Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৬ হাদিসসমূহ
‘আবদুল্লাহ [ইবনু মাসঊদ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে একটি আয়াত পড়তে শুনলাম। অথচ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (আয়াতটি) অন্যরূপে পড়তে শুনেছি। আমি তার হাত ধরে তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে এলাম। তিনি বললেন, তোমরা উভয়েই ঠিক পড়েছ। শু‘বা (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, তোমরা বাদানুবাদ করো না। কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা বাদানুবাদ করে ধ্বংস হয়েছে। (৩৪৭৬, ৫০৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، قال عبد الملك بن ميسرة اخبرني قال سمعت النزال، سمعت عبد الله، يقول سمعت رجلا، قرا اية سمعت من النبي، صلى الله عليه وسلم خلافها، فاخذت بيده، فاتيت به رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " كلاكما محسن ". قال شعبة اظنه قال " لا تختلفوا فان من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ ব্যক্তি একে অপরকে গালি দিয়েছিল। তাদের একজন ছিল মুসলিম, অন্যজন ইয়াহূদী। মুসলিম লোকটি বলল, তাঁর কসম, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফাযীলাত প্রদান করেছেন। আর ইয়াহূদী লোকটি বলল, সে সত্তার কসম, যিনি মূসা (আঃ)-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফাযীলাত দান করেছেন। এ সময় মুসলিম ব্যক্তি নিজের হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীর মুখে চড় মারল। এতে ইয়াহূদী ব্যক্তিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে তার এবং মুসলিম ব্যক্তিটির মধ্যে যা ঘটেছিল, তা তাঁকে অবহিত করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কারণ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তাদের সাথে আমিও বেহুঁশ হয়ে পড়ব। তারপর সকলের আগে আমার হুঁশ আসবে, তখন (দেখতে পাব) মূসা (আঃ) আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, তিনি বেহুঁশ হয়ে আমার আগে হুঁশে এসেছেন অথবা আল্লাহ তা‘আলা যাঁদেরকে বেহুঁশ হওয়া হতে রেহাই দিয়েছেন, তিনি তাঁদের মধ্যে ছিলেন। (৩৪০৮, ৩৪১৪, ৪৮১৩, ৬৫১৭, ৬৫১৮, ৭৪২৮, মুসলিম ৪৩ অধ্যায়, হাঃ ২৩৭৩, আহমাদ ৭৫৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن قزعة، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة، وعبد الرحمن الاعرج، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال استب رجلان رجل من المسلمين ورجل من اليهود، قال المسلم والذي اصطفى محمدا على العالمين، فقال اليهودي والذي اصطفى موسى على العالمين. فرفع المسلم يده عند ذلك فلطم وجه اليهودي، فذهب اليهودي الى النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره بما كان من امره وامر المسلم، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم المسلم فساله عن ذلك، فاخبره فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تخيروني على موسى، فان الناس يصعقون يوم القيامة، فاصعق معهم، فاكون اول من يفيق، فاذا موسى باطش جانب العرش، فلا ادري اكان فيمن صعق فافاق قبلي، او كان ممن استثنى الله
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় এক ইয়াহূদী এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার এক সাহাবী আমার মুখে আঘাত করেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? সে বলল, একজন আনসারী। তিনি বললেন, তাকে ডাক। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ওকে মেরেছ? সে বলল, আমি তাকে বাজারে শপথ করে বলতে শুনেছিঃ শপথ তাঁর, যিনি মূসা (আঃ)-কে সকল মানুষের উপর ফযীলত দিয়েছেন। আমি বললাম, হে খবীস! বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপরও কি? এতে আমার রাগ এসে গিয়েছিল, তাই আমি তার মুখের উপর আঘাত করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নবীদের একজনকে অপরজনের উপর ফযীলত দিও না। কারণ, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর জমিন ফাটবে এবং যারাই উঠবে, আমিই হব তাদের মধ্যে প্রথম। তখন দেখতে পাব মূসা (আঃ) আরশের একটি পায়া ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জানি না, তিনিও বেহুঁশ লোকদের মধ্যে ছিলেন, না তাঁর পূর্বেকার (তুর পাহাড়ের) বেহুঁশীই তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়েছে। (৩৩৯৮, ৪৬৩৮, ৬৯১৬, ৬৯১৭, ৭৪২৭, মুসলিম ৪৩/৪২, হাঃ ২৩৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، حدثنا عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم جالس جاء يهودي، فقال يا ابا القاسم ضرب وجهي رجل من اصحابك. فقال " من ". قال رجل من الانصار. قال " ادعوه ". فقال " اضربته ". قال سمعته بالسوق يحلف والذي اصطفى موسى على البشر. قلت اى خبيث، على محمد صلى الله عليه وسلم فاخذتني غضبة ضربت وجهه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تخيروا بين الانبياء، فان الناس يصعقون يوم القيامة، فاكون اول من تنشق عنه الارض، فاذا انا بموسى اخذ بقايمة من قوايم العرش، فلا ادري اكان فيمن صعق، ام حوسب بصعقة الاولى
