Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর ইবন হাযম (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আমর ইবন হাযমের নিকট যে পত্র লিখিয়াছিলেন উহাতে ইহাও লিখিত ছিল যে, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কুরআনকে যেন কেউ স্পর্শ না করে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কুরআনকে জুযবদান-এর ফিতা ধরিয়া অথবা বালিশের উপর রাখিয়া যেন উত্তোলন না করে, তবে পবিত্রাবস্থায়। যদি উহা (ফিতা ধরিয়া এবং বালিশের উপর কুরআন রাখিয়া ওযু ছাড়া স্পর্শ করা) জায়েয হইত, তবে জিলদকেও পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যাইত। আর ইহা এই কারণে মাকরূহ করা হয় নাই যে, যে ব্যক্তি কুরআন উঠাইতেছে তাহার হাতে এমন কোন জিনিস আছে যদ্বারা ইহা অপরিষ্কার হইয়া যাইবে। অপবিত্র অবস্থায় উহা উঠান মাকরূহ, এই হুকুম করা হইয়াছে কুরআনের তাযীম ও সম্মানার্থে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ (لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ) অর্থাৎ যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না (সূরা ওয়াকিয়াহঃ ৭৯) এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সর্বোত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি তাহা হইল যেইরূপ সূরা আবাসা'তে ইরশাদ করা হইয়াছে (كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَن شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُّكَرَّمَةٍ مَّرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ) অর্থাৎ এই প্রকার আচরণ অনুচিত, ইহা উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করিবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে। উহা আছে মহান, উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন, পবিত্র গ্রন্থে, মহান, পূতচরিত্র লিপিকারদের হস্তে। (সূরা আবাসাঃ)
রেওয়ায়ত ২. এক সময় উমর (রাঃ) এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলেন, যাহারা কুরআন পাঠ করিতেছিলেন, (ইতিমধ্যে) তিনি প্ৰস্ৰাব-পায়খানার আবশ্যকে গমন করিলেন, পুনরায় প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং কুরআন পাঠ করিতে শুরু করিলেন। (ইহা দেখিয়া) এক ব্যক্তি তাহাকে বলিলঃ হে আমিরুল মু'মিনীন! আপনি (কুরআন) পাঠ করিতেছেন অথচ আপনি বে-ওযু। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ এইরূপ ফতওয়া কে দিয়াছে? মুসায়লামা কি?
حدثني يحيى، عن مالك، عن ايوب بن ابي تميمة السختياني، عن محمد بن سيرين، ان عمر بن الخطاب، كان في قوم وهم يقرءون القران فذهب لحاجته ثم رجع وهو يقرا القران فقال له رجل يا امير المومنين اتقرا القران ولست على وضوء فقال له عمر من افتاك بهذا امسيلمة
রেওয়ায়ত ৩. আবদুর রহমান ইবনে আবদিল কারী (রহঃ) হইতে আ’রজ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেন, যাহার রাত্রের (নির্দিষ্ট তিলাওয়াতের) অংশ ছুটিয়া যায়, সে উহা যোহরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত (সময়ে) পড়িয়া লইবে; তবে তাহার সে ওয়ীফা যেন ছুটে নাই (রবী বলেন) অথবা তিনি বলিয়াছেন, সে যেন উহা পূর্ণ করিয়াছে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن داود بن الحصين، عن الاعرج، عن عبد الرحمن بن عبد القاري، ان عمر بن الخطاب، قال من فاته حزبه من الليل فقراه حين تزول الشمس الى صلاة الظهر فانه لم يفته او كانه ادركه
