Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২৫ হাদিসসমূহ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং পদাতিক সৈন্যের জন্য এক অংশ হিসেবে (গানীমাতের) মাল বণ্টন করেছেন। বর্ণনাকারী [‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রহ.)] বলেন, নাফি‘ হাদীসটির ব্যাখ্যা করে বলেছেন, (যুদ্ধে) যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে সে পাবে তিন অংশ এবং যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে না, সে পাবে এক অংশ। [২৮৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحسن بن اسحاق، حدثنا محمد بن سابق، حدثنا زايدة، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر للفرس سهمين، وللراجل سهما. قال فسره نافع فقال اذا كان مع الرجل فرس فله ثلاثة اسهم، فان لم يكن له فرس فله سهم
জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি খাইবারের প্রাপ্ত খুমুস থেকে বানু মুত্তালিবকে অংশ দিয়েছেন, আমাদেরকে দেননি। অথচ আমরা ও তারা সম্পর্কের দিক থেকে আপনার কাছে একই পর্যায়ের। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিঃসন্দেহে বানী হাশিম এবং বানু মুত্তালিব সম-মর্যাদার অধিকারী। যুবায়র (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু ‘আবদে শাম্স ও বানু নাওফিলকে (খাইবার যুদ্ধের খুমুস থেকে) কিছুই বণ্টন করেননি। [৩১৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن يونس، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، ان جبير بن مطعم، اخبره قال مشيت انا وعثمان بن عفان، الى النبي صلى الله عليه وسلم فقلنا اعطيت بني المطلب من خمس خيبر، وتركتنا، ونحن بمنزلة واحدة منك. فقال " انما بنو هاشم وبنو المطلب شىء واحد ". قال جبير ولم يقسم النبي صلى الله عليه وسلم لبني عبد شمس وبني نوفل شييا
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইয়ামানে থাকা অবস্থায় আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের খবর পৌঁছল। তাই আমি ও আমার দু’ভাই আবূ বুরদা ও আবূ রুহম এবং আমাদের কাওমের আরো মোট বায়ান্ন কি তিপ্পান্ন কিংবা আরো কিছু লোকজনসহ আমরা হিজরতের উদ্দেশে বের হলাম। আমি ছিলাম আমার অপর দু’ভাইয়ের চেয়ে বয়সে ছোট। আমরা একটি জাহাজে উঠলাম। জাহাজটি আমাদেরকে আবিসিনিয়া দেশের (বাদশাহ্) নাজ্জাশীর নিকট নিয়ে গেল। সেখানে আমরা জা‘ফর ইবনু আবূ তালিবের সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাঁর সঙ্গেই আমরা থেকে গেলাম। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাইবার বিজয়ের সময় সকলে এক যোগে (মদিনা্য়) এসে তাঁর সঙ্গে মিলিত হলাম। এ সময়ে মুসলিমদের কেউ কেউ আমাদেরকে অর্থাৎ জাহাজে আগমনকারীদেরকে বলল, হিজরতের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী। আমাদের সঙ্গে আগমনকারী আসমা বিন্ত উমাইস একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তিনিও (তাঁর স্বামী জা‘ফরসহ) নাজ্জাশীর দেশে হিজরাতকারীদের সঙ্গে হিজরাত করেছিলেন। আসমা (রাঃ) হাফসাহর কাছেই ছিলেন। এ সময়ে ‘উমার (রাঃ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। ‘উমার (রাঃ) আসমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? হাফসাহ (রাঃ) বললেন, তিনি আসমা বিনত উমাইস (রাঃ)। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ইনি হাবশায় হিজরাতকারিণী আসমা? ইনিই কি সমুদ্রগামিনী? আসমা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ! তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হিজরাতের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে আগে আছি। সুতরাং তোমাদের তুলনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমাদের হক অধিক। এতে আসমা (রাঃ) রেগে গেলেন এবং বললেন, কখনো হতে পারে না। আল্লাহর কসম! আপনারা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন, আপনাদের অবুঝ লোকদেরকে নাসীহাত করতেন। আর আমরা ছিলাম এমন এক এলাকায় অথবা তিনি বলেছেন এমন এক দেশে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহুদূরে এবং সর্বদা শত্রু বেষ্টিত হাবশা দেশে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশেই ছিল আমাদের এ হিজরাত আল্লাহর কসম! আমি কোন খাবার খাবো না, পানিও পান করব না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি যা বলেছেন তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না জানাব। সেখানে আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হত, ভয় দেখানো হত। শীঘ্রই আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসব কথা বলব এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করব। তবে আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলব না, পেচিয়ে বলব না, বাড়িয়েও কিছু বলব না। [৩১৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، حدثنا بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى رضى الله عنه قال بلغنا مخرج النبي صلى الله عليه وسلم ونحن باليمن، فخرجنا مهاجرين اليه انا، واخوان لي انا اصغرهم، احدهما ابو بردة، والاخر ابو رهم اما قال بضع واما قال في ثلاثة وخمسين او اثنين وخمسين رجلا من قومي، فركبنا سفينة، فالقتنا سفينتنا الى النجاشي بالحبشة، فوافقنا جعفر بن ابي طالب فاقمنا معه حتى قدمنا جميعا، فوافقنا النبي صلى الله عليه وسلم حين افتتح خيبر، وكان اناس من الناس يقولون لنا يعني لاهل السفينة سبقناكم بالهجرة، ودخلت اسماء بنت عميس، وهى ممن قدم معنا، على حفصة زوج النبي صلى الله عليه وسلم زايرة، وقد كانت هاجرت الى النجاشي فيمن هاجر، فدخل عمر على حفصة واسماء عندها، فقال عمر حين راى اسماء من هذه قالت اسماء بنت عميس. قال عمر الحبشية هذه البحرية هذه قالت اسماء نعم. قال سبقناكم بالهجرة، فنحن احق برسول الله صلى الله عليه وسلم منكم. فغضبت وقالت كلا والله، كنتم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يطعم جايعكم، ويعظ جاهلكم، وكنا في دار او في ارض البعداء البغضاء بالحبشة، وذلك في الله وفي رسوله صلى الله عليه وسلم وايم الله، لا اطعم طعاما، ولا اشرب شرابا حتى اذكر ما قلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن كنا نوذى ونخاف، وساذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم واساله، والله لا اكذب ولا ازيغ ولا ازيد عليه
এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন, তখন আসমা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! ‘উমার (রাঃ) এই কথা বলেছেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী উত্তর দিয়েছ? আসমা (রাঃ) বললেনঃ আমি তাঁকে এই এই বলেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এ ব্যাপারে) তোমাদের চেয়ে ‘উমার (রাঃ) আমার প্রতি অধিক হক রাখে না। কারণ ‘উমার (রাঃ) এবং তাঁর সাথীরা একটি হিজরাত লাভ করেছে, আর তোমরা যারা জাহাজে হিজরাতকারী ছিলে তারা দু’টি হিজরাত লাভ করেছ। আসমা (রাঃ) বলেন, এ ঘটনার পর আমি আবূ মূসা (রাঃ) এবং জাহাজযোগে হিজরাতকারী অন্যদেরকে দেখেছি যে, তাঁরা সদলবলে এসে আমার নিকট থেকে এ হাদীসখানা শুনতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলেন সে কথাটির চেয়ে তাঁদের কাছে দুনিয়ার অন্য কোন জিনিস অধিকতর প্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন যে, আসমা (রাঃ) বলেছেন, আমি আবূ মূসা [আশ‘আরী (রাঃ)]-কে দেখেছি, তিনি বারবার আমার নিকট হতে এ হাদীসটি শুনতে চাইতেন। [মুসলিম ৪৪/৪১, হাঃ ২৫০২, ২৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
فلما جاء النبي صلى الله عليه وسلم قالت يا نبي الله ان عمر قال كذا وكذا. قال " فما قلت له ". قالت قلت له كذا وكذا. قال " ليس باحق بي منكم، وله ولاصحابه هجرة واحدة، ولكم انتم اهل السفينة هجرتان ". قالت فلقد رايت ابا موسى واصحاب السفينة ياتوني ارسالا، يسالوني عن هذا الحديث، ما من الدنيا شىء هم به افرح ولا اعظم في انفسهم مما قال لهم النبي صلى الله عليه وسلم. قال ابو بردة قالت اسماء فلقد رايت ابا موسى وانه ليستعيد هذا الحديث مني
আবূ বুরদা (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে আরো বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশ‘আরী গোত্রের লোকেরা রাতের বেলায় এলেও আমি তাদেরকে তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ দিয়েই চিনতে পারি এবং রাতের বেলায় তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনেই আমি তাদের বাড়িঘর চিনতে পারি। যদিও আমি দিবাভাগে তাদেরকে নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করতে দেখিনি। হাকীম ছিলেন আশ‘আরীদের একজন। যখন তিনি কোন দল কিংবা (বর্ণনাকারী বলেছেন) কোন দুশমনের মুখোমুখী হতেন তখন তিনি তাদেরকে বলতেন, আমার সাথীরা তোমাদের বলেছেন, যেন তোমরা তাঁদের জন্য অপেক্ষা কর। [মুসলিম ৪৪/৩৯, হাঃ ২৪৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
