Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪৫ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ঘরে প্রবেশ করার জন্য আমার আম্মার কাছে অনুমতি চাহিব কি? অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ। লোকটি বলিল, আমি তো তাহার সাথে একই ঘরে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, অনুমতি লইয়া যাও। লোকটি আবার বলিল, আমি তো তাহার সাথে একই ঘরে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, অনুমতি লইয়া যাও। তুমি কি তোমার আম্মাকে উলঙ্গ দেখিতে চাও? লোকটি বলিল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তবে অনুমতি লইয়া যাও।
حدثني مالك، عن صفوان بن سليم، عن عطاء بن يسار، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ساله رجل فقال يا رسول الله استاذن على امي فقال " نعم " . قال الرجل اني معها في البيت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " استاذن عليها " . فقال الرجل اني خادمها . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " استاذن عليها اتحب ان تراها عريانة " . قال لا . قال " فاستاذن عليها
রেওয়ায়ত ২. আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন, তিনবার অনুমতি নিতে হয়। অতঃপর অনুমতি হইলে প্রবেশ করবে, অন্যথায় প্রত্যাবর্তন করিবে।
وحدثني مالك، عن الثقة، عنده عن بكير بن عبد الله بن الاشج، عن بسر بن سعيد، عن ابي سعيد الخدري، عن ابي موسى الاشعري، انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الاستيذان ثلاث فان اذن لك فادخل والا فارجع
রেওয়ায়ত ৩. রবীয়া ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) এবং আরো অনেক আলিম হইতে বর্ণিত, আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করার জন্য তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তিনবারেও অনুমতি না পাইয়া তিনি ফিরিয়া গেলেন। উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) তাহাকে (আবু মূসাকে) ডাকিয়া আনিবার জন্য তাহার পিছনে মানুষ প্রেরণ করিলেন। অতঃপর তিনি আসার পর উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি ঘরে প্রবেশ করিলে না কেন? আবূ মূসা (রাঃ) বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, তিনবার অনুমতি চাহিতে হয়। অনুমতি দিলে প্রবেশ কর, অন্যথায় ফিরিয়া যাও। অতঃপর উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, তুমি ছাড়া এই হাদীস আর কেহ শ্রবণ করিয়াছে কি? যে শ্ৰবণ করিয়াছে তাহাকে লইয়া আস। যদি তুমি তাহা না কর, তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিব। অবশেষে আবূ মূসা বাহির হইয়া আসিলেন যে, মসজিদে অনেক লোক বসা আছে। ইহারা সকলেই আনসারগণের এক মজলিসে বসিয়াছিল। সেখানে যাইয়া (আবু মূসা আশ'আরী) বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন যে, (ঘরে প্রবেশ করার জন্য) তিনবার অনুমতি চাহিতে হয়। অনুমতি পাইলে প্রবেশ করিবে অন্যথায় ফিরিয়া যাইবে। আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এই হাদীস বর্ণনা করার পর তিনি বলিলেন, এই হাদীস অপর কেহ শ্রবণ করিলে তাহাকে লইয়া আস নতুবা আমি তোমাকে শাস্তি দিব। অতএব তোমাদের মধ্যে যদি কেহ এই হাদীস শ্রবণ করিয়া থাক, তবে (মেহেরবানী করিয়া) আমার সঙ্গে আস। (উপস্থিত) সকলেই আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে বলিল, তুমি যাও। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁহাদের মধ্যে বয়সে সকলের ছোট ছিলেন। অতঃপর আবু সাঈদ (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-এর সঙ্গে উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া উক্ত হাদীস বর্ণনা করিলেন। অতঃপর উমর (রাঃ) আবু মূসা আশ'আরীকে বলিলেন, আমি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলিয়া মনে করি নাই। তবে আমার ভয় ছিল যে, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লামের হাদীসের সাথে কেহ অন্য কোন কথা সংযোজন করিবে।
