Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৩ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে কোন নফল নামায পড়িতে অভ্যস্ত কিন্তু তাহার উপর ঘুমের প্রভাববশত সে নামায আদায় করিতে পারে নাই, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে তাহার নামাযের সওয়াব প্রদান করিবেন, আর নিদ্রা হইবে তাহার জন্য সদকা (অর্থাৎ নামাযের জন্য তাহাকে হিসাব দিতে হইবে না, উপরন্তু নিয়ত করার সওয়াবও পাইবে।)
حدثني يحيى، عن مالك، عن محمد بن المنكدر، عن سعيد بن جبير، عن رجل، عنده رضا انه اخبره ان عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ما من امري تكون له صلاة بليل يغلبه عليها نوم الا كتب الله له اجر صلاته وكان نومه عليه صدقة
রেওয়ায়ত ২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ঘুমাইয়া থাকিতাম, আমার দুই পা তাহার কিবলার স্থলে থাকিত। (অবস্থা এই ছিল) তিনি যখন সিজদায় যাইতেন আমাকে চাপ দিতেন, তখন আমি আমার পা দুইটিকে গুটাইয়া লইতাম; যখন তিনি দাঁড়াইতেন আমার পা দুইটিকে আবার লম্বা করিয়া দিতাম। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেন, সেইকালে ঘরগুলিতে বাতি ছিল না।
وحدثني عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كنت انام بين يدى رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجلاى في قبلته فاذا سجد غمزني فقبضت رجلى فاذا قام بسطتهما . قالت والبيوت يوميذ ليس فيها مصابيح
রেওয়ায়ত ৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া পড়িলে সে যেন বসিয়া পড়ে, যতক্ষণ তন্দ্রা ছুটিয়া না যায়। কেননা তোমাদের কেউ তন্দ্রাবস্থায় নামায পড়িলে, বলা যায় না, হয়তো সে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করিতে গিয়া নিজের নফসকে মন্দ বলিয়া ফেলিবে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا نعس احدكم في صلاته فليرقد حتى يذهب عنه النوم فان احدكم اذا صلى وهو ناعس لا يدري لعله يذهب يستغفر فيسب نفسه
রেওয়ায়ত ৪. ইসমাইল ইবন আবি হাকিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈকা স্ত্রীলোককে রাত্রিবেলা নামায পড়িতে শুনিলেন। তিনি বলিলেনঃ ইনি (স্ত্রীলোকটি) কে? (উত্তরে) তাহাকে বলা হইলঃ স্ত্রীলোকটি হাওলা বিনতে তুয়াইত। সে সারারাত্রি ঘুমায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহাতে অসন্তুষ্ট হইলেন, এমন কি তাহার চেহারা (মুবারক)-এর উপর নারাজি ভাব প্রকাশ পাইল। অতঃপর তিনি ফরমাইলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা পরিশ্রান্ত হন না, যতক্ষণ তোমরা পরিশ্রাত্ত না হও। ততটুকু আমলই কর যতটুকু করার সামর্থ্য রাখ।
وحدثني عن مالك، عن اسماعيل بن ابي حكيم، انه بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع امراة من الليل تصلي فقال " من هذه " . فقيل له هذه الحولاء بنت تويت لا تنام الليل . فكره ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى عرفت الكراهية في وجهه ثم قال " ان الله تبارك وتعالى لا يمل حتى تملوا اكلفوا من العمل ما لكم به طاقة
রেওয়ায়ত ৫. আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রাত্রে যতক্ষণ আল্লাহ তাওফীক দিতেন নামায পড়িতেন। অতঃপর যখন প্রত্যুষের সময় হইত তিনি ঘরের লোকজনকে জাগাইয়া দিতেন। তাহাদের উদ্দেশ্যে বলিতেন, আস-সালাত, আস-সালাত (নামায, নামায)। অতঃপর কুরআন মজীদের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করিতেনঃ (وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ) এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাহি না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা ত্ব-হাঃ)
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن ابيه، ان عمر بن الخطاب، كان يصلي من الليل ما شاء الله حتى اذا كان من اخر الليل ايقظ اهله للصلاة يقول لهم الصلاة الصلاة ثم يتلو هذه الاية {وامر اهلك بالصلاة واصطبر عليها لا نسالك رزقا نحن نرزقك والعاقبة للتقوى}
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিটক রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেনঃ ইশা (নামায)-এর পূর্বে নিদ্রা এবং পরে আলাপ করা মাকরূহ।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان سعيد بن المسيب، كان يقول يكره النوم قبل العشاء والحديث بعدها
রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেনঃ দিনের কি রাত্রির (নফল) নামায দুই-দুই রাকাআতই। প্রতি দুই রাকাআত পর সালাম ফিরাইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এই বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তও অনুরূপ।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عمر، كان يقول صلاة الليل والنهار مثنى مثنى يسلم من كل ركعتين
রেওয়ায়ত ৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে এগার রাকাআত নামায পড়িতেন, তন্মধ্যে এক রাকাআত বিতর আদায় করিতেন, নামায শেষ করিলে তিনি ডান কাতে শয়ন করিয়া বিশ্রাম করিতেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم . ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي من الليل احدى عشرة ركعة يوتر منها بواحدة فاذا فرغ اضطجع على شقه الايمن
রেওয়ায়ত ৯. আবূ সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায কেমন হইত? (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ রমযান কি গাইর-রমযান রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাত্রির নামায) এগার রাকাআতের উপর বর্ধিত করিতেন না। তিনি চারি রাকাআত পড়িতেন, তুমি উহার দৈর্ঘ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করিও না। অতঃপর চারি রাকাআত পড়িতেন, তুমি উহার দৈর্ঘ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করিও না। অতঃপর তিন রাকাআত পড়িতেন। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ অতঃপর আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল, আপনি যে বিতরের পূর্বে ঘুমান? (উত্তরে) তিনি ফরমাইলেনঃ হে আয়েশা, (মনে রাখিও) আমর চক্ষুদ্ৰয় ঘুমায় বটে কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না।
وحدثني عن مالك، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، انه سال عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فقالت ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على احدى عشرة ركعة يصلي اربعا فلا تسال عن حسنهن وطولهن ثم يصلي اربعا فلا تسال عن حسنهن وطولهن ثم يصلي ثلاثا فقالت عايشة فقلت يا رسول الله اتنام قبل ان توتر فقال " يا عايشة ان عينى تنامان ولا ينام قلبي
রেওয়ায়ত ১০. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিবেলা তের রাকাআত নামায পড়িতেন। অতঃপর যখন ফজরের আযান শুনিতেন, তখন হালকা দুই রাকাআত নামায পড়িতেন।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بالليل ثلاث عشرة ركعة ثم يصلي اذا سمع النداء بالصبح ركعتين خفيفتين
রেওয়ায়ত ১১. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাঁহার খালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করিতেছিলেন। তিনি বলিয়াছেনঃ আমি বিছানার প্রস্থে শুইয়াছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাহার পরিবার শুইয়াছিলেন বিছানার দৈর্ঘে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাইয়া পড়িলেন। তারপর অর্ধ রাত্রি অতিবাহিত হওয়ার কিছু পূর্বে অথবা পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হইলেন এবং বসিলেন, তারপর চেহারা (মুবারক)-এ হাত সঞ্চালন করিয়া ঘুমের আমেজ দূর করিলেন। অতঃপর সূরা আল-ইমরানের শেষের দশটি আয়াত তিলাওয়াত করিলেন। পরে একটি ঝুলানো পুরাতন মশক বা পাত্রের দিকে দণ্ডায়মান হইলেন, সেখান থেকে পানি লইয়া ওযু করিলেন। এবং উত্তমরূপে ওযু করিলেন, অতঃপর নামায পড়িতে দাঁড়াইলেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ (ইহা দেখিয়া) আমিও দাঁড়াইলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মত ওযু করিয়াছিলেন সেই মত ওযু করিলাম। অতঃপর তাহার পার্শ্বে দাঁড়াইলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখিলেন এবং আমার ডান কান ধরিয়া উহাকে মলিতে আরম্ভ করিলেন, অতঃপর তিনি দুই রাকাআত পড়িলেন, তারপর দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত পড়িলেন। তারপর বিতর পড়িয়া বিশ্রাম করিলেন মুয়াযযিন আসা পর্যন্ত। (মুয়াযযিন আযান দিলেন) তিনি সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত (নামায) পড়িলেন, তারপর বাহির হইয়া ফজরের নামায পড়িলেন।
وحدثني عن مالك، عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، مولى ابن عباس ان عبد الله بن عباس، اخبره انه، بات ليلة عند ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم - وهي خالته - قال فاضطجعت في عرض الوسادة واضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم واهله في طولها فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا انتصف الليل - او قبله بقليل او بعده بقليل - استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس يمسح النوم عن وجهه بيده ثم قرا العشر الايات الخواتم من سورة ال عمران ثم قام الى شن معلق فتوضا منه فاحسن وضوءه ثم قام يصلي - قال ابن عباس - فقمت فصنعت مثل ما صنع ثم ذهبت فقمت الى جنبه فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده اليمنى على راسي واخذ باذني اليمنى يفتلها فصلى ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين ثم اوتر ثم اضطجع حتى اتاه الموذن فصلى ركعتين خفيفتين ثم خرج فصلى الصبح
