Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৬ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৫৭. মলিহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ সাদী (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা তোলে অথবা ঝোঁকায় তাহার কপাল শয়তানের হাতে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ভুলবশত রুকূ-সিজদায় ইমামের পূর্বে মাথা উঠাইয়াছে তাহার বিষয়ে সুন্নাহ বা নিয়ম হইল, সে পুনরায় রুকূ অথবা সিজদায় ফিরিয়া যাইবে। ইহাতে সে ইমামের অপেক্ষা করিবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইহা করিয়াছে, সে ভুল করিয়াছে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হইয়াছে। কাজেই তোমরা ইমামের বরখেলাফ করিও না। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা উঠায় অথবা ঝোঁকায় তাহার কপাল শয়তানের হাতে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن محمد بن عمرو بن علقمة، عن مليح بن عبد الله السعدي، عن ابي هريرة، انه قال الذي يرفع راسه ويخفضه قبل الامام فانما ناصيته بيد شيطان
রেওয়ায়ত ৫৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দুই রাকাআত (পড়িয়া) নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন যুল-ইয়াদায়ন (সাহাবী) তাহাকে বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! নামায সংক্ষিপ্ত করা হইয়াছে, না আপনার ভুল হইয়াছে? ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপস্থিত মুসল্লিদের সম্বোধন করিয়া) বলিলেনঃ যুল-ইয়াদায়ন ঠিক বলিয়াছেন কি? লোকেরা বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠিলেন এবং শেষের দুই রাকাআত পড়িলেন, তারপর সালাম ফিরাইয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া সিজদা করিলেন, পূর্বের মত (সিজদা) অথবা তাহা হইতে দীর্ঘ সিজদা। অতঃপর (পবিত্র) শির উঠাইলেন, পুনরায় তকবীর বলিয়া সিজদায় গেলেন, পূর্বের (সিজদার) মত অথবা উহা হইতে দীর্ঘ সিজদা, অতঃপর (পবিত্র) শির উঠাইলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ايوب بن ابي تميمة السختياني، عن محمد بن سيرين، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف من اثنتين فقال له ذو اليدين اقصرت الصلاة ام نسيت يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اصدق ذو اليدين " . فقال الناس نعم . فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى ركعتين اخريين ثم سلم ثم كبر فسجد مثل سجوده او اطول ثم رفع ثم كبر فسجد مثل سجوده او اطول ثم رفع
রেওয়ায়ত ৫৯. আবু আহমদ (রহঃ)-এর পুত্রের মাওলা আবূ সুফইয়ান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) আসরের নামায পড়িলেন, তিনি (উহাতে) দুই রাকাআতের পর সালাম ফিরাইলেন। যুল-ইয়াদায়ন দাঁড়াইয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল। নামায কমাইয়া দেওয়া হইয়াছে না আপনি তুলিয়া গিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেন, (আমার মনে হয়) উভয়ের কোনটাই ঘটে নাই। যুল-ইয়াদায়ন বলিলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! একটা কিছু ঘটিয়াছে। (ইহা শোনার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র মুখমণ্ডল সাহাবাদের দিকে করিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন , যুল-ইয়াদায়ন কি ঠিক বলিতেছেন? উপস্থিত সাহাবা বলিলেনঃ হ্যাঁ। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াইলেন এবং অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করিলেন। তারপর সালামের পর বসা অবস্থায় দুইটি সিজদা করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن داود بن الحصين، عن ابي سفيان، مولى ابن ابي احمد انه قال سمعت ابا هريرة، يقول صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة العصر فسلم في ركعتين فقام ذو اليدين فقال اقصرت الصلاة يا رسول الله ام نسيت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كل ذلك لم يكن " . فقال قد كان بعض ذلك يا رسول الله . فاقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الناس فقال " اصدق ذو اليدين " . فقالوا نعم . فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتم ما بقي من الصلاة ثم سجد سجدتين بعد التسليم وهو جالس
