Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. অমির বিনত আবদির রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহার নিকট ছিলেন। (এমন সময়) তিনি জনৈক ব্যক্তির আওয়ায শুনিলেন। সে ব্যক্তিটি হাফসা (রাঃ) এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করিতেছিল। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা (অপরিচিত) ব্যক্তির আওয়ায, আপনার গৃহে অনুমতি চাহিতেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি মনে করি সে ব্যক্তি অমুক, হাফসা (রাঃ)-এর দুধ চাচা হইবে। আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, যদি অমুক তাহার দুধ চাচা জীবিত থাকিতেন, তিনি আমার নিকট প্রবেশ করিতে পারিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ জন্মসূত্রে আত্মীয়তার ফলে যেসব (সম্পর্ক ও বিবাহ) হারাম হয় দুগ্ধপান করার ফলেও সেসব হারাম হইয়া যায়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر، عن عمرة بنت عبد الرحمن، ان عايشة ام المومنين، اخبرتها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عندها وانها سمعت صوت رجل يستاذن في بيت حفصة قالت عايشة فقلت يا رسول الله هذا رجل يستاذن في بيتك . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اراه فلانا " . لعم لحفصة من الرضاعة . فقالت عايشة يا رسول الله لو كان فلان حيا - لعمها من الرضاعة - دخل على فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم ان الرضاعة تحرم ما تحرم الولادة
রেওয়ায়ত ২. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আয়েশা উম্মুল মু'মিনীন (রাঃ) বলেনঃ পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পর আমার দুধ চাচা আবুল কু'আয়সের ভাই আফলাহ (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাহিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তাহাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করিলাম। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনিলেন এবং আমি এই বিষয়টি তাহাকে অভিহিত করিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে আমার নিকট আসার অনুমতি দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে স্ত্রীলোক দুধ পান করাইয়াছে, পুরুষ আমাকে পান করায় নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তিনি তোমার চাচা, তোমার নিকট সে প্রবেশ করিতে পারিবে আয়েশা (রাঃ) বলেন, এই ঘটনা পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পরে সংঘটিত হইয়াছে।[1] আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ জন্মের (সম্পর্কের) দ্বারা যাহা হারাম হয় দুধ পানের (সম্পর্কের) দ্বারাও উহা হারাম হইবে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة ام المومنين، انها قالت جاء عمي من الرضاعة يستاذن على فابيت ان اذن له على حتى اسال رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالته عن ذلك فقال " انه عمك فاذني له " . قالت فقلت يا رسول الله انما ارضعتني المراة ولم يرضعني الرجل . فقال " انه عمك فليلج عليك " . قالت عايشة وذلك بعد ما ضرب علينا الحجاب . وقالت عايشة يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة
রেওয়ায়ত ৩. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উম্মুল মু'মিনীন, আয়েশ (রাঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তাহার দুধ চাচা আবূ কু'আয়স এর ভাই আল ফালাহ (রাঃ) পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর তাহার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাহিলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনিলে পর আমি যাহা করিয়াছি উহা তাহাকে অবহিত করিলাম। অতঃপর তাহাকে (দুধ চাচাকে) আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিলেন।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة ام المومنين، انها اخبرته ان افلح اخا ابي القعيس جاء يستاذن عليها وهو عمها من الرضاعة بعد ان انزل الحجاب قالت فابيت ان اذن له على فلما جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم اخبرته بالذي صنعت فامرني ان اذن له على
