Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৭ হাদিসসমূহ
وَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى (إِنَّ خَيْرَ مَنْ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الأَمِينُ) وَالْخَازِنُ الأَمِينُ وَمَنْ لَمْ يَسْتَعْمِلْ مَنْ أَرَادَهُ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘কারণ তোমার মজদুর হিসাবে উত্তম হলো সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত’’- (ক্বাসাসঃ ২৬)। বিশ্বস্ত খাজনা আদায়কারী নিয়োগ করা এবং কোন পদপ্রার্থীকে উক্ত পদে নিয়োগ না করা। ২২৬০. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিশ্বস্ত খাজাঞ্চি, যাকে কোন কিছু নির্দেশ করলে সন্তুষ্টচিত্তে তা আদায় করে, সে হলো দাতাদের একজন। (১৪৩৮, মুসলিম ২৮/৪, হাঃ ১৬৭৪, আহমাদ ১৯৮৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن ابي بردة، قال اخبرني جدي ابو بردة، عن ابيه ابي موسى الاشعري رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " الخازن الامين الذي يودي ما امر به طيبة نفسه احد المتصدقين
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম, আমার সঙ্গে আশ‘আরী গোত্রের দু’জন লোক ছিল। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি জানতাম না যে, এরা কোন কর্মপ্রার্থী হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কর্মপ্রার্থী হয়, আমরা আমাদের কাজে তাকে কখনো নিয়োগ করি না অথবা বলেছেন কখনো করব না। (৩০৩৮, ৪৩৪১, ৪৩৪৩, ৪৩৪৪, ৬১২৪, ৬৯২৩, ৭১৪৯, ৭১৫৬, ৭১৫৭, ৭১৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن قرة بن خالد، قال حدثني حميد بن هلال، حدثنا ابو بردة، عن ابي موسى رضى الله عنه قال اقبلت الى النبي صلى الله عليه وسلم ومعي رجلان من الاشعريين، فقلت ما علمت انهما يطلبان العمل. فقال " لن او لا نستعمل على عملنا من اراده
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন নবী প্রেরণ করেননি, যিনি বকরী না চরিয়েছেন। তখন তাঁর সাহাবীগণ বলেন, আপনিও? তিনি বলেন, হ্যাঁ; আমি কয়েক কীরাতের (মুদ্রা) বিনিময়ে মক্কা্বাসীদের ছাগল চরাতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن محمد المكي، حدثنا عمرو بن يحيى، عن جده، عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما بعث الله نبيا الا رعى الغنم ". فقال اصحابه وانت فقال " نعم كنت ارعاها على قراريط لاهل مكة
وَعَامَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَهُودَ خَيْبَرَ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ইয়াহূদীদেরকে চাষাবাদের কাজে নিয়োগ করেন। ২২৬৩. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত (হিজরতের সময়) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও আবূ বাকর (রাঃ) বনূ দীল ও বনু আব্দ ইবনু আদী গোত্রের একজন অত্যন্ত সচেতন ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক শ্রমিক নিয়োগ করেন। এ লোকটি ‘আস ইবনু ওয়াইল গোত্রের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল আর সে কুরাইশী কাফিরদের ধর্মাবলম্বী ছিল। তাঁরা দু’জন [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকর (রাঃ)] তার উপর আস্থা রেখে নিজ নিজ সাওয়ারী তাকে দিয়ে দিলেন এবং তিন রাত পর এগুলো সাওর পাহাড়ের গুহায় নিয়ে আসতে বলেন। সে তিন রাত পর সকালে তাদের সওয়ারী নিয়ে তাঁদের কাছে উপস্থিত হল। তারপর তাঁরা দু’জন রওয়ানা করলেন। তাঁদের সঙ্গে আমির ইবনু ফুহাইয়া ও দীল গোত্রের পথপ্রদর্শক সে ব্যক্তিটিও ছিল। সে তাঁদেরকে (সাগরের) উপকূলের পথ ধরে নিয়ে গেল। (৪৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن معمر، عن الزهري، عن عروة بن الزبير، عن عايشة رضى الله عنها واستاجر النبي صلى الله عليه وسلم وابو بكر رجلا من بني الديل ثم من بني عبد بن عدي هاديا خريتا الخريت الماهر بالهداية قد غمس يمين حلف في ال العاص بن وايل، وهو على دين كفار قريش، فامناه فدفعا اليه راحلتيهما، ووعداه غار ثور بعد ثلاث ليال، فاتاهما براحلتيهما، صبيحة ليال ثلاث، فارتحلا، وانطلق معهما عامر بن فهيرة، والدليل الديلي فاخذ بهم اسفل مكة وهو طريق الساحل
