Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫৯ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৩৯. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত (وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ) সাধ্বী রমণীগণ “ইহারা হইলেন ঐ সকল নারী যাহাদের স্বামী আছে।” ইহা দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যভিচারকে হারাম করিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، انه قال المحصنات من النساء هن اولات الازواج ويرجع ذلك الى ان الله حرم الزنا
রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) ও কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করিলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করিলে ইহার দ্বারা সে মুহসান (محصن) বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পাইয়াছি তাহারা বলিতেন, ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান (محصن) করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসানা বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীন নারী ক্রীতদাসকে অদ্রুপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তাহার স্বামী যদি তাহাকে আযাদ করিয়া দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তাহার সহিত সহবাস করে তবে সে মুহসান (محصن) হইবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করিয়া দেয় তবে সে মুহসানা হইবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রহিয়াছে তাহার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাহাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করিবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাহাকে বিবাহ করিয়া তাহার সহিত সংগত হইলে সে মুহসানা (সধবা) হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তাহার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পূর্বে সে দাসত্ব হইতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার (সধবা) অন্তর্ভুক্ত হইবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং ইহার পর তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীন নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা, (সধবা) হইে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، وبلغه، عن القاسم بن محمد، انهما كانا يقولان اذا نكح الحر الامة فمسها فقد احصنته . قال مالك وكل من ادركت كان يقول ذلك تحصن الامة الحر اذا نكحها فمسها فقد احصنته . قال مالك يحصن العبد الحرة اذا مسها بنكاح ولا تحصن الحرة العبد الا ان يعتق وهو زوجها فيمسها بعد عتقه فان فارقها قبل ان يعتق فليس بمحصن حتى يتزوج بعد عتقه ويمس امراته . قال مالك والامة اذا كانت تحت الحر ثم فارقها قبل ان تعتق فانه لا يحصنها نكاحه اياها وهي امة حتى تنكح بعد عتقها ويصيبها زوجها فذلك احصانها والامة اذا كانت تحت الحر فتعتق وهي تحته قبل ان يفارقها فانه يحصنها اذا عتقت وهي عنده اذا هو اصابها بعد ان تعتق . وقال مالك والحرة النصرانية واليهودية والامة المسلمة يحصن الحر المسلم اذا نكح احداهن فاصابها
রেওয়ায়ত ৪১. ‘আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বর দিবসে মুত'আ বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশত আহার করিতেও নিষেধ করিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبد الله، والحسن، ابنى محمد بن علي بن ابي طالب عن ابيهما، عن علي بن ابي طالب، رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء يوم خيبر وعن اكل لحوم الحمر الانسية
রেওয়ায়ত ৪২. খাওলা বিনত হাকিম (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেনঃ রবি'আ ইবন উমাইয়া (রাঃ) এক মুওয়াল্লাদা[1] নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিয়া ঘাবড়াইয়া গেলেন এবং আপন চাদর টানিতে টানিতে বাহির হইলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করিতাম তবে এই (মুত’আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করিতাম।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، ان خولة بنت حكيم، دخلت على عمر بن الخطاب فقالت ان ربيعة بن امية استمتع بامراة فحملت منه . فخرج عمر بن الخطاب فزعا يجر رداءه فقال هذه المتعة ولو كنت تقدمت فيها لرجمت