রেওয়ায়ত ৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ আমি ও মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান (রহঃ) (এক জায়গায়) বসা ছিলাম। তারপর মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া এক ব্যক্তিকে ডাকিলেন এবং বলিলেন, আপনার পিতা হইতে যাহা শুনিয়াছেন তাহা আমার নিকট বলুন। সেই ব্যক্তি বলিলেন, আমাকে আমার পিতা বলিয়াছেন- তিনি একবার যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট গেলেন; তারপর তাহাকে বলিলেনঃ সাত দিনে কুরআন পাঠ (খতম) করা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? (উত্তরে) যায়দ (রাঃ) বলিলেনঃ ভাল। কিন্তু পনর অথবা বিশ দিনে পাঠ (শেষ) করা আমার নিকট অতি পছন্দনীয়। আর তুমি ইহার কারণ কি জানিতে চাহিলে শোন (তিনি বলিলেন), ইহা এইজন্য যে, (কুরআনকে) থামিয়া থামিয়া পড়িলে আমি কুরআনের মর্ম বোঝার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করিতে পারিব।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، انه قال كنت انا ومحمد بن يحيى بن حبان، جالسين فدعا محمد رجلا فقال اخبرني بالذي، سمعت من، ابيك . فقال الرجل اخبرني ابي انه، اتى زيد بن ثابت فقال له كيف ترى في قراءة القران في سبع فقال زيد حسن ولان اقراه في نصف او عشر احب الى وسلني لم ذاك قال فاني اسالك . قال زيد لكى اتدبره واقف عليه
রেওয়ায়ত ৫. আবদুর রহমান ইবন আবদিল কারী (রহঃ) বলেনঃ আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি হিশাম ইবন হাকিম ইবন হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেইরূপ পড়িয়া থাকি উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনিলাম। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সেই সূরাটি পড়াইয়াছেন। (আমি ক্রোধে) তাঁহাকে ধরিবার উপক্রম করিয়াছিলাম। কিন্তু নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত তাহাকে আমি সময় দিলাম। অতঃপর তাহার চাদর দ্বারা আমি তাহাকে পেচাইয়া লইলাম। পরে তাহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে নিয়া আসিলাম এবং আরজ করিলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সূরায়ে আল-ফুরকান আপনি আমাকে যেরূপ পড়াইয়াছেন, আমি ইহাকে উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনিয়াছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি তাঁহাকে ছাড়িয়া দাও। অতঃপর তাহাকে বললেনঃ তুমি পাঠ কর। তারপর আমি যেরূপ কিরাআত পড়িতে তাহাকে শুনিয়াছি সেই কিরাআতই তিনি পড়িলেন। (এই কিরাআত শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হইয়াছে। অতঃপর আমাকে (উদ্দেশ্য করিয়া) বলিলেনঃ তুমি পড়। আমি উহা (ফুরকান) পাঠ করিলাম। তিনি বলিলেনঃ এইরূপ অবতীর্ণ করা হইয়াছে এবং কুরআন সাত অক্ষরের উপর নাযিল হইয়াছে, ফলে তোমরা তাহা হইতে যেইটি সহজ হয় সেইটি পাঠ কর।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عبد الرحمن بن عبد القاري، انه قال سمعت عمر بن الخطاب، يقول سمعت هشام بن حكيم بن حزام، يقرا سورة الفرقان على غير ما اقروها وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرانيها فكدت ان اعجل عليه ثم امهلته حتى انصرف ثم لببته بردايه فجيت به رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله اني سمعت هذا يقرا سورة الفرقان على غير ما اقراتنيها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ارسله - ثم قال - اقرا يا هشام " . فقرا القراءة التي سمعته يقرا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هكذا انزلت " . ثم قال لي " اقرا " . فقراتها فقال " هكذا انزلت ان هذا القران انزل على سبعة احرف فاقرءوا ما تيسر منه
রেওয়ায়ত ৬. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কুরআনওয়ালা রশিতে বাধা উটওয়ালার মত; যদি উহাকে তদারক করে, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখিতে পারবে; আর যদি উহাকে ছাড়িয়া দেয়, তবে উহা চলিয়া যাইবে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انما مثل صاحب القران كمثل صاحب الابل المعقلة ان عاهد عليها امسكها وان اطلقها ذهبت