রেওয়ায়ত ৪. সাওর ইবন যাইদদিবলী (রহঃ) হইতে বর্ণিত- ‘আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিতেন, দুই বৎসর সময়ের ভিতরে দুধ একবার চুষিলেও উহা হারাম করিবে। অর্থাৎ জন্মসূত্রে বিবাহ যেমন অবৈধ হয় অদ্রুপ ইহাতেও হয়।
وحدثني عن مالك، عن ثور بن زيد الديلي، عن عبد الله بن عباس، انه كان يقول ما كان في الحولين وان كان مصة واحدة فهو يحرم
রেওয়ায়ত ৫. আমর ইবন শারীদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার স্ত্রী রহিয়াছে দুইজন। তাহাদের মধ্যে এক স্ত্রী এক ছেলেকে, আর এক স্ত্রী এক কন্যাকে দুধ পান করাইয়াছে। এই ছেলে সেই কন্যাকে বিবাহ করিতে পারবে কি? তিনি বলিলেনঃ না, কারণ (উভয়ে পিতার দিক দিয়া) বীর্য এক।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عمرو بن الشريد، ان عبد الله بن عباس، سيل عن رجل، كانت له امراتان فارضعت احداهما غلاما وارضعت الاخرى جارية فقيل له هل يتزوج الغلام الجارية فقال لا اللقاح واحد
রেওয়ায়ত ৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ‘আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, ছোট বেলায় যাহাকে দুধ খাওয়ান হয় উহাই গ্রহণযোগ্য, বড়দের দুধ পান করান ধর্তব্য নহে, অর্থাৎ উহাতে রাযী (দুধ পান)- এর ফলে যে হুকুম হয় তাহা হইবে না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان يقول لا رضاعة الا لمن ارضع في الصغر ولا رضاعة لكبير
রেওয়ায়ত ৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সালিম ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি যখন দুগ্ধপোষ্য ছিলেন, তখন আয়েশা উম্মুল মু'মিনীন (রাঃ) তাহাকে পাঠাইলেন তাহার ভগ্নী উম্মে কুলসুম বিনত আবী বকর (রাঃ) এর নিকট এবং বলিয়া দিলেন- ইহাকে (সালিমকে) দশবার দুধ চোষাইয়া দিন, যেন সে আমার নিকট প্রবেশ করিতে পারে। সালিম বলেনঃ উম্মে কুলসুম আমাকে তিনবার দুধ চোষাইয়াছেন। তারপর আমি পীড়িত হই, তাই আমাকে তিনবার ছাড়া আর দুধ পান করান নাই, যেহেতু উম্মে কুলসুম আমাকে দশবার দুধ পান করান নাই তাই আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিতাম না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان سالم بن عبد الله بن عمر، اخبره ان عايشة ام المومنين ارسلت به وهو يرضع الى اختها ام كلثوم بنت ابي بكر الصديق فقالت ارضعيه عشر رضعات حتى يدخل على . قال سالم فارضعتني ام كلثوم ثلاث رضعات ثم مرضت فلم ترضعني غير ثلاث رضعات فلم اكن ادخل على عايشة من اجل ان ام كلثوم لم تتم لي عشر رضعات
রেওয়ায়ত ৮. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সফিয়্যা বিনত আবী উবায়দ (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ) আসিম ইবন আবদিল্লাহ ইবন সা'দ (রহঃ)-কে তাহার ভগ্নী ফাতিমা বিনত উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট পাঠাইলেন। তখন আসিম ছোট এবং দুদ্ধপোষ্য, (উদ্দেশ্য) যেন তিনি আসিমকে দশবার দুধ পান করাইয়া দেন যাহাতে সে হাফসা (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিতে পারে। তিনি (ফাতেমা) উহা করিলেন, তাই আসিম তাহার হাফসা (রাঃ)-এর নিকট যাতায়াত করিতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان صفية بنت ابي عبيد، اخبرته ان حفصة ام المومنين ارسلت بعاصم بن عبد الله بن سعد الى اختها فاطمة بنت عمر بن الخطاب ترضعه عشر رضعات ليدخل عليها وهو صغير يرضع ففعلت فكان يدخل عليها
রেওয়ায়ত ৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) এর ভগ্নীগণ অথবা তাহার ভাতিজীগণ যাহাদিগকে দুধ পান করাইয়াছেন তাহারা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিতে পারিতেন। আর যাহাদিগকে তাহার ভাবীগণ দুধ পান করাইয়াছেন, তাহারা তাহার নিকট প্রবেশ করিতে পারিতেন না।
وحدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، انه اخبره ان عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم كان يدخل عليها من ارضعته اخواتها وبنات اخيها ولا يدخل عليها من ارضعه نساء اخوتها