রেওয়ায়ত ৪৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করিতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রহিয়াছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তাহার বিবাহ বৈধ হইবে। আর যদি মালিক তাহার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাহাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তাহার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করিয়া থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তাহার মালিক হয় অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তাহার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তাহার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাহাদের বিবাহ ভঙ্গ হইয়া যাইবে। আর যদি তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাহাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করিয়া দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তাহার মালিক হইয়াছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রহিয়াছে, তবে তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে পারবে না (অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করিতে হইবে)।
حدثني يحيى، عن مالك، انه سمع ربيعة بن ابي عبد الرحمن، يقول ينكح العبد اربع نسوة . قال مالك وهذا احسن ما سمعت في ذلك . قال مالك والعبد مخالف للمحلل ان اذن له سيده ثبت نكاحه وان لم ياذن له سيده فرق بينهما والمحلل يفرق بينهما على كل حال اذا اريد بالنكاح التحليل . قال مالك في العبد اذا ملكته امراته او الزوج يملك امراته ان ملك كل واحد منهما صاحبه يكون فسخا بغير طلاق وان تراجعا بنكاح بعد لم تكن تلك الفرقة طلاقا . قال مالك والعبد اذا اعتقته امراته اذا ملكته وهي في عدة منه لم يتراجعا الا بنكاح جديد
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে স্ত্রীলোকেরা তাহদের নিজের শহরে থাকিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিতেন। তাহারা মদীনার দিকে হিজরত করিতে পারিতেন না। তাহারা মুসলিম হইতেন অথচ তাহাদের স্বামীগণ কাফের রহিয়াছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবন মুগীরার কন্যা। তিনি সফওয়ান ইবন উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলিম হইলেন। আর তাহার স্বামী সফওয়ান ইবন উমাইয়া ইসলাম কবুল না করিয়া পলায়ন করিল। সফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবন উমায়রকে প্রেরণ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান করিলেন এবং তাহার নিকট আসিতে বলিলেন, যদি সে খুশীতে মুসলিম হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হইবে, নতুবা তাহাকে দুই মাস সময় দেওয়া হইবে। সফওয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের চাদর লইয়া আগমন করিল এবং লোকসম্মুখে চিৎকার করিয়া বলিল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবন উমায়র, সে আপনার চাদর লইয়া আমার নিকট গিয়াছিল এবং সে বলিয়াছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসিতে আহবান জানাইয়াছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলিম হই, উহা গ্রহণ করা হইবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আবূ ওহাব (ইহা সফওয়ানের কুনিয়ত), তুমি (উটের পিঠ হইতে) অবতরণ কর। সফওয়ান বলিল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করিবেন (ইহা সত্য কিনা)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ বরং তোমাকে চার মাস সময় দেওয়া হইবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে (অভিযানে) বাহির হইলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করিলেন তাহার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি (আরিয়ত) ধার স্বরূপ দেওয়ার জন্য। সফওয়ান বলিল, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেনঃ (বাধ্যতামূলক নহে) বরং খুশীতে। সে তাহার নিকট যাহা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিল। অতঃপর (মক্কা হইতে) হুনায়ন-এর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বাহির হইল। সে তখনও কাফের। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হইল, সে তখনও কাফের আর তার স্ত্রী মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ান ও তাহার স্ত্রীকে পৃথক করেন নাই। পরে সফওয়ান মুসলিম হইলেন। তাহার স্ত্রীকে তাহার নিকট রাখা হইল সেই (আগের) বিবাহে।
