Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম। তখন বিলাল (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পূরণ করবেন না? তিনি তাঁকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল, সুসংবাদ গ্রহণ কর কথাটি তো আপনি আমাকে অনেকবারই বলেছেন। তখন তিনি ক্রোধ ভরে আবূ মূসা ও বিলাল (রাঃ)-এর দিকে ফিরে বললেন, লোকটি সুসংবাদ ফিরিয়ে দিয়েছে। তোমরা দু’জন তা গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি পানির একটি পাত্র আনতে বললেন। তিনি এর মধ্যে নিজের উভয় হাত ও মুখমন্ডল ধুয়ে কুল্লি করলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়ে এ থেকে পান করো এবং নিজেদের মুখমন্ডল ও বুকে ছিটিয়ে দাও। আর সুসংবাদ গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে পাত্রটি তুলে নিয়ে নির্দেশ মত কাজ করলেন। এমন সময় উম্মু সালামাহ (রাঃ) পর্দার আড়াল থেকে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্যও অতিরিক্ত কিছু রাখ। কাজেই তাঁরা এ থেকে অতিরিক্ত কিছু তাঁর [উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর] জন্য রাখলেন। [১৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، عن بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى رضى الله عنه قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم وهو نازل بالجعرانة بين مكة والمدينة ومعه بلال، فاتى النبي صلى الله عليه وسلم اعرابي فقال الا تنجز لي ما وعدتني. فقال له " ابشر ". فقال قد اكثرت على من ابشر. فاقبل على ابي موسى وبلال كهيية الغضبان فقال " رد البشرى فاقبلا انتما ". قالا قبلنا. ثم دعا بقدح فيه ماء فغسل يديه ووجهه فيه، ومج فيه، ثم قال " اشربا منه، وافرغا على وجوهكما ونحوركما، وابشرا ". فاخذا القدح ففعلا، فنادت ام سلمة من وراء الستر ان افضلا لامكما. فافضلا لها منه طايفة
সাফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়া (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইয়া‘লা (রাঃ) বলতেন যে, আহা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার মুহূর্তে যদি তাঁকে দেখতে পেতাম। ইয়া‘লা (রাঃ) বলেন, ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি’রানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাঁর উপর একটি কাপড় টানিয়ে ছায়া করে দেয়া হয়েছিল। আর সেখানে তাঁর সঙ্গে তাঁর কতিপয় সাহাবীও ছিলেন। এমন সময় তাঁর কাছে এক বেদুঈন আসল। তার গায়ে ছিল একটি খুশবু মাখানো জোববা। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে গায়ে খুশবু মাখানো জোববা পরিধান ক’রে ‘উমরাহ্ আদায়ের জন্য ইহরাম বেঁধেছে? (এমন সময়) ‘উমার (রাঃ) হাত দিয়ে ইশারা করে ইয়া‘লা (রাঃ)-কে আসতে বললেন। ইয়া‘লা (রাঃ) এলে ‘উমার (রাঃ) তাঁর মাথাটি (কাপড়ের ছায়ায়) ঢুকিয়ে দিলেন। [তখন তিনি ইয়া‘লা (রাঃ) দেখতে পেলেন যে] নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা লাল বর্ণ হয়ে রয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাস জোরে চলছে। এ অবস্থা কিছুক্ষণ পর্যন্ত ছিল, তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এল। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে লোকটি কোথায়, কিছুক্ষণ আগে যে আমাকে ‘‘উমরাহর বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল। লোকটিকে খুঁজে আনা হলে তিনি বললেনঃ তোমার গায়ে যে খুশবু রয়েছে তা তুমি তিনবার ধুয়ে ফেল এবং জোববাটি খুলে ফেল। তারপর হাজ্জ পালনে যা কর, ‘উমরাহ্তেও সেগুলোই কর। [১৫৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا اسماعيل، حدثنا ابن جريج، قال اخبرني عطاء، ان صفوان بن يعلى بن امية، اخبر ان يعلى كان يقول ليتني ارى رسول الله صلى الله عليه وسلم حين ينزل عليه. قال فبينا النبي صلى الله عليه وسلم بالجعرانة وعليه ثوب قد اظل به، معه فيه ناس من اصحابه، اذ جاءه اعرابي عليه جبة متضمخ بطيب فقال يا رسول الله كيف ترى في رجل احرم بعمرة في جبة بعد ما تضمخ بالطيب فاشار عمر الى يعلى بيده ان تعال. فجاء يعلى فادخل راسه، فاذا النبي صلى الله عليه وسلم محمر الوجه، يغط كذلك ساعة، ثم سري عنه فقال " اين الذي يسالني عن العمرة انفا ". فالتمس الرجل فاتي به فقال " اما الطيب الذي بك فاغسله ثلاث مرات، واما الجبة فانزعها، ثم اصنع في عمرتك كما تصنع في حجك
‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিবসে আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন তখন তিনি ঐগুলো সেসব মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন যাদের হৃদয়কে ঈমানের উপর সুদৃঢ় করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেছিলেন। আর আনসারগণকে কিছুই দিলেন না। ফলে তাঁরা যেন নাখোশ হয়ে গেলেন। কেননা অন্যেরা যা পেয়েছে তাঁরা তা পাননি। অথবা তিনি বলেছেনঃ তাঁরা যেন দুঃখিত হয়ে গেলেন। কেননা অন্যোরা যা পেয়েছে তারা তা পাননি। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে আনসারগণ! আমি কি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট পাইনি, অতঃপর আল্লাহ আমার দ্বারা তোমাদের হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা ছিলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে পরস্পরকে জুড়ে দিয়েছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এভাবে যখনই তিনি কোন কথা বলেছেন তখন আনসারগণ জবাবে বলেছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহ্সানকারী। তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাসূলের জবাব দিতে তোমাদেরকে বাধা দিচ্ছে কিসে? তাঁরা তখনও তিনি যা কিছু বলছেন তার উত্তরে বলে যাচ্ছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহ্সানকারী। তিনি বললেন, তোমরা ইচ্ছা করলে বলতে পার যে, আপনি আমাদের কাছে এমন এমন (সংকটময়) সময়ে এসেছিলেন কিন্তু তোমরা কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক বকরী ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর নবীকে সঙ্গে নিয়ে। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে হিজরাত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত না থাকত তা হলে আমি আনসারদের মধ্যকারই একজন থাকতাম। যদি লোকজন কোন উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে তা হলে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব। আনসারগণ হল (নাববী) ভিতরের পোশাক আর অন্যান্য লোক হল উপরের পোশাক। আমার বিদায়ের পর অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে অন্যদের অগ্রাধিকার। তখন ধৈর্য ধারণ করবে (দ্বীনের উপর টিকে থাকবে) যে পর্যন্ত না তোমরা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর। [৭২৪৫; মুসলিম ১২/৪৬, হাঃ ১০৬১, আহমাদ ১৬৪৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، حدثنا عمرو بن يحيى، عن عباد بن تميم، عن عبد الله بن زيد بن عاصم، قال لما افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم يوم حنين قسم في الناس في المولفة قلوبهم، ولم يعط الانصار شييا، فكانهم وجدوا اذ لم يصبهم ما اصاب الناس فخطبهم فقال " يا معشر الانصار الم اجدكم ضلالا فهداكم الله بي، وكنتم متفرقين فالفكم الله بي وعالة، فاغناكم الله بي ". كلما قال شييا قالوا الله ورسوله امن. قال " ما يمنعكم ان تجيبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ". قال كلما قال شييا قالوا الله ورسوله امن. قال " لو شيتم قلتم جيتنا كذا وكذا. اترضون ان يذهب الناس بالشاة والبعير، وتذهبون بالنبي صلى الله عليه وسلم الى رحالكم، لولا الهجرة لكنت امرا من الانصار، ولو سلك الناس واديا وشعبا لسلكت وادي الانصار وشعبها، الانصار شعار والناس دثار، انكم ستلقون بعدي اثرة فاصبروا حتى تلقوني على الحوض
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাওয়াযিন গোত্রের সম্পদ থেকে গানীমাত হিসেবে যতটুকু দান করতে চেয়েছেন দান করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় লোককে একশ‘ করে উট দান করলেন। (এ অবস্থা দেখে) আনসারদের কিছুসংখ্যক লোক বলে ফেললেন, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন, তিনি কুরায়শদেরকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে বাদ দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তলোয়ার থেকে এখনো তাদের রক্ত টপটপ করে পড়ছে। আনাস (রাঃ) বলেন, তাঁদের একটি চামড়ার তৈরি তাঁবুতে জমায়েত করলেন এবং তাঁরা ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে অনুমতি দিলেন না। এরপর তাঁরা সবাই জমায়েত হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের নিকট হতে কী কথা আমার নিকট পৌঁছল? আনসারদের জ্ঞানীগুণী লোকেরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নেতৃস্থানীয় কেউ তো কিছু বলেনি, তবে আমাদের কতিপয় কমবয়সী লোকেরা বলেছে য, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে কুরাইশদেরকে (গানীমাতের মাল) দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তরবারিগুলো থেকে এখনো তাদের রক্ত টপটপ করে পড়ছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি অবশ্য এমন কিছু লোককে দিচ্ছি যারা সবেমাত্র কুফর ত্যাগ করে ইসলামে প্রবেশ করেছে। আর তা এ জন্যে যেন তাদের মনকে আমি ঈমানের উপর সুদৃঢ় করতে পারি। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক ফিরে যাবে ধন-সম্পদ নিয়ে আর তোমরা বাড়ি ফিরে যাবে (আল্লাহর) নবীকে সঙ্গে নিয়ে? আল্লাহর কসম! তোমরা যে জিনিস নিয়ে ফিরে যাবে তা অনেক উত্তম ঐ ধন-সম্পদ অপেক্ষা, যা নিয়ে তারা ফিরে যাবে। আনসারগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, অচিরেই তোমরা (নিজেদের উপর) অন্যদের প্রবল অগ্রাধিকার দেখতে পাবে। অতএব, (আমার মৃত্যুর পর) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে। আমি হাউজে কাউসারের নিকট থাকব। আনাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু তাঁরা (আনসাররা) ধৈর্যধারণ করেননি। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الله بن محمد، حدثنا هشام، اخبرنا معمر، عن الزهري، قال اخبرني انس بن مالك رضى الله عنه قال قال ناس من الانصار حين افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم ما افاء من اموال هوازن، فطفق النبي صلى الله عليه وسلم يعطي رجالا الماية من الابل فقالوا يغفر الله لرسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي قريشا ويتركنا، وسيوفنا تقطر من دمايهم. قال انس فحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم بمقالتهم، فارسل الى الانصار فجمعهم في قبة من ادم ولم يدع معهم غيرهم، فلما اجتمعوا قام النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ما حديث بلغني عنكم ". فقال فقهاء الانصار اما روساونا يا رسول الله فلم يقولوا شييا، واما ناس منا حديثة اسنانهم فقالوا يغفر الله لرسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي قريشا ويتركنا، وسيوفنا تقطر من دمايهم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فاني اعطي رجالا حديثي عهد بكفر، اتالفهم، اما ترضون ان يذهب الناس بالاموال وتذهبون بالنبي صلى الله عليه وسلم الى رحالكم، فوالله لما تنقلبون به خير مما ينقلبون به ". قالوا يا رسول الله قد رضينا. فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم " ستجدون اثرة شديدة، فاصبروا حتى تلقوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم فاني على الحوض ". قال انس فلم يصبروا