রেওয়ায়ত ১০. ইবরাহীম ইবন উকবা (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে রাযা’আত [সন্তানকে দুগ্ধ পান করানো] সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন। সাঈদ বলিলেনঃ দুই বৎসরের মধ্যে পান করানো হইলে যদিও এক ফোঁটা হয় উহা বিবাহ সম্পর্ক হারাম করিবে, আর যাহা দুই বৎসরের পর বাহিরে হয় উহা খাদ্যদ্রব্য বলিয়া গণ্য হইবে, যাহা আহার করিয়াছে। উহাতে বিবাহ সম্পর্ক হারাম হইবে না। ইবরাহীম ইবন উকবা (রহঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করি। তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব-এর মতোই বলিলেন।
وحدثني عن مالك، عن ابراهيم بن عقبة، انه سال سعيد بن المسيب عن الرضاعة، فقال سعيد كل ما كان في الحولين وان كانت قطرة واحدة فهو يحرم وما كان بعد الحولين فانما هو طعام ياكله . قال ابراهيم بن عقبة ثم سالت عروة بن الزبير فقال مثل ما قال سعيد بن المسيب
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال سمعت سعيد بن المسيب، يقول لا رضاعة الا ما كان في المهد والا ما انبت اللحم والدم
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال سمعت سعيد بن المسيب، يقول لا رضاعة الا ما كان في المهد والا ما انبت اللحم والدم
রেওয়ায়ত ১১. ইয়াহয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি স্ত্রীলোকদের সন্তানদের দুধ পান করানো তখন গ্রহণযোগ্য হইবে যখন উহারা দোলনাতে থাকে এবং যাহা গোশত ও রক্ত সৃষ্টি করে। ইবন শিহাব (রহঃ) বলিতেনঃ রাযাআত [দুধ পান করান] অল্প হউক বেশি হউক উহা হারাম করিবে। আর রাযা’আত পুরুষের পক্ষের আত্মীয়তাও হারাম করিবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি সন্তানদের দুধ পান অল্প হউক, বেশি হউক, যদি উহা দুই বৎসরের মধ্যে হয় তবে হারাম করিবে। তিনি বলেন, দুই বৎসরের পরে হইলে অল্প হউক বেশি হউক উহা কিছুই হারাম করিবে না। উহা হইতেছে খাদ্যদ্রব্যের মতো।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، انه كان يقول الرضاعة قليلها وكثيرها تحرم والرضاعة من قبل الرجال تحرم . قال يحيى وسمعت مالكا يقول الرضاعة قليلها وكثيرها اذا كان في الحولين تحرم فاما ما كان بعد الحولين فان قليله وكثيره لا يحرم شييا وانما هو بمنزلة الطعام
রেওয়ায়ত ১২. ইবন শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল বয়স্কের দুধ পান করা সম্বন্ধে। তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) আমাকে বলিয়াছেনঃ আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবি'আ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে একজন সাহাবী ছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধে শহীদ হইয়াছেন, তিনি সালিম (রাঃ)-কে পালক পুত্র করিয়াছিলেন যাহাকে বলা হইত-সালিম মাওলা আবু হুযায়ফা। [সায়িবা নামক জনৈকা মহিলা তাহাকে আযাদ করেন, পরে আবু হুযায়ফা তাহাকে লালন-পালন করেন এবং পুত্ররূপে গ্রহণ করেন। এইজন্য সালিমকে আবু হুযায়ফার মাওলা বলা হইয়াছে] যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ ইবন হারিস (রাঃ)-কে পুত্র সন্তান বানাইয়ছিলেন এবং আবু হুযায়ফা সালিমের নিকট তাহার ভাতিজী ফাতেমা বিনত ওয়ালিদ ইবন উতবা ইবন রবি'আকে বিবাহ দিলেন, তিনি সালিমকে নিজের পুত্র বলিয়া মনে করিতেন। ফাতেমা ছিলেন প্রথম ভাগে হিজরতকারিণীদের মধ্যে একজন মহিলা এবং তিনি তখন কুরাইশদের অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যেও ছিলেন অন্যতমা। যখন আল্লাহ তাহার কিতাবে যায়দ ইবন হারিসা সম্পর্কে এই আয়াত অবতীর্ণ করিলেনঃ ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ (অর্থাৎ তোমরা উহাদিগকে ডাক উহাদের পিতৃপরিচয়ে। আল্লাহর নিকট ইহাই ন্যায়সঙ্গত, যদি তোমরা উহাদের পরিচয় না জান তবে উহদিগকে তোমাদের ধর্মীয় ভ্রাতা ও বন্ধুরূপে গণ্য করবে।) যাহাদিগকে পোষ্যপুত্র বানাইয়াছ তাহাদিগকে তাহদের পিতৃপরিচয়ের দিকে ফিরাইয়া দাও। আর যদি পিতার পরিচয় না জান তবে তাহার মাওলার (মনিব বা মিত্রতা সূত্রে স্থাপিত সম্পর্কের স্বজন) দিকে তাহাদিগকে ফিরাইয়া দাও। আর হুযায়ফার স্ত্রী সাহলা বিনত সুহায়ল যিনি ছিলেন আমির ইবন লুয়াই গোত্রের, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালিমকে আমরা পুত্ররূপে গ্রহণ করিয়াছিলাম। সে আমার কক্ষে প্রবেশ করে এই অবস্থায় যে, আমি তখন একটি কাপড় পরিধান করিয়া থাকি। আর আমার গৃহও মাত্র একটি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এ বিষয়ে আমাদের কথা হইল তাহাকে পাঁচবার (স্তন হইতে) দুধ পান করাইয়া দাও। তাহা হইলে এই দুধের কারণে সে হারাম হইয়া যাইবে এবং সাহলা দুধপান করানোর কারণে তাহাকে পুত্র বলিয়া জানিতেন। উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ অভিমত গ্রহণ করিয়াছেন, অতএব সেই সকল পুরুষের তাঁহার নিকট প্রবেশ করা তিনি পছন্দ করিতেন। তিনি তাহার ভগ্নী উম্মে কুলসুম বিনত আবি বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে এবং তাহার ভাতিজীদিগকে সেই সকল পুরুষকে দুধ পান করানোর নির্দেশ দিতেন। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সহধর্মিণী এই প্রকার দুধ পানের দ্বারা কোন পুরুষের তাহদের নিকট প্রবেশ করাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তাহারা বলিতেন, ['আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করিয়া] আল্লাহর কসম, আমরা মনে করি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহলা বিনত সুহাইলকে যে হুকুম দিয়াছিলেন তাহা কেবলমাত্র সালিমের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হইতে রুখসত (বিশেষ অনুমতি) স্বরূপ ছিল। কসম আল্লাহর! এই প্রকারের দুধ পান করানো দ্বারা আমাদের নিকট কোন লোক প্রবেশ করিতে পরিবে না। বয়স্কদের দুধ পান করানো সম্বন্ধে আর সকল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীগণ এই অভিমতের উপর অটল ছিলেন।
রেওয়ায়ত ১৩. 'আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ বয়স্কদের দুধ পানের বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য “দারুল কাযা” (বিচারালয় ইহা ছিল উমর ফারুক (রাঃ)-এর ঘর, তাহার শাহাদতের পর তাহার ঋণ পরিশোধ করার জন্য এই ঘর বিক্রি করা হয়, তাই ইহাকে দারুল কাযা বলা হয়)-এর নিকট এক ব্যক্তি আসিল। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট তখন আমি উপস্থিত ছিলাম। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, আমার এক দাসী ছিল। আমি উহার সহিত সঙ্গম করিতাম - আমার স্ত্রী ইচ্ছাপূর্বক উহাকে দুধ খাওয়াইয়া দেয়, তারপর আমি সেই দাসীর নিকট (সঙ্গমের উদ্দেশ্যে) প্রবেশ করিলাম। আমার স্ত্রী বলিল থাম। উহার সাথে সংগত হইও না আল্লাহর কসম, আমি উহাকে দুধ পান করাইয়াছি। উমর (রাঃ) বলিলেন তোমার স্ত্রীকে শাস্তি দাও, তারপর দাসীর নিকট গমন কর, দুধ পান করানো ছোটদের বেলায় গ্রহণযোগ্য হইয়া থাকে।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، انه قال جاء رجل الى عبد الله بن عمر وانا معه عند دار القضاء يساله عن رضاعة الكبير فقال عبد الله بن عمر جاء رجل الى عمر بن الخطاب فقال اني كانت لي وليدة وكنت اطوها فعمدت امراتي اليها فارضعتها فدخلت عليها فقالت دونك فقد والله ارضعتها . فقال عمر اوجعها وات جاريتك فانما الرضاعة رضاعة الصغير
রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন- আমি আমার স্ত্রীর স্তন চুষিয়াছি, দুধ আমার ভিতরে প্রবেশ করিয়াছে। আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) বললেন- আমি মনে করি, তোমার স্ত্রী তোমার উপর হারাম হইয়াছে। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রহঃ) বললেনঃ ভাবিয়া দেখুন এই ব্যক্তি কে, কি ফতোয়া দিতেছেন? আবূ মূসা বলিলেনঃ তবে আপনি কি বলেন? আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিলেনঃ দুধ খাওয়া দুই বৎসরের ভিতরেই হয়, অতঃপর আবু মূসা (রাঃ) বলিলেনঃ এই বিজ্ঞজন যতদিন তোমাদের মধ্যে আছেন তোমরা (কোন বিষয়ে) আমার নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করিও না।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان رجلا، سال ابا موسى الاشعري فقال اني مصصت عن امراتي، من ثديها لبنا فذهب في بطني فقال ابو موسى لا اراها الا قد حرمت عليك . فقال عبد الله بن مسعود انظر ماذا تفتي به الرجل فقال ابو موسى فماذا تقول انت فقال عبد الله بن مسعود لا رضاعة الا ما كان في الحولين . فقال ابو موسى لا تسالوني عن شىء ما كان هذا الحبر بين اظهركم