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী একটি দাসীর মাথা দু’টি পাথরের মাঝখানে রেখে পিষে দিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমাকে এরূপ করেছে? অমুক ব্যক্তি, অমুক ব্যক্তি? যখন জনৈক ইয়াহূদীর নাম বলা হল- তখন সে দাসী মাথার দ্বারা হ্যাঁ সূচক ইশারা করল। ইয়াহূদীকে ধরে আনা হল। সে অপরাধ স্বীকার করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তখন তার মাথা দু’টি পাথরের মাঝখানে রেখে পিষে দেয়া হল। (২৭৪৬, ৫২৯৫, ৬৮৭৬, ৬৮৭৭, ৬৮৭৯, ৬৮৮৪, ৬৮৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، حدثنا همام، عن قتادة، عن انس رضى الله عنه ان يهوديا، رض راس جارية بين حجرين، قيل من فعل هذا بك افلان، افلان حتى سمي اليهودي فاومت براسها، فاخذ اليهودي فاعترف، فامر به النبي صلى الله عليه وسلم فرض راسه بين حجرين
بَاب مَنْ رَدَّ أَمْرَ السَّفِيهِ وَالضَّعِيفِ الْعَقْلِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ حَجَرَ عَلَيْهِ الإِمَامُ ৪৪/২. কেউ কেউ মুর্খ ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তির আদান-প্রদান প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও ইমাম (কাযী) তার আদান প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَدَّ عَلَى الْمُتَصَدِّقِ قَبْلَ النَّهْيِ ثُمَّ نَهَاهُ وَقَالَ مَالِكٌ إِذَا كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى رَجُلٍ مَالٌ وَلَهُ عَبْدٌ لاَ شَيْءَ لَهُ غَيْرُهُ فَأَعْتَقَهُ لَمْ يَجُزْ عِتْقُهُ জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, সাদাকা দানকারীকে নিষেধ করার পূর্বে সে যে সাদাকা করছিল, নবী তাকে তা ফেরত দিয়েছেন। এরপর (অনুরূপ অবস্থায়) তাকে সাদাকা করা হতে নিষেধ করেছেন। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, কারো উপর যদি ঋণ থাকে এবং তার কাছে একটি গোলাম ছাড়া আর কিছুই না থাকে, আর সে যদি গোলামটি মুক্ত করে তবে তার এ মুক্ত করা বৈধ নয়। لأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ إِضَاعَةِ الْمَالِ وَقَالَ لِلَّذِي يُخْدَعُ فِي الْبَيْعِ إِذَا بَايَعْتَ فَقُلْ لاَ خِلاَبَةَ وَلَمْ يَأْخُذْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَالَهُ কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদ বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। যে লোককে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা দেয়া হত, তাকে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে তখন বলে দিবে, ধোঁকা দিবে না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাল গ্রহণ করেননি। ২৪১৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে এক ব্যক্তিকে ধোঁকা দেয়া হত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন বেচা-কেনা কর তখন বলে দেবে যে, ধোঁকা দিবে না। অতঃপর সে অনুরূপ কথাই বলত। (২১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عبد العزيز بن مسلم، حدثنا عبد الله بن دينار، قال سمعت ابن عمر رضى الله عنهما قال كان رجل يخدع في البيع فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " اذا بايعت فقل لا خلابة ". فكان يقوله
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার গোলাম আযাদ করে দিয়েছিল। তার কাছে এ ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গোলাম আযাদ করে দেয়া প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। পরে সে গোলামটি তার নিকট হতে ইবনু নাহ্হাম কিনে নিলেন। (২১৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عاصم بن علي، حدثنا ابن ابي ذيب، عن محمد بن المنكدر، عن جابر رضى الله عنه ان رجلا، اعتق عبدا له، ليس له مال غيره، فرده النبي صلى الله عليه وسلم، فابتاعه منه نعيم بن النحام