রেওয়ায়ত ৬০. আবু বকর ইবন সুলায়মান ইবন আবি হাসমা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের কোন এক নামায- যোহর কিংবা আসরে দুই রাকাআত পড়িয়া সালাম ফিরাইলেন, তখন বনি যোহরা ইবন কিলাব গোত্রের যুশ-শিমালায়ন (রাঃ) নামক জনৈক সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! নামায কি সংক্ষিপ্ত করা হইয়াছে, না আপনি ভুলিয়া গিয়াছেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেনঃ নামাযও সংক্ষিপ্ত করা হয় নাই, আমিও ভুলি নাই। যুশ-শিমালায়ন (রাঃ) পুনরায় বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (অবশ্যই) কোন একটা হইয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা মুবারক লোকের দিকে করিলেন এবং বলিলেনঃ যুশ-শিমালায়ন ঠিক বলিয়াছে কি? (উপস্থিত) লোকজন বলিলেনঃ হ্যাঁ। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করিলেন। অতঃপর সালাম ফিরাইলেন।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن ابي بكر بن سليمان بن ابي حثمة، قال بلغني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ركع ركعتين من احدى صلاتى النهار - الظهر او العصر - فسلم من اثنتين فقال له ذو الشمالين اقصرت الصلاة يا رسول الله ام نسيت فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما قصرت الصلاة وما نسيت " . فقال ذو الشمالين قد كان بعض ذلك يا رسول الله . فاقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الناس فقال " اصدق ذو اليدين " . فقالوا نعم يا رسول الله . فاتم رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بقي من الصلاة ثم سلم
রেওয়ায়ত ৬১. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) এবং আবি সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ভুলে নামাযে ঘাটতি হয়, উহাতে সালামের পূর্বে সিজদা করিতে হয়। আর যে ভুলে বৃদ্ধি হয় উহাতে সালামের পরে সিজদা করিতে হয়।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وعن ابي سلمة بن عبد الرحمن، مثل ذلك . قال مالك كل سهو كان نقصانا من الصلاة فان سجوده قبل السلام وكل سهو كان زيادة في الصلاة فان سجوده بعد السلام
রেওয়ায়ত ৬২. আতা ইবন ইয়াসার (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যদি নামাযের মধ্যে সন্দেহগ্ৰস্ত হয়, তদ্দরুন তিন রাকাআত পড়িয়াছে না চার রাকাআত পড়িয়াছে তাহা স্মরণ করতে না পারে তবে সে আর এক রাকাআত পড়িবে এবং বসা অবস্থায়ই সালামের পূর্বে দুইটি সিজদা করিবে। যে (এক) রাক’আত সে পড়িয়াছে তাহা যদি পঞ্চম রাকাআত হইয়া থাকে, তবে উক্ত দুই সিজদা (ষষ্ঠ রাকাআতের পরিবর্তে গণ্য করা হইবে এবং) ঐ নামাযকে জোড় নামাযে পরিণত করবে। আর যদি উহা চতুর্থ রাকাআত হয়, তবে দুই সিজদা শয়তানের অপমানের কারণ হইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا شك احدكم في صلاته فلم يدر كم صلى اثلاثا ام اربعا فليصلي ركعة وليسجد سجدتين وهو جالس قبل التسليم فان كانت الركعة التي صلى خامسة شفعها بهاتين السجدتين وان كانت رابعة فالسجدتان ترغيم للشيطان
রেওয়ায়ত ৬৩. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ নামাযে (কত রাকাআত পড়া হইল সে বিষয়) সন্দেহে লিপ্ত হইলে সে তাহার ধারণা মত কত রাকাআত নামায ভুলিয়া গিয়াছে, উহা স্থির করিবে এবং (সে মত) নামায পড়িবে। তারপর বসা অবস্থায় ভুলের জন্য দুইটি সিজদা করিবে।
وحدثني عن مالك، عن عمر بن محمد بن زيد، عن سالم بن عبد الله، ان عبد الله بن عمر، كان يقول اذا شك احدكم في صلاته فليتوخ الذي يظن انه نسي من صلاته فليصله ثم ليسجد سجدتى السهو وهو جالس
