Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১৮ হাদিসসমূহ
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফিতনা সম্পর্কিত হাদীস মনে রেখেছ? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বলেছেন, আমি ঠিক সেভাবেই তা স্মরণ রেখেছি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে] বড় দুঃসাহসী ছিলে, তিনি কিভাবে বলেছেন (বলতো)? তিনি বলেন, আমি বললাম, (হাদীসটি হলোঃ) মানুষ পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশি নিয়ে ফিতনায় পতিত হবে আর সালাত, সদাকাহ ও নেক কাজ সেই ফিতনা মুছে দিবে। সুলাইমান [অর্থাৎ ‘আমাশ (রহ.)] বলেন, আবূ ওয়াইল কোন কোন সময় সালাত, সদাকাহ ও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে বলতেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ ধরনের ফিতনার কথা অবগত হতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সাগরের ঢেউয়ের মত প্রবল বেগে ছুটে আসবে। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমীরুল মু‘মিনীন! আপনার জীবনকালে ঐ ফিতনার কোন ভয় নেই। সেই ফিতনা ও আপনার মাঝে বদ্ধ দরজা রয়েছে। ‘উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, দরজা কি ভেঙ্গে দেয়া হবে না কি খুলে দেয়া হবে? হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, না বরং ভেঙ্গে দেয়া হবে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, দরজা ভেঙ্গে দেয়া হলে কোন দিন তা আর বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমি বললাম, সত্যই বলেছেন। আবূ ওয়াইল (রাঃ) বলেন, দরজা বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে- এ কথা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করে জানতে আমরা কেউ সাহসী হলাম না। তাই প্রশ্ন করতে মাসরূককে অনুরোধ করলাম। মাসরূক (রহ.) হুযাইফাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করায় তিনি উত্তর দিলেনঃ দরজা হলেন ‘উমার (রাঃ)। আমরা বললাম, আপনি দরজা বলে যাকে উদ্দেশ্য করেছেন, ‘উমর (রাঃ) কি তা অনুধাবন করতে পেরেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আগামীকালের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত (তেমনি নিঃসন্দেহে তিনি তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন)। এর কারণ হলো, আমি তাঁকে এমন হাদীস বর্ণনা করেছি, যাতে কোন ভুল ছিল না। (৫২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا جرير، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن حذيفة رضى الله عنه قال قال عمر رضى الله عنه ايكم يحفظ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الفتنة قال قلت انا احفظه كما قال. قال انك عليه لجريء فكيف قال قلت فتنة الرجل في اهله وولده وجاره تكفرها الصلاة والصدقة والمعروف. قال سليمان قد كان يقول " الصلاة والصدقة، والامر بالمعروف والنهى عن المنكر ". قال ليس هذه اريد، ولكني اريد التي تموج كموج البحر. قال قلت ليس عليك بها يا امير المومنين باس، بينك وبينها باب مغلق. قال فيكسر الباب او يفتح. قال قلت لا. بل يكسر. قال فانه اذا كسر لم يغلق ابدا. قال قلت اجل. فهبنا ان نساله من الباب فقلنا لمسروق سله. قال فساله. فقال عمر رضى الله عنه . قال قلنا فعلم عمر من تعني قال نعم، كما ان دون غد ليلة، وذلك اني حدثته حديثا ليس بالاغاليط
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান আনয়নের পূর্বে (সওয়াব লাভের উদ্দেশে) আমি সদাকাহ প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যত কাজ করেছি সেগুলোতে সওয়াব হবে কি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যে সব ভালো কাজ করেছ তা নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছ (তুমি সেসব কাজের সওয়াব পাবে)। (২২২০, ২৫৩৮, ৫৯৯২, মুসলিম ১/৫৫, হাঃ ১২৩, আহমাদ ১৫৩১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا هشام، حدثنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن حكيم بن حزام رضى الله عنه قال قلت يا رسول الله ارايت اشياء كنت اتحنث بها في الجاهلية من صدقة او عتاقة وصلة رحم فهل فيها من اجر فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اسلمت على ما سلف من خير
