Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২৭ হাদিসসমূহ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগের উম্মাতগণের মধ্যে অনেক মুহাদ্দাস (যার ক্বলবে সত্য কথা অবতীর্ণ হয়) ব্যক্তি ছিলেন। আমার উম্মাতের মধ্যে যদি কেউ মুহাদ্দাস হন তবে সে ব্যক্তি উমর। যাকারিয়া (রহ.)....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে অধিক বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের আগের বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কতক লোক ছিলেন, যাঁরা নবী ছিলেন না বটে, তবে ফেরেশতামন্ডলী তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন। আমার উম্মাতে এমন কোন লোক হলে সে হবে ‘উমার (রাঃ)। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) (কুরআনের আয়াতে) وَلَا مُحَدَّثٍ অতিরিক্ত বলেছেন। (৩৪৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن قزعة، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابيه، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لقد كان فيما قبلكم من الامم محدثون، فان يك في امتي احد فانه عمر ". زاد زكرياء بن ابي زايدة عن سعد، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لقد كان فيمن كان قبلكم من بني اسراييل رجال يكلمون من غير ان يكونوا انبياء، فان يكن من امتي منهم احد فعمر ". قال ابن عباس رضي الله عنهما: "من نبي ولا محدث
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা এক রাখাল তার বকরীর পালের সঙ্গে ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ পাল আক্রমণ করে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছে দৌড়ে বকরীকে উদ্ধার করে আনল। তখন বাঘ রাখালকে বলল, যখন আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকবে না তখন হিংস্র জন্তুদের আক্রমণ হতে তাদের কে রক্ষা করবে? সাহাবীগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এটা বিশ্বাস করি এবং আবূ বাকর ও উমরও বিশ্বাস করে। অথচ আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। (২৩২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، حدثنا عقيل، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وابي، سلمة بن عبد الرحمن قالا سمعنا ابا هريرة رضى الله عنه يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بينما راع في غنمه عدا الذيب فاخذ منها شاة، فطلبها حتى استنقذها، فالتفت اليه الذيب فقال له من لها يوم السبع، ليس لها راع غيري". فقال الناس سبحان الله. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فاني اومن به وابو بكر وعمر " وما ثم ابو بكر وعمر
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখতে পেলাম, অনেক লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হল। তাদের গায়ে জামা ছিল। কারো কারো জামা এত ছোট ছিল যে, কোন ভাবে বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর কারো জামা এত্থেকেও ছোট ছিল। আর ‘উমার (রাঃ)-কেও আমার সামনে পেশ করা হল। তাঁর শরীরে এত লম্বা জামা ছিল যে, সে জামাটি হেঁচড়িয়ে চলছিল। সহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এ স্বপ্নের কি তাবীর করলেন। তিনি বললেন, দ্বীনদারী। (২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني ابو امامة بن سهل بن حنيف، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " بينا انا نايم رايت الناس عرضوا على وعليهم قمص، فمنها ما يبلغ الثدى، ومنها ما يبلغ دون ذلك، وعرض على عمر وعليه قميص اجتره ". قالوا فما اولته يا رسول الله قال " الدين
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) আহত হলেন, তখন তিনি বেদনা অনুভব করছিলেন। তখন তাঁকে সান্ত্বনা দেয়ার উদ্দেশ্যে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতে লাগলেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! এ আঘাত জনিত কারণে যদি আপনার কিছু হয় দুঃখের কোন কারণ নেই। আপনি তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক ভালভাবে আদায় করেছেন। অতঃপর আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আপনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গ লাভ করেন এবং এর হকও পূর্ণরূপে আদায় করেন। অতঃপর আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আপনি সহাবাগণের সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাদের হকও সঠিকভাবে আদায় করেছেন। যদি আপনি তাদের হতে আলাদা হয়ে পড়েন তবে আপনি অবশ্যই তাদের হতে এমন অবস্থায় আলাদা হবেন যে তাঁরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে যা বলেছ, তাতো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি আমার প্রতি করেছেন। এবং আবূ বাকর (রাঃ) এর সঙ্গ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে যা তুমি বলেছ তাও একমাত্র মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি আমার উপর করেছেন। আর আমার যে অস্থিরতা তুমি দেখছ তা তোমার এবং তোমার সাথীদের কারণেই। আল্লাহর কসম, আমার নিকট যদি দুনিয়া ভরা সোনা থাকত তবে আল্লাহর আযাব দেখার আগেই তা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদয়া হিসাবে বিলিয়ে দিতাম। হাম্মাদ (রহ.).....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম.....। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الصلت بن محمد، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، حدثنا ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن المسور بن مخرمة، قال لما طعن عمر جعل يالم، فقال له ابن عباس وكانه يجزعه يا امير المومنين، ولين كان ذاك لقد صحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاحسنت صحبته، ثم فارقته وهو عنك راض، ثم صحبت ابا بكر فاحسنت صحبته، ثم فارقته وهو عنك راض، ثم صحبت صحبتهم فاحسنت صحبتهم، ولين فارقتهم لتفارقنهم وهم عنك راضون. قال اما ما ذكرت من صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضاه، فانما ذاك من من الله تعالى من به على، واما ما ذكرت من صحبة ابي بكر ورضاه، فانما ذاك من من الله جل ذكره من به على، واما ما ترى من جزعي، فهو من اجلك واجل اصحابك، والله لو ان لي طلاع الارض ذهبا لافتديت به من عذاب الله عز وجل قبل ان اراه. قال حماد بن زيد حدثنا ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن ابن عباس، دخلت على عمر بهذا