রেওয়ায়ত ৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, (একবার) হারিস ইবন হিশাম (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রশ্ন করলেন, আপনার নিকট ওহী কিরূপে আসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উত্তরে) বলিলেনঃ কখনও কখনও আমার নিকট (ওহী) আসে ঘন্টাধ্বনির মত, এই (প্রকারে অবতীর্ণ) ওহী আমার উপর অতি কঠিন হয়। তারপর আমা হইতে (এই অবস্থার) অবসান হয়, (এই দিকে) তিনি যাহা বলিয়াছেন আমি তাহা হিফাযত করিয়াছি। আর কোন কোন সময় ফেরেশতা কোন ব্যক্তির রূপ ধারণ করিয়া আমার নিকট আসেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেনঃ তিনি যাহা বলেন আমি উহা হিফাযত করি। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়াছি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাহার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হইতেছে। অতঃপর সেই অবস্থার অবসান হইয়াছে, তখন তাহার ললাট হইতে ঘাম টপকাইতেছে।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان الحارث بن هشام سال رسول الله كيف ياتيك الوحى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " احيانا ياتيني في مثل صلصلة الجرس وهو اشده على فيفصم عني وقد وعيت ما قال واحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فاعي ما يقول " . قالت عايشة ولقد رايته ينزل عليه في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وان جبينه ليتفصد عرقا
রেওয়ায়ত ৮. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেন, সূরা আবাসা অবতীর্ণ করা হইয়াছে আবদুল্লাহ্ ইবন উম্মে মাকতুম (রাঃ)-এর শানে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসিয়া বলিতে লাগিলেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে আপনার নিকট বসিতে দিন, সেই সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা ইহতে মনোযোগ ফিরাইয়া সেই নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করিলেন এবং বলিতেছিলেনঃ হে আবূ ফুলান (অমুকের পিতা), আমি যাহা বলি উহাতে কোন ক্রটি দেখিয়াছ কি? (উত্তরে) সে বলিতেছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যাহা বলেন উহাতে কোন প্রকার ক্রটি দেখিতেছি না। অতঃপর এই সূরা অর্থাৎ সূরা আবাসা অবতীর্ণ হয়।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال انزلت {عبس وتولى} في عبد الله بن ام مكتوم جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يقول يا محمد استدنيني وعند النبي صلى الله عليه وسلم رجل من عظماء المشركين فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يعرض عنه ويقبل على الاخر ويقول " يا ابا فلان هل ترى بما اقول باسا " . فيقول لا والدماء ما ارى بما تقول باسا . فانزلت {عبس وتولى ان جاءه الاعمى}
রেওয়ায়ত ৯. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার সফরসমূহের কোন এক সফরে পথ চলিতেছিলেন। রাত্রে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-ও তাহার সঙ্গে চলিতেছিলেন। তখন উমর (রাঃ) কোন বিষয়ে তাহাকে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে কোন উত্তর দিলেন না। উমর (রাঃ) পুনরায় সওয়াল করিলেন। কিন্তু তিনি উহার জবাব দিলেন না। অতঃপর তাহার নিকট (উমর) আবার সওয়াল করিলেন, কিন্তু (এইবারও) তিনি উহার জবাব দিলেন না। তখন উমর (রাঃ) (মনে মনে) বলিলেন, উমর, তোমার মাতা তোমাকে হারাইয়া ফেলুন (এবং কাঁদিতে থাকুন অর্থাৎ তোমার সর্বনাশ)। তুমি বিনয় সহকারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সওয়াল করিলে, আর তিনি তোমাকে কোন জবাব দিলেন না। উমর (রাঃ) বলেনঃ তারপর আমার উটকে আমি চালিত করিলাম, এমন কি আমি লোকের আগে আগে চলিয়া গেলাম। আমি আশংকা করিলাম আমার বিষয়ে কুরআন অবতীর্ণ হইতে পারে। তারপর আমি (বেশিক্ষণ) অবস্থান করি নাই, (হঠাৎ) এক উচ্চস্বরে আহবানকারী আমাকে ডাকিতেছিল। তিনি (উমর) বলেনঃ আমি আশংকা করিতেছিলাম আমার বিষয়ে হয় তো কুরআন নাযিল হইয়াছে। (উমর) বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসিলাম এবং সালাম করিলাম। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ অবশ্য এই রাত্রে আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হইয়াছে। নিঃসন্দেহে সেই সূরাটি আমার নিকট অধিক প্রিয়, সেই সব বস্তু অপেক্ষা যাহার উপর সূর্য উদিত হইয়াছে। অতঃপর তিনি পাঠ করিলেন (إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا) অর্থাৎ সূরা ফাতহ সূরাটি।
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسير في بعض اسفاره وعمر بن الخطاب يسير معه ليلا فساله عمر عن شىء فلم يجبه ثم ساله فلم يجبه ثم ساله فلم يجبه . فقال عمر ثكلتك امك عمر نزرت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات كل ذلك لا يجيبك - قال عمر - فحركت بعيري حتى اذا كنت امام الناس وخشيت ان ينزل في قران فما نشبت ان سمعت صارخا يصرخ بي - قال - فقلت لقد خشيت ان يكون نزل في قران - قال - فجيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلمت عليه فقال " لقد انزلت على هذه الليلة سورة لهي احب الى مما طلعت عليه الشمس " . ثم قرا { انا فتحنا لك فتحا مبينا}
রেওয়ায়ত ১০. আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ তোমাদের মধ্যে এক সম্প্রদায় বাহির হইবে যাহারা তুচ্ছ মনে করিবে তোমাদের নামাযকে তাহাদের নামাযের মুকাবিলায় এবং তোমাদের রোযাসমূহকে তাহদের রোযার মুকাবিলায় এবং তোমাদের আমলসমূহকে তাহদের আমলসমূহের মুকাবিলায়। তাহারা কুরআন পাঠ করিবে কিন্তু কুরআন তাহাদের গলদেশের নিচে যাইবে না। তাহারা ধর্ম হইতে এমনভাবে বাহির হইয়া যাইবে, যেমন তীর শিকারকে ভেদ করিয়া বাহির হইয়া যায়। তীরের ফলা দেখিবে, তাহাতেও কোন কিছু দেখিবে না; তীরের লাকড়ি দেখিবে, সেখানেও কিছু দেখিতে পাইবে না; পালকের প্রতি লক্ষ করিবে, পালকেও কিছু দেখিবে না; ধনুকের ছিলার দিকে দেখিবে, সেখানে কিছু রক্ত লাগিয়াছে কিনা সন্দেহ করবে।
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن ابي سعيد، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " يخرج فيكم قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم وصيامكم مع صيامهم واعمالكم مع اعمالهم يقرءون القران ولا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية تنظر في النصل فلا ترى شييا وتنظر في القدح فلا ترى شييا وتنظر في الريش فلا ترى شييا وتتمارى في الفوق
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সূরা বাকারা শিক্ষা করিতে আট বৎসর অতিবাহিত করিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عبد الله بن عمر، مكث على سورة البقرة ثماني سنين يتعلمها
রেওয়ায়ত ১২. আবু সালমা ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (বা) তাঁহাদের উদ্দেশ্যে (إِذَا السَّمَاءُ انشَقَّتْ) অর্থাৎ সূরা ইনশিকাক পাঠ করিলেন এবং এই সূরায় সিজদা করিলেন। তিনি নামায সমাপ্ত করিলে পর তাহাদিগকে জানাইলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সূরায় সিজদা করিয়াছেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الله بن يزيد، مولى الاسود بن سفيان عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة، قرا لهم {اذا السماء انشقت} فسجد فيها فلما انصرف اخبرهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سجد فيها
রেওয়ায়ত ১৩. মিসরের বাসিন্দাদের একজন নাফি (রহঃ)-কে বলিয়াছেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) একবার সূরা হজ্জ পাঠ করিলেন এবং তিনি এই সূরায় দুইটি সিজদা করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ নিশ্চয় এই সূরাকে দুইটি সিজদা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হইয়াছে।
