوْلًا মক্কা এবং তার চতুষ্পার্শকে বলা হয়। تُكِنُّ গোপন করছ। আরবগণ বলে থাকেন أَكْنَنْتُ الشَّيْءَ আমি তা গোপন করেছি। كَنَنْتُهُ আমি তা লুকিয়েছি; আমি প্রকাশ করেছি। وَيْكَأَنَّ اللهَ আর أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللهَ সমার্থক (তারা কি দেখেনি?) يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِر আল্লাহ্ যার জন্য চান খাদ্য প্রসারিত করে দেন, আর যার থেকে চান সংকুচিত করে দেন। [১৩৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَرَآدُّكَ إِلٰى مَعَادٍ এর অর্থ মক্কার পানে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا يعلى، حدثنا سفيان العصفري، عن عكرمة، عن ابن عباس، {لرادك الى معاد} قال الى مكة
وقال ابو اسامة عن هشام بن عروة، قال اخبرني ابي، عن عايشة، قالت لما ذكر من شاني الذي ذكر وما علمت به قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطيبا، فتشهد فحمد الله واثنى عليه بما هو اهله، ثم قال " اما بعد اشيروا على في اناس ابنوا اهلي، وايم الله ما علمت على اهلي من سوء، وابنوهم بمن والله ما علمت عليه من سوء قط، ولا يدخل بيتي قط الا وانا حاضر، ولا غبت في سفر الا غاب معي ". فقام سعد بن معاذ فقال ايذن لي يا رسول الله ان نضرب اعناقهم، وقام رجل من بني الخزرج، وكانت ام حسان بن ثابت من رهط ذلك الرجل، فقال كذبت، اما والله، ان لو كانوا من الاوس ما احببت ان تضرب اعناقهم. حتى كاد ان يكون بين الاوس والخزرج شر في المسجد، وما علمت فلما كان مساء ذلك اليوم خرجت لبعض حاجتي ومعي ام مسطح. فعثرت وقالت تعس مسطح. فقلت اى ام تسبين ابنك وسكتت ثم عثرت الثانية فقالت تعس مسطح، فقلت لها تسبين ابنك ثم عثرت الثالثة فقالت تعس مسطح. فانتهرتها، فقالت والله ما اسبه الا فيك. فقلت في اى شاني قالت فبقرت لي الحديث فقلت وقد كان هذا قالت نعم والله، فرجعت الى بيتي كان الذي خرجت له لا اجد منه قليلا ولا كثيرا، ووعكت فقلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ارسلني الى بيت ابي. فارسل معي الغلام، فدخلت الدار فوجدت ام رومان في السفل وابا بكر فوق البيت يقرا. فقالت امي ما جاء بك يا بنية فاخبرتها وذكرت لها الحديث، واذا هو لم يبلغ منها مثل ما بلغ مني، فقالت يا بنية خفضي عليك الشان، فانه والله، لقلما كانت امراة حسناء عند رجل يحبها، لها ضراير، الا حسدنها وقيل فيها. واذا هو لم يبلغ منها ما بلغ مني، قلت وقد علم به ابي قالت نعم. قلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم ورسول الله صلى الله عليه وسلم واستعبرت وبكيت، فسمع ابو بكر صوتي وهو فوق البيت يقرا، فنزل فقال لامي ما شانها قالت بلغها الذي ذكر من شانها. ففاضت عيناه، قال اقسمت عليك اى بنية الا رجعت الى بيتك، فرجعت ولقد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بيتي، فسال عني خادمتي فقالت لا والله ما علمت عليها عيبا الا انها كانت ترقد حتى تدخل الشاة فتاكل خميرها او عجينها. وانتهرها بعض اصحابه فقال اصدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اسقطوا لها به فقالت سبحان الله، والله ما علمت عليها الا ما يعلم الصايغ على تبر الذهب الاحمر. وبلغ الامر الى ذلك الرجل الذي قيل له، فقال سبحان الله والله ما كشفت كنف انثى قط. قالت عايشة فقتل شهيدا في سبيل الله. قالت واصبح ابواى عندي، فلم يزالا حتى دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد صلى العصر، ثم دخل وقد اكتنفني ابواى عن يميني وعن شمالي، فحمد الله واثنى عليه ثم قال " اما بعد يا عايشة، ان كنت قارفت سوءا او ظلمت، فتوبي الى الله، فان الله يقبل التوبة من عباده ". قالت وقد جاءت امراة من الانصار فهى جالسة بالباب فقلت الا تستحي من هذه المراة ان تذكر