Loading...

Loading...
বইসমূহ
১০ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আদম ও মূসা (আঃ)-এর মধ্যে তর্ক হইয়াছিল। অবশেষে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হইয়াছিলেন। মূসা (আঃ) বলিয়াছিলেন, আপনি ঐ আদম যিনি বহু লোককে পথভ্রষ্ট করিয়াছেন। আর তাহাদেরকে বেহেশত হইতে বাহির করিয়াছেন। আদম (আঃ) বলিলেন, তুমি ঐ মূসাই তো, তোমাকে আল্লাহ্ সর্বপ্রকার ইলম দান করিয়াছিলেন, তোমাকে নবী বানাইয়াছিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আদম (আঃ) বললেন, তা সত্ত্বেও তুমি আমাকে এমন কাজের ব্যাপারে দোষারোপ করিতেছ যাহা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার তকদীরে লেখা ছিল।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " تحاج ادم وموسى فحج ادم موسى قال له موسى انت ادم الذي اغويت الناس واخرجتهم من الجنة فقال له ادم انت موسى الذي اعطاه الله علم كل شىء واصطفاه على الناس برسالته قال نعم . قال افتلومني على امر قد قدر على قبل ان اخلق
রেওয়ায়ত ২. মুসলিম ইবন ইয়াসার জুহানী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ)-এর নিকট (وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ) (সূরা আ’রাফঃ ১৭২) আয়াত সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেন, আমি শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হইয়াছিল। তিনি বলিয়াছিলেন, আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করিলেন এবং তাহার পৃষ্ঠে স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা মুসেহ করিলেন, অতঃপর আদমের পৃষ্ঠদেশ হইতে তাহার সন্তানদেরকে বাহির করিলেন এবং বলিলেন, আমি ইহাদেরকে বেহেশতের জন্য সৃষ্টি করিয়াছি। ইহারা বেহেশতের কাজ করবে। অতঃপর পুনরায় তাহার পৃষ্ঠদেশে স্বীয় দক্ষিণ হস্ত বুলাইলেন এবং তাহার আর কিছু সংখ্যক সন্তান বাহির করিলেন এবং বলিলেন, আমি ইহাদেরকে দোযখের জন্য সৃষ্টি করিয়াছি। ইহারা দোযখের কাজ করবে। এক ব্যক্তি বলিয়া উঠিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহা হইলে আমল করায় লাভ কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহু পাক যখন কোন বান্দাকে বেহেশতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাহার দ্বারা বেহেশতীদের কাজ করান আর মৃত্যুর সময়েও সে নেক কাজ করিয়া মৃত্যুবরণ করে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইয়া থাকেন। আর যখন কোন বান্দাকে দোযখের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তাহার দ্বারা দোযখীদের কাজ করাইয়া থাকেন। অতঃপর মৃত্যুর সময়েও তাহাকে খারাপ কাজ করাইয়াই মৃত্যুবরণ করান। আর আল্লাহ তখন তাহাকে দোযখে প্রবেশ করাইয়া থাকেন।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن ابي انيسة، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، انه اخبره عن مسلم بن يسار الجهني، ان عمر بن الخطاب، سيل عن هذه الاية، {واذ اخذ ربك من بني ادم من ظهورهم ذريتهم واشهدهم على انفسهم الست بربكم قالوا بلى شهدنا ان تقولوا يوم القيامة انا كنا عن هذا غافلين} . فقال عمر بن الخطاب سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسال عنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله تبارك وتعالى خلق ادم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هولاء للجنة وبعمل اهل الجنة يعملون ثم مسح ظهره فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هولاء للنار وبعمل اهل النار يعملون " . فقال رجل يا رسول الله ففيم العمل قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله اذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل اهل الجنة حتى يموت على عمل من اعمال اهل الجنة فيدخله به الجنة واذا خلق العبد للنار استعمله بعمل اهل النار حتى يموت على عمل من اعمال اهل النار فيدخله به النار
রেওয়ায়ত ৩. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি তোমাদের নিকট দুইটি বস্তু ছাড়িয়া যাইতেছি। তোমরা যতক্ষণ উহাকে ধরিয়া থাকিবে পথভ্রষ্ট হইবে না। উহা হইল আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নত।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنة نبيه
রেওয়ায়ত ৪. তাউস ইয়ামানী (রহঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কয়েকজন সাহাবীকে পাইয়াছি যাহারা বলিতেন, প্রতিটি বস্তুই তকদীরের লিখন অনুসারে হইয়া থাকে। তাউস বলেন, আর আমি ইবনে উমর (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিতেন, প্রতিটি ব্যাপারই তকদীর অনুযায়ী হইয়া থাকে, এমন কি মানুষের দুর্বল হওয়া এবং বুদ্ধিমান হওয়াও।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن زياد بن سعد، عن عمرو بن مسلم، عن طاوس اليماني، انه قال ادركت ناسا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون كل شىء بقدر . قال طاوس وسمعت عبد الله بن عمر يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كل شىء بقدر حتى العجز والكيس او الكيس والعجز