রেওয়ায়ত ১৫. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, হারাম হইয়া যায় দুধ পানের দ্বারা, যেমন হয় জন্মগত সম্পর্কের দ্বারা।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن سليمان بن يسار، عن عروة بن الزبير، عن عايشة ام المومنين، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة
রেওয়ায়ত ১৬. জদামা বিনতি ওয়াহাব আসদিয়া (রাঃ) উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে খবর দিয়াছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছেন, আমি সংকল্প করিয়াছিলাম ‘গীলা’ হইতে বারণ করার, কিন্তু আমার নিকট উল্লেখ করা হয় যে, রোম ও পারস্যের লোকেরা ইহা করিয়া থাকে, তাহাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ গীলা হইতেছে শিশুকে দুধ পান করানোকালীন সময়ে স্ত্রীর সহিত স্বামীর সঙ্গম করা।
وحدثني عن مالك، عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل، انه قال اخبرني عروة بن الزبير، عن عايشة ام المومنين، عن جدامة بنت وهب الاسدية، انها اخبرتها انها، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لقد هممت ان انهى عن الغيلة حتى ذكرت ان الروم وفارس يصنعون ذلك فلا يضر اولادهم
রেওয়ায়ত ১৭. আমরা বিনত আবদির রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ কুরআনে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল তাহাতে দশবার দুধ চোষার কথা নির্ধারিত ছিল, যাহা হারাম করিবে, তারপর উহা রহিত হইয়া যায় নির্ধারিত পাঁচবার দুগ্ধ চোষার (অবতীর্ণ হুকুমের) দ্বারা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওফাত হয় তখনও সেই পাঁচবার দুধ চোষার (হুকুমের অংশ) সম্মিলিত আয়াত তিলাওয়াত করা হইত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার উপর আমল নাই। অর্থাৎ পাঁচবারের উপর আমল নাই। দুগ্ধ পান অল্প হউক বা বেশি হউক বিবাহ সম্পর্ক হারাম করিবে।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر بن حزم، عن عمرة بنت عبد الرحمن، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كان فيما انزل من القران عشر رضعات معلومات يحرمن ثم نسخن بخمس معلومات فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو فيما يقرا من القران
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، انه سيل عن رضاعة الكبير، فقال اخبرني عروة بن الزبير، ان ابا حذيفة بن عتبة بن ربيعة، وكان، من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان قد شهد بدرا وكان تبنى سالما الذي يقال له سالم مولى ابي حذيفة كما تبنى رسول الله صلى الله عليه وسلم زيد بن حارثة وانكح ابو حذيفة سالما وهو يرى انه ابنه انكحه بنت اخيه فاطمة بنت الوليد بن عتبة بن ربيعة وهي يوميذ من المهاجرات الاول وهي من افضل ايامى قريش فلما انزل الله تعالى في كتابه في زيد بن حارثة ما انزل فقال {ادعوهم لابايهم هو اقسط عند الله فان لم تعلموا اباءهم فاخوانكم في الدين ومواليكم} رد كل واحد من اوليك الى ابيه فان لم يعلم ابوه رد الى مولاه فجاءت سهلة بنت سهيل وهي امراة ابي حذيفة وهي من بني عامر بن لوى الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله كنا نرى سالما ولدا وكان يدخل على وانا فضل وليس لنا الا بيت واحد فماذا ترى في شانه فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارضعيه خمس رضعات فيحرم بلبنها " . وكانت تراه ابنا من الرضاعة فاخذت بذلك عايشة ام المومنين فيمن كانت تحب ان يدخل عليها من الرجال فكانت تامر اختها ام كلثوم بنت ابي بكر الصديق وبنات اخيها ان يرضعن من احبت ان يدخل عليها من الرجال وابى ساير ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ان يدخل عليهن بتلك الرضاعة احد من الناس وقلن لا والله ما نرى الذي امر به رسول الله صلى الله عليه وسلم سهلة بنت سهيل الا رخصة من رسول الله صلى الله عليه وسلم في رضاعة سالم وحده لا والله لا يدخل علينا بهذه الرضاعة احد فعلى هذا كان ازواج النبي صلى الله عليه وسلم في رضاعة الكبير