Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৬ হাদিসসমূহ
(وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى )وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمْ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ( وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ )يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلاَ جُنُبًا إِلاَّ عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمْ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا. ) এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ কিন্তু যদি তোমরা অপবিত্র থাক তবে উত্তমরূপে পবিত্র হবে। আর যদি তোমরা পীড়িত হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা সেরে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর, তারপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে-ঐ মাটি দিয়ে নিজেদের মুখমন্ডল ও হাত মাসহ(মাসেহ) করে নিবে। আল্লাহ্ তোমাদের অসুবিধায় ফেলতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পাক-পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি তাঁর নিয়ামাত পূর্ণ করতে চান, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ্ ৫/৬) হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নেশায় মত্ত অবস্থায় সালাতের কাছেও যেও না যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার; আর অপবিত্র অবস্থায় নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর, তবে মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস করে থাক এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও- মাসেহ করবে স্বীয় মুখমন্ডল ও হাত। নিশ্চয় আল্লাহ্ হলেন অতিশয় মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল। (সূরাহ্ আন-নিসা ৪/৪৩) ২৪৮. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন প্রথমে তাঁর হাত দু’টো ধুয়ে নিতেন। অতঃপর সালাতের উযূর মত উযূ করতেন। অতঃপর তাঁর আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করতেন। অতঃপর তাঁর উভয় হাতের তিন আজলা পানি মাথায় ঢালতেন। তারপর তাঁর সারা দেহের উপর পানি ঢেলে দিতেন। (২৬২, ২৭২; মুসলিম ৩/৯, হাঃ ৩১৬, আহমাদ ২৫৭০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا اغتسل من الجنابة بدا فغسل يديه، ثم يتوضا كما يتوضا للصلاة، ثم يدخل اصابعه في الماء، فيخلل بها اصول شعره ثم يصب على راسه ثلاث غرف بيديه، ثم يفيض الماء على جلده كله
মাইমূনাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন, পা দুটো ব্যতীত এবং তাঁর লজ্জাস্থান ও যে যে স্থানে নোংরা লেগেছে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর নিজের উপর পানি ঢেলে দেন। অতঃপর সেখান হতে সরে গিয়ে পা দু’টো ধুয়ে নেন। এই ছিল তাঁর জানাবাতের গোসল। (২৫৭, ২৫৯, ২৬০, ২৬৬, ২৭৪, ২৭৬, ২৮১; মুসলিম ৩/৯, হাঃ ৩১৭, আহমাদ ২৬৮৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، قال حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، عن ابن عباس، عن ميمونة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت توضا رسول الله صلى الله عليه وسلم وضوءه للصلاة غير رجليه، وغسل فرجه، وما اصابه من الاذى، ثم افاض عليه الماء، ثم نحى رجليه فغسلهما، هذه غسله من الجنابة
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র (কাদাহ) হতে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (২৬১, ২৬৩, ২৭৩, ২৯৯, ৫৯৫৬, ৭৩৩৯; মুসলিম ৩/১০, হাঃ ৩১৯, আহমাদ ২৫৮৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم بن ابي اياس، قال حدثنا ابن ابي ذيب، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة، قالت كنت اغتسل انا والنبي، صلى الله عليه وسلم من اناء واحد من قدح يقال له الفرق