قال ابو بردة عن ابي موسى، قال النبي صلى الله عليه وسلم " اني لاعرف اصوات رفقة الاشعريين بالقران، حين يدخلون بالليل، واعرف منازلهم من اصواتهم بالقران بالليل، وان كنت لم ار منازلهم حين نزلوا بالنهار، ومنهم حكيم، اذا لقي الخيل او قال العدو قال لهم ان اصحابي يامرونكم ان تنظروهم
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের পরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। তিনি আমাদের জন্য গানীমাতের মাল বণ্টন করেছেন। আমাদের ব্যতীত বিজয়ে অংশ নেয়নি এমন কারোর জন্য তিনি (খাইবারের গানীমাত) বণ্টন করেননি। [৩১৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق بن ابراهيم، سمع حفص بن غياث، حدثنا بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم بعد ان افتتح خيبر، فقسم لنا، ولم يقسم لاحد لم يشهد الفتح غيرنا
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি কিন্তু গানীমাত হিসেবে আমরা সোনা, রুপা কিছুই পাইনি। আমরা গানীমাত হিসেবে পেয়েছিলাম গরু, উট, বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রী এবং ফলের বাগান। (যুদ্ধ শেষে) আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা পর্যন্ত ফিরে এলাম। তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সঙ্গে ছিল মিদআম নামে তাঁর একটি গোলাম। বানী যিবাব (রাঃ)-এর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটি হাদিয়া দিয়েছিল। এক সময়ে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাওদা নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত একটি তীর ছুটে এসে তার গায়ে পড়ল। তাতে গোলামটি মারা গেল। তখন লোকেরা বলতে লাগল, কী আনন্দদায়ক তার এ শাহাদাত! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা? সেই মহান সত্তার কসম! তাঁর হাতে আমার প্রাণ, বণ্টনের আগে খাইবারের গানীমাত থেকে যে চাদরখানা তুলে নিয়েছিল সেটি আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা শুনে আরেক লোক একটি অথবা দু’টি জুতার ফিতা নিয়ে এসে বলল, এ জিনিসটি আমি বণ্টনের আগেই নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ একটি অথবা দু’টি ফিতাও হয়ে যেত আগুনের (ফিতা)।[1] [৬৭০৭; মুসলিম ১/৪৯, হাঃ ১১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا معاوية بن عمرو، حدثنا ابو اسحاق، عن مالك بن انس، قال حدثني ثور، قال حدثني سالم، مولى ابن مطيع انه سمع ابا هريرة رضى الله عنه يقول افتتحنا خيبر، ولم نغنم ذهبا ولا فضة، انما غنمنا البقر والابل والمتاع والحوايط، ثم انصرفنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الى وادي القرى، ومعه عبد له يقال له مدعم، اهداه له احد بني الضباب، فبينما هو يحط رحل رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ جاءه سهم عاير حتى اصاب ذلك العبد، فقال الناس هنييا له الشهادة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بلى والذي نفسي بيده، ان الشملة التي اصابها يوم خيبر من المغانم لم تصبها المقاسم لتشتعل عليه نارا ". فجاء رجل حين سمع ذلك من النبي صلى الله عليه وسلم بشراك او بشراكين، فقال هذا شىء كنت اصبته. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " شراك او شراكان من نار
‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মনে রেখ! সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি পরবর্তী বংশধরদের নিঃস্ব ও রিক্ত-হস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত তা হলে আমি আমার সকল বিজিত এলাকা ঐভাবে বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার বণ্টন করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা তাদের জন্য গচ্ছিত রেখে যাচ্ছি যেন পরবর্তী বংশধরগণ তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিতে পারে। [২৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، اخبرنا محمد بن جعفر، قال اخبرني زيد، عن ابيه، انه سمع عمر بن الخطاب رضى الله عنه يقول اما والذي نفسي بيده، لولا ان اترك اخر الناس ببانا ليس لهم شىء، ما فتحت على قرية الا قسمتها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر، ولكني اتركها خزانة لهم يقتسمونها
‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পরবর্তী মুসলিমদের উপর আমার আশঙ্কা না থাকলে আমি তাদের (মুজাহিদগণের) বিজিত এলাকাগুলো তাঁদের মধ্যে সেভাবে বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার বণ্টন করে দিয়েছিলেন। [২৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا ابن مهدي، عن مالك بن انس، عن زيد بن اسلم، عن ابيه، عن عمر رضى الله عنه قال لولا اخر المسلمين ما فتحت عليهم قرية الا قسمتها، كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر
আমবাসা ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে (খাইবার যুদ্ধের গানীমাতের) অংশ চাইলেন। তখন বনূ সা‘ঈদ ইবনু আস গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, না, তাকে (অংশ) দিবেন না। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, এ লোক তো ইবনু কাওকালের হত্যাকারী। কথাটি শুনে সে ব্যক্তি বলল, পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফিয়ে পড়া (উড়ে এসে জুড়ে বসা) বুনো বিড়ালের কথায় আশ্চর্যবোধ করছি। [২৮২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৫ প্রথমাংশ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، قال سمعت الزهري، وساله، اسماعيل بن امية قال اخبرني عنبسة بن سعيد، ان ابا هريرة رضى الله عنه اتى النبي صلى الله عليه وسلم فساله، قال له بعض بني سعيد بن العاص لا تعطه. فقال ابو هريرة هذا قاتل ابن قوقل. فقال واعجباه لوبر تدلى من قدوم الضان
যুবাইদী-যুহরী-‘আমবাসাহ ইবনু সা‘ঈদ (রহ.)-আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সা‘ঈদ ইবনু আস (রাঃ)-কে সংবাদ দিচ্ছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবান [ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ)]-এর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল মদিনা থেকে নাজদের দিকে পাঠিয়েছিলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার বিজয়ের পর সেখানে অবস্থানকালে আবান (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ সেখানে এসে তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] সঙ্গে মিলিত হলেন। তাদের ঘোড়াগুলোর লাগাম ছিল খেজুরের ছালের তৈরি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদেরকে কোন অংশ দিবেন না। তখন আবান (রাঃ) বললেন, পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফিয়ে পড়া বুনো বিড়াল, তোমাকেই দেয়া হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবান! বস। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (আবান ও তার সঙ্গীদেরকে) অংশ দিলেন না। [২৮২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ويذكر عن الزبيدي، عن الزهري، قال اخبرني عنبسة بن سعيد، انه سمع ابا هريرة، يخبر سعيد بن العاصي قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ابان على سرية من المدينة قبل نجد، قال ابو هريرة فقدم ابان واصحابه على النبي صلى الله عليه وسلم بخيبر، بعد ما افتتحها، وان حزم خيلهم لليف، قال ابو هريرة قلت يا رسول الله، لا تقسم لهم. قال ابان وانت بهذا يا وبر تحدر من راس ضان. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا ابان اجلس " فلم يقسم لهم
‘আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দাদা [সা‘ঈদ ইবনু আমর ইবনু সা‘ঈদ ইবনুল আস (রাঃ)] আমাকে জানিয়েছেন যে, আবান ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সালাম দিলেন। তখন আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো ইবনু কাওকাল (রাঃ)-এর হত্যাকারী! তখন আবান (রাঃ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বললেন, দান পর্বতের চূড়া থেকে হঠাৎ নেমে আসা বুনো বিড়ালের কথায় আশ্চর্য হচ্ছি! সে এমন এক লোকের ব্যাপারে আমাকে দোষারোপ করছে যাকে আল্লাহ আমার হাত দিয়ে সম্মানিত করেছেন (শাহাদাত দান করেছেন)। আর তাঁর হাত দিয়ে লাঞ্ছিত হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন।[1] [২৮২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد، قال اخبرني جدي، ان ابان بن سعيد، اقبل الى النبي صلى الله عليه وسلم فسلم عليه، فقال ابو هريرة يا رسول الله هذا قاتل ابن قوقل. وقال ابان لابي هريرة واعجبا لك وبر تدادا من قدوم ضان. ينعى على امرا اكرمه الله بيدي، ومنعه ان يهينني بيده
