Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫৮ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ৪১. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুসলিমগণ তাহদের মুসিবতে সান্তনা লাভ করিবে আমার মুসিবত দ্বারা অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুসিবত দেখিয়া।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم بن محمد بن ابي بكر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ليعز المسلمين في مصايبهم المصيبة بي
রেওয়ায়ত ৪২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মে সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যাহার (উপর) কোন মুসিবত পৌছে, অতঃপর আল্লাহ্ তাহাকে যেরূপ নির্দেশ দিয়াছেন সেইরূপ বলে- ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাযিউন اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَعْقِبْنِي خَيْرًا مِنْهَا অর্থাৎ, হে আল্লাহ আমার মুসিবতে (উহার বিনিময়ে) আমাকে সওয়াব দান করুন এবং উহার পশ্চাতে আমাকে উহা অপেক্ষা উত্তম বস্তু দান করুন। তবে আল্লাহ্ তাহার সহিত সেইরূপ করিবেন। উম্মে সালমা (রাঃ) বলেনঃ আবু সালমা (রাঃ)-এর ওফাতের পর আমি উক্ত দু'আ পাঠ করিলাম, আর বলিলামঃ আবু সালমা (রাঃ) হইতে ভাল কে হইবেন? ফলে তাহার পরিবর্তে আল্লাহ আমাকে তাহার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করিলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বিবাহ করেন।
وحدثني عن مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن ام سلمة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من اصابته مصيبة فقال كما امر الله (انا لله وانا اليه راجعون) اللهم اجرني في مصيبتي واعقبني خيرا منها الا فعل الله ذلك به قالت ام سلمة فلما توفي ابو سلمة قلت ذلك ثم قلت ومن خير من ابي سلمة فاعقبها الله رسوله صلى الله عليه وسلم فتزوجها
রেওয়ায়ত ৪৩. কাসিম ইবনে মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ আমার এক স্ত্রীর ইন্তিকাল হয়। মুহাম্মদ ইবন কা'ব কুরাজী (রহঃ) আমাকে তাহার (মৃত্যু) উপলক্ষে সান্তনা দিতে আসিলেন। তিনি বলিলেনঃ বনি ইসরাঈলের এক ব্যক্তি ছিলেন আলিম, ইবাদতগুযার, মুজতাহিদ, শরীয়তের মাসায়েলে পারদর্শী। তাহার এক স্ত্রী ছিল, তাহাদের উভয়ের মধ্যে গভীর ভালবাসা ছিল। (ঘটনাক্রমে) সেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়। ইহাতে তিনি খুব মর্মাহত ও ব্যথিত হইলেন। এমন কি তিনি নিজেকে একটি গৃহে অন্তরীণ করিয়া ফেলিলেন এবং লোকের সংশ্ৰব বর্জন করিলেন। অতঃপর কেহ তাহার কাছে যাইত না। জনৈক মহিলা এই বৃত্তান্ত শুনিয়া তাহার নিকট উপস্থিত হইলেন। তিনি বলিলেনঃ তাহার কাছে আমার একটি আবশ্যক রহিয়াছে, যে বিষয়ে আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিব। তাহার সহিত সামনাসামনি না হইলে আমার আবশ্যক পূর্ণ হইবে না। (তাহার গৃহদ্বার ত্যাগ করিয়া) সব লোক চলিয়া গেল, কিন্তু উক্ত মহিলা তাহার দ্বারে রহিয়াই গেলেন এবং বলিলেনঃ তাহার নিকট আমার প্রয়োজন রহিয়াছে। একজন লোক সেই ব্যক্তির নিকট বলিলঃ এইখানে একজন মহিলা আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছুক। তিনি বলিতেছেনঃ আমি তাহার সাক্ষাতপ্রার্থী মাত্র। সকল লোক চলিয়া গিয়াছে কিন্তু তিনি দরজা ছাড়েন না। তিনি বলিলেনঃ তোমরা তাহাকে আসিতে অনুমতি