Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৭ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, ইহুদীদের একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, তাহাদের একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন : রজম বা প্রস্তরাঘাতের ব্যাপারে তাওরাতে কি আদেশ রহিয়াছে? তাহারা বলিলঃ আমরা ব্যভিচারকারীকে লজ্জিত করি এবং বেত্ৰাঘাত করিয়া থাকি। আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ। তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের শাস্তি রহিয়াছে। তাওরাত আনয়ন কর, উহা পড়িয়া দেখ। অতঃপর তাহারা তাওরাত খুলিল এক ব্যক্তি বেত্রাঘাতের উপর হাত রাখিয়া পূর্বাপর অবশিষ্ট আয়াত পড়িয়া শুনাইল। আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাহাকে বলিলঃ তোমার হাত উঠাও তো। সে তাহার হাত উঠাইলে দেখা গেল উহাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত রহিয়াছে। অতঃপর সকল ইহুদীই স্বীকার করিল যে, আবদুল্লাহ ইবন সালাম ঠিকই বলিয়াছে তাওরাতে প্রস্তাঘাতের আয়াত বিদ্যমান রহিয়াছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে উভয়কে প্রস্তরাঘাত করা হইল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখিলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হইতে রক্ষা করিতে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল অর্থ পুরুষ নিজে প্রস্তরাঘাত সহ্য করিয়াও ঐ নারীকে প্রস্তরাঘাত হইতে রক্ষা করিতে যাইয়া তাহার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়ছিল।
حدثنا مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه قال جاءت اليهود الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكروا له ان رجلا منهم وامراة زنيا فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما تجدون في التوراة في شان الرجم " . فقالوا نفضحهم ويجلدون . فقال عبد الله بن سلام كذبتم ان فيها الرجم . فاتوا بالتوراة فنشروها فوضع احدهم يده على اية الرجم ثم قرا ما قبلها وما بعدها فقال له عبد الله بن سلام ارفع يدك فرفع يده فاذا فيها اية الرجم فقالوا صدق يا محمد فيها اية الرجم . فامر بهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجما . فقال عبد الله بن عمر فرايت الرجل يحني على المراة يقيها الحجارة
রেওয়ায়ত ২. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ) বলেন, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, এই অধম ব্যক্তি[1] ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, আমাকে ব্যতীত অন্য কাহারও নিকট ইহা প্রকাশ কর নাই তো? সে ব্যক্তি বলিলঃ না। তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর নিকট তওবা কর আর আল্লাহর পর্দার আড়ালে লুকাইয়া থাক। কেননা আল্লাহ তা’আলা স্বীয় বান্দাদের তওবা গ্রহণ করিয়া থাকেন। কিন্তু ইহাতে তাহার প্রবোধ হইল না। সে অতঃপর উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইল এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট যেরূপ বর্ণনা করিয়াছিল তদ্রুপ বর্ণনা করিল। উমরও তাহাকে ঐরপই বলিলেন, যেরূপ আবু বকর (রাঃ) বলিয়াছিলেন। ইহাতেও তাহার মনে প্রবোধ মানিল না। অগত্যা সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিলঃ এই হতভাগা ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। সাঈদ বলেনঃ ইহা শ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া লইলেন। সে ব্যক্তি তাহার নিকট তিনবার এইরূপ বলিল। তিনবারই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া লইলেন। অতঃপর যখন সে বলিতেই থাকিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার পরিবারের নিকট লোক পাঠাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন : এ ব্যক্তি কি রোগাক্রান্ত? এ ব্যক্তি উন্মাদ তো হইয়া যায় নাই? তাহারা বলিলেনঃ এই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ রহিয়াছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহার বিবাহ হইয়াছে কি? রাবী বলেন, উপস্থিত লোকগণ বলিলঃ তাহার বিবাহ হইয়াছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। অতঃপর তাহার সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল।
حدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، ان رجلا، من اسلم جاء الى ابي بكر الصديق فقال له ان الاخر زنا . فقال له ابو بكر هل ذكرت هذا لاحد غيري فقال لا . فقال ابو بكر فتب الى الله واستتر بستر الله فان الله يقبل التوبة عن عباده . فلم تقرره نفسه حتى اتى عمر بن الخطاب فقال له مثل ما قال لابي بكر فقال له عمر مثل ما قال له ابو بكر فلم تقرره نفسه حتى جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له ان الاخر زنا فقال سعيد فاعرض عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات كل ذلك يعرض عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا اكثر عليه بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اهله فقال " ايشتكي ام به جنة " . فقالوا يا رسول الله والله انه لصحيح . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ابكر ام ثيب " . فقالوا بل ثيب يا رسول الله . فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجم
রেওয়ায়ত ৩. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে যাহার নাম হাযযাল ছিল, বলিলেন, “হে হাযযাল, যদি তুমি ঐ খবরটি (মাইয়ের ব্যভিচারের খবর) গোপন রাখিতে তাহা হইলে উহা তোমার জন্য ভালই হইত।” ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ (রহঃ) বলেনঃ আমি এক সময় এক সভাস্থলে এই ঘটনা বর্ণনা করিলাম। তথায় ইয়াযীদ ইবনে নুয়াইম ইবনে হাযযালও উপস্থিত ছিল। তখন ইয়াযীদ বলিলঃ হাযযাল আমার পিতামহ ছিলেন। এই হাদীস সত্য।
حدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه قال بلغني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لرجل من اسلم يقال له هزال " يا هزال لو سترته بردايك لكان خيرا لك " . قال يحيى بن سعيد فحدثت بهذا الحديث في مجلس فيه يزيد بن نعيم بن هزال الاسلمي فقال يزيد هزال جدي وهذا الحديث حق
রেওয়ায়ত ৪. ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি নিজে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কথা চারিবার স্বীকার করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আদেশে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল। ইবনে শিহাব বলেনঃ এজন্যই কোন ব্যক্তি নিজ অপরাধ করিলে উহা দ্বারা তাহার শাস্তি হইয়া থাকে।
حدثني مالك، عن ابن شهاب، انه اخبره . ان رجلا اعترف على نفسه بالزنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وشهد على نفسه اربع مرات فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجم . قال ابن شهاب فمن اجل ذلك يوخذ الرجل باعترافه على نفسه
রেওয়ায়ত ৫. আবদুল্লাহ ইবনে আবী মুলাইকা (রহঃ) বলেনঃ এক স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। সে মহিলা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তোমার সন্তান প্রসবের পর আসিও। অতঃপর ঐ স্ত্রীলোকটি প্রসবের পর আসিল। এবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ এখন যাও, সন্তানের দুধ ছাড়া হলে আসিও। সন্তানের দুধ ছাড়ানোর পর ঐ মহিলাটি আবার আসিল। এবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেন, যাও, এই সন্তানকে কাহারও তত্ত্বাবধানে রাখিয়া আস। সে তাহাকে কাহারও তত্ত্বাবধানে রাখিয়া আসিল। অতঃপর তাহার আদেশে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল।