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনার এক বাগানের ভিতর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বাগানের দরজা খুলে দেয়ার জন্য বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবূ বাকর (রাঃ)। তাঁকে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া সুসংবাদ দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার জন্য বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম, তিনি ‘উমার (রাঃ)। তাঁকে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুসংবাদ জানিয়ে দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর আর একজন দরজা খুলে দেয়ার জন্য বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দরজা খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ জানিয়ে দাও। কিন্তু তার উপর ভয়ানক বিপদ আসবে। দেখলাম যে, তিনি ‘উসমান (রাঃ)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, আমি তাকে বললাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর বললেন, اللهُ الْمُسْتَعَانُ আল্লাহই সাহায্যকারী। (৩৬৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يوسف بن موسى، حدثنا ابو اسامة، قال حدثني عثمان بن غياث، حدثنا ابو عثمان النهدي، عن ابي موسى رضى الله عنه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في حايط من حيطان المدينة، فجاء رجل فاستفتح، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " افتح له وبشره بالجنة ". ففتحت له، فاذا ابو بكر، فبشرته بما قال النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله، ثم جاء رجل فاستفتح، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " افتح له وبشره بالجنة ". ففتحت له، فاذا هو عمر، فاخبرته بما قال النبي صلى الله عليه وسلم فحمد الله، ثم استفتح رجل، فقال لي " افتح له وبشره بالجنة على بلوى تصيبه ". فاذا عثمان، فاخبرته بما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله ثم قال الله المستعان
আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর হস্তধারণকৃত অবস্থায় ছিলেন। (৬২৬৪, ৬৬৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال اخبرني حيوة، قال حدثني ابو عقيل، زهرة بن معبد انه سمع جده عبد الله بن هشام، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو اخذ بيد عمر بن الخطاب
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ يَحْفِرْ بِئْرَ رُومَةَ فَلَهُ الْجَنَّةُ فَحَفَرَهَا عُثْمَانُ وَقَالَ مَنْ جَهَّزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَلَهُ الْجَنَّةُ فَجَهَّزَهُ عُثْمَانُ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রূমা কূপটি যে খনন করে দিবে তার জন্য জান্নাত। ‘উসমান (রাঃ) তা খনন করে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, যে বিপজ্জনক যুদ্ধে যুদ্ধের মাল-সামানার ব্যবস্থা করবে তাঁর জন্য জান্নাত। ‘উসমান (রাঃ) তা করে দেন। ৩৬৯৫. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং বাগানের দরজা পাহারা দেয়ার জন্য আমাকে আদেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আসতে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। আমি দেখলাম যে, তিনি আবূ বাকর (রাঃ)। অতঃপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। দেখতে পেলেন, তিনি ‘উমার (রাঃ)। অতঃপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে বললেন, তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি দাও এবং শীঘ্রই তার উপর বিপদ আসবে এ কথা বলে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও। দেখতে পেলাম যে, তিনি ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ)। হাম্মাদ (রহ.).....আবূ মূসা (রাঃ) হতে এ রকমই বর্ণিত আছে। আসিম (রহ.) উক্ত বর্ণনায় আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানের এমন এক জায়গায় বসেছিলেন যেখানে পানি ছিল এবং তাঁর হাঁটুদ্বয় অথবা এক হাঁটু খোলা রেখে ছিলেন। যখন ‘উসমান (রাঃ) আসলেন তখন হাঁটু কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেললেন। (৩৬৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن ايوب، عن ابي عثمان، عن ابي موسى رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل حايطا وامرني بحفظ باب الحايط، فجاء رجل يستاذن، فقال " ايذن له وبشره بالجنة ". فاذا ابو بكر، ثم جاء اخر يستاذن فقال " ايذن له وبشره بالجنة ". فاذا عمر، ثم جاء اخر يستاذن، فسكت هنيهة ثم قال " ايذن له وبشره بالجنة على بلوى ستصيبه ". فاذا عثمان بن عفان. قال حماد وحدثنا عاصم الاحول، وعلي بن الحكم، سمعا ابا عثمان، يحدث عن ابي موسى، بنحوه، وزاد فيه عاصم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان قاعدا في مكان فيه ماء، قد انكشفت عن ركبتيه او ركبته، فلما دخل عثمان غطاها
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু খিয়ার (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ‘আবদুর রাহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু ‘আবদ ইয়াগুস (রহ.) আমাকে বললেন যে, ‘উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর (বৈপিত্রিয় ভাই) অলীদের ব্যাপারে আলোচনা করতে তোমাকে কিসে বাধা দেয়? লোকেরা তার সম্পর্কে নানারূপ কথাবার্তা বলছে। ‘উসমান (রাঃ) যখন সালাত আদায়ের উদ্দেশে বের হলেন তখন আমি তাঁর নিকটে গিয়ে বললাম, আপনার সঙ্গে আমার একটি দরকার আছে এবং তা আমি আপনার ভালোর জন্যই বলবো। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ওহে, আমি তোমা হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাচ্ছি। আমি তাদের নিকট ফিরে আসলাম। তৎক্ষণাৎ ‘উসমান (রাঃ)-এর দূত এসে হাযির হলো। আমি তার নিকট গেলাম। তিনি বললেন, বল, তোমার নাসীহাত কী? আমি বললাম, আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। কুরআন তাঁর উপর অবতীর্ণ করেছেন। আপনি ঐ সকলের একজন যাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহবানে সাড়া দিয়েছেন। আপনি উভয় হিজরাত করেছেন এবং আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর চরিত্রের মাধুর্য লক্ষ্য করেছেন। অলীদ সম্পর্কে লোকেরা নানা ধরনের কথাবার্তা বলাবলি করছে। ‘উসমান (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দর্শন পেয়েছ? আমি বললাম, না। তবে তাঁর ‘ইল্ম আমার পর্দানশীন কুমারীগণের নিকট যখন পৌঁছেছে তখন আমার নিকট অবশ্যই পৌঁছেছে। ‘উসমান (রাঃ) হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দানকারীদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তাঁর আনা শরীয়তের উপর আমিও ঈমান এনেছি। আমি উভয় হিজরাত করেছি, যেমন তুমি বলছ। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়‘আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর অবাধ্যতা করিনি ও তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। অতঃপর আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে দুনিয়া হতে নিয়ে গিয়েছেন। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে ঐরূপই সম্পর্ক ছিল। অতঃপর ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গেও তেমনই সম্পর্ক ছিল। অতঃপর আমার কাঁধে খিলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমার কি ঐ সকল অধিকার নেই যা তাঁদের ছিল? আমি বললাম হাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমাদের পক্ষ হতে কী সব কথাবার্তা আমার নিকট পৌঁছেছে? অবশ্য অলীদের ব্যাপারে তুমি যা বলছ অতি শীঘ্র আমি সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। এ বলে তিনি ‘আলী (রাঃ)-কে ডেকে এনে অলীদকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন। ‘আলী (রাঃ) তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করলেন। (৩৮৭২, ৩৯২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني احمد بن شبيب بن سعيد، قال حدثني ابي، عن يونس، قال ابن شهاب اخبرني عروة، ان عبيد الله بن عدي بن الخيار، اخبره ان المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث قالا ما يمنعك ان تكلم عثمان لاخيه الوليد فقد اكثر الناس فيه. فقصدت لعثمان حتى خرج الى الصلاة، قلت ان لي اليك حاجة، وهي نصيحة لك. قال يا ايها المرء قال معمر اراه قال اعوذ بالله منك. فانصرفت، فرجعت اليهم اذ جاء رسول عثمان فاتيته، فقال ما نصيحتك فقلت ان الله سبحانه بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق، وانزل عليه الكتاب، وكنت ممن استجاب لله ولرسوله، فهاجرت الهجرتين، وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم ورايت هديه، وقد اكثر الناس في شان الوليد. قال ادركت رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت لا ولكن خلص الى من علمه ما يخلص الى العذراء في سترها. قال اما بعد فان الله بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالحق، فكنت ممن استجاب لله ولرسوله وامنت بما بعث به، وهاجرت الهجرتين كما قلت، وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم وبايعته، فوالله ما عصيته ولا غششته حتى توفاه الله، ثم ابو بكر مثله، ثم عمر مثله، ثم استخلفت، افليس لي من الحق مثل الذي لهم قلت بلى. قال فما هذه الاحاديث التي تبلغني عنكم اما ما ذكرت من شان الوليد، فسناخذ فيه بالحق ان شاء الله، ثم دعا عليا فامره ان يجلده فجلده ثمانين
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আবূ বাকর (রাঃ)-এর ন্যায় মর্যাদাবান কাউকে মনে করতাম না, অতঃপর ‘উমার (রাঃ)-কে, অতঃপর ‘উসমান (রাঃ)-কে, অতঃপর সহাবাগণের মধ্যে কাউকে কারও উপর মর্যাদা দিতাম না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ (রহ.) ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় শাবান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৩৬৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن حاتم بن بزيغ، حدثنا شاذان، حدثنا عبد العزيز بن ابي سلمة الماجشون، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كنا في زمن النبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بابي بكر احدا ثم عمر ثم عثمان، ثم نترك اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم لا نفاضل بينهم. تابعه عبد الله عن عبد العزيز
‘উসমান ইবনু মাওহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মিসরবাসী মক্কা্য় এসে হাজ্জ করে দেখতে পেল যে, কিছু লোক একত্রে বসে আছে। সে বলল, এ লোকজন কারা? তাকে জানানো হল এরা কুরাইশ বংশের লোকজন। সে বলল, তাদের মধ্যে শায়খ কে? তারা বললেন, ইনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)। সে ব্যক্তি (তাঁর নিকট এসে) বলল, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ), আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব; আপনি আমাকে বলুন, (১) আপনি কি এটা জানেন যে, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ। (২) সে বলল, আপনি জানেন কি ‘উসমান (রাঃ) বাদার যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন? ইবনু ‘উমার (রাঃ) উত্তরে বললেন, হাঁ। (৩) আপনি জানেন কি বায়‘আতে রিযওয়ানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন? ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হাঁ। লোকটি বলে উঠল, আল্লাহু আকবার। ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, এস, তোমাকে আসল ঘটনা বলে দেই। ‘উসমান (রাঃ)-এর উহুদ যুদ্ধ হতে পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ তাঁকে মাফ করে দিয়েছেন ও ক্ষমা করেছেন। আর তিনি বাদার যুদ্ধে এজন্য অনুপস্থিত ছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা তাঁর স্ত্রী রোগাক্রান্ত ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, বাদারে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব ও গনীমতের অংশ মিলবে। আর বায়‘আত রিযওয়ান হতে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হল, মক্কার বুকে তাঁর চেয়ে সম্ভ্রান্ত অন্য কেউ যদি থাকতো তবে তাকেই তিনি ‘উসমানের বদলে পাঠাতেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান (রাঃ)-কে মক্কা্য় পাঠান।এবং তাঁর চলে যাবার পর বায়‘আতে রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতের প্রতি ঈঙ্গিত করে বললেন, এটি ‘উসমানের হাত। অতঃপর ডান হাত বাম হাতে স্থাপন করে বললেন যে, এ হল ‘উসমানের বায়‘আত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) ঐ লোকটিকে বললেন, তুমি এই জবাব তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও। (৩১৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عثمان هو ابن موهب قال جاء رجل من اهل مصر حج البيت فراى قوما جلوسا، فقال من هولاء القوم قال هولاء قريش. قال فمن الشيخ فيهم قالوا عبد الله بن عمر. قال يا ابن عمر اني سايلك عن شىء فحدثني هل تعلم ان عثمان فر يوم احد قال نعم. قال تعلم انه تغيب عن بدر ولم يشهد قال نعم. قال تعلم انه تغيب عن بيعة الرضوان فلم يشهدها قال نعم. قال الله اكبر. قال ابن عمر تعال ابين لك اما فراره يوم احد فاشهد ان الله عفا عنه وغفر له، واما تغيبه عن بدر، فانه كانت تحته بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت مريضة، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان لك اجر رجل ممن شهد بدرا وسهمه ". واما تغيبه عن بيعة الرضوان فلو كان احد اعز ببطن مكة من عثمان لبعثه مكانه فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عثمان وكانت بيعة الرضوان بعد ما ذهب عثمان الى مكة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده اليمنى " هذه يد عثمان ". فضرب بها على يده، فقال " هذه لعثمان ". فقال له ابن عمر اذهب بها الان معك