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্ত্রী তার স্বামীর খাদ্য সামগ্রী হতে বিপর্যয়ের উদ্দেশ্য ব্যতীত সদাকাহ করলে সে সদাকাহ করার সওয়াব পাবে, উপার্জন করার কারণে স্বামীও এর সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও অনুরূপ সওয়াব পাবে। (১৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن الاعمش، عن ابي وايل، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا تصدقت المراة من طعام زوجها غير مفسدة كان لها اجرها، ولزوجها بما كسب، وللخازن مثل ذلك
আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে বিশ্বস্ত মুসলিম খাজাঞ্চী (আপন মালিক কর্তৃক) নির্দেশিত পরিমাণ সদাকাহর সবটুকুই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সানন্দচিত্তে আদায় করে, কোন কোন সময় তিনি ‘‘يُنَفِّذٌ (বাস্তবায়িত করে) শব্দের স্থলে يُعْطِيْ (আদায় করে) শব্দ বলেছেন, সে খাজাঞ্চীও নির্দেশদাতার ন্যায় সদাকাহ দানকারী হিসেবে গণ্য। (২২৬০, ২৩১৯, মুসলিম ১২/২৫, হাঃ ১০২৩, আহমাদ ১৯৫২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، عن بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الخازن المسلم الامين الذي ينفذ وربما قال يعطي ما امر به كاملا موفرا طيب به نفسه، فيدفعه الى الذي امر له به، احد المتصدقين
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর ঘর হতে কাউকে কিছু সদাকাহ করলে (স্ত্রী এর সওয়াব পাবে)। (১৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا منصور، والاعمش، عن ابي وايل، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم تعني اذا تصدقت المراة من بيت زوجها
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার স্বামীর গৃহ হতে কাউকে কিছু আহার করালে স্ত্রী এর সওয়াব পাবে স্বামীও সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। স্বামী উপার্জন করার কারণে আর স্ত্রী দান করার কারণে সওয়াব পাবে। (১৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، عن شقيق، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها قالت قال النبي صلى الله عليه وسلم " اذا اطعمت المراة من بيت زوجها غير مفسدة، لها اجرها، وله مثله، وللخازن مثل ذلك، له بما اكتسب، ولها بما انفقت
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত স্ত্রী তার ঘরের খাদ্য সামগ্রী হতে সদাকাহ করলে সে এর সওয়াব পাবে। উপার্জন করার কারণে স্বামীও সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চীও সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। (১৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن يحيى، اخبرنا جرير، عن منصور، عن شقيق، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا انفقت المراة من طعام بيتها غير مفسدة فلها اجرها، وللزوج بما اكتسب، وللخازن مثل ذلك
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (মুসলিম ১২/১৭, হাঃ ১০১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني اخي، عن سليمان، عن معاوية بن ابي مزرد، عن ابي الحباب، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما من يوم يصبح العباد فيه الا ملكان ينزلان فيقول احدهما اللهم اعط منفقا خلفا، ويقول الاخر اللهم اعط ممسكا تلفا
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কৃপণ ও সদাকাহ দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ ব্যক্তির মত যাদের পরিধানে দু’টি লোহার বর্ম রয়েছে। অপর সনদে আবুল ইয়ামান (রহ.)....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, কৃপণ ও সদাকাহ দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ব্যক্তির মত, যাদের পরিধানে দু’টি লোহার বর্ম রয়েছে যা তাদের বুক হতে কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত। দাতা ব্যক্তি যখন দান করে তখন বর্মটি তার সম্পূর্ণ দেহ পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যায়। এমনকি হাতের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে ও (পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলন্ত বর্ম) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন যৎসামান্যও দান করতে চায়, তখন যেন বর্মের প্রতিটি আংটা যথাস্থানে সেঁটে যায়, সে তা প্রশস্ত করতে চেষ্টা করলেও তা প্রশস্ত হয় না। হাসান ইবনু মুসলিম (রহ.) তাউস (রহ.) হতে الْجُبَّتَيْنِ শব্দটির বর্ণনায় ইবনু তাউস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৪৪৪, ২৯১৭, ৫২৯৯, ৫৭৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى، حدثنا وهيب، حدثنا ابن طاوس، عن ابيه، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " مثل البخيل والمتصدق كمثل رجلين، عليهما جبتان من حديد ". وحدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد ان عبد الرحمن حدثه انه سمع ابا هريرة رضى الله عنه انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " مثل البخيل والمنفق كمثل رجلين، عليهما جبتان من حديد، من ثديهما الى تراقيهما، فاما المنفق فلا ينفق الا سبغت او وفرت على جلده حتى تخفي بنانه وتعفو اثره، واما البخيل فلا يريد ان ينفق شييا الا لزقت كل حلقة مكانها، فهو يوسعها ولا تتسع ". تابعه الحسن بن مسلم عن طاوس في الجبتين