আবূ সালামাহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর ভাই ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট গমন করলাম। তাঁর ভাই তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি প্রায় এক সা‘ (আড়াই কিলোগ্রাম পরিমাণ)-এর সমপরিমাণ এক পাত্র আনলেন। তারপর তিনি গোসল করলেন এবং স্বীয় মাথার উপর পানি ঢাললেন। তখন আমাদের ও তাঁর মাঝে পর্দা ছিল। আবূ ‘আবদুল্লাহ [বুখারী (রহ.)] বলেন যে, ইয়াযীদ ইবনু হারূন (রহ.), বাহয ও জুদ্দী (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) হতে نَحْوًا مِنْ صَاعٍ -এর পরিবর্তে قَدْرِ صَاعٍ (এক সা‘ পরিমাণ)-এর কথা বর্ণনা করেন। (মুসলিম ৩/১০, হাঃ ৩২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثني عبد الصمد، قال حدثني شعبة، قال حدثني ابو بكر بن حفص، قال سمعت ابا سلمة، يقول دخلت انا واخو، عايشة على عايشة فسالها اخوها عن غسل النبي، صلى الله عليه وسلم فدعت باناء نحوا من صاع، فاغتسلت وافاضت على راسها، وبيننا وبينها حجاب. قال ابو عبد الله قال يزيد بن هارون وبهز والجدي عن شعبة قدر صاع
আবূ জা‘ফার (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি ও তাঁর পিতা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-এর নিকট ছিলেন। সেখানে আরো কিছু লোক ছিলেন। তাঁরা তাঁকে গোসল সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এক সা‘ তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমার জন্য তা যথেষ্ট নয়। জাবির (রাযি.) বললেনঃ তোমার চেয়ে অধিক চুল যাঁর মাথায় ছিল এবং তোমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তাঁর জন্য তো এ পরিমাণই যথেষ্ট ছিল। অতঃপর তিনি এক কাপড়ে আমাদের ইমামাত করেন। (২৫৫, ২৫৬; মুসলিম ৩/১১, হাঃ ৩২৯, আহমাদ ১৫০৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا يحيى بن ادم، قال حدثنا زهير، عن ابي اسحاق، قال حدثنا ابو جعفر، انه كان عند جابر بن عبد الله هو وابوه، وعنده قوم فسالوه عن الغسل،. فقال يكفيك صاع. فقال رجل ما يكفيني. فقال جابر كان يكفي من هو اوفى منك شعرا، وخير منك، ثم امنا في ثوب
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মাইমূনাহ্ (রাযি.) একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উয়ায়নাহ (রহ.) তাঁর শেষ জীবনে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর মাধ্যমে মাইমূনাহ্ (রাযি.) হতে তা বর্ণনা করতেন। তবে আবূ নু‘আয়ম (রাযি.)-এর বর্ণনাই ঠিক। (মুসলিম ৩/১০, হাঃ ৩২২, আহমাদ ২৬৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا ابن عيينة، عن عمرو، عن جابر بن زيد، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم وميمونة كانا يغتسلان من اناء واحد. قال ابو عبد الله كان ابن عيينة يقول اخيرا عن ابن عباس عن ميمونة، والصحيح ما روى ابو نعيم
জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তিনবার আমার মাথায় পানি ঢালি। এই বলে তিনি উভয় হাতের দ্বারা ইঙ্গিত করেন। (মুসলিম ৩/১১, হাঃ ৩২৭, আহমাদ ১৬৭৪৯, ১৬৭৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا زهير، عن ابي اسحاق، قال حدثني سليمان بن صرد، قال حدثني جبير بن مطعم، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما انا فافيض على راسي ثلاثا ". واشار بيديه كلتيهما
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন। (২৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا غندر، قال حدثنا شعبة، عن مخول بن راشد، عن محمد بن علي، عن جابر بن عبد الله، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يفرغ على راسه ثلاثا
আবূ জা‘ফার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে জাবির (রাযি.) বলেছেন, আমার নিকট তোমার চাচাত ভাই অর্থাৎ হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হানাফিয়াহ আগমন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, জানাবাতের গোসল কীভাবে করতে হয়? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন আজলা পানি নিতেন এবং নিজের মাথার উপর ঢেলে দিতেন। অতঃপর নিজের সারা দেহে পানি বহিয়ে দিতেন। তখন হাসান আমাকে বললেন, আমার মাথার চুল খুব বেশি। আমি তাঁকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চুল তোমার চেয়ে অধিক ছিল। (২৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا معمر بن يحيى بن سام، حدثني ابو جعفر، قال قال لي جابر اتاني ابن عمك يعرض بالحسن بن محمد ابن الحنفية قال كيف الغسل من الجنابة فقلت كان النبي صلى الله عليه وسلم ياخذ ثلاثة اكف ويفيضها على راسه، ثم يفيض على ساير جسده. فقال لي الحسن اني رجل كثير الشعر. فقلت كان النبي صلى الله عليه وسلم اكثر منك شعرا
