Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০ হাদিসসমূহ
وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ অর্থঃ তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝাইয়া দিবার জন্য যাহা তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হইয়াছিল, যাহাতে উহারা চিন্তা করে। (সূরা আন-নাহলঃ ৪৪) রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি যতদিন বাড়ি ফিরিয়া না আসে ততদিন তাহার উদাহরণ হইল এমন এক ব্যক্তি, যে ক্লান্তিহীনভাবে অনবরত রোযা রাখে এবং নামায পড়ে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " مثل المجاهد في سبيل الله كمثل الصايم القايم الدايم الذي لا يفتر من صلاة ولا صيام حتى يرجع
রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে আর শুধুমাত্র জিহাদ এবং আল্লাহর কথার উপর অপরিসীম আস্থাই তাহাকে বাড়ি হইতে বাহির করিয়া নিয়া আসে, আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির জিম্মাদার হইয়া যান। হয় তাহাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন অথবা সওয়াব ও গনীমতের সম্পদসহ তাহাকে বাড়ি ফিরাইয়া আনিবেন।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " تكفل الله لمن جاهد في سبيله - لا يخرجه من بيته الا الجهاد في سبيله وتصديق كلماته - ان يدخله الجنة او يرده الى مسكنه الذي خرج منه مع ما نال من اجر او غنيمة
রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ঘোড়া তিন ধরনের। একজনের জন্য ইহা সওয়াবের, আর একজনের জন্য ইহা ঢালস্বরূপ এবং আর একজনের জন্য ইহা গুনাহর কারণ হইয়া থাকে। ইহা সওয়াবের কারণ হয় ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি ইহাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়তে লালন-পালন করে। কোন চারণক্ষেত্রে বা বাগানে ইহাকে দীর্ঘ রজ্জুর সাহায্যে খুঁটির সঙ্গে বাঁধিয়া রাখে। যতদূর পর্যন্ত এই ঘোড়াটি ঘাস খাইবে তাহার আমলনামায় সওয়াব লেখা হইবে। ঘোড়াটি যদি রজ্জু ছিড়িয়া আরো দূরে চলিয়া যায়, তবে ইহার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং বিষ্ঠার বিনিময়ে সওয়াব লেখা হইবে। কোন নদীর কাছে গিয়া যদি ইহা পানি পান করে, তবে মালিক ইচ্ছা করিয়া পানি পান না করানো সত্ত্বেও ইহার সওয়াব লেখা হইবে। আর ইহা ঢালস্বরূপ হইল ঐ ব্যক্তির জন্য, যে ব্যক্তি ইহাকে উপার্জনের এবং পরমুখাপেক্ষী না হওয়ার উদ্দেশ্যে লালন-পালন করে এবং ইহার যাকাত আদায় করে। আর পাপের কারণ হইল ঐ ব্যক্তির জন্য, যে অহংকার ও রিয়াকারী এবং মুসলিমদের সহিত শক্রতা করার উদ্দেশ্যে ইহাকে লালন-পালন করে। গাধা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেনঃ এই সম্পর্কে আমার উপর নিম্নের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ আয়াতটি ব্যতীত অন্য কোন হুকুম অবতীর্ণ হয় নাই। আয়াতটি হইল এইঃ (فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ) অর্থঃ সামান্য পরিমাণ নেক আমল করিলে তাহাও সে দেখিতে পাইবে আর সামান্য পরিমাণ মন্দ আমল করিলে তাহাও সে দেখিতে পাইবে । (সূরা যিলযালঃ)
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الخيل لرجل اجر ولرجل ستر وعلى رجل وزر فاما الذي هي له اجر فرجل ربطها في سبيل الله فاطال لها في مرج او روضة فما اصابت في طيلها ذلك من المرج او الروضة كان له حسنات ولو انها قطعت طيلها ذلك فاستنت شرفا او شرفين كانت اثارها وارواثها حسنات له ولو انها مرت بنهر فشربت منه ولم يرد ان يسقي به كان ذلك له حسنات فهي له اجر ورجل ربطها تغنيا وتعففا ولم ينس حق الله في رقابها ولا في ظهورها فهي لذلك ستر ورجل ربطها فخرا ورياء ونواء لاهل الاسلام فهي على ذلك وزر " . وسيل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحمر فقال " لم ينزل على فيها شىء الا هذه الاية الجامعة الفاذة {فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره}
