Loading...

Loading...
বইসমূহ
৪২ হাদিসসমূহ
আমীরুল মুমিনীন উমার ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ) তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- “সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়্যত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।” [সহীহ্ আল-বুখারীঃ ১, সহীহ্ মুসলিমঃ ১৯০৭। মুহাদ্দিসগণের দুই ইমাম আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ ইব্ন ইসমাঈল ইব্ন ইব্রাহীম ইব্ন মুগীরা ইব্ন বারদেযবাহ্ আল-বুখারী এবং আবুল হাসান মুসলিম ইব্ন হাজ্জাজ ইব্ন মুসলিম আল-কুশায়রী আন্-নিশাপুরী আপন আপন সহীহ্ গ্রন্থে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যা সবচেয়ে সহীহ্ গ্রন্থদ্বয় বলে বিবেচিত হয়।]
عن امير المومنين ابي حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " انما الاعمال بالنيات، وانما لكل امري ما نوى، فمن كانت هجرته الى الله ورسوله فهجرته الى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها او امراة ينكحها فهجرته الى ما هاجر اليه". رواه اماما المحدثين ابو عبد الله محمد بن اسماعيل بن ابراهيم بن المغيرة بن بردزبه البخاري الجعفي [رقم:1]، وابو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري [رقم:1907] رضي الله عنهما في "صحيحيهما" اللذين هما اصح الكتب المصنفة
উমার (রাঃ) তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়, যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো; তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নি। সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেনঃ “হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন”। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “ইসলাম হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর, রমাদানে সওম সাধনা কর এবং যদি সামর্থ থাকে তবে (আল্লাহর) ঘরের হজ্জ কর।” তিনি (লোকটি) বললেনঃ “আপনি ঠিক বলেছেন”। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বললঃ “আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন”। তিনি (রাসূল) বললেনঃ “তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাতর উপর ঈমান আনা এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।” সে (আগন্তুক) বললঃ “আপনি ঠিক বলেছেন”। তারপর বললঃ “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন”। তিনি বলেনঃ “তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে নাও পাও তবে তিনি তোমাকে দেখছেন”। সে (আগন্তুক) বললঃ “আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন”। তিনি (রাসূল) বললেনঃ “যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী কিছু জানে না”। সে (আগন্তুক) বললঃ “আচ্ছা, তার লক্ষণ সম্পর্কে বলুন”। তিনি (রাসূল) বললেনঃ “তা হচ্ছে এই- দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে”। তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (রাসূল) আমাকে বললেনঃ “হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললামঃ “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন”। তিনি বললেনঃ “তিনি হলেন জিবরীল (আঃ) । তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।” [সহীহ্ মুসলিমঃ]
عن عمر رضي الله عنه ايضا قال: بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه و سلم ذات يوم، اذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، لا يرى عليه اثر السفر، ولا يعرفه منا احد. حتى جلس الى النبي صلى الله عليه و سلم . فاسند ركبتيه الى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه، وقال: يا محمد اخبرني عن الاسلام. فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم الاسلام ان تشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله، وتقيم الصلاة، وتوتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت ان استطعت اليه سبيلا. قال: صدقت . فعجبنا له يساله ويصدقه! قال: فاخبرني عن الايمان. قال: ان تومن بالله وملايكته وكتبه ورسله واليوم الاخر، وتومن بالقدر خيره وشره. قال: صدقت. قال: فاخبرني عن الاحسان. قال: ان تعبد الله كانك تراه، فان لم تكن تراه فانه يراك. قال: فاخبرني عن الساعة. قال: ما المسيول عنها باعلم من السايل. قال: فاخبرني عن اماراتها؟ قال: ان تلد الامة ربتها، وان ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان. ثم انطلق، فلبثت مليا، ثم قال: يا عمر اتدري من السايل؟. قلت: الله ورسوله اعلم. قال: فانه جبريل اتاكم يعلمكم دينكم . [رواه مسلم]
