Loading...

Loading...
বইসমূহ
২১ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম'আর দিন জানাবতের (ফরয) গোসলের মত গোসল করিয়াছে, অতঃপর সূর্য ঢলার পর প্রথম মুহূর্তে (মসজিদের দিকে) চলিয়াছে, সে যেন একটি উট আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে খায়রাত করিয়াছে; আর যে দ্বিতীয় মুহুর্তে একটু পরে চলিয়াছে, সে যেন একটি গাভী খায়রাত করিয়াছে; আর যে তৃতীয় মুহূর্তে আরও পরে চলিয়াছে, সে যেন শিংযুক্ত মেষ খায়রাত করিয়াছে; আর যে চতুর্থ মুহূর্তে অর্থাৎ আরও পরে চলিয়াছে, সে যেন একটি মুরগী খায়রাত করিয়াছে; আর যে পশ্চম মুহূর্তে চলিয়াছে, সে যেন ডিম খায়রাত করিয়াছে। যখন ইমাম বাহির হন তখন ফেরেশতাগণ হাজির হন, যিকর (খুতবা) শোনার জন্য।
حدثني يحيى، عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر بن عبد الرحمن عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من اغتسل يوم الجمعة غسل الجنابة ثم راح في الساعة الاولى فكانما قرب بدنة ومن راح في الساعة الثانية فكانما قرب بقرة ومن راح في الساعة الثالثة فكانما قرب كبشا اقرن ومن راح في الساعة الرابعة فكانما قرب دجاجة ومن راح في الساعة الخامسة فكانما قرب بيضة فاذا خرج الامام حضرت الملايكة يستمعون الذكر
রেওয়ায়ত ২. মালিক (রহঃ) সাঈদ ইবন আবি সাঈদ (রহঃ) হইতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, জুমআর দিনের গোসল জনাবত (ফরয) গোসলের মত, প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।
وحدثني عن مالك، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي هريرة، انه كان يقول غسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم كغسل الجنابة
রেওয়ায়ত ৩. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের একজন (সাহাবী) জুম'আর দিন মসজিদে প্রবেশ করিলেন, উমর (রাঃ) খুতবা প্রদান করিতেছিলেন। তিনি [উমর (রাঃ)] বলিলেনঃ ইহা কোন সময়? উত্তরে তিনি (প্রবেশকারী সাহাবী) বললেনঃ হে আমিরুল মু'মিনীন, আমি বাজার হইতে ফিরিয়াছি, (ফিরিবার পূর্বেই) আযান শুনিলাম। অতঃপর কেবল ওযু করিয়াছি। (ইহা শুনিয়া) উমর (রাঃ) বলিলেনঃ আপনি শুধু ওযু করিয়াছেন? অথচ অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের হুকুম করতেন
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، انه قال دخل رجل من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم المسجد يوم الجمعة وعمر بن الخطاب يخطب فقال عمر اية ساعة هذه فقال يا امير المومنين انقلبت من السوق فسمعت النداء فما زدت على ان توضات . فقال عمر والوضوء ايضا وقد علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يامر بالغسل
রেওয়ায়ত ৪. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, জুম'আর দিনের গোসল প্রত্যেক সাবালক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।
وحدثني عن مالك، عن صفوان بن سليم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " غسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم
রেওয়ায়ত ৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ জুম'আর নামাযে আসিতে ইচ্ছা করিলে সে অবশ্য গোসল করিবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, জুম'আর দিন যে ব্যক্তি দিনের প্রারম্ভে গোসল করিয়াছে, সে ঐ গোসলে জুম'আর গোসলের নিয়ত করিয়াছে, তাহার জন্য সেই গোসল জুম'আর জন্য যথেষ্ট হইবে না যদি না সে জুম'আয় যাওয়ার জন্য পুনরায় গোসল করে; কারণ ইবন উমর (রাঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ জুম'আয় আসার ইচ্ছা করিলে সে অবশ্যই গোসল করিবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম'আ দিবসে গোসল করিয়াছে, তাড়াতাড়ি অথবা বিলম্বে, সে এই গোসলের দ্বারা জুম'আর গোসলের নিয়ত করিয়াছে; পরে ওযু যাহাতে ভঙ্গ হয় এমন কিছু ঘটিয়াছে তবে তাহার পূর্বেকার গোসল যথেষ্ট হইরে এবং তাহার উপর কেবলমাত্র ওযু ওয়াজিব হইবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا جاء احدكم الجمعة فليغتسل