حدثني مالك، عن يعقوب بن زيد بن طلحة، عن ابيه، زيد بن طلحة عن عبد الله بن ابي مليكة، انه اخبره ان امراة جاءت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته انها زنت وهي حامل فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذهبي حتى تضعي " . فلما وضعت جاءته فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذهبي حتى ترضعيه " . فلما ارضعته جاءته فقال " اذهبي فاستودعيه " . قال فاستودعته ثم جاءت فامر بها فرجمت
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) ও খালিদ জুহানী (রাঃ) বলেনঃ দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হইয়া তাহারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হইল। তাহাদের একজন বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহর কিতাবের আইন অনুসারে আমাদের মীমাংসা করিয়া দিন। দ্বিতীয় ব্যক্তি খুব চতুর ছিল, বলিতে লাগিল : ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আল্লাহর কিতাব অনুসারে মীমাংসা করুন এবং আমাকে কথা বলিতে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি কি বলিতে চাও বল। সে বলিলঃ আমার ছেলে এই ব্যক্তির এখানে চাকর ছিল। সে এ ব্যক্তির স্ত্রীর সহিত ব্যভিচার করিয়াছে। অনেকে বলিলঃ তোমার ছেলেকে প্রস্তরাঘাত করা হইবে। আমি তাহার পক্ষ হইতে একশত বকরী এবং একটি দাসী ক্ষতিপূরণ হিসাবে দান করিলাম। অতঃপর আমি আলিমদের নিকট জিজ্ঞাসা করিলাম। তাহারা বলিলেনঃ তোমার ছেলেকে একশত বেত্ৰাঘাত করা হইবে এবং এ বৎসরের জন্য নির্বাসন দেওয়া হইবে। আর তাহার স্ত্রীকে প্রস্তরাঘাত করা হইবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আল্লাহর কিতাব অনুসারেই আমি তোমাদের ফয়সালা করিব। তোমার বকরী ও দাসী তুমি ফেরত লইয়া যাও। ইহা তোমার মাল। অতঃপর তাহার ছেলেকে একশত বেত্ৰাঘাত লাগান হইল আর এক বৎসরের জন্য দেশ ত্যাগের আদেশ দিলেন এবং আনীস আসলামীকে দ্বিতীয় ব্যক্তির স্ত্রীকে হাযির করিতে নির্দেশ দেওয়া হইল। সেই স্ত্রীলোক অপরাধ স্বীকার করিলে তাহাকে প্রস্তারাঘাত করিতে বলা হইল। স্ত্রীলোকটি অপরাধ স্বীকার করায় তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত হাদীসে যে ‘আসীফ' (العسيف) শব্দ রহিয়াছে, উহার অর্থ ভৃত্য।
حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، انهما اخبراه ان رجلين اختصما الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال احدهما يا رسول الله اقض بيننا بكتاب الله وقال الاخر وهو افقههما اجل يا رسول الله فاقض بيننا بكتاب الله وايذن لي ان اتكلم . قال " تكلم " . فقال ان ابني كان عسيفا على هذا فزنا بامراته فاخبرني ان على ابني الرجم فافتديت منه بماية شاة وبجارية لي ثم اني سالت اهل العلم فاخبروني ان ما على ابني جلد ماية وتغريب عام واخبروني انما الرجم على امراته . فقال رسول الله " اما والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله اما غنمك وجاريتك فرد عليك " . وجلد ابنه ماية وغربه عاما وامر انيسا الاسلمي ان ياتي امراة الاخر فان اعترفت رجمها فاعترفت فرجمها
রেওয়ায়ত ৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, সা’দ ইবন উবাদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমি আমার স্ত্রীর নিকট কোন ব্যক্তিকে পাই, তবে কি চারজন সাক্ষী আনা পর্যন্ত তাহাকে সময় দিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ। সা'দ বলিলেনঃ আমি ঐ আল্লাহর শপথ করিয়া বলিতেছি, যিনি আপনাকে নবী করিয়া পাঠাইয়াছেন, আমি তো তাহাকে দেখামাত্র তলোয়ার দ্বারা দ্বিখণ্ডিত করিয়া ফেলিব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আনসারগণ, তোমাদের নেতা কি বলিতেছে শোন, সে তাহাকে বড় আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মনে করে। আমি তো তাহা অপেক্ষা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন আর আল্লাহ তা’আলা আমা অপেক্ষা অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।