وحدثني عن مالك، عن نافع، مولى ابن عمر ان رجلا، من اهل مصر اخبره ان عمر بن الخطاب قرا سورة الحج فسجد فيها سجدتين ثم قال ان هذه السورة فضلت بسجدتين
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুল্লাহ্ ইবনে দীনার (রহঃ) বলেন- আমি আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ)-কে সূরা-এ হজ্জে দুইটি সিজদা করিতে দেখিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، انه قال رايت عبد الله بن عمر يسجد في سورة الحج سجدتين
রেওয়ায়ত ১৫. আরজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) (وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ) অর্থাৎ সূরা আন-নাজম পাঠ করলেন এবং উহাতে সিজদা করিলেন। তিনি দাঁড়াইলেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن الاعرج، . ان عمر بن الخطاب، قرا بالنجم اذا هوى فسجد فيها ثم قام فقرا بسورة اخرى
রেওয়ায়ত ১৬. উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একটি সিজদার আয়াত পাঠ করিলেন জুম'আ দিবসে। আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর। অতঃপর তিনি অবতরণ করিলেন এবং সিজদা করিলেন এবং তাহার সঙ্গে লোকেরাও সিজদা করিলেন। পরবর্তী জুম'আয় তিনি সেই সূরা পাঠ করিলেন। লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে লাগিলেন। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ আপনারা অপেক্ষা করুন। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের উপর সিজদা ফরয করেন নাই, তবে আমরা যদি ইচ্ছা করি তা স্বতন্ত্র কথা! (ইহা শুনিয়া) তাহারা আর সিজদা করিলেন না। তিনি তাহাদিগকে সিজদা হইতে বিরত রাখিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সিজদার আয়াত মিম্বরের উপর পাঠ করিলে, ইমামের মিম্বর হইতে অবতরণ করিয়া সিজদা করার প্রতি (আমাদের) আমল নাই (অর্থাৎ মিম্বর হইতে অবতরণ জরুরী নহে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের অভিমত এই যে, কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের মধ্যে তাকিদী সিজদা হইতেছে এগারটি। ইহাদের একটিও মুফাসসালাতে নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সুজুদুল কুরআন (কুরআনের সিজদাসমূহ) হইতে কোন সিজদার আয়াত ফজরের নামাযের এবং আসরের নামাযের পর পাঠ করা কাহারও পক্ষে উচিত নহে। কারণ ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর (সূর্য) অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন। আর সিজদাও নামাযে গণ্য, কাজেই কাহারও পক্ষে উচিত নহে যে, সেই দুই সময়ে কোন সিজদার আয়াত পাঠ করা। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে যিনি একটি সিজদার আয়াত পাঠ করিয়াছেন, আর একজন ঋতুমতী মহিলা উহা শুনিল। তবে সেই মহিলা কি সিজদা করিবে? (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলিলেনঃ পুরুষ বা নারী, পবিত্রাবস্থা ব্যতীত সিজদা করিবে না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হয় একজন মহিলা সম্পর্কে যিনি সিজদার আয়াত পাঠ করিয়াছেন, অন্য এক ব্যক্তি তাহা শুনিতেছে। সেই ব্যক্তির জন্য সিজদা করা জরুরী কি? (উত্তরে) মালিক (রহঃ) বলেনঃ সিজদা করা এই ব্যক্তির জন্য জরুরী নহে। সিজদা ওয়াজিব হয় সেই লোকের উপর যেসব লোক কোন ব্যক্তির সাথে নামাযে শরীক থাকেন এবং তাহার পিছনে ইকতিদা করেন। অতঃপর তাহাদের ইমাম সিজদার আয়াত পাঠ করিলে তাহারাও তাহার সহিত সিজদা করিবেন। আর যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনিয়াছে কোন লোকের মুখে (যিনি উহা পাঠ করিতেছেন), কিন্তু সেই ব্যক্তি এই লোকের ইমাম নহেন, তাহার জন্য এই সিজদা জরুরী নহে।
