Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫৯ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ২০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কোন নারীকে তাহার ফুফুর সহিত এবং কোন নারীকে তাহার খালার সহিত বিবাহে একত্র করা যাইবে না অর্থাৎ একই পুরুষ এইরূপ দুই নারীকে এক সঙ্গে দুই স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিবে না।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يجمع بين المراة وعمتها ولا بين المراة وخالتها
রেওয়ায়ত ২১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন, কোন নারীকে তাহার ফুফু কিংবা খালার সঙ্গে একই পুরুষের স্ত্রী হইতে নিষেধ করিতে হইবে। আরো নিষেধ করা হইবে, কোন ব্যক্তিকে এমন দাসীর সহিত সহবাস করা হইতে, যে দাসীর গর্ভে অন্য পক্ষের সন্তান রহিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه كان يقول ينهى ان تنكح المراة على عمتها او على خالتها وان يطا الرجل وليدة وفي بطنها جنين لغيره
রেওয়ায়ত ২২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি একজন মহিলাকে বিবাহ করিয়াছে। অতঃপর তাহার সহিত সহবাস করার পূর্বে উহাকে তালাক দিয়াছে। উক্ত ব্যক্তির জন্য সেই মহিলার মাতাকে বিবাহ করা বৈধ হইবে কি? উত্তরে যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিলেনঃ না, বৈধ হইবে না। কারণ জননীর ব্যাপারে (কুরআনুল করীমে) কোন শর্ত আরোপ করা হয় নাই। বরং শর্ত রহিয়াছে স্ত্রীর সৎ কন্যাদের ব্যাপারে।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال سيل زيد بن ثابت عن رجل، تزوج امراة ثم فارقها قبل ان يصيبها هل تحل له امها فقال زيد بن ثابت لا الام مبهمة ليس فيها شرط وانما الشرط في الربايب
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন নারীর সহিত ব্যভিচার করিয়াছে সেই কারণে সেই ব্যক্তির উপর (শরীয়তের বিধান মতে) শাস্তিও প্রয়োগ করা হইয়াছে। সেই ব্যক্তি সেই মহিলার কন্যাকে বিবাহ করিতে পারবে এবং সে ব্যক্তি যাহার সহিত ব্যভিচার করিয়াছে ইচ্ছা করিলে সে মহিলার সহিত তাহার পুত্রের বিবাহ দিতে পারিবে। ইহা এইজন্য যে, উক্ত ব্যক্তি এই মহিলার সহিত হারাম পন্থায় সহবাস করিয়াছে। আর আল্লাহ তা'আলা যে মহিলার কন্যার বিবাহকে হারাম করিয়াছেন তাহা হইল সেই মহিলা যাহার সহিত হালাল পন্থায় অথবা সন্দেহযুক্ত বিবাহ বন্ধনে মিলিত হইয়াছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ (وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ) যে সকল স্ত্রীলোককে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ বিবাহ করিয়াছে তোমরা সে সকল স্ত্রীলোকদের বিবাহ করিও না। (সূরা নিসাঃ ২২) মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে তাহার ইদ্দতের সময়ে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিল এবং তাহার সহিত সহবাসও করিল, তবে তাহার ছেলের জন্য সে মহিলাকে বিবাহ করা হারাম হইবে। ইহা এইজন্য যে, তাহার পিতা সেই মহিলাকে হালাল পন্থায় বিবাহ করিয়াছে যাহাতে তাহার উপর কোন প্রকার শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না। এই বিবাহে যে সন্তান জন্ম লাভ করবে সে সন্তানও তাহার পিতার বলিয়া গণ্য হইবে। যদ্রুপ পুত্রের জন্য উক্ত মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, যে মহিলার সহিত তাহার পিতা উহার ইদ্দতের সময় বিবাহ করিয়াছে ও তাহার সহিত সহবাস করিয়াছে, তদ্রুপ পিতার জন্যও উক্ত স্ত্রীলোকের কন্যাকে বিবাহ করা হারাম যে কন্যার মাতার সহিত সে সহবাস করিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن غير، واحد، ان عبد الله بن مسعود، استفتي وهو بالكوفة عن نكاح الام، بعد الابنة اذا لم تكن الابنة مست فارخص في ذلك ثم ان ابن مسعود قدم المدينة فسال عن ذلك فاخبر انه ليس كما قال وانما الشرط في الربايب فرجع ابن مسعود الى الكوفة فلم يصل الى منزله حتى اتى الرجل الذي افتاه بذلك فامره ان يفارق امراته . قال مالك في الرجل تكون تحته المراة ثم ينكح امها فيصيبها انها تحرم عليه امراته ويفارقهما جميعا ويحرمان عليه ابدا اذا كان قد اصاب الام فان لم يصب الام لم تحرم عليه امراته وفارق الام . وقال مالك في الرجل يتزوج المراة ثم ينكح امها فيصيبها انه لا تحل له امها ابدا ولا تحل لابيه ولا لابنه ولا تحل له ابنتها وتحرم عليه امراته . قال مالك فاما الزنا فانه لا يحرم شييا من ذلك لان الله تبارك وتعالى قال {وامهات نسايكم} فانما حرم ما كان تزويجا ولم يذكر تحريم الزنا فكل تزويج كان على وجه الحلال يصيب صاحبه امراته فهو بمنزلة التزويج الحلال فهذا الذي سمعت والذي عليه امر الناس عندنا
রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকাহ শিগারকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন। শিগার হইতেছে, কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে এই শর্তে অন্যের নিকট বিবাহ দিতেছে যে, কন্যার জামাতা ব্যক্তিটি তাহার আপন কন্যাকে ঐ ব্যক্তির নিকট (যাহার কন্যাকে সে নিজে বিবাহ করিয়াছে তাহার নিকট অর্থাৎ শশুরের নিকট) বিবাহ দিবে। আর এতদুভয়ের মধ্যে কোন মহরও ধার্য করা হয় নাই।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الشغار والشغار ان يزوج الرجل ابنته على ان يزوجه الاخر ابنته ليس بينهما صداق
রেওয়ায়ত ২৫. ইয়াযিদ ইবন জারিয়াহ আনসারী (রাঃ)-এর উভয় পুত্র আবদুর রহমান ও মুজাম্মি’ (রহঃ) হানসা বিনতে খিজাম (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন অকুমারী (সাইয়্যিবা) ছিলেন তখন তাহার পিতা তাহাকে বিবাহ দিলেন। তিনি এ বিবাহকে পছন্দ করিলেন না। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সমীপে আসিলেন (এবং তাহার অসন্তুষ্টির কথা জানাইলেন)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার এই বিবাহকে রদ করিয়া দিলেন।
وحدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عبد الرحمن، ومجمع، ابنى يزيد بن جارية الانصاري عن خنساء بنت خدام الانصارية، ان اباها، زوجها وهي ثيب فكرهت ذلك فاتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فرد نكاحه
রেওয়ায়ত ২৬. আবূ যুবাইর মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এমন একটি বিবাহের ঘটনা উপস্থিত করা হইল, যে বিবাহে একজন পুরুষ ও একজন নারী ব্যতীত অন্য কোন সাক্ষী ছিল না। তিনি বলিলেনঃ ইহা গোপন বিবাহ। আমি ইহাকে জায়েয বলি না। যদি আমার এ সিদ্ধান্ত আমি পূর্বে প্রকাশ করিতাম তবে আমি তোমাকে শাস্তি (রজম) দিতাম।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزبير المكي، ان عمر بن الخطاب، اتي بنكاح لم يشهد عليه الا رجل وامراة فقال هذا نكاح السر ولا اجيزه ولو كنت تقدمت فيه لرجمت
রেওয়ায়ত ২৭. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তুলায়হা আসদিয়া রুশাইদ ছকফী (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাহাকে তালাক দিলেন। তারপর তুলায়হা ইদ্দতের ভিতরে বিবাহ করিলেন। এই কারণে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহাকে এবং তাহার স্বামীকে কয়েকটি চাবুক মারিলেন এবং উভয়কে পৃথক করিয়া দিলেন। তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, যে স্ত্রীলোক ইদ্দতের ভিতর বিবাহ করিয়াছে, বিবাহকারী তাহার সেই স্বামী যদি তাহার সহিত সহবাস না করিয়া থাকে তবে উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। তারপর স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর পক্ষের অসম্পূর্ণ ইদ্দত পূর্ণ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী স্বাভাবিক নিয়মে বিবাহের প্রস্তাবকারীগণের মধ্যে একজন প্রস্তাবকারী হিসাবে গণ্য হইবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে তবে উভয়কে পৃথক করা হইবে। তারপর প্রথম স্বামীর (পক্ষের) অবশিষ্ট ইদ্দত পূর্ণ করিবে। আর তাহারা (দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রী) উভয়ে আর কখনো মিলিত হইতে পারিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সেই স্ত্রীলোক মহর-এর হকদার হইবে। কারণ তাহার সঙ্গে (বিবাহের মাধ্যমে) সহবাস করা হইয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সিদ্ধান্ত হইল, স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, এমন স্বাধীন নারী চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। আর তাহার হয়েযের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় গর্ভধারণের আশংকা দেখা দিলে সে নারী সন্দেহমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করিবে না।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وعن سليمان بن يسار، ان طليحة الاسدية، كانت تحت رشيد الثقفي فطلقها فنكحت في عدتها فضربها عمر بن الخطاب وضرب زوجها بالمخفقة ضربات وفرق بينهما ثم قال عمر بن الخطاب ايما امراة نكحت في عدتها فان كان زوجها الذي تزوجها لم يدخل بها فرق بينهما ثم اعتدت بقية عدتها من زوجها الاول ثم كان الاخر خاطبا من الخطاب وان كان دخل بها فرق بينهما ثم اعتدت بقية عدتها من الاول ثم اعتدت من الاخر ثم لا يجتمعان ابدا . قال
রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তির নিকট আযাদ স্ত্রী ছিল, এমতাবস্থায় সে দাসীকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিল। উত্তরে তাহারা উভয়ে বলিলেন, আযাদ স্ত্রী[1] ও দাসীকে স্ত্রী হিসাবে একত্র করাকে আমরা পছন্দ করি না।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عباس، وعبد الله بن عمر، سيلا عن رجل، كانت تحته امراة حرة فاراد ان ينكح عليها امة فكرها ان يجمع بينهما
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী ও খ্ৰীষ্টান ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা হালাল নহে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা কিতাবে ইরশাদ করিয়োছেনঃ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ এবং মু'মিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের পূর্বে যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তাহদের সচ্চরিত্রা নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হইল (সূরা মায়িদাঃ ৫)। উহারা হইতেছেন ইহুদী ও খ্রিস্টান আযাদ মহিলাগণ ।” আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেনঃ وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ “তোমাদের মধ্যে কাহারও স্বাধীন ঈমানদার নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকিলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার নারী বিবাহ করিবে।” (সূরা নিসাঃ ২৫) ইহারা হইলেন মুমিনা ক্রীতদাসিগণ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে মু'মিন ক্রীতদাসিগণকেই আল্লাহ তা'আলা হালাল করিয়াছেন। যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে (ইহুদী ও খ্রিস্টান) তাহাদের ক্রীতদাসিগণকে (আল্লাহ তা'আলা) হালাল করেন নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী ও খ্রিস্টান ক্রীতদাসগণের খরিদসূত্রে মালিক হইলে তবে মালিকদের জন্য উহারা হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রয়সূত্রে মালিক হইলেও অগ্নিপূজারী দাসীর সহিত সহবাস করা হালাল নহে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب، انه كان يقول لا تنكح الامة على الحرة الا ان تشاء الحرة فان طاعت الحرة فلها الثلثان من القسم . قال مالك ولا ينبغي لحر ان يتزوج امة وهو يجد طولا لحرة ولا يتزوج امة اذا لم يجد طولا لحرة الا ان يخشى العنت وذلك ان الله تبارك وتعالى قال في كتابه {ومن لم يستطع منكم طولا ان ينكح المحصنات المومنات فمما ملكت ايمانكم من فتياتكم المومنات} وقال {ذلك لمن خشي العنت منكم} قال مالك والعنت هو الزنا
রেওয়ায়ত ৩০. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি দাসী স্ত্রীকে (তাহার স্ত্রী থাকা অবস্থায়) তিন তালাক প্রদান করে, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়া লয়; সেই দাসী সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না, যাবত সে দাসী (ইদ্দতের পর) অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে (অর্থাৎ প্রথমাবস্থায় অন্যের দাসী ও তাহার স্ত্রী ছিল, পরে সে তালাক দিয়া উহাকে ক্রয় করিয়া লইয়াছে)।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن ابي عبد الرحمن، عن زيد بن ثابت، انه كان يقول في الرجل يطلق الامة ثلاثا ثم يشتريها انها لا تحل له حتى تنكح زوجا غيره