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাসঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। আশ‘আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহূদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এক খন্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে গেলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? আমি বললাম, না। তখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইয়াহূদীকে বললেন, তুমি কসম কর। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা (এ আয়াত) নাযিল করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ....... আয়াতের শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ইমরান ৭৭)। (২৩৫৬, ২৩৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩,৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد، اخبرنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن شقيق، عن عبد الله رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من حلف على يمين وهو فيها فاجر ليقتطع بها مال امري مسلم لقي الله وهو عليه غضبان ". قال فقال الاشعث في والله كان ذلك، كان بيني وبين رجل من اليهود ارض فجحدني، فقدمته الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " الك بينة ". قلت لا. قال فقال لليهودي " احلف ". قال قلت يا رسول الله اذا يحلف، ويذهب بمالي، فانزل الله تعالى {ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا} الى اخر الاية
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাসঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। আশ‘আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহূদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এক খন্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে গেলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? আমি বললাম, না। তখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ইয়াহূদীকে বললেন, তুমি কসম কর। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা (এ আয়াত) নাযিল করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ....... আয়াতের শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ইমরান ৭৭)। (২৩৫৬, ২৩৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩,৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد، اخبرنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن شقيق، عن عبد الله رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من حلف على يمين وهو فيها فاجر ليقتطع بها مال امري مسلم لقي الله وهو عليه غضبان ". قال فقال الاشعث في والله كان ذلك، كان بيني وبين رجل من اليهود ارض فجحدني، فقدمته الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " الك بينة ". قلت لا. قال فقال لليهودي " احلف ". قال قلت يا رسول الله اذا يحلف، ويذهب بمالي، فانزل الله تعالى {ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا} الى اخر الاية
কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদের মধ্যে ইবনু আবূ হাদরাদের কাছে তার প্রাপ্য কাজের তাগাদা করেন। তাদের আওয়াজ বুলন্দ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘর হতে তা শুনতে পেলেন। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] হুজরার পর্দা তুলে বাইরে এলেন এবং ‘হে কা‘ব’! বলে ডাকলেন। কা‘ব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাযির। তিনি ইশারায় তাকে কর্জের অর্ধেক মাফ করে দিতে বললেন। কা‘ব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মাফ করে দিলাম, তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] ইবনু আবূ হাদরাদকে বললেন, উঠ, কর্জ পরিশোধ করে দাও। (৪৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عثمان بن عمر، اخبرنا يونس، عن الزهري، عن عبد الله بن كعب بن مالك، عن كعب رضى الله عنه انه تقاضى ابن ابي حدرد دينا كان له عليه في المسجد، فارتفعت اصواتهما حتى سمعها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في بيته، فخرج اليهما، حتى كشف سجف حجرته فنادى " يا كعب ". قال لبيك يا رسول الله. قال " ضع من دينك هذا ". فاوما اليه، اى الشطر. قال لقد فعلت يا رسول الله. قال " قم فاقضه
‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযামকে সূরা ফুরকান আমি যেভাবে পড়ি তা হতে ভিন্ন পড়তে শুনলাম। আর যেভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ সূরা পড়িয়েছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাকে বাধা দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তার সালাত শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তার গলায় চাদর পেঁচিয়ে তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে এলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে যা পড়তে শিখিয়েছেন, আমি তাকে তা হতে ভিন্ন পড়তে শুনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন তাকে ছেড়ে দিতে। তারপর তাকে পড়তে বললেন, সে পড়ল। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, এরূপ নাযিল হয়েছে। এরপর আমাকে পড়তে বললেন, আমিও তখন পড়লাম। আর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। কুরআন সাত হরফে নাযিল হয়েছে। তাই যেরূপ সহজ হয় তোমরা সেরূপেই তা পড়। (৪৯৯২, ৫০৪১, ২৯৩৬, ৭৫৫০, মুসলিম ৬/৪৮, হাঃ ৮১৮, আহমাদ ১৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عبد الرحمن بن عبد القاري، انه قال سمعت عمر بن الخطاب رضى الله عنه يقول سمعت هشام بن حكيم بن حزام، يقرا سورة الفرقان على غير ما اقروها، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرانيها، وكدت ان اعجل عليه، ثم امهلته حتى انصرف، ثم لببته بردايه فجيت به رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت اني سمعت هذا يقرا على غير ما اقراتنيها، فقال لي " ارسله ". ثم قال له " اقرا ". فقرا. قال " هكذا انزلت ". ثم قال لي " اقرا ". فقرات فقال " هكذا انزلت. ان القران انزل على سبعة احرف فاقرءوا منه ما تيسر
وَقَدْ أَخْرَجَ عُمَرُ أُخْتَ أَبِي بَكْرٍ حِينَ نَاحَتْ আবূ বাকর (রাঃ)-এর বোন যখন বিলাপ করছিলেন তখন ‘উমার (রাঃ) তাকে (ঘর হতে) বের করে দিয়েছিলেন। ২৪২০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, সালাত আদায় করার আদেশ করব। সালাতে দাঁড়ানোর পর যে সম্প্রদায় সালাতে উপস্থিত হয় না, আমি তাদের বাড়ী গিয়ে তা জ্বালিয়ে দেই। (৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا محمد بن ابي عدي، عن شعبة، عن سعد بن ابراهيم، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لقد هممت ان امر بالصلاة فتقام ثم اخالف الى منازل قوم لا يشهدون الصلاة فاحرق عليهم
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আব্দ ইবনু যাম‘আহ ও সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) যাম‘আর দাসীর পুত্র সংক্রান্ত বিবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেশ করলেন। সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই আমাকে ওয়াসিয়াত করে গেছেন যে, আমি (মক্কা্য়) পৌঁছলে যেন যাম‘আর দাসীর পুত্রের প্রতি লক্ষ্য রাখি, দেখতে পেলে যেন তাকে হস্তগত করে নেই। কেননা, সে তার পুত্র। আব্দ ইবনু যাম‘আ (রাঃ) বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উতবার সাথে তার চেহারা-সুরতের স্পষ্ট মিল দেখতে পেলেন, তখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, হে আব্দ ইবনু যাম‘আ! তুমিই তার হাক্বদার। সন্তান যার ঔরসে জন্ম গ্রহণ করে তারই হয়। হে সাওদাহ! তুমি তার হতে পর্দা কর। (২০৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها ان عبد بن زمعة، وسعد بن ابي وقاص، اختصما الى النبي صلى الله عليه وسلم في ابن امة زمعة فقال سعد يا رسول الله اوصاني اخي اذا قدمت ان انظر ابن امة زمعة فاقبضه، فانه ابني. وقال عبد بن زمعة اخي وابن امة ابي، ولد على فراش ابي. فراى النبي صلى الله عليه وسلم شبها بينا فقال " هو لك يا عبد بن زمعة، الولد للفراش، واحتجبي منه يا سودة
وَقَيَّدَ ابْنُ عَبَّاسٍ عِكْرِمَةَ عَلَى تَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَنِ وَالْفَرَائِضِ কুরআন, সুন্নাহ ও ফরযসমূহ শিক্ষার উদ্দেশে ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইকরিমাহকে পায়ে বেড়ী দিয়ে আটকিয়ে রাখতেন। ২৪২২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে এক অশ্বারোহী সেনাদল পাঠালেন। তারা ইয়ামানবাসীদের সরদার বনূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনু উসাল নামক একজন লোককে গ্রেফতার করে এনে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, সুমামা, তোমার কী খবর? সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার কাছে ভাল খবর আছে। সে (বর্ণনাকারী) সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুমামাকে ছেড়ে দাও। (৪৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن سعيد بن ابي سعيد، انه سمع ابا هريرة رضى الله عنهما يقول بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم خيلا قبل نجد، فجاءت برجل من بني حنيفة يقال له ثمامة بن اثال سيد اهل اليمامة، فربطوه بسارية من سواري المسجد، فخرج اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ما عندك يا ثمامة ". قال عندي يا محمد خير. فذكر الحديث قال " اطلقوا ثمامة
