Loading...

Loading...
বইসমূহ
৯৬ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৮৮. আবু বকর ইবন আবদির রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি (কাহারো নিকট) কোন পণ্য বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর তাহার নিকট হইতে যে ক্রয় করিয়াছে সে দরিদ্র হইয়া গিয়াছে। আর বিক্রেতা ক্রেতার নিকট হইতে পণ্যের মূল্যের কিছুই আয়ত্তে আনে নাই। সে ব্যক্তি (বিক্রেতা) পণ্যদ্রব্য ক্রেতার নিকট যদি হুবহু পায় তবে সে-ই উহার হকদার হইবে অধিক। আর যদি ক্রেতার মৃত্যু হয় তবে পণ্যের মালিক উক্ত পণ্যে অপর ঋণদাতাদের সমান (শরীক) হইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن ابي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ايما رجل باع متاعا فافلس الذي ابتاعه منه ولم يقبض الذي باعه من ثمنه شييا فوجده بعينه فهو احق به وان مات الذي ابتاعه فصاحب المتاع فيه اسوة الغرماء
রেওয়ায়ত ৮৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি দরিদ্র হইয়াছে এবং কোন ব্যক্তি তাহার মাল হুবহু তাহার নিকট পায় তবে সে অন্যের তুলনায় সেই মালের অধিক হকদার হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির নিকট কোন পণ্য বা খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর ক্রেতা দরিদ্র হইয়া গিয়াছে, তবে বিক্রেতা তাহার পণ্যের হুবহু কিছু পাইলে সে এই পণ্য গ্রহণ করিবে। যদি ক্রেতা উহার কিছু অংশ বিক্রয় করিয়া থাকে এবং উহাকে পৃথক করিয়া দিয়া থাকে তবে পণ্যের মালিক অন্যান্য ঋণদাতা বা মহাজনদের অপেক্ষা এই পণ্যের অধিক হকদার হইবে। ক্রেতা কর্তৃক উহ্য হইতে কিছু অংশ পৃথক করার কারণে তাহার পণ্যের যাহা হুবহু সে পাইয়াছে তাহা আয়ত্তে আনিতে কোন বাধা হইবে না। আর যদি বিক্রেতা পণ্যের মূল্যের কিছু তলব করিয়াছে অতঃপর বিক্রেতা পণ্যের যে মূল্য গ্রহণ করিয়াছে উহা ফেরত দিতে এবং যে পণ্য পাওয়া গিয়াছে উহা আয়ত্তে আনিতে পছন্দ করে এবং যাহা আদায় হয় নাই তাহাতে অন্যান্য মহাজনের সমান হইয়া যায় তবে ইহা জায়েয আছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কিছু পণ্য খরিদ করিল উহা পশম হউক বা অন্য কোন ব্যবসায়ের মাল বা এক টুকরা জমি। অতঃপর যে খরিদ করিয়াছে সে উহাতে নূতন কোন কাজ করিল, যেমন জমিতে ঘর বানাইল বা পশম দ্বারা কাপড় তৈয়ার করিল। অতঃপর যে খরিদ করিয়াছিল সে গরীব হইয়া গেল, জমিওয়ালা তাহাকে বলিল, আমি ঐ জমি এবং উহাতে যাহা নির্মাণ করা হইয়াছে তাহা সমস্তই লইয়া লইব, তবে ইহা তাহার জন্য বৈধ হইবে না বরং ঐ জমি এবং জমিতে যে ঘর ক্রেতা তৈয়ার করিয়াছিল উহার মূল্য নির্ণয় করিতে হইবে। অতঃপর দেখিতে হইবে ঐ জমির মূল্য কত পড়ে এবং ঘরের মূল্য কত হয়। অতঃপর ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উহাতে অংশীদার হইবে। জমির মালিকের জন্য হইবে তাহার জমির অংশ অনুযায়ী এবং ঋণগ্রস্তুদিগের জন্য হইবে নির্মিত গৃহাদির অংশ পরিমাণ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই যে, যেমন ঐ জমি ও ঘরের একত্রে মূল্য হইবে এক হাজার পাঁচ শত দিরহাম। এমতাবস্থায় জমির মূল্য হইবে পাঁচ শত দিরহাম এবং ঘরের মূল্য হইবে এক হাজার দিরহাম। জমির মালিকের জন্য হইবে এক-তৃতীয়াংশ এবং ঋণগ্রস্তদিগের