Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৪২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন (বদরের যুদ্ধের সময়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে জিহাদের উৎসাহ দিতে যাইয়া জান্নাতের অবস্থা বর্ণনা করেন। এমন সময় জনৈক আনসার সাহাবী[1] যিনি কয়েকটি খেজুর হাতে নিয়া তখন খাইতেছিলেন, তিনি বলিয়া উঠিলেন, এই খেজুরগুলি খাইয়া শেষ করা পর্যন্ত যদি আমি অপেক্ষা করি তবে সত্যি আমি দুনিয়া লোভী বলিয়া প্রমাণিত হইব। শেষ পর্যন্ত বাকি খেজুরগুলি দূরে ছুড়িয়া ফেলিলেন এবং তলোয়ার হাতে নিয়ে লড়াইয়ের ভিড়ে ঢুকিয়া পড়িলেন এবং লড়াই করিতে করিতে শহীদ হইয়া গেলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم رغب في الجهاد وذكر الجنة ورجل من الانصار ياكل تمرات في يده فقال اني لحريص على الدنيا ان جلست حتى افرغ منهن . فرمى ما في يده فحمل بسيفه فقاتل حتى قتل
রেওয়ায়ত ৪৩. মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) বলিয়াছেনঃ জিহাদ দুই প্রকার। এক হইল যাহাতে একজন সর্বোত্তম সম্পদ ব্যয় করে। সাথীদের সহিত প্রেম-প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হইয়া থাকে। সেনাধ্যক্ষের নির্দেশ পালন করে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি হইতে সে বাঁচিয়া থাকে। এই ধরনের জিহাদ সম্পূর্ণভাবে সওয়াবের। আরেক ধরনের জিহাদ হইল যাহাতে একজন উত্তম সম্পদ ব্যয় করে না, সঙ্গীদের সহিত প্রীতির সম্পর্ক রাখে না, সেনাধ্যক্ষের নির্দেশের অবাধ্যতা করে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি করা হইতে বিরত থাকে না। এই ধরনের জিহাদে সওয়াব লাভ হওয়া তো দূরের কথা, গুনাহ না লইয়া ফিরিয়া আসিতে পারাটাই অনেক মুশকিল।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن معاذ بن جبل، انه قال الغزو غزوان فغزو تنفق فيه الكريمة ويياسر فيه الشريك ويطاع فيه ذو الامر ويجتنب فيه الفساد فذلك الغزو خير كله وغزو لا تنفق فيه الكريمة ولا يياسر فيه الشريك ولا يطاع فيه ذو الامر ولا يجتنب فيه الفساد فذلك الغزو لا يرجع صاحبه كفافا
রেওয়ায়ত ৪৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ ঘোড়ার কপালে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বরকত এবং মঙ্গল লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الخيل في نواصيها الخير الى يوم القيامة
রেওয়ায়ত ৪৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ইযমার[1] কৃত ঘোড়ার জন্য হাফইয়া হইতে সানিয়াতুলবিদা পর্যন্ত (পাঁচ মাইল) সীমা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। আর সাধারণ ঘোড়ার জন্য সানিয়াতুল বিদা হইতে মসজিদে বনী যুরাইক পর্যন্ত (এক মাইল) সীমা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় শরীক ছিলেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سابق بين الخيل التي قد اضمرت من الحفياء وكان امدها ثنية الوداع وسابق بين الخيل التي لم تضمر من الثنية الى مسجد بني زريق وان عبد الله بن عمر كان ممن سابق بها
রেওয়ায়ত ৪৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলিতেনঃ ঘোড়দৌড়ে কোন কিছুর শর্ত করায় দোষ নাই তবে শর্ত হইল, ইহাদের মধ্যে তৃতীয় এক ব্যক্তি হইতে হইবে। সে যদি সকলের আগে যাইতে পারে শর্তকৃত বস্তু সে-ই নিয়া যাইবে। আর পিছনে পড়িয়া গেলে সে কিছুই পাইবে না।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع سعيد بن المسيب، يقول ليس برهان الخيل باس اذا دخل فيها محلل فان سبق اخذ السبق وان سبق لم يكن عليه شىء
রেওয়ায়ত ৪৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বীয় চাদর দ্বারা ঘোড়ার মুখ মুছিতে দেখিয়া ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিয়াছিলেনঃ ঘোড়ার দেখাশুনা না করায় কাল রাতে আমাকে আল্লাহর তরফ হইতে সতর্ক করা হইয়াছিল।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ريي وهو يمسح وجه فرسه بردايه فسيل عن ذلك فقال " اني عوتبت الليلة في الخيل
রেওয়ায়ত ৪৮. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, জিহাদের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার পৌছান তখন রাত হইয়া গিয়াছিল। তাহার রীতি ছিল, জিহাদের উদ্দেশ্যে কোথাও রাত্রে গিয়া পৌছলে সকাল পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করিতেন (কোন আক্রমণ করিতেন না)। ভোরে খায়বরবাসিগণ কোদাল, ঝুড়ি ইত্যাদি লইয়া (কাজের উদ্দেশ্যে) স্বাভাবিকভাবেই বাহির হইল। তখন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সসৈন্যে দেখিতে পাইয়া চিৎকার করিয়া বলিতে লাগিল, আরে, আল্লাহ্র কসম, মুহাম্মদ এবং তাহার সহিত পূর্ণ এক বাহিনী! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হইয়া গিয়াছে এবং তিনি তখন এই আয়াত পাঠ করিলেনঃ (فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنذَرِينَ) অর্থাৎ যখন আমি কোন জাতির মুকাবিলায় অবতরণ করি তখন ভয় প্রদর্শিত জাতির ভোর বড় দুঃখজনক হয়। (সূরা আস-সফফাতঃ)