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، قال حدثنا عبد الواحد، عن الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، عن ابن عباس، قال قالت ميمونة وضعت للنبي صلى الله عليه وسلم ماء للغسل، فغسل يديه مرتين او ثلاثا، ثم افرغ على شماله فغسل مذاكيره، ثم مسح يده بالارض، ثم مضمض واستنشق وغسل وجهه ويديه، ثم افاض على جسده، ثم تحول من مكانه فغسل قدميه
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন হিলাবের অনুরূপ পাত্র চেয়ে নিতেন। তারপর এক আজলা পানি নিয়ে প্রথমে মাথার ডান পাশ এবং পরে বাম পাশ ধুয়ে ফেলতেন। দু’হাতে মাথার মাঝখানে পানি ঢালতেন। (মুসলিম ৩/৯, হাঃ ৩১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، قال حدثنا ابو عاصم، عن حنظلة، عن القاسم، عن عايشة، قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اغتسل من الجنابة دعا بشىء نحو الحلاب، فاخذ بكفه، فبدا بشق راسه الايمن ثم الايسر، فقال بهما على راسه
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, মায়মূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি ঢেলে রাখলাম। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুলেন। অতঃপর তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন এবং মাটিতে তাঁর হাত ঘষলেন। পরে তা ধুয়ে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর তাঁর চেহারা ধুলেন এবং মাথার উপর পানি ঢাললেন। পরে ঐ স্থান হতে সরে গিয়ে দু’ পা ধুলেন। অবশেষে তাঁকে একটি রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তিনি তা দিয়ে শরীর মুছলেন না। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، قال حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، قال حدثني سالم، عن كريب، عن ابن عباس، قال حدثتنا ميمونة، قالت صببت للنبي صلى الله عليه وسلم غسلا، فافرغ بيمينه على يساره فغسلهما، ثم غسل فرجه، ثم قال بيده الارض فمسحها بالتراب، ثم غسلها، ثم تمضمض واستنشق، ثم غسل وجهه، وافاض على راسه، ثم تنحى فغسل قدميه، ثم اتي بمنديل، فلم ينفض بها
মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحميدي، قال حدثنا سفيان، قال حدثنا الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، عن ابن عباس، عن ميمونة، ان النبي صلى الله عليه وسلم اغتسل من الجنابة، فغسل فرجه بيده، ثم دلك بها الحايط ثم غسلها، ثم توضا وضوءه للصلاة، فلما فرغ من غسله غسل رجليه
وَأَدْخَلَ ابْنُ عُمَرَ وَالْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ يَدَهُ فِي الطَّهُورِ وَلَمْ يَغْسِلْهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وَلَمْ يَرَ ابْنُ عُمَرَ وَابْنُ عَبَّاسٍ بَأْسًا بِمَا يَنْتَضِحُ مِنْ غُسْلِ الْجَنَابَةِ. ইবনু ‘উমার (রাযি.) ও বারা ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হাত না ধুয়ে পানিতে হাত ঢুকিয়েছেন, তারপর উযূ করেছেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) যে পানিতে ফরজ গোসলের পানির ছিটা পড়েছে তা ব্যবহারে কোন দোষ মনে করতেন না। ২৬১. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, তাতে আমাদের দু’জনের হাত একের পর এক পড়তে থাকতো। (২৫০; মুসলিম ৩/১০, হাঃ ৩১৯, ৩২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، اخبرنا افلح، عن القاسم، عن عايشة، قالت كنت اغتسل انا والنبي، صلى الله عليه وسلم من اناء واحد تختلف ايدينا فيه
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসল করার সময় প্রথমে হাত ধুয়ে নিতেন। (২৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثنا حماد، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اغتسل من الجنابة غسل يده
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম। (২৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১) ‘আবদুর রহমান ইবনু কাসিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে ‘আয়িশাহ (রাযি.) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، عن ابي بكر بن حفص، عن عروة، عن عايشة، قالت كنت اغتسل انا والنبي، صلى الله عليه وسلم من اناء واحد من جنابة. وعن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عايشة مثله