وحدثني مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن غير، واحد، من علمايهم ان ابا موسى الاشعري، جاء يستاذن على عمر بن الخطاب فاستاذن ثلاثا ثم رجع فارسل عمر بن الخطاب في اثره فقال ما لك لم تدخل فقال ابو موسى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " الاستيذان ثلاث فان اذن لك فادخل والا فارجع " . فقال عمر ومن يعلم هذا لين لم تاتني بمن يعلم ذلك لافعلن بك كذا وكذا . فخرج ابو موسى حتى جاء مجلسا في المسجد يقال له مجلس الانصار فقال اني اخبرت عمر بن الخطاب اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " الاستيذان ثلاث فان اذن لك فادخل والا فارجع " . فقال لين لم تاتني بمن يعلم هذا لافعلن بك كذا وكذا . فان كان سمع ذلك احد منكم فليقم معي . فقالوا لابي سعيد الخدري قم معه . وكان ابو سعيد اصغرهم فقام معه فاخبر بذلك عمر بن الخطاب . فقال عمر بن الخطاب لابي موسى اما اني لم اتهمك ولكن خشيت ان يتقول الناس على رسول الله صلى الله عليه وسلم
রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রাঃ) নিজের পিতার নিকট হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, যদি কেহ হাঁচি দেয়, তবে তাহাকে (উহার) জওয়াব দাও (অর্থাৎ হাঁচির পর সে যখন “আল হামদুলিল্লাহ” বলিবে, তোমরা তখন “ইয়ারহামুকুমুল্লাহ” বলিবে। সে আবার হাঁচি দিলে, তবে জওয়াব দিবে। আবার হাঁচি দিলে জওয়াব দিবে। আবার হাঁচি দিলে বলিবে যে, তোমার সর্দি হইয়াছে। আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বারের পর, চতুর্থবারের পর এই কথা বলিতে হুকুম করিয়াছেন তাহা আমার ভাল স্মরণ নাই।
حدثني مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان عطس فشمته ثم ان عطس فشمته ثم ان عطس فشمته ثم ان عطس فقل انك مضنوك " . قال عبد الله بن ابي بكر لا ادري ابعد الثالثة او الرابعة
রেওয়ায়ত ৫. নাফি’ (রহঃ)-এর রেওয়ায়ত-আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)-এর হাঁচি আসিলে (তাহার আলহামদুলিল্লাহর জওয়াবে) কেহ “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলিলে তিনি (يَرْحَمُنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ وَيَغْفِرُ لَنَا وَلَكُمْ) “ইয়ারহামনা ওয়া ইয়্যাকুম ওয়া ইয়াগফির লানা ওয়ালাকুম” বলিতেন।
وحدثني مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان اذا عطس فقيل له يرحمك الله . قال يرحمنا الله واياكم ويغفر لنا ولكم
রেওয়ায়ত ৬. শেফা (রহঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম রাফি ইবনে ইসহাক (রহঃ) বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবন আবূ তালহা (রাঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে যিনি অসুস্থ ছিলেন – দেখিতে গেলাম। অতঃপর আবু সাঈদ (রাঃ) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলিয়াছেন যে, যেই ঘরে ছবি কিংবা মূর্তি থাকে, সেই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।
حدثني مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، ان رافع بن اسحاق، مولى الشفاء اخبره قال دخلت انا وعبد الله بن ابي طلحة، على ابي سعيد الخدري نعوده فقال لنا ابو سعيد اخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الملايكة لا تدخل بيتا فيه تماثيل او تصاوير " . شك اسحاق لا يدري ايتهما قال ابو سعيد
রেওয়ায়ত ৭. উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু তালহা আনসারী (রাঃ)-কে দেখিতে গেলাম (তিনি অসুস্থ ছিলেন)। সেখানে সহল ইবনে হুনাইফকেও দেখিলাম। আবু তালহা একজনকে ডাকিয়া আমার (পায়ের) নিচ হইতে শতরঞ্জী তুলিয়া লইতে নির্দেশ দিলেন। সহল ইবনে হানীফ বলিলেন, কেন তুলিয়া লইতেছ? আবু তালহা বলিলেন, এইজন্য যে, ইহাতে ছবি রহিয়াছে আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছবি সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছেন উহা আপনার জানা আছে। সহল বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা কি বলেন নাই যে, কাপড়ে অঙ্কিত হইলে কোন অসুবিধা নাই। আবু তালহা বলিলেন, হ্যাঁ, বলিয়াছেন। তবে আমি যেকোন রকমের ছবি হইতে বাঁচিয়া থাকিতে চাই।