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমাহ (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি মদিনা্ ও ফাদাক-এ অবস্থিত ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং খাইবারের খুমুসের (পঞ্চমাংশ) অবশিষ্ট থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবীদের) কোন ওয়ারিশ হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাব তা সদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদাকাহ তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে এতটুকুও পরিবর্তন করব না। এ ব্যাপারে তিনি যেভাবে ব্যবহার করে গেছেন আমিও ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করব। এ কথা বলে আবূ বাকর (রাঃ) ফাতেমাহ (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বাকর (রাঃ)-এর উপর নাখোশ হলেন এবং তাঁর থেকে সম্পর্কহীন থাকলেন। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। তিনি ইন্তিকাল করলে তাঁর স্বামী ‘আলী (রাঃ) রাতের বেলা তাঁকে দাফন করেন। আবূ বাকর (রাঃ)-কেও এ খবর দিলেন না এবং তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করে নেন।[1] ফাতেমাহ (রাঃ)-এর জীবিত অবস্থায় লোকজনের মনে ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ছিল। ফাতিমাহ (রাঃ) ইন্তিকাল করলে ‘আলী (রাঃ) লোকজনের চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহ্ন দেখতে পেলেন। তাই তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সমঝোতা ও তাঁর কাছে বাইআতের ইচ্ছা করলেন। এ ছয় মাসে তাঁর পক্ষে বাই‘আত গ্রহণের সুযোগ হয়নি। তাই তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আপনি আমার কাছে আসুন। (এটা জানতে পেরে) ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একা একা তাঁর কাছে যাবেন না। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে বলে তোমরা আশঙ্কা করছ? আল্লাহর কসম! আমি তাঁদের কাছে যাব। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন। ‘আলী (রাঃ) তাশাহ্হুদ পাঠ করে বললেন, আমরা আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ আপনাকে যা কিছু দান করেছেন সে সম্পর্কে ওয়াকেবহাল। আর যে কল্যাণ (অর্থাৎ খিলাফাত) আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন সে ব্যাপারেও আমরা আপনার উপর হিংসা পোষণ করি না। তবে খিলাফাতের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিজস্ব মতামতের প্রাধান্য দিচ্ছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় হিসেবে খিলাফাতের কাজে আমাদেরও কিছু পরামর্শ দেয়ার অধিকার আছে। এ কথায় আবূ বাকর (রাঃ)-এর চোখ থেকে অশ্রু উপচে পড়ল। এরপর তিনি যখন আলোচনা আরম্ভ করলেন তখন বললেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয় চেয়েও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়বর্গ অধিক প্রিয়। আর এ সম্পদগুলোতে আমার এবং আপনাদের মধ্যে যে মতবিরোধ হয়েছে সে ব্যাপারেও আমি কল্যাণকর পথ অনুসরণে পিছপা হইনি। বরং এ ক্ষেত্রেও আমি কোন কাজ পরিত্যাগ করিনি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে করতে দেখেছি। তারপর ‘আলী (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেনঃ যুহরের পর আপনার হাতে বাই‘আত গ্রহণের ওয়াদা রইল। যুহরের সালাত আদায়ের পর আবূ বাকর (রাঃ) মিম্বারে বসে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন, তারপর ‘আলী (রাঃ)-এর বর্তমান অবস্থা এবং বাই‘আত গ্রহণে তার দেরি করার কারণ ও তাঁর পেশকৃত আপত্তিগুলো তিনি বর্ণনা করলেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বাকর (রাঃ)-এর মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি যা কিছু করেছেন তা আবূ বাকর (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর মর্যাদাকে অস্বীকার করার জন্য করেননি। (তিনি বলেন) তবে আমরা ভেবেছিলাম যে, এ ব্যাপারে আমাদেরও পরামর্শ দেয়ার অধিকার থাকবে। অথচ তিনি [আবূ বাকর (রাঃ)] আমাদের পরামর্শ ত্যাগ করে স্বাধীন মতের উপর রয়ে গেছেন। তাই আমরা মানসিক কষ্ট পেয়েছিলাম। মুসলিমগণ আনন্দিত হয়ে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) আমর বিল মা‘রূফ-এর পানে ফিরে আসার কারণে মুসলিমগণ আবার তাঁর নিকটবর্তী হতে শুরু করলেন। [৩০৯২, ৩০৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমাহ (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি মদিনা্ ও ফাদাক-এ অবস্থিত ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং খাইবারের খুমুসের (পঞ্চমাংশ) অবশিষ্ট থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবীদের) কোন ওয়ারিশ হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাব তা সদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদাকাহ তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে এতটুকুও পরিবর্তন করব না। এ ব্যাপারে তিনি যেভাবে ব্যবহার করে গেছেন আমিও ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করব। এ কথা বলে আবূ বাকর (রাঃ) ফাতেমাহ (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বাকর (রাঃ)-এর উপর নাখোশ হলেন এবং তাঁর থেকে সম্পর্কহীন থাকলেন। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। তিনি ইন্তিকাল করলে তাঁর স্বামী ‘আলী (রাঃ) রাতের বেলা তাঁকে দাফন করেন। আবূ বাকর (রাঃ)-কেও এ খবর দিলেন না এবং তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করে নেন।[1] ফাতেমাহ (রাঃ)-এর জীবিত অবস্থায় লোকজনের মনে ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ছিল। ফাতিমাহ (রাঃ) ইন্তিকাল করলে ‘আলী (রাঃ) লোকজনের চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহ্ন দেখতে পেলেন। তাই তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সমঝোতা ও তাঁর কাছে বাইআতের ইচ্ছা করলেন। এ ছয় মাসে তাঁর পক্ষে বাই‘আত গ্রহণের সুযোগ হয়নি। তাই তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আপনি আমার কাছে আসুন। (এটা জানতে পেরে) ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একা একা তাঁর কাছে যাবেন না। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে বলে তোমরা আশঙ্কা করছ? আল্লাহর কসম! আমি তাঁদের কাছে যাব। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন। ‘আলী (রাঃ) তাশাহ্হুদ পাঠ করে বললেন, আমরা আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ আপনাকে যা কিছু দান করেছেন সে সম্পর্কে ওয়াকেবহাল। আর যে কল্যাণ (অর্থাৎ খিলাফাত) আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন সে ব্যাপারেও আমরা আপনার উপর হিংসা পোষণ করি না। তবে খিলাফাতের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিজস্ব মতামতের প্রাধান্য দিচ্ছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় হিসেবে খিলাফাতের কাজে আমাদেরও কিছু পরামর্শ দেয়ার অধিকার আছে। এ কথায় আবূ বাকর (রাঃ)-এর চোখ থেকে অশ্রু উপচে পড়ল। এরপর তিনি যখন আলোচনা আরম্ভ করলেন তখন বললেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয় চেয়েও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়বর্গ অধিক প্রিয়। আর এ সম্পদগুলোতে আমার এবং আপনাদের মধ্যে যে মতবিরোধ হয়েছে সে ব্যাপারেও আমি কল্যাণকর পথ অনুসরণে পিছপা হইনি। বরং এ ক্ষেত্রেও আমি কোন কাজ পরিত্যাগ করিনি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে করতে দেখেছি। তারপর ‘আলী (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেনঃ যুহরের পর আপনার হাতে বাই‘আত গ্রহণের ওয়াদা রইল। যুহরের সালাত আদায়ের পর আবূ বাকর (রাঃ) মিম্বারে বসে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন, তারপর ‘আলী (রাঃ)-এর বর্তমান অবস্থা এবং বাই‘আত গ্রহণে তার দেরি করার কারণ ও তাঁর পেশকৃত আপত্তিগুলো তিনি বর্ণনা করলেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বাকর (রাঃ)-এর মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি যা কিছু করেছেন তা আবূ বাকর (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর মর্যাদাকে অস্বীকার করার জন্য করেননি। (তিনি বলেন) তবে আমরা ভেবেছিলাম যে, এ ব্যাপারে আমাদেরও পরামর্শ দেয়ার অধিকার থাকবে। অথচ তিনি [আবূ বাকর (রাঃ)] আমাদের পরামর্শ ত্যাগ করে স্বাধীন মতের উপর রয়ে গেছেন। তাই আমরা মানসিক কষ্ট পেয়েছিলাম। মুসলিমগণ আনন্দিত হয়ে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) আমর বিল মা‘রূফ-এর পানে ফিরে আসার কারণে মুসলিমগণ আবার তাঁর নিকটবর্তী হতে শুরু করলেন। [৩০৯২, ৩০৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের পর আমরা বলাবলি করলাম, এখন আমরা পরিতৃপ্তির সঙ্গে খেজুর খেতে পারব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا حرمي، حدثنا شعبة، قال اخبرني عمارة، عن عكرمة، عن عايشة رضى الله عنها قالت ولما فتحت خيبر قلنا الان نشبع من التمر
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয় করার পূর্ব পর্যন্ত আমরা তৃপ্ত হয়ে খেতে পাইনি। [1] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحسن، حدثنا قرة بن حبيب، حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار، عن ابيه، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال ما شبعنا حتى فتحنا خيبر
আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের অধিবাসীদের জন্য এক ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করলেন। এক সময়ে তিনি উন্নত জাতের কিছু খেজুর নিয়ে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাইবারের সব খেজুরই কি এ রকম? প্রশাসক জবাব দিলেন, জ্বী না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমরা এ রকম খেজুরের এক সা’ সাধারণ খেজুরের দু’ সা’র বদলে কিংবা এ রকম খেজুরের দু’ সা’ সাধারণ খেজুরের তিন সা’র বদলে গ্রহণ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন করো না। দিরহামের বদলে সব খেজুর বিক্রি করে দিবে। তারপর দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর কিনে নিবে।[1] [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২০ প্রথমাংশ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن عبد المجيد بن سهيل، عن سعيد بن المسيب، عن ابي سعيد الخدري، وابي، هريرة رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلا على خيبر، فجاءه بتمر جنيب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كل تمر خيبر هكذا ". فقال لا والله يا رسول الله، انا لناخذ الصاع من هذا بالصاعين {والصاعين} بالثلاثة. فقال " لا تفعل، بع الجمع بالدراهم، ثم ابتع بالدراهم جنيبا
আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের অধিবাসীদের জন্য এক ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করলেন। এক সময়ে তিনি উন্নত জাতের কিছু খেজুর নিয়ে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাইবারের সব খেজুরই কি এ রকম? প্রশাসক জবাব দিলেন, জ্বী না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমরা এ রকম খেজুরের এক সা’ সাধারণ খেজুরের দু’ সা’র বদলে কিংবা এ রকম খেজুরের দু’ সা’ সাধারণ খেজুরের তিন সা’র বদলে গ্রহণ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন করো না। দিরহামের বদলে সব খেজুর বিক্রি করে দিবে। তারপর দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর কিনে নিবে।[1] [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২০ প্রথমাংশ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن عبد المجيد بن سهيل، عن سعيد بن المسيب، عن ابي سعيد الخدري، وابي، هريرة رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلا على خيبر، فجاءه بتمر جنيب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كل تمر خيبر هكذا ". فقال لا والله يا رسول الله، انا لناخذ الصاع من هذا بالصاعين {والصاعين} بالثلاثة. فقال " لا تفعل، بع الجمع بالدراهم، ثم ابتع بالدراهم جنيبا
সা‘ঈদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বানী আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খাইবার পাঠিছিলেন এবং তাঁকে সেখানকার অধিবাসীদের প্রশাসক নিযুক্ত করেছিলেন। অন্য সনদে আবদুল মাজীদ-আবূ সালিহ সাম্মান (রহ.)-আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وقال عبد العزيز بن محمد عن عبد المجيد، عن سعيد، ان ابا سعيد، وابا، هريرة حدثاه ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي من الانصار الى خيبر فامره عليها. وعن عبد المجيد عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة وابي سعيد مثله
সা‘ঈদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বানী আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খাইবার পাঠিছিলেন এবং তাঁকে সেখানকার অধিবাসীদের প্রশাসক নিযুক্ত করেছিলেন। অন্য সনদে আবদুল মাজীদ-আবূ সালিহ সাম্মান (রহ.)-আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وقال عبد العزيز بن محمد عن عبد المجيد، عن سعيد، ان ابا سعيد، وابا، هريرة حدثاه ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي من الانصار الى خيبر فامره عليها. وعن عبد المجيد عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة وابي سعيد مثله