আনাস (ইবনু মালিক) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের মধ্যে গানীমাতের মাল বণ্টন করে দিলেন। এতে আনসারগণ নাখোশ হয়ে গেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকজন পার্থিব সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ফিরবে? তাঁরা উত্তর দিলেন, অবশ্যই (আমার সন্তুষ্ট)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি লোকজন কোন উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে তা হলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলব। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا شعبة، عن ابي التياح، عن انس، قال لما كان يوم فتح مكة قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم غنايم بين قريش. فغضبت الانصار قال النبي صلى الله عليه وسلم " اما ترضون ان يذهب الناس بالدنيا، وتذهبون برسول الله صلى الله عليه وسلم ". قالوا بلى. قال " لو سلك الناس واديا او شعبا لسلكت وادي الانصار او شعبهم
আনাস (ইবনু মালিক) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়ন[1]-এর দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওয়াযিন গোত্রের মুখোমুখী হলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল দশ হাজার (মুহাজির ও আনসার সৈনিক) এবং (মক্কার) নও-মুসলিম। যুদ্ধে এরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। এ মুহূর্তে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ওহে আনসার সকল! তাঁরা জওয়াব দিলেন, আমরা হাযির, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত এবং আপনার সামনেই আমরা উপস্থিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। মুশরিকরা পরাজিত হল। তিনি নও-মুসলিম এবং মুহাজিরদেরকে (গানীমাতে) বণ্টন করে দিলেন। আর আনসারদেরকে কিছুই দিলেন না। (এতে তারা নিজেদের মধ্যে সে কথা বলাবলি করছিল।) তখন তিনি তাদেরকে ডেকে এনে একটি তাঁবুর ভিতর জমায়েত করলেন এবং বললেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট থাকবে না যে, লোকজন বাকরী ও উট নিয়ে যাবে আর তোমরা যাবে আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, যদি লোকজন উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসাররা গিরিপথ দিয়ে চলে তা হলে আমি আনসারদের গিরিপথকেই বেছে নেব। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا ازهر، عن ابن عون، انبانا هشام بن زيد بن انس، عن انس رضى الله عنه قال لما كان يوم حنين التقى هوازن ومع النبي صلى الله عليه وسلم عشرة الاف والطلقاء فادبروا قال " يا معشر الانصار ". قالوا لبيك يا رسول الله وسعديك، لبيك نحن بين يديك، فنزل النبي صلى الله عليه وسلم فقال " انا عبد الله ورسوله ". فانهزم المشركون، فاعطى الطلقاء والمهاجرين ولم يعط الانصار شييا فقالوا، فدعاهم فادخلهم في قبة فقال " اما ترضون ان يذهب الناس بالشاة والبعير، وتذهبون برسول الله صلى الله عليه وسلم "، فقال النبي صلى الله عليه وسلم "لو سلك الناس واديا وسلكت الانصار شعبا لاخترت شعب الانصار
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের লোকজনকে জমায়েত করে বললেন, কুরাইশরা সবেমাত্র জাহিলীয়্যাত ছেড়েছে আর তারা দুর্দশাগ্রস্ত। তাই আমি তাদেরকে অনুদান দিয়ে তাদের মন জয় করার ইচ্ছা করেছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের ঘরে ফিরে যাবে আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে। তারা বললেন, অবশ্যই আমরা সন্তুষ্ট। তিনি আরো বললেন, যদি লোকজন উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসাররা গিরিপথ দিয়ে চলে, তা হলে আনসারদের গিরিপথ অথবা তিনি বলেছেন, আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، قال سمعت قتادة، عن انس بن مالك رضى الله عنه قال جمع النبي صلى الله عليه وسلم ناسا من الانصار، فقال " ان قريشا حديث عهد بجاهلية ومصيبة، واني اردت ان اجبرهم واتالفهم اما ترضون ان يرجع الناس بالدنيا، وترجعون برسول الله صلى الله عليه وسلم الى بيوتكم ". قالوا بلى. قال " لو سلك الناس واديا وسلكت الانصار شعبا لسلكت وادي الانصار او شعب الانصار
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের গানীমাত বণ্টন করলেন, তখন আনসারদের এক ব্যক্তি বলে ফেলল যে, এই বণ্টনের ব্যাপারে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেননি। কথাটি শুনে আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে কথাটি জানিয়ে দিলাম। তখন তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ, মূসা (আঃ)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছিল। তাতে তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن عبد الله، قال لما قسم النبي صلى الله عليه وسلم قسمة حنين قال رجل من الانصار ما اراد بها وجه الله. فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرته، فتغير وجهه ثم قال " رحمة الله على موسى، لقد اوذي باكثر من هذا فصبر