রেওয়ায়ত ৪. আত ইবন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ সর্বোচ্চ মর্যাদার আধকারী ব্যক্তির কথা তোমাদেরকে বলিব কি? যে ব্যক্তি স্বীয় ঘোড়ার লাগাম হাতে নিয়া আল্লাহর রাহে জিহাদে লিপ্ত থাকে, সেই ব্যক্তি হইল সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। অতঃপর সর্বোচ্চ মর্যাদা হইল ঐ ব্যক্তির যে ইবাদতে লিপ্ত হইয়া থাকে আর কাহাকেও তাহার সহিত শরীক করে নাই।
وحدثني عن عبد الله بن عبد الرحمن بن معمر الانصاري، عن عطاء بن يسار، انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا اخبركم بخير الناس منزلا رجل اخذ بعنان فرسه يجاهد في سبيل الله الا اخبركم بخير الناس منزلا بعده رجل معتزل في غنيمته يقيم الصلاة ويوتي الزكاة ويعبد الله لا يشرك به شييا
রেওয়ায়ত ৫. উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) বলেন, সচ্ছল ও অসচ্ছল সকল অবস্থায় এবং সুখে ও দুঃখে কথা শোনার, আনুগত্য প্রদর্শন করার, উপযুক্ত মুসলিম প্রশাসকদের সহিত বিবাদ না করার, সকল স্থানে সত্য বলার এবং আল্লাহর কাজে নিন্দুকের নিন্দ গ্রাহ্য না করার উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের হাতে আমরা বায়’আত করিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، قال اخبرني عبادة بن الوليد بن عبادة بن الصامت، عن ابيه، عن جده، قال بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على السمع والطاعة في اليسر والعسر والمنشط والمكره وان لا ننازع الامر اهله وان نقول او نقوم بالحق حيثما كنا لا نخاف في الله لومة لايم
রেওয়ায়ত ৬. যাইদ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন-আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) রোমক বাহিনীর শক্তিমত্তা ও নিজেদের আশংকাজনক অবস্থার কথা উল্লেখ করিয়া উমর বিন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখিলে উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিয়াছিলেন, হামদ ও সালাতের পর। জানিয়া রাখুন, মুমিনের উপর যখনই কোন বিপদ আসুক না কেন আল্লাহ তাহা দূরীভূত করিয়া দেন। মনে রাখিবেন, একবারের কষ্ট কখনো দুইবারের সুখ ও আরামের উপর প্রাধান্য লাভ করিতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অর্থাৎ, ওহে মু’মিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং প্রতিরক্ষায় দৃঢ় হইয়া থাক আর আল্লাহকে ভয় কর, যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার। (আলে ইমরানঃ)
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، قال كتب ابو عبيدة بن الجراح الى عمر بن الخطاب يذكر له جموعا من الروم وما يتخوف منهم فكتب اليه عمر بن الخطاب اما بعد فانه مهما ينزل بعبد مومن من منزل شدة يجعل الله بعده فرجا وانه لن يغلب عسر يسرين وان الله تعالى يقول في كتابه {يا ايها الذين امنوا اصبروا وصابروا ورابطوا واتقوا الله لعلكم تفلحون}
রেওয়ায়ত ৭. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ শক্রর দেশে কুরআন লইয়া যাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হইল, শত্রুরা যেন কুরআন শরীফের অবমাননা করার সুযোগ না পায়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يسافر بالقران الى ارض العدو