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ জুম'আর দিন ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন, তুমি তোমার সথীকে (পার্শ্ববর্তী লোক) যদি বল, চুপ থাকুন, তবে তুমি অলাভজনক কথা বললে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا قلت لصاحبك انصت والامام يخطب يوم الجمعة فقد لغوت
রেওয়ায়ত ৭. ইবন শিহাব (রহঃ) সা’লাবা ইবন আবি মালিক কুরাজী (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সা’লাবা) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে জুম'আর দিন তাহারা উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আগমন করা পর্যন্ত নামায পড়িতেন। উমর (রাঃ) আগমন করিতেন এবং মিম্বরে বসিতেন এবং মুয়াযযিনগণ আযান দিতেন। সা'লাবা (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা তখনও পরস্পর কথাবার্তা বলিতাম, মুয়াযযিনগণ যখন আযান শেষ করিতেন এবং উমর (রাঃ) খুতবা পাঠ করার জন্য দাঁড়াইতেন, তখন আমরা চুপ হইয়া যাইতাম। অতঃপর পরে কেউ কোন কথা বলিত না। ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ (ইহাতে বোঝা গেল) ইমামের আগমন নামাযকে নিষিদ্ধ করিয়া দেয় এবং তাহার কালাম (খুতবা) কথাবার্তাকে নিষিদ্ধ করিয়া দেয়।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن ثعلبة بن ابي مالك القرظي، انه اخبره انهم، كانوا في زمان عمر بن الخطاب يصلون يوم الجمعة حتى يخرج عمر فاذا خرج عمر وجلس على المنبر واذن الموذنون - قال ثعلبة - جلسنا نتحدث فاذا سكت الموذنون وقام عمر يخطب انصتنا فلم يتكلم منا احد . قال ابن شهاب فخروج الامام يقطع الصلاة وكلامه يقطع الكلام
রেওয়ায়ত ৮. মালিক ইবন আবি আমীর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) তাহার খুতবায় বলিতেন এবং তিনি যখনই খুতবা দিতেন, তখন প্রায় ইহা বলিতেনঃ জুম'আর দিন ইমাম খুতবার উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়ান, তখন তোমরা মনোযোগী হইয়া শুনিবে এবং নীরব থাকিবে। কেননা খুতবা শুনিতে না পাইয়াও যিনি নীরব রহিয়াছেন তাহার জন্য সওয়াব হইবে শুনিতে পাইয়া নীরবতা অবলম্বনকারীর সমান। অতঃপর যখন নামাযের ইকামত বলা হয়, কাতার বরাবর করিয়া লও এবং কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া লও। কেননা কাতার বরাবর করা নামাযের পূর্ণতার অংশবিশেষ। তারপর যতক্ষণ কাতার সোজা করার জন্য নিযুক্ত লোকজন আসিয়া ‘সফ’ সোজা হইয়াছে বলিয়া সংবাদ না দিতেন, ততক্ষণ তিনি (নামাযের) তকবীর বলিতেন না।
وحدثني عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله عن مالك بن ابي عامر، ان عثمان بن عفان، كان يقول في خطبته قلما يدع ذلك اذا خطب اذا قام الامام يخطب يوم الجمعة فاستمعوا وانصتوا فان للمنصت الذي لا يسمع من الحظ مثل ما للمنصت السامع فاذا قامت الصلاة فاعدلوا الصفوف وحاذوا بالمناكب فان اعتدال الصفوف من تمام الصلاة . ثم لا يكبر حتى ياتيه رجال قد وكلهم بتسوية الصفوف فيخبرونه ان قد استوت فيكبر
রেওয়ায়ত ৯. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) দুই ব্যক্তিকে আলাপরত দেখিলেন, তখন জুম'আর দিন এবং ইমাম খুতবা প্রদান করিতেছিলেন। ইহা দেখিয়া তিনি উভয়ের দিকে কাঁকর নিক্ষেপ করিলেন, এই মর্মে— তোমরা চুপ হইয়া যাও।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، راى رجلين يتحدثان والامام يخطب يوم الجمعة فحصبهما ان اصمتا
রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, (একবার) জুম'আর দিন এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়াছে, তখন ইমাম খুতবা পড়িতেছিলেন, তাহার পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তি হাঁচির উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলিল, তখন সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। অতঃপর তাহাকে নিষেধ করিলেন এবং ভবিষ্যতে এইরূপ না করার জন্য বলিয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, জুম'আর দিন (তাকবীর বলার পূর্বে) যখন ইমাম মিম্বর হইতে অবতরণ করেন, তখন কথা বলা সম্পর্কে তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন (উত্তরে) ইবন শিহাব (রহঃ) বললেনঃ ইহাতে কোন দোষ নাই।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان رجلا، عطس يوم الجمعة والامام يخطب فشمته انسان الى جنبه فسال عن ذلك سعيد بن المسيب فنهاه عن ذلك وقال لا تعد
وحدثني عن مالك، انه سال ابن شهاب عن الكلام، يوم الجمعة اذا نزل الامام عن المنبر، قبل ان يكبر، . فقال ابن شهاب لا باس بذلك
وحدثني عن مالك، انه سال ابن شهاب عن الكلام، يوم الجمعة اذا نزل الامام عن المنبر، قبل ان يكبر، . فقال ابن شهاب لا باس بذلك
রেওয়ায়ত ১২. ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ জুম'আর দিন ইমামের খুতবা প্রদানের সময় যাহার নকসীর হইয়াছে, তারপর সে (মসজিদ হইতে) বাহির হইয়া গিয়াছে এবং সে প্রত্যাগমন করিয়াছে এমন সময় যখন ইমাম নামায সমাপ্ত করিয়াছেন, তবে সে চার রাকাআত পড়িবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম'আর দিন ইমামের সহিত এক রাকাআত পড়ে, তারপর তার নকসীর হয়, (সে কারণে) সে বাহির হইয়া যায়, অতঃপর ইমাম কর্তৃক দুই রাকাআত সমাপ্ত করার পর সে ফিরিয়া আসে তবে সেই ব্যক্তি আর এক রাকাআত পড়িয়া নিবে, যদি কোন কথা না বলিয়া থাকে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন ; যাহার নকসীর হইয়াছে অথবা মসজিদ হইতে বাহির হওয়ার জন্য কোন কারণ উপস্থিত হইয়াছে, তবে তাহাকে বাহির হওয়ার জন্য ইমামের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، انه كان يقول من ادرك من صلاة الجمعة ركعة فليصل اليها اخرى . قال ابن شهاب وهي السنة . قال مالك وعلى ذلك ادركت اهل العلم ببلدنا وذلك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من ادرك من الصلاة ركعة فقد ادرك الصلاة " . قال مالك في الذي يصيبه زحام يوم الجمعة فيركع ولا يقدر على ان يسجد حتى يقوم الامام او يفرغ الامام من صلاته انه ان قدر على ان يسجد ان كان قد ركع فليسجد اذا قام الناس وان لم يقدر على ان يسجد حتى يفرغ الامام من صلاته فانه احب الى ان يبتدي صلاته ظهرا اربعا
রেওয়ায়ত ১৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে আল্লাহ্ পাকের এই বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেনঃ[1] (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ) ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) উক্ত আয়াতকে এইরূপ পড়িতেন, (إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَامْضُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ) যখন জুম'আর নামাযের আযান দেওয়া হয় তখন খুতবা ও নামাযের জন্য গমন কর। ইয়াহুইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কিতাবুল্লাহতে উল্লিখিত সাঈ'-এর অর্থ হইল আমল ও কাজ (দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি উল্লেখ করিয়াছেন যেমন) আল্লাহ পাক ইরশাদ করিয়াছেনঃ[2] (وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ) আরও ইরশাদ করা হইয়াছেঃ[3] (وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى) আরও ইরশাদ করিয়াছেনঃ[4] (ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى) ইরশাদ করা হইয়াছেঃ[5] (إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى) ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাবে যে সাঈ'-এর কথা উল্লেখ করিয়াছেন তাহা দ্বারা পায়ে দৌড়ান, দ্রুত গমন অথবা হাঁটা উদ্দেশ্য নহে উদ্দেশ্য হইতেছে কাজ ও বাস্তবায়ন ।