হানযালা (রহ.) তাউস (রহ.) হতে جُنَّتَانِ উল্লেখ করেছেন। লায়স (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে جُنَّتَانِ (ঢাল) শব্দের উল্লেখ রয়েছে। (১৪৪৩, মুসলিম ১২/২৩, হাঃ ১০২১, আহমাদ ৯০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৫৬ শেষাংশ)
وقال حنظلة عن طاوس، " جنتان ". وقال الليث حدثني جعفر، عن ابن هرمز، سمعت ابا هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم " جنتان
بَاب صَدَقَةِ الْكَسْبِ وَالتِّجَارَةِ ২৪/২৯. অধ্যায় : উপার্জন করে প্রাপ্ত সম্পদ ও ব্যবসায় লব্ধ মালের সদাকাহ। لِقَوْلِهِ تَعَالَى : (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنْ الأَرْضِ إِلَى قَوْلِهِ أَنَّ اللهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ) এ পর্যায়ে মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘হে মু’মিনগণ! তোমরা যা উপার্জন কর এবং আমি যা ভূমি হতে তোমাদের জন্য উৎপাদন করে দেই, তন্মধ্যে যা উৎকৃষ্ট, তা ব্যয় কর, তা হতে নিকৃষ্ট বস্তু দান করার ইচ্ছা কর না। (কেননা) তোমরা নিজেরাও তো ঐরূপ বস্তু (কারো নিকট হতে) ভ্রুকুঞ্চিত না করে নিতে চাও না এবং জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাসম্পদশালী, প্রশংসিত।’’ (আল-বাকারাঃ ২৬৭) ১৪৪৫. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ প্রতিটি মুসলিমের সদাকাহ করা উচিত। সাহাবীগণ আরয করলেন, কেউ যদি সদাকাহ দেয়ার মত কিছু না পায়? (তিনি উত্তরে) বললেনঃ সে ব্যক্তি নিজ হাতে কাজ করবে এতে নিজেও লাভবান হবে, সদাকাহও করতে পারবে। তাঁরা বললেন, যদি এরও ক্ষমতা না থাকে? তিনি বললেনঃ কোন বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে। তাঁরা বললেন, যদি এতটুকুরও সামর্থ্য না থাকে? তিনি বললেনঃ এ অবস্থায় সে যেন সৎ ‘আমল করে এবং অন্যায় কাজ হতে বিরত থাকে। এটা তার জন্য সদাকাহ বলে গণ্য হবে। (৬০২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا شعبة، حدثنا سعيد بن ابي بردة، عن ابيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " على كل مسلم صدقة ". فقالوا يا نبي الله فمن لم يجد قال " يعمل بيده فينفع نفسه ويتصدق ". قالوا فان لم يجد قال " يعين ذا الحاجة الملهوف ". قالوا فان لم يجد. قال " فليعمل بالمعروف، وليمسك عن الشر فانها له صدقة
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নুসায়বা নাম্নী আনসারী মহিলার জন্য একটি বকরী (সদাকাহ স্বরূপ) পাঠানো হলো। তিনি বকরীর কিছু অংশ ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) -কে (হাদিয়া[1] স্বরূপ) পাঠিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কাছে (আহার্য) কিছু আছে কি? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, নুসায়বা কর্তৃক প্রেরিত সেই বকরীর গোশত ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেনঃ তাই নিয়ে এসো, কেননা বকরীর (সদাকাহ) যথাস্থানে পৌঁছে গেছে (সদাকাহ গ্রহীতার নিকট)। (১৪৯৪, ২৫৭৯, মুসলিম ১২/৫২, হাঃ ১০৭৬, আহমাদ ২৭৩৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابو شهاب، عن خالد الحذاء، عن حفصة بنت سيرين، عن ام عطية رضى الله عنها قالت بعث الى نسيبة الانصارية بشاة فارسلت الى عايشة رضى الله عنها منها فقال النبي صلى الله عليه وسلم " عندكم شىء ". فقلت لا الا ما ارسلت به نسيبة من تلك الشاة فقال " هات فقد بلغت محلها
