Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় আগমন করার পর তৎক্ষণাৎ বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রইলেন, কেননা সে সময় বাইতুল্লাহর ভিতরে অনেক প্রতিমা স্থাপিত ছিল। প্রতিমাগুলো বের করে ফেলা হল। তখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর মূর্তিও বেরিয়ে আসল। তাদের উভয়ের হাতে ছিল মুশরিকদের ভাগ্য নির্ণয়ের কয়েকটি তীর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা অবশ্যই জানত যে, ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) কক্ষনো তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করেননি। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর প্রত্যেক কোণায় কোণায় গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন এবং বেরিয়ে আসলেন। আর সেখানে সালাত আদায় করেননি। মা‘মার (রহ.) আইয়ুব (রহ.) সূত্রে এবং ওয়াহায়ব (রহ.) আইয়ুব (রহ.)-এর মাধ্যমে ‘ইকরামাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [৩৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق، حدثنا عبد الصمد، قال حدثني ابي، حدثنا ايوب، عن عكرمة، عن ابن عباس رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم مكة ابى ان يدخل البيت وفيه الالهة، فامر بها فاخرجت، فاخرج صورة ابراهيم، واسماعيل في ايديهما من الازلام، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " قاتلهم الله لقد علموا ما استقسما بها قط ". ثم دخل البيت، فكبر في نواحي البيت، وخرج ولم يصل فيه. تابعه معمر عن ايوب. وقال وهيب حدثنا ايوب عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করে উসামাহ ইবনু যায়িদকে নিজের পেছনে বসিয়ে মক্কা নগরীর উঁচু এলাকার দিক দিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল এবং বাইতুল্লাহর চাবি রক্ষক ‘উসমান ইবনু ত্বলহা। অবশেষে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মসজিদে হারামের সামনে সওয়ারী থামালেন এবং ‘উসমান ইবনু ত্বলহাকে চাবি এনে (দরজা খোলার) আদেশ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কা‘বায়) প্রবেশ করলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামাহ ইবনু যায়দ, বিলাল এবং ‘উসমান ইবনু ত্বলহা (রাঃ)। সেখানে তিনি দিনের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবস্থান করে (সালাত আদায়, তাকবীর ও অন্যান্য দু‘আ করার পর) বের হয়ে এলেন। তখন অন্যান্য লোক দ্রুত ছুটে এল। তন্মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) প্রথমেই প্রবেশ করলেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে দরজার পাশে দাঁড়ানো পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ জায়গায় সালাত আদায় করেছেন? তখন বিলাল তাকে তাঁর সালাতের জায়গাটি ইশারা করে দেখিয়ে দিলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাক‘আত আদায় করেছিলেন বিলাল (রাঃ)-কে আমি এ কথাটি জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম। [৩৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وقال الليث حدثني يونس، قال اخبرني نافع، عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اقبل يوم الفتح من اعلى مكة على راحلته، مردفا اسامة بن زيد ومعه بلال ومعه عثمان بن طلحة، من الحجبة حتى اناخ في المسجد، فامره ان ياتي بمفتاح البيت، فدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه اسامة بن زيد وبلال وعثمان بن طلحة، فمكث فيه نهارا طويلا ثم خرج، فاستبق الناس، فكان عبد الله بن عمر اول من دخل، فوجد بلالا وراء الباب قايما، فساله اين صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاشار له الى المكان الذي صلى فيه. قال عبد الله فنسيت ان اساله كم صلى من سجدة
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উঁচু এলাকা ‘কাদা’-এর দিক দিয়ে প্রবেশ করেছেন। আবূ উসামাহ এবং ওহাইব (রহ.) ‘কাদা’-এর দিক দিয়ে প্রবেশ করার বর্ণনায় হাফস্ ইবনু মাইসারাহ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। [১৫৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الهيثم بن خارجة، حدثنا حفص بن ميسرة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، ان عايشة رضى الله عنها اخبرته ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل عام الفتح من كداء التي باعلى مكة. تابعه ابو اسامة ووهيب في كداء