وحدثني مالك، عن ابي النضر، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، انه دخل على ابي طلحة الانصاري يعوده قال فوجد عنده سهل بن حنيف فدعا ابو طلحة انسانا فنزع نمطا من تحته فقال له سهل بن حنيف لم تنزعه قال لان فيه تصاوير وقد قال فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قد علمت . فقال سهل الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا ما كان رقما في ثوب " . قال بلى ولكنه اطيب لنفسي
রেওয়ায়ত ৮. নবী-পত্নী আয়েশা (রাঃ) একটি ছোট বালিশ ক্রয় করিয়াছিলেন। উহাতে ছবি অঙ্কিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাহির হইতে আগমন করিয়া ঘরে প্রবেশ করার সময়) যখন উহা দেখিলেন, তখন ঘরের দরজায় দাঁড়াইয়া গেলেন এবং ঘরে পবেশ করিলেন না। আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারকে উহার অপছন্দ হওয়ার লক্ষণ দেখিলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহ ও তাহার রাসূলের কাছে তওবা করিতেছি, আমি অপরাধ করিয়াছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহা কি রকম গদি ? আয়েশা (রাঃ) উত্তর দিলেন, এই গদিটি আমি আপনার জন্য ক্রয় করিয়াছি যে, আপনি উহার উপর বসিবেন এবং উহাতে হেলান দিবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ছবি অঙ্কনকারীকে রোজ হাশরে আযাব দেওয়া হইবে এবং তাহাদেরকে বলা হইবে যে, তোমরা যাহা সৃষ্টি করিয়াছ, উহাকে জীবিত কর (অর্থাৎ উহাতে প্রাণ সঞ্চার কর)। অতঃপর তিনি বলিলেন, যেই ঘরে ছবি থাকে, সেই ঘরে ফেরেশতা আসে না।
وحدثني مالك، عن نافع، عن القاسم بن محمد، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فلما راها رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على الباب فلم يدخل فعرفت في وجهه الكراهية وقالت يا رسول الله اتوب الى الله والى رسوله فماذا اذنبت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فما بال هذه النمرقة " . قالت اشتريتها لك تقعد عليها وتوسدها . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيامة يقال لهم احيوا ما خلقتم " . ثم قال " ان البيت الذي فيه الصور لا تدخله الملايكة
রেওয়ায়ত ৯. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মুনা বিনত হারিস (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করিলেন। সেখানে তিনি সান্ডা (দব্ব) এর সাদা গোশত দেখিতে পাইলেন। তাহার সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নিকট এই গোশত কোথা হইতে আসিল? মায়মুনা (রাঃ) উত্তর দিলেন, আমার ভগ্নি হুযায়লা বিনতে হারিস (রাঃ) আমার নিকট হাদিয়া পাঠাইয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) ও খালিদ ইবনে ওলীদকে বলিলেন, তোমরা খাও। তাহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি খাইবেন না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার নিকট আল্লাহর পক্ষ হইতে কেহ না কেহ আগমন করেন। (ইহাতে এক প্রকার গন্ধ আছে, ফলে আগমনকারীর কষ্ট হইবে; তাই আমি খাইব না।) মায়মুনা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনাকে দুধ পান করাইব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ। অতঃপর দুধ পান করিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, এই দুধ তোমার নিকট কোথা হইতে আসিল? মায়মুনা (রাঃ) বলিলেন, আমার ভগ্নি হুযায়লা আমার নিকট হাদিয়া পাঠাইয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি তুমি তোমার সেই দাসী তোমার ভগ্নিকে দিয়া দাও যাহাকে আযাদ করা সম্বন্ধে তুমি আমার নিকট পরামর্শ চাহিয়াছিলে, আত্মীয়তার খাতির কর এবং সেই দাসী তাহার ছাগল চরাইবে, তাহা হইলে উহা তোমার জন্য খুবই উত্তম হইবে।
