Loading...

Loading...
বইসমূহ
৯৬ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ২০. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, খর্জুরের বিনিময়ে খর্জুর বিক্রয় করিলে সমান সমান (হইতে হইবে)। তাহার নিকট আরজ করা হইল, খায়বরে নিযুক্ত আপনার আমিল (কার্য সম্পাদক বা কালেকটর) দুই সা’-এর বিনিময়ে এক সা’ গ্রহণ করিয়া থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইহা শুনিয়া) বলিলেন, তাহাকে আমার কাছে ডাকিয়া আন। তাহারা ডাকিয়া আনিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি কি দুই সা’-এর বিনিময়ে এক সা’ গ্রহণ কর? উত্তরে তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহারা নিকৃষ্ট খেজুরের বিনিময়ে বিশুদ্ধ খেজুর আমার নিকট এক সা’র বিনিময়ে এক সা’ বিক্রয় করে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা শুনিয়া বলিলেন, অপ্রকৃষ্ট বা মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় কর, অতঃপর দিরহামের বিনিময়ে বিশুদ্ধ খেজুর ক্রয় করিয়া লও।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " التمر بالتمر مثلا بمثل " . فقيل له ان عاملك على خيبر ياخذ الصاع بالصاعين . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ادعوه لي " . فدعي له فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتاخذ الصاع بالصاعين " . فقال يا رسول الله لا يبيعونني الجنيب بالجمع صاعا بصاع . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " بع الجمع بالدراهم ثم ابتع بالدراهم جنيبا
রেওয়ায়ত ২১. আবু সায়ীদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে খায়বরে আমিল (কার্য সম্পাদক বা প্রশাসক) নিযুক্ত করিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে বিশুদ্ধ খেজুর উপস্থিত করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, খায়বরের সকল খেজুর এইরূপ হয় কি? তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, সকল খেজুর এইরূপ নহে। আমরা এই খেজুরের এক সা' দুই সা’ এর বিনিময়ে এবং দুই সা’ তিন সা’ এর বিনিময়ে গ্রহণ করি। (ইহা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, এইরূপ করিও না; অপ্রকৃষ্ট খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করিয়া দাও, অতঃপর দিরহাম দ্বারা উৎকৃষ্ট খেজুর ক্রয় করিয়া লও।
وحدثني عن مالك، عن عبد الحميد بن سهيل بن عبد الرحمن بن عوف، عن سعيد بن المسيب، عن ابي سعيد الخدري، وعن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلا على خيبر فجاءه بتمر جنيب فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " اكل تمر خيبر هكذا " . فقال لا والله يا رسول الله انا لناخذ الصاع من هذا بالصاعين والصاعين بالثلاثة . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تفعل بع الجمع بالدراهم ثم ابتع بالدراهم جنيبا
রেওয়ায়ত ২২. যায়দ আবু আয়্যাশ (রহঃ) সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) এর নিকট প্রশ্ন করিলেন বেশি পেষা হয় নাই এমন যব (مسلمت)[1] এর বিনিময়ে সাদা বর্ণের যব বিক্রয় করা প্রসঙ্গে। সা'দ তাহার নিকট হইতে জানিতে চাহিলেন, উভয়ের মধ্যে কোনটি উত্তম? তিনি বলিলেন-সাদা যব উত্তম, সা’দ তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন। তিনি বলিলেন-খুর্মার বিনিময়ে খেজুর বিক্রয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রশ্ন করা হইয়াছিল। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিলেন, খুর্মা শুকাইলে কমে কি না? তাহারা বলিলেন-হ্যাঁ (কমে)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এইরূপ করিতে বারণ করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن يزيد، ان زيدا ابا عياش، اخبره انه، سال سعد بن ابي وقاص عن البيضاء، بالسلت فقال له سعد ايتهما افضل قال البيضاء . فنهاه عن ذلك . وقال سعد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسال عن اشتراء التمر بالرطب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اينقص الرطب اذا يبس " . فقالوا نعم . فنهى عن ذلك
রেওয়ায়ত ২৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন মুযাবানা হইতে। মুযাবানা হইতেছে তাজা খেজুর (যাহা বৃক্ষে ঝুলন্ত রহিয়াছে)-কে অনুমান করিয়া সুপক্ক খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা। এবং তাজা আঙ্গুর ফলকে (লতাতে ঝুলন্তাবস্থায়) আন্দাজ করিয়া শুষ্ক আঙ্গুর-এর বিনিময়ে বিক্রয় করা।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن المزابنة والمزابنة بيع الثمر بالتمر كيلا وبيع الكرم بالزبيب كيلا