حدثني مالك، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان سعد بن عبادة، قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت لو اني وجدت مع امراتي رجلا اامهله حتى اتي باربعة شهداء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم
রেওয়ায়ত ৮. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আল্লাহর কিতাবে প্রস্তরাঘাতের যে বিধান রহিয়াছে উহা বাস্তব সত্য। যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় সে পুরুষ হউক অথবা নারী যদি বিবাহিত হয় আর চারজন সাক্ষী পাওয়া যায় অথবা তাহার পেটে বাচ্চা হয় বা স্বীকার করে, তবে প্রস্তরাঘাত করা হইবে।
حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن عبد الله بن عباس، انه قال سمعت عمر بن الخطاب، يقول الرجم في كتاب الله حق على من زنى من الرجال والنساء اذا احصن اذا قامت البينة او كان الحبل او الاعتراف
রেওয়ায়ত ৯. আবু ওয়াকিদ পাঠনী (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) যখন সিরিয়ায় ছিলেন এক ব্যক্তি তাহাকে বলিলঃ আমি আমার স্ত্রীর নিকট এক ব্যক্তিকে পাইলাম। উমর (রাঃ) আবু ওয়াকিদ লাইসীকে ঐ স্ত্রীলোকটির নিকট জিজ্ঞাসা করিতে পাঠাইলেন। আবু ওয়াকিদ তাহার নিকট যাইয়া দেখিলেন আরও কয়েকজন নারী বসিয়া আছে। আবু ওয়াকিদ স্ত্রীলোকটির নিকট তাহার স্বামী উমর (রাঃ)-এর নিকট যাহা বর্ণনা করিয়াছে তাহা বলিলেন। তিনি ইহাও বলিলেনঃ তোমার স্বামীর কথায় তোমাকে শাস্তি দেওয়া হইবে না, যদি না তুমি স্বীকার কর। অতঃপর আরও এই জাতীয় নানা কথা তাহাকে শিখাইতে লাগিলেন, যাহাতে সে স্বীকার না করে। কিন্তু সে ইহা মানিল না, বরং ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। অতঃপর উমর (রাঃ)-এর আদেশে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল।
حدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سليمان بن يسار، عن ابي واقد الليثي، ان عمر بن الخطاب، اتاه رجل وهو بالشام فذكر له انه وجد مع امراته رجلا فبعث عمر بن الخطاب ابا واقد الليثي الى امراته يسالها عن ذلك فاتاها وعندها نسوة حولها فذكر لها الذي قال زوجها لعمر بن الخطاب واخبرها انها لا توخذ بقوله وجعل يلقنها اشباه ذلك لتنزع فابت ان تنزع وتمت على الاعتراف فامر بها عمر فرجمت
রেওয়ায়ত ১০. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর (রাঃ) যখন মিনা হইতে প্রত্যাবর্তন (২৩ হিজরী) করিলেন তখন তিনি (মক্কার অনতিদূরে) আবতাহ নাম স্থানে তাহার উট বসাইলেন। আর এদিকে কতকগুলি পাথর একত্র করিলেন। উহার উপর একখানা চাদর রাখিয়া চিৎ হইয়া শুইয়া পড়িলেন। অতঃপর আকাশের দিকে স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করিয়া বলিতে লাগিলেনঃ হে আল্লাহ! আমার অনেক বয়স হইয়াছে। শক্তি রহিত হইয়া গিয়াছে, প্রজাবৃন্দ অনেক হইয়া গিয়াছে। এ সময় আপনি আমাকে আপনার সন্নিধানে ডাকিয়া লউন, যাহাতে আমা দ্বারা আপনার কোন আদেশ অমান্য না হইয়া যায় এবং আপনার ইবাদতে অনিচ্ছা প্রকাশ হইয়া পড়ে। অতঃপর তিনি মদীনা চলিয়া গেলেন, মদীনার লোকদের সম্মুখে খুতবা দিতে যাইয়া বলিলেনঃ হে উপস্থিত ভ্রাতৃবৃন্দ তোমাদের সম্মুখে সমস্ত পথই প্রকাশ হইয়া পড়িয়াছে; যত রকম ফরয কাজ ছিল সমস্তই নির্ধারিত হইয়া গিয়াছে। তোমরা পরিষ্কার সোজা পথে চালিত হইয়াছ। এখন তোমরা পথ ভুলিয়া যেন এদিক-ওদিক বিপথগামী না হইয়া যাও। তিনি তাহার এক হাত অন্য হাতের উপর রাখিয়া বলিলেনঃ দেখ, তোমরা প্রস্তরাঘাতের আয়াতটি ভুলিয়া যাইও না। কেহ যেন না বলে, আমরা আল্লাহর কিতাবে প্রস্তরাঘাতের আয়াত দেখিতেছি না। দেখ আল্লাহর রাসূল প্রস্তরাঘাত করিয়াছেন। ঐ আল্লাহর কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ রহিয়াছে, যদি মানুষ এ কথা না বলিত যে, উমর আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত করিয়াছে তাহা হইলে আমি (الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ) (অর্থাৎ যখন বিবাহিত পুরুষ অথবা নারী ব্যভিচার করে তবে তাহদেরকে প্রস্তরাঘাত কর) আয়াতটি কুরআনে লিখাইয়া দিতাম। আমরা এই আয়াত পাঠ করিয়াছি। অতঃপর উহার তিলাওয়াত রহিত হইয়া গিয়াছে (কিন্তু ইহার হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত থাকিবে)। সাঈদ বলেন, অতঃপর যিলহজ্জ মাস শেষ না হইতেই উমর (রাঃ) নিহত হইলেন।
حدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه سمعه يقول لما صدر عمر بن الخطاب من منى اناخ بالابطح ثم كوم كومة بطحاء ثم طرح عليها رداءه واستلقى ثم مد يديه الى السماء فقال اللهم كبرت سني وضعفت قوتي وانتشرت رعيتي . فاقبضني اليك غير مضيع ولا مفرط . ثم قدم المدينة فخطب الناس فقال ايها الناس قد سنت لكم السنن وفرضت لكم الفرايض وتركتم على الواضحة الا ان تضلوا بالناس يمينا وشمالا وضرب باحدى يديه على الاخرى ثم قال اياكم ان تهلكوا عن اية الرجم ان يقول قايل لا نجد حدين في كتاب الله فقد رجم رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجمنا والذي نفسي بيده لولا ان يقول الناس زاد عمر بن الخطاب في كتاب الله تعالى . لكتبتها الشيخ والشيخة فارجموهما البتة . فانا قد قراناها . قال مالك قال يحيى بن سعيد قال سعيد بن المسيب فما انسلخ ذو الحجة حتى قتل عمر رحمه الله . قال يحيى سمعت مالكا يقول قوله الشيخ والشيخة يعني الثيب والثيبة فارجموهما البتة . حدثني مالك انه سال ابن شهاب عن الذي يعمل عمل قوم لوط فقال ابن شهاب عليه الرجم احصن او لم يحصن
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, উসমান (রাঃ)-এর নিকট একটি স্ত্রীলোককে আনা হইয়াছিল, ছয় মাসেই যাহার সন্তান প্রসব হইয়াছে। উসমান (রাঃ) তাহাকে প্রস্তরাঘাত করার আদেশ দিয়া দিলেন। আলী (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তাহার উপর প্রস্তরাঘাত করা যাইবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা (وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاَثُونَ شَهْرًا) “সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থান এবং মাতৃস্তন ছাড়াইবার সময় ৩০ মাস।” অন্য আয়াতে বলা হইয়াছেঃ “মা তাহার সন্তানকে পূর্ণ দুই বৎসর দুধ দান করিবে। (অতএব ৩০ মাস হইতে ২৪ মাস বাদ দিলে ৬ মাস থাকে) তাহা হইলে সন্তানের মাতৃউদরে অবস্থানকাল ৬ মাস হইল। অতএব তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা যাইতে পারে না। ইহা শুনিয়া উসমান (রাঃ) তাহার নিকট লোক পাঠাইয়া দিলেন। তাহারা যাইয়া দেখিল, ততক্ষণে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইয়াছে। আলী (রাঃ)-এর এই ইজতিহাদ দ্বারা সন্তানের মাতৃউদরে অবস্থান সর্বদা ছয় মাস অনিবার্য হইয়া পড়ে, অথচ তাহা হইল সর্বনিম্ন সময়, বরং এই আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, পৌনে দুই বৎসর স্তন দানের এবং নয় মাস উদরে অবস্থানের সময় যে উহা পূর্ণ করিতে চায়। কেননা স্তন দান দুই বৎসরের অতিরিক্ত হওয়া প্রমাণিত নহে। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাবকে জিজ্ঞাসা করিলেন, পুং মৈথুন করিলে তাহার শাস্তি কি? তিনি বলিলেন, তাহাকেও প্রস্তরাঘাত করিতে হইবে, সে বিবাহিত হউক বা অবিবাহিত।
وحدثني مالك، انه بلغه ان عثمان بن عفان، اتي بامراة قد ولدت في ستة اشهر فامر بها ان ترجم فقال علي بن ابي طالب ليس ذلك عليها ان الله تبارك وتعالى يقول في كتابه {وحمله وفصاله ثلاثون شهرا} وقال {والوالدات يرضعن اولادهن حولين كاملين لمن اراد ان يتم الرضاعة} فالحمل يكون ستة اشهر فلا رجم عليها . فبعث عثمان بن عفان في اثرها فوجدها قد رجمت