জন্য হইবে দুই-তৃতীয়াংশ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এইরূপেই পশম ইত্যাদির মূল্য ধরিত হইবে যদি খরিদ্দার ঋণগ্রস্ত হইয়া পড়ে আর মূল্য আদায় করিতে অপারক হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর ঐ সমস্ত ব্যবসায়ের মাল যাহাতে খরিদ্দার কোন কাজ করে নাই বরং এমনি ঐ মালের যোগ্যতা তথা গুণাগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে আর উহার মূল্য বৃদ্ধি পাইয়াছে। এখন ঐ মালওয়ালা উহা পাইতে ইচ্ছা করিতেছে। কিন্তু খাতক উহা রাখিতে চাহিতেছে। এমতাবস্থায় ঋণদাতাদের ইচ্ছানুযায়ী তাহারা মালওয়ালাকে উহার মূল্যও দিয়া দিতে পারে, যে দামে উহা বিক্রয় হইয়াছিল। উহা হইতে কমাইতে পরিবে না বা তাহাকে তাহার মালও দিয়া দিতে পারে। আর যদি ঐ মালের মূল্য কমিয়া গিয়া থাকে তবে যে বিক্রয় করিয়াছে সে যদি ইচ্ছা করে তবে তাহার মাল লইয়া লইতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন দাসী বা কোন পশু খরিদ করিল এবং উহা তাহার নিকট বাচ্চা দিল অতঃপর ক্রেতা গরীব হইয়া গেল, ঐ দাসী বা পশু যে বাচ্চা প্রসব করিয়াছে উহা বিক্রেতার হইবে। যদি খাতকের উহ্য রাখিবার ইচ্ছা হয়, তবে তাহার পূর্ণ প্রাপ্য দিয়া উহা রাখিতে পারে।
وحدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، عن ابي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن عمر بن عبد العزيز، عن ابي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ايما رجل افلس فادرك الرجل ماله بعينه فهو احق به من غيره
রেওয়ায়ত ৯০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস আবূ রাফি' (রাঃ) বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম একটি ছোট উট লইয়াছিলেন, অতঃপর তাছার নিকট সাদকার উট আসে। আবু রাফি' বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম আমাকে ঐ ব্যক্তির উটের বাচ্চ আদায় করিয়া দিতে বলিলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! উহাদের মধ্যে তো বাচ্চা উট নাই, সমস্তই বয়ষ্ক উট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, উহাই দিয়া দাও। কেননা ঐ লোকই উত্তম যে উৎকৃষ্ট বস্তু দ্বারা ঋণ পরিশোধ করে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي رافع، مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال استسلف رسول الله صلى الله عليه وسلم بكرا فجاءته ابل من الصدقة قال ابو رافع فامرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اقضي الرجل بكره فقلت لم اجد في الابل الا جملا خيارا رباعيا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اعطه اياه فان خيار الناس احسنهم قضاء
রেওয়ায়ত ৯১. মুজাহিদ (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) এক ব্যক্তির নিকট হইতে কিছু দিরহাম কর্জ লইলেন। অতঃপর আদায় করিবার সময় যে দিরহাম ঋণস্বরূপ লইয়াছিলেন উহা হইতে উৎকৃষ্ট দিরহাম দিলেন। ঐ ব্যক্তি বলিল, হে আবু আবদুর রহমান এই দিরহাম আমার দিরহাম হইতে উৎকৃষ্ট যাহা আমি আপনাকে ধার দিয়াছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর বলিলেন, আমার তাহা জানা আছে তবুও আমি খুশী হইয়া উহা দিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কাহাকেও