রেওয়ায়ত ২৪. আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন মুযাবানা এবং মুহাকালা হইতে। মুযাবানা হইতেছে সুপক্ক খুমরার বিনিময়ে তাজা খেজুরকে আন্দাজ করিয়া ক্রয় করা যাহা বৃক্ষচুড়ায় (ঝুলন্ত) রহিয়াছে। আর মুহাকালা হইতেছে গমের বিনিময়ে ভূমি কেরায়াতে (ভাড়া) দেওয়া।
وحدثني عن مالك، عن داود بن الحصين، عن ابي سفيان، مولى ابن ابي احمد عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن المزابنة والمحاقلة والمزابنة اشتراء الثمر بالتمر في رءوس النخل والمحاقلة كراء الارض بالحنطة
রেওয়ায়ত ২৫. সায়ীদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ও মুহাকালা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। মুযাবানা হইতেছে সুপক্ক খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর ক্রয় করা। আর মুহাকালা হইতেছে গমের বিনিময়ে ক্ষেত ক্রয় করা। এবং গমের বিনিময়ে শস্যক্ষেত্র কেরায়া (ভাগ) লওয়া। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি সায়ীদ ইবন মুসায়্যাবের নিকট প্রশ্ন করিলাম স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে ভূমি কেরায়া (ভাগ) গ্রহণ করা সম্পর্কে। তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ ইহাতে কোন ক্ষতি নাই (অর্থাৎ জায়েয আছে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানাকে নিষেধ করিয়াছেন। আর মুযাবানার তফসীর হইতেছে এই অনুমানের যে কোন বস্তু যাহার পরিমাণ, ওজন ও সংখ্যা অজ্ঞাত, উহাকে ক্রয় করা হইয়াছে পরিমাণ, ওজন ও সংখ্যা দ্বারা সুনির্দিষ্ট বস্তুর বিনিময়ে। যেমন এক ব্যক্তির গাদা করা খাদ্যদ্রব্য রহিয়াছে; গম, খুর্মা অথবা ইহার সদৃশ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য যেগুলির পরিমাণ অজ্ঞাত কিংবা এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে আসবাব-বৃক্ষপত্র ও ঘাস গুটলী (ফলের আঁটি) ডাল-পালা, কুমকুম, তুলা, কাতান বস্ত্র, কাঁচা রেশম, কিংবা ইহাদের সদৃশ অন্য কোন সামগ্ৰী যেসবের কোন কিছুরই পরিমাণ, ওজন ও সংখ্যা জ্ঞাত নহে, (উপরিউক্ত) খাদ্যদ্রব্য কিংবা আসবাবের মালিককে এক ব্যক্তি বলিল, আপনি কোন ব্যক্তিকে আপনার আসবাব পরিমাণ করার নির্দেশ দিন। কিংবা যাহা ওজন করার যোগ্য উহাকে ওজন করুন, অথবা যাহা গণনা করার উপযোগী উহাকে গণনা করুন। এত এত সা' হইতে যাহা নির্ধারিত করা হয় উহা হইতে যাহা কম হইবে, কিংবা এত এত রতল (অর্ধসের) ওজন হইতে যাহা ঘাটিয়া যাইবে অথবা এত এত সংখ্যা হইতে যত কম হইবে উহার ক্ষতিপূরণ আমি করিব সেই পরিমাণ বা ওজন, কিংবা সংখ্যা যাহা নির্ধারিত হইয়াছে তাহার। সেই পরিমাণ, ওজন কিংবা সংখ্যা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আমার দায়িত্ব থাকিবে। আর নির্ধারিত পরিমাণ, ওজন কিংবা সংখ্যা হইতে যাহা বাড়তি হইবে উহা হইবে আমার প্রাপ্য। যে পরিমাণ কম হইবে সে পরিমাণের ক্ষতিপূরণের আমি জিম্মাদার থাকিব এই শর্তে যে, যাহা বাড়তি হইবে তাহা আমার প্রাপ্য হইবে। ইহা কোন বিক্রয় নহে। বরং ইহাতে রহিয়াছে ঝুঁকি ও প্রতারণা আর জুয়াও ইহার অন্তর্ভুক্ত। মুযাবানার মতো ইহাও নিষিদ্ধ। কারণ নিজ হইতে কোন মূল্য প্রদান করিয়া কোন বস্তু বিক্রেতা হইতে ক্রয় করা হয় নাই। কিন্তু সে আসবাবের মালিকের জন্য জামিন হইয়াছে। যে পরিমাণ, ওজন এবং সংখ্যা সে নির্ধারণ করিয়াছে তাহা হইতে বাড়তি হইলে উহা সে পাইবে, আর নির্ধারিত পরিমাণ হইতে সামান্য ঘাটতি হইলে তবে ঘাটতি পূরণার্থে জামিনদারের মাল হইতে ঘাটতি পরিমাণ মাল গ্রহণ করিবে। অথচ ইহা মূল্যও নহে এমন দানও নহে যাহা হৃষ্টচিত্তে দান করা হইয়াছে। তাই ইহা জুয়া তুল্য, যেকোন (ক্রয়-বিক্রয় আদান-প্রদান) এইরূপ হইবে, উহা জুয়ার মতো হইবে (এবং মুযাবানার মতো নিষিদ্ধ হইবে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুযাবানার অন্তর্গত ইহাও — যেই ব্যক্তির নিকট কাপড় আছে তাহাকে আর এক ব্যক্তি বলিলঃ আপনার এই কাপড় হইতে এত এত (ধরা যাক একশত কিংবা দুইশত) জামার বেষ্টনী ও টুপী তৈরির দায়িত্ব নিতেছে। প্রতিটি বেষ্টনীর পরিমাণ এত এত হইবে যাহা নির্দিষ্ট রূপে উল্লেখ করিল। এই সংখ্যা হইতে যাহা কম হইবে তাহার জরিমানা আমার জিম্মায়। আমি উহা আপনাকে পূর্ণ করিয়া দিব, আর যাহা বাড়তি হইবে উহা হইবে আমার। কিংবা এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলিল, আপনার এই কাপড় হইতে এত এত কামিজ তৈরির ব্যাপারে আমি জামিন আছি, প্রতিটি কামিজের আয়তন এত এত হইবে, উহা হইতে যতটুকু কমতি হইবে উহার জরিমানা আমার উপর। আর যাহা বাড়তি হইবে তাহা আমার প্রাপ্য হইবে। কিংবা যাহার কাছে গরু অথবা উটের চামড়া রহিয়াছে তাহাকে কেহ বলিল, আমি আপনার এইসব চামড়া হইতে এই পরিমাণের যাহা দেখান হইয়াছে জুতা তৈয়ার করিব। একশত জোড়ার