দাও। (অনুমতি পাইয়া সেই মহিলা) প্রবেশ করিলেন এবং বলিলেন, আমি আপনার নিকট একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে আসিয়াছি। তিনি বলিলেনঃ সেই বিষয়টি কি? (উক্ত মহিলা) বলিলেনঃ আমার প্রতিবেশিনীর নিকট হইতে আমি একটি গহনা ধার নিলাম। অতঃপর আমি উহা পরিধান করিতাম এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উহা লোককে ধারস্বরূপ দিতাম। অতঃপর তাহারা উহার (ফেরত দেওয়ার) জন্য আমার নিকট লোক পাঠাইলেন। আমি উহা ফেরত দিব কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর কসম। মহিলা বলিলেনঃ সেই গহনাটি যে বেশ কিছুদিন আমার কাছে ছিল। তিনি বলিলেনঃ এইজন্য আরও বেশি উচিত যে, তুমি উহা তাহাদের নিকট ফেরত দাও, তাহারা এতকাল পর্যন্ত তোমাকে ধার দিয়াছেন। তখন উক্ত মহিলা বলিলেনঃ ওহে! আপনার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন, আপনি আফসোস করিতেছেন এমন বস্তুর উপর যাহা আল্লাহ আপনাকে ধার দিয়াছেন, অতঃপর তিনি উহা গ্রহণ করিয়াছেন আপনার নিকট হইতে। অথচ তিনি উহার হকদার বেশি আপনি অপেক্ষা। তবে ভাবিয়া দেখুন আপনি কোন হালতে আছেন। আল্লাহ এই মহিলার উপদেশ দ্বারা তাহাকে উপকৃত করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن القاسم بن محمد، انه قال هلكت امراة لي فاتاني محمد بن كعب القرظي يعزيني بها فقال انه كان في بني اسراييل رجل فقيه عالم عابد مجتهد وكانت له امراة - وكان بها معجبا ولها محبا - فماتت فوجد عليها وجدا شديدا ولقي عليها اسفا حتى خلا في بيت وغلق على نفسه واحتجب من الناس فلم يكن يدخل عليه احد وان امراة سمعت به فجاءته فقالت ان لي اليه حاجة استفتيه فيها ليس يجزيني فيها الا مشافهته فذهب الناس ولزمت بابه وقالت ما لي منه بد . فقال له قايل ان ها هنا امراة ارادت ان تستفتيك وقالت ان اردت الا مشافهته وقد ذهب الناس وهي لا تفارق الباب . فقال ايذنوا لها . فدخلت عليه فقالت اني جيتك استفتيك في امر . قال وما هو قالت اني استعرت من جارة لي حليا فكنت البسه واعيره زمانا ثم انهم ارسلوا الى فيه افاوديه اليهم فقال نعم والله . فقالت انه قد مكث عندي زمانا . فقال ذلك احق لردك اياه اليهم حين اعاروكيه زمانا . فقالت اى يرحمك الله افتاسف على ما اعارك الله ثم اخذه منك وهو احق به منك فابصر ما كان فيه ونفعه الله بقولها
রেওয়ায়ত ৪৪. আবু রিজাল মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) তাহার মাতা আমরা বিনত আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহাকে বলিতে শুনিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফন-চোর পুরুষ এবং নারীকে লা'নত করিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابي الرجال، محمد بن عبد الرحمن عن امه، عمرة بنت عبد الرحمن انه سمعها تقول، لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المختفي والمختفية يعني نباش القبور
রেওয়ায়ত ৪৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) বলিতেনঃ মৃতাবস্থায় মুসলিমদের হাড় ভাঙিয়া দেওয়া জীবিতাবস্থায় হাড় ভাঙিয়া দেওয়ার মত। মালিক (রহঃ) বলেন, অৰ্থাৎ পাপের দিক দিয়া সমান।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم كانت تقول كسر عظم المسلم ميتا ككسره وهو حى . تعني في الاثم