রেওয়ায়ত ৮. আবদুর রহমান ইবন কা'ব (রাঃ) বলেন, ইবন আবুল হুকাইককে যাহারা হত্যা করিতে গিয়াছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে নারী ও শিশু হত্যা করিতে নিষেধ করিয়া দিয়াছিলেন। ইবন কা'ব বলেন, ঐ কার্যে নিয়োজিতদের একজন বলিয়াছেনঃ ইবন আবুল হুকাইকের স্ত্রী চিৎকার করিয়া আমাদের তৎপরতা ফাঁস করিয়া দিয়াছিল। আমি তাহাকে হত্যা করার জন্য তলওয়ার উঠাইয়াছিলাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা মনে পড়িতেই আবার নামাইয়া ফেলিয়াছিলাম। আর তাহা না হইলে তাহাকেও সেখানে শেষ করিয়া আসিতাম।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن ابن لكعب بن مالك، - قال حسبت انه قال عن عبد الرحمن بن كعب، انه - قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين قتلوا ابن ابي الحقيق عن قتل النساء والولدان - قال - فكان رجل منهم يقول برحت بنا امراة ابن ابي الحقيق بالصياح فارفع السيف عليها ثم اذكر نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكف ولولا ذلك استرحنا منها
রেওয়ায়ত ৯. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কোন এক যুদ্ধে একজন স্ত্রীলোককে নিহত অবস্থায় পড়িয়া থাকিতে দেখিতে পাইয়া এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেন এবং যুদ্ধে নারী ও শিশুহত্যা নিষিদ্ধ করেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى في بعض مغازيه امراة مقتولة فانكر ذلك ونهى عن قتل النساء والصبيان
রেওয়ায়ত ১০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণিত-আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) সিরিয়ায় এক সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করিয়াছিলেন। উক্ত বাহিনীর এক-চতুর্থাংশের অধিনায়ক ছিলেন ইয়াযিদ ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)। বিদায়ের সময় তিনি তাহার সঙ্গে কিছুদূর পদব্রজে গমন করেন। তখন ইয়াযিদ (রাঃ) বলিলেন, আমীরুল মু'মিনীন হয় আপনি সওয়ারীতে আরোহণ করিয়া চলুন, না হয় আমি নামিয়া পড়ি এবং আমিও হাটিয়া চলি। আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলিলেনঃ তুমিও হাঁটিয়া চলিতে পার না আর আমিও সওয়ার হইতে পারিব না। আমার এই হাটাকে আমি আল্লাহর পথে কদম ফেলা বলিয়া বিশ্বাস করি। অতঃপর তিনি আরো বলিলেন, সেখানে কিছু এমন ধরনের লোক তুমি দেখিবে যাহারা নিজেদেরকে আল্লাহর ধ্যানে নিবেদিত বলিয়া মনে করে (অর্থাৎ খৃষ্টান পদ্রী)। তাহাদিগকে তাহদের অবস্থায় ছাড়িয়া দিও। কিছু এমন লোক দেখিবে যাহারা মধ্যভাগে মাথা মুন্ডন করে (তৎকালে অগ্নি উপাসকদের এই রীতি ছিল।) তাহাদিগকে সেখানেই তলোয়ার দিয়া উড়াইয়া দিবে। দশটি বিষয়ে তোমাকে আমি বিশেষ উপদেশ দিতেছি। উহার প্রতি লক্ষ্য রাখিও । নারী, শিশু ও বৃদ্ধদিগকে হত্যা করিবে না। ফলন্ত বৃক্ষ কাটিও না, আবাদ ভূমিকে ধ্বংস করিও না, খাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিন্ন বকরী বা উট হত্যা করিও না, মৌমাছির মৌচাক পোড়াইয়া দিও না অথবা পানিতে ডুবাইয়া দিও না, গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ মাল হইতে কিছু চুরি করিও না, হতোদ্যম বা ভীরু হইও না।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان ابا بكر الصديق، بعث جيوشا الى الشام فخرج يمشي مع يزيد بن ابي سفيان - وكان امير ربع من تلك الارباع - فزعموا ان يزيد قال لابي بكر اما ان تركب واما ان انزل . فقال ابو بكر ما انت بنازل وما انا براكب اني احتسب خطاى هذه في سبيل الله ثم قال له انك ستجد قوما زعموا انهم حبسوا انفسهم لله فذرهم وما زعموا انهم حبسوا انفسهم له وستجد قوما فحصوا عن اوساط رءوسهم من الشعر فاضرب ما فحصوا عنه بالسيف واني موصيك بعشر لا تقتلن امراة ولا صبيا ولا كبيرا هرما ولا تقطعن شجرا مثمرا ولا تخربن عامرا ولا تعقرن شاة ولا بعيرا الا لماكلة ولا تحرقن نحلا ولا تفرقنه ولا تغلل ولا تجبن