حدثني مالك، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة، عن سليمان بن يسار، انه قال دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم بيت ميمونة بنت الحارث فاذا ضباب فيها بيض ومعه عبد الله بن عباس وخالد بن الوليد فقال " من اين لكم هذا " . فقالت اهدته لي اختي هزيلة بنت الحارث . فقال لعبد الله بن عباس وخالد بن الوليد " كلا " . فقالا اولا تاكل انت يا رسول الله فقال " اني تحضرني من الله حاضرة " . قالت ميمونة انسقيك يا رسول الله من لبن عندنا فقال " نعم " . فلما شرب قال " من اين لكم هذا " . فقالت اهدته لي اختي هزيلة . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارايتك جاريتك التي كنت استامرتيني في عتقها اعطيها اختك وصلي بها رحمك ترعى عليها فانه خير لك
রেওয়ায়ত ১০. খালিদ ইবন ওলীদ ইবনে মুগীরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর ঘরে গমন করিলেন। সেখানে একটি ভুনা সান্ডা (দব্ব) আনয়ন করা হইল। রাসূলল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহা খাওয়ার জন্য সেই দিকে হাত বাড়াইলেন। তখন মায়মুনা (রাঃ)-এর ঘরে আগত মহিলাদের মধ্যে কেহ বলিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানাইয়া দাও যে, তিনি যাহা খাইতে চাহিতেছেন, উহা কিসের গোশত। তখন তাহাকে বলা হইল যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা সান্ডার গোশত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত তুলিয়া লইলেন (এবং খাইলেন না)। আমি (খালিদ) জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা কি হারাম? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, না। তবে যেহেতু আমাদের দেশে ইহা হয় না, তাই আমার পছন্দ হইতেছে না। খালিদ (রাঃ) বলেন, আমি উহা নিজের দিকে টানিয়া লইয়া খাইলাম, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখিতেছিলেন।
وحدثني مالك، عن ابن شهاب، عن ابي امامة بن سهل بن حنيف، عن عبد الله بن عباس، عن خالد بن الوليد بن المغيرة، انه دخل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بيت ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فاتي بضب محنوذ فاهوى اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده . فقال بعض النسوة اللاتي في بيت ميمونة اخبروا رسول الله صلى الله عليه وسلم بما يريد ان ياكل منه . فقيل هو ضب يا رسول الله . فرفع يده فقلت احرام هو يا رسول الله فقال " لا ولكنه لم يكن بارض قومي فاجدني اعافه " . قال خالد فاجتررته فاكلته ورسول الله صلى الله عليه وسلم ينظر
রেওয়ায়ত ১১. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আহবান করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সান্ডা (দব্ব) এর গোশত সম্বন্ধে আপনি কি বলেন? রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমি উহা খাই না, তবে হারামও বলি না।
وحدثني مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان رجلا، نادى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ما ترى في الضب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لست باكله ولا بمحرمه
রেওয়ায়ত ১২. সুফিয়ান ইবন আবু যুহাইর (রাঃ) মসজিদে নববীর দরজায় হাদীস বয়ান করিতেছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি কুকুর পালে, (তাহার এই কুকুর পালন) খেত-খামার ও ছাগলের হিফাজতের জন্য না হয়, তাহা হইলে তাহার নেক আমল হইতে প্রতিদিন এক কীরাত সমান কমিতে থাকিবে। সুফিয়ানের নিকট হাদীসের রাবী সায়েক জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি এই হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, এই মসজিদের পরওয়ারদিগারের কসম! আমি নিশ্চয়ই শ্রবণ করিয়াছি।
حدثني مالك، عن يزيد بن خصيفة، ان السايب بن يزيد، اخبره انه، سمع سفيان بن ابي زهير، وهو رجل من ازد شنوءة من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يحدث ناسا معه عند باب المسجد فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من اقتنى كلبا لا يغني عنه زرعا ولا ضرعا نقص من عمله كل يوم قيراط " . قال انت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اي ورب هذا المسجد