وَاشْتَرَى نَافِعُ بْنُ عَبْدِ الْحَارِثِ دَارًا لِلسِّجْنِ بِمَكَّةَ مِنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ عَلَى أَنَّ عُمَرَ إِنْ رَضِيَ فَالْبَيْعُ بَيْعُهُ وَإِنْ لَمْ يَرْضَ عُمَرُ فَلِصَفْوَانَ أَرْبَعُ مِائَةِ دِينَارٍ وَسَجَنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ নাফি‘ ইবনু আবদুল হারিস (রাঃ) কয়েদখানা বানাবার উদ্দেশে মক্কায় সাফওয়ান ইবনু উমাইয়ার কাছ হতে এই শর্তে একটি ঘর ক্রয় করেছিলেন যে, যদি ‘উমার (রাঃ) রাজী হন তবে ক্রয় পূর্ণ হবে। আর যদি তিনি রাজী না হন তা হলে সাফওয়ান চারশত দিনার পাবে। ইবনু যুবায়ের (রাঃ) মক্কায় বন্দী করেছেন। ২৪২৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদে একদল অশ্বারোহী সেনাদল পাঠালেন। তারা বনূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনু উসাল নামক ব্যক্তিকে নিয়ে এল এবং তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখল। (৪৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، قال حدثني سعيد بن ابي سعيد، سمع ابا هريرة رضى الله عنه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم خيلا قبل نجد، فجاءت برجل من بني حنيفة يقال له ثمامة بن اثال فربطوه بسارية من سواري المسجد
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ হাদরাদ আসলামী (রাঃ)-এর কাছে তাঁর কিছু পাওনা ছিল। তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং পিছনে লেগে থাকলেন। তাঁরা উভয়ে কথা বলতে লাগলেন, এমনকি এক পর্যায়ে তাঁদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং বললেন, হে কা‘ব! উভয় হাত দিয়ে তিনি ইশারা করলেন; যেন অর্ধেক (গ্রহণ করার কথা) বুঝিয়েছিলেন। তাই তিনি (কা‘ব) তার ঋণের অর্ধেক গ্রহণ করলেন এবং অর্ধেক ছেড়ে দিলেন। (৪৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، حدثنا جعفر بن ربيعة،. وقال غيره حدثني الليث، قال حدثني جعفر بن ربيعة، عن عبد الرحمن بن هرمز، عن عبد الله بن كعب بن مالك الانصاري، عن كعب بن مالك رضى الله عنه انه كان له على عبد الله بن ابي حدرد الاسلمي دين، فلقيه فلزمه، فتكلما حتى ارتفعت اصواتهما، فمر بهما النبي صلى الله عليه وسلم فقال " يا كعب ". واشار بيده كانه يقول النصف، فاخذ نصف ما عليه وترك نصفا
খাববাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলী যুগে আমি ছিলাম একজন কর্মকার। আস ইবনু ওয়ায়েলের কাছে আমার কিছু দিরহাম পাওনা ছিল। আমি তাঁর কাছে তাগাদা করতে গেলাম। সে আমাকে বলল, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার করছ ততক্ষণ আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব না। আমি বললাম, তা হতে পারে না। আল্লাহর কসম! যে পর্যন্ত না আল্লাহ তোমার মৃত্যু ঘটায় এবং তোমার পুনরুত্থান না হয় সে পর্যন্ত আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অস্বীকার করব না। সে বলল, ঠিক আছে, যতক্ষণ না আমার মৃত্যু হয় এবং পুনরুত্থান না হয় আমাকে অব্যাহতি দাও। তখন আমাকে মাল ও সন্তান দেয়া হবে এরপর তোমার পাওনা পরিশোধ করে দেব। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তুমি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছ, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে’’- (মারইয়ামঃ ৭৭)। (২০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق، حدثنا وهب بن جرير بن حازم، اخبرنا شعبة، عن الاعمش، عن ابي الضحى، عن مسروق، عن خباب، قال كنت قينا في الجاهلية وكان لي على العاص بن وايل دراهم، فاتيته اتقاضاه فقال لا اقضيك حتى تكفر بمحمد، فقلت لا والله لا اكفر بمحمد صلى الله عليه وسلم حتى يميتك الله ثم يبعثك. قال فدعني حتى اموت ثم ابعث فاوتى مالا وولدا، ثم اقضيك. فنزلت {افرايت الذي كفر باياتنا وقال لاوتين مالا وولدا} الاية