রেওয়ায়ত ১৭. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত- তিনি এক ব্যক্তিকে, ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করিতে শুনিলেন। সে বারবার উহা পাঠ করিতেছিল। ফজরে যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হইলেন, তখন তাহার নিকট এই বিষয় উল্লেখ করিলেন- (আবু সাইদ খুদরী) এই সূরা (পাঠ করা)-কে সাধারণ আমল মনে করিতেছিলেন। (ইহা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমার প্রাণ যাহার হাতে তাহার শপথ, নিশ্চয় এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান মর্যাদা রাখে।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن ابي صعصعة، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري، انه سمع رجلا، يقرا {قل هو الله احد} يرددها فلما اصبح غدا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له وكان الرجل يتقالها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " والذي نفسي بيده انها لتعدل ثلث القران
রেওয়ায়ত ১৮. আল-ই-যায়দ ইবন খাত্তাবের মাওলা ওবায়দ ইবন হুনায়ন (রহঃ) বলেন- আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আগমন করিলাম, তিনি এক ব্যক্তিকে সূরা ইখলাস পড়িতে শুনিলেন। (ইহা শুনিয়) তিনি বললেনঃ ওয়াজিব হইয়াছে। তখন আমি তাঁহাকে প্রশ্ন করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, কি ওয়াজিব হইয়াছে? তিনি বলিলেনঃ জান্নাত। (রাবী) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (তারপর) আমি ইচ্ছা করিলাম, সেই ব্যক্তির নিকট যাই এবং তাঁহাকে শুভ সংবাদ শুনাইয়া দেই। কিন্তু আমার আশংকা হইল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে প্রাতঃকালীন আহার ছুটিয়া যাইবে । তাই আমি প্রাতঃকালীন আহার গ্রহণকে অগ্রাধিকার প্রদান করিলাম। অতঃপর সেই ব্যক্তির নিকট গেলাম, কিন্তু তখন তিনি (সে স্থান হইতে) প্রস্থান করিয়াছেন।
وحدثني عن مالك، عن عبيد الله بن عبد الرحمن، عن عبيد بن حنين، مولى ال زيد بن الخطاب انه قال سمعت ابا هريرة، يقول اقبلت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمع رجلا يقرا {قل هو الله احد} فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وجبت " . فسالته ماذا يا رسول الله فقال " الجنة " . فقال ابو هريرة فاردت ان اذهب اليه فابشره ثم فرقت ان يفوتني الغداء مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فاثرت الغداء مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ذهبت الى الرجل فوجدته قد ذهب
রেওয়ায়ত ১৯. হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) খবর দিয়াছেন ইবনে শিহাব (রহঃ)-কে সূরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ আর সূরা মূল্ক উহার (পাঠকারী) সাথীর পক্ষে ঝগড়া করবে।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، انه اخبره ان {قل هو الله احد} تعدل ثلث القران وان {تبارك الذي بيده الملك} تجادل عن صاحبها
রেওয়ায়ত ২০. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) এই দোয়াটি দৈনিক একশত বার পাঠ করিবে, ইহা তাঁহার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হইবে- তাহার জন্য একশত নেকী হইবে এবং তাহার (আমলনামা) হইতে একশত গুনাহ মিটাইয়া দেওয়া হইবে আর সেইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ইহা তাহার জন্য শয়তান হইতে রক্ষাকবচ হইবে; আর সে যে আমল পেশ করিয়াছে অন্য কেউ উহা হইতে শ্রেষ্ঠ কোন আমল পেশ করে নাই একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ব্যক্তি (তাহার) এই আমল অপেক্ষা অধিক আমল করিয়াছ।
حدثني يحيى، عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من قال لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شىء قدير في يوم ماية مرة كانت له عدل عشر رقاب وكتبت له ماية حسنة ومحيت عنه ماية سيية وكانت له حرزا من الشيطان يومه ذلك حتى يمسي ولم يات احد بافضل مما جاء به الا احد عمل اكثر من ذلك