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের কেউ কেউ একই পাত্রের পানি নিয়ে গোসল করতেন। মুসলিম (রহ.) এবং ওয়াহ্ব ইবনু জারীর (রহ.) শু‘বাহ (রাযি.) হতে ‘তা ফরজ গোসল ছিল’ বলে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، عن عبد الله بن عبد الله بن جبر، قال سمعت انس بن مالك، يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم والمراة من نسايه يغتسلان من اناء واحد. زاد مسلم ووهب عن شعبة من الجنابة
وَيُذْكَرُعَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ غَسَلَ قَدَمَيْهِ بَعْدَ مَا جَفَّ وَضُوءُهُ. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি উযূর অঙ্গসমূহ শুকিয়ে যাবার পর দু’পা ধুয়েছিলেন। ২৬৫. মাইমূনাহ (রাযি.) বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম, তিনি উভয় হাতে পানি ঢেলে দু’বার করে বা তিনবার করে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলন। পরে তাঁর হাত মাটিতে ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। আর তাঁর চেহারা ও হাত দু’টো ধুলেন। তারপর তাঁর মাথা তিনবার ধুলেন এবং তাঁর সারা শরীরে পানি ঢাললেন। অবশেষে সেখান হতে একটু সরে গিয়ে তাঁর দু’পা ধুয়ে ফেললেন। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن محبوب، قال حدثنا عبد الواحد، قال حدثنا الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس، قال قالت ميمونة وضعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ماء يغتسل به، فافرغ على يديه، فغسلهما مرتين مرتين او ثلاثا، ثم افرغ بيمينه على شماله، فغسل مذاكيره، ثم دلك يده بالارض، ثم مضمض واستنشق، ثم غسل وجهه ويديه ثم غسل راسه ثلاثا، ثم افرغ على جسده، ثم تنحى من مقامه فغسل قدميه
মাইমূনাহ বিনতু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রেখে পর্দা করে দিলাম। তিনি পানি দিয়ে দু’বার কিংবা তিনবার হাত ধুলেন। সুলায়মান (রাযি.) বলেন, তৃতীয়বারের কথা বলেছেন কিনা আমার মনে পড়ে না। তখন তিনি ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাতে ঢাললেন এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর হাত মাটিতে বা দেওয়ালে ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুলেন এবং মাথা ধুয়ে ফেললেন। তারপর তাঁর শরীরে পানি ঢেলে দিলেন। পরে সেখান হতে সরে গিয়ে তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। অবশেষে আমি তাঁকে একখন্ড কাপড় দিলাম; কিন্তু তিনি হাতের ইঙ্গিতে নিষেধ করলেন এবং তা নিলেন না। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا ابو عوانة، حدثنا الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس، عن ميمونة بنت الحارث، قالت وضعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم غسلا وسترته، فصب على يده، فغسلها مرة او مرتين قال سليمان لا ادري اذكر الثالثة ام لا ثم افرغ بيمينه على شماله، فغسل فرجه، ثم دلك يده بالارض او بالحايط، ثم تمضمض واستنشق، وغسل وجهه ويديه، وغسل راسه، ثم صب على جسده، ثم تنحى فغسل قدميه، فناولته خرقة، فقال بيده هكذا، ولم يردها
মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট [‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)]-এর উক্তিটি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ আবূ ‘আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সুগন্ধি লাগাতাম, তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তারপর ভোরবেলায় এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধতেন যে, তাঁর দেহ হতে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো। (২৭০; মুসলিম ১৫/৭, হাঃ ১১৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا ابن ابي عدي، ويحيى بن سعيد، عن شعبة، عن ابراهيم بن محمد بن المنتشر، عن ابيه، قال ذكرته لعايشة فقالت يرحم الله ابا عبد الرحمن، كنت اطيب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيطوف على نسايه، ثم يصبح محرما ينضخ طيبا