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচের কম সংখ্যক উটের[1] উপর যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়া-এর কম পরিমাণ রূপার উপর যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসক-এর কম পরিমাণ উৎপন্ন দ্রব্যের উপর সদাকাহ (উশর) নেই। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৫৯) আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি শুনেছি। (১৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن عمرو بن يحيى المازني، عن ابيه، قال سمعت ابا سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ليس فيما دون خمس ذود صدقة من الابل، وليس فيما دون خمس اواق صدقة، وليس فيما دون خمسة اوسق صدقة ". حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب، قال حدثني يحيى بن سعيد، قال اخبرني عمرو، سمع اباه، عن ابي سعيد رضى الله عنه سمعت النبي صلى الله عليه وسلم بهذا
وَقَالَ طَاوُسٌ قَالَ مُعَاذٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لأَهْلِ الْيَمَنِ ائْتُونِي بِعَرْضٍ ثِيَابٍ خَمِيصٍ أَوْ لَبِيسٍ فِي الصَّدَقَةِ، مَكَانَ الشَّعِيرِ وَالذُّرَةِ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ، وَخَيْرٌ لأَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ. وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَأَمَّا خَالِدٌ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ». وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ». فَلَمْ يَسْتَثْنِ صَدَقَةَ الْفَرْضِ مِنْ غَيْرِهَا، فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي خُرْصَهَا وَسِخَابَهَا، وَلَمْ يَخُصَّ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ مِنَ الْعُرُوضِ তাউস (রহ.) বলেন, মু‘আয (ইবনু জাবাল) (রাঃ) ইয়ামানবাসীদেরকে বললেন, তোমরা যব ও ভুট্টার পরিবর্তে চাদর বা পরিধেয় বস্ত্র আমার কাছে যাকাত স্বরূপ নিয়ে এস। ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদিনা্য় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের জন্যও উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-এর ব্যাপার হলো এই যে, সে তার বর্ম ও যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে। (মহিলাদের লক্ষ্য করে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তোমাদের অলংকার হতে হলেও সদাকাহ কর। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন,] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণ্যদ্রব্যের যাকাত সেই পণ্য দ্বারাই আদায় করতে হবে এমন নির্দিষ্ট করে দেননি। তখন মহিলাগণ কানের দুল ও গলার হার খুলে দিতে আরম্ভ করলেন, [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] সোনা ও রূপার বিষয়টি পণ্যদ্রব্য হতে পৃথক করেননি (বরং উভয় প্রকারেই যাকাত স্বরূপ গ্রহণ করা হতো)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৩৪ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ ৯১৫) ১৪৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বাকর (রাঃ) আনাস (রাঃ)-এর কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আল্লাহ তা‘আলা যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন সে সম্পর্কে লিখে জানালেন, যে ব্যক্তির উপর যাকাত হিসেবে বিনতে মাখায[1] ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তা নেই বরং বিনত্ লাবূন[2] রয়েছে, তা হলে তা-ই (যাকাত স্বরূপ) গ্রহণ করা হবে। এ অবস্থায় যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতাকে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। আর যদি বিনতে মাখায না থাকে বরং ইবনু লাবূন থাকে তা হলে তা-ই গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় আদায়কারীর যাকাত দাতাকে কিছু দিতে হবে না। (১৪৫০, ১৪৫১, ১৪৫৩, ১৪৫৪, ১৪৫৫, ২৪৮৭, ৩১০৬, ৫৮৭৮, ৬৯৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله، قال حدثني ابي قال، حدثني ثمامة، ان انسا رضى الله عنه حدثه ان ابا بكر رضى الله عنه كتب له التي امر الله رسوله صلى الله عليه وسلم " ومن بلغت صدقته بنت مخاض وليست عنده وعنده بنت لبون فانها تقبل منه، ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين، فان لم يكن عنده بنت مخاض على وجهها، وعنده ابن لبون فانه يقبل منه وليس معه شىء