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে (গানীমাতের মাল) প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেন। যেমন আকরা’কে একশ’ উট দিয়েছিলেন। ‘উয়াইনাহ্কে ততই দিয়েছিলেন। অন্যদেরও দিয়েছিলেন। এতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, এ বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। (রাবী বলেন) তখন আমি বললাম, অবশ্যই আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা জানিয়ে দিব। [এ কথা জানানো হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছিল। তাতে তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي وايل، عن عبد الله رضى الله عنه قال لما كان يوم حنين اثر النبي صلى الله عليه وسلم ناسا، اعطى الاقرع ماية من الابل، واعطى عيينة مثل ذلك، واعطى ناسا، فقال رجل ما اريد بهذه القسمة وجه الله. فقلت لاخبرن النبي صلى الله عليه وسلم قال " رحم الله موسى. قد اوذي باكثر من هذا فصبر
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিন হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যান্য গোত্রগুলো নিজেদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে এল। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর সঙ্গে ছিল দশ হাজার (ও কিছু সংখ্যক) তুলাকা [1] সৈনিক। যুদ্ধে তারা সবাই তাঁর পাশ থেকে পিছনে সরে গেল। ফলে তিনি একাকী রয়ে গেলেন। সেই সময়ে তিনি আলাদা আলাদাভাবে দু’টি ডাক দিয়েছিলেন, তিনি ডান দিক ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারগণ! তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। এরপর তিনি বাম দিকে ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারগণ! তাঁরা সবাই উত্তরে বললেন, আমরা উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সুসংবাদ নিন। আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা রঙের খচ্চরটির পিঠে ছিলেন। তিনি নিচে নেমে পড়লেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। (শেষে) মুশরিকরাই পরাজিত হল। সে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গানীমাত হস্তগত হল। তিনি সেসব সম্পদ মুহাজির এবং নও-মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর আনসারদেরকে কিছুই দেননি। তখন আনসারদের (কেউ কেউ) বললেন, কঠিন মুহূর্ত আসলে ডাকা হয় আমাদেরকে আর গানীমাত দেয়া হয় অন্যদেরকে। কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তাই তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুতে জমায়েত করে বললেন, ওহে আনসারগণ! একী কথা আমার কাছে পৌঁছল? তাঁরা চুপ করে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আনসারগণ! তোমরা কি খুশি থাকবে না যে, লোকজন দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা (বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর রাসূলকে সঙ্গে নিয়ে? তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথকেই গ্রহণ করে নেব। বর্ণনাকারী হিশাম (রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ (আনাস ইবনু মালিক) আপনি কি এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাঁর নিকট হতে কখন বা অনুপস্থিত থাকতাম? [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن معاذ، حدثنا ابن عون، عن هشام بن زيد بن انس بن مالك، عن انس بن مالك رضى الله عنه قال لما كان يوم حنين اقبلت هوازن وغطفان وغيرهم بنعمهم وذراريهم، ومع النبي صلى الله عليه وسلم عشرة الاف ومن الطلقاء، فادبروا عنه حتى بقي وحده، فنادى يوميذ نداءين لم يخلط بينهما، التفت عن يمينه، فقال " يا معشر الانصار ". قالوا لبيك يا رسول الله، ابشر نحن معك. ثم التفت عن يساره، فقال " يا معشر الانصار ". قالوا لبيك يا رسول الله، ابشر نحن معك. وهو على بغلة بيضاء، فنزل فقال " انا عبد الله ورسوله "، فانهزم المشركون، فاصاب يوميذ غنايم كثيرة، فقسم في المهاجرين والطلقاء ولم يعط الانصار شييا، فقالت الانصار اذا كانت شديدة فنحن ندعى، ويعطى الغنيمة غيرنا. فبلغه ذلك، فجمعهم في قبة، فقال " يا معشر الانصار ما حديث بلغني عنكم ". فسكتوا فقال " يا معشر الانصار الا ترضون ان يذهب الناس بالدنيا، وتذهبون برسول الله صلى الله عليه وسلم تحوزونه الى بيوتكم ". قالوا بلى. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو سلك الناس واديا، وسلكت الانصار شعبا لاخذت شعب الانصار ". فقال هشام يا ابا حمزة، وانت شاهد ذاك قال واين اغيب عنه
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল প্রেরিত হয়েছিল, তাতে আমিও ছিলাম। আমাদের সবার ভাগে (গানীমাতের) বারোটি করে উট পৌঁছল। আর একটি একটি করে উট অধিকও দেয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পাঠিয়েছিলেন আর আমরা তেরোটি করে উট নিয়ে ফিরে আসলাম। [৩১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد، حدثنا ايوب، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية قبل نجد، فكنت فيها، فبلغت سهامنا اثنى عشر بعيرا، ونفلنا بعيرا بعيرا، فرجعنا بثلاثة عشر بعيرا