আবু আব্দির রহমান আব্দুল্লাহ্ ইবন উমার ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ) তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “পাঁচটি জিনিসের উপর ইসলামের বুনিয়াদ রাখা হয়েছে— সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, আল্লাহর ঘরের হজ্জ করা এবং রমাদানের সওম পালন করা।” [বুখারীঃ ৮, মুসলিমঃ]
عن ابي عبد الرحمن عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول: بني الاسلام على خمس: شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله، واقام الصلاة، وايتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان . [رواه البخاري] ، [ومسلم]
আবূ আব্দির রহমান আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) তিনি বলেছেন— রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)— যিনি সত্যবাদী ও যার কথাকে সত্য বলে মেনে নেয়া হয়— তিনি আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের সকলের সৃষ্টি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ শুক্ররূপে জমা হওয়ার মাধ্যমে শুরু হতে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্তরূপে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ড রূপে থাকে, তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয়। অতঃপর সে তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করায় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য হুকুম দেয়া হয়- তার রুজি, বয়স, কাজ এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান। অতএব, আল্লাহর কসম-যিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই-তোমাদের মধ্যে একজন জান্নাতবাসীর মত কাজ করে [১]- এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার লিখন তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জাহান্নামবাসীর মত কাজ শুরু করে এবং তার ফলে তাতে প্রবেশ করে। এবং তোমাদের মধ্যে অপর এক ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত কাজ শুরু করে দেয়- এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার লিখন তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জান্নাতবাসীদের মত কাজ শুরু করে আর সে তাতে প্রবেশ করে। [বুখারীঃ ৩২০৮, মুসলিমঃ]
عن ابي عبد الرحمن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه و سلم -وهو الصادق المصدوق-: ان احدكم يجمع خلقه في بطن امه اربعين يوما نطفة، ثم يكون علقة مثل ذلك، ثم يكون مضغة مثل ذلك، ثم يرسل اليه الملك فينفخ فيه الروح، ويومر باربع كلمات: بكتب رزقه، واجله، وعمله، وشقي ام سعيد؛ فوالله الذي لا اله غيره ان احدكم ليعمل بعمل اهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها الا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل اهل النار فيدخلها. وان احدكم ليعمل بعمل اهل النار حتى ما يكون بينه وبينها الا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل اهل الجنة فيدخلها . [رواه البخاري] ، [ومسلم]
উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কোন নতুন বিষয় সংযুক্ত করবে যা তার অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে (অর্থাৎ তা গ্রহণযোগ্য হবে না)। [বুখারীঃ ২৬৯৭, মুসলিমঃ ১৭১৮] মুসলিমের বর্ণনার ভাষা হলো এই যে, যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে যা আমাদের দ্বীনে নেই, তা গ্রহণযোগ্য হবে না (অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাবে)।
عن ام المومنين ام عبد الله عايشة رضي الله عنها، قالت: قال: رسول الله صلى الله عليه و سلم من احدث في امرنا هذا ما ليس منه فهو رد [رواه البخاري] ،[ومسلم] وفي رواية لمسلم: من عمل عملا ليس عليه امرنا فهو رد