রেওয়ায়ত ১৩. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি শিকার অথবা খেত-খামারের হিফাজতের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর (অনর্থক) পালন করে তবে তাহার নেক আমল হইতে প্রতিদিন দুই কীরাত সমান ক্ষতি হইবে (কমিয়া যাইবে)।
وحدثني مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من اقتنى كلبا الا كلبا ضاريا او كلب ماشية نقص من عمله كل يوم قيراطان
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর রেওয়ায়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়াছেন।
وحدثني مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امر بقتل الكلاب
রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কুফরীর গোড়া হইল পূর্বদিকে। ঘোড়া ও উটওয়ালাদের মধ্যে অহঙ্কার আছে যাহাদের আওয়াজ বড় (কর্কশ) এবং জঙ্গলে (মাঠে) থাকে। আর নম্রতা ও শান্তি ছাগলওয়ালাদের মধ্যে আছে।
حدثني مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " راس الكفر نحو المشرق والفخر والخيلاء في اهل الخيل والابل والفدادين اهل الوبر والسكينة في اهل الغنم
রেওয়ায়ত ১৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে কয়েকটি ছাগলই মুসলিমদের উত্তম মাল (বলিয়া বিবেচিত) হইবে। তাহারা ফিতনা-ফাসাদ হইতে নিজেদের দীন রক্ষা করার নিমিত্ত পর্বতের চুড়ায় চলিয়া যাইবে অথবা কোন উপত্যকায় গিয়া আশ্রয় নিবে।
وحدثني مالك، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يوشك ان يكون خير مال المسلم غنما يتبع بها شعف الجبال ومواقع القطر يفر بدينه من الفتن
রেওয়ায়ত ১৭. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে, মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে তোমরা কোন পশুর দুগ্ধ দোহন করিবে না। তোমাদের কেহ ইহা পছন্দ করিবে কি, কেহ তাহার ঘরে প্রবেশ করিয়া তাহার সিন্দুক ভাঙ্গিয়া তাহার সম্পদ ও খাদ্যসামগ্ৰী লইয়া যাইবে? (অর্থাৎ কখনও পছন্দ করিবে না) পশুর (দুধের) উহার মালিকের খাবারের সিন্দুক (বা গোলা)। সুতরাং মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে কেহ কাহারও জানোয়ারের দুধ দোহন করিবে না।
وحدثني مالك، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يحتلبن احد ماشية احد بغير اذنه ايحب احدكم ان توتى مشربته فتكسر خزانته فينتقل طعامه وانما تخزن لهم ضروع مواشيهم اطعماتهم فلا يحتلبن احد ماشية احد الا باذنه
রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, এমন কোন নবী নাই যিনি ছাগল চরান নাই। জিজ্ঞাসা করা হইল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনিও কি (চরাইয়াছেন?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, (হ্যাঁ) আমিও (চরাইয়াছি)।
وحدثني مالك، انه بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ما من نبي الا قد رعى غنما " . قيل وانت يا رسول الله قال " وانا
রেওয়ায়ত ১৯. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনে উমর (রাঃ)-এর কাছে রাতের খাবার পেশ করা হইত। তিনি তাহার ঘরে বসিয়া ইমামের (ইশার নামাযের) কিরাত শ্রবণ করিতেন। কিন্তু যতক্ষণ তৃপ্ত হইয়া না খাইতেন, খাওয়ার সময় (নামাযের জন্য) তাড়াহুড়া করিতেন না।
وحدثني مالك، عن نافع، ان ابن عمر، كان يقرب اليه عشاوه فيسمع قراءة الامام وهو في بيته فلا يعجل عن طعامه حتى يقضي حاجته منه
রেওয়ায়ত ২০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট জিজ্ঞাসা করা হইল যে, ঘৃতে ইদুর পতিত হইলে কি করিতে হইবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, উহা বাহিরে ফেলিয়া দাও এবং উহার আশেপাশের ঘৃতও ফেলিয়া দাও।
وحدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن عبد الله بن عباس، عن ميمونة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سيل عن الفارة تقع في السمن فقال " انزعوها وما حولها فاطرحوه