রেওয়ায়ত ৩১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি তাহার এক ক্রীতদাসের নিকট তাহার দাসীকে বিবাহ দিয়াছে। অতঃপর ক্রীতদাস (স্বামী) উহাকে তিন তালাক দিয়াছে। তারপর সেই দাসীকে তাহার কর্তা হিবা (দান) করিলেন তালাকদাতা ক্রীতদাসের নিকট। তবে দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার কারণে এই দাসী সেই ক্রীতদাসের জন্য হালাল হইবে কি? তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ না, যাবৎ স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان سعيد بن المسيب، وسليمان بن يسار، سيلا عن رجل، زوج عبدا له جارية فطلقها العبد البتة ثم وهبها سيدها له هل تحل له بملك اليمين فقالا لا تحل له حتى تنكح زوجا غيره
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব যুহরী (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার অধীনে (বিবাহ সূত্রে) অন্যের ক্রীতদাসী ছিল, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়াছে (ক্রয় করার পূর্বে) সে উহাকে এক তালাক দিয়াছিল। (এখন তাহার জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হইবে কি?) ইবন শিহাব (রহঃ) বলিলেনঃ (মিলকে য়ামীন) ক্রয়ের মাধ্যমে দাস-দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার দ্বারা সেই দাসী উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি দিয়া থাকে তবে তাহার জন্য উক্ত দাসী মিলকে য়ামীনের দ্বারা হালাল হইবে না, যাবৎ সে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (অন্যের) ক্রীতদাসীকে বিবাহ করে এবং তাহার সন্তান জন্মে। অতঃপর সেই দাসীকে সে ক্রয় করে। সন্তান হওয়ার দারুন এই ক্রীতদাসী তাহার উম্মে ওয়ালাদ[1] হইবে না। কারণ সে অন্যের ক্রীতদাসী। তবে উহাকে ক্রয় করার পর তাহার (এই) মালিকের স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সেই ক্রীতদাসী সন্তান জন্ম দিলে উম্মে ওয়ালাদ হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত ক্রীতদাসকে ক্রয় করে এবং সেই দাসী তাহার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়। অতঃপর তাহারই স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সে সন্তান জন্ম দেয় তবে আমাদের মতে গর্ভ ধারণের কারণে এই দাসী উম্মে ওয়ালাদ বলিয়া গণ্য হইবে। আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
وحدثني عن مالك، انه سال ابن شهاب عن رجل، كانت تحته امة مملوكة فاشتراها وقد كان طلقها واحدة فقال تحل له بملك يمينه ما لم يبت طلاقها فان بت طلاقها فلا تحل له بملك يمينه حتى تنكح زوجا غيره . قال مالك في الرجل ينكح الامة فتلد منه ثم يبتاعها انها لا تكون ام ولد له بذلك الولد الذي ولدت منه وهي لغيره حتى تلد منه وهي في ملكه بعد ابتياعه اياها . قال مالك وان اشتراها وهي حامل منه ثم وضعت عنده كانت ام ولده بذلك الحمل فيما نرى والله اعلم
রেওয়ায়ত ৩৩. উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন স্ত্রীলোক ও তাহার কন্যা সম্পর্কে, যাহাদের উভয়কে ক্রয়সূত্রে মালিক হইয়া পর্যায়ক্রমে সহবাস করা হইয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, উভয়কে একত্র করিয়া সহবাস করাকে আমি পছন্দ করি না। তিনি এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابيه، ان عمر بن الخطاب، سيل عن المراة، وابنتها، من ملك اليمين توطا احداهما بعد الاخرى فقال عمر ما احب ان اخبرهما جميعا . ونهى عن ذلك
রেওয়ায়ত ৩৪. কাবীসা ইবন যুয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে এমন দুই বোন সম্পর্কে প্রশ্ন করিল, যে দুই বোনের ক্রয়সূত্রে (কেহ) মালিক হইয়াছে। এমতাবস্থায় উভয়ের সঙ্গ সংগত হওয়া যাইবে কি? উসমান (রাঃ) বলিলেনঃ উভয়ের সংগত হওয়া (কুরআনুল করীমের) এক আয়াত অনুযায়ী হালাল করা হইয়াছে। আবার অন্য আয়াত অনুযায়ী ইহাকে হারাম করা হইয়াছে। তাই আমি ইহাকে (দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়া) পছন্দ করি না। প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অন্য একজন সাহাবীর সঙ্গে সাক্ষাত হইল। তখন সে এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিল। তিনি বলিলেনঃ লোকের উপর যদি আমার অধিকার থাকিত তবে কাহাকেও এইরূপ করিতে পাইলে আমি তাহাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতাম! ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি এই সাহাবী আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যুবাইর ইবন আওয়াম (রাঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত তাহার নিকট পৌছিয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن قبيصة بن ذويب، ان رجلا، سال عثمان بن عفان عن الاختين، من ملك اليمين هل يجمع بينهما فقال عثمان احلتهما اية وحرمتهما اية فاما انا فلا احب ان اصنع ذلك . قال فخرج من عنده فلقي رجلا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فساله عن ذلك فقال لو كان لي من الامر شىء ثم وجدت احدا فعل ذلك لجعلته نكالا . قال ابن شهاب اراه علي بن ابي طالب