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত (হিজরতের ঘটনায়) তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাঃ) বনূ দীল গোত্রের এক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে রাস্তা দেখিয়ে দেয়ার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করেন। এ লোকটি কুরাইশী কাফিরদের ধর্মাবলম্বী ছিল। তাঁরা দু’জন [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ)] তাদের আপন আপন সাওয়ারী তার নিকট ন্যস্ত করলেন এবং এ মর্মে প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, তিন রাত পর তৃতীয় দিন সকালে তাদের সাওয়ারী সওর পর্বতের গুহায় নিয়ে আসবে। (৪৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، قال ابن شهاب فاخبرني عروة بن الزبير، ان عايشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت واستاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر رجلا من بني الديل، هاديا خريتا وهو على دين كفار قريش، فدفعا اليه راحلتيهما، وواعداه غار ثور بعد ثلاث ليال براحلتيهما صبح ثلاث
ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.) তার দাদার সূত্রে অনুরূপ একটি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। এতে (লোকটি তার হাত বের করার জন্য সজোরে টান দিলে) (যে কামড় দিয়েছিল) তার সামনের দাঁত পড়ে যায়। আবূ বাকর (রাঃ)-এর কোন ক্ষতিপূরণের দাবী বাতিল করে দেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১২২ শেষাংশ)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا اسماعيل ابن علية، اخبرنا ابن جريج، قال اخبرني عطاء، عن صفوان بن يعلى، عن يعلى بن امية رضى الله عنه قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم جيش العسرة فكان من اوثق اعمالي في نفسي، فكان لي اجير، فقاتل انسانا، فعض احدهما اصبع صاحبه، فانتزع اصبعه، فاندر ثنيته فسقطت، فانطلق الى النبي صلى الله عليه وسلم فاهدر ثنيته وقال " افيدع اصبعه في فيك تقضمها قال احسبه قال كما يقضم الفحل ". قال ابن جريج وحدثني عبد الله بن ابي مليكة، عن جده، بمثل هذه الصفة ان رجلا، عض يد رجل، فاندر ثنيته، فاهدرها ابو بكر رضى الله عنه
ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.) তার দাদার সূত্রে অনুরূপ একটি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। এতে (লোকটি তার হাত বের করার জন্য সজোরে টান দিলে) (যে কামড় দিয়েছিল) তার সামনের দাঁত পড়ে যায়। আবূ বাকর (রাঃ)-এর কোন ক্ষতিপূরণের দাবী বাতিল করে দেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১২২ শেষাংশ)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا اسماعيل ابن علية، اخبرنا ابن جريج، قال اخبرني عطاء، عن صفوان بن يعلى، عن يعلى بن امية رضى الله عنه قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم جيش العسرة فكان من اوثق اعمالي في نفسي، فكان لي اجير، فقاتل انسانا، فعض احدهما اصبع صاحبه، فانتزع اصبعه، فاندر ثنيته فسقطت، فانطلق الى النبي صلى الله عليه وسلم فاهدر ثنيته وقال " افيدع اصبعه في فيك تقضمها قال احسبه قال كما يقضم الفحل ". قال ابن جريج وحدثني عبد الله بن ابي مليكة، عن جده، بمثل هذه الصفة ان رجلا، عض يد رجل، فاندر ثنيته، فاهدرها ابو بكر رضى الله عنه
بَاب مَنْ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَبَيَّنَ لَهُ الأَجَلَ وَلَمْ يُبَيِّنْ الْعَمَلَ لِقَوْلِهِ ৩৭/৬. অধ্যায় : যদি কোন ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে সময়সীমা উল্লেখ করল, কিন্তু কাজের উল্লেখ করল না (তবে তা বৈধ)। ( إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ إِلَى قَوْلِهِ وَاللهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ ) يَأْجُرُ فُلاَنًا يُعْطِيهِ أَجْرًا وَمِنْهُ فِي التَّعْزِيَةِ أَجَرَكَ اللهُ কেননা, আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন, [শু‘আইব (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বলেন] ‘‘আমি আমার এ দু’টি মেয়ের মধ্যে একটিকে তোমার কাছে বিয়ে দিতে চাই’’ .... ‘‘আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী’’ পর্যন্ত। (ক্বাসাসঃ ২৭-২৮) يَأْجُرُ فُلاَنًا কথাটির অর্থ সে অমুককে মজুরী প্রদান করেছে। অনুরূপভাবে সমবেদনা প্রকাশার্থে বলা হয়ে থাকে يُعْطِيهِ أَجْرًا আল্লাহ তোমাকে প্রতিদান দিন। ২২৬৭. উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তারা উভয়ে [খাযির ও মূসা (‘আ.)] চলতে লাগলেন। সেখানে তারা পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন। সাঈদ (রহ.