حدثني يحيى، عن مالك، انه سال ابن شهاب عن قول الله، عز وجل {يا ايها الذين امنوا اذا نودي للصلاة من يوم الجمعة فاسعوا الى ذكر الله} فقال ابن شهاب كان عمر بن الخطاب يقروها اذا نودي للصلاة من يوم الجمعة فامضوا الى ذكر الله . قال مالك وانما السعى في كتاب الله العمل والفعل يقول الله تبارك وتعالى {واذا تولى سعى في الارض} وقال تعالى {واما من جاءك يسعى وهو يخشى} وقال {ثم ادبر يسعى} وقال {ان سعيكم لشتى} قال مالك فليس السعى الذي ذكر الله في كتابه بالسعى على الاقدام ولا الاشتداد وانما عنى العمل والفعل
রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম'আ দিবসের উল্লেখ করলেন, (সেই প্রসঙ্গে) তিনি বলিয়াছেনঃ এই দিবসে এমন এক মুহূর্ত রহিয়াছে কোন মুসলিম বান্দা নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায়, সেই মুহূর্তটির সদ্ব্যবহার করিলে তখন যদি সে আল্লাহ তা'আলা হইতে কোন বস্তুর সওয়াল করে, তবে আল্লাহ তাহাকে সেই বস্তু প্রদান করবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্ত দ্বারা ইঙ্গিত করিলেন সেই সময়টির স্বল্পতা বুঝাইবার জন্য।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر يوم الجمعة فقال " فيه ساعة لا يوافقها عبد مسلم وهو قايم يصلي يسال الله شييا الا اعطاه اياه " . واشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده يقللها
রেওয়ায়ত ১৬. আবু সালমা ইবন আবদির রহমান (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেনঃ আমি (সিনাই) পর্বতের দিকে গমন করিলাম, সেখানে কা'ব আহবার (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করিলাম এবং তাহার সাথে বসিলাম। তারপর তিনি তাওরাত হইতে আমার নিকট বর্ণনা করিলেন, আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করিলাম। আমি তাহার নিকট যাহা বর্ণনা করিলাম তাহাতে ইহাও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন- দিবসগুলির (মধ্যে যাহাতে সূর্যের উদয় হয়) জুম'আর দিনই সর্বোত্তম। সেইদিনই আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হইয়াছে, সেইদিনই তাঁহাকে (জান্নাত হইতে) বাহির করা হইয়াছে, সেই দিবসেই তাহার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করা হইয়াছে, সেই দিবসেই তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন এবং সেই (জুম'আর) দিনেই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হইবে। এমন কোন প্রাণী নাই, যে প্রাণী জুম'আর দিন ভোরবেলা হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে চিৎকার না করে। সেই দিবসে একটি মুহূর্ত রহিয়াছে কোন মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তটিতে নামায পড়া অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোন বস্তুর প্রার্থনা করিলে অবশ্যই তিনি তাহাকে উহা প্রদান করিবেন। কাব বলিলেনঃ ইহা প্রতি বৎসরে একদিন। তখন আমি বলিলামঃ বরং প্রতি জুম'আয়। অতঃপর কাব তাওরাত পাঠ করিলেন এবং বলিলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক বলিয়াছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি অতঃপর বসরায় ইবন আবি বাসরা গিফারীর সাথে সাক্ষাৎ করিলাম। তিনি বলিলেনঃ কোথা হইতে আগমন করিলে? (উত্তরে) আমি বলিলামঃ তুর’ হইতে। তারপর তিনি বলিলেনঃ সেখানে গমনের পূর্বে যদি আমি তোমাকে পাইতাম, তবে তোমার যাওয়াই হইত না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনটি মসজিদ ব্যতীত (অন্য কোন স্থানের জন্য) সওয়ারীর আয়োজন করা যায় না- (১) মসজিদুল হারাম, কাবাগৃহ, (২) আমার এই মসজিদ ও (৩) মসজিদ ইলিয়া বা বায়তুল মুকাদ্দাস। বর্ণনাকারী সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন- (অর্থাৎ তৃতীয়টি) তিনি ইলিয়ার মসজিদ অথবা বায়তুল মুকাদ্দাস বলিয়াছেনঃ (ইলিয়া শহরেই বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত)। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ অতঃপর আমি আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম (রাঃ)-এর সহিত মিলিত হইলাম এবং কা'ব আহবার এর সাথে আমার বৈঠকের কথা বর্ণনা করিলাম, আর জুম'আর দিন সম্পর্কে যে হাদীস তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছি উহাও বলিলাম। (কথা প্রসঙ্গে) আমি বলিলাম, কাব বলিয়াছেন- ইহা (কবুলিয়াতের মুহূর্ত) বৎসরে একদিন। (ইহা শুনিয়া) আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম (রাঃ) বলিলেনঃ কা'ব ঠিক বলেন নাই। অতঃপর আমি বলিলামঃ কা'ব (রাঃ) তাওরাত পাঠ করিয়া বলিলেন, হ্যাঁ, উহা প্রতি জুম'আর দিন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলিলেনঃ কা'ব (এইবার) সত্য বলিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ সেই মুহুর্তটি কোন মুহূর্ত তুমি জান কি? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি তাহাকে বলিলামঃ আপনি আমাকে সেই মুহুর্তটির কথা বলিয়া দিন। এই বিষয়ে আপনি কৃপণতা করবেন না। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বললেনঃ ইহা জুম'আর দিনের শেষ সময়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি বলিলাম, উহা জুম'আ দিবসের শেষ মুহুর্তে কিরূপে হইতে পারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, “নামাযের হালতে কোন মুসলিম বান্দা উক্ত মুহুর্তের সাক্ষাৎ লাভ করিলে.....” অথচ দিবসের শেষ মুহূর্তে নামায পড়া যায় না। তারপর আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি (ইহা) বলেন নাই, যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসিয়া নামাযের অপেক্ষা করিবে সে যেমন নামাযেই রহিয়াছে, যতক্ষণ সে নামায সমাপ্ত না করে? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ তবে উহা তাহাই।
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ তাহার নিত্যব্যবহার্য কাপড় ব্যতীত জুম'আর জন্য দুইটি কাপড় তৈয়ার করিয়া রাখিলে ইহাতে কোন দোষ নাই। নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইহরাম অবস্থায় না থাকিলে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তেল ও খুশবু না লাগাইয়া জুম'আয় গমন করিতেন না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه بلغه ان رسول الله قال " ما على احدكم لو اتخذ ثوبين لجمعته سوى ثوبى مهنته
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان لا يروح الى الجمعة الا ادهن وتطيب الا ان يكون حراما
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان لا يروح الى الجمعة الا ادهن وتطيب الا ان يكون حراما
রেওয়ায়ত ১৮. আবদুল্লাহ্ ইবন আবি বকর ইবন হাযম (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনাকারী জনৈক রাবী হইতে বর্ণনা করেন- তিনি (আবু হুরায়রা) বলতেনঃ তোমাদের কাহারও যাহরুল হাররা তে নামায পড়া ইহা হইতে ভাল যে, সে বসিয়া থাকিবে অর্থাৎ সময় থাকিতে নামাযের জন্য মসজিদে যাইবে না। অতঃপর ইমাম যখন জুম'আর দিন খুতবা দিতে দাঁড়াইবেন তখন (তাড়াহুড়া করিয়া যাওয়ার সময়) সে মানুষের ঘাড়ে পা রাখিয়া যাইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যে সময় খুতবা পাঠ করিতে ইচ্ছা করেন সে সময় লোকজনের ইমামের দিকে মুখ করিয়া বসাটাই আমাদের নিকট সুন্নত, তাহাদের মধ্যে যাহারা কিবলার দিকে মুখ করিয়া আছে অথবা যাহারা কিবলার দিকে মুখ করিয়া বসে নাই, সকলেই ইমামের দিকে মুখ করিবে।
حدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر بن حزم، عمن حدثه عن ابي هريرة، انه كان يقول لان يصلي احدكم بظهر الحرة خير له من ان يقعد حتى اذا قام الامام يخطب جاء يتخطى رقاب الناس يوم الجمعة . قال مالك السنة عندنا ان يستقبل الناس الامام يوم الجمعة اذا اراد ان يخطب من كان منهم يلي القبلة وغيرها
রেওয়ায়ত ১৯. যাহহাক ইবন কায়স (রহঃ) নুমান ইবন বশীর (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম'আর দিন সূরা জুম'আর পর কোন সূরা তিলাওয়াত করিতেন? তিনি বললেনঃ (هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ) পাঠ করতেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ضمرة بن سعيد المازني، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، ان الضحاك بن قيس، سال النعمان بن بشير ماذا كان يقرا به رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة على اثر سورة الجمعة قال كان يقرا {هل اتاك حديث الغاشية}
রেওয়ায়ত ২০. মালিক (রহঃ) সাফওয়ান ইবন সুলায়ম (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, সাফওয়ান (রহঃ) ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণনা করিয়াছেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। সাফওয়ান (রহঃ) বলিয়াছেন, কোন প্রকার ওযর অথবা রোগ ছাড়া যে ব্যক্তি তিন দফা জুম'আ পড়ে নাই, আল্লাহ্ তাহার হৃদয়ে মোহর ছাপ মারিয়া দিবেন।
وحدثني عن مالك، عن صفوان بن سليم، - قال مالك لا ادري اعن النبي صلى الله عليه وسلم ام لا - انه قال " من ترك الجمعة ثلاث مرات من غير عذر ولا علة طبع الله على قلبه
وحدثني عن مالك، عن يزيد بن عبد الله بن الهاد، عن محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، عن ابي هريرة، انه قال خرجت الى الطور فلقيت كعب الاحبار فجلست معه فحدثني عن التوراة وحدثته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان فيما حدثته ان قلت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " خير يوم طلعت عليه الشمس يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه اهبط من الجنة وفيه تيب عليه وفيه مات وفيه تقوم الساعة وما من دابة الا وهي مصيخة يوم الجمعة من حين تصبح حتى تطلع الشمس شفقا من الساعة الا الجن والانس وفيه ساعة لا يصادفها عبد مسلم وهو يصلي يسال الله شييا الا اعطاه اياه " . قال كعب ذلك في كل سنة يوم . فقلت بل في كل جمعة . فقرا كعب التوراة فقال صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو هريرة فلقيت بصرة بن ابي بصرة الغفاري فقال من اين اقبلت فقلت من الطور . فقال لو ادركتك قبل ان تخرج اليه ما خرجت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا تعمل المطي الا الى ثلاثة مساجد الى المسجد الحرام والى مسجدي هذا والى مسجد ايلياء او بيت المقدس " . يشك . قال ابو هريرة ثم لقيت عبد الله بن سلام فحدثته بمجلسي مع كعب الاحبار وما حدثته به في يوم الجمعة فقلت قال كعب ذلك في كل سنة يوم . قال قال عبد الله بن سلام كذب كعب . فقلت ثم قرا كعب التوراة فقال بل هي في كل جمعة . فقال عبد الله بن سلام صدق كعب . ثم قال عبد الله بن سلام قد علمت اية ساعة هي . قال ابو هريرة فقلت له اخبرني بها ولا تضن على . فقال عبد الله بن سلام هي اخر ساعة في يوم الجمعة . قال ابو هريرة فقلت وكيف تكون اخر ساعة في يوم الجمعة وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا يصادفها عبد مسلم وهو يصلي " . وتلك الساعة ساعة لا يصلى فيها فقال عبد الله بن سلام الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم " من جلس مجلسا ينتظر الصلاة فهو في صلاة حتى يصلي " . قال ابو هريرة فقلت بلى . قال فهو ذلك