রেওয়ায়ত ১২. যায়দ ইবন খালিদ জুহানি (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (একবার মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করিলাম) অবশ্যই রাসূলুল্লাহ দুই রাকাআত এর নামায কিরূপ হয় অদ্য রাত্রে আমি তাহা অবলোকন করিব। (এই মনস্থ করিয়া) আমি তাহার দরজায় অথবা তাঁবুতে ঠেস দিয়া বসিয়া রহিলাম; অতঃপর রাসূলুল্লাহ দুই রাকাআত দাঁড়াইলেন, আর দীর্ঘ- অনেক দীর্ঘ দুই রাকাআত নামায পড়িলেন, তারপর পূর্বের দুই রাকাআতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত পড়িলেন। তারপর দুই রাকাআত পড়িলেন পূর্বের দুই রাকাআত হইতে সংক্ষিপ্ত, তারপর দুই রাকাআত পড়িলেন, এই দুই রাকাআত পূর্বের দুই রাকাআত অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। তারপর পূর্বের দুই রাকাআতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত পড়িলেন। সর্বশেষ বিতর পড়িলেন-এই হইল তের রাকাআত।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، عن ابيه، ان عبد الله بن قيس بن مخرمة، اخبره عن زيد بن خالد الجهني، انه قال لارمقن الليلة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم - قال - فتوسدت عتبته - او فسطاطه - فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى ركعتين طويلتين طويلتين طويلتين ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم اوتر فتلك ثلاث عشرة ركعة
রেওয়ায়ত ১৩. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে সালাতুল লায়ল (তাহাজ্জুদের নামায) সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ফরমাইলেনঃ সালাতুল-লায়ল' দুই-দুই রাকাআত। অতঃপর যদি প্রভাত হওয়ার আশংকা হয় তবে এক রাকাআত পড়িবে, ইহা আদায়কৃত নামাযগুলিকে তাহার জন্য বিতর-এ (বিজোড়) পরিণত করবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، وعبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان رجلا، سال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاة الليل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " صلاة الليل مثنى مثنى فاذا خشي احدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুল্লাহ ইবন মুহায়রীয (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি, যাহাকে মুখদাজী বলা হইত, তিনি শাম দেশের এক ব্যক্তিকে (যাহার উপনাম আবু মুহাম্মদ) বলিতে শুনিয়াছেন যে, বিতর-এর নামায ওয়াজিব। মুখদাজী বলিলেনঃ আমি উবাদা ইবন সামিত (রাঃ)-এর নিকট গেলাম, তিনি তখন মসজিদে গমন করিতেছিলেন। আমি তাহার পথ আটকাইয়া দাঁড়াইলাম। অতঃপর আবু মুহাম্মদ যাহা বলিয়াছেন তাহাকে উহার খবর দিলাম। উবাদা (রাঃ) বলিলেনঃ আবু মুহাম্মদ অসত্য বলিয়াছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছিঃ আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করিয়াছেন। যে ব্যক্তি উহা আদায় করিবে এবং তুচ্ছ ধারণা করিয়া উহার কোন প্রকার হক নষ্ট করিবে না, তাহার জন্য আল্লাহর নিকট এই প্রতিজ্ঞা রহিল যে, তিনি তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইবেন। আর যে উহা আদায় করিবে না, তাহার প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গীকার থাকিবে না। তিনি ইচ্ছা করিলে তাহাকে শাস্তি দিবেন এবং ইচ্ছা করিলে তাহাকে জান্নাতেও দাখিল করিতে পারেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن يحيى بن حبان، عن ابن محيريز، ان رجلا، من بني كنانة يدعى المخدجي سمع رجلا، بالشام يكنى ابا محمد يقول ان الوتر واجب . فقال المخدجي فرحت الى عبادة بن الصامت فاعترضت له وهو رايح الى المسجد فاخبرته بالذي قال ابو محمد فقال عبادة كذب ابو محمد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " خمس صلوات كتبهن الله عز وجل على العباد فمن جاء بهن لم يضيع منهن شييا استخفافا بحقهن كان له عند الله عهد ان يدخله الجنة ومن لم يات بهن فليس له عند الله عهد ان شاء عذبه وان شاء ادخله الجنة