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন এভাবে এবং (খাযির) উভয় হাত তুললেন এতে দেয়াল ঠিক হয়ে গেল। হাদীসের অপর বর্ণনাকারী ইয়ালা (রহ.) বলেন, আমার ধারণা যে সাঈদ (রহ.) বলেছেন, তিনি (খাযির) দেয়ালটির উপর হাত বুলিয়ে দিলেন, ফলে তা সোজা হয়ে গেল। মূসা (‘আ.) (খাযিরকে) বলেন, আপনি ইচ্ছা করলে এ কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। সাঈদ (রহ.) বর্ণনা করেন যে, এমন পারিশ্রমিক নিতে পারতেন যা দিয়ে আপনার আহার চলত। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام بن يوسف، ان ابن جريج، اخبرهم قال اخبرني يعلى بن مسلم، وعمرو بن دينار، عن سعيد بن جبير، يزيد احدهما على صاحبه، وغيرهما قال قد سمعته يحدثه عن سعيد قال قال لي ابن عباس رضى الله عنهما حدثني ابى بن كعب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فانطلقا فوجدا جدارا يريد ان ينقض ". قال سعيد بيده هكذا، ورفع يديه فاستقام، قال يعلى حسبت ان سعيدا قال. فمسحه بيده فاستقام {قال} "لو شيت لاتخذت عليه اجرا ". قال سعيد اجرا ناكله
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা এবং উভয় আহলে কিতাব (ইয়াহূদী ও খৃষ্টান)-এর উদাহরণ হল এমন এক ব্যক্তির মতো, যে কয়েকজন মজদুরকে কাজে নিয়োগ করে বলল, সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত এক কিরাআত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমার কাজ কে করবে? তখন ইয়াহূদী কাজ করে দিল। তারপর সে ব্যক্তি বলল, কে আছ যে দুপুর হতে আসর পর্যন্ত এক কিরাআতের বিনিময়ে আমার কাজ করে দেবে? তখন খৃষ্টান কাজ করে দিল। তারপর সে ব্যক্তি বলল, কে আছ যে আসর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাআত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে? আর তোমরাই হলে (মুসলিম) তারা (যারা অল্প পরিশ্রমে অধিক পারিশ্রমিক লাভ করলে) তাতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা রাগান্বিত হল, তারা বলল, এটা কেমন কথা, আমরা কাজ করলাম বেশী, অথচ পারিশ্রমিক পেলাম কম। তখন সে ব্যক্তি (নিয়োগকর্তা) বলল, আমি তোমাদের প্রাপ্য কম দিয়েছি? তারা বলল, না। তখন সে বলল, সেটা তো আমার অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা দান করি। (৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مثلكم ومثل اهل الكتابين كمثل رجل استاجر اجراء فقال من يعمل لي من غدوة الى نصف النهار على قيراط فعملت اليهود، ثم قال من يعمل لي من نصف النهار الى صلاة العصر على قيراط فعملت النصارى ثم، قال من يعمل لي من العصر الى ان تغيب الشمس على قيراطين فانتم هم، فغضبت اليهود والنصارى، فقالوا ما لنا اكثر عملا، واقل عطاء قال هل نقصتكم من حقكم قالوا لا. قال فذلك فضلي اوتيه من اشاء
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের এবং ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের উদাহরণ এরূপ, যেমন এক ব্যক্তি কয়েকজন মজদুর নিয়োগ করল এবং বলল, দুপুর পর্যন্ত এক এক কীরাতের বিনিময়ে কে আমার কাজ করে দিবে? তখন ইয়াহূদীরা এক এক কীরাতের বিনিময়ে কাজ করল। তারপর খৃষ্টানরা এক এক কীরাতের বিনিময়ে (আসর পর্যন্ত) কাজ করল। তারপর তোমরাই যারা আসরের সালাতের সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই দুই কীরাতের বিনিময়ে কাজ করলে। এতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা রাগান্বিত হল। তারা বলল, আমরা কাজ করলাম বেশী অথচ পারিশ্রমিক পেলাম কম। সে (নিয়োগকর্তা) বলল, আমি কি তোমাদের প্রাপ্য কিছু কম দিয়েছি? তারা বলল, না। তখন সে বলল, সেটা তো আমার অনুগ্রহ, তা আমি যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে থাকি। (৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس، قال حدثني مالك، عن عبد الله بن دينار، مولى عبد الله بن عمر عن عبد الله بن عمر بن الخطاب رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انما مثلكم واليهود والنصارى كرجل استعمل عمالا فقال من يعمل لي الى نصف النهار على قيراط قيراط فعملت اليهود على قيراط قيراط، ثم عملت النصارى على قيراط قيراط، ثم انتم الذين تعملون من صلاة العصر الى مغارب الشمس على قيراطين قيراطين، فغضبت اليهود والنصارى وقالوا نحن اكثر عملا واقل عطاء، قال هل ظلمتكم من حقكم شييا قالوا لا. فقال فذلك فضلي اوتيه من اشاء
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরোধী থাকব। তাদের এক ব্যক্তি হল, যে আমার নামে প্রতিজ্ঞা করল, তারপর তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি হল, যে আযাদ মানুষ বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। অপর এক ব্যক্তি হল, যে কোন লোককে মজদুর নিয়োগ করল এবং তার হতে কাজ পুরোপুরি আদায় করল, অথচ তার পারিশ্রমিক দিল না। (২২২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يوسف بن محمد، قال حدثني يحيى بن سليم، عن اسماعيل بن امية، عن سعيد بن ابي سعيد، عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " قال الله تعالى ثلاثة انا خصمهم يوم القيامة رجل اعطى بي ثم غدر، ورجل باع حرا فاكل ثمنه، ورجل استاجر اجيرا فاستوفى منه ولم يعطه اجره
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম, ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের উদাহরণ এরূপ, যেমন কোন এক ব্যক্তি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করার জন্য কিছু সংখ্যক লোক নিয়োগ করল। তারা দুপুর পর্যন্ত কাজ করে বলল, তুমি আমাদের যে পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিলে তাতে আমাদের প্রয়োজন নেই, আর আমরা যে কাজ করেছি, তা বাতিল। সে ব্যক্তি (নিয়োগকর্তা) বলল, তোমরা এরূপ করবে না, বাকী কাজ পূর্ণ করে পুরো পারিশ্রমিক নিয়ে নাও। কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকার করল এবং কাজ করা বন্ধ করে দিল। এরপর সে অন্য দু’জন মজুর কাজে নিযুক্ত করল এবং তাদেরকে বলল, তোমরা এই দিনের বাকী অংশ পূর্ণ করে দাও। আমি তোমাদেরকে সে পরিমাণ মজুরীই দিব, যা পূর্ববর্তীদের জন্য নির্ধারিত করেছিলাম। তখন তারা কাজ শুরু করল, কিন্তু যখন আসরের সালাতের সময় হল তখন তারা বলতে লাগল, আমরা যা করেছি তা বাতিল, আর আপনি এর জন্য যে মজুরী নির্ধারণ করছেন তা আপনারই। সে ব্যক্তি বলল, তোমরা বাকী কাজ করে দাও, দিনের তো সামান্যই বাকী রয়েছে। কিন্তু তারা অস্বীকার করল। তারপর সে ব্যক্তি অপর কিছু লোককে বাকী দিনের জন্য কাজে নিযুক্ত করল। তারা বাকী দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করল এবং পূর্ববর্তী দু’দলের পূর্ণ মজুরী নিয়ে নিল। এটা উদাহরণ হল, তাদের এবং এই নূর (ইসলাম) যারা গ্রহণ করেছে তাদের। (৫৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، عن بريد، عن ابي بردة، عن ابي موسى رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مثل المسلمين واليهود والنصارى كمثل رجل استاجر قوما يعملون له عملا يوما الى الليل على اجر معلوم، فعملوا له الى نصف النهار فقالوا لا حاجة لنا الى اجرك الذي شرطت لنا، وما عملنا باطل، فقال لهم لا تفعلوا اكملوا بقية عملكم، وخذوا اجركم كاملا، فابوا وتركوا، واستاجر اجيرين بعدهم فقال لهما اكملا بقية يومكما هذا، ولكما الذي شرطت لهم من الاجر. فعملوا حتى اذا كان حين صلاة العصر قالا لك ما عملنا باطل، ولك الاجر الذي جعلت لنا فيه. فقال لهما اكملا بقية عملكما، فان ما بقي من النهار شىء يسير. فابيا، واستاجر قوما ان يعملوا له بقية يومهم، فعملوا بقية يومهم حتى غابت الشمس، واستكملوا اجر الفريقين كليهما، فذلك مثلهم ومثل ما قبلوا من هذا النور
‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে তিন ব্যক্তি সফরে বের হয়ে তারা রাত কাটাবার জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নেয়। হঠাৎ পাহাড় হতে এক খন্ড পাথর পড়ে গুহায় মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা নিজেদের মধ্যে বলতে লাগল তোমাদের সৎকার্যাবলীর ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করা ছাড়া আর কোন কিছুই এ পাথর হতে তোমাদেরকে মুক্ত করতে পারে না। তখন তাদের মধ্যে একজন বলতে লাগল, হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি কখনো তাদের আগে আমার পরিবার-পরিজনকে কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন কোন একটি জিনিসের তালাশে আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে হয়; কাজেই আমি তাঁদের ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে ফিরতে পারলাম না। আমি তাঁদের জন্য দুধ দোহায়ে নিয়ে এলাম। কিন্তু তাঁদেরকে ঘুমন্ত পেলাম। তাদের আগে আমার পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীকে দুধ পান করতে দেয়াটাও আমি পছন্দ করিনি। তাই আমি তাঁদের জেগে উঠার অপেক্ষায় পেয়ালাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এভাবে ভোরের আলো ফুটে উঠল। তারপর তাঁরা জাগলেন এবং দুধ পান করলেন। হে আল্লাহ! যদি আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে এ কাজ করে থাকি, তবে এ পাথরের কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি, তা আমাদের হতে দূর করে দাও। ফলে পাথর সামান্য সরে গেল, কিন্তু তাতে তারা বের হতে পারল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। সে আমার খুব প্রিয় ছিল। আমি তার সাথে সঙ্গত হতে চাইলাম। কিন্তু সে বাধা দিল। তারপর এক বছর ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সে আমার কাছে (সাহায্যের জন্য) এল। আমি তাকে একশ’ বিশ দ্বীনার এ শর্তে দিলাম যে, সে আমার সাথে একান্তে মিলিত হবে, তাতে সে রাযী হল। আমি যখন সম্পূর্ণ সুযোগ লাভ করলাম, তখন সে বলল, আমি তোমাকে অবৈধভাবে মোহর ভাঙ্গার অনুমতি দিতে পারি না। ফলে সে আমার সর্বাধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি তার সাথে সঙ্গত হওয়া পাপ মনে করে তার কাছ হতে ফিরে আসলাম এবং আমি তাকে যে স্বর্ণমুদ্রা দিয়েছিলাম, তাও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করে থাকি, তবে আমরা যে বিপদে পড়ে আছি তা দূর কর। তখন সেই পাথরটি (আরো একটু) সরে পড়ল। কিন্তু তাতে তারা বের হতে পারছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন মজদুর নিয়োগ করেছিলাম এবং আমি তাদেরকে তাদের মজুরীও দিয়েছিলাম, কিন্তু একজন লোক তার প্রাপ্য না নিয়ে চলে গেল। আমি তার মজুরীর টাকা কাজে খাটিয়ে তা বাড়াতে লাগলাম। তাতে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জিত হল। কিন্তু কিছুকাল পর সে আমার নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি তাকে বললাম, এসব উট, গরু, ছাগল ও গোলাম যা তুমি দেখতে পাচ্ছ, তা সবই তোমার মজুরী। সে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার সাথে বিদ্রূপ করো না। তখন আমি বললাম, আমি তোমার সাথে মোটেই বিদ্রূপ করছি না। তখন সে সবই গ্রহণ করল এবং নিয়ে চলে গেল। তা হতে একটাও ছেড়ে গেল না। হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এ কাজ করে থাকি, তবে আমরা যে বিপদে পড়েছি, তা দূর কর। তখন সে পাথরটি সম্পূর্ণ সরে পড়ল। তারপর তারা বেরিয়ে এসে পথ চলতে লাগল। (২২১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদকা করার নির্দেশ দিলে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বাজারে চলে যেত এবং বোঝা বহন করে এক মুদ (খাদ্য) মজুরী হিসাবে পেত (এবং তা হতে দান করত) আর তাদের কারো কারো এখন লক্ষ মুদ্রা রয়েছে। (বর্ণনাকারী শাকীক) বলেন, আমার ধারণা, এর দ্বারা তিনি (আবূ মাসঊদ) নিজেকে ইঙ্গিত করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن يحيى بن سعيد، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، عن شقيق، عن ابي مسعود الانصاري رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا امر بالصدقة انطلق احدنا الى السوق فيحامل فيصيب المد، وان لبعضهم لماية الف، قال ما نراه الا نفسه