স্বর্ণরৌপ্য বা কোন খাদ্যদ্রব্য ধার দেয় তবে ফেরত লইবার সময় যাহাকে ধার দিয়াছিল তাহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই, যদি এইরূপ কোন শর্ত করিয়া না থাকে বা ইহা নিয়মে পরিণত না হয়; যদি শর্ত করে বা এইরূপ দেওয়ার নিয়ম থাকে তবে উহা মাকরূহ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইজন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের বাচ্চা ধার লইয়া বড় বয়স্ক উট দিয়াছিলেন আর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) দিরহাম লইয়া উহা হইতে উৎকৃষ্ট দিরহাম দিয়াছিলেন। যদি ইহা খাতকের সন্তুষ্ট মনে হইয়া থাকে আর ইহার জন্য কোন শর্ত বা রীতি না থাকে তবে ইহা হালাল, ইহাতে কোন ক্ষতি নাই।
وحدثني مالك، عن حميد بن قيس المكي، عن مجاهد، انه قال استسلف عبد الله بن عمر من رجل دراهم ثم قضاه دراهم خيرا منها فقال الرجل يا ابا عبد الرحمن هذه خير من دراهمي التي اسلفتك . فقال عبد الله بن عمر قد علمت ولكن نفسي بذلك طيبة . قال مالك لا باس بان يقبض من اسلف شييا من الذهب او الورق او الطعام او الحيوان ممن اسلفه ذلك افضل مما اسلفه اذا لم يكن ذلك على شرط منهما او عادة فان كان ذلك على شرط او واى او عادة فذلك مكروه ولا خير فيه . قال وذلك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى جملا رباعيا خيارا مكان بكر استسلفه وان عبد الله بن عمر استسلف دراهم فقضى خيرا منها فان كان ذلك على طيب نفس من المستسلف ولم يكن ذلك على شرط ولا واى ولا عادة كان ذلك حلالا لا باس به
রেওয়ারত ৯২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি অপর একজনের নিকট কিছু খাদ্যদ্রব্য ধার দিয়াছিল এই শর্তে যে, অন্য শহরে সে উহা পরিশোধ করিবে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, ঐ স্থানে বহন করিবার খরচ কে বহন করিবে? তাই উহা অপছন্দ করিলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، قال في رجل اسلف رجلا طعاما على ان يعطيه اياه في بلد اخر فكره ذلك عمر بن الخطاب وقال فاين الحمل يعني حملانه
রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি জানিতে পারিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলেন, হে আবু আবদির রহমান। আমি এক ব্যক্তিকে কিছু ধার দিয়াছিলাম এবং উহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু দেওয়ার শর্ত করিয়াছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন উহা সুদ হইবে। ঐ ব্যক্তি বলিলেন, তবে আমাকে এখন কি করিতে বলেন। তিনি বলিলেন, ঋণ তিন প্রকারের হইয়া থাকে। এক প্রকারের ঋণ যাহাতে আল্লাহর সস্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়। উহাতে আল্লাহর সন্তুষ্টিই অর্জিত হইয়া থাকে। আর এক প্রকারের ঋণ যাহাতে গ্রহীতা ব্যক্তির সস্তুষ্টির উদ্ধেশ্য হইয়া থাকে উহাতে ঐ ব্যক্তির সন্ধুষ্টি লাভ হইয়া থাকে। আর এক প্রকার ঋণ যাহাতে হালালের বিনিময়ে হারাম (সুদ) গ্রহণ উদ্দেশ্য হইয়া থাকে। সে ব্যক্তি বলিল তবে আমাকে এখন কি করিতে বলেন? তিনি বলিলেন, আমার মতে তুমি তোমার সুদের দলীল ছিড়িয়া ফেল, যদি তুমি যাহা ঋণ দিয়াছিলে তোমাকে ঐ পরিমাণ দিয়া দেয় তবে উহা লইবে, তোমার সওয়াব হইবে। আর যদি সে খুশী হইয়া তুমি যাহা দিয়াছ উহা হইতে উৎকৃষ্ট ফুদেয় তবে উহার শোকর করবে। আর তুমি তাহাকে যে সময় দিয়াছ উহার সওয়াব পাইবে।