وحدثني عن مالك، عن حميد الطويل، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حين خرج الى خيبر اتاها ليلا وكان اذا اتى قوما بليل لم يغر حتى يصبح فخرجت يهود بمساحيهم ومكاتلهم فلما راوه قالوا محمد والله محمد والخميس . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الله اكبر خربت خيبر انا اذا نزلنا بساحة قوم فساء صباح المنذرين
রেওয়ায়ত ৪৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি এক জোড়া বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করিবে, তবে কিয়ামতের দিন বেহেশতের দরজায় তাহাকে ডাকিয়া বলা হইবে, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার জন্য রহিয়াছে উত্তম প্রতিদান। অতঃপর নামায়ীকে নামাযের দরজা দিয়া এবং মুজাহিদকে জিহাদের দরজা দিয়া, সদকাদাতাকে সদকার দরজা দিয়া এবং রোযাদারকে রাইয়্যান নামক দরজা দিয়া ডাকা হইবে। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) তখন বলিলেনঃ যে কোন এক দরজা দিয়া ডাকিলেই আর অন্য দরজা দিয়া প্রবেশের প্রয়োজন পড়িবে না। তবে এমনকি কেহ হইবে যাহাকে সকল দরজা দিয়াই ডাকা হইবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমার আশা আপনি তাঁহাদের মধ্যে হইবেন।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من انفق زوجين في سبيل الله نودي في الجنة يا عبد الله هذا خير فمن كان من اهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من اهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من اهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من اهل الصيام دعي من باب الريان " . فقال ابو بكر الصديق يا رسول الله ما على من يدعى من هذه الابواب من ضرورة فهل يدعى احد من هذه الابواب كلها قال " نعم وارجو ان تكون منهم
রেওয়ায়ত ৫০. আবদুর রহমান ইবন আবু সাসা'আ (রাঃ) বর্ণনা করেন, 'আমর ইবন জামুহ (রাঃ) এবং আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) উভয়েই ছিলেন আনসার ও বনী সালমা গোত্রের। তাহারা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হইয়াছিলেন। তাহাদের দুইজনকে একটি কবরে সমাধিস্থ করা হইয়াছিল। পানি নামার ঢালের মুখে তাঁহাদের কবর পড়িয়া গিয়াছিল। তাই পানির স্রোত ক্রমে তাহাদের কবর বিনষ্ট করিয়া ফেলিয়াছিল। তাহাদের লাশ স্থানান্তরিত করার উদ্দেশ্যে পরে তাহাদের কবর খোঁড়ান হইলে দেখা গেল তাহাদের লাশ সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় রহিয়াছে। মনে হইতেছিল কালকেই তাহদের মৃত্যু হইয়াছে। তাহদের একজন আহত হওয়ার সময় ক্ষত স্থানে হাত চাপিয়া ধরিয়াছিলেন। দাফন করার সময় তাঁহার হাতটা সরাইয়া দিলে হাতটি আবার সেই স্থানে আসিয়া লাগিয়া যায়। উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার ছিচল্লিশ বৎসর পর তাহাদের লাশ স্থানান্তরিত করার সময় এই ঘটনা ঘটিয়াছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রয়োজনবশত এক কবরে একাধিক লাশ দাফন করিলে কোন দোষ নাই। তবে ইহাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে কিবলার দিকে শোয়াইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن ابي صعصعة، انه بلغه ان عمرو بن الجموح، وعبد الله بن عمرو الانصاريين، ثم السلميين كانا قد حفر السيل قبرهما وكان قبرهما مما يلي السيل وكانا في قبر واحد وهما ممن استشهد يوم احد فحفر عنهما ليغيرا من مكانهما فوجدا لم يتغيرا كانهما ماتا بالامس وكان احدهما قد جرح فوضع يده على جرحه فدفن وهو كذلك فاميطت يده عن جرحه ثم ارسلت فرجعت كما كانت وكان بين احد وبين يوم حفر عنهما ست واربعون سنة . قال مالك لا باس ان يدفن الرجلان والثلاثة في قبر واحد من ضرورة ويجعل الاكبر مما يلي القبلة
রেওয়ায়ত ৫১. রবী'আ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট বাহরাইন হইতে প্রচুর ধন-সম্পদ আসিয়া পৌছিলে তিনি ঘোষণা করাইয়া দিয়াছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিতকালে কাহাকেও কিছু দেওয়ার ওয়াদা করিয়া থাকিলে অথবা কেউ তাহার নিকট কিছু পাওনা থাকিলে সে আমার নিকট হইতে যেন তাহা নিয়া যায়। এই সময় জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) আগাইয়া আসিলেন। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে তখন তিন অঞ্জলি (দিরহাম) দিলেন।
حدثني عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، انه قال قدم على ابي بكر الصديق مال من البحرين فقال من كان له عند رسول الله صلى الله عليه وسلم واى او عدة فلياتني فجاءه جابر بن عبد الله فحفن له ثلاث حفنات