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাহার জনৈক শাসনকর্তাকে লিখিয়াছিলেন, আমি জানিতে পারিয়াছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হিওয়া সাল্লাম যখন কোন দিকে সৈন্যদল প্রেরণ করিতেন তখন তাহাদিগকে উপদেশ দিয়া বলিতেনঃ তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহরই পথে জিহাদ করিয়া যাও। যাহারা আল্লাহকে অস্বীকার করিয়াছে, কুফরী করিয়াছে, তাহদের বিরুদ্ধেই তোমরা এই জিহাদ করিতেছ। খেয়ানত করিও না, ওয়াদা ভঙ্গ করিও না, কাহারো নাক-কান কাটিয়া বিকৃত করিও না, শিশু ও নারীদিগকে হত্যা করিও না। অন্য সেনাদল ও বাহিনীকেও এই কথাগুলি শুনাইয়া দিও। আল্লাহ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন, তোমাদিগকে নিরাপদে রাখুন।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عمر بن عبد العزيز، كتب الى عامل من عماله انه بلغنا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا بعث سرية يقول لهم " اغزوا باسم الله في سبيل الله تقاتلون من كفر بالله لا تغلوا ولا تغدروا ولا تمثلوا ولا تقتلوا وليدا وقل ذلك لجيوشك وسراياك ان شاء الله والسلام عليك
রেওয়ায়ত ১২. মালিক (রহঃ) কুফার জনৈক ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন-উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জনৈক সেনাধ্যক্ষকে লিখিয়াছিলেন, জানিতে পারিলাম, অনারব কাফেরদের মধ্যে কেহ যুদ্ধ বন্ধ করিয়া পাহাড়ে আশ্রয় নিলে তোমাদের কেহ তাহাকে ডাকিয়া বলে, “তোমার কোন ভয় নাই”, পরে হাতের মুঠায় পাইয়া আবার তাহাকে হত্যা করিয়া ফেলে। যাহার হাতে আমার প্রাণ তাহার কসম, সত্যই যদি কাহাকেও আমি কোনদিন এমন (ওয়াদা ভঙ্গ) করিতে দেখিতে পাই, তবে তাহার গর্দান উড়াইয়া দিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি সম্পর্কে আলিমগণ একমত নহেন এবং ইহার উপর আমল নাই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- ইশারা ইঙ্গিতে যদি কেহ কাহাকে আমান বা নিরাপত্তা প্রদান করে, তবে কি তাহা গ্রহণযোগ্য হইবে? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমি মনে করি সৈন্যদিগকে যেন বলিয়া দেওয়া হয় যে, ইশারা করিয়া যাহাকে নিরাপত্তা প্রদান করা হইয়াছে তাহাকে যেন হত্যা না করে। কারণ আমার মতে ইশারাও ভাষার মতোই। আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে জাতি চুক্তি ভঙ্গ করে, সেই জাতির উপর শক্ৰ চাপাইয়া দেওয়া হয়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن رجل، من اهل الكوفة ان عمر بن الخطاب، كتب الى عامل جيش كان بعثه انه بلغني ان رجالا منكم يطلبون العلج حتى اذا اسند في الجبل وامتنع قال رجل مطرس - يقول لا تخف - فاذا ادركه قتله واني والذي نفسي بيده لا اعلم مكان واحد فعل ذلك الا ضربت عنقه . قال يحيى سمعت مالكا يقول ليس هذا الحديث بالمجتمع عليه وليس عليه العمل . وسيل مالك عن الاشارة بالامان اهي بمنزلة الكلام فقال نعم واني ارى ان يتقدم الى الجيوش ان لا تقتلوا احدا اشاروا اليه بالامان لان الاشارة عندي بمنزلة الكلام وانه بلغني ان عبد الله بن عباس قال ما ختر قوم بالعهد الا سلط الله عليهم العدو