রেওয়ায়ত ১৫. সাঈদ ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে মক্কার পথে ভ্রমণ করিতেছিলাম। সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করিলেনঃ যখন প্রভাত হওয়ার আশংকা করিলাম, তখন বিতর পড়িলাম এবং (তাড়াতাড়ি) আসিয়া তাহার সাথে একত্র হইলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি (এতক্ষণ) কোথায় ছিলে ? আমি (উত্তরে) তাহাকে বলিলামঃ ভোর হইতেছে আশংকা করিয়া নিচে নামিয়া বিতর পড়িয়ছি। ইহা (শুনিয়া) আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেনঃ তোমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (কাজের মধ্যে) আদর্শ নাই কি ? আমি বলিলামঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আছে। তিনি বলিলেনঃ (মনে রাখ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের উপর বিতর পড়িতেন।
وحدثني عن مالك، عن ابي بكر بن عمر، عن سعيد بن يسار، قال كنت اسير مع عبد الله بن عمر بطريق مكة - قال سعيد - فلما خشيت الصبح نزلت فاوترت ثم ادركته فقال لي عبد الله بن عمر اين كنت فقلت له خشيت الصبح فنزلت فاوترت . فقال عبد الله اليس لك في رسول الله اسوة . فقلت بلى والله . فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يوتر على البعير
রেওয়ায়ত ১৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন- আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করিলে বিতর পড়িয়া লইতেন। আর উমর (রাঃ) শেষ রাত্রে বিতর পড়িতেন। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব বলেন, (আমার অভ্যাস হইল এই) আমি যখন শয্যা গ্রহণ করিতে আসি তখন বিতর পড়িয়া লই।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه قال كان ابو بكر الصديق اذا اراد ان ياتي، فراشه اوتر وكان عمر بن الخطاب يوتر اخر الليل قال سعيد بن المسيب فاما انا فاذا جيت فراشي اوترت
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট বর্ণনা পৌঁছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে বিতর (নামায) ওয়াজিব কিনা জিজ্ঞাসা করিলেন। (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়িয়াছেন এবং মুসলিমগণও বিতর পড়িয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ (প্রশ্নকারী) সেই ব্যক্তিটি বারবার তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতেছিলেনঃ বিতর ওয়াজিব কি না? (উত্তরে) আবদুল্লাহ (রাঃ) বারবার ইহাই বলিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان رجلا، سال عبد الله بن عمر عن الوتر اواجب هو فقال عبد الله بن عمر قد اوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم واوتر المسلمون . فجعل الرجل يردد عليه وعبد الله بن عمر يقول اوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم واوتر المسلمون
রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত- তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যাহার এই আশংকা থাকে যে, সে ভোর হওয়া পর্যন্ত ঘুমাইবে, তবে সে ঘুমের পূর্বেই বিতর পড়িয়া লইবে। আর যে ব্যক্তি শেষ রাত্রে জাগিবার ভরসা রাখে সে বিতর পরে (শেষ রাত্রে) পড়িবে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم كانت تقول من خشي ان ينام حتى يصبح فليوتر قبل ان ينام ومن رجا ان يستيقظ اخر الليل فليوخر وتره
রেওয়ায়ত ১৯. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নাফি (রহঃ) বলিয়াছেনঃ তিনি মক্কার পথে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। তখন আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই আবদুল্লাহ (ইবন উমর) (রাঃ) ভোর হওয়ার আশংকা করিলেন এবং এক রাকাআত বিতর পড়িয়া লইলেন। অতঃপর মেঘ দূরীভূত হইলে তিনি দেখিলেন এখনও রাত্রি কিছু অবশিষ্ট আছে। তখন তিনি আর এক রাকাআত দ্বারা জোড় (নামায) করিয়া নিলেন। অতঃপর দুই-দুই রাকাআত করিয়া আরও নামায পড়িলেন। যখন প্রভাত নিকটবর্তী মনে করিলেন তখন এক রাকাআত বিতর পড়িয়া লইলেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، انه قال كنت مع عبد الله بن عمر بمكة والسماء مغيمة فخشي عبد الله الصبح فاوتر بواحدة ثم انكشف الغيم فراى ان عليه ليلا فشفع بواحدة ثم صلى بعد ذلك ركعتين ركعتين فلما خشي الصبح اوتر بواحدة
রেওয়ায়ত ২০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বিতর-এর এক রাকাআত এবং তৎপূর্বের দুই রাকাআতের মাঝখানে সালাম ফিরাইতেন। এমন কি তাহার প্রয়োজনীয় বিষয়ে নির্দেশও প্রদান করিতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يسلم بين الركعتين والركعة في الوتر حتى يامر ببعض حاجته