কম যাহা হইবে তাহার ক্ষতিপূরণ আমি করিব। এই ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব গ্রহণের বিনিময়ে যাহা বাড়তি হইবে উহা আমার হইবে। অনুরূপ এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে হাববুল-বানা [حب البنان এক প্রকারের গাছ যাহার পাতা নিম গাছের পাতার মতো উহার ফলের বীজ দ্বারা তৈল প্রস্তুত করা হয়।] তাহাকে আর এক ব্যক্তি বলিল, আপনার এই বীজ আমি নিঙড়াইয়া [তৈল বাহির করিয়া] দিব। এত এত রাতল [رطل অর্ধসের ওজনের একটি পরিমাপ পাত্র] পরিমাণ হইতে যাহা কমতি হইবে উহার ক্ষতিপূরণ আমি আপনাকে আদায় করিব। আর যাহা অতিরিক্ত হইবে তাহা আমার প্রাপ্য হইবে। এই সব (যাহা উল্লেখ হইয়াছে) এবং উহার সদৃশ বস্তুসমূহ কিংবা যাহা এই সবের মতন হয় সব মুযাবানার অন্তর্ভুক্ত এবং তাহা অবৈধ। অনুরূপ এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে ঘাস-পাতা, ফলের আঁটি, তুলা, কাতান বস্ত্র, ডাল পালা, কুমকুম ইত্যাদি। অন্য এক ব্যক্তি সেই ব্যক্তিকে বলিল, আমি আপনার নিকট এই ঘাসপাতা এত এত সা' অনুরূপ ঘাসের বিনিময়ে ক্রয় করিলাম, কিংবা এই ফলের আটিগুলি এত এত সা' অনুরূপ ফলের আঁটির বিনিময়ে ক্রয় করিলাম। এইরূপভাবে কুমকুম, তুলা, কাতান এবং ডাল-পালার ব্যাপারেও বলা হইল। এই সবই আমাদের (সাবেক) বর্ণিত মুযাবানার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
রেওয়ায়ত ২৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় সাদকে গনীমতের স্বর্ণ কিংবা রৌপ্যের বাসন[1] বিক্রয় করার নির্দেশ দিলেন। তাহারা উভয়ে তিনটি বাসন চার দীনারের বিনিময়ে অথবা রাবী বলিয়াছেন প্রতি চারিটি বাসন তিন দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করিলেন, তোমরা সুদের ব্যবসা করিয়াছ। তাই তোমরা ইহা ফিরাইয়া দাও।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال امر رسول الله صلى الله عليه وسلم السعدين ان يبيعا انية من المغانم من ذهب او فضة فباعا كل ثلاثة باربعة عينا او كل اربعة بثلاثة عينا فقال لهما رسول الله صلى الله عليه وسلم " اربيتما فردا
রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন-দীনারের বিনিময়ে দীনার, দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম, এতদুভয়ের মধ্যে বাড়তি ক্রয়-বিক্রয় চলিবে না।
وحدثني عن مالك، عن موسى بن ابي تميم، عن ابي الحباب، سعيد بن يسار عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الدينار بالدينار والدرهم بالدرهم لا فضل بينهما
রেওয়ায়ত ৩০. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, স্বর্ণকে স্বর্ণের বিনিময়ে সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না এবং স্বর্ণের এক অংশকে অন্য অংশের বিনিময়ে বাড়তি বিক্রয় করিও না। (অনুরূপ) চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না এবং উহার এক অংশকে অপর অংশের বিনিময়ে বাড়তি বিক্রি করিও না, আর উহা হইতে নগদের বিনিময়ে বাকী বিক্রয় করিও না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن ابي سعيد الخدري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تبيعوا الذهب بالذهب الا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا الورق بالورق الا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا منها شييا غايبا بناجز
রেওয়ায়ত ৩১. মুজাহিদ (রহঃ) বলেনঃ আমি (একবার) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। একজন স্বর্ণকার তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল-হে আবু আবদির রহমান। আমি স্বর্ণে কারুকার্যের কাজ করি, অতঃপর উহার ওজনের চাইতে অধিক ওজনে বিক্রয় করি; ইহাতে আমি শ্রম অনুযায়ী বাড়তি গ্রহণ করিতে পারি কি? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে নিষেধ করিলেন। স্বর্ণকার এই মাসআলা তাহার নিকট বারবার পেশ করিতেছিল আর আবদুল্লাহ (রাঃ) তাহাকে নিষেধ করিতেছিলেন । এইভাবে মসজিদের দ্বারপ্রান্তে কিংবা যে সওয়ারীতে আরোহণ করিলেন উহার কাছে উপনীত হইলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন-দীনার দীনারের বিনিময়ে এবং দিরহাম দিরহামের বিনিময়ে, এতদুভয়ের মধ্যে বাড়তি (ক্রয়-বিক্রয়) বৈধ নহে। ইহা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীয়ত আমাদের প্রতি এবং আমাদের ওসীয়তও (ইহাই) তোমাদের প্রতি।
وحدثني عن مالك، عن حميد بن قيس المكي، عن مجاهد، انه قال كنت مع عبد الله بن عمر فجاءه صايغ فقال له يا ابا عبد الرحمن اني اصوغ الذهب ثم ابيع الشىء من ذلك باكثر من وزنه فاستفضل من ذلك قدر عمل يدي . فنهاه عبد الله عن ذلك فجعل الصايغ يردد عليه المسالة وعبد الله ينهاه حتى انتهى الى باب المسجد او الى دابة يريد ان يركبها ثم قال عبد الله بن عمر الدينار بالدينار والدرهم بالدرهم لا فضل بينهما هذا عهد نبينا الينا وعهدنا اليكم