রেওয়ায়ত ১৩. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) জিহাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু দিতেন, তবে বলিতেনঃ ওয়াদি-এর কুরায় যখন পৌছিবে তখন ইহা তোমার।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان اذا اعطى شييا في سبيل الله يقول لصاحبه اذا بلغت وادي القرى فشانك به
রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন, কাহাকেও যদি জিহাদের উদ্দেশ্যে কোন কিছু দেওয়া হয় আর ঐ ব্যক্তি জিহাদের স্থানে পৌছিয়া যায়, তবে উহা তাহার হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল-কেহ যদি জিহাদ করার মানত করে আর তাহার পিতামাতা বা তাহাদের কোন একজন যদি তাহাকে জিহাদে যাইতে নিষেধ করে তবে সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ আমার মতে মাতাপিতার অবাধ্যতা করা উচিত নহে এবং আপাতত জিহাদ আরেক বৎসর পর্যন্ত মওকুফ করিয়া রাখিবে, জিহাদের উপকরণসমূহও হেফাজত করিয়া রাখিবে। নষ্ট হইয়া পড়ার আশংকা দেখা দিলে সে এইগুলি বিক্রি করিয়া মূল্য সংরক্ষণ করিয়া রাখিবে, যাহাতে সে আগামী বৎসর ইহা দ্বারা পুনরায় অস্ত্র ক্রয় করিতে পারে। তবে সে যদি সম্পদশালী হয় এবং ইচ্ছা মত অস্ত্র ক্রয় করার শক্তি যদি তাহার থাকে তাহা হইলে ঐ অস্ত্র যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، ان سعيد بن المسيب، كان يقول اذا اعطي الرجل الشىء في الغزو فيبلغ به راس مغزاته فهو له . وسيل مالك عن رجل اوجب على نفسه الغزو فتجهز حتى اذا اراد ان يخرج منعه ابواه او احدهما فقال لا يكابرهما ولكن يوخر ذلك الى عام اخر فاما الجهاز فاني ارى ان يرفعه حتى يخرج به فان خشي ان يفسد باعه وامسك ثمنه حتى يشتري به ما يصلحه للغزو فان كان موسرا يجد مثل جهازه اذا خرج فليصنع بجهازه ما شاء
রেওয়ায়ত ১৫. নাফি’ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন, নজদ এলাকার দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল প্রেরণ করিয়াছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও ইহাতে শরীক ছিলেন। গনীমত হিসাবে অনেক উট ধরা পড়ে। প্রত্যেকেই বারটি বা এগারটি করিয়া উট প্রাপ্ত হন এবং প্রত্যেককেই আরো একটি করিয়া নফল (হিস্যাতিরিক্ত) দেওয়া হয়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث سرية فيها عبد الله بن عمر قبل نجد فغنموا ابلا كثيرة فكان سهمانهم اثنى عشر بعيرا او احد عشر بعيرا ونفلوا بعيرا بعيرا
রেওয়ায়ত ১৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তিনি সাঈদ-ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, জিহাদের মালে গনীমত বন্টন করার সময় একটি উট দশটি বকরীর সমান বলিয়া গণ্য করা হইত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ জিহাদে যদি কেহ মজুর হিসাবে শরীক হয় আর অন্য মুজাহিদের সহিত সেও যদি যুদ্ধে উপস্থিত থাকে ও যুদ্ধ করে, আর সে আযাদ ব্যক্তি হয়, তবে গনীমত হইতে তাহাকেও হিস্যা প্রদান করা হইবে। আর যদি সে যুদ্ধে শরীক না হয় তবে সে হিস্যা পাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, স্বাধীন ব্যক্তি যাহারা যুদ্ধে শরীক হয় তাহারা ব্যতীত অন্য কাহারও জন্য গনীমতের অংশ বরাদ্দ হইবে না।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه سمع سعيد بن المسيب، يقول كان الناس في الغزو اذا اقتسموا غنايمهم يعدلون البعير بعشر شياه . قال مالك في الاجير في الغزو انه ان كان شهد القتال وكان مع الناس عند القتال وكان حرا فله سهمه وان لم يفعل ذلك فلا سهم له وارى ان لا يقسم الا لمن شهد القتال من الاحرار