حدثني مالك، عن ابن شهاب، انه بلغه ان نساء، كن في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يسلمن بارضهن وهن غير مهاجرات وازواجهن حين اسلمن كفار منهن بنت الوليد بن المغيرة . وكانت تحت صفوان بن امية فاسلمت يوم الفتح وهرب زوجها صفوان بن امية من الاسلام فبعث اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ابن عمه وهب بن عمير برداء رسول الله صلى الله عليه وسلم امانا لصفوان بن امية ودعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم الى الاسلام وان يقدم عليه فان رضي امرا قبله والا سيره شهرين فلما قدم صفوان على رسول الله صلى الله عليه وسلم بردايه ناداه على رءوس الناس فقال يا محمد ان هذا وهب بن عمير جاءني بردايك وزعم انك دعوتني الى القدوم عليك فان رضيت امرا قبلته والا سيرتني شهرين . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انزل ابا وهب " . فقال لا والله لا انزل حتى تبين لي . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بل لك تسير اربعة اشهر " . فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل هوازن بحنين . فارسل الى صفوان بن امية يستعيره اداة وسلاحا عنده فقال صفوان اطوعا ام كرها فقال " بل طوعا " . فاعاره الاداة والسلاح التي عنده ثم خرج صفوان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو كافر فشهد حنينا والطايف وهو كافر وامراته مسلمة ولم يفرق رسول الله صلى الله عليه وسلم بينه وبين امراته حتى اسلم صفوان واستقرت عنده امراته بذلك النكاح
রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ সফওয়ানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তাহার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্তত এক মাসের। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাহার রাসূলের দিকে হিজরত করিলে এবং তাহার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফরে থাকিলে তবে তাহার হিজরত তাহার ও তাহার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করিবে। তবে যদি তাঁহার স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে (এমতাবস্থায় স্ত্রী তাহারই থাকিবে)।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، انه قال كان بين اسلام صفوان وبين اسلام امراته نحو من شهر . قال ابن شهاب ولم يبلغنا ان امراة هاجرت الى الله ورسوله وزوجها كافر مقيم بدار الكفر الا فرقت هجرتها بينها وبين زوجها الا ان يقدم زوجها مهاجرا قبل ان تنقضي عدتها
রেওয়ায়ত ৪৬. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হারিস ইবন হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবন আবু জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। তাহার স্বামী ইকরামা ইবন আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ না করিয়া পলায়ন করিয়া ইয়ামনের দিকে চলিয়া যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়া তাহার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান জানান। ইকরামা ইসলাম কবুল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে দেখিয়া আনন্দে এত দ্রুত উঠিলেন যে, তাহার পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রহিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকরামার বায়’আত গ্রহণ করিলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করিলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহবান করিলে সে যদি মুসলিম না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হইয়া যাইবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিতেছেনঃ (وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ) তোমরা অবিশ্বাসী নারদিগের সহিত দম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না।” (সূরা মুমতাহিনাঃ)
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، ان ام حكيم بنت الحارث بن هشام، وكانت، تحت عكرمة بن ابي جهل فاسلمت يوم الفتح وهرب زوجها عكرمة بن ابي جهل من الاسلام حتى قدم اليمن فارتحلت ام حكيم حتى قدمت عليه باليمن فدعته الى الاسلام فاسلم وقدم على رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح فلما راه رسول الله صلى الله عليه وسلم وثب اليه فرحا وما عليه رداء حتى بايعه فثبتا على نكاحهما ذلك . قال مالك واذا اسلم الرجل قبل امراته وقعت الفرقة بينهما اذا عرض عليها الاسلام فلم تسلم لان الله تبارك وتعالى يقول في كتابه {ولا تمسكوا بعصم الكوافر}