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তির নিকট এক ক্রীতদাসী আছে। সে উহার সহিত সংগত হইয়া থাকে। অতঃপর সেই দাসীর বোনের সহিত সংগত হইতে ইচ্ছা করিল। ইহা সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না যাবৎ ইহার বোন তাহার জন্য হারাম না হয়; (পূর্ববর্তী বোনকে) অন্যের নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে অথবা আযাদ করিয়া দিয়া অথবা এই ধরনের অন্য কোন উপায় কিংবা এই দাসীকে তাহার ক্রীতদাস অথবা অন্য কাহারও নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে।
وحدثني عن مالك، انه بلغه عن الزبير بن العوام، مثل ذلك . قال مالك في الامة تكون عند الرجل فيصيبها ثم يريد ان يصيب اختها انها لا تحل له حتى يحرم عليه فرج اختها بنكاح او عتاقة او كتابة او ما اشبه ذلك يزوجها عبده او غير عبده
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، وهب لابنه جارية فقال لا تمسها فاني قد كشفتها
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، وهب لابنه جارية فقال لا تمسها فاني قد كشفتها
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। এবং বলিয়া দিলেন, তুমি ইহাকে স্পর্শ (সহবাস) করিও না। কারণ আমি উহার পর্দা উন্মোচন করিয়াছি (অর্থাৎ সহবাস করিয়াছি)। আবদুর রহমান ইবন মুজাববার[1] (রহঃ) বলেনঃ মালিক ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাহার এক পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন এবং তিনি পুত্রকে বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না, কারণ আমি উহার সাথে সংগত হওয়ার ইচ্ছা করিয়াছি। সুতরাং আমি তোমাকে উহার সহিত মিলিত হওয়ার অনুমতি দিতে পারি না।
وحدثني عن مالك، عن عبد الرحمن بن المجبر، انه قال وهب سالم بن عبد الله لابنه جارية قال لا تقربها فاني قد اردتها فلم انشط اليها
রেওয়ায়ত ৩৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু নাহশল ইবন আসওয়াদ, কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ)-কে বলিলেন, আমার এক দাসীকে জ্যোৎস্না রাত্রিতে পরিচ্ছদ খোলা অবস্থায় দেখিয়াছি। সংগত হওয়ার উদ্দেশ্যে কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীর নিকট যেভাবে বসে আমিও উহার নিকট সেইরূপ বসিলাম। সে দাসী বলিল, আমি ঋতুমতী। ইহা শুনিয়া আমি তাহার সহিত সংগত হইলাম না। এখন আমি উহাকে সহবাসের জন্য আমার পুত্রকে দান করিতে পারি কিন্তু কাসেম তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان ابا نهشل بن الاسود، قال للقاسم بن محمد اني رايت جارية لي منكشفا عنها وهي في القمر فجلست منها مجلس الرجل من امراته فقالت اني حايض فقمت فلم اقربها بعد افاهبها لابني يطوها فنهاه القاسم عن ذلك
রেওয়ায়ত ৩৮. ইবরাহীম ইবন আবি 'আবলা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তাহার এক সঙ্গীকে একটি দাসী দান করিলেন। তারপর তাহার নিকট উহার অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলেন। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ[1] আমি উহা আমার পুত্রকে দান করিতে ইচ্ছা করিয়াছি। সে উহার সহিত এমন (অর্থাৎ সহবাস) করিবে। আবদুল মালিক বলিলেনঃ মারওয়ান তোমার তুলনায় অধিক সাবধানী ছিলেন। তিনি তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। অতঃপর বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না। কারণ, আমি উহার হাঁটু অনাবৃত অবস্থায় দেখিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن ابراهيم بن ابي عبلة، عن عبد الملك بن مروان، انه وهب لصاحب له جارية ثم ساله عنها فقال قد هممت ان اهبها لابني فيفعل بها كذا وكذا . فقال عبد الملك لمروان كان اورع منك وهب لابنه جارية ثم قال لا تقربها فاني قد رايت ساقها منكشفة