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা প্রদানের পূর্বেই (ঈদের) সালাত আদায় করেন, এরপর বুঝতে পারলেন যে, (সকলের পিছনে থাকা বিধায়) নারীদেরকে খুত্বার আওয়াজ পৌঁছাতে পারেননি। তাই তিনি নারীদের নিকট আসলেন, তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। তিনি একখন্ড বস্ত্র প্রসারিত করে ধরলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উপদেশ দিলেন ও সদাকাহ করতে আদেশ করলেন। তখন মহিলাগণ তাদের (অলংকারাদি) ছুঁড়ে মারতে লাগলেন। (রাবী) আইয়ুব (রহ.) তার কান ও গলার দিকে ইঙ্গিত করে (মহিলাগণের অলংকারাদি দান করার বিষয়) দেখালেন। (৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مومل، حدثنا اسماعيل، عن ايوب، عن عطاء بن ابي رباح، قال قال ابن عباس رضى الله عنهما اشهد على رسول الله صلى الله عليه وسلم لصلى قبل الخطبة، فراى انه لم يسمع النساء، فاتاهن ومعه بلال ناشر ثوبه فوعظهن، وامرهن ان يتصدقن، فجعلت المراة تلقي، واشار ايوب الى اذنه والى حلقه
وَيُذْكَرُ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ مِثْلَهُ সালিম (রহ.) হতে ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪৫০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর নিকট লিখে পাঠান, যাকাতের (পরিমাণ কম-বেশি হওয়ার) আশংকায় বিচ্ছিন্ন [1] (প্রাণী)-গুলোকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিতগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، قال حدثني ابي قال، حدثني ثمامة، ان انسا رضى الله عنه حدثه ان ابا بكر رضى الله عنه كتب له التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم " ولا يجمع بين متفرق، ولا يفرق بين مجتمع، خشية الصدقة
وَقَالَ طَاوُسٌ وَعَطَاءٌ إِذَا عَلِمَ الْخَلِيطَانِ أَمْوَالَهُمَا فَلاَ يُجْمَعُ مَالُهُمَا وَقَالَ سُفْيَانُ لاَ يَجِبُ حَتَّى يَتِمَّ لِهَذَا أَرْبَعُونَ شَاةً وَلِهَذَا أَرْبَعُونَ شَاةً তাউস ও ‘আত্বা (রহ.) বলেন, প্রত্যেক অংশীদার যদি স্বীয় সম্পদের পরিচয় করতে সক্ষম হয়, তাহলে (যাকাতের ক্ষেত্রে) তাদের মাল একত্রিত করা হবে না। সুফয়ান (সাওরী) (রহ.) বলেন, (দুই অংশীদারের) প্রত্যেকের বকরীর সংখ্যা চল্লিশ পূর্ণ না হলে যাকাত ফরজ হবে না। ১৪৫১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন আবূ বাকর (রাঃ) তা তাকে লিখে জানালেন, এক অংশীদার অপর অংশীদারের নিকট হতে তার প্রাপ্য আদায় করে নিবে। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله، قال حدثني ابي قال، حدثني ثمامة، ان انسا، حدثه ان ابا بكر رضى الله عنه كتب له التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم " وما كان من خليطين فانهما يتراجعان بينهما بالسوية
ذَكَرَهُ أَبُو بَكْرٍ وَأَبُو ذَرٍّ وَأَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم আবূ বাকর, আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বিষয়ে হাদীস বর্ণনা করেন। ১৪৫২. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, জনৈক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হিজরাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তোমার তো বড় সাহস! হিজরতের ব্যাপার কঠিন, বরং যাকাত দেয়ার মত তোমার কোন উট আছে কি? সে বলল, জী হ্যাঁ, আছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাগরের ওপারে হলেও (যেখানেই থাক) তুমি ‘আমল করবে। তোমার ন্যূনতম ‘আমলও আল্লাহ বিনষ্ট করবেন না। (২৬৩৩, ২৯২৩, ৬১৬৫, মুসলিম ৩৩/২০, হাঃ ১৮৬৫, আহমাদ ১১১০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا الاوزاعي، قال حدثني ابن شهاب، عن عطاء بن يزيد، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه ان اعرابيا سال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الهجرة فقال " ويحك، ان شانها شديد، فهل لك من ابل تودي صدقتها ". قال نعم. قال " فاعمل من وراء البحار فان الله لن يترك من عملك شييا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর কাছে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা লিখে পাঠানঃ যে ব্যক্তির উপর উটের যাকাত হিসেবে জাযা‘আ ফরজ হয়েছে, অথচ তার নিকট জাযা‘আহ[1] নেই বরং তার নিকট হিক্কা[2] রয়েছে, তখন হিক্কা গ্রহণ করা হবে। এর সাথে সম্ভব হলে (পরিপূরকরূপে) দু’টি বকরী দিবে, অথবা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার উপর যাকাত হিসেবে হিক্কা ফরজ হয়েছে, অথচ তার কাছে হিক্কা নেই বরং জাযা‘আ রয়েছে, তখন তার হতে জাযা‘আ গ্রহণ করা হবে। আর যাকাত উসূলকারী (ক্ষতিপূরণ স্বরূপ) মালিককে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। যার উপর হিক্কা ফরজ হয়েছে, অথচ তার নিকট বিনত্ লাবূন রয়েছে, তখন বিন্তে লাবূনই গ্রহণ করা হবে। তবে মালিক দু’টি বকরী বা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার ওপর বিন্ত লাবূন ফরজ হয়েছে, কিন্তু