شييا. فوعظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فالتفت الى ابي فقلت اجبه. قال فماذا اقول فالتفت الى امي فقلت اجيبيه. فقالت اقول ماذا فلما لم يجيباه تشهدت فحمدت الله واثنيت عليه بما هو اهله، ثم قلت اما بعد فوالله لين قلت لكم اني لم افعل. والله عز وجل يشهد اني لصادقة، ما ذاك بنافعي عندكم، لقد تكلمتم به واشربته قلوبكم، وان قلت اني فعلت. والله يعلم اني لم افعل، لتقولن قد باءت به على نفسها، واني والله ما اجد لي ولكم مثلا والتمست اسم يعقوب فلم اقدر عليه الا ابا يوسف حين قال {فصبر جميل والله المستعان على ما تصفون} وانزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم من ساعته فسكتنا، فرفع عنه واني لاتبين السرور في وجهه وهو يمسح جبينه ويقول " ابشري يا عايشة، فقد انزل الله براءتك ". قالت وكنت اشد ما كنت غضبا فقال لي ابواى قومي اليه. فقلت والله لا اقوم اليه، ولا احمده ولا احمدكما، ولكن احمد الله الذي انزل براءتي، لقد سمعتموه، فما انكرتموه ولا غيرتموه، وكانت عايشة تقول اما زينب ابنة جحش فعصمها الله بدينها، فلم تقل الا خيرا، واما اختها حمنة فهلكت فيمن هلك، وكان الذي يتكلم فيه مسطح وحسان بن ثابت والمنافق عبد الله بن ابى، وهو الذي كان يستوشيه ويجمعه، وهو الذي تولى كبره منهم هو وحمنة قالت فحلف ابو بكر ان لا ينفع مسطحا بنافعة ابدا، فانزل الله عز وجل {ولا ياتل اولو الفضل منكم} الى اخر الاية يعني ابا بكر vوالسعة ان يوتوا اولي القربى والمساكين} يعني مسطحا الى قوله {الا تحبون ان يغفر الله لكم والله غفور رحيم} حتى قال ابو بكر بلى والله يا ربنا انا لنحب ان تغفر لنا، وعاد له بما كان يصنع
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا يونس بن محمد البغدادي، حدثنا شيبان، عن قتادة، حدثنا انس بن مالك رضى الله عنه . ان رجلا، قال يا نبي الله يحشر الكافر على وجهه يوم القيامة قال " اليس الذي امشاه على الرجلين في الدنيا قادرا على ان يمشيه على وجهه يوم القيامة ". قال قتادة بلى وعزة ربنا
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سعيد بن المسيب، عن ابيه، قال لما حضرت ابا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد عنده ابا جهل وعبد الله بن ابي امية بن المغيرة، فقال " اى عم قل لا اله الا الله، كلمة احاج لك بها عند الله ". فقال ابو جهل وعبد الله بن ابي امية اترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرضها عليه، ويعيدانه بتلك المقالة حتى قال ابو طالب اخر ما كلمهم على ملة عبد المطلب، وابى ان يقول لا اله الا الله. قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " والله لاستغفرن لك ما لم انه عنك ". فانزل الله {ما كان للنبي والذين امنوا ان يستغفروا للمشركين} وانزل الله في ابي طالب، فقال لرسول الله صلى الله عليه وسلم {انك لا تهدي من احببت ولكن الله يهدي من يشاء}. قال ابن عباس {اولي القوة} لا يرفعها العصبة من الرجال. {لتنوء} لتثقل. {فارغا} الا من ذكر موسى. {الفرحين} المرحين. {قصيه} اتبعي اثره، وقد يكون ان يقص الكلام {نحن نقص عليك}. {عن جنب} عن بعد عن جنابة واحد، وعن اجتناب ايضا، يبطش ويبطش. {ياتمرون} يتشاورون. العدوان والعداء والتعدي واحد. {انس} ابصر. الجذوة قطعة غليظة من الخشب، ليس فيها لهب، والشهاب فيه لهب. والحيات اجناس الجان والافاعي والاساود. {ردءا} معينا. قال ابن عباس {يصدقني} وقال غيره {سنشد} سنعينك كلما عززت شييا فقد جعلت له عضدا. مقبوحين مهلكين. {وصلنا} بيناه واتممناه. {يجبى} يجلب .{بطرت} اشرت. {في امها رسولا} ام القرى مكة وما حولها. {تكن} تخفي. اكننت الشىء اخفيته، وكننته اخفيته واظهرته. {ويكان الله} مثل الم تر ان الله {يبسط الرزق لمن يشاء ويقدر} يوسع عليه ويضيق عليه