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন (রাঃ)-এর একজন গোলাম ঘোড়াসহ পলাইয়া কাফেরদের হাতে পড়িয়া গিয়াছিল। পরে উহা গনীমতের মাল হিসাবে পুনরায় মুসলিমদের হস্তগত হয়। তখন বন্টনের পূর্বেই 'আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে এইগুলি ফিরাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। ইয়াহইয়া মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন যে, কাফেরদের হাতে মুসলিমদের কোন কিছু পাওয়া গেলে বন্টনের পূর্বে উহা পূর্ব মালিকের নিকট প্রত্যর্পণ করা হইবে। বন্টন হইয়া গেলে আর উহা প্রত্যর্পণ করা হইবে না। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, কোনো মুসলিমের উম্মু ওয়ালাদ যদি কাফেররা লইয়া যায়, পরে গনীমত হিসাবে যদি পুনরায় উহা মুসলিমদের হস্তগত হয়, তবে কি করা হইবে? তিনি বলিলেন, বন্টনের পূর্বে উহাকে কোনরূপে বিনিময় ব্যতিরেকে পূর্ব মালিকের নিকই ফিরাইয়া দেওয়া হইবে। আমার মতে বন্টনের পর মালিক ইচ্ছ করলে মূল দিয়া উহা কেনিয়া বাইতে পারিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোনো মুসলিমের উম্মে ওয়ালাদ[1] দাসীকেও যদি কাফেরগণ ছিনাইয়া লইয়া যায়, পরে সে গনীমতের মাল হিসাবে হস্তগত হয়, আর বন্টন হইয়া যাওয়ার পরে যদি মালিক তাহাকে চিনিতে পারে, তবুও তাহাকে দাসী বানান যইবে না। আমি মনে করি, তখন সরকারের কর্তব্য হইবে তাহার ফিদয়া আদায় করিয়া তাহার মালিকের নিকট প্রত্যর্পণ করা। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সরকার যদি এইরূপ না করে তবে পূর্ব মালিক তাহার ফিদয়া আদায় করিয়া তাহাকে মুক্ত করিয়া লইয়া যাইবে। বন্টনের পর যাহার ভাগে সে পড়িয়াছিল তাহার জন্য তাহাকে দাসী বানান বা তাহার সহিত যৌন মিলন জায়েয নহে। উম্মে ওয়ালাদ আযাদ দাসীর মতোই। উম্মে ওয়ালাদ যদি কাহাকেও আঘাত করিয়া যখমী করিয়া ফেলে তবে মালিকের উপর ফিদয়া আদায় করিয়া তাহাকে মুক্ত করিয়া দেওয়া মালিকের উপর জরুরী। তাহাকে মুক্ত না করিয়া ঐ অবস্থায় রাখিয়া দেওয়া এবং তাহাকে পুনরায় দাসী বানান ও তাহার সহিত যৌন সম্ভোগ কোনক্রমেই জায়েয হইবে না। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, কেহ কোন মুসলিমকে মুক্ত করিয়া আনার উদ্দেশ্যে বা ব্যবসা করিতে কাফেরদের অঞ্চলে গেল আর সেখানে আযাদ ও ক্রীতদাস উভয় ধরনের মানুষ ক্রয় করিয়া নিয়া আসিল বা কাফেরগণ তাহাকে হিবা হিসাবে দান করিল। এখন এই ব্যক্তির বিষয়ে কি হুকুম হইবে? তিনি বলিলেন, আযাদ ব্যক্তিকে ক্রয় করিয়া নিয়া আসিলে তাহাকে ক্রীতদাস বানান যাইবে না। আর তাহার মূল্য তখন ঋণ হিসাবে ধরা হইবে। হিবা হিসাবে নিয়া আসিয়া থাকিলে ঐ ব্যক্তি আযাদ হিসাবেই বহাল থাকিবে আর আনয়নকারী ব্যক্তি কিছুই পাইবে না। তবে হিবার বিনিময়ে সে সেখানে কোন কিছু আদায় করিয়া থাকিলে তৎপরিমাণ টাকা দিয়া তাহাকে ক্রয় করিয়া আনিল। আর ঐ ব্যক্তি যদি কোন দাস ক্রয় করিয়া আনে, তবে পূর্ব মালিকের ইখতিয়ার থাকিবে। ইচ্ছা করিলে মূল্য আদায় করিয়া তাহাকে সে নিয়া যাইতে পারবে আর ইচ্ছা করিলে তাহাকে ঐ ব্যক্তির নিকট ছাড়িয়াও দিতে পারিবে।হিবা হিসাবে পাইয়া থাকিলে পূর্ব মালিক তাহাকে এমনিই নিয়া যাইতে পারবে। হিবার বিনিময়ে কিছু ব্যয় করিয়া থাকিলে তৎপরিমাণ টাকা আদায় করিয়া তবে পূর্ব মালিক তাহাকে নিতে পারবে।