তার কাছে হিক্কা রয়েছে, তখন তার হতে হিক্কা গ্রহণ করা হবে এবং আদায়কারী মালিককে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। আর যার ওপর বিন্ত লাবূন ফরজ হয়েছে কিন্তু তার নিকট তা নেই বরং বিন্তে মাখায রয়েছে, তবে তাই গ্রহণ করা হবে, অবশ্য মালিক এর সঙ্গে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله، قال حدثني ابي قال، حدثني ثمامة، ان انسا رضى الله عنه حدثه ان ابا بكر رضى الله عنه كتب له فريضة الصدقة التي امر الله رسوله صلى الله عليه وسلم " من بلغت عنده من الابل صدقة الجذعة، وليست عنده جذعة وعنده حقة، فانها تقبل منه الحقة ويجعل معها شاتين ان استيسرتا له او عشرين درهما، ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده الحقة وعنده الجذعة، فانها تقبل منه الجذعة، ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين، ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده الا بنت لبون فانها تقبل منه بنت لبون، ويعطي شاتين او عشرين درهما، ومن بلغت صدقته بنت لبون وعنده حقة فانها تقبل منه الحقة ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين، ومن بلغت صدقته بنت لبون وليست عنده وعنده بنت مخاض، فانها تقبل منه بنت مخاض ويعطي معها عشرين درهما او شاتين
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বাহরাইনে প্রেরণকালে অত্র বিধানটি তাঁর জন্য লিখে দেনঃ পরম দয়ালু করুণাময় আল্লাহর নামে। এটাই যাকাতের নিসাব-যা নির্ধারণ করেছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের প্রতি এবং যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার নিকট হতে নিয়মানুযায়ী চাওয়া হয়, সে যেন তা আদায় করে দেয় আর তার চেয়ে অধিক চাওয়া হলে তা যেন আদায় না করে। চবিবশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিন্তে লাবূন। ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিক্কা, একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা‘আ, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দু’টি বিন্তে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ’ বিশ পর্যন্ত ষাঁড়ের পালযোগ্য দু’টি হিক্কা আর একশ’ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিক্কা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। কিন্তু যখন পাঁচে পৌঁছে তখন একটি বকরী ওয়াজিব। আর বকরীর যাকাত সম্পর্কেঃ গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দু’শটি পর্যন্ত দু’টি বকরী। দু’শর অধিক হলে তিনশ’ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশ’র অধিক হলে প্রতি একশ’-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে। রৌপ্যের যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। একশ নব্বই দিরহাম হলে সেক্ষেত্রে যাকাত নেই [1], তবে মালিক সেচ্ছায় কিছু দিলে দিতে পারে। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله بن المثنى الانصاري، قال حدثني ابي قال، حدثني ثمامة بن عبد الله بن انس، ان انسا، حدثه ان ابا بكر رضى الله عنه كتب له هذا الكتاب لما وجهه الى البحرين بسم الله الرحمن الرحيم " هذه فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين، والتي امر الله بها رسوله، فمن سيلها من المسلمين على وجهها فليعطها، ومن سيل فوقها فلا يعط في اربع وعشرين من الابل فما دونها من الغنم من كل خمس شاة، اذا بلغت خمسا وعشرين الى خمس وثلاثين ففيها بنت مخاض انثى، فاذا بلغت ستا وثلاثين الى خمس واربعين ففيها بنت لبون انثى، فاذا بلغت ستا واربعين الى ستين ففيها حقة طروقة الجمل، فاذا بلغت واحدة وستين الى خمس وسبعين ففيها جذعة، فاذا بلغت يعني ستا وسبعين الى تسعين ففيها بنتا لبون، فاذا بلغت احدى وتسعين الى عشرين وماية ففيها حقتان طروقتا الجمل، فاذا زادت على عشرين وماية ففي كل اربعين بنت لبون، وفي كل خمسين حقة، ومن لم يكن معه الا اربع من الابل فليس فيها صدقة، الا ان يشاء ربها، فاذا بلغت خمسا من الابل ففيها شاة، وفي صدقة الغنم في سايمتها اذا كانت اربعين الى عشرين وماية شاة، فاذا زادت على عشرين وماية الى مايتين شاتان، فاذا زادت على مايتين الى ثلاثماية ففيها ثلاث، فاذا زادت على ثلاثماية ففي كل ماية شاة، فاذا كانت سايمة الرجل ناقصة من اربعين شاة واحدة فليس فيها صدقة، الا ان يشاء ربها، وفي الرقة ربع العشر، فان لم تكن الا تسعين وماية فليس فيها شىء، الا ان يشاء ربها