وحدثني مالك، انه بلغه ان رجلا، اتى عبد الله بن عمر فقال يا ابا عبد الرحمن اني اسلفت رجلا سلفا واشترطت عليه افضل مما اسلفته . فقال عبد الله بن عمر فذلك الربا . قال فكيف تامرني يا ابا عبد الرحمن فقال عبد الله السلف على ثلاثة وجوه سلف تسلفه تريد به وجه الله فلك وجه الله وسلف تسلفه تريد به وجه صاحبك فلك وجه صاحبك وسلف تسلفه لتاخذ خبيثا بطيب فذلك الربا . قال فكيف تامرني يا ابا عبد الرحمن قال ارى ان تشق الصحيفة فان اعطاك مثل الذي اسلفته قبلته وان اعطاك دون الذي اسلفته فاخذته اجرت وان اعطاك افضل مما اسلفته طيبة به نفسه فذلك شكر شكره لك ولك اجر ما انظرته
রেওয়ায়ত ৯৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যদি কেহ কাহাকেও কোন ঋণ দেয় তবে যেন উহা আদায় করার শর্ত ছাড়া অন্য কোন শর্ত না করে।
وحدثني مالك، عن نافع، انه سمع عبد الله بن عمر، يقول من اسلف سلفا فلا يشترط الا قضاءه
রেওয়ায়ত ৯৫. মালিক (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিতেন, যদি কেহ কাহাকেও ঋণ দেয় তবে উহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু বা অতিরিক্ত কিছুর শর্ত করিবে না যদিও একমুষ্টি ঘাস হয়। কেননা উহা সুদ। মালিক (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, যদি কেহ কোন পশু ধার নেয় তাহাতে কোন অসুবিধা নাই, তবে তাহাকে ঐরপ পশুই পরিশোধ করিতে হইবে। তবে ক্রীতদাসীদের ব্যাপারে ইহা প্রযোজ্য হইবে না, কারণ ইহাতে যাহা নিষিদ্ধ তাহা হালাল করার আশংকা রহিয়াছে। ইহার ব্যাখ্যা এই, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে ক্রীতদাসী ধার দিল, সে উহার সহিত সহবাস করিল, অতঃপর মালিকের নিকট উহাকে ফেরত দিল, ইহা বৈধ মহে। আহলে ইলম (উলামা) এইরূপ করিতে বরাবর নিষেধ করিতেন এবং কাহাকেও ইহার অনুমতি দিতেম না।
وحدثني مالك، انه بلغه ان عبد الله بن مسعود، كان يقول من اسلف سلفا فلا يشترط افضل منه وان كانت قبضة من علف فهو ربا . قال مالك الامر المجتمع عليه عندنا ان من استسلف شييا من الحيوان بصفة وتحلية معلومة فانه لا باس بذلك وعليه ان يرد مثله الا ما كان من الولايد فانه يخاف في ذلك الذريعة الى احلال ما لا يحل فلا يصلح وتفسير ما كره من ذلك ان يستسلف الرجل الجارية فيصيبها ما بدا له ثم يردها الى صاحبها بعينها فذلك لا يصلح ولا يحل ولم يزل اهل العلم ينهون عنه ولا يرخصون فيه لاحد
রেওয়ায়ত ৯৬. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, একে অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করিও না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يبع بعضكم على بيع بعض