সালিমের পিতা [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অভিযানে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-কে বানী জাযিমার বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। (সেখানে পৌঁছে) খালিদ (রাঃ) তাদেরকে ইসলামের দা‘ওয়াত দিলেন। কিন্তু ‘আমরা ইসলাম কবূল করলাম’, এ কথাটি তারা ভালভাবে বুঝিয়ে বলতে পারছিল না। তাই তারা বলতে লাগল, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম। খালিদ তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে থাকলেন এবং আমাদের প্রত্যেকের কাছে বন্দীদেরকে সোপর্দ করতে থাকলেন। অবশেষে একদিন তিনি আদেশ দিলেন আমাদের সবাই যেন নিজ নিজ বন্দীকে হত্যা করে ফেলি। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না। আর আমার সঙ্গীদের কেউই তার বন্দীকে হত্যা করবে না। অবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলাম। আমরা তাঁর কাছে এ ব্যাপারটি উল্লেখ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে আমি তার দায় থেকে মুক্ত হওয়ার কথা তোমার নিকট জ্ঞাপন করছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। [৭১৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمود، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، وحدثني نعيم، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابيه، قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم خالد بن الوليد الى بني جذيمة، فدعاهم الى الاسلام فلم يحسنوا ان يقولوا اسلمنا. فجعلوا يقولون صبانا، صبانا. فجعل خالد يقتل منهم وياسر، ودفع الى كل رجل منا اسيره، حتى اذا كان يوم امر خالد ان يقتل كل رجل منا اسيره فقلت والله لا اقتل اسيري، ولا يقتل رجل من اصحابي اسيره، حتى قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم فذكرناه، فرفع النبي صلى الله عليه وسلم يده فقال " اللهم اني ابرا اليك مما صنع خالد ". مرتين
‘আলী (ইবনু আবূ তালিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং আনসারদের এক ব্যক্তিকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি তাদেরকে তাঁর (সেনাপতির) আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। (কোন কারণে) আমীর রাগান্বিত হয়ে যান। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তাঁরা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা কিছু কাঠ সংগ্রহ করে আনো। তাঁরা কাঠ সংগ্রহ করলেন। তিনি বললেন, এগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাঁরা ওতে আগুন লাগালেন। তখন তিনি বললেন, এবার তোমরা সকলে এ আগুনে প্রবেশ কর। তারা আগুনে প্রবেশ করতে সংকল্প করে ফেললেন। কিন্তু তাদের কয়েকজন অন্যদের বাধা দিয়ে বলতে লাগলেন, আগুন থেকেই তো আমরা পালিয়ে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এভাবে ইতস্তত করতে করতে আগুন নিভে গেল এবং তার ক্রোধও ঠান্ডা হল। এরপর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত তা হলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য (করতে হবে) কেবল সৎ কাজের। [৭১৪৫, ৭২৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد، حدثنا الاعمش، قال حدثني سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن، عن علي رضى الله عنه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية فاستعمل رجلا من الانصار، وامرهم ان يطيعوه، فغضب فقال اليس امركم النبي صلى الله عليه وسلم ان تطيعوني. قالوا بلى. قال فاجمعوا لي حطبا. فجمعوا، فقال اوقدوا نارا. فاوقدوها، فقال ادخلوها. فهموا، وجعل بعضهم يمسك بعضا، ويقولون فررنا الى النبي صلى الله عليه وسلم من النار. فما زالوا حتى خمدت النار، فسكن غضبه، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال " لو دخلوها ما خرجوا منها الى يوم القيامة، الطاعة في المعروف
আবূ বুরদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা এবং মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, তৎকালে ইয়ামানে দু’টি প্রদেশ ছিল। তিনি তাদের প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে বলে দিলেন, তোমরা কোমল হবে, কঠোর হবে না। অনীহা সৃষ্টি হতে দেবে না। এরপর তাঁরা দু’জনে নিজ নিজ কর্ম এলাকায় চলে গেলেন। আবূ বুরদা (রাঃ) বললেন, তাঁদের প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ এলাকায় সফর করতেন এবং অন্যজনের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে যেতেন তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করতেন। এভাবে মু‘আয (রাঃ) একবার তাঁর এলাকায় এমন স্থানে সফর করছিলেন, যে স্থানটি তাঁর সাথী আবূ মূসা (রাঃ)-এর এলাকার নিকটবর্তী ছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি খচ্চরের পিঠে চড়ে (আবূ মূসার এলাকায়) পৌঁছে গেলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, আবূ মূসা (রাঃ) বসে আছেন আর তাঁর চারপাশে অনেক লোক জমায়েত হয়ে আছে। আরো দেখলেন, পাশে এক লোককে তার গলার সঙ্গে উভয় হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। মু‘আয (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (আবূ মূসা)। এ লোকটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, এ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি সাওয়ারী থেকে নামব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, এ উদ্দেশেই তাকে আনা