রেওয়ায়ত ৩২. উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেন, তোমরা এক দীনারকে দুই দীনারের বিনিময়ে এবং এক দিরহামকে দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করিও না।
وحدثني عن مالك، انه بلغه عن جده، مالك بن ابي عامر ان عثمان بن عفان، قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تبيعوا الدينار بالدينارين ولا الدرهم بالدرهمين
রেওয়ায়ত ৩৩. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মু'আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান (রাঃ) স্বর্ণ কিংবা চাঁদির একটি পানপাত্র (সিকায়া) ক্রয় করিয়াছিলেন উহার চাইতে অধিক ওজনের (স্বর্ণ বা চাঁদির) বিনিময়ে। আবুদ্দারদা (রাঃ) তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এইরূপ (কার্য) হইতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি। কিন্তু যদি সমান সমান হয় (তবে উহা বৈধ হইবে) মু'আবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি এইরূপ কার্যে কোন দোষ মনে করি না, আবুদ্দারদা (রাঃ) বলিলেন, (মু'আবিয়ার ব্যাপারে) আমাকে কে মদদ করিবে? আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে হাদীসের সংবাদ দিতেছি আর তিনি আমার কাছে তাহার মত বর্ণনা করিতেছেন। (হে মু'আবিয়া) তুমি যেই স্থানে বসবাস কর, সেই স্থানে আমি তোমার সহিত বসবাস করিব না। তারপর আবুদ্দারদা (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আগমন করিলেন এবং তাহার নিকট ঘটনা বর্ণনা করিলেন। অতঃপর উমর (রাঃ) মু'আবিয়ার নিকট লিখিলেন-এইরূপ বিক্রয় করিবেন না, কিন্তু যদি সমান সমান এবং একই পরিমাণের হয় (তবে বিক্রয় করা বৈধ হইবে)।
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، ان معاوية بن ابي سفيان، باع سقاية من ذهب او ورق باكثر من وزنها فقال ابو الدرداء سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن مثل هذا الا مثلا بمثل . فقال له معاوية ما ارى بمثل هذا باسا . فقال ابو الدرداء من يعذرني من معاوية انا اخبره عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويخبرني عن رايه لا اساكنك بارض انت بها . ثم قدم ابو الدرداء على عمر بن الخطاب فذكر ذلك له فكتب عمر بن الخطاب الى معاوية ان لا تبيع ذلك الا مثلا بمثل وزنا بوزن
রেওয়ায়ত ৩৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। এবং একটিকে অপরটির উপর বৃদ্ধি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। উহার এক অংশকে অপর অংশের উপর বাড়তি করিয়া বিক্রয় করিও না আর স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করিও না, যে দুইটির একটি অনুপস্থিত, আর অপরটি বর্তমানে মওজুদ রহিয়াছে। (কব্জা করার পূর্বে) যদি মহাজন তার গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্তের জন্য সময় চাহে তবে সেই সময়ও তাহাকে দিও না। আমি তোমাদের বেলায় ‘রামা’ এর আশঙ্কা করি। ‘রামা’ হইতেছে সুদ।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان عمر بن الخطاب، قال لا تبيعوا الذهب بالذهب الا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا الورق بالورق الا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا الورق بالذهب احدهما غايب والاخر ناجز وان استنظرك الى ان يلج بيته فلا تنظره اني اخاف عليكم الرماء والرماء هو الربا
রেওয়ায়ত ৩৫. আবদুল্লাহ ইবন দিনার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন-স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না, এবং একটিকে অপরটির উপর বৃদ্ধি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। উহার এক অংশকে অপর অংশের উপর বাড়তি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করিও না, যে দুইটির একটি অনুপস্থিত, আর অপরটি বর্তমানে মওজুদ রহিয়াছে। (কব্জা করার পূর্বে) যদি মহাজন তার গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্তের জন্য সময় চাহে তবে সেই সময়ও তাহাকে দিও না। আমি তোমাদের বেলায় রামা-এর আশঙ্কা করি। রামা’ হইতেছে সুদ।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، ان عمر بن الخطاب، قال لا تبيعوا الذهب بالذهب الا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا الورق بالورق الا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض ولا تبيعوا شييا منها غايبا بناجز . وان استنظرك الى ان يلج بيته فلا تنظره اني اخاف عليكم الرماء والرماء هو الربا