আবু আব্দিল্লাহ্ আন্-নু‘মান ইবন বশীর (রাঃ) তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ নিঃসন্দেহে হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দু‘য়ের মধ্যে কিছু সন্দেহজনক বিষয় আছে যা অনেকে জানে না। অতএব, যে ব্যক্তি সন্দিহান বিষয় হতে নিজেকে রক্ষা করেছে; সে নিজের দ্বীনকে পবিত্র করেছে এবং নিজের সম্মানকেও রক্ষা করেছে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়ে পতিত হয়েছে; সে হারামে পতিত হয়েছে। তার অবস্থা সেই রাখালের মত যে নিষিদ্ধ চারণ ভূমির চারপাশে (গবাদি) চরায়, আর সর্বদা এ আশংকায় থাকে যে, যে কোন সময় কোন পশু তার মধ্যে প্রবেশ করে চরতে আরম্ভ করবে। সাবধান! প্রত্যেক রাজা-বাদশাহর একটি সংরক্ষিত এলাকা আছে। আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হচ্ছে তাঁর হারামকৃত বিষয়াদি। সাবধান! নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে; যখন তা ঠিক থাকে তখন সমস্ত শরীর ঠিক থাকে, আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন গোটা দেহ নষ্ট হয়ে যায় -এটা হচ্ছে কলব (হৃদপিণ্ড)। [বুখারীঃ ৫২, মুসলিমঃ]
عن ابي عبد الله النعمان بن بشير رضي الله عنهما، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول: ان الحلال بين، وان الحرام بين، وبينهما امور مشتبهات لا يعلمهن كثير من الناس، فمن اتقى الشبهات فقد استبرا لدينه وعرضه، ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام، كالراعي يرعى حول الحمى يوشك ان يرتع فيه، الا وان لكل ملك حمى، الا وان حمى الله محارمه، الا وان في الجسد مضغة اذا صلحت صلح الجسد كله، واذا فسدت فسد الجسد كله، الا وهي القلب .<br>[رواه البخاري]، [ومسلم]
আবু রুকাইয়্যা তামীম ইবন আওস আদ্-দারী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দ্বীন হচ্ছে শুভকামনা। আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ কার জন্য? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের, মুসলিম নেতাদের এবং সকল মুসলিমের জন্য। [মুসলিমঃ]
عن ابي رقية تميم بن اوس الداري رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الدين النصيحة." قلنا: لمن؟ قال: "لله، ولكتابه، ولرسوله، ولايمة المسلمين وعامتهم." [رواه مسلم]
ইবনে উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে লড়াই করতে যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। আর তারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। যদি তারা এরূপ করে তবে তারা আমার হাত থেকে নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে নেবে, অবশ্য ইসলামের হক যদি তা দাবী করে তবে আলাদা কথা; আর তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহর উপর ন্যস্ত। [বুখারীঃ ২৫, মুসলিমঃ]
عن ابن عمر رضي الله عنهما، ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: امرت ان اقاتل الناس حتى يشهدوا ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله، ويقيموا الصلاة، ويوتوا الزكاة؛ فاذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم واموالهم الا بحق الاسلام، وحسابهم على الله تعالى .<br>[رواه البخاري] ،[ومسلم]
আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবন সাখর (রাঃ) তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি তোমাদেরকে যেসব বিষয় নিষেধ করেছি, তা থেকে বিরত থাক। আর যেসব বিষয়ে আদেশ করেছি, যথাসম্ভব তা পালন কর। বেশী বেশী প্রশ্ন করা আর নবীদের সাথে মতবিরোধ করা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ধ্বংস করে দিয়েছে। [বুখারীঃ ৭২৮৮, মুসলিমঃ]
عن ابي هريرة عبد الرحمن بن صخر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول: ما نهيتكم عنه فاجتنبوه، وما امرتكم به فاتوا منه ما استطعتم، فانما اهلك الذين من قبلكم كثرة مسايلهم واختلافهم على انبيايهم .<br>[رواه البخاري] ،[ومسلم]