হয়েছে, কাজেই আপনি নামুন। তিনি বললেন, না তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি নামব না। ফলে আবূ মূসা (রাঃ) হুকুম করলেন এবং লোকটিকে হত্যা করা হল। এরপর মু‘আয (রাঃ) নামলেন। মু‘আয (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আবদুল্লাহ! আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি (দিবা-রাত্রি) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ করে তিলাওয়াত করে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন, হে মু‘আয? উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে আমি উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এতে আমি আমার নিদ্রার অংশকেও (সওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি, আমি আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকে যেমনি (সাওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি। [৪৩৪৫; মুসলিম ৩২/৩, হাঃ ১৭৩৩, আহমাদ ১৯৭৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عبد الملك، عن ابي بردة، قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا موسى ومعاذ بن جبل الى اليمن، قال وبعث كل واحد منهما على مخلاف قال واليمن مخلافان ثم قال " يسرا ولا تعسرا، وبشرا ولا تنفرا ". فانطلق كل واحد منهما الى عمله، وكان كل واحد منهما اذا سار في ارضه كان قريبا من صاحبه احدث به عهدا، فسلم عليه، فسار معاذ في ارضه قريبا من صاحبه ابي موسى، فجاء يسير على بغلته حتى انتهى اليه، واذا هو جالس، وقد اجتمع اليه الناس، واذا رجل عنده قد جمعت يداه الى عنقه فقال له معاذ يا عبد الله بن قيس، ايم هذا قال هذا رجل كفر بعد اسلامه. قال لا انزل حتى يقتل. قال انما جيء به لذلك فانزل. قال ما انزل حتى يقتل فامر به فقتل ثم نزل فقال يا عبد الله، كيف تقرا القران قال اتفوقه تفوقا. قال فكيف تقرا انت يا معاذ قال انام اول الليل فاقوم وقد قضيت جزيي من النوم، فاقرا ما كتب الله لي، فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي
আবূ বুরদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা এবং মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, তৎকালে ইয়ামানে দু’টি প্রদেশ ছিল। তিনি তাদের প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে বলে দিলেন, তোমরা কোমল হবে, কঠোর হবে না। অনীহা সৃষ্টি হতে দেবে না। এরপর তাঁরা দু’জনে নিজ নিজ কর্ম এলাকায় চলে গেলেন। আবূ বুরদা (রাঃ) বললেন, তাঁদের প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ এলাকায় সফর করতেন এবং অন্যজনের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে যেতেন তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করতেন। এভাবে মু‘আয (রাঃ) একবার তাঁর এলাকায় এমন স্থানে সফর করছিলেন, যে স্থানটি তাঁর সাথী আবূ মূসা (রাঃ)-এর এলাকার নিকটবর্তী ছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি খচ্চরের পিঠে চড়ে (আবূ মূসার এলাকায়) পৌঁছে গেলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, আবূ মূসা (রাঃ) বসে আছেন আর তাঁর চারপাশে অনেক লোক জমায়েত হয়ে আছে। আরো দেখলেন, পাশে এক লোককে তার গলার সঙ্গে উভয় হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। মু‘আয (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (আবূ মূসা)। এ লোকটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, এ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি সাওয়ারী থেকে নামব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, এ উদ্দেশেই তাকে আনা হয়েছে, কাজেই আপনি নামুন। তিনি বললেন, না তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি নামব না। ফলে আবূ মূসা (রাঃ) হুকুম করলেন এবং লোকটিকে হত্যা করা হল। এরপর মু‘আয (রাঃ) নামলেন। মু‘আয (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আবদুল্লাহ! আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি (দিবা-রাত্রি) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ করে তিলাওয়াত করে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন, হে মু‘আয? উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে আমি উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এতে আমি আমার নিদ্রার অংশকেও (সওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি, আমি আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকে যেমনি (সাওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি। [৪৩৪৫; মুসলিম ৩২/৩, হাঃ ১৭৩৩, আহমাদ ১৯৭৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عبد الملك، عن ابي بردة، قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا موسى ومعاذ بن جبل الى اليمن، قال وبعث كل واحد منهما على مخلاف قال واليمن مخلافان ثم قال " يسرا ولا تعسرا، وبشرا ولا تنفرا ". فانطلق كل واحد منهما الى عمله، وكان كل واحد منهما اذا سار في ارضه كان قريبا من صاحبه احدث به عهدا، فسلم عليه، فسار معاذ في ارضه قريبا من صاحبه ابي موسى، فجاء يسير على بغلته حتى انتهى اليه، واذا هو جالس، وقد اجتمع اليه الناس، واذا رجل عنده قد جمعت يداه الى عنقه فقال له معاذ يا عبد الله بن قيس، ايم هذا قال هذا رجل كفر بعد اسلامه. قال لا انزل حتى يقتل. قال انما جيء به لذلك فانزل. قال ما انزل حتى يقتل فامر به فقتل ثم نزل فقال يا عبد الله، كيف تقرا القران قال اتفوقه تفوقا. قال فكيف تقرا انت يا معاذ قال انام اول الليل فاقوم وقد قضيت جزيي من النوم، فاقرا ما كتب الله لي، فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (আবূ মূসাকে গভর্নর নিযুক্ত করে) ইয়ামানে পাঠিয়েছেন। তখন তিনি ইয়ামানে তৈরি করা হয় এমন কতিপয় শরাব সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐগুলো কী কী? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তা হল বিত্উ ও মিয্র শরাব। বর্ণনাকারী সা‘ঈদ (রহ.) বলেন, আমি আবূ বুরদাহকে জিজ্ঞেস করলাম বিত্উ কী? তিনি বললেন, বিত্উ হল মধু থেকে গ্যাজানো রস আর মিয্র হল যবের গ্যাঁজানো রস। (সা‘ঈদ বলেন) তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকল নেশা উৎপাদক বস্তুই হারাম। হাদীসটি জারীর এবং ‘আবদুল ওয়াহিদ শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদা (রাঃ) সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق، حدثنا خالد، عن الشيباني، عن سعيد بن ابي بردة، عن ابيه، عن ابي موسى الاشعري رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم بعثه الى اليمن، فساله عن اشربة تصنع بها، فقال " وما هي ". قال البتع والمزر. فقلت لابي بردة ما البتع قال نبيذ العسل، والمزر نبيذ الشعير. فقال " كل مسكر حرام ". رواه جرير وعبد الواحد عن الشيباني عن ابي بردة
আবূ বুরদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদা আবূ মূসা ও মু‘আয (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শাসক হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা লোকজনের সঙ্গে সহজ আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করবে না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি করবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাদের এলাকায় মিয্র নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরি করা হয় আর বিত্উ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরি করা হয় (এগুলো সম্পর্কে হুকুম দিন)। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই হারাম। এরপর দু’জনেই চলে গেলেন। মু‘আয আবূ মূসাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে, সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন, আর আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। এভাবে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও আমার সালাতে দাঁড়ানোর মতই সওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি। এরপর (উভয়েই নিজ শাসন এলাকায়) তাঁবু খাটালেন এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন। (এক সময়) মু‘আয (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন, সেখানে এক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটি কে? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, লোকটি ইয়াহূদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেবো। শু‘বাহ থেকে আকাদী এবং ওয়াহ্ব এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ওকী (রহ.) নযর ও আবূ দাঊদ (রহ.) এ হাদীসের সানাদে শু’বাহ (রহ.) সা‘ঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদ (রহ.) শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১, ৪৩৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم، حدثنا شعبة، حدثنا سعيد بن ابي بردة، عن ابيه، قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم جده ابا موسى، ومعاذا الى اليمن فقال " يسرا ولا تعسرا، وبشرا ولا تنفرا، وتطاوعا ". فقال ابو موسى يا نبي الله، ان ارضنا بها شراب من الشعير المزر، وشراب من العسل البتع. فقال " كل مسكر حرام ". فانطلقا فقال معاذ لابي موسى كيف تقرا القران قال قايما وقاعدا وعلى راحلته واتفوقه تفوقا. قال اما انا فانام واقوم، فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي، وضرب فسطاطا، فجعلا يتزاوران، فزار معاذ ابا موسى، فاذا رجل موثق، فقال ما هذا فقال ابو موسى يهودي اسلم ثم ارتد. فقال معاذ لاضربن عنقه. تابعه العقدي ووهب عن شعبة. وقال وكيع والنضر وابو داود عن شعبة، عن سعيد، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم. رواه جرير بن عبد الحميد عن الشيباني عن ابي بردة
আবূ বুরদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদা আবূ মূসা ও মু‘আয (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শাসক হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা লোকজনের সঙ্গে সহজ আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করবে না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি করবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাদের এলাকায় মিয্র নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরি করা হয় আর বিত্উ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরি করা হয় (এগুলো সম্পর্কে হুকুম দিন)। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই হারাম। এরপর দু’জনেই চলে গেলেন। মু‘আয আবূ মূসাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে, সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন, আর আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। এভাবে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও আমার সালাতে দাঁড়ানোর মতই সওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি। এরপর (উভয়েই নিজ শাসন এলাকায়) তাঁবু খাটালেন এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন। (এক সময়) মু‘আয (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন, সেখানে এক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটি কে? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, লোকটি ইয়াহূদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেবো। শু‘বাহ থেকে আকাদী এবং ওয়াহ্ব এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ওকী (রহ.) নযর ও আবূ দাঊদ (রহ.) এ হাদীসের সানাদে শু’বাহ (রহ.) সা‘ঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদ (রহ.) শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১, ৪৩৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم، حدثنا شعبة، حدثنا سعيد بن ابي بردة، عن ابيه، قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم جده ابا موسى، ومعاذا الى اليمن فقال " يسرا ولا تعسرا، وبشرا ولا تنفرا، وتطاوعا ". فقال ابو موسى يا نبي الله، ان ارضنا بها شراب من الشعير المزر، وشراب من العسل البتع. فقال " كل مسكر حرام ". فانطلقا فقال معاذ لابي موسى كيف تقرا القران قال قايما وقاعدا وعلى راحلته واتفوقه تفوقا. قال اما انا فانام واقوم، فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي، وضرب فسطاطا، فجعلا يتزاوران، فزار معاذ ابا موسى، فاذا رجل موثق، فقال ما هذا فقال ابو موسى يهودي اسلم ثم ارتد. فقال معاذ لاضربن عنقه. تابعه العقدي ووهب عن شعبة. وقال وكيع والنضر وابو داود عن شعبة، عن سعيد، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم. رواه جرير بن عبد الحميد عن الشيباني عن ابي بردة
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার গোত্রের এলাকায় (শাসক করে) পাঠালেন। (বিদায় হাজ্জের বছর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান করার সময় আমি তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! তুমি ইহরাম বেঁধেছ কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, (তালবিয়া) কীভাবে বলেছিলে? আমি উত্তর দিলাম, আমি এরূপ বলেছি যে, হে আল্লাহ! আমি হাযির হয়েছি এবং আপনার [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] ইহরামের মতো ইহরাম বাঁধলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ কর এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী আদায় কর, তারপর হালাল হয়ে যাও। আমি সে রকমই করলাম। এমনকি বানী কাইসের জনৈকা মহিলা আমার চুল পর্যন্ত আঁচড়িয়ে দিয়েছিল। আর আমরা ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত এভাবেই ‘আমল করতে থাকলাম। [১৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عباس بن الوليد، حدثنا عبد الواحد، عن ايوب بن عايذ، حدثنا قيس بن مسلم، قال سمعت طارق بن شهاب، يقول حدثني ابو موسى الاشعري رضى الله عنه قال بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ارض قومي، فجيت ورسول الله صلى الله عليه وسلم منيخ بالابطح فقال " احججت يا عبد الله بن قيس ". قلت نعم يا رسول الله. قال " كيف قلت ". قال قلت لبيك اهلالا كاهلالك. قال " فهل سقت معك هديا ". قلت لم اسق. قال " فطف بالبيت واسع بين الصفا والمروة ثم حل ". ففعلت حتى مشطت لي امراة من نساء بني قيس، ومكثنا بذلك حتى استخلف عمر
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় তাঁকে বললেন, অচিরেই তুমি আহলে কিতাবদের এক গোত্রের কাছে যাচ্ছ। যখন তুমি তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ দা‘ওয়াত দেবে তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’, এরপর তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তখন তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচবার সালাত ফরয করে দিয়েছেন। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর যাকাত ফরয করে দিয়েছেন, যা তাদের বিত্তশালীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তা হলে (যাকাত গ্রহণ কালে) তাদের মালের উৎকৃষ্টতম অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। মাযলুমদের বদদু‘আকে ভয় করবে, কেননা মাযলুমের বদদু‘আ এবং আল্লাহর মাঝখানে কোন আড়াল থাকে না। [১৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৬) আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, طَوَّعَتْ، طَاعَتْ এবং أَطَاعَتْ সমার্থবোধক শব্দ, طِعْتُ، طُعْتُ এবং أَطَعْتُ -এগুলোর একই অর্থ।
حدثني حبان، اخبرنا عبد الله، عن زكرياء بن اسحاق، عن يحيى بن عبد الله بن صيفي، عن ابي معبد، مولى ابن عباس عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه الى اليمن " انك ستاتي قوما من اهل الكتاب، فاذا جيتهم فادعهم الى ان يشهدوا ان لا اله الا الله، وان محمدا رسول الله، فان هم طاعوا لك بذلك فاخبرهم ان الله قد فرض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة، فان هم طاعوا لك بذلك، فاخبرهم ان الله قد فرض عليكم صدقة، توخذ من اغنيايهم، فترد على فقرايهم، فان هم طاعوا لك بذلك، فاياك وكرايم اموالهم، واتق دعوة المظلوم فانه ليس بينه وبين الله حجاب ". قال ابو عبد الله {طوعت} طاعت واطاعت لغة، طعت وطعت واطعت