রেওয়ায়ত ৩৬. উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন-(ক্রয়-বিক্রয় হইবে) দীনার দীনারের বিনিময়ে, দিরহাম দিরহামের বিনিময়ে, সা’ সার বিনিময়ে আর নগদকে ধারের বিনিময়ে বিক্রয় করা যাইবে না।
وحدثني عن مالك، انه بلغه عن القاسم بن محمد، انه قال قال عمر بن الخطاب الدينار بالدينار والدرهم بالدرهم والصاع بالصاع ولا يباع كالي بناجز
রেওয়ায়ত ৩৭. আবুয যিনাদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, সুদ হয় কেবলমাত্র স্বর্ণে, চাঁদিতে অথবা যেইসব দ্রব্য ওজন করা হয় কিংবা ওজন করা হয় পানীয় বা খাদ্যদ্রব্য হইতে সেইসব দ্রব্যে।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، انه سمع سعيد بن المسيب، يقول لا ربا الا في ذهب او فضة او ما يكال او يوزن بما يوكل او يشرب
রেওয়ায়ত ৩৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন স্বর্ণ এবং চাঁদিকে কর্তন করা ধরাপৃষ্ঠে ফাসাদ দৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, যদি ঢালাইবিহীন স্বর্ণ বা তৈরি গহনা হয়। অবশ্য গণনাযোগ্য দিরহাম বা দীনার হইলে সেইসবকে অনুমান করিয়া ক্রয় করা কাহারো পক্ষে বৈধ নহে। যাবত উহার সংখ্যা জানা না যায় এবং উহাকে গণনা করা না হয়। উহাকে অনুমান করিয়া ক্রয় করিলে, উহার লক্ষ্য হইবে প্রতারণা যখন গণনা করা হইল না এবং অনুমান করিয়া ক্রয় করা হইল। ইহা মুসলিমদের ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত নহে। আর ঢালাইবিহীন স্বর্ণ বা চাঁদি এবং (তৈরি) গহনা যেসব ওজনে বিক্রয় হয় সেই সবকে অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। এইসবকে অনুমানে বিক্রয় করা এইরূপ যেমন গম, খুর্মা এবং উহাদের মতো অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য যাহাকে কেহ অনুমান করিয়া বিক্রয় করে যদি উহা ওজন করিয়া বিক্রয় করার মতো দ্রব্য হয়। তাই এইরূপ দ্রব্য অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণখচিত কুরআন অথবা তলোয়ার অথবা অঙ্গুরীয়কে দীনার, দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছে। স্বর্ণখচিত যে বস্তু দীনারের বিনিময়ে ক্রয় করিল সে বস্তুর মূল্যের প্রতি লক্ষ্য করিতে হইবে; যদি উক্ত বস্তুর মূল্য দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) হয় এবং উহাতে লাগানো স্বর্ণের মূল্য হয় এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) তবে উহা বৈধ হইবে। ইহাতে কোন দোষ নাই যদি নগদ আদান-প্রদান হয়। আমাদের শহরের লোকের মধ্যে এই নিয়মই প্রচলিত রহিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع سعيد بن المسيب، يقول قطع الذهب والورق من الفساد في الارض . قال مالك ولا باس ان يشتري الرجل الذهب بالفضة والفضة بالذهب جزافا اذا كان تبرا او حليا قد صيغ فاما الدراهم المعدودة والدنانير المعدودة فلا ينبغي لاحد ان يشتري ذلك جزافا حتى يعلم ويعد فان اشتري ذلك جزافا فانما يراد به الغرر حين يترك عده ويشترى جزافا وليس هذا من بيوع المسلمين فاما ما كان يوزن من التبر والحلى فلا باس ان يباع ذلك جزافا وانما ابتياع ذلك جزافا كهيية الحنطة والتمر ونحوهما من الاطعمة التي تباع جزافا ومثلها يكال فليس بابتياع ذلك جزافا باس . قال مالك من اشترى مصحفا او سيفا او خاتما وفي شىء من ذلك ذهب او فضة بدنانير او دراهم فان ما اشتري من ذلك وفيه الذهب بدنانير فانه ينظر الى قيمته فان كانت قيمة ذلك الثلثين وقيمة ما فيه من الذهب الثلث فذلك جايز لا باس به اذا كان ذلك يدا بيد ولا يكون فيه تاخير وما اشتري من ذلك بالورق مما فيه الورق نظر الى قيمته فان كان قيمة ذلك الثلثين وقيمة ما فيه من الورق الثلث فذلك جايز لا باس به اذا كان ذلك يدا بيد ولم يزل ذلك من امر الناس عندنا
রেওয়ায়ত ৩৯. মালিক ইবন আওস ইন হাদাসান নাসরী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি একশত দীনারের পরিবর্তে দিরহাম সন্ধান করিলেন। তিনি বলেনঃ (ইহা শুনিয়া) তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাকিলেন। আমরা উভয়ে এই বিষয়ে পরস্পর কথাবার্তা বলিলাম, (এমনকি) তিনি আমার নিকট হইতে দীনার গ্রহণ করিলেন, উহার পরিবর্তে দিরহাম দেওয়ার জন্য এবং দীনার হাতে লইয়া উহাকে উলট-পালট করিতে লাগিলেন। অতঃপর বলিলেন-(অপেক্ষা করুন) আমার খাজাঞ্চী গারাঃ হইতে আসুক। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিতেছিলেন, তিনি বলিলেন, না, (এইরূপ করিও না) আল্লাহর কসম! তুমি তাহা [তালহা (রহঃ)] হইতে পৃথক হইও না যাবত তাহার নিকট হইতে দিরহাম গ্রহণ না কর। তারপর বলিলেন— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ (গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত) অবশ্য যদি উভয়ে নগদ আদান-প্রদান করে। গমের বিনিময়ে গম (ক্রয়-বিক্রয় সুদের অন্তর্ভুক্ত হইবে) কিন্তু যদি নগদ আদান-প্রদান করে। খুর্মার পরিবর্তে খুর্মা (ক্রয়-বিক্রয় সুদ হইবে) অবশ্য যদি নগদ আদান-প্রদান করে। যবের বিনিময়ে যব (ক্রয়-বিক্রয় সুদে গণ্য হইবে), কিন্তু নগদ আদান-প্রদান করে। লবণের বিনিময়ে লবণ (ক্রয়-বিক্রয় সুদ হইবে)। অবশ্য যদি উতয়ে নগদ আদান-প্রদান করে (তবে বৈধ হইবে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি দীনারকে বদলাইল দিরহাম দ্বারা, অতঃপর সে উহাকে একটি খোটা (দোষযুক্ত) দিরহাম পাইল, যখন সেই দিরহাম ফেরত দিল তখন দীনারের বদলানোর ব্যাপারটি ভঙ্গ হইয়া গেল। (এখন তাহার কর্তব্য হইল) সে চাঁদি ফেরত দিবে (চাঁদির মালিককে) এবং তাহার নিকট হইতে নিজের দীনার ফেরত গ্রহণ করিবে। ইহার ব্যাখ্যা হইতেছে এই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ (গ্রহণ করা) সুদ হইবে, অবশ্য (বৈধ হইবে) যদি নগদ আদান-প্রদান করে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি (অপর পক্ষ) গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্ত তোমার নিকট সময় চায়, তবে তুমি তাহাকে সময় দিও না। বদলানো দিরহাম হইতে দিরহামওয়ালার নিকট হইতে আলাদা হওয়ার পর এক দিরহামও যদি রদ করা হয় তবে ইহা ঋণ বা পরবর্তী বস্তুর মতো হইবে। এই জন্যই ইহা অবৈধ হইয়াছে এবং বিনিময়ে ব্যবসা ভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইচ্ছা করিয়াছেন যে, স্বর্ণ, চাঁদি ও খাদ্যশস্য এইসবের মধ্যে ধারের বিনিময়ে নগদ যেন বিক্রয় করা না হয়। কারণ এইসবের মধ্যে বিলম্ব ও সময় দান বৈধ নহে; এক জাতের বস্তু হউক কিংবা বিভিন্ন জাতের বস্তু হউক।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن مالك بن اوس بن الحدثان النصري، انه التمس صرفا بماية دينار قال فدعاني طلحة بن عبيد الله فتراوضنا حتى اصطرف مني واخذ الذهب يقلبها في يده ثم قال حتى ياتيني خازني من الغابة . وعمر بن الخطاب يسمع . فقال عمر والله لا تفارقه حتى تاخذ منه - ثم قال - قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الذهب بالورق ربا الا هاء وهاء والبر بالبر ربا الا هاء وهاء والتمر بالتمر ربا الا هاء وهاء والشعير بالشعير ربا الا هاء وهاء
রেওয়ায়ত ৪০. ইয়াযিদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন কুসাইত (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের মুরাতালা করিতে দেখিয়াছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লার এক হাতে স্বর্ণ ঢালিতেন, তাহার সহিত মুরাতালাকারী অপর পক্ষ তাহার স্বর্ণ ঢালিতেন পাল্লার অপর হাতে। পাল্লার কাটা বরাবর হইলে (পাল্লার এক হাত হইতে) তিনি গ্রহণ করিতেন এবং (অপর হাত হইতে) সাথীকে দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, ওজন করিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদিও বা নগদ দশ দীনারের বিনিময়ে এগার দীনার গ্রহণ করা হয়। উভয় স্বর্ণের ওজন সমপরিমাণ হইলে। মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা (ওজন করিয়া বিক্রয় করা বৈধ) সংখ্যায় যদিও বাড়তি হয়। এই ব্যাপারে দিরহামও দীনারের মতো। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের মুরাতালা করিয়াছে কিংবা চাঁদির বিনিময়ে চাঁদির মুরাতালা করিয়াছে, উভয় স্বর্ণের মধ্যে একটিতে এক মিসকাল (স্বর্ণ) বাড়তি রহিয়াছে, অতঃপর তাহার সাথী (যাহার অংশের স্বর্ণ ওজনে কম) চাঁদি অথবা অন্য বস্তুর দ্বারা উহার মূল্য আদায় করিল। তবে সে (বর্ধিত স্বর্ণের মালিক) এই মূল্য কবুল করিবে না। কারণ ইহা ভাল নহে এবং ইহা সুদের উসীলা মাত্র। কারণ (অতিরিক্ত) এক মিসকাল যদি উহার মূল্য আদায় করিয়া গ্রহণ করা তাহার জন্য জায়েয হয়, তবে সে যেন এই এক মিসকাল স্বর্ণ পৃথকভাবে (নূতন) খরিদ করিল। এইরূপে এক মিসকালকে উহার মূল্য আদায় করিয়া কয়েকবার গ্রহণ করা হইল। এইভাবে সেও তাহার সার্থীর মধ্যে বিক্রয়কে জায়েয করার জন্য (ইহা করা হইল)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি সেই ব্যক্তি যে বর্ধিত এক মিসকাল বিক্রয় করিল সেই মিসকাল বিক্রয় করে পৃথকভাবে, যার সহিত অন্য কিছু না থাকে তাহা হইলে (ক্রেতা) বিক্রয়কে হালাল করিবার উদ্দেশ্যে যেই মূল্যে সে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্য ব্যতীত অন্য কোন মূল্যে সে উহা ক্রয় করিবে না, ইহা হইতেছে হারামকে হালাল করার একটি পন্থা বটে। আর ইহা নিষিদ্ধ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির সহিত মুরাতালা করিতেছে এবং উহাকে খাঁটি ও উন্নতমানের স্বর্ণ দিতেছে, তৎসঙ্গে দিতেছে কতকটা কৃত্রিম সোনা। ইহার বদলে তাহার সাথী হইতে সে লইতেছে কুফী মাধ্যমিক মানের সোনা। যে কুকী-স্বর্ণ লোকের নিকট অপছন্দীয়। এবং