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বাকর, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। তাঁদেরকে পেয়ে পাহাড়টি কেঁপে উঠল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্থির হও উহুদ। আমার ধারণা তিনি তাঁর পা দ্বারা আঘাত করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং দু’জন শহীদ ছাড়া আর কেউ নেই। (৩৬৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن سعيد، عن قتادة، ان انسا رضى الله عنه حدثهم قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم احدا، ومعه ابو بكر وعمر وعثمان، فرجف وقال " اسكن احد اظنه ضربه برجله فليس عليك الا نبي وصديق وشهيدان
‘আমর ইবনু মায়মূন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে আহত হবার কিছুদিন পূর্বে মদিনা্য় দেখেছি যে তিনি হুযায়ফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) ও ‘উসমান ইবনু হুনায়ফ (রহ.)-এর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন, তোমরা এটা কী করলে? তোমরা এটা কী করলে? তোমরা কি আশঙ্কা করছ যে, তোমরা ইরাক ভূমির উপর যে কর ধার্য করেছ তা বহনে ঐ ভূখন্ড অক্ষম? তারা বললেন, আমরা যে পরিমাণ কর ধার্য করেছি, ঐ ভূ-খন্ড তা বহনে সক্ষম। এতে বাড়তি কোন বোঝা চাপান হয়নি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তোমরা আবার চিন্তা করে দেখ যে, তোমরা এ ভূখন্ডের উপর যে কর আরোপ করেছ তা বহন সক্ষম নয়? বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, না। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ যদি আমাকে সুস্থ রাখেন তবে ইরাকের বিধবাগণকে এমন অবস্থায় রেখে যাব যে তারা আমার পরে কখনো অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর চতুর্থ দিন তিনি আহত হলেন। যেদিন ভোরে তিনি আহত হন, আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। ‘উমার (রাঃ) দু’কাতারের মধ্য দিয়ে চলার সময় বলতেন, কাতার সোজা করে নাও। যখন দেখতেন কাতারে কোন ত্রুটি নেই তখন তাকবীর বলতেন। তিনি অধিকাংশ সময় সূরা ইউসুফ, সূরা নাহ্ল অথবা এ ধরনের সূরা প্রথম রাক‘আতে তিলাওয়াত করতেন, যেন অধিক পরিমাণে লোক প্রথম রাকআতে শরীক হতে পারেন। তাকবীর বলার পরেই আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একটি কুকুর আমাকে আঘাত করেছে অথবা বলেন, আমাকে আক্রমণ করেছে। ঘাতক ‘ইলজ’ দ্রুত পলায়নের সময় দু’ধারী খঞ্জর দিয়ে ডানে বামে আঘাত করে চলছে। এভাবে তের জনকে আহত করল। এদের মধ্যে সাত জন শহীদ হলেন। এ অবস্থা দেখে এক মুসলিম তার লম্বা চাদরটি ঘাতকের উপর ফেলে দিলেন। ঘাতক যখন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে যাবে তখন সে আত্মহত্যা করল। ‘উমার (রাঃ) আব্দুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ)-এর হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিলেন। ‘উমার (রাঃ)-এর নিকটে যারা ছিল শুধুমাত্র তারাই ব্যাপারটি দেখতে পেল। আর মসজিদের শেষে যারা ছিল তারা ব্যাপারটি এর অধিক বুঝতে পারল না যে, ‘উমার (রাঃ)-এর কন্ঠস্বর শুনা যাচ্ছে না। তাই তারা ‘‘সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ’’ বলতে লাগলেন। আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তাঁদেরকে নিয়ে সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন। যখন মুসল্লীগণ চলে গেলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) দেখ তো কে আমাকে আঘাত করল। তিনি কিছুক্ষণ অনুসন্ধান করে এসে বললেন, মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ)-এর গোলাম (আবূ লুলু)। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ঐ কারিগর গোলামটি? তিনি বললেন, হাঁ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তার সর্বনাশ করুন। আমি তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ্ আমার মৃত্যু ইসলামের দাবীদার কোন ব্যক্তির হাতে ঘটান নি। হে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তুমি এবং তোমার পিতা মদিনা্য় কাফির গোলামের সংখ্যা বৃদ্ধি পছন্দ করতে। ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট অনেক অমুসলিম গোলাম ছিল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চান তবে আমি কাজ করে ফেলি অর্থাৎ আমি তাদেরকে হত্যা করে ফেলি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি ভুল বলছ। কেননা তারা তোমাদের ভাষায় কথা বলে, তোমাদের কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করে, তোমাদের মত হাজ্জ করে। অতঃপর তাঁকে তাঁর ঘরে নেয়া হল। আমরা তাঁর সঙ্গে চললাম। মানুষের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ইতোপূর্বে তাদের উপর এত বড় মুসীবত আর আসেনি। কেউ কেউ বলছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। আবার কেউ বলছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। অতঃপর খেজুরের শরবত আনা হল, তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা তার পেট হতে বেরিয়ে পড়ল। অতঃপর দুধ আনা হল, তিনি তা পান করলেন; তাও তার পেট হতে বেরিয়ে পড়ল। তখন সকলেই বুঝতে পারলেন, মৃত্যু তাঁর অবশ্যম্ভাবী। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। অন্যান্য লোকজনও আসতে শুরু করল। সকলেই তার প্রশংসা করতে লাগল। তখন যুবক বয়সী একটি লোক এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন। আপনার জন্য আল্লাহর সু-সংবাদ রয়েছে; আপনি তা গ্রহণ করুন। আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য গ্রহণ করেছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই আপনি তা গ্রহণ করেছেন, যে সম্পর্কে আপনি নিজেই অবগত আছেন অতঃপর আপনি খলীফা হয়ে ন্যায় বিচার করেছেন। অতঃপর আপনি শাহাদাত লাভ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি পছন্দ করি যে তা আমার জন্য ক্ষতিকর বা লাভজনক না হয়ে সমান সমান হয়ে যাক। যখন যুবকটি চলে যেতে উদ্যত হল তখন তার লুঙ্গিটি মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, যুবকটিকে আমার নিকট ডেকে আন। তিনি বললেন- হে ভাতিজা! তোমার কাপড়টি উঠিয়ে নাও। এটা তোমার কাপড়ের পরিচ্ছন্নতার জন্য এবং তোমার রবের নিকটও পছন্দনীয়। হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার, তুমি হিসাব করে দেখ আমার ঋণের পরিমাণ কত। তাঁরা হিসাব করে দেখতে পেলেন ছিয়াশি হাজার (দিরহাম) বা