রেওয়ায়ত ৪৭. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমীপে আবদুর রহমান ইবন আউফ ইবন আউফ (রাঃ) উপস্থিত হইলেন। তাহার (দেহে ও বস্ত্রে) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি দ্রব্যের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ তাহাকে জানাইলেন তিনি জনৈক আনসার মেয়েলোককে বিবাহ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি উহাকে কত মহর প্রদান করিয়াছ ? তিনি বলিলেনঃ এক নাওয়া (نَوَاةٍ) খেজুরের বীচি পরিমাণ স্বর্ণ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ওয়ালীমা[1] কর একটি বকরী দিয়া হইলেও।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن حميد الطويل، عن انس بن مالك، ان عبد الرحمن بن عوف، جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وبه اثر صفرة فساله رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره انه تزوج فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " كم سقت اليها " . فقال زنة نواة من ذهب . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " اولم ولو بشاة
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এমনও) ওয়ালীমা করিতেন যে, তাহাতে রুটি ও গোশত থাকিত না।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال لقد بلغني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يولم بالوليمة ما فيها خبز ولا لحم
রেওয়ায়ত ৪৯. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কাউকে ওয়ালীমায় দাওয়াত করা হইলে সে যেন উহাতে অংশগ্রহণ করে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا دعي احدكم الى وليمة فلياتها
রেওয়ায়ত ৫০. আ'রাজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিতেন, সর্বাপেক্ষা মন্দ আহার হইতেছে সেই ওয়ালীমার আহার, যেই ওয়ালীমাতে ধনী লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং মিসকিনদিগকে দাওয়াত হইতে বাদ দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করে না, সে অবশ্য আল্লাহ এবং তাহার রাসূলের নাফরমানী[1] করিল।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن الاعرج، عن ابي هريرة، انه كان يقول شر الطعام طعام الوليمة يدعى لها الاغنياء ويترك المساكين ومن لم يات الدعوة فقد عصى الله ورسوله
রেওয়ায়ত ৫১. ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি তালহা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, জনৈক দরজী এক প্রকারের খাদ্য প্রস্তুত করিয়া উহা আহারের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ সেই দাওয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আমিও গিয়াছিলাম। তাহার নিকট পেশ করা হইল যবের রুটি ও ঝোল, যাহাতে কদু ছিল। আনাস বলেনঃ আমি পেয়ালার আশপাশ হইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কদু অনুসন্ধান করিতে দেখিলাম। সেই দিন হইতে আমি সর্বদা কদু পছন্দ করি।
وحدثني عن مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، انه سمع انس بن مالك، يقول ان خياطا دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعام صنعه . قال انس فذهبت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ذلك الطعام فقرب اليه خبزا من شعير ومرقا فيه دباء . قال انس فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتتبع الدباء من حول القصعة فلم ازل احب الدباء بعد ذلك اليوم
রেওয়ায়ত ৫২. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিলে অথবা দাসী ক্রয় করিলে তবে উহার ললাট (কপালের উপরের চুল) ধরিয়া বরকতের দোয়া করিবে। আর উট ক্রয় করিলে তবে উহার কোহান (উটের পিঠের কুঁজ)-এর উপরিভাগ ধরিয়া অভিশপ্ত শয়তান হইতে আল্লাহর আশ্রয় চাহিবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا تزوج احدكم المراة او اشترى الجارية فلياخذ بناصيتها وليدع بالبركة واذا اشترى البعير فلياخذ بذروة سنامه وليستعذ بالله من الشيطان
রেওয়ায়ত ৫৩. আবুয-যুবায়র মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি অন্য এক লোকের নিকট ভগ্নীর বিবাহের পয়গাম দিয়াছে। সেই ব্যক্তির নিকট কেহ উল্লেখ করিল যে, উক্ত স্ত্রীলোকে ব্যভিচার করিয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এই সংবাদ পৌছিলে তিনি সেই লোককে মারিলেন অথবা মারিতে উদ্যত হইলেন। অতঃপর বলিলেনঃ তোমার এই খবর বলার কি প্রয়োজন ছিল?