وَلَمْ يَرَ ابْنُ سِيرِينَ وَعَطَاءٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَالْحَسَنُ بِأَجْرِ السِّمْسَارِ بَأْسًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لاَ بَأْسَ أَنْ يَقُولَ بِعْ هَذَا الثَّوْبَ فَمَا زَادَ عَلَى كَذَا وَكَذَا فَهُوَ لَكَ وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ إِذَا قَالَ بِعْهُ بِكَذَا فَمَا كَانَ مِنْ رِبْحٍ فَهُوَ لَكَ أَوْ بَيْنِي وَبَيْنَكَ فَلاَ بَأْسَ بِهِ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمُونَ عِنْدَ شُرُوطِهِمْ ইবনু সীরীন, আতা, ইবরাহীম ও হাসান (রহ.) দালালীর মজুরীতে কোন দোষ মনে করেননি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যদি কেউ বলে যে, তুমি এ কাপড়টি বিক্রি করে দাও। এতো এতো এর উপর যা বেশী হয় তা তোমার, এতে কোন দোষ নেই। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেন, যদি কেউ বলে যে, এটা এত এত দামে বিক্রি করে দাও, লাভ যা হবে, তা তোমার, অথবা তা তোমার ও আমার মধ্যে সমান হারে ভাগ হবে, তবে এতে কোন দোষ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমগণ তাদের পরস্পরের শর্তানুযায়ী কাজ করবে। ২২৭৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণিজ্যিক কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ করা হতে নিষেধ করেছেন এবং শহরবাসী, গ্রামবাসীর পক্ষে বেচা-কেনা করবে না। রাবী [তাউস (রহ.)] বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে ইবনু ‘আব্বাস! শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষে বেচা-কেনা করবে না- এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষে দালাল হবে না। (২১৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد، حدثنا معمر، عن ابن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس رضى الله عنهما نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يتلقى الركبان، ولا يبيع حاضر لباد. قلت يا ابن عباس ما قوله لا يبيع حاضر لباد قال لا يكون له سمسارا
খাববাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। আমি ‘আস ইবনু ওয়ায়িলের তরবারি বানিয়ে দিলাম। তার নিকট আমার পাওনা কিছু মজুরী জমে যায়। আমি পাওনা টাকার তাগাদা দিতে তার কাছে গেলাম। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে টাকা দিব না, যে পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার করবে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তা করব না, যে পর্যন্ত না তুমি মৃত্যুবরণ করবে, তারপর পুনরুত্থিত হবে। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে তো সেখানে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও হবে। তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করে দিব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেনঃ ‘‘আপনি কি সে ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে আমাকে (পরকালে) অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে’’- (মারইয়ামঃ ৭৭)। (২০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، عن مسلم، عن مسروق، حدثنا خباب، قال كنت رجلا قينا فعملت للعاص بن وايل فاجتمع لي عنده فاتيته اتقاضاه فقال لا والله لا اقضيك حتى تكفر بمحمد. فقلت اما والله حتى تموت ثم تبعث فلا. قال واني لميت ثم مبعوث قلت نعم. قال فانه سيكون لي ثم مال وولد فاقضيك. فانزل الله تعالى {افرايت الذي كفر باياتنا وقال لاوتين مالا وولدا}