তাহারা উভয়ে উহা বেচা-কেনা করিতেছে সমান সমান ওজনে। এইরূপ বেচা-কেনা জায়েয হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা মাকরুহ হওয়ার বিশ্লেষণ এই, বিশুদ্ধ স্বর্ণওয়ালা তাহার বিশুদ্ধ স্বর্ণের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করিয়াছে যে কতকটা নিম্নমানের স্বর্ণ উহার সহিত মিশ্রিত করিয়াছে তাহাতে। তাহার সাথী (কুফী স্বর্ণ ওয়ালা)-র স্বর্ণের তুলনায় তাহার স্বর্ণের মান উচ্চ না হইত, তবে তাহার সাথী কুফী-স্বর্ণের বিনিময়ে তাহার নিম্নমানের স্বর্ণের সহিত মুরাতালা করিত না। ইহার দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যেই ব্যক্তি তিন সা’ আজওয়াহ্ খুর্মা ক্রয় করার ইচ্ছা করিল দুই সা’ এবং দুই মুদ কাবীস খুর্মার বিনিময়ে। তাহাকে যখন বলা হইল, ইহা জায়েয নহে। তখন বিক্রয় বৈধ করার জন্য দুই সা’ কাবীস খুর্মার সাথে এক সা’ নিকৃষ্ট খুর্মা মিলাইয়া দিল। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ আজওয়া খুর্মাওয়ালা এক সা’ নিকৃষ্ট খুর্মার বিনিময়ে এক সা’ আজওয়া খুর্মা দিতে রাজী হইবে না। তবুও তিনি (এইখানে) কাবীসের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রদান করিলেন। কিংবা ইহার (দৃষ্টান্ত) এই যে, একজন লোক আর একজন লোককে বলিল, আপনি আমার নিকট তিন সা’ গম বিক্রয় করুন আড়াই সা’ শামী গমের বিনিময়ে। সে লোক বলিল, ইহা বৈধ নহে। কিন্তু (বৈধ হইবে) যদি (ওজনে) সমান সমান হয়। তখন দুই সা’ শামী (সিরীয়) গমের সাথে এক সা’ যব মিলান হইল। উদ্দেশ্য ইহার দ্বারা উভয়ের মধ্যকার বিক্রয় বৈধ করা। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ এক সা’ যবের বিনিময়ে এক সা’ গম সে উহাকে কখনো দিবে না, যদি পৃথকভাবে এক সা বিক্রয় করা হয়। (এইখানে) সে এইজন্য দিয়াছে যে, তাহা সাধারণ গমের তুলনায় শামী গম শ্রেষ্ঠ। ইহা বৈধ নহে। নিম্নমানের স্বর্ণের বেলায় আমরা যেইরূপ বর্ণনা করিয়াছি, ইহাও সেইরূপ বৈধ নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সর্বপ্রকার স্বর্ণ চাঁদি এবং সব খাদ্যদ্রব্য যেই সব বস্তু বরাবর ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। সেই সবের উৎকৃষ্ট প্রকারের পছন্দীয় বস্তুর সহিত অপছন্দীয় রদ্দী প্রকারের বস্তু মিলিত করা যাহাতে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয করার উদ্দেশ্যে এবং অবৈধ ও নিষিদ্ধ ব্যাপারকে হালাল করার মতলবে। যেমন নিকৃষ্ট বস্তুকে উৎকৃষ্ট বস্তুর সহিত মিশ্রিত করা হইল। ইহার দ্বারা সে উৎকৃষ্টের সঙ্গে নিকৃষ্ট মিশ্রয়কারী যে উৎকৃষ্ট মাল বিক্রয় করিতেছে উহার উৎকৃষ্টতার (অতিরিক্ত) মূল্য উত্তল করিয়া লইতেছে। তাই তিনি এমন নিকৃষ্ট বস্তু (অপর পক্ষকে) দিতেছে। যদি উহাকে আলাদা বিক্রয় করে তাহার অপর পক্ষ উহাকে গ্রহণ করিবে না এবং এই দিকে খেয়ালও করিবে না। এখন সে উহা গ্রহণ করিতেছে এই (নিকৃষ্ট মানের) মালের সহিত যে (উৎকৃষ্ট মানের) মাল সে পাইতেছে উহার আকর্ষণে। কারণ তাহার মালের তুলনায় তাহার সাথীর মাল উৎকৃষ্ট, কাজেই স্বর্ণ বা চাঁদি কিংবা খাদ্যদ্রব্যে কোনটিতেই অন্য কোন (নিকৃষ্ট) বস্তু মিশ্রিত করা জায়েয হইবে না; তবে যদি রদ্দী খাদ্যদ্রব্যের মালিক উহাকে অন্য (উত্তম) খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে বিক্রয় করিতে চাহে তবে পৃথকভাবে উহা বিক্রয় করিবে এবং উহার সহিত (উৎকৃষ্ট) অন্য কোন দ্রব্য মিশ্ৰিত করিবে না, এইরূপ করিলে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই, যদি এইরূপ (পৃথকভাবে বিক্রয়) হইয়া থাকে।
রেওয়ায়ত ৪১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়াছে, সে উহা কব্জা করার পূর্বে যেন ইহা বিক্রয় না করে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من ابتاع طعاما فلا يبعه حتى يستوفيه
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن المزابنة والمحاقلة والمزابنة اشتراء الثمر بالتمر والمحاقلة اشتراء الزرع بالحنطة واستكراء الارض بالحنطة . قال ابن شهاب فسالت سعيد بن المسيب عن استكراء الارض بالذهب والورق فقال لا باس بذلك . قال مالك نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المزابنة وتفسير المزابنة ان كل شىء من الجزاف الذي لا يعلم كيله ولا وزنه ولا عدده ابتيع بشىء مسمى من الكيل او الوزن او العدد وذلك ان يقول الرجل للرجل يكون له الطعام المصبر الذي لا يعلم كيله من الحنطة او التمر او ما اشبه ذلك من الاطعمة او يكون للرجل السلعة من الحنطة او النوى او القضب او العصفر او الكرسف او الكتان او القز او ما اشبه ذلك من السلع لا يعلم كيل شىء من ذلك ولا وزنه ولا عدده فيقول الرجل لرب تلك السلعة كل سلعتك هذه او مر من يكيلها او زن من ذلك