রেওয়ায়ত ১২. যায়দ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে বলিয়া স্বীকার করিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার জন্য একটি বেত্র আনাইতে চাহিলে তাহার নিকট একটি নূতন বেত্র আনা হইল যাহার মাথা এখনও কাটা হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ ইহা হইতে নরম একটি লও। অতঃপর একটি ভাঙ্গা বেত্র আনা হইল। তিনি বলিলেনঃ ইহা হইতে শক্ত একটি বেত্র আনয়ন কর। অতঃপর এমন একটি বেত্র আনা হইল যাহা বাহনে ব্যবহার করা হইয়াছে তজ্জন্য নরম হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তাহার আদেশে তাহাকে বেত্ৰাঘাত করা হইল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এখন সময় আসিয়াছে তোমরা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা হইতে ফিরিয়া আসিবে। যদি কেহ এইরূপ কোন কিছু করিয়া বসে তবে তাহাকে আল্লাহর পর্দার আড়ালে লুকাইয়া থাকা উচিত। যে ব্যক্তি স্বীয় পর্দা উন্মোচন করিবে তবে আমরা তাহার উপর আল্লাহর কিতাবের নির্ধারিত শাস্তি জারি করিব।
حدثني مالك، عن زيد بن اسلم، ان رجلا، اعترف على نفسه بالزنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعا له رسول الله صلى الله عليه وسلم بسوط فاتي بسوط مكسور فقال " فوق هذا " . فاتي بسوط جديد لم تقطع ثمرته فقال " دون هذا " . فاتي بسوط قد ركب به ولان فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلد ثم قال " ايها الناس قد ان لكم ان تنتهوا عن حدود الله من اصاب من هذه القاذورات شييا فليستتر بستر الله فانه من يبدي لنا صفحته نقم عليه كتاب الله
রেওয়ায়ত ১৩. সফীয়া বিনত আবূ উরায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হইল। সে একটি কুমারী বালিকার সহিত ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়া তাহাকে গর্ভবতী করিয়াছিল। অতঃপর সে ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। সে বিবাহিত ছিল না। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে কোড়া লাগাইবার আদেশ করিলেন। ইহার পর ঐ লোকটি ফিদক নামক স্থানে চলিয়া গেল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি ব্যভিচারের কথা স্বীকার করার পর আবার অস্বীকার করিয়া বলে যে, আমি ব্যভিচার করি নাই, তাহা হইলে তাহা হইতে শাস্তি রহিত হইয়া যাইবে। কেননা ব্যভিচারের শাস্তির জন্য হয় চারিজন উপযুক্ত সাক্ষী হইবে, না হয় তাহার স্বীকারোক্তি হইতে হইবে যাহার উপর সে শাস্তির সময় পর্যন্ত স্থির থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার দেশের উলামার মত হইল যে, যদি গোলাম ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাহাকে দেশান্তরিত করা হইবে না।
حدثني مالك، عن نافع، ان صفية بنت ابي عبيد، اخبرته ان ابا بكر الصديق اتي برجل قد وقع على جارية بكر فاحبلها ثم اعترف على نفسه بالزنا ولم يكن احصن فامر به ابو بكر فجلد الحد ثم نفي الى فدك
রেওয়ায়ত ১৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) বলেনঃ কেহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবিবাহিতা দাসী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিল যে, যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাহার বিধান কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তাহাকে বেত্ৰাঘাত করিতে হইবে। তিনবার তিনি এইরূপ বললেন। অতঃপর তাহাকে বিক্রয় করিয়া ফেল, যদি তাহার মূল্য একটি রশির তুল্যও হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব বলেন, তিনি কি তিনবারের পর এ কথা বলিয়াছেন, না চারিবারের পর, তাহা আমার স্মরণ নাই।
حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سيل عن الامة اذا زنت ولم تحصن فقال " ان زنت فاجلدوها ثم ان زنت فاجلدوها ثم ان زنت فاجلدوها ثم بيعوها ولو بضفير " . قال ابن شهاب لا ادري ابعد الثالثة او الرابعة