রেওয়ায়ত ১৮. আবু কাতাদা ইবন রিবয়ী (রাঃ) বর্ণনা করেন- হুনায়ন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সহিত আমরা বাহির হইলাম। প্রচণ্ড চাপে মুসলিমগণ হটিয়া আসেন। কোন এক কাফের সৈন্যকে তখন জনৈক মুসলিম সৈন্যের উপর জয়ী হইয়া যাইতেছে দেখিয়া পিছন হইতে আমি ঐ কাফের সৈন্যটির ঘাড়ে তলওয়ারের এক কোপ বসাইলাম। সে তখন দৌড়াইয়া আমাকে ধরিয়া এমন চাপ দিল যে, আমার মৃত্যুর স্বাদ অনুভূত হইতে লাগিল। শেষে সে মৃত্যুর কোলে ঢলিয়া পড়িল। পরে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এর সহিত আমার সাক্ষাত হইল। আমি বলিলাম, মানুষের একি হইল! তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর হুকুম। শেষে মুসলিম সৈন্যগণ আবার ময়দানে ফিরিয়া আসিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সময় ঘোষণা করিলেনঃ সাক্ষী পেশ করিতে পারিলে যে তাহাকে হত্যা করিয়াছে তাহার আসবাবপত্র সে-ই পাইবে। আবু কাতাদা বলেনঃ এই ঘোষণা শুনিয়া আমি দাঁড়াইলাম এবং বলিলাম, আমার জন্য কে সাক্ষ্য দেবে? এই কথা বলিয়া আমি বসিয়া পড়িলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম পুনরায় ঐ কথা ঘোষণা করিলেন। আমি আবার দাঁড়াইলাম এবং বলিলামঃ আমার জন্য কে সাক্ষ্য দিবে? এই কথা বলিয়া আমি বসিয়া পড়িলাম। তৃতীয়বার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এই কথা ঘোষণা করিলেন। আমিও উঠিয়া দাঁড়াইলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেনঃ আবূ কাতাদা, তোমার কি হইল? সমস্ত ঘটনা তখন আমি তাহাকে বিবৃত করিলাম। তখন এক ব্যক্তি উঠিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, ইনি সত্যিই বলিয়াছেন। ঐ নিহত কাফেরটির আসবাবপত্র আমার নিকট আছে। আপনি তাহাকে রাজী করাইয়া ঐ আসবাবপত্র আমাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আবু বকর (রাঃ) তখন বলিলেন, আল্লাহর কসম, কখনো নয়। আপনি এমন কাজ করার ইচ্ছাও করিবেন না। আল্লাহর ব্যাঘ্ৰসমূহ হইতে কোন এক ব্যাঘ্ৰ আল্লাহ ও তাহার রাসূলের পক্ষে লড়াই করিবে আর তুমি আসবাবপত্র নিয়া যাইবে, তাহা হইতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলিলেন, আবু বকর যখার্থই বলিয়াছেন। আবূ কাতাদাকে ঐ আসবাবপত্র দিয়া দাও। শেষে ঐ ব্যক্তি উহা আমাকে দিয়া দিলেন। উহা হইতে একটি বর্ম বিক্রয় করিয়া বনু সালিমা মহল্লায় একটা বাগান ক্রয় করিয়া ফেলিলাম। ইসলম গ্রহণ করার পর এই সম্পত্তিটুকু আমি লাভ করিতে পারিয়াছিলাম।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن عمر بن كثير بن افلح، عن ابي محمد، مولى ابي قتادة عن ابي قتادة بن ربعي، انه قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حنين فلما التقينا كانت للمسلمين جولة - قال - فرايت رجلا من المشركين قد علا رجلا من المسلمين - قال - فاستدرت له حتى اتيته من ورايه فضربته بالسيف على حبل عاتقه فاقبل على فضمني ضمة وجدت منها ريح الموت ثم ادركه الموت فارسلني - قال - فلقيت عمر بن الخطاب فقلت ما بال الناس فقال امر الله . ثم ان الناس رجعوا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من قتل قتيلا له عليه بينة فله سلبه " . قال فقمت ثم قلت من يشهد لي ثم جلست . ثم قال " من قتل قتيلا له عليه بينة فله سلبه " . قال فقمت ثم قلت من يشهد لي ثم جلست ثم قال ذلك الثالثة فقمت . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما لك يا ابا قتادة " . قال فاقتصصت عليه القصة . فقال رجل من القوم صدق يا رسول الله وسلب ذلك القتيل عندي فارضه عنه يا رسول الله . فقال ابو بكر لا هاء الله اذا لا يعمد الى اسد من اسد الله يقاتل عن الله ورسوله فيعطيك سلبه . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " صدق فاعطه اياه " . فاعطانيه فبعت الدرع فاشتريت به مخرفا في بني سلمة فانه لاول مال تاثلته في الاسلام