হিশামের পিতা হতে বর্ণিত যে, মক্কা জয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উঁচু এলাকা অর্থাৎ ‘কাদা’ নামক স্থান দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। [১৫৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، دخل النبي صلى الله عليه وسلم عام الفتح من اعلى مكة من كداء
ইবনু আবী লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছে-এ কথাটি একমাত্র উম্মু হানী (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ আমাদের কাছে বর্ণনা করেননি। তিনি বলেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়িতে গোসল করেছিলেন, এরপর তিনি আট রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। উম্মু হানী (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সালাত অপেক্ষা হালকাভাবে অন্য কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে তিনি রুকূ‘, সিজদা্ পুরোপুরিই আদায় করেছিলেন। [১১০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، عن عمرو، عن ابن ابي ليلى، ما اخبرنا احد، انه راى النبي صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى غير ام هاني، فانها ذكرت انه يوم فتح مكة اغتسل في بيتها ثم صلى ثماني ركعات، قالت لم اره صلى صلاة اخف منها غير انه يتم الركوع والسجود
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাতের রুকূ ও সিজদা্য় পড়তেন, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাববানা ওয়া বিহামদিকাল্লাহুম্মা গফির লী অর্থাৎ অতি পবিত্র। হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রভু! আমি তোমারই প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও। [৭৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن منصور، عن ابي الضحى، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في ركوعه وسجوده " سبحانك اللهم، ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) তাঁর (পরামর্শ মজলিসে) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বর্ষীয়ান সহাবাদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন। তাই তাঁদের কেউ কেউ বললেন, আপনি এ তরুণকে কেন আমাদের সঙ্গে মজলিসে শামিল করেন। তার মতো সন্তান তো আমাদেরও আছে। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ঐ সব মানুষের একজন যাদের (মর্যাদা) সম্পর্কে আপনারা অবহিত আছেন। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, একদিন তিনি (‘উমার) তাদেরকে পরামর্শ মজলিসে আহবান করলেন এবং তাঁদের সঙ্গে তিনি আমাকেও ডাকলেন। তিনি (ইবনু ‘আব্বাস) বলেন, আমার মনে হয় সেদিন তিনি তাঁদেরকে আমার ইল্ম দেখানোর জন্যই ডেকেছিলেন। ‘উমার বলেন, إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُوْنَ فِيْ دِيْنِ اللهِ أَفْوَاجًاএভাবে সূরাটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ সূরাহ সম্পর্কে আপনাদের কী বক্তব্য? তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বললেন, এখানে আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে যে, যখন আমাদেরকে সাহায্য করা হবে এবং বিজয় দান করা হবে তখন যেন আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর কেউ কেউ বললেন, আমরা অবগত নই। আবার কেউ কেউ কোন কথাই বলেননি। এ সময় ‘উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, ওহে ইবনু ‘আব্বাস! তুমি কি এ রকমই মনে কর? আমি বললাম, জ্বী, না। তিনি বললেন, তা হলে তুমি কী বলতে চাও? আমি বললাম, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সংবাদ। আল্লাহ তাঁকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। ‘‘যখন আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় আসবে’’ অর্থাৎ মক্কা বিজয়। সেটাই হবে আপনার ওফাতের নিদর্শন। সুতরাং এ সময়ে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করবেন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। অবশ্যই তিনি তাওবা কবুলকারী। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, এ সূরাহ থেকে তুমি যা বুঝেছ আমি তা ব্যতীত আর অন্য কিছুই বুঝিনি। [৩৬২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال كان عمر يدخلني مع اشياخ بدر، فقال بعضهم لم تدخل هذا الفتى معنا، ولنا ابناء مثله فقال انه ممن قد علمتم. قال فدعاهم ذات يوم، ودعاني معهم قال وما رييته دعاني يوميذ الا ليريهم مني فقال ما تقولون {اذا جاء نصر الله والفتح * ورايت الناس يدخلون} حتى ختم السورة، فقال بعضهم امرنا ان نحمد الله ونستغفره، اذا نصرنا وفتح علينا. وقال بعضهم لا ندري. او لم يقل بعضهم شييا. فقال لي يا ابن عباس اكذاك تقول قلت لا. قال فما تقول قلت هو اجل رسول الله صلى الله عليه وسلم اعلمه الله له {اذا جاء نصر الله والفتح} فتح مكة، فذاك علامة اجلك {فسبح بحمد ربك واستغفره انه كان توابا} قال عمر ما اعلم منها الا ما تعلم
আবূ শুরাইহিল আদাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (মদিনার শাসনকর্তা) আমর ইবনু সা‘ঈদ যে সময় মক্কা অভিমুখে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন তখন আবূ শুরায়হিল আদাবী (রাঃ) তাকে বলেছিলেন, হে আমাদের আমীর! আপনি আমাকে একটু অনুমতি দিন, আমি আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি বাণী শোনাবো, যেটি তিনি মক্কা বিজয়ের পরের দিন বলেছিলেন। সেই বাণীটি আমার দু’কান শুনেছে। আমার হৃদয় তা হিফাযাত করে রেখেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সে কথাটি বলছিলেন তখন আমার দু’চোখ তাঁকে অবলোকন করেছে। প্রথমে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং সানা পাঠ করেন। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহ নিজে মক্কা্কে হারাম ঘোষণা করেছেন। কোন মানুষ এ ঘোষণা দেয়নি। কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসের উপর ঈমান এনেছে তার পক্ষে সেখানে রক্তপাত করা কিংবা এখানকার গাছপালা কর্তন করা কিছুতেই হালাল নয়। আর আল্লাহর রাসূলের সে স্থানে লড়াইয়ের কথা বলে যদি কেউ নিজের জন্যও সুযোগ করে নিতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তাঁর রাসূলের ক্ষেত্রে (বিশেষভাবে) অনুমতি দিয়েছিলেন, তোমাদের জন্য কোন অনুমতি দেননি। আর আমার ক্ষেত্রেও তা একদিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কেবল অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এরপর সেদিনই তা পুনরায় সেরূপ হারাম হয়ে গেছে যেরূপে তা একদিন পূর্বে হারাম ছিল। উপস্থিত লোকজন (এ কথাটি) অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছিয়ে দেবে। (বর্ণনাকারী বলেন) পরবর্তী সময়ে আবূ শুরায়হ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘আমর ইবনু সা‘ঈদ আপনাকে কী উত্তর করেছিলেন? তিনি বললেন, ‘আমর আমাকে বললেন, হে আবূ শুরায়হ্! হাদীসটির বিষয় আমি তোমার চেয়ে অধিক অবগত আছি। হারামে মক্কা কোন অপরাধী বা খুনী পলাতককে কিংবা কোন বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ফেরারীকে প্রশ্রয় দেয় না। আর ‘আবদুল্লাহ বলেন, ‘আল খারবাহ’ অর্থ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। [১০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن شرحبيل، حدثنا الليث، عن المقبري، عن ابي شريح العدوي، انه قال لعمرو بن سعيد وهو يبعث البعوث الى مكة ايذن لي ايها الامير احدثك قولا قام به رسول الله صلى الله عليه وسلم الغد يوم الفتح، سمعته اذناى ووعاه قلبي، وابصرته عيناى، حين تكلم به حمد الله واثنى عليه ثم قال " ان مكة حرمها الله ولم يحرمها الناس، لا يحل لامري يومن بالله واليوم الاخر ان يسفك بها دما، ولا يعضد بها شجرا، فان احد ترخص لقتال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها فقولوا له ان الله اذن لرسوله، ولم ياذن لكم. وانما اذن لي فيها ساعة من نهار، وقد عادت حرمتها اليوم كحرمتها بالامس، وليبلغ الشاهد الغايب ". فقيل لابي شريح ماذا قال لك عمرو قال قال انا اعلم بذلك منك يا ابا شريح، ان الحرم لا يعيذ عاصيا، ولا فارا بدم، ولا فارا بخربة
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা্য় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মদের ক্রয়-বিক্রয় হারাম করে দিয়েছেন।[1] [২২৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن يزيد بن ابي حبيب، عن عطاء بن ابي رباح، عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول عام الفتح وهو بمكة " ان الله ورسوله حرم بيع الخمر