রেওয়ায়ত ১৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশের মালের মধ্যে যে সকল দাসদাসী ছিল তাহাদের মধ্যে এক দাস ও এক দাসীর সহিত বলপূর্বক ব্যভিচার করিয়াছিল। উমর (রাঃ) তাহাকে বেত্ৰাঘাত করিয়া তাড়াইয়া দিলেন, (কিন্তু) তিনি দাসীকে প্রহার করিলেন না। কারণ তাহার উপর বল প্রয়োগ করা হইয়াছিল।
حدثني مالك، عن نافع، ان عبدا، كان يقوم على رقيق الخمس وانه استكره جارية من ذلك الرقيق فوقع بها فجلده عمر بن الخطاب ونفاه ولم يجلد الوليدة لانه استكرهها
রেওয়ায়ত ১৬. আবদুল্লাহ ইবন আইয়্যাস ইবন আবি রবিয়া মাখযুমী (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আমাকে এবং আরও কতিপয় কুরাইশী যুবককে ব্যভিচারের দায়ে প্রহার করিতে আদেশ দিলে আমরা ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে বায়তুলমালের দাসীদেরকে পঞ্চাশ পঞ্চাশ বেত্ৰাঘাত করিতাম।
حدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، ان سليمان بن يسار، اخبره ان عبد الله بن عياش بن ابي ربيعة المخزومي قال امرني عمر بن الخطاب في فتية من قريش فجلدنا ولايد من ولايد الامارة خمسين خمسين في الزنا
রেওয়ায়ত ১৭. আবূ যিনাদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) এক দাসকে অপবাদের শাস্তি হিসাবে আশিটি বেত্ৰাঘাত করিয়াছিলেন। আবূ যিনাদ বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, আমি উমর ও উসমান (রাঃ)-কে এবং তাহাদের পর অপর দুই খলীফাকে দেখিয়াছি কেহই কোন দাসকে অপবাদের শাস্তি হিসাবে চল্লিশ বেত্রাঘাতের বেশি মারেন নাই।
حدثني مالك، عن ابي الزناد، انه قال جلد عمر بن عبد العزيز عبدا في فرية ثمانين . قال ابو الزناد فسالت عبد الله بن عامر بن ربيعة عن ذلك فقال ادركت عمر بن الخطاب وعثمان بن عفان والخلفاء هلم جرا فما رايت احدا جلد عبدا في فرية اكثر من اربعين
রেওয়ায়ত ১৮. যুরাইক ইবন হাকিম (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি, যাহার নাম মিসবাহ, স্বীয় ছেলেকে কোন কাজে ডাকিলেন। সে আসিতে বিলম্ব করিল। যখন আসিল তখন মিসবাহ বলিলঃ হে ব্যভিচারী। যুরাইক বলেনঃ ঐ ছেলেটি আমার নিকট ফরিয়াদ করিল। আমি যখন তাহার পিতাকে শাস্তি দিতে চাহিলাম, সে বলিতে লাগিল, যদি তুমি আমার পিতাকে বেত্ৰাঘাত কর, তাহা হইলে আমি ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করিব। ইহা শুনিয়া আমি অস্থির হইলাম আর এই ঝগড়ার ফয়সালা করা কষ্টকর হইয়া পড়িল। আমি উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-কে লিখিলাম। ঐ সময় তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। উমর ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) উত্তরে লিখিলেনঃ ছেলেকে ক্ষমা কর। যুরাইক বলেনঃ আমি উমরকে ইহাও লিখিলাম, যদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও অথবা তাহার পিতাকে অথবা তাহার মাতাকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় আর তাহার মাতাপিতা মৃত্যুবরণ করে অথবা তাহাদের একজন মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তখন উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিলেন, যাহাকে অপবাদ দেওয়া হইয়াছে যদি সে ক্ষমা করে, তবে ক্ষমা ঠিকই হইবে। হ্যাঁ, যদি তাহার মাতাপিতা উভয়ে অথবা কোন একজন মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তবে আল্লাহর কিতাবের বিধান মতে তাহার শাস্তি হইবে। হ্যাঁ, যদি ছেলে স্বীয় পিতার অবস্থা লুকাইবার জন্য ক্ষমা করে তবে ক্ষমা বৈধ হইবে।