আবু হুরায়রা (রাঃ) তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা পাক-পবিত্র, তাই তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই কবূল করে থাকেন। আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিনদের ঐ কাজই করার হুকুম দিয়েছেন যা করার হুকুম তিনি রাসূলদেরকে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ (হে রাসূলগণ! পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং নেক আমল করুন।) আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেছেনঃ (হে মুমিনগণ! আমরা তোমাদের যে পবিত্র জীবিকা দান করেছি তা থেকে আহার কর।) তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ্) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে বের হয় এবং তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে ও কাপড় ধুলোবালিতে ময়লা হয়ে আছে। অতঃপর সে নিজের দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ধরে ও বলেঃ হে রব! হে রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোষাক হারাম, সে হারামভাবে লালিত-পালিত হয়েছে; এ অবস্থায় কেমন করে তার দো‘আ কবূল হতে পারে। [মুসলিমঃ]
عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم "ان الله طيب لا يقبل الا طيبا، وان الله امر المومنين بما امر به المرسلين فقال تعالى: "يا ايها الرسل كلوا من الطيبات واعملوا صالحا"، وقال تعالى: "يا ايها الذين امنوا كلوا من طيبات ما رزقناكم" ثم ذكر الرجل يطيل السفر اشعث اغبر يمد يديه الى السماء: يا رب! يا رب! ومطعمه حرام، ومشربه حرام، وملبسه حرام، وغذي بالحرام، فانى يستجاب له؟". [رواه مسلم]
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্নেহাস্পদ দৌহিত্র আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবন আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) তিনি বলেছেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হতে এ কথা শুনে স্মরণ রেখেছিঃ সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করে সন্দেহমুক্ত বিষয় গ্রহণ কর।” [তিরমিযীঃ ২৫২০, নাসায়ীঃ ৫৭১১, আর ইমাম তিরমিযী বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ]
عن ابي محمد الحسن بن علي بن ابي طالب سبط رسول الله صلى الله عليه و سلم وريحانته رضي الله عنهما، قال: حفظت من رسول الله صلى الله عليه و سلم دع ما يريبك الى ما لا يريبك . رواه الترمذي [رقم:2520]، [والنسايي] وقال الترمذي: حديث حسن صحيح
আবু হুরায়রা (রাঃ) তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “অনর্থক অপ্রয়োজনীয় বিষয় ত্যাগ করাই একজন ব্যক্তির উত্তম ইসলাম।” [হাদীসটি হাসান। তিরমিযীঃ ২৩১৮, ইবনে মাজাহঃ]
عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من حسن اسلام المرء تركه ما لا يعنيه . حديث حسن، رواه الترمذي [رقم: 2318] ، ابن ماجه [رقم:]
আবু হামযাহ্ আনাস ইবন মালেক (রাঃ)-রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [বুখারীঃ ১৩, মুসলিমঃ]
عن ابي حمزة انس بن مالك رضي الله عنه خادم رسول الله صلى الله عليه و سلم عن النبي صلى الله عليه و سلم قال: لا يومن احدكم حتى يحب لاخيه ما يحب لنفسه . رواه البخاري [رقم:13]، ومسلم [رقم:45].<br>[رواه البخاري] ، [ومسلم]
ইবনে মাসউদ (রাঃ) তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “কোন মুসলিমের রক্তপাত করা তিনটি কারণ ব্যতীত বৈধ নয়- বিবাহিত ব্যক্তি যদি ব্যভিচার করে, আর যদি প্রাণের বদলে প্রাণ নিতে হয়। আর যদি কেউ স্বীয় দ্বীনকে পরিত্যাগ করে মুসলিম জামা‘আত হতে আলাদা হয়ে যায়।” [বুখারীঃ ৬৮৭৮, মুসলিমঃ]
عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يحل دم امري مسلم [ يشهد ان لا اله الا الله، واني رسول الله] الا باحدى ثلاث: الثيب الزاني، والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة .<br>[رواه البخاري] ، [ومسلم]
আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতে ঈমান রাখে, তার উচিত হয় উত্তম কথা বলা অথবা চুপ থাকা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতে ঈমান রাখে, তার উচিত আপন প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হওয়া। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে, তার উচিত আপন অতিথির সম্মান করা।" [বুখারীঃ ৬০১৮, মুসলিমঃ]
عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: من كان يومن بالله واليوم الاخر فليقل خيرا او ليصمت، ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم جاره، ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه .<br>[رواه البخاري] ، [ومسلم]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললঃ আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ রাগ করো না। লোকটি বার বার রাসূলের নিকট উপেদশ চায় আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ রাগ করো না। [বুখারীঃ]
عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رجلا قال للنبي صلى الله عليه و سلم اوصني. قال: لا تغضب، فردد مرارا، قال: لا تغضب" .<br>[رواه البخاري]
আবূ ইয়া‘লা শাদ্দাদ ইবন আওস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সমস্ত জিনিস উত্তম পদ্ধতিতে করার বিধান করে দিয়েছেন। সুতরাং যখন তুমি হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করবে আর যখন তুমি যবেহ্ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে যবেহ্ করবে। তোমাদের প্রত্যেকের আপন ছুরি ধারালো করে নেয়া উচিত ও যে জন্তুকে যবেহ্ করা হবে তার কষ্ট লাঘব করা উচিত। [মুসলিমঃ]
عن ابي يعلى شداد بن اوس رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: ان الله كتب الاحسان على كل شيء، فاذا قتلتم فاحسنوا القتلة، واذا ذبحتم فاحسنوا الذبحة، وليحد احدكم شفرته، وليرح ذبيحته . [رواه مسلم]
আবূ যার জুনদুব ইবন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু'আয ইবন জাবাল (রাঃ) তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর। [তিরমিযীঃ ১৯৮৭, এবং (তিরমিযী) বলেছেন যে, এটা হচ্ছে হাসান হাদীস। কোন কোন সংকলনে এটাকে হাসান সহীহ্ বলা হয়েছে।
عن ابي ذر جندب بن جنادة، وابي عبد الرحمن معاذ بن جبل رضي الله عنهما، عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: اتق الله حيثما كنت، واتبع السيية الحسنة تمحها، وخالق الناس بخلق حسن . رواه الترمذي [رقم:1987] وقال: حديث حسن، وفي بعض النسخ: حسن صحيح
আবূ আব্বাস আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) একদিন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে ছিলাম, তিনি আমাকে বললেনঃ "হে যুবক! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শেখাবো- আল্লাহকে সংরক্ষণ করবে [২] তো তিনি তোমাকে সংরক্ষণ করবেন, আল্লাহকে স্মরণ করলে তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন কিছু চাইবে তো আল্লাহর কাছেই চাইবে; যখন সাহায্য চাইবে তো আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, সমস্ত মানুষ যদি তোমার কোন উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত আর কোন উপকার করতে পারবে না। আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোন অনিষ্ট করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা ব্যতীত আর কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে।" [তিরমিযীঃ ২৫১৬, হাদীসটি সহীহ্ (হাসান) বলেছেন।] তিরমিযী ছাড়া অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ "আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে, তুমি স্বচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তিনি তোমাকে কঠিন অবস্থায় স্মরণ করবেন। মনে রেখো- যা তুমি পেলে না, তা তোমার পাবার ছিল না, আর যা তুমি পেলে তা তুমি না পেয়ে থাকতে না। আরো জেনে রাখো- ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে।
عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال: "كنت خلف رسول الله صلى الله عليه و سلم يوما، فقال: يا غلام! اني اعلمك كلمات: احفظ الله يحفظك، احفظ الله تجده تجاهك، اذا سالت فاسال الله، واذا استعنت فاستعن بالله، واعلم ان الامة لو اجتمعت على ان ينفعوك بشيء لم ينفعوك الا بشيء قد كتبه الله لك، وان اجتمعوا على ان يضروك بشيء لم يضروك الا بشيء قد كتبه الله عليك؛ رفعت الاقلام، وجفت الصحف" . رواه الترمذي [رقم:2516] وقال: حديث حسن صحيح. وفي رواية غير الترمذي: "احفظ الله تجده امامك، تعرف الى الله في الرخاء يعرفك في الشدة، واعلم ان ما اخطاك لم يكن ليصيبك، وما اصابك لم يكن ليخطيك، واعلم ان النصر مع الصبر، وان الفرج مع الكرب، وان مع العسر يسرا
আবূ মাসউদ উকবাহ্ ইবন আমর আল-আনসারী আল-বদরী (রাঃ) তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "অতীতের নবীগণের কাছ থেকে মানুষ একথা জানতে পেরেছে- যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই কর।" [বুখারীঃ]
عن ابي مسعود عقبة بن عمرو الانصاري البدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ان مما ادرك الناس من كلام النبوة الاولى: اذا لم تستح فاصنع ما شيت .<br>[رواه البخاري]