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَقُّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللهِ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ لاَ يَشْتَرِطُ الْمُعَلِّمُ إِلاَّ أَنْ يُعْطَى شَيْئًا فَلْيَقْبَلْهُ وَقَالَ الْحَكَمُ لَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا كَرِهَ أَجْرَ الْمُعَلِّمِ وَأَعْطَى الْحَسَنُ دَرَاهِمَ عَشَرَةً وَلَمْ يَرَ ابْنُ سِيرِينَ بِأَجْرِ الْقَسَّامِ بَأْسًا وَقَالَ كَانَ يُقَالُ السُّحْتُ الرِّشْوَةُ فِي الْحُكْمِ وَكَانُوا يُعْطَوْنَ عَلَى الْخَرْصِ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, পারিশ্রমিক গ্রহণের ব্যাপারে অধিক হকদার হল আল্লাহর কিতাব। শা’বী (রহ.) বলেন, শিক্ষক কোনরূপ (পারিশ্রমিকের) শর্তারোপ করবে না। তবে (বিনা শর্তে) যদি তাকে কিছু দেয়া হয় তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন। হাকাম (রহ.) বলেন, আমি এমন কারো কথা শুনিনি, যিনি (শিক্ষকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করাটাকে অপছন্দ মনে করেছেন। হাসান (বাসরী) (রহ.) শিক্ষকের পারিশ্রমিক বাবত) দশ দিরহাম দিয়েছেন। ইবনু সীরীন (রহ.) বণ্টনকারীর পারিশ্রমিক গ্রহণ করাতে কোন দোষ মনে করেননি। তিনি বলেন, বিচারে ঘুষ গ্রহণকে সুহ্ত বলা হয়। লোকেরা অনুমান করার জন্য অনুমানকারীদের পারিশ্রমিক প্রদান করত। ২২৭৬. আবূ সাঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একদল সাহাবী কোন এক সফরে যাত্রা করেন। তারা এক আরব গোত্রে পৌঁছে তাদের মেহমান হতে চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। সে গোত্রের সরদার বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হল। লোকেরা তার (আরোগ্যের) জন্য সব ধরনের চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কোন উপকার হল না। তখন তাদের কেউ বলল, এ কাফেলা যারা এখানে অবতরণ করেছে তাদের কাছে তোমরা গেলে ভাল হত। সম্ভবত, তাদের কারো কাছে কিছু থাকতে পারে। ওরা তাদের নিকট গেল এবং বলল, হে যাত্রীদল! আমাদের সরদারকে বিচ্ছু দংশন করেছে, আমরা সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কিছু আছে কি? তাদের (সাহাবীদের) একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম আমি ঝাড়-ফুঁক করতে পারি। আমরা তোমাদের মেহমানদারী কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের জন্য মেহমানদারী করনি। কাজেই আমি তোমাদের ঝাড়-ফুঁক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। তখন তারা এক পাল বকরীর শর্তে তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হল। তারপর তিনি গিয়ে (الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’’ (সূরা ফাতিহা) পড়ে তার উপর ফুঁ দিতে লাগলেন। ফলে সে (এমনভাবে নিরাময় হল) যেন বন্ধন হতে মুক্ত হল এবং সে এমনভাবে চলতে ফিরতে লাগল যেন তার কোন কষ্টই ছিল না। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তারা তাদের স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। সাহাবীদের কেউ কেউ বলেন, এগুলো বণ্টন কর। কিন্তু যিনি ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেন এটা করব না, যে পর্যন্ত না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গিয়ে তাঁকে এই ঘটনা জানাই এবং লক্ষ্য করি তিনি আমাদের কী নির্দেশ দেন। তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বলেন, তুমি কিভাবে জানলে যে, সূরা ফাতিহা একটি দু‘আ? তারপর বলেন, তোমরা ঠিকই করেছ। বণ্টন কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটা অংশ রাখ। এ বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। শো’বা (রহ.) বলেন, আমার নিকট আবূ বিশর (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, আমি মুতাওয়াক্কিল (রহ.) হতে এ হাদীস শুনেছি। (৫০০৭, ৫৭৩৬, ৫৭৪৯, মুসলিম ৩৯/২৩, হাঃ ২২০১, আহমাদ ১১৩৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তায়বা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। তিনি তাকে এক সা‘ কিংবা দু’ সা‘ খাদ্য দিতে আদেশ করলেন এবং তার মালিকের সাথে আলোচনা করে তার উপর ধার্যকৃত মাসুল কমিয়ে দিলেন। (২১০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن حميد الطويل، عن انس بن مالك رضى الله عنه قال حجم ابو طيبة النبي صلى الله عليه وسلم، فامر له بصاع او صاعين من طعام، وكلم مواليه فخفف عن غلته او ضريبته