রেওয়ায়ত ৯৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, বণিকদের সহিত তাহাদের পণ্য খরিদ করার জন্য আগে আগে মিলিত হইও না। আর কেউ যেন একজনের ক্রয়ের উপর ক্রয় না করে, আর একে অন্যের উপর নাজাশ[1] করিও না। আর কোন শহরবাসী যেন কোন গ্রামবাসীর পক্ষ হইতে বিক্রয় না করে। আর উট এবং বকরীর স্তনে দুধ জমা[2] করিয়া রাখিও না যদি কেহ এইরূপ উট ও বকরী ক্রয় করে, যদি পরে উহার অবস্থা অবগত হয় তবে তাহার ইচ্ছার উপর নির্ভর করিবে, ইচ্ছা হইলে রাখিবে আর উহা ফেরত দিবার অধিকারও তাহার থাকিবে। যদি ফেরত দেয়, তবে যেন দুধের পরিবর্তে এক সা’ খেজুর দিয়া দেয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, একে অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করিও না। উহার ব্যাখ্যা হইল, একজন যেন অন্যজনের দাম বলার সময় দাম না করে। যখন বিক্রেতার ক্রেতার নিকট বিক্রয় করিতে আগ্রহ প্রকাশ পায় এবং পণ্যের দাম ঠিক করে পণ্যকে নির্দোষ প্রমাণ করিতে আরম্ব করে অথবা এমন কোন কাজ করে যাহাতে মনে হয় যে, বিক্রেতা প্রথম ক্রেতার নিকট বিক্রয় করিতে ইচ্ছুক। এমতাবস্থায় অন্য কাউকে দাম করিতে নিষেধ করা হইয়াছে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি বিক্রেতা প্রথম ব্যক্তির দামে বিক্রয় করিতে রাযী না হয় বরং মাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয় তবে সকলেই উহার মূল্য বলিতে পারে। যদি একজনের দাম বলার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের দাম বলা নিষেধ হইত, তবে নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে প্রথম ক্রেতা উহা গ্রহণ করিতে পারিত এবং বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হইত। মদীনায় বর্ধিত মূল্যে ক্রয় করার বরাবর রেওয়াজ ছিল।
وحدثني مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تلقوا الركبان للبيع ولا يبع بعضكم على بيع بعض ولا تناجشوا ولا يبع حاضر لباد ولا تصروا الابل والغنم فمن ابتاعها بعد ذلك فهو بخير النظرين بعد ان يحلبها ان رضيها امسكها وان سخطها ردها وصاعا من تمر
রেওয়ায়ত ৯৮. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। নাজাশ বলা হয় মালের উপযুক্ত দামের চাইতে অধিক দাম বলা অথচ তাহার ক্রয়ের ইচ্ছা নাই। বরং এই অধিক দাম বলার উদ্দেশ্য যেন অন্য ব্যক্তি তাহার অনুসরণ করিয়া ধোঁকায় পড়িয়া এই দামে উহা ক্রয় করে।
قال مالك عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن النجش
রেওয়ায়ত ৯৯. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাহাকে ধোঁকা দেওয়া হইয়া থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, তুমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বলিয়া দিবে, যেন ধোঁকা দেওয়া না হয়। অবশেষে যখন ঐ ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করিত তখন বাক্যটি বলিত।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان رجلا، ذكر لرسول الله صلى الله عليه وسلم انه يخدع في البيوع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا بايعت فقل لا خلابة " . قال فكان الرجل اذا بايع يقول لا خلابة
রেওয়ায়ত ১০০. ইয়াইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলিতেন, যখন তুমি এইরূপ কোন শহরে যাইবে যেখানকার অধিবাসিগণ পূর্ণরূপে ওজন করে তবে তথায় অনেক দিন থাকিও। আর যখন এইরূপ শহরে যাইবে যেখানকার অধিবাসিগণ ওজনে ক্রটি করে, তবে সেখানে অনেক দিন থাকিও না।
وحدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع سعيد بن المسيب، يقول اذا جيت ارضا يوفون المكيال والميزان فاطل المقام بها واذا جيت ارضا ينقصون المكيال والميزان فاقلل المقام بها