وحدثني عن مالك، عن ابي الزبير المكي، ان رجلا، خطب الى رجل اخته فذكر انها قد كانت احدثت فبلغ ذلك عمر بن الخطاب فضربه - او كاد يضربه - ثم قال ما لك وللخبر
রেওয়ায়ত ৫৪. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসেম ইবন মুহাম্মদ এবং উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তির চারজন স্ত্রী রহিয়াছে এবং সে উহাদের একজনকে তালাক আল-বাত্তা (তিন তালাক) প্রদান করিয়াছে, এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি ইচ্ছা করিলে বিবাহ করিতে পারিবে। (তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করিবে না।
وحدثني عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، ان القاسم بن محمد، وعروة بن الزبير، كانا يقولان في الرجل يكون عنده اربع نسوة فيطلق احداهن البتة انه يتزوج ان شاء ولا ينتظر ان تنقضي عدتها
রেওয়ায়ত ৫৫. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসেম ইবন মুহাম্মদ এবং উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) তাহারা উভয়ে ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিকের নিকট যে বৎসর তিনি মদীনাতে আগমন করিয়াছিলেন সেই বৎসর অনুরূপ ফতওয়া দিয়াছেন। তবে কাসেম ইবন মুহাম্মদ এই প্রসঙ্গে স্ত্রীকে (একত্রে না দিয়া) বিভিন্ন মজলিসে তিন তালাক দেওয়ার কথা তাহার নিকট উল্লেখ করিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، ان القاسم بن محمد، وعروة بن الزبير، افتيا الوليد بن عبد الملك عام قدم المدينة بذلك غير ان القاسم بن محمد قال طلقها في مجالس شتى
রেওয়ায়ত ৫৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেন, তিন (প্রকার) বস্তুতে বিদ্রুপ নাই- (১) নিকাহ (২) তালাক (৩) মুক্তি প্রদান।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه قال ثلاث ليس فيهن لعب النكاح والطلاق والعتق
রেওয়ায়ত ৫৭. রাফি ইবন খাদীজ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীর কন্যাকে বিবাহ করেন। সে তাহার স্ত্রীরূপে থাকিতেই বৃদ্ধা হয়। রাফি' সেই বৃদ্ধা স্ত্রীর বর্তমানে আর একজন যুবতীকে বিবাহ করেন এবং পূর্ব স্ত্রী অপেক্ষা যুবতী স্ত্রীর দিকে অধিক ঝুঁকিয়া পড়েন। বয়োপ্রাপ্ত স্ত্রী তাহার নিকট তালাক কামনা করেন আল্লাহর কসম দিয়া। তিনি স্ত্রীকে এক তালাক দিলেন। অতঃপর তাহাকে অবকাশ দিয়া রাখিলেন। যখন ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার সময় সন্নিকট হইল তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিলেন। কিন্তু তিনি পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে আকৃষ্ট হইয়া পড়িলেন। ফলে (প্রথম) স্ত্রী কসম দিয়া তালাক কামনা করেন। আবার তাহাকে এক তালাক দিলেন। ইদ্দত যাওয়ার পূর্বে আবার প্রত্যাবর্তন করিলেন (অর্থাৎ পুনরায় স্ত্রীর মতো গ্রহণ করিলেন)। অতঃপর পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে বেশি ঝুঁকিয়া পড়েন। ফলে প্রথমা স্ত্রী আল্লাহর কসম দিয়া আবার তালাক কামনা করে। তখন তিনি বলিলেনঃ চিন্তা করিয়া দেখ, এখন মাত্র আর এক তালাক অবশিষ্ট আছে। যুবতী স্ত্রীর দিকে মনোযোগ বেশি থাকিবে তাহা তুমি লক্ষ্য করিয়াছ। এই অবস্থার উপর ইচ্ছা করিলে থাকিতে পার। আর ইচ্ছা হইলে বিবাহ বিচ্ছেদও করিতে পার। স্ত্রী উত্তর দিল, আমাকে এইভাবেই থাকিতে দাও; ফলে তাহাকে এইরূপে রাখা হয়। রাফি' উহাতে কোন ক্ষতি মনে করিতেন না। যখন (স্ত্রী) স্বেচ্ছায় এই অবস্থায় থাকিতে রাযী হয়।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن رافع بن خديج، انه تزوج بنت محمد بن مسلمة الانصاري فكانت عنده حتى كبرت فتزوج عليها فتاة شابة فاثر الشابة عليها فناشدته الطلاق فطلقها واحدة ثم امهلها حتى اذا كادت تحل راجعها ثم عاد فاثر الشابة فناشدته الطلاق فطلقها واحدة ثم راجعها ثم عاد فاثر الشابة فناشدته الطلاق فقال ما شيت انما بقيت واحدة فان شيت استقررت على ما ترين من الاثرة وان شيت فارقتك . قالت بل استقر على الاثرة . فامسكها على ذلك ولم ير رافع عليه اثما حين قرت عنده على الاثرة