রেওয়ায়ত ৪৬. আব্বাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) তাহাকে খবর দিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার ওফাতের পূর্বে যখন আয়েশা (রাঃ)-এর বুকে মাথা রাখিয়া শায়িত ছিলেন তখন আয়েশা (রাঃ) তাহার দিকে ঝুঁকিয়া রহিয়াছিলেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى অর্থাৎ, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন আর আমকে الرَّفِيقِ الأَعْلَى এর সঙ্গে মিলাইয়া দিন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ এখতিয়ার দেওয়ার পূর্বে কোন নবীর ওফাত হয় না। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি (اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى) তখন আমি জানিতে পারলাম, তিনি পরলোকগমন করিতেছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن عباد بن عبد الله بن الزبير، ان عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته انها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل ان يموت وهو مستند الى صدرها واصغت اليه يقول " اللهم اغفر لي وارحمني والحقني بالرفيق الاعلى
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من نبي يموت حتى يخير " . قالت فسمعته يقول " اللهم الرفيق الاعلى " . فعرفت انه ذاهب
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من نبي يموت حتى يخير " . قالت فسمعته يقول " اللهم الرفيق الاعلى " . فعرفت انه ذاهب
রেওয়ায়ত ৪৭. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেহ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল-সন্ধ্যা তাহার নিকট তাহার অবস্থানের জায়গা পেশ করা হয়। যদি সে বেহেশতী হয় তবে বেহেশতীদের (ঠিকানার) মধ্যে তাহার ঠিকানা দেখান হইবে। আর যদি দোযখী হয় তবে দোযখীদের (ঠিকানার) মধ্যে তাহার ঠিকানা দেখান হইবে। তাহাকে বলা হইবেঃ ইহাই তোমার ঠিকানা, কিয়ামত দিবসে উক্ত ঠিকানায় তোমাকে পৌছান পর্যন্ত।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان احدكم اذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشي ان كان من اهل الجنة فمن اهل الجنة وان كان من اهل النار فمن اهل النار يقال له هذا مقعدك حتى يبعثك الله الى يوم القيامة
রেওয়ায়ত ৪৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ বনি আদমের মেরুদণ্ডের নিম্নাংশের ক্ষুদ্র হাড়টি ব্যতীত সবকিছুই মাটি খাইয়া ফেলিবে, উহা হইতেই সৃষ্টি করা হইয়াছে এবং উহা হইতেই পুনরায় সৃষ্টি করা হইবে।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " كل ابن ادم تاكله الارض الا عجب الذنب منه خلق وفيه يركب
রেওয়ায়ত ৪৯. কা'ব ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুমিনের আত্মা পাখির মত বেহেশতের বৃক্ষে লটকান থাকে, পুনরুত্থান দিবসে তাহার দেহে ফিরাইয়া পাঠান পর্যন্ত।
وحدثني عن مالك عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن كعب بن مالك الانصاري انه اخبره ان اباه كعب بن مالك كان يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انما نسمة المومن طير يعلق في شجر الجنة حتى يرجعه الله الى جسده يوم يبعثه
রেওয়ায়ত ৫০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ আমার বান্দা আমার সাক্ষাতকে ভালবাসিলে আমিও তাহার সাক্ষাতকে ভালবাসি। আর সে আমার সাক্ষাতকে অপছন্দ করিলে, আমিও তাহার সাক্ষাতকে অপছন্দ করি