রেওয়ায়ত ৫. আমর ইবন দীনার (রহঃ) বলেন, আমি ইবন যুবাইর (রহঃ)-এর নিকট শুনিয়াছি, তিনি স্বীয় খুৎবা দেওয়ার সময় বলিতেন, আল্লাহ তা'আলাই মানুষকে সৎপথ প্রদর্শনকারী, আর তিনিই পথভ্রষ্টকারী। (কুরআন মাজীদেও বলা হইয়াছে, আল্লাহ্ তা’আলা যাহাকে ইচ্ছা হিদায়ত দান করেন, যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। সুতরাং ভাল-মন্দ সমস্ত কাজ আল্লাহই সৃষ্টি করিয়া থাকেন, কিন্তু মানুষকে ভাল-মন্দ কাজ বলিয়া দেওয়া হইয়াছে এবং উহা হইতে বাছিয়া লওয়ার ইখতিয়ার দেওয়া হইয়াছে। এই স্বাধীনতার উপরই তাহার সওয়াব ও আযাব হইবে। কদরীয়া[1] ও শীয়া দলের মতে মানুষ নিজের কাজের নিজেই সৃষ্টিকর্তা। এই মতবাদ কুরআন ও হাদীসের বিপরীত।
وحدثني مالك، عن زياد بن سعد، عن عمرو بن دينار، انه قال سمعت عبد الله بن الزبير، يقول في خطبته ان الله هو الهادي والفاتن
রেওয়ায়ত ৬. আবূ সুহাইল ইবনে মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি উমর আবদুল আযীয (রহঃ)-এর সহিত কোথাও যাইতেছিলেন। তিনি আবু সুহাইলকে বলিলেন, কদরিয়া সম্বন্ধে তোমার মত কি ? আমি বলিলাম, আমার মত এই যে, তাহাদেরকে তওবা করানো উচিত। যদি তাহারা তওবা করিয়া ফেলে তবে তো ভাল, না হয় তাহাদেরকে হত্যা করা যাইতে পারে। উমর (রহঃ) বলেন, তাহদের সম্বন্ধে আমার মতও ইহাই। মালিক (রহঃ) বলেন, তাহাদের সম্বন্ধে আমারও মত ইহাই।
وحدثني عن مالك، عن عمه ابي سهيل بن مالك، انه قال كنت اسير مع عمر بن عبد العزيز فقال ما رايك في هولاء القدرية فقلت رايي ان تستتيبهم فان تابوا والا عرضتهم على السيف . فقال عمر بن عبد العزيز وذلك رايي . قال مالك وذلك رايي
রেওয়ায়ত ৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কোন স্ত্রীলোক যেন তাহার বোনের তালাক কামনা না করে এই উদ্দশ্যে যে, তাহার পাত্র খালি করিয়া দিবে, বরং তাহার বিবাহ হইবে। কারণ যাহা তাহার ভাগ্যে রহিয়াছে উহাই সে পাইবে।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تسال المراة طلاق اختها لتستفرغ صحفتها ولتنكح فانما لها ما قدر لها
রেওয়ায়ত ৮. মুহম্মদ ইবনে কাব কুরাযী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুয়াবিয়া (রাঃ) মিস্বরে দাঁড়াইয়া বলিয়াছেন, হে মানুষ! তোমরা জানিয়া রাখ, যাহা আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে দান করিবেন কেহই তাহা বাধা দিতে পারিবে না। আর তিনি যাহা দান না করিবেন উহা কেহই দান করিতে পারবে না। আর কোন মালদারকে তাহার মাল আল্লাহর আযাব হইতে রক্ষা করিতে পারিবে না। আল্লাহ তা’আলা যাহার ভাল চান তাহাকে দীনের জ্ঞান দান করেন। অতঃপর বলিলেন, আমি এই কথাগুলি এই কাঠের (মিম্বর) উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن يزيد بن زياد، عن محمد بن كعب القرظي، قال قال معاوية بن ابي سفيان وهو على المنبر ايها الناس انه لا مانع لما اعطى الله ولا معطي لما منع الله ولا ينفع ذا الجد منه الجد من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين . ثم قال معاوية سمعت هولاء الكلمات من رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذه الاعواد
রেওয়ায়ত ৯. মালিক (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এই মর্মে রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাহাবীদের যুগে বলা হইত, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি প্রতিটি বস্তু যেভাবে ইচ্ছা সৃষ্টি করিয়াছেন, তাহা দ্বারা যে সময় নির্দিষ্ট হইয়াছে উহার পূর্বে কিছুই হইতে পারে না। আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ্ তাহার কথা শুনিয়া থাকেন। আল্লাহ ব্যতীত এমন কেহ নাই যাহার নিকট দুআ করা যাইতে পারে, যাহার নিকট কিছু আশা করা যাইতে পারে।
وحدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه انه كان يقال الحمد لله الذي خلق كل شىء كما ينبغي الذي لا يعجل شىء اناه وقدره حسبي الله وكفى سمع الله لمن دعا ليس وراء الله مرمى
রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রহঃ)-এর নিকট এই হাদীস পৌছিয়াছে যে, সাহাবীদের যুগে বলা হইত, স্বীয় রিযিক পূর্ণ করার পূর্বে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হইতে পারে না। অতএব ধৈর্য সহকারে জীবিকা অন্বেষণ কর অর্থাৎ এই ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না। জীবিকা অন্বেষণে এত লাগিয়া যাইও না যাহাতে আল্লাহকেও ভুলিয়া যাইতে হয়, হালাল হারামের পার্থক্য থাকে না। যাহা নির্দিষ্ট আছে তাহাই পাইবে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه انه كان يقال ان احدا لن يموت حتى يستكمل رزقه فاجملوا في الطلب