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা নিয়েছিলেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারীকে তার মজুরী দিয়েছিলেন। (১৮৩৫, মুসলিম ৩৯/২৬, হাঃ ১২০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، حدثنا ابن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال احتجم النبي صلى الله عليه وسلم، واعطى الحجام اجره
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা নিয়েছিলেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। যদি তিনি তা অপছন্দ করতেন তবে তাকে (পারিশ্রমিক) দিতেন না। (১৮৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، عن خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال احتجم النبي صلى الله عليه وسلم واعطى الحجام اجره، ولو علم كراهية لم يعطه
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثني سالم بن عبد الله، ان عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " انطلق ثلاثة رهط ممن كان قبلكم حتى اووا المبيت الى غار فدخلوه، فانحدرت صخرة من الجبل فسدت عليهم الغار فقالوا انه لا ينجيكم من هذه الصخرة الا ان تدعوا الله بصالح اعمالكم. فقال رجل منهم اللهم كان لي ابوان شيخان كبيران، وكنت لا اغبق قبلهما اهلا ولا مالا، فناى بي في طلب شىء يوما، فلم ارح عليهما حتى ناما، فحلبت لهما غبوقهما فوجدتهما نايمين وكرهت ان اغبق قبلهما اهلا او مالا، فلبثت والقدح على يدى انتظر استيقاظهما حتى برق الفجر، فاستيقظا فشربا غبوقهما، اللهم ان كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك ففرج عنا ما نحن فيه من هذه الصخرة، فانفرجت شييا لا يستطيعون الخروج ". قال النبي صلى الله عليه وسلم " وقال الاخر اللهم كانت لي بنت عم كانت احب الناس الى، فاردتها عن نفسها، فامتنعت مني حتى المت بها سنة من السنين، فجاءتني فاعطيتها عشرين وماية دينار على ان تخلي بيني وبين نفسها، ففعلت حتى اذا قدرت عليها قالت لا احل لك ان تفض الخاتم الا بحقه. فتحرجت من الوقوع عليها، فانصرفت عنها وهى احب الناس الى وتركت الذهب الذي اعطيتها، اللهم ان كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا ما نحن فيه. فانفرجت الصخرة، غير انهم لا يستطيعون الخروج منها. قال النبي صلى الله عليه وسلم وقال الثالث اللهم اني استاجرت اجراء فاعطيتهم اجرهم، غير رجل واحد ترك الذي له وذهب فثمرت اجره حتى كثرت منه الاموال، فجاءني بعد حين فقال يا عبد الله اد الى اجري. فقلت له كل ما ترى من اجرك من الابل والبقر والغنم والرقيق. فقال يا عبد الله لا تستهزي بي. فقلت اني لا استهزي بك. فاخذه كله فاستاقه فلم يترك منه شييا، اللهم فان كنت فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا ما نحن فيه. فانفرجت الصخرة فخرجوا يمشون
حدثنا ابو النعمان، حدثنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن ابي المتوكل، عن ابي سعيد رضى الله عنه قال انطلق نفر من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في سفرة سافروها حتى نزلوا على حى من احياء العرب فاستضافوهم، فابوا ان يضيفوهم، فلدغ سيد ذلك الحى، فسعوا له بكل شىء لا ينفعه شىء، فقال بعضهم لو اتيتم هولاء الرهط الذين نزلوا لعله ان يكون عند بعضهم شىء، فاتوهم، فقالوا يا ايها الرهط، ان سيدنا لدغ، وسعينا له بكل شىء لا ينفعه، فهل عند احد منكم من شىء فقال بعضهم نعم والله اني لارقي، ولكن والله لقد استضفناكم فلم تضيفونا، فما انا براق لكم حتى تجعلوا لنا جعلا. فصالحوهم على قطيع من الغنم، فانطلق يتفل عليه ويقرا {الحمد لله رب العالمين} فكانما نشط من عقال، فانطلق يمشي وما به قلبة، قال فاوفوهم جعلهم الذي صالحوهم عليه، فقال بعضهم اقسموا. فقال الذي رقى لا تفعلوا، حتى ناتي النبي صلى الله عليه وسلم فنذكر له الذي كان، فننظر ما يامرنا. فقدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكروا له، فقال " وما يدريك انها رقية ثم قال قد اصبتم اقسموا واضربوا لي معكم سهما ". فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال شعبة حدثنا ابو بشر سمعت ابا المتوكل بهذا