এর কাছাকাছি। তিনি বললেন, যদি ‘উমারের পরিবার পরিজনের মাল দ্বারা তা পরিশোধ হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে পরিশোধ করে দাও। অন্যথায় আদি ইবনু কা‘ব এর বংশধরদের নিকট হতে সাহায্য গ্রহণ কর। তাদের মাল দিয়েও যদি ঋণ পরিশোধ না হয় তবে কুরাইশ কবিলা হতে সাহায্য গ্রহণ করবে, এর বাহিরে কারো সাহায্য গ্রহণ করবে না। আমার পক্ষ হতে তাড়াতাড়ি ঋণ আদায় করে দাও। উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর খিদমতে তুমি যাও এবং বল ‘উমার আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে। ‘আমীরুল মু’মিনীন’ শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মু’মিনগণের আমীর নই। তাঁকে বল ‘উমার ইব্ন খাত্তাব তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হবার অনুমতি চাচ্ছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর খিদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ কর, তিনি দেখলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন হবার জন্য আপনার অনুমতি চেয়েছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তা আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যাপারে আমার উপরে তাঁকে অগ্রগণ্য করছি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ), যখন ফিরে আসছেন তখন বলা হল- এই যে ‘আবদুল্লাহ ফিরে আসছে। তিনি বললেন, আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। ‘উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কী সংবাদ? তিনি বললেন, আমীরুল মু’মিনীন, আপনি যা কামনা করেছেন, তাই হয়েছে, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে বড় কোন বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার মৃত্যু হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তবে আমাকে প্রবেশ করাবে আর যদি তিনি অনুমতি না দেন তবে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে। এ সময় উম্মুল মু‘মিনীন হাফসাহ (রাঃ)-কে কতিপয় মহিলাসহ আসতে দেখে আমরা উঠে পড়লাম। হাফসাহ (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন। অতঃপর পুরুষরা এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলে, তিনি ঘরের ভিতর গেলে ঘরের ভেতর হতেও আমরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি ওয়াসিয়াত করুন এবং খলীফা মনোনীত করুন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, খিলাফতের জন্য এ কয়েকজন ছাড়া অন্য কাউকে আমি যোগ্যতম পাচ্ছি না, যাঁদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইন্তিকালের সময় রাযী ও খুশী ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের নাম বললেন, ‘আলী, ‘উসমান, যুবায়র, ত্বলহা, সা‘দ ও ‘আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এবং বললেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তোমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু সে খিলাফত লাভ করতে পারবে না। তা ছিল শুধু সান্ত্বনা মাত্র। যদি খিলাফতের দায়িত্ব সা‘দের (রাঃ) উপর ন্যস্ত করা হয় তবে তিনি এর জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি। আর যদি তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ খলীফা নির্বাচিত হন তবে তিনি যেন সর্ব বিষয়ে সা‘দের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আমি তাঁকে অযোগ্যতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করিনি। আমার পরের খলীফাকে আমি ওয়াসিয়াত করছি, তিনি যেন প্রথম যুগের মুহাজিরগণের হক সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাদের মান-সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। এবং আমি তাঁকে আনসার সাহাবীগণের যাঁরা মুহাজিরগণের আসার আগে এই নগরীতে (মদিনা্য়) বসবাস করে আসছিলেন এবং ঈমান এনেছেন, তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওয়াসিয়াত করছি যে তাঁদের মধ্যে নেককারগণের ওযর আপত্তি যেন গ্রহণ করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে কারোর ভুলত্রুটি হলে তা যেন ক্ষমা করে দেয়া হয়। আমি তাঁকে এ ওয়সিয়াতও করছি যে, তিনি যেন রাজ্যের বিভিন্ন শহরের আধিবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করেন। কেননা তাঁরাও ইসলামের হিফাযতকারী। এবং তারাই ধন-সম্পদের যোগানদাতা। তারাই শত্রুদের চোখের কাঁটা। তাদের হতে তাদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কেবলমাত্র তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ যেন যাকাত আদায় করা হয়। আমি তাঁকে পল্লীবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করারও ওয়াসিয়ত করছি। কেননা তারাই আরবের ভিত্তি এবং ইসলামের মূল শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এনে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে যেন বিলিয়ে দেয়া হয়। আমি তাঁকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জিম্মীদের (অর্থাৎ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়াত করছি যে, তাদের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়। তাদের পক্ষাবলম্বনে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া যেন চাপানো না হয়। ‘উমার (রাঃ)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে সালাম করলেন এবং বললেন, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তাকে প্রবেশ করাও। অতঃপর তাঁকে প্রবেশ করান হল এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন করা হল। যখন তাঁর দাফন কাজ শেষ হল, তখন ঐ ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হলেন। তখন ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্য হতে তিনজনের উপর ছেড়ে দাও। তখন যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি আমার বিষয়টি ‘আলী (রাঃ)-এর উপর অর্পণ করলাম। ত্বলহা (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি ‘উসমান (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করলাম। সা‘দ (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি ‘আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করলাম। অতঃপর ‘আবদুর রহমান (রাঃ) ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, আপনাদের দু’জনের মধ্য হতে কে এই দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পেতে ইচ্ছা করেন? এ দায়িত্ব অপর জনের উপর অর্পণ করব। আল্লাহ্ ও ইসলামের হক আদায় করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে। কে অধিকতর যোগ্য সে সম্পর্কে দু’জনেরই চিন্তা করা উচিত। ব্যক্তিদ্বয় চুপ থাকলেন। তখন ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) নিজেই বললেন, আপনারা এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করতে পারেন কি? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আপনাদের মধ্যকার যোগ্যতম ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে একটুও ত্রুটি করব না। তাঁরা উভয়ে বললেন, হাঁ। তাদের একজনের হাত ধরে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আপনার যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা আছে তা আপনিও ভালভাবে জানেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এটা আপনার জন্য জরুরী হবে যে, যদি আপনাকে খলীফা মনোনীত করি তাহলে আপনি ইন্সাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। আর যদি ‘উসমান (রাঃ)-কে মনোনীত করি তবে আপনি তাঁর কথা শুনবেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। অতঃপর তিনি অপর জনের সঙ্গে একান্তে অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে অঙ্গীকার গ্রহণ করে তিনি বললেন, হে ‘উসমান (রাঃ) আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি [আবদুর রাহমান (রাঃ)], তাঁর হাতে বায়‘আত করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) তাঁর উসমান (রাঃ)-এর বায়‘আত করলেন। অতঃপর মদিনাবাসীগণ এগিয়ে এসে সকলেই বায়‘আত করলেন। (১৩৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ أَنْتَ مِنِّيْ وَأَنَا مِنْكَ وَقَالَ عُمَرُ تُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْهُ رَاضٍ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি আমার ঘনিষ্ঠ আপনজন আমি তোমার একান্ত শ্রদ্ধাভাজন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত পর্যন্ত তাঁর উপর সন্তুষ্ট ছিলেন। ৩৭০১. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। রাবী বলেন, তারা এই আগ্রহ ভরে রাত্রি যাপন করলেন যে, কাকে এ পতাকা দেয়া হবে। যখন ভোর হল তখন সকলেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে উপস্থিত হলেন। তাদের প্রত্যেকেই এ আশা করছিলেন যে পতাকা তাকে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি বললেন, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব কোথায়? তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি চক্ষু রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, কাউকে পাঠিয়ে তাকে আমার নিকট নিয়ে এস। যখন তিনি এলেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দু‘আও করলেন। এতে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যেন তাঁর চোখে কোন রোগই ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পতাকাটি দিলেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মত না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। তিনি বললেন, তুমি সোজা এগিয়ে যেতে থাক এবং তাদের আঙ্গিণায় পৌঁছে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের দা‘ওয়াত দাও। তাদের উপর আল্লাহর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে তাও তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম, তোমার দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়াত লাভ করে, তা হবে তোমার জন্য লাল রং এর উট পাওয়ার চেয়েও উত্তম। (২৯৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا عبد العزيز، عن ابي حازم، عن سهل بن سعد رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لاعطين الراية غدا رجلا يفتح الله على يديه " قال فبات الناس يدوكون ليلتهم ايهم يعطاها فلما اصبح الناس، غدوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم كلهم يرجو ان يعطاها فقال " اين علي بن ابي طالب ". فقالوا يشتكي عينيه يا رسول الله. قال " فارسلوا اليه فاتوني به ". فلما جاء بصق في عينيه، ودعا له، فبرا حتى كان لم يكن به وجع، فاعطاه الراية. فقال علي يا رسول الله اقاتلهم حتى يكونوا مثلنا فقال " انفذ على رسلك حتى تنزل بساحتهم، ثم ادعهم الى الاسلام، واخبرهم بما يجب عليهم من حق الله فيه، فوالله لان يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من ان يكون لك حمر النعم
সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যাননি। কেননা তাঁর চোখে অসুখ ছিল। এতে তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যাব না? অতঃপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হলেন। যেদিন সকালে আল্লাহ্ বিজয় দান করলেন, তার আগের রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামী কাল ভোরে আমি এমন এক লোককে পতাকা দিব, অথবা বলেছিলেন যে, এমন এক লোক ঝান্ডা ধারণ করবে যাঁকে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালবাসেন, অথবা বলেছিলেন, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা‘আলা বিজয় দান করবেন। অতঃপর আমরা দেখতে পেলাম তিনি হলেন ‘আলী (রাঃ), অথচ আমরা তাঁর সম্পর্কে এমনটি আশা করিনি। তাই সকলেই বলে উঠলেন, এই যে ‘আলী (রাঃ)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকেই দিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ্ তা‘আলা বিজয় দিলেন। (২৯৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا حاتم، عن يزيد بن ابي عبيد، عن سلمة، قال كان علي قد تخلف عن النبي صلى الله عليه وسلم في خيبر وكان به رمد فقال انا اتخلف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرج علي فلحق بالنبي صلى الله عليه وسلم، فلما كان مساء الليلة التي فتحها الله في صباحها، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لاعطين الراية او لياخذن الراية غدا رجلا يحبه الله ورسوله او قال يحب الله ورسوله يفتح الله عليه ". فاذا نحن بعلي وما نرجوه، فقالوا هذا علي. فاعطاه رسول الله صلى الله عليه وسلم ففتح الله عليه
আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)-এর নিকট হাযির হয়ে বললেন, মদিনার অমুক আমীর মিম্বরের নিকটে বসে ‘আলী (রাঃ) সম্পর্কে অপ্রিয় কথা বলছে। তিনি বললেন, সে কী বলছে? সে বলল, সে তাকে আবূ তুরাব (রাঃ) বলে উল্লেখ করছে। সাহল (রাঃ) হেসে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, তাঁর এ নাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই রেখেছিলেন। এ নাম অপেক্ষা তাঁর নিকট বেশি প্রিয় আর কোন নাম ছিল না। আমি ঘটনাটি জানার জন্য সাহল (রাঃ)-এর নিকট ইচ্ছে প্রকাশ করলাম এবং তাকে বললাম, হে আবূ ‘আব্বাস! এটা কিভাবে হয়েছিল। তিনি বললেন, ‘আলী (রাঃ) ফাতিমাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এস মসজিদে শুয়ে রইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার চাচাত ভাই কোথায়? তিনি বললেন, মসজিদে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন। পরে তিনি তাঁকে এমন অবস্থায় পেলেন যে তাঁর চাদর পিঠ হতে সরে গিয়েছে। তাঁর পিঠে ধূলা-বালি লেগে গেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিঠ হতে ধূলা-বালি ঝাড়তে ঝাড়তে বললেন, উঠে বস হে আবূ তুরাব! কথাটি দু‘বার বলেছিলেন। (৪৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم، عن ابيه، ان رجلا، جاء الى سهل بن سعد فقال هذا فلان لامير المدينة يدعو عليا عند المنبر. قال فيقول ماذا قال يقول له ابو تراب. فضحك قال والله ما سماه الا النبي صلى الله عليه وسلم، وما كان له اسم احب اليه منه. فاستطعمت الحديث سهلا، وقلت يا ابا عباس كيف قال دخل علي على فاطمة ثم خرج فاضطجع في المسجد، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اين ابن عمك ". قالت في المسجد. فخرج اليه فوجد رداءه قد سقط عن ظهره، وخلص التراب الى ظهره، فجعل يمسح التراب عن ظهره فيقول " اجلس يا ابا تراب ". مرتين
সাদ ইবনু ‘উবাইদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে ‘উসমান (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করল। তিনি ‘উসমান (রাঃ)-এর কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) ঐ লোককে বললেন, মনে হয় এটা তোমার নিকট খারাপ লাগছে। সে বলল, হাঁ। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ (তোমাকে) অপমানিত করুন! অতঃপর সে ব্যক্তি ‘আলী (রাঃ)-এর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি তাঁরও কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন এবং বললেন, ঐ দেখ! তাঁর ঘরটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরগুলির মধ্যে অবস্থিত। অতঃপর তিনি বললেন, মনে হয় এ সব কথা শুনতে তোমার খারাপ লাগছে। সে বলল, হাঁ। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে লাঞ্ছিত করুন। যাও, আমার বিরুদ্ধে যত পার কর। (৩১৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن رافع، حدثنا حسين، عن زايدة، عن ابي حصين، عن سعد بن عبيدة، قال جاء رجل الى ابن عمر، فساله عن عثمان،، فذكر عن محاسن، عمله، قال لعل ذاك يسووك. قال نعم. قال فارغم الله بانفك. ثم ساله عن علي، فذكر محاسن عمله قال هو ذاك، بيته اوسط بيوت النبي صلى الله عليه وسلم. ثم قال لعل ذاك يسووك. قال اجل. قال فارغم الله بانفك، انطلق فاجهد على جهدك
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ (রাঃ) যাঁতা চালানোর কষ্ট সম্পর্কে একদা অভিযোগ প্রকাশ করলেন। এপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী আসল। ফাতিমাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট তাঁর কথা বলে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে আসলেন তখন ফাতিমাহ (রাঃ) এর আগমন ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারে ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁকে জানালেন। (আলী (রাঃ) বলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন, যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমি উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝে এমনভাবে বসে পড়লেন যে আমি তাঁর দুই পায়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম। তিনি বললেন, তোমরা যা চেয়েছিলে আমি কি তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দিব না? তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশে বিছানায় যাবে তখন চৌত্রিশ বার ‘‘আল্লাহ্ আকবার’’ তেত্রিশবার ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ তেত্রিশবার ‘‘আল হামদুলিল্লাহ’’ পড়ে নিবে। এটা খাদিম অপেক্ষা অনেক উত্তম। (৩১১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن الحكم، سمعت ابن ابي ليلى، قال حدثنا علي، ان فاطمة، عليها السلام شكت ما تلقى من اثر الرحا، فاتى النبي صلى الله عليه وسلم سبى، فانطلقت فلم تجده، فوجدت عايشة، فاخبرتها، فلما جاء النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته عايشة بمجيء فاطمة، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم الينا، وقد اخذنا مضاجعنا، فذهبت لاقوم فقال " على مكانكما ". فقعد بيننا حتى وجدت برد قدميه على صدري وقال " الا اعلمكما خيرا مما سالتماني اذا اخذتما مضاجعكما تكبرا اربعا وثلاثين، وتسبحا ثلاثا وثلاثين، وتحمدا ثلاثة وثلاثين، فهو خير لكما من خادم
সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যেভাবে হারূন (আঃ) মূসা (আঃ)-এর নিকট হতে মর্যাদা লাভ করেছিলেন, তুমিও আমার নিকট সেই মর্যাদা লাভ কর। (৪৪১৬, মুসলিম ৪৪/৪ হাঃ ২৪০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن سعد، قال سمعت ابراهيم بن سعد، عن ابيه، قال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي " اما ترضى ان تكون مني بمنزلة هارون من موسى
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আগে হতে যেভাবে ফয়সালা করে আসছ সেভাবেই কর কেননা পারস্পরিক বিবাদ আমি অপছন্দ করি। যেন সকল লোক এক দল ভুক্ত হয়ে থাকে। অথবা আমি এমন অবস্থায় দুনিয়া হতে বিদায় হই যেভাবে আমার সাথীগণ দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছেন। (মুহাম্মদ) ইবনু সীরীন (রহ.) এ ধারণা পোষণ করতেন যে, ‘আলী (রাঃ) এর (১ম খলীফা হওয়া সম্পর্কে) যে সব কথা তার হতে (রাফিযী সম্প্রদায় কর্তৃক) বর্ণিত তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن الجعد، اخبرنا شعبة، عن ايوب، عن ابن سيرين، عن عبيدة، عن علي رضى الله عنه قال اقضوا كما كنتم تقضون، فاني اكره الاختلاف حتى يكون للناس جماعة، او اموت كما مات اصحابي. فكان ابن سيرين يرى ان عامة ما يروى على علي الكذب
وَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْبَهْتَ خَلْقِيْ وَخُلُقِي নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, অবয়ব ও স্বভাব-চরিত্রে তুমি আমার সদৃশ। ৩৭০৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। লোকেরা বলে থাকেন যে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) অনেক বেশি হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। বস্তুতঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আত্মতৃপ্তি নিয়ে পড়ে থাকতাম। ঐ সময়ে আমি সুস্বাদু রুটি ভক্ষণ করিনি, দামী কাপড় পরিনি। তখন কেউ আমার সেবা করত না। এবং আমি ক্ষুধার জ্বালায় পাথুরে ভূমির সঙ্গে পেট চেপে ধরতাম। কোন কোন সময় কুরআনে কারীমের কোন আয়াত, আমার জানা থাকা সত্ত্বেও অন্যদের জিজ্ঞেস করতাম যেন, তারা আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কিছু খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। গরীব মিসকীনদের জন্য সবার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি ছিলেন জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)। তিনি প্রায়ই আমাকে নিজ ঘরে নিয়ে যেতেন এবং যা ঘরে থাকত তাই আমাকে আহার করিয়ে দিতেন। কোন সময় ঘিয়ের খালি পাত্র এনে দিতেন, আমরা ভেঙ্গে দিয়ে তা চেটে খেতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن ابي بكر، حدثنا محمد بن ابراهيم بن دينار ابو عبد الله الجهني، عن ابن ابي ذيب، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان الناس، كانوا يقولون اكثر ابو هريرة. واني كنت الزم رسول الله صلى الله عليه وسلم بشبع بطني، حتى لا اكل الخمير، ولا البس الحبير، ولا يخدمني فلان ولا فلانة، وكنت الصق بطني بالحصباء من الجوع، وان كنت لاستقري الرجل الاية هي معي كى ينقلب بي فيطعمني، وكان اخير الناس للمسكين جعفر بن ابي طالب، كان ينقلب بنا فيطعمنا ما كان في بيته، حتى ان كان ليخرج الينا العكة التي ليس فيها شىء، فنشقها فنلعق ما فيها
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، عن حصين، عن عمرو بن ميمون، قال رايت عمر بن الخطاب رضى الله عنه قبل ان يصاب بايام بالمدينة وقف على حذيفة بن اليمان وعثمان بن حنيف، قال كيف فعلتما اتخافان ان تكونا قد حملتما الارض ما لا تطيق قالا حملناها امرا هي له مطيقة، ما فيها كبير فضل. قال انظرا ان تكونا حملتما الارض ما لا تطيق، قال قالا لا. فقال عمر لين سلمني الله لادعن ارامل اهل العراق لا يحتجن الى رجل بعدي ابدا. قال فما اتت عليه الا رابعة حتى اصيب. قال اني لقايم ما بيني وبينه الا عبد الله بن عباس غداة اصيب، وكان اذا مر بين الصفين قال استووا. حتى اذا لم ير فيهن خللا تقدم فكبر، وربما قرا سورة يوسف، او النحل، او نحو ذلك، في الركعة الاولى حتى يجتمع الناس، فما هو الا ان كبر فسمعته يقول قتلني او اكلني الكلب. حين طعنه، فطار العلج بسكين ذات طرفين لا يمر على احد يمينا ولا شمالا الا طعنه حتى طعن ثلاثة عشر رجلا، مات منهم سبعة، فلما راى ذلك رجل من المسلمين، طرح عليه برنسا، فلما ظن العلج انه ماخوذ نحر نفسه، وتناول عمر يد عبد الرحمن بن عوف فقدمه، فمن يلي عمر فقد راى الذي ارى، واما نواحي المسجد فانهم لا يدرون غير انهم قد فقدوا صوت عمر وهم يقولون سبحان الله سبحان الله. فصلى بهم عبد الرحمن صلاة خفيفة، فلما انصرفوا. قال يا ابن عباس، انظر من قتلني. فجال ساعة، ثم جاء، فقال غلام المغيرة. قال الصنع قال نعم. قال قاتله الله لقد امرت به معروفا، الحمد لله الذي لم يجعل منيتي بيد رجل يدعي الاسلام، قد كنت انت وابوك تحبان ان تكثر العلوج بالمدينة وكان {العباس} اكثرهم رقيقا. فقال ان شيت فعلت. اى ان شيت قتلنا. قال كذبت، بعد ما تكلموا بلسانكم، وصلوا قبلتكم وحجوا حجكم فاحتمل الى بيته فانطلقنا معه، وكان الناس لم تصبهم مصيبة قبل يوميذ، فقايل يقول لا باس. وقايل يقول اخاف عليه، فاتي بنبيذ فشربه فخرج من جوفه، ثم اتي بلبن فشربه فخرج من جرحه، فعلموا انه ميت، فدخلنا عليه، وجاء الناس يثنون عليه، وجاء رجل شاب، فقال ابشر يا امير المومنين ببشرى الله لك من صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقدم في الاسلام ما قد علمت، ثم وليت فعدلت، ثم شهادة. قال وددت ان ذلك كفاف لا على ولا لي. فلما ادبر، اذا ازاره يمس الارض. قال ردوا على الغلام قال ابن اخي ارفع ثوبك، فانه ابقى لثوبك واتقى لربك، يا عبد الله بن عمر انظر ما على من الدين. فحسبوه فوجدوه ستة وثمانين الفا او نحوه، قال ان وفى له مال ال عمر، فاده من اموالهم، والا فسل في بني عدي بن كعب، فان لم تف اموالهم فسل في قريش، ولا تعدهم الى غيرهم، فاد عني هذا المال، انطلق الى عايشة ام المومنين فقل يقرا عليك عمر السلام. ولا تقل امير المومنين. فاني لست اليوم للمومنين اميرا، وقل يستاذن عمر بن الخطاب ان يدفن مع صاحبيه. فسلم واستاذن، ثم دخل عليها، فوجدها قاعدة تبكي فقال يقرا عليك عمر بن الخطاب السلام ويستاذن ان يدفن مع صاحبيه. فقالت كنت اريده لنفسي، ولاوثرن به اليوم على نفسي. فلما اقبل قيل هذا عبد الله بن عمر قد جاء. قال ارفعوني، فاسنده رجل اليه، فقال ما لديك قال الذي تحب يا امير المومنين اذنت. قال الحمد لله، ما كان من شىء اهم الى من ذلك، فاذا انا قضيت فاحملوني ثم سلم فقل يستاذن عمر بن الخطاب، فان اذنت لي فادخلوني، وان ردتني ردوني الى مقابر المسلمين. وجاءت ام المومنين حفصة والنساء تسير معها، فلما رايناها قمنا، فولجت عليه فبكت عنده ساعة، واستاذن الرجال، فولجت داخلا لهم، فسمعنا بكاءها من الداخل. فقالوا اوص يا امير المومنين استخلف. قال ما اجد احق بهذا الامر من هولاء النفر او الرهط الذين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض. فسمى عليا وعثمان والزبير وطلحة وسعدا وعبد الرحمن وقال يشهدكم عبد الله بن عمر وليس له من الامر شىء كهيية التعزية له فان اصابت الامرة سعدا فهو ذاك، والا فليستعن به ايكم ما امر، فاني لم اعزله عن عجز ولا خيانة وقال اوصي الخليفة من بعدي بالمهاجرين الاولين ان يعرف لهم حقهم، ويحفظ لهم حرمتهم، واوصيه بالانصار خيرا، الذين تبوءوا الدار والايمان من قبلهم، ان يقبل من محسنهم، وان يعفى عن مسييهم، واوصيه باهل الامصار خيرا فانهم ردء الاسلام، وجباة المال، وغيظ العدو، وان لا يوخذ منهم الا فضلهم عن رضاهم، واوصيه بالاعراب خيرا، فانهم اصل العرب ومادة الاسلام ان يوخذ من حواشي اموالهم وترد على فقرايهم، واوصيه بذمة الله وذمة رسوله صلى الله عليه وسلم ان يوفى لهم بعهدهم، وان يقاتل من ورايهم، ولا يكلفوا الا طاقتهم. فلما قبض خرجنا به فانطلقنا نمشي فسلم عبد الله بن عمر قال يستاذن عمر بن الخطاب. قالت ادخلوه. فادخل، فوضع هنالك مع صاحبيه، فلما فرغ من دفنه اجتمع هولاء الرهط، فقال عبد الرحمن اجعلوا امركم الى ثلاثة منكم. فقال الزبير قد جعلت امري الى علي. فقال طلحة قد جعلت امري الى عثمان. وقال سعد قد جعلت امري الى عبد الرحمن بن عوف. فقال عبد الرحمن ايكما تبرا من هذا الامر فنجعله اليه، والله عليه والاسلام لينظرن افضلهم في نفسه. فاسكت الشيخان، فقال عبد الرحمن افتجعلونه الى، والله على ان لا الو عن افضلكم قالا نعم، فاخذ بيد احدهما فقال لك قرابة من رسول الله صلى الله عليه وسلم والقدم في الاسلام ما قد علمت، فالله عليك لين امرتك لتعدلن، ولين امرت عثمان لتسمعن ولتطيعن. ثم خلا بالاخر فقال له مثل ذلك، فلما اخذ الميثاق قال ارفع يدك يا عثمان. فبايعه، فبايع له علي، وولج اهل الدار فبايعوه