রেওয়ায়ত ৬৪. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ'স (রাঃ) এবং কা'ব আল-আহবার (রহঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিয়াছি, যে ব্যক্তি নামাযে সংশয়ে লিপ্ত হয়, অতঃপর সে বলিতে পারে না কত রাকাআত পড়িয়াছে – তিন রাকাআত না চারি রাকাআত। তখন তাহারা (উত্তরে) বলিলেন যে, সে আর এক রাকাআত পড়িবে। তারপর বসা অবস্থায়ই দুইটি সিজদা করিবে। মালিক (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে নামাযে ভুলিয়া যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হইলে (উত্তরে) তিনি বলিতেনঃ যে ব্যক্তি মনে করে যে, কিছু নামায ভুলিয়া গিয়াছে সে ভাবিয়া ঠিক করিবে, অতঃপর নামায পড়িয়া লইবে।
وحدثني عن مالك، عن عفيف بن عمرو السهمي، عن عطاء بن يسار، انه قال سالت عبد الله بن عمرو بن العاص وكعب الاحبار عن الذي، يشك في صلاته فلا يدري كم صلى اثلاثا ام اربعا فكلاهما قال ليصلي ركعة اخرى ثم ليسجد سجدتين وهو جالس
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان اذا سيل عن النسيان، في الصلاة قال ليتوخ احدكم الذي يظن انه نسي من صلاته فليصله
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان اذا سيل عن النسيان، في الصلاة قال ليتوخ احدكم الذي يظن انه نسي من صلاته فليصله
রেওয়ায়ত ৬৫. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ) বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) আমাদিগকে দুই রাকাআত নামায পড়াইয়া (আত্তাহিয়্যাতু পড়িতে না বসিয়াই) দাঁড়াইয়া গেলেন। মুসল্লিগণ তাহার সহিত দাঁড়াইলেন। তারপর যখন নামায পূর্ণ করিলেন এবং আমরা সালামের অপেক্ষায় রহিলাম তখন তিনি আল্লাহু আকবর’ বলিলেন। অতঃপর সালামের পূর্বে বসা অবস্থায়ই দুইটি সিজদা করিলেন এবং সালাম ফিরাইলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن الاعرج، عن عبد الله ابن بحينة، انه قال صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين ثم قام فلم يجلس فقام الناس معه فلما قضى صلاته ونظرنا تسليمه كبر ثم سجد سجدتين وهو جالس قبل التسليم ثم سلم
রেওয়ায়ত ৬৬. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, (একবারের ঘটনা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যোহরের নামায পড়াইলেন, তিনি দুই রাকাআতের পর দাঁড়াইয়া গেলেন এবং (আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য) বসিলেন না। যখন তিনি নামায পূর্ণ করিলেন দুইটি সিজদা (সাহু সিজদা) করিলেন, অতঃপর সালাম ফিরাইলেন। মালিক (রহঃ) বলেন- যে ব্যক্তি নামাযে ভুল করে এবং চারি রাকাআত পূর্ণ করার পর দাঁড়াইয়া যায়, তারপর কিরাআত সমাপ্ত করিয়া রুকূ করে, রুকু হইতে মাথা তোলার পর তাহার স্মরণ হইল যে, সে নামায পূর্ণ পড়িয়াছিল, তখন সেই ব্যক্তি বসার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে এবং বসিয়া যাইবে। সে তখন আর সিজদায় যাইবে না। আর যদি দুই সিজদার এক সিজদা করিয়া থাকে তবে আমি দ্বিতীয় সিজদা করা সঙ্গত মনে করি না। অতঃপর সে যখন নামায পূর্ণ করিবে তখন দুইটি সিজদা করিবে বসা অবস্থায় সালামের পর।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن عبد الرحمن بن هرمز، عن عبد الله ابن بحينة، انه قال صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الظهر فقام في اثنتين ولم يجلس فيهما فلما قضى صلاته سجد سجدتين ثم سلم بعد ذلك
রেওয়ায়ত ৬৭. আলকামা ইবন আবি আলকামা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আবু জাহম ইবন হুযায়ফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে শামী চাদর হাদিয়াস্বরূপ পেশ করিলেন, যাহাতে ফুল, বুটা ইত্যাদি দ্বারা কারুকার্য করা ছিল। উহা পরিধান করিয়া তিনি নামায পড়িলেন। নামায হইতে ফিরিয়া তিনি ফরমাইলেন, এই চাদরখানা আবূ জাহম-এর নিকট ফিরাইয়া দাও। কেননা উহার কারুকার্যের দিকে নামাযে আমার দৃষ্টি পতিত হইয়াছে। উহা নামাযের একগ্রতা নষ্ট করিয়া আমাকে ফিতনায় লিপ্ত করিয়াছে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن علقمة بن ابي علقمة، عن امه، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت اهدى ابو جهم بن حذيفة لرسول الله صلى الله عليه وسلم خميصة شامية لها علم فشهد فيها الصلاة فلما انصرف قال " ردي هذه الخميصة الى ابي جهم فاني نظرت الى علمها في الصلاة فكاد يفتنني