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (মক্কা্য়) দশদিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় আমরা সালাত কসর করতাম।[1] [১০৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان،. حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن يحيى بن ابي اسحاق، عن انس رضى الله عنه قال اقمنا مع النبي صلى الله عليه وسلم عشرا نقصر الصلاة
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের সময়ে) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনিশ দিন মক্কায় অবস্থান করেছিলেন, তিনি সে সময় দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। [১০৮০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، اخبرنا عبد الله، اخبرنا عاصم، عن عكرمة، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال اقام النبي صلى الله عليه وسلم بمكة تسعة عشر يوما يصلي ركعتين
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ঊনিশ দিন (মক্কা্ বিজয়কালে) অবস্থান করেছিলাম। এ সময়ে আমরা সালাতে কসর করতাম।[1] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আমরা সফরে উনিশ দিন পর্যন্ত কসর করতাম। এর চেয়ে অধিক দিন থাকলে আমরা পূর্ণ সালাত আদায় করতাম। [১০৮০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابو شهاب، عن عاصم، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال اقمنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر تسع عشرة نقصر الصلاة. وقال ابن عباس ونحن نقصر ما بيننا وبين تسع عشرة، فاذا زدنا اتممنا
লায়স [ইবনু সা‘দ (রহ.)] বলেছেন, ইউনুস আমার কাছে ইবনু শিহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাবাহ ইবনু সু‘আয়র (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আর মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখমন্ডল মাসহ(মাসেহ) করেছিলেন। [৬৩৫৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
وقال الليث حدثني يونس، عن ابن شهاب، اخبرني عبد الله بن ثعلبة بن صعير، وكان النبي، صلى الله عليه وسلم قد مسح وجهه عام الفتح
যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি সুনায়ন আবূ জামীলাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। যুহরী (রহ.) বলেন, আমরা (সা‘ঈদ) ইবনু মুসায়্যাব (রহ.)-এর সঙ্গে ছিলাম। এ সময় আবূ জামীলাহ (রাঃ) দাবী করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মক্কা বিজয়ের বছর (যুদ্ধের জন্য) বেরিয়েছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن معمر، عن الزهري، عن سنين ابي جميلة، قال اخبرنا ونحن، مع ابن المسيب قال وزعم ابو جميلة انه ادرك النبي صلى الله عليه وسلم، وخرج معه عام الفتح
‘আমর ইবনু সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। আইয়ুব (রহ.) বলেছেন, আবূ কিলাবাহ আমাকে বললেন, তুমি ‘আমর ইবনু সালামাহ’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে (তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস কর না কেন? আবূ কিলাবাহ (রহ.) বলেন, অতঃপর আমি ‘আমর ইবনু সালামাহর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে (তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমরা লোকজনের চলার পথের পাশে একটি ঝরণার কাছে বাস করতাম। আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা চলাচল করত। তখন আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম, (মক্কার) লোকজনের অবস্থা কী? মক্কার লোকজনের অবস্থা কী? আর ঐ লোকটির কী অবস্থা? তারা বলত, ঐ ব্যক্তি দাবী করে যে, আল্লাহ তাঁকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন, তাঁর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। (কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করে বলত) তাঁর কাছে আল্লাহ এ রকম ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। (‘আমর ইবনু সালামা’হ বলেন) তখন আমি সে বাণীগুলো মুখস্থ করে নিতাম যেন তা আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকত। সমগ্র আরব ইসলাম গ্রহণের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিজয়ের অপেক্ষা করছিল। তারা বলত, তাঁকে তার নিজ গোত্রের লোকেদের সঙ্গে (আগে) বোঝাপড়া করতে দাও। অতঃপর তিনি যদি তাদের উপর বিজয়ী হন তবে তিনি সত্য নবী। এরপর মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটল। এবার সব গোত্রই তাড়াহুড়া করে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। আমাদের কাওমের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আমার পিতা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ফিরে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সত্য নবীর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি বলে দিয়েছেন যে, অমুক সময়ে তোমরা অমুক সালাত এবং অমুক সময় অমুক সালাত আদায় করবে। এভাবে সালাতের সময় হলে তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে কুরআন অধিক জানে সে সালাতের ইমামাত করবে। সবাই এ রকম একজন লোক খুঁজলেন। কিন্তু আমার চেয়ে অধিক কুরআন জানা একজনকেও পাওয়া গেল না। কেননা আমি কাফেলার লোকদের থেকে কুরআন শিখেছিলাম। কাজেই সকলে আমাকেই তাদের সামনে এগিয়ে দিল। অথচ তখনো আমি ছয় কিংবা সাত বছরের বালক। আমার একটি চাদর ছিল, যখন আমি সিজদা্য় যেতাম তখন চাদরটি আমার গায়ের সঙ্গে জড়িয়ে উপরের দিকে উঠে যেত। তখন গোত্রের জনৈকা মহিলা বলল, তোমরা আমাদের দৃষ্টি থেকে তোমাদের ক্বারীর নিতম্ব আবৃত করে দাও না কেন? তারা কাপড় খরিদ করে আমাকে একটি জামা তৈরি করে দিল। এ জামা পেয়ে আমি এত খুশি হয়েছিলাম যে, আর কিছুতে এত খুশি হইনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن عمرو بن سلمة، قال قال لي ابو قلابة الا تلقاه فتساله، قال فلقيته فسالته فقال كنا بماء ممر الناس، وكان يمر بنا الركبان فنسالهم ما للناس ما للناس ما هذا الرجل فيقولون يزعم ان الله ارسله اوحى اليه، او اوحى الله بكذا. فكنت احفظ ذلك الكلام، وكانما يغرى في صدري، وكانت العرب تلوم باسلامهم الفتح، فيقولون اتركوه وقومه، فانه ان ظهر عليهم فهو نبي صادق. فلما كانت وقعة اهل الفتح بادر كل قوم باسلامهم، وبدر ابي قومي باسلامهم، فلما قدم قال جيتكم والله من عند النبي صلى الله عليه وسلم حقا فقال " صلوا صلاة كذا في حين كذا، وصلوا كذا في حين كذا، فاذا حضرت الصلاة، فليوذن احدكم، وليومكم اكثركم قرانا ". فنظروا فلم يكن احد اكثر قرانا مني، لما كنت اتلقى من الركبان، فقدموني بين ايديهم، وانا ابن ست او سبع، سنين وكانت على بردة، كنت اذا سجدت تقلصت عني، فقالت امراة من الحى الا تغطوا عنا است قاريكم. فاشتروا فقطعوا لي قميصا، فما فرحت بشىء فرحي بذلك القميص
‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উত্বাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) তার ভাই সা‘দ [ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)]-কে ওয়াসিয়াত করে গিয়েছিল যে, সে যেন যাম‘আহর বাঁদীর সন্তানটি তাঁর নিজের কাছে নিয়ে নেয়। ‘উত্বাহ বলেছিল, পুত্রটি আমার ঔরসজাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয়কালে সেখানে আগমন করলেন তখন সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস যাম‘আহর বাঁদীর সন্তানটি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত করলেন। তাঁর সঙ্গে আবদ্ ইবনু যাম‘আহ (যামআর পুত্র)-ও আসলেন। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস বললেন, সন্তানটি তো আমার ভাতিজা। আমার ভাই আমাকে বলে গিয়েছেন যে, এ সন্তান তার ঔরসজাত কিন্তু আবদ্ ইবনু যাম‘আহ তার দাবী পেশ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাই, এ যাম‘আহর সন্তান, তাঁর বিছানায় এর জন্ম হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন যাম‘আহর ক্রীতদাসীর সন্তানের প্রতি নযর দিয়ে দেখলেন যে, সন্তানটি আকৃতিতে ‘উত্বাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাসের সঙ্গেই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আব্দ ইবনু যাম‘আহ! একে নিয়ে যাও। সে তোমার ভাই। কেননা সে তার (তোমার পিতা যাম‘আহর) বিছানায় জন্মগ্রহণ করেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সন্তানটির আকৃতি ‘উত্বাহ ইবনু আবী ওয়াক্কাসের আকৃতির মত হওয়ার কারণে (তাঁর স্ত্রী সাওদা বিনতে যাম‘আহ (রাঃ)-কে বললেন, হে সাওদা! তুমি তার থেকে পর্দা করবে। ইবনু শিহাব যুহরী (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শয্যা যার, ছেলে তার। আর ব্যভিচারীর জন্য আছে পাথর। ইবনু শিহাব যুহরী (রহ.) বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এ কথাটি উচ্চস্বরে বলতেন। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة رضى الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم. وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب اخبرني عروة بن الزبير ان عايشة قالت كان عتبة بن ابي وقاص عهد الى اخيه سعد ان يقبض ابن وليدة زمعة، وقال عتبة انه ابني. فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة في الفتح اخذ سعد بن ابي وقاص ابن وليدة زمعة، فاقبل به الى رسول الله صلى الله عليه وسلم، واقبل معه عبد بن زمعة، فقال سعد بن ابي وقاص هذا ابن اخي، عهد الى انه ابنه. قال عبد بن زمعة يا رسول الله، هذا اخي، هذا ابن زمعة، ولد على فراشه. فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ابن وليدة زمعة، فاذا اشبه الناس بعتبة بن ابي وقاص، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هو لك، هو اخوك يا عبد بن زمعة ". من اجل انه ولد على فراشه، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " احتجبي منه يا سودة ". لما راى من شبه عتبة بن ابي وقاص. قال ابن شهاب قالت عايشة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الولد للفراش وللعاهر الحجر ". وقال ابن شهاب وكان ابو هريرة يصيح بذلك
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় মক্কা্ বিজয় অভিযানের সময়ে এক স্ত্রীলোক চুরি করেছিল। তাই তার গোত্রের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর কাছে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ জানালো। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, উসামাহ (রাঃ)- এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কথা বলা মাত্র তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি উসামাহ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তিগুলোর একটি শাস্তির ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করছ? উসামাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এরপর সন্ধ্যা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। যথাযথভাবে আল্লাহর হাম্দ-সানা করে বললেন, ‘‘আম্মা বা‘দ’’ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা তাদের মধ্যকার উচ্চ শ্রেণীর কোন লোক চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত। পক্ষান্তরে কোন দুর্বল লোক চুরি করলে তার উপর নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করত। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত তা হলে আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মহিলাটির ব্যাপারে আদেশ দিলেন। ফলে তার হাত কেটে দেয়া হল। পরবর্তীকালে সে উত্তম তাওবার অধিকারিণী হয়েছিল এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এর পর সে আমার কাছে প্রায়ই আসত। আমি তার প্রয়োজনাদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তুলে ধরতাম। [২৬৪৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرني يونس، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان امراة، سرقت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح، ففزع قومها الى اسامة بن زيد يستشفعونه، قال عروة فلما كلمه اسامة فيها تلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " اتكلمني في حد من حدود الله ". قال اسامة استغفر لي يا رسول الله. فلما كان العشي قام رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا، فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال " اما بعد، فانما اهلك الناس قبلكم انهم كانوا اذا سرق فيهم الشريف تركوه، واذا سرق فيهم الضعيف اقاموا عليه الحد، والذي نفس محمد بيده، لو ان فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها ". ثم امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بتلك المراة، فقطعت يدها، فحسنت توبتها بعد ذلك وتزوجت. قالت عايشة فكانت تاتي بعد ذلك فارفع حاجتها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم
মুজাশি‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পর আমি আমার ভাই (মুজালিদ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার ভাইকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি যেন আপনি তার নিকট হতে হিজরাত করার ব্যাপারে বাই‘আত গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কা থেকে মদিনা্য়) হিজরাতকারীরা হিজরতের সমুদয় বারাকাত নিয়ে গেছে। আমি বললাম, তা হলে কোন্ বিষয়ের উপর আপনি তার নিকট হতে বাই‘আত গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন, আমি তাঁর নিকট হতে বাই‘আত গ্রহণ করব ইসলাম, ঈমান ও জিহাদের উপর। [বর্ণনাকারী আবূ ‘উসমান (রাঃ) বলেছেন] পরে আমি আবূ মা‘বাদ (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি ছিলেন তাঁদের দু’ভাইয়ের মধ্যে বড়। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মুজাশি‘ (রাঃ) সত্যই বলেছেন। [২৯৬২, ২৯৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن خالد، حدثنا زهير، حدثنا عاصم، عن ابي عثمان، قال حدثني مجاشع، قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم باخي بعد الفتح قلت يا رسول الله، جيتك باخي لتبايعه على الهجرة. قال " ذهب اهل الهجرة بما فيها ". فقلت على اى شىء تبايعه قال " ابايعه على الاسلام والايمان والجهاد" فلقيت ابا معبد بعد وكان اكبرهما فسالته فقال صدق مجاشع
মুজাশি‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের পর আমি আমার ভাই (মুজালিদ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার ভাইকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি যেন আপনি তার নিকট হতে হিজরাত করার ব্যাপারে বাই‘আত গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কা থেকে মদিনা্য়) হিজরাতকারীরা হিজরতের সমুদয় বারাকাত নিয়ে গেছে। আমি বললাম, তা হলে কোন্ বিষয়ের উপর আপনি তার নিকট হতে বাই‘আত গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন, আমি তাঁর নিকট হতে বাই‘আত গ্রহণ করব ইসলাম, ঈমান ও জিহাদের উপর। [বর্ণনাকারী আবূ ‘উসমান (রাঃ) বলেছেন] পরে আমি আবূ মা‘বাদ (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি ছিলেন তাঁদের দু’ভাইয়ের মধ্যে বড়। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মুজাশি‘ (রাঃ) সত্যই বলেছেন। [২৯৬২, ২৯৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن خالد، حدثنا زهير، حدثنا عاصم، عن ابي عثمان، قال حدثني مجاشع، قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم باخي بعد الفتح قلت يا رسول الله، جيتك باخي لتبايعه على الهجرة. قال " ذهب اهل الهجرة بما فيها ". فقلت على اى شىء تبايعه قال " ابايعه على الاسلام والايمان والجهاد" فلقيت ابا معبد بعد وكان اكبرهما فسالته فقال صدق مجاشع
মুজাশি‘ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মা‘বাদ (রাঃ) (মুজালিদ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম, যেন তিনি তাঁর নিকট হতে হিজরাতের জন্য বাই‘আত গ্রহণ করেন। তখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, হিজরাতকারীদের জন্য হিজরাত অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আমি তার নিকট হতে ইসলাম ও জিহাদের জন্য বাই‘আত গ্রহণ করব। [বর্ণনাকারী আবূ ‘উসমান নাহদী (রহ.) বলেন] এরপরে আমি আবূ মা‘বাদ (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মুজাশি‘ (রাঃ) সত্যই বলেছেন। অন্য সনদে খালিদ (রহ.) আবূ ‘উসমান (রহ.)-এর মাধ্যমে মুজাশি‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তার ভাই মুজালিদ (রাঃ)-কে নিয়ে এসেছিলেন। [২৯৬২, ২৯৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن ابي بكر، حدثنا الفضيل بن سليمان، حدثنا عاصم، عن ابي عثمان النهدي، عن مجاشع بن مسعود، انطلقت بابي معبد الى النبي صلى الله عليه وسلم ليبايعه على الهجرة، قال " مضت الهجرة لاهلها، ابايعه على الاسلام والجهاد." فلقيت ابا معبد فسالته فقال صدق مجاشع. وقال خالد عن ابي عثمان عن مجاشع انه جاء باخيه مجالد