রেওয়ায়ত ১০১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আল্লাহ্ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে ভালবাসেন, যে ক্রয় করিতে, বিক্রয় করিতে, ঋণ আদায় করিতে, ঋণ উশুল করিতে নরম ব্যবহার করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির উট, বকরী, কাপড়, গোলাম, দাসী ইত্যাদি গণনা না করিয়া এক দলকে একত্রে খরিদ করিয়া লওয়া ভাল নয়, যে বস্তু গণনা করিয়া বিক্রি হয় উহা গণনা করিয়া খরিদ করা ভাল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও নিজের কোন বস্তু নির্ধারিত মূল্যে এই শর্তে বিক্রয় করিতে দেয় যে, যদি তুমি এই মূল্যে বিক্রয় কর তবে তোমাকে এক দীনার অথবা অন্য কিছু দেওয়া হইবে যাহা নির্দিষ্ট করা হইয়াছে এবং উভয়ে উহাতে সম্মত হইয়াছে তাহা না হইলে কিছুই পাইবে না। তবে ইহাতে কোন ক্ষতি নাই, যদি বিক্রয় মূল্য ও বিক্রয়ের পরের প্রাপ্য নির্ধারিত হইয়া থাকে। বিক্রয় করিলে উহা পাইবে, না করিলে পাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উদাহরণ এই যে, কোন ব্যক্তি কাহাকেও বলিল, যদি তুমি আমার যে গোলাম বা উট পলাইয়া গিয়াছে উহাকে তালাশ করিয়া আনিয়া দাও তবে তোমাকে এত দিব, তবে ইহা বৈধ। কারণ ইহাতে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করিয়া কাজে নিযুক্ত করা হইয়াছে। ইহা ইজারা নহে, যদি ইজারা হইত তবে ইহা বৈধ হইত না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ এক ব্যক্তিকে কিছু মাল দিয়া বলিল, ইহা বিক্রয় করিলে প্রতি দীনারে তোমাকে এত দিব; কত দিব তাহা উল্লেখ করিল। ইহাও বৈধ নহে। কেননা উক্ত পণ্যের দাম কম হইলেই তাহার নির্ধারিত পারিশ্রমিক কমিয়া যাইবে। ইহাও এক প্রকার ধোঁকা, জানে না সে কত পাইবে।
وحدثني مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع محمد بن المنكدر، يقول احب الله عبدا سمحا ان باع سمحا ان ابتاع سمحا ان قضى سمحا ان اقتضى . قال مالك في الرجل يشتري الابل او الغنم او البز او الرقيق او شييا من العروض جزافا انه لا يكون الجزاف في شىء مما يعد عدا . قال مالك في الرجل يعطي الرجل السلعة يبيعها له وقد قومها صاحبها قيمة فقال ان بعتها بهذا الثمن الذي امرتك به فلك دينار - او شىء يسميه له يتراضيان عليه - وان لم تبعها فليس لك شىء انه لا باس بذلك اذا سمى ثمنا يبيعها به وسمى اجرا معلوما اذا باع اخذه وان لم يبع فلا شىء له . قال مالك ومثل ذلك ان يقول الرجل للرجل ان قدرت على غلامي الابق او جيت بجملي الشارد فلك كذا . فهذا من باب الجعل وليس من باب الاجارة ولو كان من باب الاجارة لم يصلح . قال مالك فاما الرجل يعطى السلعة فيقال له بعها ولك كذا وكذا في كل دينار . لشىء يسميه فان ذلك لا يصلح لانه كلما نقص دينار من ثمن السلعة نقص من حقه الذي سمى له فهذا غرر لا يدري كم جعل له
রেওয়ায়ত ১০২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহাকে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, যে একটি জন্তু ভাড়ায় লইয়া উহা আবার অধিক ভাড়ায় অন্যকে দিয়া দেয়। তিনি বলিলেন, উহাতে কোন ক্ষতি নাই।
وحدثني مالك، عن ابن شهاب، انه ساله عن الرجل، يتكارى الدابة ثم يكريها باكثر مما تكاراها به فقال لا باس بذلك