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قال الله تبارك وتعالى اذا احب عبدي لقايي احببت لقاءه واذا كره لقايي كرهت لقاءه
রেওয়ায়ত ৫১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি কোন সময় নেকী করে নাই, তাহার পরিজনকে বলিলঃ সে মারা গেলে তাহাকে যেন জ্বালাইয়া ফেলে, অতঃপর উহার অর্ধেক শুকনায় ছড়াইয়া দেয়, আর অর্ধেক সাগরে ছিটাইয়া দেয়। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ তাহার জন্য শাস্তি নির্ধারণ করেন তবে তাহাকে এইরূপ শাস্তি দিবেন জগদ্বাসীদের কাহাকেও সেইরূপ শাস্তি তিনি দিবেন না। সেই ব্যক্তির যখন মৃত্যু হইল, তাহার পরিজন তাহার নির্দেশানুযায়ী কাজ করিল। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা শুষ্ক ভূমিকে হুকুম করিলেন, সেই ব্যক্তির অংশসমূহকে যাহা তাহার মধ্যে ছিল একত্র করিয়া দিতে, আর সাগরকে হুকুম দিলেন, যাহা তোমার মধ্যে ছিল একত্র করিয়া দিতে। ভূমি সেই ব্যক্তির অংশকে একত্র করিয়া দিল, সাগরও উহাকে একত্র করিয়া দিল। তারপর আল্লাহ বলিলেনঃ তুমি এই কাজ কেন করিলে? সে বলিলঃ আপনার ভয়ে, হে প্ৰভু! আর আপনি অধিক জ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ অতঃপর তাহাকে ক্ষমা করিয়া দেওয়া হইল।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قال رجل لم يعمل حسنة قط لاهله اذا مات فحرقوه ثم اذروا نصفه في البر ونصفه في البحر فوالله لين قدر الله عليه ليعذبنه عذابا لا يعذبه احدا من العالمين . فلما مات الرجل فعلوا ما امرهم به فامر الله البر فجمع ما فيه وامر البحر فجمع ما فيه ثم قال لم فعلت هذا قال من خشيتك يا رب وانت اعلم . قال فغفر له
রেওয়ায়ত ৫২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ (বনি আদমের) প্রতিটি নবাগত সন্তান স্বভাব-এর (فطرة) উপর জন্মায়। অতঃপর তাহার মাতাপিতা তাহাকে ইহুদী বানায়, অথবা খৃস্টান বানায়, যেমন উট জন্ম নেয় সুস্থ-পূর্ণ দেহের উট হইতে। তোমরা কি উহাকে কৰ্ণ কর্তিত দেখিতে পাও? তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে শিশু শৈশবে মারা যায় সেই শিশু সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বলিলেনঃ তাহারা প্রাপ্তবয়স্ক হইলে কিরূপ কাজ করিত তাহা আল্লাহ অধিক অবগত।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : " كل مولود يولد على الفطرة فابواه يهودانه او ينصرانه، كما تناتج الابل من بهيمة جمعاء هل تحس فيها من جدعاء " . قالوا : يا رسول الله ارايت الذي يموت وهو صغير قال : " الله اعلم بما كانوا عاملين
রেওয়ায়ত ৫৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কিয়ামত কায়েম হইবে না যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়া চলিবে এবং বলিবেঃ আহা, যদি আমি এই (কবরবাসী) লোকের জায়গায় হইতাম।
وحدثني عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : " لا تقوم الساعة حتى يمر الرجل بقبر الرجل فيقول يا ليتني مكانه