রেওয়ায়ত ৬৮. হিশাম ইবন উরওয়াহ্ (রহঃ) স্বীয় পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) শামী চাদর পরিধান করিয়াছিলেন। উহাতে ফুল, বুটা দ্বারা কারুকার্য করা ছিল; অতঃপর আবু জাহমকে উহা ফিরাইয়া দিয়া (তৎপরিবর্তে) আবূ জাহম হইতে আমবিজানিয়া (মোটা পশমী কাপড়) গ্রহণ করিলেন। ইহার কারণ ব্যাখ্যা করিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেন, নামাযে ইহার কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পতিত হইয়াছে।
وحدثني مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لبس خميصة شامية لها علم ثم اعطاها ابا جهم واخذ من ابي جهم انبجانية له فقال يا رسول الله ولم فقال " اني نظرت الى علمها في الصلاة
রেওয়ায়ত ৬৯. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ তালহা আনসারী (রাঃ) একবার তাহার এক বাগানে নামায পড়িতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়িতে শুরু করিল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজিয়া পাইতেছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বাহির হওয়ার পথ খুঁজিতে আরম্ভ করিল। এই দৃশ্য তাহার খুব ভাল লাগিল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেইদিকে তাকাইয়া রহিলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াইল) তিনি (তখন) স্মরণ করিতে পারিলেন না যে, নামায কত রাকাআত পড়িয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং বাগানে তাহার সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হইয়াছিল উহা বিবৃত করিলেন। তারপর বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করিতেছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহাকে সেইখানে ব্যয় করুন।
وحدثني مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، ان ابا طلحة الانصاري، كان يصلي في حايطه فطار دبسي فطفق يتردد يلتمس مخرجا فاعجبه ذلك فجعل يتبعه بصره ساعة ثم رجع الى صلاته فاذا هو لا يدري كم صلى فقال لقد اصابتني في مالي هذا فتنة . فجاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر له الذي اصابه في حايطه من الفتنة وقال يا رسول الله هو صدقة لله فضعه حيث شيت
রেওয়ায়ত ৭০. আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আনসারী এক ব্যক্তি মদীনার উপত্যকাসমূহের মধ্যে কুফ নামক উপত্যকায় তাহার এক বাগানে নামায পড়িতেছিলেন, তখন ছিল (খেজুরের) মওসুম। খেজুরের গাছগুলি খেজুরের ভারে ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল। গাছগুলি যেন স্বীয় ফলগুচ্ছের হার পরিহিত। ফলের এ দৃশ্যটি তাহার খুবই মনঃপূত হইল। তাই সেইদিকে চাহিয়া রছিলেন। অতঃপর নামাযের দিকে মনোযোগী হইলেন। কিন্তু তাহার আর স্মরণ হইতেছিল না যে, তিনি কত রাকাআত নামায পড়িয়াছেন। ইহা দেখিয়া তিনি বলিলেন, আমার এই সম্পত্তি আমার জন্য ফিতনারূপে উপস্থিত হইয়াছে। তখন ছিল উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল। তিনি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট হাজির হইলেন এবং তাহার নিকট ঘটনা বিবৃত করিলেন। তারপর বলিলেনঃ উক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হইল। ইহাকে সৎকাজে ব্যয় করুন। উসমান (রাঃ) উহাকে পঞ্চাশ হাজার (দিরহাম)-এর বিনিময়ে বিক্রি করিলেন। (এই কারণে) উক্ত সম্পত্তির নাম রাখা হইল (খমসিন) বা পঞ্চাশ হাজারী।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، ان رجلا، من الانصار كان يصلي في حايط له بالقف - واد من اودية المدينة - في زمان الثمر والنخل قد ذللت فهي مطوقة بثمرها فنظر اليها فاعجبه ما راى من ثمرها ثم رجع الى صلاته فاذا هو لا يدري كم صلى فقال لقد اصابتني في مالي هذا فتنة . فجاء عثمان بن عفان - وهو يوميذ خليفة - فذكر له ذلك وقال هو صدقة فاجعله في سبل الخير . فباعه عثمان بن عفان بخمسين الفا فسمي ذلك المال الخمسين