ما يوزن او عد من ذلك ما كان يعد فما نقص عن كيل كذا وكذا صاعا - لتسمية يسميها - او وزن كذا وكذا رطلا او عدد كذا وكذا فما نقص من ذلك فعلى غرمه لك حتى اوفيك تلك التسمية فما زاد على تلك التسمية فهو لي اضمن ما نقص من ذلك على ان يكون لي ما زاد . فليس ذلك بيعا ولكنه المخاطرة والغرر والقمار يدخل هذا لانه لم يشتر منه شييا بشىء اخرجه ولكنه ضمن له ما سمي من ذلك الكيل او الوزن او العدد على ان يكون له ما زاد على ذلك فان نقصت تلك السلعة عن تلك التسمية اخذ من مال صاحبه ما نقص بغير ثمن ولا هبة طيبة بها نفسه فهذا يشبه القمار وما كان مثل هذا من الاشياء فذلك يدخله . قال مالك ومن ذلك ايضا ان يقول الرجل للرجل له الثوب اضمن لك من ثوبك هذا كذا وكذا ظهارة قلنسوة قدر كل ظهارة كذا وكذا - لشىء يسميه - فما نقص من ذلك فعلى غرمه حتى اوفيك وما زاد فلي . او ان يقول الرجل للرجل اضمن لك من ثيابك هذي كذا وكذا قميصا ذرع كل قميص كذا وكذا فما نقص من ذلك فعلى غرمه وما زاد على ذلك فلي . او ان يقول الرجل للرجل له الجلود من جلود البقر او الابل اقطع جلودك هذه نعالا على امام يريه اياه . فما نقص من ماية زوج فعلى غرمه وما زاد فهو لي بما ضمنت لك . ومما يشبه ذلك ان يقول الرجل للرجل عنده حب البان اعصر حبك هذا فما نقص من كذا وكذا رطلا فعلى ان اعطيكه وما زاد فهو لي . فهذا كله وما اشبهه من الاشياء او ضارعه من المزابنة التي لا تصلح ولا تجوز . وكذلك - ايضا - اذا قال الرجل للرجل له الخبط او النوى او الكرسف او الكتان او القضب او العصفر ابتاع منك هذا الخبط بكذا وكذا صاعا من خبط يخبط مثل خبطه او هذا النوى بكذا وكذا صاعا من نوى مثله وفي العصفر والكرسف والكتان والقضب مثل ذلك . فهذا كله يرجع الى ما وصفنا من المزابنة
حدثني يحيى، عن مالك، عن يزيد بن عبد الله بن قسيط، انه راى سعيد بن المسيب يراطل الذهب بالذهب فيفرغ ذهبه في كفة الميزان ويفرغ صاحبه الذي يراطله ذهبه في كفة الميزان الاخرى فاذا اعتدل لسان الميزان اخذ واعطى . قال مالك الامر عندنا في بيع الذهب بالذهب والورق بالورق مراطلة انه لا باس بذلك ان ياخذ احد عشر دينارا بعشرة دنانير يدا بيد اذا كان وزن الذهبين سواء عينا بعين وان تفاضل العدد والدراهم ايضا في ذلك بمنزلة الدنانير . قال مالك من راطل ذهبا بذهب او ورقا بورق فكان بين الذهبين فضل مثقال فاعطى صاحبه قيمته من الورق او من غيرها فلا ياخذه فان ذلك قبيح وذريعة الى الربا لانه اذا جاز له ان ياخذ المثقال بقيمته حتى كانه اشتراه على حدته جاز له ان ياخذ المثقال بقيمته مرارا لان يجيز ذلك البيع بينه وبين صاحبه . قال مالك ولو انه باعه ذلك المثقال مفردا ليس معه غيره لم ياخذه بعشر الثمن الذي اخذه به لان يجوز له البيع فذلك الذريعة الى احلال الحرام والامر المنهي عنه . قال مالك في الرجل يراطل الرجل ويعطيه الذهب العتق الجياد ويجعل معها تبرا ذهبا غير جيدة وياخذ من صاحبه ذهبا كوفية مقطعة وتلك الكوفية مكروهة عند الناس فيتبايعان ذلك مثلا بمثل ان ذلك لا يصلح . قال مالك وتفسير ما كره من ذلك ان صاحب الذهب الجياد اخذ فضل عيون ذهبه في التبر الذي طرح مع ذهبه ولولا فضل ذهبه على ذهب صاحبه لم يراطله صاحبه بتبره ذلك الى ذهبه الكوفية فامتنع وانما مثل ذلك كمثل رجل اراد ان يبتاع ثلاثة اصوع من تمر عجوة بصاعين ومد من تمر كبيس فقيل له هذا لا يصلح . فجعل صاعين من كبيس وصاعا من حشف يريد ان يجيز بذلك بيعه فذلك لا يصلح لانه لم يكن صاحب العجوة ليعطيه صاعا من العجوة بصاع من حشف ولكنه انما اعطاه ذلك لفضل الكبيس او ان يقول الرجل للرجل بعني ثلاثة اصوع من البيضاء بصاعين ونصف من حنطة شامية فيقول هذا لا يصلح الا مثلا بمثل . فيجعل صاعين من حنطة شامية وصاعا من شعير يريد ان يجيز بذلك البيع فيما بينهما فهذا لا يصلح لانه لم يكن ليعطيه بصاع من شعير صاعا من حنطة بيضاء لو كان ذلك الصاع مفردا وانما اعطاه اياه لفضل الشامية على البيضاء فهذا لا يصلح وهو مثل ما وصفنا من التبر . قال مالك فكل شىء من الذهب والورق والطعام كله الذي لا ينبغي ان يباع الا مثلا بمثل فلا ينبغي ان يجعل مع الصنف الجيد من المرغوب فيه الشىء الرديء المسخوط ليجاز البيع وليستحل بذلك ما نهي عنه من الامر الذي لا يصلح اذا جعل ذلك مع الصنف المرغوب فيه وانما يريد صاحب ذلك ان يدرك بذلك فضل جودة ما يبيع فيعطي الشىء الذي لو اعطاه وحده لم يقبله صاحبه ولم يهمم بذلك وانما يقبله من اجل الذي ياخذ معه لفضل سلعة صاحبه على سلعته فلا ينبغي لشىء من الذهب والورق والطعام ان يدخله شىء من هذه الصفة فان اراد صاحب الطعام الرديء ان يبيعه بغيره فليبعه على حدته ولا يجعل مع ذلك شييا فلا باس به اذا كان كذلك