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، ان فاطمة عليها السلام بنت النبي صلى الله عليه وسلم ارسلت الى ابي بكر تساله ميراثها من رسول الله صلى الله عليه وسلم مما افاء الله عليه بالمدينة وفدك، وما بقي من خمس خيبر، فقال ابو بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث، ما تركنا صدقة، انما ياكل ال محمد صلى الله عليه وسلم في هذا المال ". واني والله لا اغير شييا من صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حالها التي كان عليها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاعملن فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم فابى ابو بكر ان يدفع الى فاطمة منها شييا فوجدت فاطمة على ابي بكر في ذلك فهجرته، فلم تكلمه حتى توفيت، وعاشت بعد النبي صلى الله عليه وسلم ستة اشهر، فلما توفيت، دفنها زوجها علي ليلا، ولم يوذن بها ابا بكر وصلى عليها، وكان لعلي من الناس وجه حياة فاطمة، فلما توفيت استنكر علي وجوه الناس، فالتمس مصالحة ابي بكر ومبايعته، ولم يكن يبايع تلك الاشهر، فارسل الى ابي بكر ان ايتنا، ولا ياتنا احد معك، كراهية لمحضر عمر. فقال عمر لا والله لا تدخل عليهم وحدك. فقال ابو بكر وما عسيتهم ان يفعلوا بي، والله لاتينهم. فدخل عليهم ابو بكر، فتشهد علي فقال انا قد عرفنا فضلك، وما اعطاك، الله ولم ننفس عليك خيرا ساقه الله اليك، ولكنك استبددت علينا بالامر، وكنا نرى لقرابتنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم نصيبا. حتى فاضت عينا ابي بكر، فلما تكلم ابو بكر قال والذي نفسي بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الى ان اصل من قرابتي، واما الذي شجر بيني وبينكم من هذه الاموال، فلم ال فيها عن الخير، ولم اترك امرا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصنعه فيها الا صنعته. فقال علي لابي بكر موعدك العشية للبيعة. فلما صلى ابو بكر الظهر رقي على المنبر، فتشهد وذكر شان علي، وتخلفه عن البيعة، وعذره بالذي اعتذر اليه، ثم استغفر، وتشهد علي فعظم حق ابي بكر، وحدث انه لم يحمله على الذي صنع نفاسة على ابي بكر، ولا انكارا للذي فضله الله به، ولكنا نرى لنا في هذا الامر نصيبا، فاستبد علينا، فوجدنا في انفسنا، فسر بذلك المسلمون وقالوا اصبت. وكان المسلمون الى علي قريبا، حين راجع الامر المعروف
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، ان فاطمة عليها السلام بنت النبي صلى الله عليه وسلم ارسلت الى ابي بكر تساله ميراثها من رسول الله صلى الله عليه وسلم مما افاء الله عليه بالمدينة وفدك، وما بقي من خمس خيبر، فقال ابو بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث، ما تركنا صدقة، انما ياكل ال محمد صلى الله عليه وسلم في هذا المال ". واني والله لا اغير شييا من صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حالها التي كان عليها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاعملن فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم فابى ابو بكر ان يدفع الى فاطمة منها شييا فوجدت فاطمة على ابي بكر في ذلك فهجرته، فلم تكلمه حتى توفيت، وعاشت بعد النبي صلى الله عليه وسلم ستة اشهر، فلما توفيت، دفنها زوجها علي ليلا، ولم يوذن بها ابا بكر وصلى عليها، وكان لعلي من الناس وجه حياة فاطمة، فلما توفيت استنكر علي وجوه الناس، فالتمس مصالحة ابي بكر ومبايعته، ولم يكن يبايع تلك الاشهر، فارسل الى ابي بكر ان ايتنا، ولا ياتنا احد معك، كراهية لمحضر عمر. فقال عمر لا والله لا تدخل عليهم وحدك. فقال ابو بكر وما عسيتهم ان يفعلوا بي، والله لاتينهم. فدخل عليهم ابو بكر، فتشهد علي فقال انا قد عرفنا فضلك، وما اعطاك، الله ولم ننفس عليك خيرا ساقه الله اليك، ولكنك استبددت علينا بالامر، وكنا نرى لقرابتنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم نصيبا. حتى فاضت عينا ابي بكر، فلما تكلم ابو بكر قال والذي نفسي بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الى ان اصل من قرابتي، واما الذي شجر بيني وبينكم من هذه الاموال، فلم ال فيها عن الخير، ولم اترك امرا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصنعه فيها الا صنعته. فقال علي لابي بكر موعدك العشية للبيعة. فلما صلى ابو بكر الظهر رقي على المنبر، فتشهد وذكر شان علي، وتخلفه عن البيعة، وعذره بالذي اعتذر اليه، ثم استغفر، وتشهد علي فعظم حق ابي بكر، وحدث انه لم يحمله على الذي صنع نفاسة على ابي بكر، ولا انكارا للذي فضله الله به، ولكنا نرى لنا في هذا الامر نصيبا، فاستبد علينا، فوجدنا في انفسنا، فسر بذلك المسلمون وقالوا اصبت. وكان المسلمون الى علي قريبا، حين راجع الامر المعروف