حدثني مالك، عن زريق بن حكيم الايلي، ان رجلا، يقال له مصباح استعان ابنا له فكانه استبطاه فلما جاءه قال له يا زان . قال زريق فاستعداني عليه فلما اردت ان اجلده قال ابنه والله لين جلدته لابوان على نفسي بالزنا . فلما قال ذلك اشكل على امره فكتبت فيه الى عمر بن عبد العزيز - وهو الوالي يوميذ - اذكر له ذلك فكتب الى عمر ان اجز عفوه . قال زريق وكتبت الى عمر بن عبد العزيز ايضا ارايت رجلا افتري عليه او على ابويه وقد هلكا او احدهما . قال فكتب الى عمر ان عفا فاجز عفوه في نفسه وان افتري على ابويه وقد هلكا او احدهما فخذ له بكتاب الله الا ان يريد سترا . قال يحيى سمعت مالكا يقول وذلك ان يكون الرجل المفترى عليه يخاف ان كشف ذلك منه ان تقوم عليه بينة فاذا كان على ما وصفت فعفا جاز عفوه
রেওয়ায়ত ১৯. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি এক কথায়ই অনেক লোকের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, যেমন বলিলঃ তোমরা সকলে ব্যভিচারী অথবা হে ব্যভিচারীর দল, তাহা হইলে তাহার উপর অপবাদের এক শাস্তিই হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি তাহারা পৃথকও হইয়া যায় তবুও একই শাস্তি হইবে। আমারা বিন্তে আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, উমর (রাঃ)-এর সময় দুই ব্যক্তির মধ্যে গালমন্দ হইল। একজন অপরজনকে বলিল, আল্লাহর কসম, আমার পিতা বদকার ছিল না, আমার মাও বদকার ছিল না। উমর (রাঃ) এ ব্যাপারে পরামর্শ করিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, ইহাতে সে মন্দ কি বলিল। সে তো স্বীয় মাতাপিতার ভালই বর্ণনা করিল। অন্যরা বলিল, তাহার পিতার কি এই গুণ অবশিষ্ট ছিল যে, বর্ণনা করিবে? আমাদের মতে তাহাকে অপবাদের শাস্তি দিতে হইবে। অবশেষে উমর (রাঃ) তাহাকে আশি বেত্ৰাঘাত লাগাইলেন। (কেননা তাহার এই কথায় অন্যের মাতাপিতার উপর অপবাদ ছিল। আবু হানীফা ও শাফেয়ীর মতে শাস্তি অনিবার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে অপবাদ, অস্বীকার ও ইশারায় গালি ছাড়া অন্য কোন কথায় শাস্তি অনিবার্য হয় না।) মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে যদি কেহ কাহাকেও তাহার পিতার বংশের অস্বীকার করে তাহা হইলে শাস্তি ওয়াজিব হইবে, তাহার মা দাসী হইলেও।
حدثني مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال في رجل قذف قوما جماعة انه ليس عليه الا حد واحد . قال مالك وان تفرقوا فليس عليه الا حد واحد . حدثني مالك، عن ابي الرجال، محمد بن عبد الرحمن بن حارثة بن النعمان الانصاري ثم من بني النجار عن امه، عمرة بنت عبد الرحمن ان رجلين، استبا في زمان عمر بن الخطاب فقال احدهما للاخر والله ما ابي بزان ولا امي بزانية . فاستشار في ذلك عمر بن الخطاب فقال قايل مدح اباه وامه وقال اخرون قد كان لابيه وامه مدح غير هذا نرى ان تجلده الحد . فجلده عمر الحد ثمانين . قال مالك لا حد عندنا الا في نفى او قذف او تعريض يرى ان قايله انما اراد بذلك نفيا او قذفا فعلى من قال ذلك الحد تاما . قال مالك الامر عندنا انه اذا نفى رجل رجلا من ابيه فان عليه الحد وان كانت ام الذي نفي مملوكة فان عليه الحد
রেওয়ায়ত ২০. রবীআ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর দাসীকে সঙ্গে লইয়া সফরে যাত্রা করিল। তথায় সে তাহার সহিত সহবাস করিয়া বসিল। স্ত্রী হিংসার বশবর্তী হইয়া উমর (রাঃ)-এর নিকট বলিয়া দিল। উমর (রাঃ) তাহাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিলে সে বলিলঃ আমার স্ত্রী এই দাসীটি আমাকে দান করিয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি দানের সাক্ষী আন, না হয় তোমাকে প্রস্তরাঘাত করা হইবে। তখন স্ত্রীলোকটি বলিল, আমি তাহাকে দান করিয়াছি।
حدثني مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، ان عمر بن الخطاب، قال لرجل خرج بجارية لامراته معه في سفر فاصابها فغارت امراته . فذكرت ذلك لعمر بن الخطاب فساله عن ذلك فقال وهبتها لي . فقال عمر لتاتيني بالبينة او لارمينك بالحجارة . قال فاعترفت امراته انها وهبتها له