রেওয়ায়ত ১৯. কাশিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতে এক ব্যক্তিকে শুনিয়াছিলাম। ইবন আব্বাস (রাঃ) তখন উত্তরে বলিয়াছিলেন, ঘোড়া এবং অন্ত্রশস্ত্র আনফালের মধ্যে শামিল। ঐ ব্যক্তি ঐ প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করিলে ইবন আব্বাস (রাঃ) পুনরায় ঐ উত্তর প্রদান করেন। তখন ঐ ব্যক্তি বলিল, কুরআনুল করীমে যে আনফালের আলোচনা করা হইয়াছে, সেই আনফাল সম্পর্কে আপনার নিকট জানিতে চাহিতেছি। কাশিম (রহঃ) বলেনঃ ঐ ব্যক্তি বার বার একই কথা বলিতে লাগিল। শেষে ইবন আব্বাস (রাঃ) বিরক্ত হইয়া বলিলেনঃ এই ব্যক্তি সবীগের মতো যাহাকে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বেত্ৰদণ্ড দিয়াছিলেন।[1] মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, মুসলিমদের কোন শক্রকে হত্যা করিতে পারিলে মুসলিম রাষ্ট্রনায়কের অনুমতি ব্যতিরেকে তাহার আসবাবপত্র নিহতকারী পাইতে পারে কি? তিনি বলিলেনঃ না। ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান মুনাসিব মনে করিলে এই ধরনের হুকুম জারি করিতে পারেন।হুনায়ন যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ধরনের নির্দেশ দিয়াছেন বলিয়া আমরা জ্ঞাত হই নাই।
وحدثني مالك، عن ابن شهاب، عن القاسم بن محمد، انه قال سمعت رجلا، يسال عبد الله بن عباس عن الانفال، فقال ابن عباس الفرس من النفل والسلب من النفل . قال ثم عاد الرجل لمسالته فقال ابن عباس ذلك ايضا ثم قال الرجل الانفال التي قال الله في كتابه ما هي قال القاسم فلم يزل يساله حتى كاد ان يحرجه ثم قال ابن عباس اتدرون ما مثل هذا مثل صبيغ الذي ضربه عمر بن الخطاب . قال وسيل مالك عمن قتل قتيلا من العدو ايكون له سلبه بغير اذن الامام قال لا يكون ذلك لاحد بغير اذن الامام ولا يكون ذلك من الامام الا على وجه الاجتهاد ولم يبلغني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من قتل قتيلا فله سلبه " . الا يوم حنين
রেওয়ায়ত ২০. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ মালে গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ হইতে (সাহাবা যুগের) লোকগণ নফল দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বর্ণনাটি আমার নিকট উত্তম। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- গনীমতের প্রথম ভাগ হইতেই কি নফল দিতে হইবে? তিনি বলিলেনঃ ইহা রাষ্ট্রপ্রধানের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আমাদের নিকট ইহার নির্দিষ্ট রীতি নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক জিহাদেই নফল দিয়াছেন বলিয়া কোন রেওয়ায়ত আমাদের নিকট পৌছে নাই বরং কতক সময় তাহা দিয়াছেন, তন্মধ্যে হুনায়ন একটি। ইহা ইমামের ইচ্ছাধীন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الزناد، عن سعيد بن المسيب، انه قال كان الناس يعطون النفل من الخمس . قال مالك وذلك احسن ما سمعت الى في ذلك . وسيل مالك عن النفل هل يكون في اول مغنم قال ذلك على وجه الاجتهاد من الامام وليس عندنا في ذلك امر معروف موثوق الا اجتهاد السلطان ولم يبلغني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نفل في مغازيه كلها وقد بلغني انه نفل في بعضها يوم حنين وانما ذلك على وجه الاجتهاد من الامام في اول مغنم وفيما بعده
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عبدا، لعبد الله بن عمر ابق وان فرسا له عار فاصابهما المشركون ثم غنمهما المسلمون فردا على عبد الله بن عمر وذلك قبل ان تصيبهما المقاسم