রেওয়ায়ত ৫৪. আবু কাতাদা ইবন রিবরী (রাঃ) বলিতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দিয়া একটি জানাযা নিয়া যাওয়া হইতেছিল। তিনি বলিলেনঃ (مُسْتَرِيحٌ وَمُسْتَرَاحٌ مِنْهُ) অর্থাৎ সে নিজেও শান্তিপ্রাপ্ত এবং অন্য লোকও তাহা হইতে শান্তি লাভ করিয়াছেন। তাহারা (উপস্থিত সাহাবীগণ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুসতারাহ এবং মুসতারাহ মিনহু-এর তাৎপর্য কি ? তিনি বলিলেনঃ মু'মিন বান্দা (মৃত্যুর মাধ্যমে) দুনিয়ার দুঃখ-ক্লেশ হইতে (মুক্তি লাভ করিয়া) আল্লাহর রহমতের দিকে গমন করে এবং শান্তি লাভ করে। আর পাপী বান্দা হইতে আল্লাহর বান্দাগণ শহর, নগর, বৃক্ষরাজি ও জীব-জন্তু সবকিছুই শান্তি লাভ করে অর্থাৎ তাহার কষ্ট হইতে মুক্তি পায়। আবুন নাযর (রহঃ) হইতে বর্ণিত- যখন উসমান ইবনে মযউন (রাঃ) ইন্তিকাল করিলেন এবং তাঁহার জানাযা নিয়া যাওয়া হইল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি (দুনিয়া হইতে) চলিয়া গেলে (এমন অবস্থায় যে) দুনিয়ার সাথে কোন সম্পর্ক গড়িলে না।
وحدثني عن مالك، عن محمد بن عمرو بن حلحلة الديلي، عن معبد بن كعب بن مالك، عن ابي قتادة بن ربعي، انه كان يحدث : ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر عليه بجنازة فقال : " مستريح ومستراح منه " . قالوا : يا رسول الله ما المستريح والمستراح منه قال : " العبد المومن يستريح من نصب الدنيا واذاها الى رحمة الله، والعبد الفاجر يستريح منه العباد والبلاد والشجر والدواب
وحدثني عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله انه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما مات عثمان بن مظعون ومر بجنازته : " ذهبت ولم تلبس منها بشىء
وحدثني عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله انه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما مات عثمان بن مظعون ومر بجنازته : " ذهبت ولم تلبس منها بشىء
রেওয়ায়ত ৫৫. আলকামা ইবনে আবি আলকামা (রহঃ) তাহার মাতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠিলেন এবং কাপড় পরিধান করিলেন। অতঃপর প্রস্থান করিলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি আমার দাসী বরীরাহ (রাঃ)-কে তাহার অনুসরণ করিতে নির্দেশ দিলাম। সে অনুসরণ করিল। (যাইতে যাইতে) তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাকী পর্যন্ত পৌছিলেন এবং বাকী’তে দাঁড়াইলেন, যতক্ষণ আল্লাহ্ চাহিলেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করিলেন। বরীরাহ তাহার আগেই চলিয়া আসিল এবং আমাকে ঘটনার খবর বলিল, ভোর হওয়া পর্যন্ত আমি আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছুই উল্লেখ করিলাম না। ফজরে এই ঘটনা আমি তাহার নিকট ব্যক্ত করিলাম। তখন তিনি বলিলেন, বাকী'র বাসিন্দাদের নিকট আমি প্রেরিত হইয়াছিলাম তাহাদের জন্য দুআ করার উদ্দেশ্যে।
وحدثني مالك، عن علقمة بن ابي علقمة، عن امه، انها قالت سمعت عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم تقول : قام رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فلبس ثيابه ثم خرج - قالت - فامرت جاريتي بريرة تتبعه، فتبعته حتى جاء البقيع، فوقف في ادناه ما شاء الله ان يقف، ثم انصرف فسبقته بريرة فاخبرتني، فلم اذكر له شييا حتى اصبح ثم ذكرت ذلك له فقال : " اني بعثت الى اهل البقيع لاصلي عليهم
রেওয়ায়ত ৫৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ তোমরা জানাযা (নেওয়ার ব্যাপারে) খুব তাড়াতাড়ি করিও। কারণ (সেই জানাযা) হয়তো ভাল লোক যাহাকে তাহারা আল্লাহর নিকট পেশ করিতেছে অথবা মন্দ লোক যাহাকে তোমরা নিজেদের ঘাড় হইতে খালাশ করিতেছ।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان ابا هريرة، قال : اسرعوا بجنايزكم، فانما هو خير تقدمونه اليه او شر تضعونه عن رقابكم